বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 485

সাইনোসাইটিসের মাথাব্যথা বুঝবেন কীভাবে?

সবাই কমবেশি মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। দুশ্চিন্তা থেকে মাঝেমধ্যে মাথা ধরে আসে। আবার রক্তচাপে হেরফের ঘটলেও মাথা-ঘাড়ে তীব্র যন্ত্রণা হয়। মাথাব্যথা স্থায়ী হয়ে গেলে বিপদ।

সাইনোসাইটিসোর মাথাব্যথায় অনেকে ভুগে থাকেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইমপালস হাসপাতালের নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

মাথাব্যথার ৩০০-এর বেশি কারণ থাকলেও সাধারণ কারণগুলোকে প্রধানত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—

* মস্তিষ্কের স্নায়ু ও শিরা সংক্রান্ত (নিউরোভাসকুলার) মাথাব্যথা : এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেটা দেখা যায় তা হল মাইগ্রেন এবং দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা।

* চোখসংক্রান্ত মাথাব্যথা।

* সাইনাসজনিত মাথাব্যথা।

যে কোনো ক্রনিক বা দীর্ঘদিনের সমস্যা- দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে হয়ে থাকে। এ কথা ক্রনিক মাথাব্যথার বেলায়ও প্রযোজ্য। অন্যান্য শারীরিক দুর্বলতা ও দুশ্চিন্তায় এর বৃদ্ধি বা প্রকাশের কারণ হতে পারে। ক্রনিক মাথাব্যথার সঙ্গে সাইনাস ও নাকের লক্ষণ যেমন- নাক বন্ধ, সর্দি, জ্বরজ্বর ভাব জড়িত, সেসব মাথাব্যথা মূলত সাইনাসজনিত কারণেই হয়ে থাকে।

নাক ও চোখের চারপাশে হাড়ের ভেতরে কিছু বায়ুকোষ বা কুঠুরিকে সাইনাস বলা হয়। নাকের ও সাইনাসগুলোর আবরণী একই এবং সাইনাসগুলো নাকের আবরণীর সম্প্রসারিত অংশ দিয়ে আবৃত। এজন্য নাকে কোনো প্রদাহ হলে একই সমস্যায় সাধারণত সাইনাসও আক্রান্ত হয় এবং নাক ও সাইনাসের সমস্যাগুলো মূলত পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাক ও সাইনাসজনিত রোগ অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা যার বার্ষিক হার শতকরা প্রায় ১৪ ভাগ। যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটিই অন্যতম প্রধান ক্রনিক রোগ।

যেহেতু নাক ও সাইনাসের আবরণী শ্বাসনালি এবং ফুসফুসের আবরণীর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং গঠনগত দিক থেকে উভয়ে একই ধরনের সেহেতু প্রদাহজনিত কোনো সমস্যা দু’দিক থেকেই শুরু হতে পারে অথবা যে কোনো এক দিকে প্রদাহ শুরু হলে অন্যদিকেও তা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা এক অংশের সমস্যা অন্য অংশের সমস্যাকে প্রভাবিত করতে পারে।

উপসর্গ

মাথাব্যথা, মাথা ভার ভার লাগা ও মাথা বদ্ধভাব, নাক বন্ধ, নাক ভারি হয়ে থাকা, নাক দিয়ে অবিরাম বা ঘনঘন পানি পড়া, নাকে গন্ধ না পাওয়া, মাঝে মাঝে বেশ জ্বর ওঠা বা সবসময় হালকা-হালকা জ্বর ভাব থাকা, সবসময় শারীরিক দুর্বলতা, নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা দম বন্ধ হয়ে আসা বা স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম এগুলো সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কারণ

ভাইরাসজনিত সংক্রমণই প্রধান কারণ। এ ছাড়া অ্যালার্জি এবং নাকের কাঠামোগত কারণে নাক বন্ধ হয়ে থাকে। যেমন— নাকের হাড় বাঁকা (ডিএনএস), নাকের পলিপ, নাকের টিউমার ইত্যাদি। অন্যান্য কারণের মধ্যে ক্রনিক ইনফেকশন টিবি, সিফিলিস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সাধারণ প্রতিরোধ

