সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 423

এমপির বিরুদ্ধে জায়নামাজ বিছিয়ে অনশন, সেই বৃদ্ধকে খাবার খাওয়ালেন পুলিশ সুপার

জায়নামাজ বিছিয়ে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে আমরণ অনশণে বসা সেই বৃদ্ধ অবশেষে খাবার খেয়েছেন। বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিকের আশ্বাসে খাবার খেয়ে অনশন ভেঙেছেন ওই বৃদ্ধ বেলায়েত হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় বৃদ্ধের কাগজপত্র দেখে জমি বুঝিয়ে দেয়ার আশ্বাসে বৃদ্ধ পুলিশ সুপারের দেয়া পানি ও খাবার খেয়ে অনশন ভাঙলেন।

এর আগে বেলা ১১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে জমি জবরদখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ আনেন বেলায়েত হোসেনের নামের এক বৃদ্ধ।

এসময় তিনি ওই জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে জায়নামাজ বিছিয়ে আমরণ অনশনে বসেন। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের পূর্ব লেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা।

অনশনের বসা বৃদ্ধের নাম বেলায়েত হোসেন। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের পূর্ব লেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা।

বেলায়েত হোসেনের অভিযোগ, কাকচিড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে কাকচিড়া-লেমুয়া সড়কের দক্ষিণ পাশে তার পৈত্রিকসূত্রেপ্রাপ্ত জমি দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করছেন বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন। কাজ শুরুর পর তিনি এমপি রিমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ফল হয়নি।

পরে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। নিরুপায় হয়ে আজ তিনি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও দখলমুক্ত করার দাবিতে অনশনে বসেন।

বরগুনা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, আমি এই বৃদ্ধের অনশনের কথা শুনে রাত ১০টার দিকে তার কাছে যাই এবং তার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করবো বলে আশ্বস্ত করার পর তিনি তার অনশন ভাঙেন। যদিও তিনি দাবিকৃত জমির স্বপক্ষে সব কাগজ দেখাতে পারেননি। তাই তার কাগজপত্র নিয়ে শনিবারে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

যশোরে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার ‘কঙ্কাল ভূমি’ মঞ্চস্থ

একাত্তরের গণহত্যায় যশোরের প্রেক্ষাপটকে প্রধান উপজীব্য করে লেখা নাটক ‌‌‘কঙ্কাল ভূমি’ মঞ্চস্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে শহরের ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজ ক্যাম্পাসটিকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেড় শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটারে এটি ছিল ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা।

এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটের নাটকে দর্শক কখনো ভয়ে আঁতকে উঠেছে, আবার কখনো অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। প্রতিটি দৃশ্যপট দর্শক হৃদয়ে দাগ কেটেছে, হৃদয় স্পর্শ করেছে।

নাটকে মুক্তিযুদ্ধকালের যশোরের প্রায় ২০টি হৃদয়বিদারক নির্মম হত্যাযজ্ঞের সেই সব বীভৎসতা তুলে ধরা হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও দীপংকর দাস রতনের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুল হাসান রিপন।

নাটকে মূলত ১৯৭১ সালে বাঙালি নিরীহ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা, যশোর অঞ্চলের বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবীদদের প্রতি পাকিস্তানিদের ক্ষোভ, রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় তাদের ধরা এবং অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের হত্যা করার দৃশ্য ফুটে ওঠে।

মঞ্চায়ন হয় কীভাবে যশোর অঞ্চলের মানুষদের ধরে এনে চাঁচড়া মুরগি ফার্ম এলাকায় নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়।

যশোরের মণিরামপুরে মেহের রাজাকারের নির্মমতার লোমহর্ষক দৃশ্য। স্থানীয় রাজাকারদের নিয়ে তার গড়ে উঠা ‘মেহের জল্লাদ’ বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ-লুট-নির্যাতন।

মণিরামপুরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া তরুণ যুবক আকরামের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভয়াল দৃশ্য। মঞ্চায়ন হয়, বৃহত্তর যশোরে আইনজীবী, আদর্শবান রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে সুপরিচিত অ্যাডভোকেট মসিউর রহমানের ওপর বেয়নেটের খোঁচায় অসংখ্য রক্তাক্ত ক্ষতের যন্ত্রণা ভোগ করার দুঃসহ বন্দিজীবনের দৃশ্য।

যশোরের স্থানীয় রাজাকারের সহায়তায় যশোর দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় অর্ধশতাধিক ছাত্রদের নির্মম হত্যাযজ্ঞের লোমহর্ষক কাহিনী। দেখানো হয় চৌগাছার জগন্নাথপুর ভারতের মিত্রবাহিনী ও মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের মল্লযুদ্ধ। এছাড়া যশোরের ২০টি স্থানের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে নাটকটির দৃশ্যায়ন তুলে ধরা হয়েছিলো। যা দেখে হাজারো দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

