শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 398

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের সন্দেহভাজন ২ নাগরিক আটক

কক্সবাজারে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের সন্দেহভাজন দুই নাগরিককে আটক করেছে আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ (এপিবিএন)।

বুধবার রাত ১০টার দিকে টিভি টাওয়ার এলাকায় ক্যাম্প ৭-এর প্রবেশমুখে চেকপোস্ট থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। তারা মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

আটকৃতরা হলেন- সেন জাওয়া সা ইউন (২১) ও কিয়া লোলানা সো (২৭)।

এদিকে আটকৃতেদর পরিচয় নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবি, আটককৃত দুজনই মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সদস্য। তারা ক্যাম্পে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন।

সরকারি একটি সংস্থা বলছে, আটককৃতরা দুজনই মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্য বলে তথ্য পাচ্ছেন তারা, তবে এখনো নিশ্চিত নন।

১৪ আমর্ড পুলিশ সুপার নাইমুল হক যুগান্তরকে বলেন, আটককৃতদের কাছে কিছুই পাওয়া যায়নি। তারা রোহিঙ্গা বা বাংলা ভাষাও জানেন না। দোভাষীদের সহযোগিতায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলে দাবি করছেন। আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, তারা যদি মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের একটি সূত্রে দাবি করছে, আটককৃতরা পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে কয়েক দিন আগে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবেশ করেন। ক্যাম্পের কিছু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সূত্রটির মতে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

এমন সময় সন্দেহভাজন এ দুজন মিয়ানমারের নাগরিককে ক্যাম্প থেকে আটক করা হলো, যখন ৭০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে।

ফতুল্লায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দক্ষিণ সস্তাপুর আবাসিক এলাকায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় লিংক রোডসংলগ্ন ওই ঝুটের গোডাউনে আগুন লাগে। সকাল সাড়ে ৭টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুলু মিয়া তিনি, হঠাৎ গোডাউন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুহুর্তের মধ্যে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আমরা সাতজন এ গোডাউনে গার্মেন্টের ঝুট রেখে ব্যবসা করি। আমাদের সবার প্রায় কয়েক কোটি টাকার ঝুট ছিল। এখন গোডাউনের পোড়া টিন ছাড়া কিছুই নেই।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লিংক রোডের উভয় দিকে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে পরে জানানো হবে।

রাশিয়াকে পারমাণবিক যুদ্ধের ব্যাপারে হুশিয়ারি দিল ন্যাটো

অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে কেবল পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে বলে যে হুমকি দিয়েছে রাশিয়া, তার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।

বুধবার ইউক্রেন যুদ্ধ মস্কো ও পশ্চিমের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ না করায় রাশিয়াকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে এ জোট। খবর রয়টার্সের।

ন্যাটোর মহাসচিব জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, এ ধরনের বিপজ্জনক দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক বাগাড়ম্বর বন্ধ করা উচিত রাশিয়ার। তবে যে কোনো সময় যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে মিত্রদের সুরক্ষা ও রক্ষা করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের নেতাদের বিশেষ সম্মেলন শুরুর আগে তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে অবশ্যই বুঝতে হবে তারা কখনই পারমাণবিক যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে না।

জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘ন্যাটো ইউক্রেন সংঘাতের অংশ নয়, তারা কেবল ইউক্রেনকে সমর্থন করছে।’

পশ্চিমা সামরিক জোটের এই মহাসচিব বলেন, ‘ইউক্রেনে সৈন্য পাঠাবে না ন্যাটো। ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদান করাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা সেটি করে যাচ্ছি। কিন্তু একই সঙ্গে এই সংঘাত যাতে ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত না হয়, সেটি ঠেকানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে, বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরের এক প্রশ্নের জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া তখনই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে যদি তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক মাসে কার কী অর্জন?

২৪শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর রুশ সেনারা প্রতিবেশি দেশটির ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার এক মাসের মাথায় রুশ সৈন্যরা বড় কোন শহর দখল করতে পারেনি। একমাত্র খেরসন শহরের পতন হয়েছে। মারিউপোল ও খারকিভ শহর দখলের জন্য রুশ বাহিনী সেখানে তাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

যুদ্ধের এক মাসের মাথায় এসে জানা যাচ্ছে, ইউক্রেনের সেনারা কোথাও কোথাও রুশ বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং রাজধানী কিয়েভের কাছে কিছু এলাকায় তারা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিয়েভের পশ্চিমে মাকারিভ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে ওই শহরে তারা আবারও ইউক্রেনের পতাকা উড়াতে সক্ষম হয়েছে।

একজন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিবিসিকে বলেছেন, ইউক্রেনের এই পাল্টা লড়াই-এর শক্তির কারণে রাশিয়া তার রণকৌশল পরিবর্তন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্রও বলেছেন যে, দেশটির দক্ষিণের কিছু কিছু অংশে ইউক্রেনের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রের গতি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

দক্ষিণের ছোট্ট একটি শহর ভজনেসেন্সকে ইউক্রেনের সৈন্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাশিয়ার সাঁজোয়া বহর ধ্বংস করে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