* ধুলা, ধোঁয়া, ঠাণ্ডা থেকে দূরে থাকা যা ক্রনিক সাইনোসাইটিসের প্রাথমিক কারণ।

* বাড়িতে কার্পেট ব্যবহার না করা।

* ফোম দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র ব্যবহার না করা।

* কুসুম গরম লবণ পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার নাক পরিষ্কার করা (এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ), অথবা গরম ভাপ নেওয়া।

* নাকের ভেতর কোনো কেমিক্যাল যেমন- বেনজিন, মেন্থলজাতীয় পদার্থ ব্যবহার না করা।

ইএনটি পরীক্ষা : সার্বিকভাবে নাক, কান এবং গলার পরীক্ষা করানো এ ব্যাপারে অত্যাবশ্যক।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (ইনভেস্টিগেশন)

* সাইনাসের এক্স-রে : পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে আজকাল এ পরীক্ষা সাধারণত করা হয় না।

* সাইনাসের সিটিস্ক্যান (যাতে বিশেষ কিছু আঙ্গিকের ছবির প্রয়োজন হয়) : আধুনিক বিশ্বে ক্রনিক সাইনাস সমস্যায় অত্যাবশ্যকীয় একটি পরীক্ষা।

* অন্যান্য ল্যাবরেটরি পরীক্ষা সাধারণ প্রয়োজন অনুযায়ী করা হয়ে থাকে।

জটিলতা

* নাক থেকে ইনফেকশন অতি সহজে সাইনাস ও আশপাশের অন্যান্য জায়গা যেমন- চোখ, চোখের স্নায়ু, ব্রেইন, দাঁত, মুখমণ্ডল, খাদ্যনালির উপরিভাগ, শ্বাসনালি এসব জায়গায় ছড়াতে পারে এবং সেসব জায়গায় মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

* চোখের জটিলতা : চোখের আবরণীর প্রদাহ, চোখের প্রদাহ, চোখের পর্দার প্রদাহ ইত্যাদি।

* মস্তিষ্কের জটিলতা (করোটির ভেতরের জটিলতা) : মেনিনজাইটিস (ব্রেইনের চারপাশের আবরণীর প্রদাহ), এনকেফালাইটিস, ব্রেইন অ্যাবসেস ইত্যাদি।

* মুখমণ্ডলের হাড় ও অস্থিমজ্জার প্রদাহ অসটিওমায়োলাইটিস।

* অন্যান্য জটিলতা যেমন- ফেসিয়াল সেলুলাইটিস (মুখমণ্ডলের প্রদাহ), মুখ ফুলে যাওয়া, দাঁতব্যথা।

* মুখ ও সাইনাসের মধ্যে অস্বাভাবিক রাস্তা তৈরি হওয়া ওরো-এন্টালফিস্টুলা, খাদ্যনালির প্রদাহ, শ্বাসনালির প্রদাহ ইত্যাদি।

চিকিৎসা

* টপিক্যাল নেসাল স্টেরয়েড-নাকের ঝিল্লির প্রদাহের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যাবশ্যক।

* নাকের ডিকনজেস্টেন্ট (নাকের সস্তা ড্রপ) খুব স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে নাকের সমস্যার জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

* নাসারন্ধ্র পরিষ্কার খাবার ওষুধ সিউডোএপিড্রিন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যেতে পারে।

* নিদ্রাকারক ৯ এমন এন্টিহিস্টামিন উপসর্গ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

* এন্টিবায়োটিক-এরোবিক এবং এনেরোবিক উভয় ব্যাক্টেরিয়ার ওপর কাজ করে এমন এন্টিবায়োটিকের স্বল্পমেয়াদি কোর্স মাঝে মাঝে প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা

ওষুধ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাময় না হলে অথবা আশানুরূপ নিরাময় না হলে কিংবা ঘনঘন ওষুধের প্রয়োজন হলে বা এ এলাকায় কাঠামোগত কোনো ত্রুটি থাকলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের সার্জিক্যাল চিকিৎসার মধ্যে নাকের কটারি, এসএমডি, টার্বিনেস্টেমি বা সেপ্টোপ্লাস্টি অন্তর্ভুক্ত। এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি অতীতের সব চিকিৎসা পদ্ধতির ঊর্ধ্বে স্থান নিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ক্রনিক সাইনাসের সমস্যায় এটি একমাত্র নির্ভরযোগ্য সার্জিক্যাল চিকিৎসা।

