বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 488

প্যারাগুয়ের জালে ব্রাজিলের গোল উৎসব

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ঘরের মাঠে প্যারাগুয়েকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। আগের ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও এ ম্যাচে আর হতাশ করেনি ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে গোল চারটি করেছেন রাফিনহা, ফিলিপ কোতিনহো, এন্টনি ও রদ্রিগো গুয়েস।

প্যারাগুয়েকে কোনো রকম সুযোগ দেয়নি তিতের শিষ্যরা। প্রথমার্ধের এক গোল, দ্বিতীয়ার্ধে আরো তিন গোল করে প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ স্থান ধরে রাখলো ব্রাজিল।
ম্যাচ শুরুর প্রথম মিনিটেই রাফিনহার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কাতার বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ব্রাজিল কিন্তু ভিএআর চেকে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। ভিএআরে দেখা যায়, শেষ শটের আগে বল হাতে লেগেছিল রাফিনহার। তবে ২৮ মিনিটে ব্রাজিলকে লিড এনে দেন সেই রাফিনহাই। মারকুইনাইসের বাড়ানো পাস ধরে প্যারাগুয়ের বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনহা, সেখানে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের জোরাল শটে কাছের পোস্টে লক্ষ্যভেদ করেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও রক্ষা করতে পারেননি গোলরক্ষক এন্তনি সিলভা।

প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার আগেই লিড বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেনি এই ফরোয়ার্ড। মাঝ মাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো পাস অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস, কিন্তু বলের শেষ টাচ খানিকটা গতির হওয়ায় পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক এন্তনি সিলভা। এর ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

বিরতি থেকে ফেরার মিনিট দুয়েকের মাথায় ডি বক্সের ভেতর থেকে রাফিনহার নেওয়া শট সাইড বারে লেগে ফিরে এলে লিড বাড়েনি ব্রাজিলের। এরপর একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে সেলেসাওরা। রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছিল সফরকারী প্যারাগুয়ে। ৫৪ মিনিটে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেন কুনহা। বাঁ দিক থেকে এলেক্স টেলেসের বাড়ানো ক্রস বক্সের ভেতরে ম্যাথিউ কুনহা মাথা ছুঁয়ালেও তা সাইড বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পায় সফরকারীরা।

৬২ মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক গোল করে ব্রাজিলের লিড বাড়ান ফিলিপে কোতিনহো। মারকুইনাসের বাড়ানো বল পেয়ে পোস্টের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে জোরাল শটে ডান দিকের পোস্টের টপ কর্ণারে লক্ষ্যভেদ করান এই মিডফিল্ডার। বলের দিকে ঝাঁপালেও নাগাল পাননি প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক এন্তনি সিলভা।

৮৬ মিনিটে ব্রাজিলকে তৃতীয় গোলে এনে দেন ভিনিসিয়ুসের বদলি নামা এন্টনি। এভারটন রিভেইরার বাড়ানো বল বক্সের কোণাকুণি থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে জালে জড়ান এন্টনি। তিন গোল করেও ক্ষ্যান্ত হয়নি ব্রাজিল, গোল ক্ষুধায় থাকা ব্রাজিল ৮৮ মিনিটে প্যারাগুয়ের জালে শেষ পেরেক ঢুকান, গোল করেন ফরোয়ার্ড রদ্রিগো।

এই জয়ের ১৫ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ব্রাজিল। অন্যদিকে ১৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাওয়ার পথে প্যারাগুয়ের। ভোরে অন্য ম্যাচে জয় পেয়েছে উরুগুয়ে। ভেনেজুয়েলার জালে এক হালি গোল দিয়ে বিশ্বকাপ খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে উরুগুয়ে। ১৬ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে লুইস সুয়ারেজরা।