নাটকটির নির্দেশক কামরুল হাসান রিপন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির বীর সন্তানদের ত্যাগ কখনো ভোলার নয়। তাই বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শিল্পের আলোয় নতুনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরার চেষ্টায় যশোরের বধ্যভূমি নিয়ে নাটক ‘কঙ্কাল ভূমি’।

আমাদের জন্য এটা একটা সৌভাগ্য। মুজিববর্ষের পরপরই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা যশোরবাসীর কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছি গণহত্যা বধ্যভূমি পরিবেশ থিয়েটার নিয়ে। শিল্পের সব শাখাতেই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাজ হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর যে গণহত্যারও ৫০ বছর তা এই পরিবেশ থিয়েটারের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চাই। নাটকটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে বিছুটা পৌঁছে যাবে।

এদিকে, নাটক শুরুর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই যশোর অঞ্চলে মানুষের উপর চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াই যশোরবাসী।

মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক এসব নাটক তৃর্ণমূল পর্যায়ে মঞ্চায়ন করে নতুন প্রজন্মর মাঝে ছড়িয়ে দিতে সংস্কৃতিকর্মীদের এমন উদ্যোগ বেশি বেশি করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালে বিশেষ অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, পরিবেশ নাটক হলো প্রচলিত প্রেক্ষাগৃহের বাইরে গিয়ে অন্যত্র নাটক মঞ্চায়ন। এ পদ্ধতিতে যেকোনো স্থানে মঞ্চায়নের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে নাট্য পরিবেশনা সম্ভব। বাংলাদেশে এ ধারণা ভিন্নমাত্রা পেয়েছে।

যেখানে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, ঠিক সেখানেই নাটক মঞ্চস্থ করে পরিবেশ থিয়েটার প্রকৃত অর্থে পরিবেশবাদী হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত ৩৭টি জেলায় গণহত্যা নিয়ে নাটক পরিবেশিত হয়েছে। আজ ৩৮ তম অনুষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম স্বাধীন জেলা যশোরে।

আশা করি এই নাটকের মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারবে।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, শিক্ষাবিদ তারাপদ দাস প্রমুখ।

ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে রাশিয়া

ইউক্রেনের মারিউপোল শহরে একটি মাতৃসদন হাসপাতালের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ভয়াবহ এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হাসপাতালটিতে বিদ্যুৎ ছিল না। প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে ছিল না কোনো হিটার।

পানি ও খাবারের অভাব তো ছিলই। এর মধ্যেই সেখানে ভয়-শঙ্কা সঙ্গে করে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন বেশ কয়েকজন মা। কিন্তু বুধবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতালটি। ৬ বছরের শিশুসহ নিহত হয়েছে ৩ জন। গুরুতর আহত প্রায় ১৭ জন সন্তানসম্ভবা মা।

হয়তো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে আরও কেউ কেউ। গত দুই সপ্তাহ ধরে এভাবেই ইউক্রেনের নারী ও শিশুদের টার্গেট করছে রাশিয়া। এর মধ্যদিয়ে মূলত ইউক্রেনের ভবিষ্যৎই ধ্বংস করছে মস্কো।

মারিউপোল শহরটি এখন কার্যত অবরুদ্ধ। নিরবচ্ছিন্নভাবে বোমাবর্ষণ করে চলেছে রুশ বাহিনী। যেমনটা জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুবেলা। বুধবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, শহরটিতে নির্বিচারে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। চার লাখের বেশি মানুষকে জিম্মি করেছে রাশিয়া। এছাড়া অন্তত তিন হাজার সদ্যজাত শিশু খাবার ও ওষুধের অভাবে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার নতুন আরেকটা মাতৃসদনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল রাশিয়া। বর্বরোচিত এই হামলা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোরও নজর এড়ায়নি। ইউনিসেফ ইতোমধ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, সংস্থাটি রাশিয়াকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার ও শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজ মারিউপোলের একটি মাতৃসদনে হামলার খবরে আমি খুবই শঙ্কিত। এই হামলায় আগে থেকে কষ্টের মধ্যে থাকা ছোট্ট ছোট্ট শিশু ও সন্তান সম্ভবা মায়েরা বিধ্বস্ত ভবনের নিচে চাপা পড়েছে। আমরা এখনো হতাহতের সংখ্যা জানি না। তবে সবচেয়ে খারাপ সংবাদের আশঙ্কা করছি।’