হিমেলের বাবা-দাদিও মারা যান সড়ক দুর্ঘটনায়

ক্যাম্পাসে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেলের বাবা-দাদিও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ২০১৯ সালে হিমেলের দাদি আমেনা বেওয়া বাসচাপায় মারা যান। এর আগে ২০১৫ সালে হিমেলের বাবা আহসান হাবীব ও মা মুনিরা আক্তার দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে ২০১৬ সালে দুর্ঘটনাপরবর্তী জটিলতায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হিমেলের বাবা।

হিমেলের নানা মনিরুজ্জামান বলেন, একটার পর একটা সড়ক দুর্ঘটনা আমার মেয়ের জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেছে। বিয়ের পর পৌর কর্মচারী স্বামী আহসান হাবীবকে নিয়ে তার মেয়ের সুখের জীবন ছিল। এর পরে এলো মাহমুদ। চার বছর আগে বগুড়ার শেরপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নাটোরে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহন হন মাহমুদের বাবা-মা। সেই জটিলতায় বছরখানেক ভুগে মারা যান হিমেলের বাবা আহসান হাবীব। মা মুনিরা প্রাণে রক্ষা পেলেও মানসিক রোগীতে পরিণত হন। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসায় ব্যয় হয় অনেক টাকা।

তিনি আরও বলেন, আহসান হাবীবের মৃত্যুর পর তার মা আমেনা শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর মুনিরা হিমেলকে নিয়ে নাটোরে আমাদের বাড়িতে চলে আসে।

মাহমুদ পড়ালেখার জন্য রাজশাহীতে থাকত। মাকে দেখতে মাঝে-মধ্যে নাটোরে আসত। তার মায়ের ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবে ছেলে। সবাই একসঙ্গে থাকবে। সেই স্বপ্ন চিরদিনের মতো শেষ করে দিল সড়ক দুর্ঘটনা।

এদিকে হিমেলের মা অসুস্থ। পরিবারের আর অন্য কোনো সদস্য নেই। হিমেলের রক্ত সম্পর্কিত কেউ থাকলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাবি উপাচার্য। কিন্তু তার পরিবারে মা ছাড়া অন্য কোনো সদস্য না থাকায় তার পরিবারের আর্থিক ও চিকিৎসা খরচ বহন করার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার।

এছাড়া প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা হিমেলের মাকে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি ফান্ড করে হিমেলের মাকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে মঙ্গলবার রাত পোনে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হলের সামনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হিমেল। এ ঘটনায় আহত হন মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তারই বন্ধু রায়হান রিমেল। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা শেষে মাহমুদ হাবিবের মরদেহ যখন নাটোর শহরে তার নানার বাড়িতে পৌঁছায়, মা মুনিরা আক্তার তখন ছিলেন নির্বাক। কারও সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি কোনোভাবেই বিশ্বাস করছিলেন না যে হিমেল পৃথিবীতে আর নেই।

৮-১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এইচএসসির ফল

আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে। এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। দু-তিনদিনের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে। এখন শুধু ফলাফল প্রকাশে আনুষ্ঠানিকতার বাকি।

চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। তবে প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দেবেন সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো একদিন এ তারিখ হতে পারে।

জানা গেছে, ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে সকাল ১০টায় সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন। এরপর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে।

করোনা মহামারীর কারণে আগের বছর পরীক্ষা নিতে পারলেও ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। গতবারের চেয়ে পরীক্ষার্থী বেশি ছিল ৩৩ হাজার ৯০১ জন। গ্রুপভিত্তিক তিনটি বিষয়ে নম্বর ও সময় কমিয়ে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও সৃজনশীল (সিকিউ) অংশের পরীক্ষার মাঝে কোনো বিরতি ছিল না।

হিজাবের গুণগান গাইলেন এই টালিউড অভিনেত্রী!

