ক্যাম্পাসে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেলের বাবা-দাদিও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ২০১৯ সালে হিমেলের দাদি আমেনা বেওয়া বাসচাপায় মারা যান। এর আগে ২০১৫ সালে হিমেলের বাবা আহসান হাবীব ও মা মুনিরা আক্তার দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে ২০১৬ সালে দুর্ঘটনাপরবর্তী জটিলতায় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হিমেলের বাবা।
হিমেলের নানা মনিরুজ্জামান বলেন, একটার পর একটা সড়ক দুর্ঘটনা আমার মেয়ের জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেছে। বিয়ের পর পৌর কর্মচারী স্বামী আহসান হাবীবকে নিয়ে তার মেয়ের সুখের জীবন ছিল। এর পরে এলো মাহমুদ। চার বছর আগে বগুড়ার শেরপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নাটোরে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহন হন মাহমুদের বাবা-মা। সেই জটিলতায় বছরখানেক ভুগে মারা যান হিমেলের বাবা আহসান হাবীব। মা মুনিরা প্রাণে রক্ষা পেলেও মানসিক রোগীতে পরিণত হন। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসায় ব্যয় হয় অনেক টাকা।
তিনি আরও বলেন, আহসান হাবীবের মৃত্যুর পর তার মা আমেনা শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর মুনিরা হিমেলকে নিয়ে নাটোরে আমাদের বাড়িতে চলে আসে।
মাহমুদ পড়ালেখার জন্য রাজশাহীতে থাকত। মাকে দেখতে মাঝে-মধ্যে নাটোরে আসত। তার মায়ের ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবে ছেলে। সবাই একসঙ্গে থাকবে। সেই স্বপ্ন চিরদিনের মতো শেষ করে দিল সড়ক দুর্ঘটনা।
এদিকে হিমেলের মা অসুস্থ। পরিবারের আর অন্য কোনো সদস্য নেই। হিমেলের রক্ত সম্পর্কিত কেউ থাকলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাবি উপাচার্য। কিন্তু তার পরিবারে মা ছাড়া অন্য কোনো সদস্য না থাকায় তার পরিবারের আর্থিক ও চিকিৎসা খরচ বহন করার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার।
এছাড়া প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা হিমেলের মাকে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি ফান্ড করে হিমেলের মাকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মঙ্গলবার রাত পোনে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হলের সামনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হিমেল। এ ঘটনায় আহত হন মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তারই বন্ধু রায়হান রিমেল। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা শেষে মাহমুদ হাবিবের মরদেহ যখন নাটোর শহরে তার নানার বাড়িতে পৌঁছায়, মা মুনিরা আক্তার তখন ছিলেন নির্বাক। কারও সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি কোনোভাবেই বিশ্বাস করছিলেন না যে হিমেল পৃথিবীতে আর নেই।