অভিনেত্রী, প্রযোজক, পরিচালক হওয়ার পর এবার সঞ্চালকের ভূমিকায় কঙ্গনা

২০১৯ সালে একতা কাপুরের প্রযোজনায় ‘জাজমেন্টাল হ্যায় কেয়া’য় অভিনয় করেন কঙ্গনা রানাওয়াত। সেই ছবির প্রচারণার সময় কঙ্গনা ও একতার মতবিরোধের খবর চাউর হয়। এমন খবরও হয়, নানা আলটপকা মন্তব্যের জন্য কঙ্গনাকে নিজের পরের সব প্রজেক্ট থেকে বাদ দিয়েছেন একতা। তবে নতুন খবর অনুযায়ী সে কথা সত্য না।

নিজের নতুন রিয়ালিটি শোতে সঞ্চালক হিসেবে কঙ্গনাকেই বেছে নিলেন একতা। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও একতার প্রযোজনা সংস্থার কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, খবর সত্য।
‘একতা ছোট পর্দার অন্যতম সফল প্রযোজক। অনেক দিন ধরেই তিনি নিজের আলাদা একটি রিয়ালিটি শো করতে চাইছিলেন। অবশেষে সব ব্যাটে-বলে হয়েছে। এটা হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসাহসী শো,’ জানায় একটি সূত্র।

এই শো দিয়েই উপস্থাপনায় অভিষেক হবে কঙ্গনার। অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জানা গেছে, নতুন শো তৈরি হবে ওটিটি প্ল্যাটফরম এমএক্স প্লেয়ার ও এএলটি বালাজির জন্য। শোর ধরন অনেকটা ‘বিগ বস’-এর মতোই, যেখানে প্রতিযোগীদের একটি বাড়িতে বন্ধ অবস্থায় থাকতে হবে। তবে ‘বিগ বস’-এর মতো চার মাস নয়, নতুন শো চলবে সর্বোচ্চ দুই মাস।

সম্প্রতি ছোট পর্দায় অভিষেক হয়েছে পরিণীতি চোপড়ার। গেল বছর ‘দ্য বিগ পিচকার’-এর উপস্থাপনা দিয়ে সঞ্চালনা শুরু করেছেন রণবীর সিং। এ ছাড়া অমিতাভ বচ্চন, সালমান খানরা সঞ্চালনায় এর মধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

সেই নিপুণের পক্ষে বললেন ফারুকী

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকস্মিক সিদ্ধান্তে ভর্তি হতে পারেননি নীলফামারীর এক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছেলে নিপুণ বিশ্বাস। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা হচ্ছিল, প্রতিবাদও জানাচ্ছিলেন কেউ কেউ। এবার তীব্রভাবে সমালোচনা করলেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

নিজের ফেসবুকে ফারুকী লিখেছেন,‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকেও ভর্তি হতে পারছেন না নিপুণ বিশ্বাস।

নিপুণ দরিদ্র ঘরের সন্তান। তার বাবা নাপিতের কাজ করে বহু কষ্টে সংসার চালান। ফলে নিপুণের কোনো স্মার্ট ফোন নাই। স্মার্ট ফোন এবং নেট কানেকশন না থাকাতে তার পক্ষে বারবার ওয়েবসাইটে ঢুকে জানা সম্ভব হচ্ছিলো না সে টিকেছে নাকি টিকে নাই। নিয়ম ছিলো কর্তৃপক্ষ মেসেজ দিয়ে জানাবে। কিন্তু তার মোবাইলে মেসেজও আসে নাই। যে দিন ভর্তি হওয়ার শেষ তারিখ ছিলো তার আগের দিন সে কারো একজনের কাছে জানতে পারে সে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারপরই দ্রুত টাকা জোগাড় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয় সে। যেহেতু ওটা ছিলো শেষ দিন, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই মারফত ফোন করে ডিনকে জানায় যে সে পথে আছে। যাই হোক তার পৌঁছতে পৌঁছতে দেরী হয়ে যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ভর্তি করতে অপারগতা জানায়। ’
ফারুকী বলেন, ‘এই পর্যন্ত পড়ে আমি চোখ বন্ধ করে নিপুণকে দেখতে পাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের বাইরে জীর্ণ স্যান্ডেল পায়ে নিপুণ দাঁড়িয়ে। তার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে। তার গলা আটকে আটকে আসছে। সে বুঝতে পারছে না সে কাকে দোষ দিবে? তার মোবাইল না থাকাকে? মেসেজ না আসাকে? পথে দেরী হওয়াকে? নাকি তার দরিদ্র পিতাকে?’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ফারুকীর মনে। লিখেছেন, ‘আচ্ছা কবে থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলা এতো নিষ্ঠুর হয়ে উঠলো? কবে থেকে শিক্ষকেরা হয়ে উঠলো এরকম বেরহম? আমি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি নাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষকের নিবিড় সান্নিধ্য পেয়েছি। আমি তো দেখেছি তারা ছাত্রদের বিপদে আপদে কীভাবে পাশে দাঁড়ান। আইনকে ছাত্রের পথের কাঁটা না করে, আইনের হাত মচকে দিয়ে ছাত্রের জন্য রাস্তা বানান। সেই সব শিক্ষকদের দিন কি তবে শেষ? আমরা তবে কাদের শিক্ষক বানাচ্ছি? কী শিক্ষা দিবেন তারা আমাদের?’