হিজাব পরা নিয়ে ভারতের কর্নাটকে চলছে তীব্র বিতর্ক। হিজাব পরার কারণে সেখানকার একটি কলেজে ছাত্রীদের প্রবেশ করতে নেওয়া হয়নি। তবে সেই হিজাবেরই গুণগান গাইলেন টালিউড অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী! জানালেন হিজার পরে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। তাই স্বেচ্ছায় পরেন হিজাব। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আনন্দবাজারকে ঊষসী জানান, তারকার হওয়ার সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও আছে। ইচ্ছামতো ভিড়ের মধ্যে ঘোরাফেরা করা যায় না। তারকার জৌলুস ঢেকে আম জনতার মধ্যে নিজেকে মিশিয়ে দিতে হিজাবের দারস্থ হন তিনি। হিজাব পরে দিব্যি ঘোরাফেরা করেন তিনি।

ঊষসীকে প্রশ্ন করা হয়, নায়িকারা সাধারণ চোখ ঢাকা বড় টুপি, রোদচশমা এবং স্কার্ফ দিয়ে সবার থেকে আড়াল টানেন। কিন্তু তাই বলে হিজাব! ওসব পরে নাকি ঠিকমতো নিজেকে লুকানো যায় না– ঝটপট জবাব দেন ঊষসী।

এই বিশেষ পোশাক বেছে নেওয়ার নেপথ্য কারণও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, তখনো তারকা খ্যাতি পাননি ঊষসী। সবে অভিনয় জগতে পা রেখেছেন। সেই সময় কোনো এক পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছিলেন, টালিউডের এক কিংবদন্তি নায়িকা নিজের ইচ্ছেমতো ঘোরার শখ হলেই নাকি গায়ে চাপিয়ে নিতেন হিজাব। এ ভাবে তিনি লোকাল ট্রেনে চেপে শান্তিনিকেতন বেড়াতে চলে যেতেন!

ঊষসীর জানান, বিষয়টি জেনে বেশ অন্য রকম লেগেছিল। নামডাক হওয়ার পরে তিনিও তাই ওই নায়িকার দেখানো পথে হেঁটেছেন।

ঊষসীর ভাষায় তারকা হয়েছি বলে কি সব শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিতে হবে?

তবে হিজাব বেছে নেওয়ার আগে অন্য ধর্মের পোশাক গায়ে তুলছেন ভেবে একটুও কি অস্বস্তিতে ভুগেছিলেন কী না জানতে চাইলে ঊষসী বলেন, তার এ রকম কিছুই মনে হয়নি। কারণ পোশাককে তিনি কোনো ধর্মের ঘেরাটোপে আটকাতে রাজি নন।

শ্বশুরের আত্মহত্যা নিয়ে যা বললেন রিয়াজ

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে লাইভে এসে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করা আবু মহসিন নামে সেই ব্যবসায়ী চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর।

বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে মহসিন আত্মহত্যা করেন।

শ্বশুর আবু মহসিন খানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন রিয়াজ। তিনি তার শ্বশুরের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে যান রিয়াজ। সেখানে তার শ্বশুরের ময়নাতদন্ত হয়।

মর্গ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা মুখোমুখি হলে রিয়াজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আপনারা আমার বাবার (শ্বশুর) জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। বেহেশত নসিব করেন। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে পারছি না।

বুধবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন আবু মহসিন খান (৫৮)।

আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের ব্যক্তিজীবনের নানা হতাশার কথা তুলে ধরেন।

ধানমণ্ডি ৭ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন মহসিন খান । আর তার বড় ছেলে মাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। নিঃসঙ্গতা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। এ ছাড়া ব্যবসায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।

লাইভে এসে মহসিন খান বলেন, আমি মহসিন । ঢাকায় থাকি। আমার বয়স ৫৮ বছর। কোনো একসময়ে আমি ভালো ব্যবসায়ী ছিলাম। বর্তমানে আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই আমার ব্যবসা কিংবা কোনো কিছুই নেই। ভিডিও লাইভে আসার উদ্দেশ্য হলো— মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আমার যে এক্সপেরিয়েন্স, সেটি শেয়ার করলে হয়তো সবাই জানতে পারবেন, সবাই সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

গত ৩০ তারিখ আমার খালা মারা যান। তার একটি ছেলে আমেরিকায় থাকে, মা মারা গেল অথচ ছেলেটি আসল না। এটি আমাকে অনেক দুঃখ দিয়েছে, কষ্ট লেগেছে।

আজকে আমার আরেকজন খালা মারা গেছেন। তারও একটি ছেলে আমেরিকায় ছিল। অবশ্য তার তিনটি ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। তিনজনই বর্তমানে বাংলাদেশে আছেন। তারা হয়তো দাফন-কাফনের কাজ সম্পন্ন করছে। সেদিক দিয়ে বলব, এই খালা অনেকটা লাকি (ভাগ্যবান)।

