শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 373

দুদক পরিচালক জুলফিকার আলী আর নেই

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মো. জুলফিকার আলী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।

বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে মহাখালীর ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

তার সহকর্মী ও দুদকের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন মো. জুলফিকার আলী।

ক্রনিক লিভার ডিজিজ রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, পরিচালক মো. জুলফিকার আলী গত ৫ জানুয়ারি বরিশালে দুদকের বিভাগীয় অফিসে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ভারতের হায়দ্রাবাদে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

মো. জুলফিকার আলী ১৯৯৫ সালে জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা হিসেবে দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে যোগদান করেন।
২০০৭ সালে উপপরিচালক ও ২০১৯ সালে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। উপপরিচালক থেকে পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি।

মো. জুলফিকার আলীর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। তবে শৈশব কেটেছে ঢাকার মহাখালী এলাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়ালেখা করেছেন তিনি।

ক্যাসিনো ব্যবসায়ী এনু-রুপনের অর্থপাচার মামলার রায় পেছাল

ক্যাসিনোকাণ্ডে বহিষ্কার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ভূঁইয়া ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলার রায় পেছানো হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন ছুটিতে থাকায় এদিন রায় ঘোষণা হচ্ছে না। এর আগে গত ১৬ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ৬ এপ্রিল দিন ধার্য রেখেছিলেন।

২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা ও সাড়ে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর ও গেণ্ডারিয়া থানায় তাদের নামে ছয়টি মামলা হয়।

পরে গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি এনামুল হক ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। ওই বাড়ি থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা জব্দ করা হয়। আর ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজপত্র পাওয়া যায়। সোনা পাওয়া যায় এক কেজি। এই ঘটনায় দুই ভাইয়ের নামে আরও দুটি মামলা হয়।

মামলাগুলো তদন্ত করে গত বছরের ২১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ ও তদ ন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অভিযোগপত্রের তথ্য বলছে, এনামুল বা রুপনই নন, তাদের আরও তিন ভাইসহ পাঁচজনে মিলে মতিঝিলে জমজমাট ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তাদের হাত ধরেই মতিঝিলের ক্লাবগুলোয় অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার প্রসার ঘটে। সিআইডির তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসে।

পুরান ঢাকার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী এই পাঁচ ভাই হলেন শহিদুল হক ভূঁইয়া, রশিদুল হক ভূঁইয়া, মেরাজুল হক ভূঁইয়া, এনামুল হক ভূঁইয়া ও রুপন ভূঁইয়া।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ১১ আসামির মধ্যে কারাগারে আছেন সাত আসামি। তারা হলেন এনামুল হক, রুপন ভূঁইয়া, তুহিন মুন্সি, জয় গোপাল, আবুল কালাম আজাদ, নবী হোসেন ও সাইফুল ইসলাম।

পলাতক আছেন এনামুল ও রুপনের ভাই মেরাজুল হক ভূঁইয়া, রশিদুল হক ভূঁইয়া, শহিদুল হক ভূঁইয়া ও তাদের সহযোগী পাভেল রহমান।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রোজা হয় যেসব দেশে

করোনা মহামারির ছোবল কাটিয়ে বিশ্বব্যাপী আবারও স্বমহিমায় উদযাপিত হচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। গত দুই বছর করোনার কারণে ঘরবন্দি থাকলেও এবার কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই রমজানের বিভিন্ন ইবাদতে অংশ নিচ্ছেন মুসলিমরা।

পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই মুসলমানরা রোজা রাখছেন। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোজা শুরু হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে যেমন রোজা শুরু বা শেষ হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়, তেমনি সূর্যের উদয় বা অস্ত যাওয়ার ওপর নির্ভর করে রোজার সময়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রোজার সময় নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বের কোনো কোনো দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইফতারের দুই ঘণ্টা পরই সেহরি খেতে হয়৷ অর্থাৎ তাদের জন্য রোজা ২২ ঘণ্টার।

আজ আমরা জেনে নেব বিশ্বের কোন দেশগুলোতে মুসলমানদের সবচেয়ে লম্বা সময়ের রোজা রাখতে হয়।

আইসল্যান্ডে ২১ ঘণ্টা রোজা

আইসল্যান্ডে এক হাজার জনেরও কম মুসলমানের বাস৷ তাদের মধ্যে যারা পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনা করেন, তারা একদিক থেকে বিশ্বের আর সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ছাড়িয়ে যান৷ আইসল্যান্ডে এবারের রোজার শুরুতে সেহরি খেতে হচ্ছে রাত ৩টায় আর ইফতার পরের দিন রাত সাড়ে ৯টায়৷ রোজার শেষ নাগাদ সেহরি খেতে হবে ২টা ২০-এ আর ইফতার রাত ১১টায়। সব মিলিয়ে সময় দাঁড়াচ্ছে ২১ ঘণ্টা!