ক্রিমিয়ার কাছে যে খেরসন শহরটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বপ্রথম রাশিয়ার দখলে চলে গিয়েছিল সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের সৈন্যরা তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে রাশিয়ার সৈন্যরা এখন উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে ‘দেশটির পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের বাহিনীকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলার জন্য রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের উত্তর এবং দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে। মূলত খারকিভ এবং মারিউপোল থেকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনারা।
ইউক্রেনের সেনাদের ঘিরে ফেলছে রাশিয়া। তবে রাজধানী কিয়েভ দখল করার লক্ষ্যে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে রুশ বাহিনীর হামলা এখন ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, পুনরায় বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করার আগে রাশিয়ান বাহিনী সম্ভবত পুনর্গঠিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রুশ সেনার ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমের বন্দর শহর ওডেসার পশ্চিমে মাইকোলাইভকে বাইপাস করার চেষ্টাও করে থাকতে পারে।

দক্ষিণের মারিউপোল শহরের ওপরেও রুশ বাহিনী তাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার আক্রমণে এই বন্দর-শহরটি ইতোমধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রুসির একজন বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা অগ্রসর হতে না পারার কারণেই তারা এর ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দৃশ্যত রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা তাদের রসদ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দক্ষিণের মারিউপোল শহরের চারপাশে তাদের শক্তিকে সংহত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া যদি মারিউপোল দখল করে নিতে পারে, তার পরে তারা তাদের সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র নতুন করে বিন্যস্ত করবে। প্রথমত সেটা হবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলে এবং তার পরে সম্ভবত উত্তর-পূবের খারকিভ শহরে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ইউক্রেনের সৈন্যরা যেহেতু কিয়েভের কাছের শহর ইরপিন ও মাকারিভ থেকে রুশ সৈন্যদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে, সেকারণে রাজধানী কিয়েভ দখলে মস্কোর পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

রোজার আগে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে জাতীয় পার্টির মানববন্ধন

পবিত্র রমজান মাসের আগে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন করেছে জাতীয় পার্টি।

বুধবার দুপুরে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা জাতীয় পার্টি ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করে।

চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম রমজানের আগে না কমালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ার দেওয়া হয় মানববন্ধনে।

এ সময় বক্তারা বলেন, নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এর বিপরীতে সরকারের টিসিবির কর্মসূচি অপ্রতুল। রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে না আসলে মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকবে না। এ ব্যাপারে সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জাতীয় পার্টি নেতা সাজ্জাদুর রহমান সাজুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ, সদস্য সচিব মনির উদ্দিন মনির, ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজিদ, জেলা যুব সংহতি নেতা জসিম উদ্দিন সরকার, জেলা মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফরিদা বেগম, জাতীয় পার্টি নেতা ফয়েজুর রহমান, আব্দুল মন্নান, শামীম আহমদ, সিরাজ মিয়া, ফয়জুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া প্রমুখ।

সিলেটে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রইল বাকি ৯

সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলের প্রার্থী তালিকা ক্রমেই সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। ১৩ প্রার্থীর মধ্যে এখন আছেন ৯ জন। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৪ নেতা এখন আর প্রার্থী তালিকায় নেই। এনিয়ে আতংক, ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলা কাউন্সিলে বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে।

তবে দলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আব্দুল গফ্ফার যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থী তালিকা আর ছোট হওয়ার কোনো আশংকা নেই।

তিনি জানান, স্থগিত রাখা কাউন্সিল মার্চের মধ্যেই আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত।

দলের ক্ষুব্ধ নেতারা জানান, জেলা বিএনপির কাউন্সিল আয়োজনের পর শুরু হওয়া নানা নাটকীয়তা এখনও চলছে। জেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। শেষ পর্যায়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামরুল হাসান শাহীন ও শাকিল মোর্শেদের।

এর আগে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ দেয়া হয় আব্দুল আহাদ খান জামালকে। ধাপে ধাপে প্রার্থী যাচাই-বাছাই, জোর করে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের বাধ্য করার দলের বিভক্তিকে আরও দ্রুত প্রসারিত করছে বলে মন্তব্য করেন তারা। শুধু তাই নয়, এমন অযাচিত হস্তক্ষেপে দলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পর আস্থা কমছে নেতাকর্মীদের।

মনোনয়ন জমাদানকারী ১৩ জনের মধ্যে গত মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম ও ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে সভাপতি পদে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক পদে আ. ফ. ম কামাল, আলী আহমদ, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মো. আবদুল মান্নান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এম মুজিবুর রহমান মুজিব, লোকমান আহমদ ও মো. শামিম আহমদ এই ৯ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া কামরুল হাসান চৌধুরী শাহীন বলেন, আমি বিএনপির সঙ্গে জড়িত, তবুও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। খতিয়ে দেখার জন্য চিঠি দিয়েছি।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনয়ন বাতিল হওয়া শাকিল মোর্শেদ বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেয়া, মামলায় হয়রানি ও কারাবন্দি থাকলেও দলের এমন অবমূল্যায়ন হতাশাজনক।

এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আবুল কাহের চৌধুরী শামীম অসুস্থ। মঙ্গলবার বিকালে তাকে দেখতে যান একই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়া সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

আকাশপথে পণ্য পরিবহণে ভয়াবহ জট

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের স্ক্যানারগুলো বছরের বেশিরভাগ সময় বিকল থাকে। একবার বিকল হলে মেরামতে সময় লাগে ১ থেকে ২ মাস। এতে প্রতিবারই পণ্য পরিবহণে ভয়াবহ জট তৈরি হয়। শুধু স্ক্যানার মেশিন নষ্ট হওয়া নয়, এখানে রয়েছে দক্ষ জনবলের অভাবও। ওজন মাপার মেশিনগুলোও রহস্যজনক কারণে বারবার বিকল হয়ে যায়।

অভিযোগ আছে, স্ক্যানার ও ওজন মাপার মেশিন নষ্ট থাকার এ সুযোগে একটি সিন্ডিকেট ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার করছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্ক্যানার মেশিন অপারেটর, নিরাপত্তাকর্মী, লোডারসহ কার্গো বিভাগের বিভিন্ন শাখার অসাধু কর্মকতা-কর্মচারী জড়িত। একাজে তারা বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগ পায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন এখন ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি কার্গো ডেলিভারি করতে হচ্ছে। আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০টি কার্গো ফ্লাইট থাকলেও এখন গড়ে শিডিউল নন-শিডিউল মিলে অর্ধশতাধিক ফ্লাইট ওঠানামা করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্সের ইডিএস স্ক্যানার (এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম) নষ্ট হয়ে আছে। পণ্য স্ক্যানিংয়ে এখন একমাত্র ভরসা ৪ কুকুরের ডগ স্কোয়াড। যার কারণে গোটা ইউরোপে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিকল ইডিএস মেশিনটি কখন সচল হবে তাও কেউ জানেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমন ধীরগতি চলতে থাকলে ঝুঁকিতে পড়বে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ। অপরদিকে স্ক্যানিংয়ে সমস্যার কারণে যদি ইউরোপের কোনো দেশে বিস্ফোরকসহ মাদকের চালান ধরা পড়ে তাহলে যে কোনো সময় ফের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কার্গো পরিবহণ।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডের পোশাক ক্রেতাদের তুমুল চাহিদার কারণে কনটেইনার কার্গোর চাপ বেড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এ কারণে বিমানবন্দরকে সক্ষমতার চেয়ে দেড়গুণ বেশি কার্গো সামলাতে হচ্ছে। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের কনটেইনার জট এবং চড়া কার্গো শিপিং চার্জের কারণে ক্রেতা ও রপ্তানিকারকরা আকাশপথে পণ্য পরিবহণে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু বিমানবন্দরের দুই স্ক্যানার ও ওজন মাপার মেশিন বিকল থাকায় রপ্তানিতে তৈরি হয়েছে বড় জট।

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা জানিয়েছেন, শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে এখন যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে তার ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। তাদের মতে, বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র বিকল থাকায় তাদের পণ্য ডেলিভারিতে নানা সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া কার্গো কমপ্লেক্সের সামনে পণ্যের জট থাকায় অনেক দূর পর্যন্ত ট্রাকের লাইন তৈরি হয়। এ জট পেরিয়ে সময়মতো মালামাল ডেলিভারি দিতে পারছে না। এতে দেশের বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি কার্গো শিল্প এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

কৃষিপণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্ট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরে এক কেজি পণ্য স্ক্যানিং করতে ৬ সেন্ট ফি দিতে হয়। আর প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টন কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়। ফলে এক সপ্তাহে যে ফি আদায় হয় তা দিয়ে এরকম ৪টি স্ক্যানার মেশিন ক্রয় করা যায়।

তিনি বলেন, এর আগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হয়েছে তারা নিজদের খরচে স্ক্যানার মেশিন কিনে দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে সায় দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় এসব সবজি এখন স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে পণ্য না যাওয়ায় ইউরোপের বাজার হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএফভিএপিইএর তথ্যানুযায়ী-বাংলাদেশ থেকে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা, জালি, পটোল, কাঁকরোল, শসা, কচু, লতি, আমড়া, জলপাই, লেবু ইত্যাদি সবজি ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি হয়।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একটি ইডিএস (এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম) মেশিন কিনতে খরচ পড়ে ৫-৬ কোটি টাকা। অথচ এই ইডিএস মেশিনের কারণে শত শত কোটি টাকার পণ্যের আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপরও রহস্যজনক কারণে সরকার ও সিভিল এভিয়েশনের টনক নড়ে না।

তিনি আরও বলেন, বাপার পক্ষ থেকে সিভিল এভিয়েশনকে অসংখ্যবার বলা হয়েছে বাপা নিজেদের খরচে এ মেশিন বসাবে, দক্ষ জনবল দিয়ে এই মেশিন পরিচালিত করবে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বসে বসে কমিশন পাবে আর মনিটরিং করবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাপাকে এ ক্ষমতাও দিচ্ছে না, আবার নিজেরাও কিছু করতে পারছে না। তার মতে, যদি বাপা এটা পরিচালনার সুযোগ পেত তাহলে কোনো পণ্যের জট হতো না। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হতো।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিকমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই জানিয়ে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ কার্গোবাহী সরাসরি ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় যুক্তরাজ্য। পরে তাদের পরামর্শে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইন অ্যাসিউর্ড সিকিউরিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে বেবিচক। এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়। বসানো হয় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি। যুক্ত হয় ডগ স্কোয়াড। এরপর যুক্তরাজ্যসহ সব দেশ কার্গো পণ্য পরিবহণে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