ইউনিসেফ আরও বলেছে, ইউক্রেনে স্কুল, হাসপাতাল, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এভাবে নির্বিচার হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মাতৃসদনে হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘও। সংস্থার প্রধার আন্তনিও গুতেরেস এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘মারিউপোলের একটি মাতৃসদনে আজকের হামলা সত্যিই রোমহর্ষক। এই যুদ্ধের সর্বোচ্চ মূল্য দিচ্ছে বেসামরিক নাগরিকরাই। এই রক্তপাত এখনই বন্ধ করুন।’

শত্রুর সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা হচ্ছে তার নারী ও শিশু। এই জায়গাতেই অস্ত্র তাক করছে রুশ বাহিনী। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৬০ শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও শতাধিক। দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রায় ১০ লাখ শিশু। রকেট মেরে একাধিক শিশু হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময়ও শিশুদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

অধিকৃত শহরগুলোর রাস্তায় রাস্তায় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। বাড়ির বেজমেন্টে খাদ্য ও পানি ছাড়াই মারা যাচ্ছে শিশুরা। ইউক্রেনে রুশ বাহিনী এই গণহত্যার কোনো সীমা নেই। এই পরিস্থিতিতেও যেকোনো শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বড়রা। চেষ্টা করছে শহর ছেড়ে পালানোর। কিন্তু শহরে শহরে মানবিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েও আবারও বন্ধ করে দিয়েছে।

কাউন্সিল অব ইউরোপ থেকে বের হয়ে গেল রাশিয়া

ইউরোপের মানবাধিকার সংস্থা ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’ থেকে রাশিয়া বের হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানান। খবর বিবিসির।

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটো দেশগুলো ‘রাশিয়ার প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয়’। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে তারা এমনও অভিযোগ তুলেছে যে তারা কাউন্সিলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় দাবি, এই রাষ্ট্রগুলো ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এবং ইউরোপের সাধারণ মানবাধিকার ও আইনি পরিস্থিতি ধ্বংস করতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে’।

ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অব ইউরোপ, যারা মহাদেশে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বজায় রাখার উদ্দেশে কাজ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশের পর ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এ অভিযানের অংশ হিসেবে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।

এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান হলেন আসওয়াত আকসির মুজিব

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নেতৃত্বে এসেছেন টি এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আসওয়াত আকসির মুজিব ওয়াসি।

প্রথমবারের মতো তিনি এফবিসিসিআই’র স্ট্যান্ডিং কমিটির (লজিস্টিক অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসেস) কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০২১-২৩ সালের জন্য এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

টি এশিয়া সিকিউরিটিজের করপোরেট হেড অফিসে সব স্টাফদের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার বিকালে আসওয়া আফসির মুজিব ওয়াসিকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আমি সত্যি আনন্দিত ও গর্বিত। এজন্য মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এ ছাড়া আপনাদের সবার সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করছি।

উল্লেখ্য, টি এশিয়া সিকিউরিটিজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেক (সদস্যপদ) হোল্ডার।

রোজার আগে তেল ডাল চিনি ছোলার সংগ্রহ বাড়াচ্ছে টিসিবি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে রোজার মাসে ক্রেতাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ছোলা, ডাল, চিনি এবং সয়াবিন তেলের সংগ্রহ বাড়াচ্ছে সরকারি বিপণন সংস্থা (টিসিবি)।

বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ওই বৈঠকে টিসিবির মাধ্যমে বিতরণের জন্য ১ কোটি ৭১ লাখ লিটার ভোজ্যতেল, ১৪ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৯ হাজার মেট্রিক টন মশুর ডাল ও ১০ হাজার মেট্রিক টন ছোলা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মানুষের কষ্ট রোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিসিবির কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রজমান মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি সেগুলো থেকেই ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ সহযোগিতা দরকার- তা পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। সেটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে। এ ছাড়া চিনি ও ছোলারও ওপর আরোপিত ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় দু’টি বৈঠক। টিসিবির পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, টিসিবি অর্থনীতির মেরুদণ্ড। অর্থনীতিতে পণ্যের মজুদ দরকার, পাশাপাশি ভোক্তার কাছে সময় মতো ন্যায্যমূল্যে পৌছানো গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন জিনিসপত্রের অভাবে কোনো বিপদ ঘটে না। বিপদ ঘটে যদি বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যত্যয় হয়। সময়মতো বিতরণ করতে না পারলে দেশে বা বিদেশে যেখানের গুদামে পণ্য থাকুক কোনো লাভ হয় না।

তিনি আরও বলেন, টিসিবিকে আরও কার্যকর করে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে টিসিবিকে নিয়ে যাব। যাতে কোনো মানুষ কষ্ট না পায়। এক কোটি পরিবারকে টিসিবির আওতায় আনা হচ্ছে। ভোজ্যতেল দিয়ে শুরু করছি। এরপর অন্যান্য পণ্য দেওয়া হবে।

ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টিসিবিকে মেঘনা সুগার রিফাইন্ড লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ৭ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকেও ৭ হাজার মেট্রিক টন চিনি ৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কিনতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ১৪ হাজার মেট্রিক টন চিনি সর্বমোট ১১০ কোটি ৬০ লাখ টাকায় সরাসরি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভ্যাটসহ প্রতিকেজি চিনির ক্রয়মূল্য হবে ৭৯ টাকা। টিসিবিকে ৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন ছোলা ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেনা কল্যাণ সংস্থা, মেসার্স ব্লু স্কাই এন্টারপ্রাইজ এবং রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এই ছোলা কেনা হবে।

এদিকে ২১১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মশুর ডাল কেনা হবে। প্রতি কেজি ডালের মূল্য ১০৮.৫০ টাকা। এ ছাড়া ১ কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার ৬৫২ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৮৭ কোটি ৫৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৬ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিনের মূল্য হবে ১৬৮ টাকা।

দুই ‘ফর্মুলা’য় বিএনপিসহ বিরোধী জোটে মতানৈক্য

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘সরকারব্যবস্থা’ নিয়ে বিরোধী জোটে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিএনপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানালেও তাদের সঙ্গে একমত নন জোটের একাধিক শরিক।

আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ও কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের এলডিপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় সরকারের পক্ষে। এ দুই ফর্মুলা নিয়েই জোটের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এটা নিরসনে বিকল্প হিসাবে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের’ প্রস্তাব নিয়েও কাজ করছেন বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতা।

নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ইতোমধ্যে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন তারা। একাধিক ফর্মুলা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ফর্মুলা চূড়ান্ত হওয়ার পর রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ও জাতীয় সরকার-এ দুই ‘ফমুর্লার’ পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে দলগুলো। বিএনপি বলছে, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

আর জাতীয় সরকারের পক্ষে দলগুলোর যুক্তি হচ্ছে-দীর্ঘদিন যারা ক্ষমতায়, তারা পুরো প্রশাসন নিজেদের মতো করে সাজিয়ে রেখেছেন। মাত্র তিন মাসে নির্দলীয় ব্যক্তিদের পক্ষে এই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো সম্ভব না। তাই অন্তত দুই বছর জাতীয় সরকার ক্ষমতায় থাকতে হবে।

এরপর তাদের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে। ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্য জাতীয় সরকার এবং নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে আপত্তি তুলছে। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তিই নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নন, সুতরাং এ দাবি অযৌক্তিক।

আর জাতীয় সরকার বলতে যদি সেখানে আওয়ামী লীগেরও প্রতিনিধি থাকে, তা জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে-যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে, তাদের প্রতিনিধি জাতীয় সরকারে থাকলে বিরোধী দলগুলো জনগণের কাছে কী জবাব দেবে?

সূত্র জানায়, এ দুই ফর্মুলার বাইরে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের’ প্রস্তাব করেছে ঐক্যফ্রন্টে থাকা একটি দল। প্রস্তাবটি নিয়ে বিএনপি নেতারা গত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনাও করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নানা দিক নিয়ে পর্যালোচনাও হয়।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি ‘ফর্মুলায়’ ঐকমত্যে পৌঁছাতে ইতোমধ্যে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না দলগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন। এর সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছেন গণফোরামের ড. কামাল হোসেনও।

তিনিও এ নিয়ে কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতারা আশা করছেন, সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা বের করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দলের দাবি-কোনো দলীয় সরকার নয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে।

কেউ যদি জাতীয় সরকারের কথা বলে থাকে, এটা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন। প্রতিটি দলেরই বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এ নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব বা সমস্যা হবে না। যে যার জায়গা থেকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি আমরা। আলোচনার মাধ্যেমে সব ইস্যুতে ঐকমত্য হবে বলে আশা করছি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম দল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। সেটা করতে হলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকার বা জাতীয় সরকার-কোনটা হবে, সেটা আলোচনার বিষয়।

যেটার ওপর ঐকমত্যে আসা যায়, সেটার পক্ষে আমি। আমরা কোনো দাবি জানিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা চাই-বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হোক। সবাইকে নিয়ে বসব, দেখি কীভাবে ঐকমত্যে আনা যায়।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া যুগান্তরকে বলেন, আমরা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলার সঙ্গে একমত। জাতীয় সরকারের বিষয়টি তো পরিষ্কার নয়। এটিতে কি আওয়ামী লীগও থাকবে?