২০ ঘণ্টা রোজা রাখেন সুইডেনের মুসলিমরা

খুব গরমের মধ্যে রোজা হলে সুইডেনের মুসলমানদেরও কষ্টের সীমা থাকে না৷ দেশটির আট লাখ মুসলমানের মধ্যে যারা রোজা রাখেন, তাদের ইফতারের মাত্র চার ঘণ্টা পরই সেহরি খেতে হয়৷ সুইডেনের মুসলমানদের অনেক দিন সেহরির প্রায় ২০ ঘণ্টা পর ইফতার খেতে হয়৷

১৯ ঘণ্টা পর সূর্য ডোবে আলাস্কায়

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ৩ হাজার মুসলমানের মধ্যে কেউ কেউ আজকাল সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে সেহরি আর ইফতার করতে শুরু করেছেন৷ গ্রীষ্মকালে ভীষণ গরম থাকে সেখানে৷ তার ওপর কোনো কোনো দিন সূর্যোদয়ের ১৯ ঘণ্টা পর সূর্য ডোবে৷

জার্মানিতে ১৭ ঘণ্টা পর ইফতার

রমজান মাসের সময় দিন খুব বড় হলে জার্মানির মুসলমানদেরও রোজা রাখতে ভীষণ কষ্ট হয়৷ এ বছর জার্মানির বার্লিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সেহরি খেতে হচ্ছে রাত প্রায় ৪টায় আর ইফতার রাত পৌনে ৯টায়৷

ইংল্যান্ডেও ১৭ ঘণ্টা রোজা

ইংল্যান্ডে সেহরি থেকে ইফতারের সময়ের পার্থক্য প্রায় ১৭ ঘণ্টা৷ প্রথম রমজানে সেহরি খেতে হবে প্রায় সাড়ে ৩টার মধ্যে ইফতারের সময় পরের দিন সন্ধ্যা সোয়া ৮টা নাগাদ, যা শেষ রোজায় প্রায় ৯টায় গিয়ে ঠেকবে৷

কানাডায় ১৬ ঘণ্টা পর ইফতার

এখন প্রায় ১০ লাখ মুসলমান আছে কানাডায়৷ সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস টরন্টোতে৷ এবার কোনো কোনো দিন সেহরির প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর ইফতারি খেতে হবে তাদের৷

তুরস্ক – সাড়ে ১৫ ঘণ্টা

মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্কেও গরমকালে রোজা রাখতে হয় খুব কষ্ট করে৷ এবার সেহরির প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ইফতার করতে হচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে

বনের প্রাণীরা আমাদের যে বার্তা দেয়

জঙ্গলের হরিণদের যদি দেখে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় দেখেছেন তারা সবসময় দলবদ্ধ হয়ে থাকে। শুধু হরিণ নয়, প্রায় সব প্রাণীই দল বেঁধে থাকে, একা একা থাকে না।

হরিণের জীবনের উদ্দেশ্য যদিও ঘাস, পানি আর এদিকওদিক ঘুরে বেড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়, কিন্তু জঙ্গলের দুনিয়ায় সবসময় ছোট প্রাণীকে বড় প্রাণীর ভয়ে থাকতে হয়। সব প্রাণীই আশঙ্কায় থাকে না-জানি তাকে কোনো বড় শিকার করে ফেলে।

এইজন্য প্রাণীরা আলাদা আলাদা থাকে না, বরং দলবদ্ধ হয়ে থাকে। তারা একঙ্গে চলে, একঙ্গে বসে, একঙ্গেই সব কাজ করে। এসব তারা এইজন্য করে যেন কোনো বিপদ এলে সবাই মিলে মোকাবেলা করতে পারে।

কোনো দুশমন যেন তার একা থাকার সুযোগ পেয়ে আক্রমণ করতে না পারে। বন্যপ্রাণীরা তাদের সবধরনের বন্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিপদ থেকে বাঁচতে একতাবদ্ধ হয়ে থাকে।

জঙ্গলের প্রাণীমাত্রই জানে একা চলাচল করা মানে নিজেকে নিজেই দুশমনের মুখে সোপর্দ করা। আর তার বিপরীতে দলবদ্ধ থাকা মানে তাদের আর দুশমনের মাঝে এক মজবুত দেয়াল দাঁড় করিয়ে দেওয়া।