আমার একটা মাত্র ছেলে। সে অস্ট্রেলিয়াতে থাকে। আমার বাসায় আমি সম্পূর্ণ একা থাকি। আমার খালা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভেতরে খুব ভয় করছে। আমি যদি আমার বাসায় মরে পড়েও থাকি, আমার মনে হয় না যে, এক সপ্তাহ কেউ জানতে পারবে, আমি মারা গেছি।

ছেলেমেয়ে, স্ত্রী যাদের জন্য যাই কিছু আমরা করি; আমরা সব কিছু করি সন্তান ও ফ্যামিলির জন্য। আপনি যদি ১০০ টাকা ইনকাম করেন, আয় করেন, তার টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকাও আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন না। যদি টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকা আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন, তা হলে ৮০ পারসেন্ট টাকা আপনার ফ্যামিলির জন্য ব্যয় হয়।

গত করোনা শুরুর আগ থেকে আমি বাংলাদেশে আছি। একা থাকা যে কী কষ্ট, যারা একা থাকে, তারাই একমাত্র বলতে পারে বা বোঝেন। যাদের জন্য আমি বেশি করছি, প্রত্যেকটা লোকের কাছে আমি প্রতারিত হয়েছি। আমার এক বন্ধু ছিল, নাম কামরুজ্জামান বাবলু। যাকে আমি না খেয়ে তাকে খাইয়েছি। সে আমার ২৩ থেকে ২৫ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে।

এর পর পিস্তলের লাইসেন্স দেখান। বলেন, আমি যেটা দিয়ে আত্মহত্যা করছি সেটি ইলিগ্যাল (অবৈধ) কিছু না। এটির লাইসেন্স আছে। সেটি নবায়নও করা হয়েছে। আমি চলে যাব। আত্মীয়স্বজন যারা আছ, যেহেতু বাবাও আমাকে জায়গাটা দেয়নি, আমি যে কবরস্থানটা করেছি সেখানে আমাকে দাফন করো না। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে একটি কবরস্থান হয়েছে, সেখানে তোমরা আমাকে দাফন করে দিও। প্রত্যেকটা লোক আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমার বাবা, মা, ভাইয়েরা— প্রত্যেকটা লোক, এভরিওয়ান।

লাইভে কথা বলার সময় তার সামনে টেবিল ছিল। ওই টেবিলে কাফনের কাপড় ছিল। এর ওপর একটি চিরকুট ছিল; তাতে লেখা— ‘এখানে কাফনের কাপড় রাখা আছে, যা আমি ওমরাহ হজে ব্যবহার করেছিলাম। যারা দেখছেন, তাদের সাথে এটাই শেষ দেখা।’

সবাই ভালো থাকবেন। এভাবে ১৫ মিনিট কথা বলে ১৬ মিনিটের সময় নিজের মাথায় গুলি করেন মহসিন। কালেমা পড়তে পড়তে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন তিনি।

‘ক্যাপ্টেন কুল’ এবার ‘অথর্ব’!

ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার নেতৃত্বে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত।

ভারতকে দুটি বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দেওয়া সাবেক এই অধিনায়ক গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলে যাচ্ছেন।

ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি অবসর নেওয়ার আগে বিনোদন জগতে প্রবেশ করছেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’।

বুধবার নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ধোনি একটি ‘প্রোমো’ তুলে ধরে বলেছেন, ‘নতুন যুগের গ্রাফিক নভেল অথর্বের ‘ফার্স্ট লুক’। আমি খুশি এটি তুলে ধরতে পেরে।’

পৌরাণিক ওয়েব সিরিজ তৈরি হচ্ছে ‘অথর্ব’ নামে। নাম ভূমিকায় দেখা যাবে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে। বাইশ গজের পৃথিবী থেকে বেরিয়ে তিনি এবার বিনোদন জগতে অভিষেকের অপেক্ষায়।

বরিশালকে হটিয়ে ফের শীর্ষে কুমিল্লা

চলতি বিপিএলে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে টানা জিতে শীর্ষেই ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স; কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে হেরে যায় দুই আসরের শিরোপা জয়ী দলটি।