মাত্র ৮ মিনিট দেরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ বিশ্বাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই নির্মাতা। বললেন, ‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এখনও সময় শেষ হয়ে যায় নাই প্রমাণ করার যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হৃদয়ও থাকা লাগে। ’

জানা যায়, রবিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ২০২০-২১ সেশনে ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয় যবিপ্রবির স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ। তবে, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জানতে পারেন রোববার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায়।

ভর্তির জন্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদের বলা হয়, সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ভর্তি হতে হবে তাদের। কিন্তু কী করে সম্ভব তা? তার ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিপুণ তো তখন নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপের নিজ বাড়িতে। তার পরেও রাতেই প্রতিবেশিদের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে নিয়ে নীলফামারী থেকে যশোর আসতে তার বেলা গড়িয়ে ১২টা পেরিয়ে যায়।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিদিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী। সময় এত কম ছিল যে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বিদায় নিতে হয়েছে তার। নিপুণ বিশ্বাসের বাড়ি নীলফামারীর সদর উপজেলা লক্ষ্মীচাপে। তার বাবা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নাপিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে মেধাবী নিপুণ ছোটবেলা থেকে আর্থিক অনটনের শত বাধা পেরিয়ে নীলফামারীর মশিয়ুর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।

রেজাল্ট ভালো হলে জানালার পাশে সিট

হলে জানালার পাশে সিট পেতে হলে বেশি নম্বরধারী অথবা জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী হতে হবে জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিটি গত সোমবার ওই হলের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়। হলের প্রভোস্ট নুসরাত শারমিন অবশ্য বলেছেন, এই বিজ্ঞপ্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক বলা যাবে না। হলে শৃঙ্খলা আনার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসিক সিট ছিল মাত্র সাড়ে চার শ শিক্ষার্থীর। গত ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়াই হাজার সিটের দুটি নবনির্মিত হলের উদ্বোধন করা হয়। গত সোমবার ছিল বরাদ্দ করা শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার দিন। হলে উঠতে গিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীদের মধ্যে কে জানালার পাশে সিট নেবেন আর কারা পাবেন দরজার পাশে সিট—এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্ট হলের প্যাড ব্যবহার না করে নিজের স্বাক্ষর না দিয়ে হলের দেয়ালে রাতে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেন। ওই নোটিশের ছবি আবার শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে শুরু হয় বিতর্ক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সকল আবাসিক সিট পাওয়া ছাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সিনিয়রিটির ভিত্তিতে জানালার দুই পাশে সিটে উঠতে পারবে এবং জুনিয়ররা দরজার দুই পাশে সিটে উঠতে পারবে। উল্লেখ্য, সিনিয়র এবং জুনিয়র দুইজন যদি একই শিক্ষাবর্ষের হয় তবে রেজাল্ট যার বেশি ভালো থাকবে সে ডান পাশের সিটে উঠতে পারবে। ’