প্রকৃতি প্রত্যেক প্রাণীকে এই গুণ তার স্বভাবেই দিয়ে রেখেছেন। তারা নিজেদের এই গুণ পুরোপুরি ব্যবহার করে। তারা জঙ্গলের মতো অরক্ষিত দুনিয়াতেও বাস্তবতাপ্রেমীর মতো জীবনযাপন করে।

মানুষও এই সত্য খুব ভালো করে জানে। বন্যপ্রাণীরা কেবল স্বভাবজাত কারণে, আর মানুষ তার উন্নত চিন্তাশক্তি দিয়েও একথা বোঝে।

কিন্তু খুব কমই এই উদাহরণ পাওয়া যাবে যে মানুষ এই বোধকে কার্যত বাস্তবায়ন করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ দলবদ্ধ হতে গিয়ে শেষতক ব্যর্থ হয়। মানুষ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও জংলি জানোয়ারের চেয়ে পিছে পড়ে আছে।

মানুষ একতাবদ্ধ হতে পারে না কেন? কারণ ‘একতা’ প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে কোরবানি চায়। সে চায় ব্যক্তি তার ‘একত্ব’ বহুত্বের মধ্যে বিলীন করে ‘একাত্ম’ হয়ে যাক।

মানুষ তার নিজের গুরুত্বের জায়গায় সবাইকে গুরুত্ব দিক। মানুষ তার আমিত্বকে কোরবানি করুক, আর আমিত্বকে কোরবানি করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। মানুষ নিজের জান কোরবান করে দিবে, কিন্তু আমিত্বকে অন্যের হাতে সমর্পণ করবে না।

মানুষের এই দুর্বলতাই তাকে সবসময় একতা ও দলবদ্ধ হওয়া থেকে পেছনে সরিয়ে দেয়। বন্যপ্রাণীদের মধ্যে কোনোপ্রকার ‘আমিত্ব’ নেই, কোনো জিনিস তাদের ইজ্জতের সওয়াল হয় না, এই কারণেই তারা খুব সহজেই একতাবদ্ধ হতে পারে।

একতাবদ্ধ হওয়ার অর্থ ‘আমিত্ব’ বা অহঙ্কারকে বিসর্জন দেওয়া, যেখানে একতা দেখতে পাবেন না, বুঝে নিবেন সেখানকার কেউ নিজের আমিত্বকে বিসর্জন দিতে রাজি নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি জুম্ম সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ সমাবেশ

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর একের পর এক হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতন অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি জুম্ম জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন জুম্ম পিপলস নেটওয়ার্ক ইন কোরিয়া কর্তৃক এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৩১ মার্চ সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জুম্ম পিপলস্ নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান নিখিল চাকমার সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের মহাসচিব সুপন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- দীপন চাকমা, অংচাপ্রু মারমা, বান্টি চাকমা, রিকেন চাকমা, সুইসুই মারমা, মিন্টু চাকমা, জেকি মারমা, নিখিল ত্রিপুরা, জন চাকমা, মিঠু মারমা, মং থোয়াই, শ্যাম মারমা ও সুশীল চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি দীঘিনালা অঞ্চলের সৈন্যরা স্থানীয় জুম্ম কর্মী নবায়ন চাকমা মিলনকে ১৫ মার্চ বাগানপাড়া গ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোর করে ধরে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সৈন্যদের নির্যাতনের কারণে মারা যায়। এছাড়াও খাগড়াছড়ি ধর্মসুখ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ বিশুদ্ধা মহাথেরোকে হত্যা করা হলেও আজ পর্যন্ত মামলার তদন্তের অগ্রগতি নেই।

সমাবেশ শেষে জুম্ম পিপলস নেটওয়ার্কের একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেনকে স্মারকলিপি প্রদান করার জন্য গেলে রাষ্ট্রদূতের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন দূতালয়প্রধান মিসপি সরেন।

‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের কোনো নীতিমালা নেই’

বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্য নিয়োগের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দক্ষতাবিহীন অনেকেই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যাচ্ছেন। আর তাদের কার্যকলাপের কারণেই উপাচার্যদের নিয়ে নানা বিতর্ক এবং প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য এবং সাবেক ডাকসু নেতা এ মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, উপাচার্যরা সততার সাথে মেরুদণ্ড শক্ত করে দায়িত্ব পালন করলে তাদের নিয়ে কোনো বিতর্কই হতো না।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভে’র আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এই মতামত দেন।