অন্যদিকে বিপিএল চট্টগ্রাম পর্বে হ্যাটট্রিক জয়ের সুবাদে কুমিল্লাকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেয় সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বরিশাল।

কিন্তু বরিশালকে বেশি সময় শীর্ষে থাকতে দিলেন না ইমরুল কায়েসরা। বৃহস্পতিবার নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে চট্টগ্রামকে পরাজিত করে হারানো সেই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে কুমিল্লা।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের চলতি আসরের ১৮তম ম্যাচে মুখোমুখি হয় চট্টগ্রাম-কুমিল্লা।

এদিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো অবস্থানেই ছিল চট্টগ্রাম। বৃষ্টি শুরুর আগে ১২.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান করে দলটি।

বৃষ্টির কারণে খেলার দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেওয়া হয় ২ ওভার। বৃষ্টির পর খেলতে নেমে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের গতির মুখে পড়ে মাত্র ২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮ ওভারে ১৩৮/৮ রানে ইনিংস গুটায় চট্টগ্রাম।

কুমিল্লার হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন জাতীয় দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

বৃষ্টি আইনে ১৮ ওভারে কুমিল্লার টার্গেট দাঁড়ায় ১৪৪ রান। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইমরুল কায়েস ও লিটন দাসের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে জয়ের দুয়ারে চলে যায় কুমিল্লা।

জয়ের জন্য শেষ ১১ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। খেলার এমন অবস্থায় ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ওপেনার লিটন। তার আগে ৩৭ বলে চার বাউন্ডারি আর তিন ছক্কায় ৫৩ রান করেন এই ওপেনার।

ইনিংস ওপেন করতে নেমে শেষ পর্যন্ত খেলে ৬২ বলে ৬টি চার আর ৫টি ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

চট্টগ্রাম: ১৮ ওভারে ১৩৮/৮ রান (উইল জ্যাকস ৫৭, আফিফ ২৭, শামিম ২৬; মোস্তাফিজ ৫/২৭)।

কুমিল্লা: ১৬.৩ ওভারে ১৪৮/১ রান (ইমরুল কায়েস ৮১*, লিটন দাস ৫৩)।

ফল: কুমিল্লা ৯ উইকেটে জয়ী।

সাফারি পার্কে বাঘের মৃত্যু, যা জানালেন চিকিৎসক

গত মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একটি আফ্রিকান বাঘ মারা যায়। বাঘটি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ছিল বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। পার্কের অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে মারামারি ও ব্যাকটেরিয়াতে জেব্রার মৃত্যুর কথা জানালেও বাঘের মৃত্যুর কারণ ছিল অজানা।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে বাঘের মৃত্যু হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ডা. এবিএম শহিদুল্লাহ। পিসিআর টেস্টে বাঘটির মৃত্যুর কারণ তীব্র ও গুরুতর সংক্রামক ওই রোগটিই বলে নিশ্চিত হন সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা।

জেব্রা ও বাঘের মৃত্যু ঘটনা জানতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি ও ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে পিসিআর ল্যাবের বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ঢাকার কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের সাবেক প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার ও ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে বাঘ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১২ জানুয়ারি বাঘটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত পার্কের ভেতরই সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তকালে আলামত দেখেই ওই চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে বাঘটি মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্সে হয়েছে বলে পার্কের কর্মকর্তাদের সতর্ক হওয়ার জন্য বলেছিলেন।

বাঘের মৃত্যু প্রসঙ্গে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, বাঘটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত করেছিলেন ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ। মৃত্যুর আলামত দেখে তিনি তখনই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। এরপর মৃত বাঘটির প্রথম রিপোর্টের ফলাফলে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক পুনরায় টেস্টের জন্য বলেন। একইসঙ্গে আরটি—পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করতেও পরামর্শ দেন। পরে দ্বিতীয় টেস্টেও বাঘটির মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স রোগই ধরা পড়ে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পাওয়া পিসিআর ল্যাবের টেস্টেও অ্যানথ্রাক্সে শনাক্তের বিষয়টি ধরা পড়ে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তকালেই দেখে অ্যানথ্রাক্স রোগে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানোর পরই তারা সর্বোচ্চ সতর্ক হয়ে যান। আর অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে বাঘের মৃত্যু হয়েছে ধরে নিয়েই তারা চামড়াসহ চিকিৎসকদের পরামর্শে মৃত বাঘটিকে গভীর গর্তে মাটিচাপা দিয়েছেন।