বর্তমানে কার্গো কমপ্লেক্সে থাকা দুটি ইডিএস মেশিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। পণ্যের চাপ বেশি পড়লে দুটি যন্ত্রেই ত্রুটি দেখা দেয়। জানা গেছে, এক মাস ধরে একটি ইডিএস মেশিন পুরোপুরি নষ্ট। অপর মেশিনটিও বেশির ভাগ সময় বিকল থাকে। ইডিএস মেশিন অচল হওয়ায় ডিএমপির কুকুর (ডগ স্কোয়াড) দিয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (ইডিডি) পণ্য তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়। এতে পণ্য রপ্তানিতে ধীরগতি তৈরি হয়। এভাবে পুরো কার্যক্রমে ধস নেমে এসেছে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে বাংলাদেশ পোশাক পরিবহণের সুবাদে ৩.৩৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। গত অর্থবছরে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার। পোশাক আইটেমের সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ার কারণে আগের মাস থেকে আগস্টে যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রি কমা অব্যাহত ছিল। তবে বর্তমানে বিক্রির পরিমাণ ০.৭ শতাংশ হারে বাড়ছে।

গৃহায়ণের কোটিপতি চেইনম্যান

চাকরি নেই। গুরুতর অপরাধে গুরুদণ্ডে হয়েছেন চাকরিচ্যুত। কিন্তু তাতে কী। দিব্যি বহাল তবিয়তে এখনো জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে তার নিত্য আসা-যাওয়া। আছেন সেই আগের মতো। সহকর্মীরা সবই জানেন।

কিন্তু অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ায় কেউ তাকে নিয়ে ঘাঁটাতে চান না। তার মূল পদ চেইনম্যান। এরপর এমএলএসএস বা অফিস সহায়ক ছিল তার শেষ পদ। কিন্তু তাতে কী।

অনেকে তাকে স্যার বলে এখনো সম্বোধন করেন। পদ পিয়নের হলে কখনো তাকে সে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি। অফিস করেছেন রীতিমতো রাজার হালে।

অতি সৌভাগ্যবান এই কর্মচারীর নাম মুজিবর রহমান। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেইনম্যান পদে তার নিয়োগ হলেও সেখানে দায়িত্ব পালন করেন সিকিউরিটি গার্ড হিসাবে। তবে সুচতুর ও করিৎকর্মা মুজিবরের জীবন সেই বৃত্তে থেমে থাকেনি।

কেডিএর প্লট বাণিজ্য করে অল্প দিনে পান বড় সাফল্য। এরপর চলে আসেন লাইমলাইটে। ওই সময় তার এই দুর্নীতির পারদ এতটা উপরে উঠে যায় যে ওয়ান ইলেভেন সরকারের একশ’ দুর্নীতিবাজের তালিকায় তিনি প্রথমদিকে স্থান পেয়ে যান।

তবে রহস্যজনক কারণে তাকে শাস্তির পরিবর্তে দেওয়া হয় প্রাইজপোস্টিং। শাস্তিমূলক বদলি দেখিয়ে পদায়ন করা হয় ঢাকায়। পোস্টিং হয় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এমএলএসএস পদে। যারা এমন আদেশ দিয়েছিলেন, তারা হয়তো ভেবেছিলেন মুজিবর আর দুর্নীতি করার সুযোগ পাবে না।

কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে অল্পদিনের মধ্যে তিনি নিজ যোগ্যতায় এই দপ্তরের প্রথমসারির তদবিরবাজ কর্মচারীতে পরিণত হয়ে যান। রাজধানীতে আরও মূল্যবান প্লট বরাদ্দের তদবিরে যুক্ত হয়ে রীতিমতো আলাদীনের চেরাগ পেয়ে যান তিনি। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

সূত্র জানায়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও মুজিবর রহমান অঢেল সম্পদের মালিক। অফিসে আসেন ব্যক্তিগত গাড়িতে। ধনাঢ্য লোক হিসাবে অফিসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে তিনি বিশেষ সমাদরও পান।

এছাড়া তিনি কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) রাজনীতিতেও সক্রিয়। এ সুবাদে মাঝেমধ্যে তিনি ক্ষমতার জানান দেন ভিন্ন মেজাজে। তার হম্বিতম্বিতে অফিসের পদস্থ কর্মকর্তারাও অনেক সময় তটস্থ থাকেন। বর্তমানে তিনি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের শেল্টারে এক রকম বেপরোয়া।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মুজিবর রহমান সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে আসেন নিয়মিত। সকাল ৯টায় ঢোকেন। বের হন সন্ধ্যায়। কাজ শেষ করতে কখনো রাত হয়ে যায়।