‘বাংলাদেশের উপাচার্যদের নিয়ে এত প্রশ্ন কেন’ শীর্ষক এই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ উপাচার্য পরিষদের সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দিন আহমদ এবং ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসির উদ দোজা অংশ নেন। রোববার কানাডার স্থানীয় সময় দুপুরে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের নতুন জেনারেশনের ৫২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের কোনো নীতিমালা নাই। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের আইন থাকলেও কেবলমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই সেই আইনের আলোকে ভিসি নিয়োগ হয়েছে, আর কোথাও নয়।

অধ্যাপক মানান্ন বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগের জন্য যে রিজেন্ট বোর্ড আছে তার সদস্য হচ্ছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,তিন চার জন করে আমলা,রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সদস্য। রিজেন্ট বোর্ডকে এরাই নিয়ন্ত্রণ করে। এদের কথামতো না চললে ওই জায়গায় কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তিনি প্রশ্ন করেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত রিজেন্ট বোর্ডে ৪-৫ জন আমলা কেন থাকবে, তাদের কেন সিন্ডিকেটের সদস্য করতে হবে। দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদদের এই জায়গায় নিয়োগ দিলে তাদের মেধাভিত্তিক পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উপকৃত হতে পারতো।

তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে কখনো কোনো হলের হাউজ টিউটরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নেই- এমন শিক্ষকরা উপাচার্য হয়ে যাচ্ছেন। এটি অতীতে হয়েছে, এখনো হচ্ছে, হয়তো ভবিষ্যতেও হবে। তিনি বলেন, অযোগ্য লোক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ পেলে তিনি অযোগ্য লোকদেরই বেছে বেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেন।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার জন্য তহবিল বরাদ্দে কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক মান্নান নিজে চার বছর মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার উল্লখ করে বলেন, দুই-একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই গবেষনার জন্য দেয়া বরাদ্দ খরচ করতে পারে নাই। টাকা নিয়ে গবেষনার জন্য আমরা গবেষক খুঁজে পাই নাই।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম, উপাচার্য ছিলাম’ এটা বলতেও মাঝে মাঝে খুব লজ্জা হয়। বাইরের চাপে, দলীয় চাপে, ছাত্র সংগঠনলোর চাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কেউ কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বা করতে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁরা যদি মেরুদন্ড সোজা রাখেন তা হলে এই চাপ উপেক্ষা করা সম্ভব।বড় জোর উপাচার্যের পদ চলে যাবে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা তো থাকবে।

মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ তদন্ত রিপোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরে বলা হয়েছে এই সব রিপোর্ট হারিয়ে গেছে। দুই আড়াই হাজার পৃষ্ঠার রিপোর্ট কীভাবে হারিয়ে যায় প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক মান্নান বলেন সরিষার মধ্যে ভূত থাকলে তো সেই ভূত তাড়ানো যাবে না।

উপাচার্য পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের আর্থ সামজিক বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ওপর বিশেষ করে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উপর নানা ধরনের চাপ থাকে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য গবেষনা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে নিয়ম শিথিল করে একটি মাত্র গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই উপাচার্য হিসেবে এমন ব্যক্তি নিয়োগ পাচ্ছেন যাদের শর্তের একটি গবেষণা সেটিও নেই। বহিঃর্বিশ্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচিতি পায় তার শিক্ষক এবং তাদের গবেষণার মাধ্যমে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গবেষণার দৈন্যদশার কারণেই আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রথম একশতের তালিকায় স্থান পায় না।

ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসির উদ দোজা বলেন, আজকের বাস্তবতায় একটি ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। উপাচার্য মহোদয় সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে চান কিনা, নাকি তারা নিজেরাও সেউ নিয়ন্ত্রণে থাকতে চান- সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তিনি উপাচার্যদের মেরুদণ্ড সোজা করে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, তা না হলে সত্যিকারের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘নতুনদেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বলেন, স্বাধীন তৃতীয় একটি সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুঁজে যাচাই-বাছাই করে উপাচার্য পদের প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়। বাংলাদেশে এ প্রক্রিয়াটি ভাবা যায় কিনা সেই ব্যাপারে চিন্তা করার আহ্বান জানান তিনি।

টিউমার ও ক্যান্সারের মধ্যে পার্থক্য কী?