এ বিষয়ে প্রভোস্ট নুসরাত শারমিন গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘এই চিঠিটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি নয়। হলে কোন সিটে কোন শিক্ষার্থী উঠবে, কে জানালার পাশে তো কে দরজার পাশে, এই নিয়ে একের পর এক শিক্ষার্থী অভিযোগ নিয়ে আসতেই থাকে। তাই এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত একটি চিঠি শুধু হলের শিক্ষার্থীদের বোঝার জন্য টাঙানো হয়। যারা সমন্বয় করতে পারবে, তারা উঠে যাবে আর যারা নিজেদের সমন্বয় করতে না পারবে, তারা এ নির্দেশনা অনুসরণ করে সিটে উঠবে। ’ তিনি জানান, এই নির্দেশনার পর গতকাল সারা দিনে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী তাঁদের সিট গ্রহণ করেছেন কোনো ধরনের অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র হলের প্রভোস্ট মাসুম হাওলাদার বলেন, ‘ছাত্রী হলের প্রভোস্ট লিখিতভাবে টাঙিয়ে দিলেও আমরা তা করিনি। তবে যে সিটগুলো নিয়ে এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আমরা এই পথ অবলম্বন করেই সমাধান করেছি। ’

বিরামপুরে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের ৩ জন নিহত

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলে প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিরামপুর উপজেলার ঘোড়াঘাট রেলঘুণ্টি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরামপুর থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় একটি প্রাইভেট কারে করে চারজন ব্যক্তি জেলার জয়পুরহাটে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য যাচ্ছিলেন। ঘন কুয়াশার ফলে কিছু দেখতে না পেয়ে কারের চালক রেললাইনের ওপর গাড়ি তুলে দেন। এ সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন।

গেটকিপার সাইফুজ্জামান বলেন, রেললাইনের গেটটির কাজ চলছিল। তাই ট্রেন আসার সময় রশি দিয়ে গেট বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাইভেট কারচালক সেটি না দেখে রেললাইনের ওপর প্রাইভেট কার উঠিয়ে দেন।

আজ থেকে কয়েক জায়গায় আবার বৃষ্টি

কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহের পর আজ বুধবার দেশের একাধিক অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে গতকালই অনেক জেলায় কমেছে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা, যা আজ থেকে আরো কমবে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই দিনে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

তবে শীত আগের চেয়ে কমবে। ’
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নওগাঁ ও মৌলভীবাজার জেলা, রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামী দুই দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামে অত্যধিক ঠাণ্ডায় কাজ করতে পারছেন না কৃষি শ্রমিকরা। গতকাল সদর উপজেলার পলাশবাড়ী, রাজারহাটের পূর্ব দেবোত্তর ও দেবালয় গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বোরো চাষের উপযোগী অনেক জমি এখনো খালি পড়ে আছে। কোথাও কোথাও সেচ দেওয়া হচ্ছে। কেউ জমির আল কেটে প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষের। বীজতলা থেকে চারা তুলছেন কেউ কেউ। নিচু এলাকায় চারা লাগানো হলেও চারার বৃদ্ধি নেই।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের কৃষি শ্রমিক আকবর আলী বলেন, ‘ঠাণ্ডাতে বিজন তোলা যায় না। হাত-পাও টাটায়। থিতে পায়না হাত। জ্বর আইসে। দুই দিন কাম করলে চার দিন করা যায় না। তার পরও কষ্ট করি কাম করি। ’

বরগুনার আমতলীতে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে পান চাষে। এরই মধ্যে পানের বরজে বিভিন্ন ছত্রাকজাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজারো পান চাষি।

সরেজমিনে উপজেলার গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বেশ কয়েকটি পানের বরজে ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশায় পানপাতা হলুদ বর্ণ হয়ে পচন ধরে তা ঝরে পড়েছে।