আওয়ামী লীগ ছাড়া যদি জাতীয় সরকার হয়, তাহলে আমাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য। আর যদি এ দুই ফর্মুলা গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচনের দাবি আমাদের।

তিনি বলেন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো পরীক্ষিত, সেটার দিকে যাওয়াই ভালো। বাকি ফর্মুলা তো পরীক্ষিত নয়। আমি মনে করি, এ নিয়ে মতবিরোধ খুব বেশি নয়। কারণ যারা জাতীয় সরকারের কথা বলছেন, তারা অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারও মানবে।

বরং তর্কবিতর্ক হতে পারে সময় নিয়ে। এটা ওয়ান-ইলেভেনের মতো হবে নাকি তিন মাসের মতো হবে। সেটা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিএনপির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব যুগান্তরকে বলেন, মূল দাবিটা হলো এই সরকারের পরিবর্তন। দেশে সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেদিকে যাবে, তা ঠেকানের জন্য একক দলের পক্ষে সম্ভব হবে না।

শ্রমজীবী, পেশাজীবী, সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নিয়ে যথাসম্ভব জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। কারণ জনগণ বারবার ধোঁকা খেয়েছে। জনগণ দলীয় সরকারের পরিবর্তে আরেকটি দলীয় সরকার চায় না। তারা তাদের অংশগ্রহণ ও অধিকার চায়। অতএব সেটা করার জন্য জাতীয় সরকার ছাড়া বিকল্প নেই।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বলেন, বিএনপির দাবির সঙ্গে আমাদের দাবির কোনো পার্থক্য নেই। দুটিই একই ধরনের দাবি; কিন্তু শব্দচয়নগুলো আলাদা।

আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-বিগত ১৩-১৪ বছরে নির্বাচন কমিশনসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো বিরাজনীতিকরণ ছাড়া নির্বাচনে গেলে কোনো লাভ হবে না।

বিগত দিনে যেভাবে রাতে ভোট লুট হয়েছে, তাদের কারণে একই ধরনের সমস্যা হবে। আমরা চাই-জনগণ যেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে ভোট দিতে পারে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। ক্ষমতায় যাওটা প্রধান লক্ষ্য হতে পারে না, জনগণের সরকার গঠন করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জাতীয় সরকারে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিও থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও জাতীয় সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সরকার হলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নয়।

বিএনপির প্রতিনিধি থাকলে আওয়ামী লীগেরও প্রতিনিধি থাকবে। এতে হবে কী, আওয়ামী লীগ ভয় পাবে না। তা না হলে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে বলেছে কয়েক লাখ লোক মারা যাবে।

এসব ভয়ের অবসান এবং সুশাসনের জন্য জাতীয় সরকারে সবার প্রতিনিধি রাখার কথা আমি বলেছি। দুই বছরের জন্য জাতীয় সরকার বা সর্বদলীয় সরকার হলে দেশের পরিবর্তন হবে, সুশাসন ফিরে আসবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এটা কোনো বিরোধের বিষয় নয়। বিএনপি নিজেই এ নিয়ে দিধাদ্বন্দ্বে। তারা বলছে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার, মানে নির্দলীয় কেয়ারটেকার সরকার।

কোনো দলের নয় বলছে, আবার নিরপেক্ষও বলছে। এই যে ১৩ বছর ধরে দুঃশাসন চলছে, দুর্নীতি-লুটপাট চলছে-এগুলোর বিচার হবে না? পুরো প্রশাসন যে নিজের মতো করে সাজিয়ে ফেলছে, এই প্রশাসন রেখে তো ভোট করে জেতা যাবে না।

প্রশাসন তো সাজাতে হবে। এজন্য আমি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে। সে সরকার নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এর জন্য প্রশাসন ঠিক করতে হবে, দোষীদের সাজা দিতে হবে।

তিনি বলেন, তবে বাস্তবতা হলো-আন্দোলনের মাধ্যমেই যদি সরকারকে ফেলে দেওয়া যায়, তাহলে আন্দোলনের শক্তি দিয়েই সরকার হবে। আমরা যদি অতদূর যেতে না পারি, মাঝখানে যদি কেউ আসে, তাহলে তারা তাদের মতো সরকার করবে।

তখন যে সরকার করবে, মানুষ তার পক্ষে থাকবে। যারা জাতীয় সরকারের কথা বলছেন, তাদের মতলবটা ভালো মনে হয় না। এ ফর্মুলায় আওয়ামী লীগ তো থাকতে পারে না, এটা তো হয় না।

সূত্র জানায়, জাতীয় সরকারের পক্ষে সমমনা গণফোরাম (মন্টু), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন প্রভৃতি দলও রয়েছে। তবে হঠাৎ করে জাতীয় সরকারের দাবিতে যেসব দল সরব, তাদের সন্দেহের চোখে দেখছে বিএনপি।

দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, জাতীয় সরকারের পক্ষে যারা কথা বলছেন, তারা নিজেদের স্বার্থেই কথা বলছেন। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা আশানুরূপ মূল্যায়ন না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে জাতীয় সরকারের দাবিতে একাট্টা হতে পারেন।

তাদের পেছনে একটি তৃতীয় গোষ্ঠীও রয়েছে বলে ধারণা করছেন। যাদের সঙ্গে সরকারেরও সম্পর্ক রয়েছে। নেতারা আরও বলেন, অনির্বাচিত জাতীয় সরকারের অধীনে দুই বছর রাষ্ট্র চলতে পারে না।

এক্ষেত্রে বিএনপি তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। আলোচনার মাধ্যমে জুনে মধ্যেই ‘নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার’ কিংবা ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের’ একটি রূপরেখা দিতে চান তারা। যেখানে দাবির পক্ষে যুক্তিসহ বিস্তারিত থাকবে। এ নিয়ে নীতিনির্ধারকরা কাজ করছেন।

‘দুর্নীতিবাজ-জঙ্গিবাদের সমাধান ছাড়া দেশে শান্তি আসবে না’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রের চিরশত্রু দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিদের দমন ছাড়া দেশে শান্তি আসবে না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মৌলভীবাজার জেলা জাসদ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি উপরের কথা বলেন।

ইনু বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় যথাসময়ে নির্বাচন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রু সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদীদের দমন জরুরি। এছাড়া জনজীবন বিপর্যস্থকারী দুর্নীতিবাজ, দলবাজ, গুণ্ডাবাজ, বাজার সিন্ডিকেটের হোতাদের মোকাবেলা-দমন ও বৈষম্য-বঞ্চনা দূর করতে সমাজতন্ত্রের চশমা পরে অর্থনীতির পরিকল্পনা পাল্টাতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রাষ্ট্রের চিরশত্রু দুর্নীতিবাজ-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিরা এখনও সক্রিয়। তারা এখনও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মীমাংসিত বিষয়ের ওপর আঘাত করছে। এদের মোকাবেলা করার পাশাপাশি নির্বাচনও করতে হবে।

ইনু বলেন, জনজীবনের সমস্যা-দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব দূর, তেল-গ্যাসের উচ্চমূল্য রোধ ও বৈষম্য-বঞ্চনা নিরসন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

জেলা জাসদের সভাপতি আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন নজরুল এর পরিচালানায় এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা মোঃ আনোয়ারুল হক, যুক্তরাজ্য জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট হারুনুর রশিদ, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সহ-সভাপতি শাহান খান, কুলাউড়া জাসদ সভাপতি রফিকুল ইসলাম টিপু ও রাজনগর জাসদ সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক চৌধুরী প্রমুখ।

চাপা পড়েছে ওদের কথা

এত এত সাফল্য এবারের বইমেলার। মানুষের আগমনও অনেক, বিক্রিও ভালো। কিন্তু সব প্রকাশনার জন্য এ চিত্রটি একরকম নয়। মেলায় আসা অনেক প্রকাশনা সেই অর্থে ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। ভালো বই থাকার পরও তারা পাঠকের আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। বইয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার পরও স্টলগুলো কেবল পাঠকের দৃষ্টির আড়ালে পড়ে যাওয়ায় এই হাল হয়েছে। খরচ তুলে আনতেই অনেক প্রকাশককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজ শুক্রবার, ছুটির দিন। মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকছে শিশুপ্রহর।

বৃহস্পতিবার আড্ডার ফাঁকে কথা হয় ইন্তামিন প্রকাশনীর প্রকাশক এএসএম ইউনূছ, ডাক প্রকাশনীর প্রকাশক ফেরদৌস আলম ও ছোটদের জ্ঞান বিজ্ঞান একাডেমির প্রকাশক শামীম আহমেদের সঙ্গে। তারা জানান, অনেক প্রকাশকই আছেন যারা এক বা দুই ইউনিটের স্টল নিয়েছেন; কিন্তু সেই অর্থে ব্যবসা করতে পারছেন না। তাদের মধ্যে মেলার পূর্বপাশে ‘ভাসানচর’ এলাকার প্রকাশনাগুলোই প্রধান। ইন্তামিন প্রকাশনীর প্রকাশক এএসএম ইউনুছ যুগান্তরকে বলেন, যেদিকে আমাদের স্টল পড়েছে, সেদিকে শুক্র ও শনিবার ছাড়া লোকসমাগম খুবই কম। অনেক সময় প্রতিদিনের খরচ ওঠাতেও কষ্ট হয়। শুক্র ও শনিবার যা একটু বিক্রি হয়, সেটাই ভরসা। সন্ধ্যার সময় অনেক সময় লোকজন এখানে এই ‘ভাসানচরে’ একেবারেই আসে না বলে পরিচিত কয়েকজন শিল্পীকে আনিয়ে গানবাজনা করি। তাতে যদি এলাকাটা একটু সরব থাকে।

বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল আসলেই পাঠকের আনাগোনা কম। একই সারিতে আছে ভালো মানের বইয়ের প্রকাশনা হিসাবে খ্যাত ‘মূর্ধন্য’। অনেক মানসম্পন্ন বই থাকা সত্ত্বেও বিক্রি খুব কম। ওদিকে থাকা শতাধিক প্রকাশনার একই হাল। কয়েকজন প্রকাশক আক্ষেপ করে বললেন, গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা এদিকে আসেন না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণের মূল মাঠ ও তার আশপাশে যেখানে লোকসমাগম, সেখানেই মিডিয়াগুলোও সরব। এদিন বিকালে পুরো সোহরাওয়ার্র্দী উদ্যানে হেঁটে দেখা যায়, বিকাল থেকেই মানুষ আসতে শুরু করেছে। এমনকি সন্ধ্যায় মেলা ছিল জমজমাট। কিন্তু তার বেশির ভাগই মেলার পশ্চিমাংশ, মধ্যভাগ ও পূর্বদিকে নামাজের জায়গার আগ পর্যন্ত। ‘ভাসানচর’ হিসাবে পরিচিত পাওয়া পূর্বভাগে লোকসমাগম খুব কম।

বিকাশে বিরক্তি : অনেক পাঠক এবার বইমেলায় বিকাশ প্রতিনিধিদের তৎপরতায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। মেলায় বিকাশের স্টল প্রচুর, সেটা সমস্যা নয়। সমস্যা হলো একটু পরপরই বিকাশের প্রতিনিধিরা মেলায় অবস্থান নিয়েছেন এবং একটু যেতে না যেতেই তাদের দেখা মিলছে। তারা প্রতিনিয়ত মেলায় আগত পাঠকদের কাছে জানতে চাচ্ছেন যে, তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট আছে কি না। ধানমন্ডি থেকে আসা কলেজছাত্রী ফাহমিদা জারিন যুগান্তরকে বলেন, বিকাশের প্রতিনিধিরা স্টলে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করলে এই বিরক্তি আসত না। এই পর্যন্ত চারবার মেলায় এসেছি। যতবারই এসেছি, ততবারই কয়েক দফায় তাদের মুখোমুখি হয়েছি। এটা কোনো স্মার্ট ওয়ে হতে পারে না। যার প্রয়োজন হবে, সে এমনিতেই বিকাশের স্টলে গিয়ে জানতে চাইবে।

এদিন বিকালে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হোসেন আবদুল মান্নান লিখিত ‘একটুখানি চাকরি’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। উপস্থিত ছিলেন প্রকাশক ওসমান গণি ও লেখক হোসেন আবদুল মান্নান।

মঞ্চের আয়োজন : বিকালে বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা সাহিত্যচর্চা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জসিম মল্লিক এবং শামস আল মমীন। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের আত্মশক্তির বিকাশ হলে সাহিত্যেও তার প্রতিফলন ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক মহলেরও বাংলা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এজন্য সাহিত্যে নিজস্ব জীবনবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে, মানসম্পন্ন অনুবাদ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা সাহিত্যের প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং সঞ্জীব পুরোহিত।

বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আবু নাসের মানিক, মাসুদ রানা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কাশফুল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ’ এবং ‘আমরা কুঁড়ি’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী বদিয়ার রহমান, আঁখি আলম, ওয়াদুদুর রহমান রাহুল, আবুল বাশার আব্বাসী, ডালিয়া সুলতানা, মো. আরিফুর রহমান।