তথ্য গোপন রাখা সম্পর্কে তিনি বলেন, অফিসিয়ালভাবে ও পার্ক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাঘ মৃত্যুর বিষয়টি জানলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। অ্যানথ্রাক্স যাতে পার্কে না ছড়িয়ে পড়ে সেজন্যও তাৎক্ষণিক নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ওই সময় অ্যানথ্রাক্সে বাঘ মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে দর্শনার্থীসহ পার্ক সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াত।

যেভাবে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে বাঘ

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়া বিষয়ে ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ জানান, বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে বাঘটি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খাদ্যে সংক্রমণের মাধ্যমে। বিদেশের পার্কগুলোতে বাঘকে ঘোড়া অথবা হরিণ খেতে দেওয়া হয়। সাফারি পার্কে বাঘকে গরু খেতে দেওয়া হয়। খাবারে ব্যবহার করা গরুটি যদি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে থাকে আর অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস যদি বাঘকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয় তাহলে বাঘের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ছড়াতে পারে। শরীরের কাটাছেঁড়া অংশ দিয়ে, শ্বাস—প্রশ্বাসের মাধ্যমেও অ্যানথ্রাক্স ছড়াতে পারে। এছাড়াও সাফারি পার্কে বড় ধরনের মাছি পাওয়া যায়, ওই মাছির কামড়ে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার নজির থাকলেও বাঘটি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার কারণটি এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

গৃহীত ব্যবস্থা

ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ বলেন, মৃত বাঘটিকে মাটিচাপা দেওয়ার ৭ থেকে ১০ দিন পর পাশাপাশি থাকা অন্যান্য প্রাণীদের অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও খাবারের সঙ্গে অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেব্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা—নিরীক্ষা করছেন। টেস্টের চূড়ান্ত রেজাল্ট আসার পরই প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। আপাতত যে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে, সে মোতাবেক প্রাণীগুলোকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

তবে অন্য প্রাণী অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ বলেন, মৃত বাঘটিকে অসুস্থ হওয়ার আগেই আলাদা কক্ষে আটকিয়ে রাখা হতো এবং অসুস্থ অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া হতো। তাই এতে কোন অন্য প্রাণীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই।

বিনোদনপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পার্কের আফ্রিকান বেষ্টনীতে ১১টি জেব্রা ও ১২ জানুয়ারি একটি বাঘের মৃত্যু হয়।

ভোটে হেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়ি-মোটরসাইকেল ভাঙচুর

কুমিল্লার মুরাদনগরে ভোটে পরাজিত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে জালাল উদ্দিন নামে এক ইউপি সদস্য প্রার্থী এবং তার কর্মী-সমর্থকরা।

উপজেলার ধামঘর গ্রামে নির্বাচনে ওই প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মানিকের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় মানিক বাদী হয়ে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী জালাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি উপজেলার ধামঘর ইউপির ১নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে নির্বাচন করেন জালাল উদ্দিন। ওই নির্বাচনে তার প্রতিবেশী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মানিক একই ওয়ার্ডের অপর সদস্য প্রার্থী মোর্শেদ খানের পক্ষে কাজ করেন। এ নিয়ে মানিকের সঙ্গে জালাল গংদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে জালাল উদ্দিন ও তার কর্মী-সমর্থকসহ পরিবারের সদস্যরা ১ ফেব্রুয়ারি মানিকের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার একটি মোটরসাইকেল এবং বাড়ির দরজা, জানালা, থাইগ্লাস, ফ্রিজ, টিভিসহ ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মানিক বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাসিম বলেন, হামলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মানিক বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় আহত দেলোয়ার পেলেন ক্ষতিপূরণ