যাতায়াতের সময় তিনি দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। যার একটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ৩৬-০৩০৩৯ এবং অপরটি হচ্ছে ঢাকা মেট্রো-গ ২৬-৪৪০৬। দুটি গাড়ির জন্য তার সার্বক্ষণিক নিজস্ব চালক রয়েছে।

তিনি সপরিবারে ধানমন্ডিতে বসবাস করেন। ঠিকানা-ধানমন্ডির ১১/এ নম্বর রোডে ৭৭ নম্বর বাড়ি। ভবনের তৃতীয় তলায় ২/এ ফ্ল্যাট মালিক হিসাবে পরিচিত মুজিবর। ফ্ল্যাটের মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।

এছাড়া তার রিয়েল স্টেট ব্যবসাও রয়েছে। স্ত্রী মিসেস লাভলীর নামে খোলা কোম্পানির নাম ‘লাভলী রিয়েল স্টেট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার লিঃ। মোহাম্মদীয়া সুপার মার্কেটের ৭৯/৮০ নম্বর দোকানে খোলা হয়েছে কোম্পানির অফিস। এছাড়া মজিবুরের নামে-বেনামে একাধিক প্লট রয়েছে।

সূত্র বলছে, মুজিবরের দশা অনেকটা ‘অতি লোভে তাঁতী নষ্ট’ প্রবাদের মতো হয়েছে। ২০২০ সালের দিকে হঠাৎ তিনি রাজউকে পোস্টিং চেয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। প্রভাবশালী মহলের তদবিরের ফলে তার পোস্টিংও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

কিন্তু চাকরি সংক্রান্ত ফাইল উপস্থাপন করা হলে ঘটে বিপত্তি। দেখা যায়, মুজিবর রহমান মূলত খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কর্মচারী। ঢাকায় তাকে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছিল। গৃহায়নের নিজস্ব কর্মচারী না হওয়ায় তাকে রাজউকে পোস্টিং দেওয়া সম্ভব নয়।

পূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নথি দেখে মুজিবর সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টনক নড়ে। দেখা যায়, বিধিবহির্ভূতভাবে তিনি গৃহায়নে চাকরি করছেন। এর ফলে প্রশাসন শাখায় ফাইল আটকে যায়।

মুজিবরকে তার ‘মূল কর্মস্থলে পাঠানো হোক’ বলে ফাইলে নোট দেওয়া হলে বিপদে পড়েন যান মুজিবর। এরপর প্রাইজপোস্টিংঢের আশা ছেড়ে দেন। তবে ঢাকা ছাড়তে নারাজ তিনি।

এজন্য প্রভাবশালী মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। কিন্তু তৎকালীন এক অতিরিক্ত সচিবের হস্তক্ষেপে সুবিধা করতে পারেননি মুজিবর। ২০১৯ সালের ২০ মে তাকে কেডিএতে পোস্টিং করা হয়।

সূত্র বলছে, টাকা আর ক্ষমতার দাপটে নিজের পদমর্যাদা ভুলে মুজিবর অনেকটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এ কারণে পোস্টিংয়ের পরও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। সরকারি আদেশ প্রাপ্তির পরও অন্তত ৯ মাস তিনি ঢাকায় জাতীয় গৃহায়নের কার্যালয় ছাড়েননি।

এক পর্যায়ে তার বেতন ভাতা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পরে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তাকে বিধি অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নোটিশের কোনো জবাবও দেননি।

এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার রায়ে গুরুদণ্ডপ্রাপ্ত হন মুজিবর। তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে এ সংক্রান্ত আদেশের একটি কপি আসে যুগান্তরের হাতে। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর মুজিবরকে চাকরিচ্যুত করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মুকিম সরকার।

অফিস আদেশ অনুযায়ী চাকরিচ্যুতির প্রায় দু’বছর পূর্ণ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আবেদনও করেননি। ফলে সরকারি চাকরিতে তার পুনর্বহালের ন্যূনতম সুযোগও এখন আর অবশিষ্ট নেই। এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরখাস্তের পর কিছুদিন আড়ালে ছিলেন মুজিবর। এরপর ঠিক কবে থেকে তিনি ফের গৃহায়নে নিয়মিত যাতায়াত করছেন তার সঠিক দিন তারিখ কারো জানা নেই। অফিসের অনেকেই জানেন না তার চাকরিচ্যুতির খবর। আবার বন্ধু, শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে যারা জানেন তারা মুজিবরের ক্ষতি চান না বলে মুখ বন্ধ রেখেছেন।

রোববার দুপুরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে মুজিবরের খোঁজ করা হলে অভ্যর্থনা টেবিলের কর্মচারী সৌদিয়া খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ‘মুজিবর স্যার এখনো অফিসে আসেননি। কখন আসবে তা বলা যাচ্ছে না।’

এরপর বুধবার পুনরায় গৃহায়নে গেলে দেখা যায় মন্ত্রী-সচিবের অফিস পরিদর্শন উপলক্ষ্যে মূল গেটে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। মুজিবর অফিসে এসেছেন কি না জানতে চাইলে দপ্তরের রিসিপশনে কর্তব্যরত কয়েকজন কর্মচারী প্রথমে বলেন, ‘মুজিবর কে? তাকে চিনি না।