নতুন বই : বৃহস্পতিবার বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৫৯টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে ইন্তামিন থেকে প্রকাশ হয়েছে মহাদেব সাহার কবিতার বই ‘চাই বিষ অমরতা’, সেলিনা হোসেনের গল্পগ্রন্থ ‘গল্পের খেলাঘর’, কথাপ্রকাশ থেকে ইমদাদুল হক মিলনের ‘ভূতুড়ে’, অবসর থেকে ফয়জুল লতিফ চৌধুরী সম্পাদিত ‘জীবনানন্দ দাশের কবিতার পাণ্ডুলিপি চিত্র’। নবান্ন প্রকাশনী প্রকাশ করেছে মুহম্মদ নূরুল হুদার কাব্যগ্রন্থ ‘কুসুমমৌসুম’, ড. নূরুন নবীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারত’, শিহাব সরকারের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘দিনগুলি যায় না তবু না ফুরায়’ ও সেলিনা হোসেনের প্রবন্ধ ‘এক জীবনে বাংলা একাডেমি’, অন্যধারা প্রকাশ করেছে সাইমন জাকারিয়ার ফোকলোর ‘বাংলাদেশের লোকশিল্পী তালিকা’, নালন্দা প্রকাশ করেছে সুধাংশু শেখর বিশ্বাসের ভ্রমণগ্রন্থ ‘সিঙ্গাপুরের সিংহ’, ঐতিহ্য প্রকাশ করেছে সৈয়দ শামসুল হকের ভাষা আন্দোলনবিষয়ক ‘বাহান্নের বিজয়গাথা’, জয়তী প্রকাশ করেছে ইকবাল খন্দকারের কিশোর থ্রিলার ‘টার্গেট কিলার’, একাত্তর প্রকাশনী প্রকাশ করেছে ড. আব্দুস সাত্তারের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ ‘আমেরিকার শিক্ষা’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. প্রকাশ করেছে ফাল্গুনী তানিয়ার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধ ‘বাংলাদেশের নারীযোদ্ধা : বঙ্গবন্ধুর অবদান’।

স্বাধীন বাংলার পতাকা সব ভবনের শীর্ষে

স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে অবিচল সর্বস্তরের মানুষ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে তারা সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

বঙ্গবন্ধু আহূত অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে শরিক হয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি ও প্রশাসনের সচিবসহ সারা বাংলায় সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের কর্মচারী অফিস বর্জন করেন। ১৯৭১ সালের ১১ মার্চ সচিবালয়, মুখ্যসচিব ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ সব সরকারি ও আধাসরকারি ভবন এবং বাড়ির শীর্ষে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানো হয়। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর প্রশাসনিক কাজে যেন বাঙালিরা সহায়তা না করে। ৭ মার্চের ভাষণেও সেটা তিনি বলেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান পুরোপুরি কার্যকর হয় মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়ই। বন্ধ করে দেওয়া হয় সরকারি ও আধাসরকারি প্রায় সব কার্যালয়। আদালত থেকে শুরু করে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাই স্বাধীনতার এই ডাকে সারা দিয়ে কর্মস্থল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বের হয়ে যান।

এদিন টাঙ্গাইলে বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ন্যাপপ্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সাত কোটি বাঙালির নেতা। নেতার নির্দেশ পালন করুন। লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবাই একজোট হয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করুন। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনোরকম বিরোধ থাকা উচিত নয়। জনগণ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

ন্যাপ (ওয়ালী) পূর্ববাংলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, পাঞ্জাব আওয়ামী লীগ সভাপতি এম খুরশীদ, কাউন্সিল মুসলিম লীগপ্রধান খান মমতাজ দৌলতানার বিশেষ দূত পীর সাইফুদ্দিন ও ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি কে উলফ আজকের এই দিনে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

সংগ্রামী জনতা সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। সিলেটে রেশন নেওয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে বাধা দেওয়া হয়। যশোরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

রাতে সামরিক কর্তৃপক্ষ ১১৪ নম্বর সামরিক আদেশ জারি করে নির্দেশ দেয় যে, কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করলে বা সশস্ত্র বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ বা সেনাবাহিনীর গতিবিধিতে অন্তরায় সৃষ্টি করলে তাদের কার্যকলাপ আক্রমণাত্মক কাজের শামিল বলে গণ্য হবে, যা সামরিক বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একাত্তরের এই দিনে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে গণঐক্য আন্দোলনের নেতা এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খুব দ্রুত পটপরিবর্তন হচ্ছে। দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানই কার্যত এখন ঢাকার সরকার। তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়া না হলে দেশের দুই অংশকে এক রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

এদিন, পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে তারবার্তা পাঠান। তারবার্তায় তিনি বলেন, উদ্ভূত সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমরা আজ বিরাট সংকটের মুখোমুখি। দেশের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। এ ব্যাপারে আমাদের উভয়ের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। ধ্বংস এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই আমাদের করতে হবে। যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

এদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা ইয়াহিয়াকে একটি বার্তা দেন যে, অবিলম্বে সমস্যার প্রতিকার না করা গেলে পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিউজপ্রিন্টের অভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের সংবাদপত্রের কলেবর হ্রাস পেয়েছে। করাচি, ডনসহ পশ্চিম পাকিস্তানের পত্রিকাগুলোর কলেবর ১৪ পৃষ্ঠার পরিবর্তে মাত্র ৪ পৃষ্ঠা ছাপা হচ্ছে। এসব পত্রিকা খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের কাগজ ব্যবহার করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে চালান বন্ধ করা হয়।