হাইকমিশনের তৎপরতায় রেমিটেন্সযোদ্ধা দেলোয়ার পেয়েছেন প্রাপ্য সম্মান। ক্ষতিপূরণ ও মাসিক ভাতা পেলেন দুর্ঘটনায় আহত মালয়েশিয়া প্রবাসী দেলোয়ার (৩২)। এককালীন ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৭ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এছাড়াও আজীবন মাসিক ভাতা ৭৫০ রিঙ্গিত সমপরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭৫ টাকা বাংলাদেশে বসেই প্রতি মাসে পাবেন। ইতোপূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী কর্মীরা আজীবন পেনশন পাননি। এই প্রথম দেলোয়ারকে দিয়ে শুরু হলো বলে হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে দেশে অবস্থানরত দেলোয়ারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে দেলোয়ার জানান, তিনি দেশে যাওয়ার পরপরই ৭ লাখ ৭ হাজার টাকা পেয়েছেন। হাইকমিশন এগিয়ে না আসলে (সহায়তা) ক্ষতিপূরণ পেতেননা বলছিলেন দেলোয়ার। হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেলোয়ার।

রেমিটেন্সযোদ্ধা পাবনার মো. দেলোয়ার হোসেন (৩২) ২০১৬ সালে ভাগ্যের চাকা বদলাতে আসেন মালয়েশিয়ায়। প্রথম দিকে ভালোই চলছিল দেলোয়ারের দিনাতিপাত। কাজে থাকাবস্থায় এক দুর্ঘটনায় তার বামহাত কেটে ফেলা হয়।

এরই মাঝে দেলোয়ারের মালিকপক্ষ তড়িগড়ি করে তাকে দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালায়। বিমানের টিকিট করে দেলোয়ারের হাতে তুলে দেয় মালিকপক্ষ। ক্ষতিপূরণের টাকা চাইলে মালিকপক্ষ অসম্মতি জানায়।

কোনো উপায়ন্তর খুঁজে না পেয়ে দেলোয়ার সোজা চলে আসেন হাইকমিশনে। দায়ের করেন মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ। হাইকমিশন দেলোয়ারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায়ে রিতিমতো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। যতদিন পর্যন্ত দেলোয়ারের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করবে ততদিন দেলোয়ার মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল ছিল হাইকমিশন।

হাইকমিশনের তৎপরতায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দেলোয়ারের কেটে ফেলা বাম হাতের জায়গায় লাগানো হয় কৃত্রিম হাত। গত বছরের ২৫ মে দেলোয়ার চলে যান দেশে। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন তিনি ৭৫০ রিঙ্গিত করে প্রতি মাসে পাবেন ক্ষতিপূরণের টাকা।

এদিকে হাইকমিশনের তৎপরতায় রেমিটেন্সযোদ্ধা দেলোয়ার পেয়েছেন প্রাপ্য সম্মান। বৈধ থাকলে সুফল মিলে এমনটিই বলছেন প্রবাসীরা। হাইকমিশনের এ তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।

মালয়েশিয়ায়া সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন ২০২০ সাল থেকে বিদেশি কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পেনশন নিয়ে কাজ করছে। মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে সকসো (ইন্স্যুরেন্স) এর সদস্য হিসেবে বিদেশি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করতে।

হাইকমিশার মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, বাংলাদেশের প্রবাসীদের মেধা, শ্রম ও দক্ষতা বিশ্বে প্রশংসিত। একই সঙ্গে প্রবাসীরা দেশ এবং নিজ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। করোনাকালে সম্মুখসারির কর্মী হিসাবে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় কাজ করেছে।

হাইকমিশন অনুরোধ করেছে প্রবাসী বৈধ কর্মীদের নিয়োগকর্তা যদি সোকসোর সদস্য না পেলে যেন হাইকমিশনে যোগাযোগ করে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রত্যেক কর্মীকে বিমার আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে দেশটির সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন (সকসো) কর্তৃক ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৬ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি কর্মী মেম্বারশিপ লাভ করেছেন। ইতোমধ্যে ১৩ কোটি ১২ লাখ টাকার বিমা আদায় করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অস্থায়ী অক্ষমতাবরণকারী ৩ হাজার ১৭৮ জনকে ৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণকারী ৬৮ জনকে ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা, ২১৯টি মৃতদেহ প্রেরণ বাবদ ২ কোটি ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত ৮৫০ জনকে ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ অর্থ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পাবনার দেলোয়ার মোল্লা দেশে থেকে দুর্ঘটনাজনিত সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি এককালীন ৭ লাখ ৭ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং আজীবন তিনি ৬৫০ রিঙ্গিত করে পাবেন।