এই নামে এখানে কেউ নেই।’ ফের বলা হয়, চেইনম্যান মুজিবর। একটা কাজের জন্য উনার কাছে এসেছি। এরপর ওই অভ্যর্থনা টেবিলে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বলেন, ‘আজ হয়তো উনি অফিসে আসবেন না। ফোন করে দেখেন। পান কি না।’ তার মুঠোফোন নম্বর চাইলে প্রথমে তারা বলেন, তাদের কাছে নম্বর নেই। এরপর বলেন, দেওয়া যাবে না।’

চাকরিচ্যুতির পরও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে মুজিবর রহমান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘তার একটি রিয়েল স্টেট কোম্পানি আছে। এ সংক্রান্ত কাজকর্ম নিয়ে সেখানে যাতায়াত করেন। তাছাড়া এক সময় তিনি সেখানে চাকরি করেছেন। ফলে অফিসে গেলে তো কেউ তাকে তাড়িয়ে দিতে পারবে না।’

ধানমন্ডিতে কোটি টাকার ফ্ল্যাটের মালিকানা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ‘ফ্ল্যাট তার নিজের নয়। এক আত্মীয় তাকে থাকতে দিয়েছে।’ নিজের ফ্ল্যাট না হলে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কীভাবে হলেন তা জানতে চাইলে মুজিবর রহমান বলেন, ‘এখানকার মালিকরা আমাকে করেছে। মালিক না হলে করা যাবে না-এমন কোনো নিয়ম নেই।’

একাধিক গাড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক সময় তিনি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করতেন। তখন থেকেই গাড়িগুলো আছে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবর বলেন, ‘পূর্বাচল, উত্তরা অথবা কেডিএ’র এলাকায় তার কোনো প্লট নেই।’

যেসব লক্ষণে বুঝবেন এনাল ফিশার, কী করবেন?

মলদ্বারের রোগগুলো বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে। যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না নিতে পারলে অনেক সময় বড় বিপর্যয় নেমে আসে। পাইলস, ফিস্টুলা ও এনাল ফিশার দীর্ঘদিন শরীরে লালন করলে ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালের কনসালট্যান্ট কলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক অ্যান্ড লেজার সার্জন ডা. আসিফ আলমাস হক।

এনাল ফিশার মানে মলদ্বারে ঘা অথবা ফেটে যাওয়া। এটি দুধরনের হয়। তীব্র (একিউট) ফিশার হলে রোগীর মলদ্বারে অসম্ভব ব্যথা হয়। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) ফিশারে ব্যথার তারতম্য হয়। এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে তরুণ ও যুবকদের বেশি হয়। পুরুষ অথবা নারী উভয়েরই এটি সমানভাবে হয়ে থাকে।

এনাল ফিশার কেন হয়

মূলত কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা মলত্যাগের সময় জোর করে কোঁত দেওয়ার কারণে মলদ্বার ফেটে যায়। এ ছাড়া শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বার ফেটে যায় বলে মনে করা হয়। যারা আঁশযুক্ত খাবার খান তাদের এ সমস্যাটি কম হয় বলে মনে করা হয়। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শাকসবজি, কাঁচা ফলমূল, আলুর ছোলা, ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি। চা-কফি বা মদ খাওয়ার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ঘন ঘন মলত্যাগ বা ডায়রিয়া হলে ফিশার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

উপসর্গ

মলদ্বারে ফিশারের প্রধান লক্ষণ হলো-ব্যথা ও রক্তক্ষরণ। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত মলত্যাগের অব্যবহিত পরে হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে বহু ঘণ্টা ধরে ব্যথা চলতে পারে। ‘প্রকটালজিয়া ফুগাক্স’ নামক এক ধরনের রোগেও মলদ্বারে ব্যথা হয়, কিন্তু সে ব্যথা মলত্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে না। রক্তজমাট বাঁধা পাইলসেও ব্যথা হয়, কিন্তু তখন রোগী মলদ্বারে চাকা আছে বলে অভিযোগ করে। এই রোগে রক্তক্ষরণের পরিমাণ সাধারণত কম। কিন্তু কারও কারও অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে।

করণীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেশি শক্তি প্রয়োগ করে মলত্যাগ করা উচিত নয়। বারে বারে মলত্যাগের অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ডায়রিয়ায় দ্রুত চিকিৎসা করা উচিত।

চিকিৎসা

একিউট ফিশার শুরুর অল্পদিনের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা হলে বিনা অপারেশনে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মল নরম করার, মলের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত এবং ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সিজ বাথ নিলে উপকার হয়। এটির নিয়ম হচ্ছে আধ গামলা লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানির মধ্যে নিতম্ব ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হয়।

স্থানিক অবশকারী মলম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এতে যদি পুরোপুরি না সারে এবং রোগটি যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে অপারেশন ছাড়া ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে। এ ছাড়া সার্জিক্যাল টিকিৎসা হিসাবে মলদ্বারের মাংসপেশির সম্প্রসারণ করা (এনাল ডাইলেটেশন)-এ পদ্ধতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য বেশিরভাগ সার্জন এটির বিপক্ষে।