পান ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র জানান, পান পাতা হলুদ বর্ণের হয়ে যাওয়ার কারণে পাইকাররা পান কিনতে চান না। এ কারণে বাধ্য হয়ে চাষিরা কম দামে পান বিক্রি করছেন। কৃষি বিভাগ ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহারের জন্য পান চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে।

টানা তিন দিন মৃত্যু ৩০ জনের বেশি

দেশে টানা তিন দিন ধরে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০-এর বেশি। গত রবিবার ৩৪, গত সোমবার ৩১ এবং গতকাল মঙ্গলবারও ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা সংক্রমিত হিসেবে শনাক্তও প্রতিদিন ১৩ হাজারের বেশি। গত রবিবার ১৭ হাজার ৯৪৯, সোমবার ১৩ হাজার ৫০১ এবং গতকাল ১৩ হাজার ১৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার কথা জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩২২ জন। তাদের মধ্যে করোনার টিকা নিয়েছেন মাত্র ৮৮ জন। বাকি ২৩৪ জনই টিকা নেয়নি। শতকরা হিসাবে টিকা নেয়নি এমন ৭২.৭ শতাংশ মারা গেছে। আর টিকা নিয়ে মারা গেছে ২৭.৩ শতাংশ।

জানুয়ারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যে ৮৮ জন টিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৮ জন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬৮ জন। বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ নিয়েছিলেন দুজন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ হাজার ১৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ওই ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৫ হাজার ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২৯.১৭ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এই হার ছিল ২৯.৭৭ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রামে সাতজন, সিলেটে দুজন এবং রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগে একজন করে রয়েছেন। বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ওই সময়ে করোনায় কোনো মৃত্যু নেই। মৃত ৩১ জনের মধ্যে পুরুষ ১৫ জন এবং নারী ১৬ জন।

২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১৮ লাখ ১১ হাজার ৯৮৭ জন। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মারা গেছে ২৮ হাজার ৪২৫ জন। সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৯৩৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ৭২১ জন।

দেশে বর্তমানে করোনার অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনের দাপট চলছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে যেখানে দৈনিক রোগী শনাক্ত ৫০০ জনের ঘরে ছিল, তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৩ হাজারের ঘরে এসেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।

এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি করোনার ডেল্টা ধরনের দাপটে দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। তবে গত আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে।

সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচকের উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৬ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪৯২ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৫৭০ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৩১টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ৭৯টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৯টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ১০৬ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৪০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মুখোমুখি : প্রাণঘাতী সংঘাতে গৃহযুদ্ধের পথে মিয়ানমার

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠিত সশস্ত্র বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে।

এক বছর আগে সামরিক জান্তা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অনেক তরুণ জীবনবাজি রেখে লড়াই করছে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। জান্তা-জনতা এখন মুখোমুখি। এক দেশে পরস্পর হয়ে গেছে পরস্পরের শত্রু।

সহিংসতার মাত্রা এবং হামলাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় দেখে মনে হয় সংঘাত ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ব্যাপক ভিত্তিক গৃহযুদ্ধে।

সংঘাত মনিটর করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্ট বা অ্যাকলেড বলছে – সহিংসতা এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতেও জানা যাচ্ছে – জনতার ভেতর লড়াইগুলোর মধ্যে সমন্বয় বেড়েছে এবং শহর এলাকায় পৌঁছে গেছে যা সামরিক বাহিনীর মধ্যে আগে দেখা যায়নি।

নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত যদিও যাচাই করার সুযোগ কম। তবে অ্যাকলেড বলছে, ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখলের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত বার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ তথ্য দিয়েছে অ্যাকলেড। তারা বলছে, অগাস্ট থেকে সংঘর্ষগুলো রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