মলদ্বারের স্ফিংটারে অস্ত্রোপচার করেও এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। এ ছাড়া বর্তমানে লেজারের মাধ্যমে এনাল ফিশার, পাইলস ও ফিস্টুলার অস্ত্রোপচার করা হয়।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা

সিনিয়র শিক্ষক, গভর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল তেজগাঁও, ঢাকা

জীবে পরিবহণ

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

৩১। ফ্লোয়েমের কোন কোষে শীতকালে ক্যালোজ জমা হয়? উত্তর : সিভনল

৩২। লবণ শোষণের বাহক তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

উত্তর : Van der Honert

৩৩। Mason and Maskell কত সালে তুলা গাছের কাণ্ড ফ্লোয়েম পরীক্ষা করেন? উত্তর : ১৯২৮ সালে

৩৪। ঘৃতকুমারীর কোন অঙ্গে খাদ্য জমা থাকে?

উত্তর : পাতায়

৩৫। কোষ রস পরিবহণকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর : ২ ভাগে

৩৬। স্যাফ্রোনিনের রং কী? উত্তর : লাল

৩৭। ফ্লুইড অফ লাইম বলা হয় কাকে?

উত্তর : পানিকে

৩৮। কী রোধ করার জন্য শীতে পাতা ঝরে যায়?

উত্তর : প্রস্বেদন

৩৯। উদ্ভিদ প্রধানত অভিকর্ষীয় পানি কী দ্বারা শোষণ করে?

উত্তর : মূল

৪০। প্রস্বেদনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি’ নামে অভিহিত করেছেন কোন বিজ্ঞানী? উত্তর : কার্টিস

৪১। পত্ররন্ধ্রে কোন ধরনের কোষ থাকে?

উত্তর : রক্ষীকোষ

৪২। উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি হলে, কাণ্ডের বাকল ফেটে কী সৃষ্টি হয়? উত্তর : লেন্টিসেল

৪৩। প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পাতার কোন অংশের বায়ু পানির সঙ্গে মিশে? উত্তর : বায়ুকুঠুরি

৪৪। বায়বীয় অঙ্গের ভিত্তিতে প্রস্বেদন কয় ভাগে বিভক্ত?

উত্তর : ৩ ভাগে

৪৫। কোষরস কাকে বলে?

উত্তর : উদ্ভিদ কোষে উপস্থিত খনিজ পদার্থ মিশ্রিত যে পানি তাকে কোষরস বলে।

৪৬। উদ্ভিদে প্রস্বেদনের শতকরা কতভাগ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে? উত্তর : ৯০%

৪৭। কিউটিকল কাকে বলে?

উত্তর : পাতার উপর ও নিচের কিউটিনের আবরণকে কিউটিকল বলে।

৪৮। রক্তরসের রং কেমন? উত্তর : ঈষৎ হলুদাভ

৪৯। রক্তসংবহনতন্ত্রকে সাধারণত কয়ভাগে ভাগ করা যায়? উত্তর : ২ ভাগে

৫০। সাধারণত রক্তের কতভাগ রক্তরস? উত্তর : ৫৫ ভাগ

৫১। রক্তরসে জৈব ও অজৈব পদার্থের শতকরা পরিমাণ কত? উত্তর : ৮-৯%

৫২। রক্তরস কাকে বলে?

উত্তর : রক্তের বর্ণহীণ তরল অংশকে রক্তরস বলে।

৫৩। রক্ত সংবহনতন্ত্র কাকে বলে?

উত্তর : যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রতিনিয়ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ এবং অংশে চলাচল করে তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।

৫৪। মানবদেহে কত প্রকার রক্তকণিকা দেখা যায়?

উত্তর : ৩ প্রকার

৫৫। রক্তকণিকার জন্ম কোথায়?

উত্তর : লাল অস্থিমজ্জায়

৫৬। একই দিনে জন্ম নেওয়া একটা শ্বেত কণিকার চেয়ে একটা লোহিত কণিকা কতদিন বেশি বাঁচে?

উত্তর : ১০০ দিন

৫৭। প্রতি কিউবিক মিলিমিটার রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা কত? উত্তর : ৫-১০ হাজার

৫৮। প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কত?

উত্তর : প্রায় ৫০ লাখ

৫৯। শ্বেত রক্তকণিকার চেয়ে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কত গুণ বেশি? উত্তর : প্রায় ৫০০ গুণ

৬০। প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে অণুচক্রিকার সংখ্যা কত?

উত্তর : প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার

৬১। অস্থিমজ্জা থেকে কী রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়?

উত্তর : লোহিত ও শ্বেত কণিকা

৬২। রক্তরসে শতকরা প্রায় কত ভাগ পানি রয়েছে?

উত্তর : ৯০%

৬৩। মৃত শ্বেত রক্তকণিকা কিসে পরিণত হয়? উত্তর : পুঁজ

৬৪। রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে কী হয়?

উত্তর : লিউকোমিয়া

৬৫। ফ্যাগোসাইটিসিস কাকে বলে?

উত্তর : শ্বেত রক্তকণিকার জীবাণু ভক্ষণের প্রক্রিয়াকে ফ্যাগোসাইটিসিস বলে।

হিসাববিজ্ঞান

এইচ. এম. মতিউর রহমান

সহকারী শিক্ষক, পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, পটুয়াখালী।

মূলধন ও মুনাফা জাতীয় লেনদেন

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

১৮. ‘মূলধনের সুদ’ কোন ব্যয়ের অন্তর্গত?

ক. মূলধন জাতীয় খ. মুনাফা জাতীয়

গ. পরিচালন ঘ. বিলম্বিত মুনাফা জাতীয়

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১৯ ও ২০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

মুদি দোকানি কাওসার দোকানের জন্য ৬০,০০০ টাকা দিয়ে একটি ফ্রিজ ক্রয় করেন। ফ্রিজটি দোকানে আননে ও বৈদ্যুতিক লাইন সংস্থাপন করণে ১,৫০০ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু দোকানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফ্রিজটি ৬৪,০০০ টাকায় বিক্রি করলেন।

১৯. জনাব কাওসারের মূলধন জাতীয় ব্যয় হয়েছিল কত টাকা?

ক. ৫৮,৫০০ টাকা খ. ৬০,০০০ টাকা

গ. ৬১,৫০০ টাকা ঘ. ৬৪,০০০ টাকা

২০. ফ্রিজটি বিক্রয়ের ফলে ব্যবসায়ের-

i. মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি হবে ৬৪,০০০ টাকা

ii. মুনাফা জাতীয় ব্যয় হবে ১,৫০০ টাকা

iii. মূলধন জাতীয় আয় হবে ২,৫০০ টাকা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii

২১. বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়কে একাধিক হিসাবকালে বিভক্ত করা হয় কেন?

ক. নিয়মিত খ. একাধিক বছরের সুবিধা

গ. অনিয়মিত ঘ. বড় অঙ্কে

২২. কোনটি বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়?

ক. বেতন প্রদান খ. ভাড়া প্রদান

গ. আসবাবপত্র ক্রয় ঘ. পণ্য তৈরির গবেষণা ব্যয়

২৩. বিজ্ঞাপন খরচ ৫ বছরের জন্য এককালিন পরিশোধ। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে-

i. মূলধন জাতীয় ব্যয় ii. মুনাফা জাতীয় ব্যয়

iii. বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii

২৪. চলতি বছর বিনিয়োগের সুদ বাবদ ৩,০০০ টাকা পাওয়া গেছে, কিন্তু আরও ৩০০ টাকা পাওনা হয়েছে। এখানে বর্তমান বছরে মুনাফা জাতীয় আয় কত হবে?

ক. ২,৭০০ টাকা খ. ৩,০০০ টাকা

গ. ৩,৩০০ টাকা ঘ. ৩,৬০০ টাকা

২৫. মুনাফা জাতীয় হলেও একাধিক বছর ধরে সুবিধা দেয় কোনটি?

ক. মুনাফা জাতীয় ব্যয়

খ. বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়

গ. মূলধন জাতীয় ব্যয় ঘ. মূলধনায়িত ব্যয়

২৬. সাময়িকভাবে মূলধন জাতীয় ব্যয় হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয় কোনটি?

ক. মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি

খ. মুনাফা জাতীয় আয়

গ. বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়

ঘ. মুনাফা জাতীয় ব্যয়

২৭. ‘ব্যাংক হতে গৃহীত ঋণ’ কোন জাতীয় লেনদেন?

ক. মূলধন জাতীয় আয় খ. মূলধন জাতীয় প্রদান

গ. মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি ঘ. মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি

২৮. কোনটির ফলে ব্যবসায়ের স্থায়ী সম্পদ অর্জন হয়?

ক. মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি খ. মূলধন জাতীয় আয়

গ. মূলধন জাতীয় ব্যয় ঘ. মুনাফা জাতীয় প্রাপ্তি

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২৯ ও ৩০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

মি. আতিক একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি ৪,৫০,০০০ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ক্রয় এবং শুল্ক বাবদ ৫০,০০০ টাকা পরিশোধ করেন। গাড়িটি ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় তিনি ৪,৮০,০০০ টাকায় বিক্রয় করেন।

২৯. জনাব আতিকের মূলধন জাতীয় ব্যয়ের পরিমাণ কত?

ক. ৪,০০,০০০ টাকা খ. ৪,৫০,০০০ টাকা

গ. ৪,৮০,০০০ টাকা ঘ. ৫,০০,০০০ টাকা

৩০. উপর্যুক্ত লেনদেনের ফলে জনাব আতিকের ব্যবসায় প্রভাবিত হবে-

i. মূলধন জাতীয় প্রাপ্তি ৪,৮০,০০০ টাকা

ii. মূলধন জাতীয় আয় ৩০,০০০ টাকা

iii. মূলধন জাতীয় ক্ষতি ২০,০০০ টাকা।

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii

উত্তর : ১৮। খ ১৯। গ ২০। খ ২১। খ ২২। ঘ ২৩। গ ২৪। গ ২৫। খ ২৬। গ ২৭। ঘ ২৮। গ ২৯। ঘ ৩০। খ।