অভ্যুত্থানের পরপরই বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল সামরিক বাহিনীর অভিযানে। আর এখন লোকজন মারা যাচ্ছে সরাসরি লড়াইয়ে। অর্থাৎ বেসামরিক নাগরিকরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে এবং নিচ্ছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাশেলেট জানাচ্ছেন, মিয়ানমারের সংঘাতকে এখন গৃহযুদ্ধ বলা উচিত এবং তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাপ প্রয়োগের জন্য আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর উল্লেখ করে এই সংঘাতকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে সতর্ক করেছেন।

সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে যেসব গোষ্ঠী লড়াই করছে তারা পরিচিত হয়ে উঠেছে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বা পিডিএফ নামে। এটি মূলত বেসামরিক মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর মধ্যকার একটি নেটওয়ার্ক।

আঠারো বছর বয়সী হেরা (ছদ্মনাম) যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন, তখন তিনি কেবল হাইস্কুলের পর্ব শেষ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির চিন্তা স্থগিত রেখেছেন কারণ মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে একটি পিডিএফ প্লাটুনের কমান্ডার তিনি।

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একজন ছাত্রীর নিহত হবার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টির পর তিনি বিক্ষোভে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ হন। হেরার বাবা প্রথম প্রথম খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন যখন তাদের কন্যা পিডিএফ কমব্যাট প্রশিক্ষণ শুরু করেন। কিন্তু পরে তারা যখন বুঝতে পারেন যে, মেয়ে বিষয়টি নিয়ে খুবই সিরিয়াস তখন তারা মেনে নেন।

‘তারা আমাকে বলেছেন, তুমি যদি এটি করতে চাও আসলেই, তাহলে শেষ পর্যন্ত করো। মাঝপথে ছেড়ে দিও না। আমি আমার প্রশিক্ষকের সাথে কথা বললাম ও প্রশিক্ষণের পাঁচ দিনের মাথায় পুরোপুরি যোগ দিলাম বিপ্লবে।’

সামরিক অভ্যুত্থানের আগে, হেরার মতো মানুষেরা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখেই বড় হচ্ছিলেন।

সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণে তারা ব্যাপকভাবে অসন্তুষ্ট হন এবং বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী পরিচালিত মিলিশিয়াগুলোর সমর্থন ও প্রশিক্ষণ পেতে শুরু করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে। এসব গোষ্ঠী দশকের পর দশক ধরে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপে শক্তিশালী ঝড় ‘মালিকে’র দাপট

মালিক নামের শক্তিশালী ঝড় যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড ও জার্মানিতে আছড়ে পড়েছে। এর ফলে কয়েক হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস আর বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে সেতু।

রোববারে ইউরোপের উত্তর অংশে আছড়ে পড়া শক্তিশালী এই ঝড়ে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়। এর দাপটে বাস ট্রেন চলতে পারেনি। এই ঝড়ের নাম জার্মানিতে নাডিয়া এবং অন্য দেশে মালিক। এই ঝড় এক দিন আগে উত্তর সাগর এবং বাল্টিক সাগর উপকূলরেখায় হারিকেনের মতো শক্তিশালী বাতাস বয়ে এনেছিল।

রোববার এই ঝড় পূর্ব দিকে সরে আসার সাথে সাথে বার্লিনের দমকল বিভাগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।

একাধিক মৃত্যু
শনিবার, বার্লিনের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্যের বিলিৎশ শহরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বিল্ড সংবাদপত্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাওয়ার দাপটে আলগা হয়ে যাওয়া নির্বাচনী পোস্টারে আঘাত পেয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। আহত হন তার এক সঙ্গী।

স্কটল্যান্ডে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। এবারডিনে গাছ ভেঙে পড়ে ৬০ বছরের এক নারীর মৃত্যু হয়।

সেন্ট্রাল ইংল্যান্ডে গাছ ভেঙে নয় বছরের এক বালকের মৃত্যু হয়। ঝড়ের প্রভাবে ইংল্যান্ডে এক লাখ ৩০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।

স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টুরজেন জানিয়েছেন, একাধিক জায়গায় সেবা স্বাভাবিক হলেও বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা রয়েছে কারণ আরো একটি ঝড় আছড়ে পড়তে পারে।