টিউমার শব্দটি শুনলে লোকে ভাবে ক্যান্সার, আবার ক্যান্সার শুনলে লোকে ভাবে টিউমার। যেমন লোকে বলে- ব্রেইন টিউমার হয়েছে, কিংবা ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে! কিন্তু দুটোই কি একই! মোটেও নয়। যেমনটা ব্রেস্ট টিউমার কিংবা ব্রেস্ট ক্যান্সার, দুটো একই নয়।

টিউমার হলো কিছু অস্বাভাবিক টিস্যুর সমাবেশ, যেখানে কোষগুলো অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি করে। টিস্যু মানে একই ধরনের কিছু কোষ, যখন কোথাও এক হয়ে একই ধরনের কাজ করে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. অপূর্ব চৌধুরী।

আমাদের শরীরে বিলিয়ন নয়, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ আছে। ধরা হয় একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে গড়ে ত্রিশ ট্রিলিয়নের মতো কোষ থাকে। জন্মের সময় এ সংখ্যা চার শতাংশের এক শতাংশ থাকে। কোষের ভেতর কিছু নিয়মে পুরনো কোষ মরে যায়, নতুন কোষ জন্ম নেয়, আবার কিছু কোষ সাইজে বাড়ে, কিছু কোষ সংখ্যায় বাড়ে। কিন্তু কোন কোষ মরে যাবে এবং কোন কোষ কতগুলো নতুন কোষ জন্ম দিতে পারবে, কোন কোষের সাইজ কেমন হবে, কোষের এমন সব বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোষের ভেতর কিছু নির্দেশ বা নিয়ম থাকে। আর সে নিয়মগুলো থাকে ডিএনএতে। কোনো কারণে ডিএনএ-এর মধ্যে থাকা এ নির্দেশ প্রক্রিয়া পরিবর্তন হয়ে গেলে কোষগুলো তখন অস্বাভাবিকভাবে নতুন কোষের জন্ম দিতে থাকে, পুরনো কোষ মরে না গিয়ে হযবরল ঘুরতে থাকে, অথবা নতুন জন্ম নেওয়া কোষগুলো কাজবিহীন ঘুরে বেড়ায়।

কারণ কোষগুলোতে কোথায় গিয়ে থামতে হবে তার নির্দেশ থাকে না, কী কাজ করবে তার নির্দেশটি পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন পরিবর্তিত ডিএনএ-এর নির্দেশে রোবটের মতো একের পর এক নতুন কোষের জন্ম দিতে থাকে, নতুন অস্বাভাবিক কোষের সংখ্যা বেড়ে বেড়ে স্বাভাবিক কোষের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, বুড়ো কোষগুলোর পটোল তোলার প্রক্রিয়া থেমে গিয়ে আবর্জনার মতো জমা হতে থাকে শরীরে।

তখন শরীরের অতিরিক্ত এবং অস্বাভাবিক এ কোষগুলো কোথাও জমা হয়ে একটি লাম্প বা প্লি বা চাকতির মতো হয়ে প্রকাশ পেলে তাকে তখন টিউমার বলে।

এ টিউমার দু’ধরনের হয়। এক ধরনের টিউমার শুধু এক জায়গাতে বৃদ্ধি পেয়ে এক জায়গাতেই বসে থাকে। এদের বলে বিনাইন টিউমার। এরা তেমন ক্ষতিকারক নয়। আরেক প্রকার টিউমারের ভেতর থাকা অস্বাভাবিক কোষগুলো রক্ত কিংবা লিম্ফ্ নামক কিছু রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে শরীরের অন্য কোনো অংশে গিয়ে জমা হয়ে সেই অংশের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, নতুন কোনো টিউমার তৈরি করে সেখানে, তখন তাদের বলে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। এ ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকে অন্যভাবে বলে ক্যান্সারাস টিউমার। কাজের সুবিধায় সংক্ষেপে ক্যান্সার বলে।

আমাদের শরীরে প্রায় ২০০ ধরনের ক্যান্সার জাতীয় সমস্যা আছে। ক্যান্সার হলো মূলত শরীরের অনেক জায়গায় বিভিন্ন সমস্যার একটি সমষ্টি। এর শুরুটা শরীরের কোনো একটি অংশে হয়। তারপর যখন সেটি শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, কেবল তখন তাকে ক্যান্সার বলে।

টিউমারের মধ্যে থাকা অস্বাভাবিক কোষগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে গিয়ে কখনো নতুন টিউমার হতে পারে, কখনো কেবল সেখানকার অন্য কোষগুলোর কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমন করে না ছড়িয়ে পড়া বিনাইন টিউমারগুলো যখন শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে গিয়ে সমস্যা তৈরি করে, সেই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারগুলোই মূলত বেশিরভাগ ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে, তখন তার তৈরি করা সমস্যাগুলোকে সহজ করে কেবল ক্যান্সার বলে। এ ক্ষেত্রে যে অঙ্গ বা অংশ থেকে কোষের পরিবর্তনের শুরু, তখন তাকে ওই পার্টের ক্যান্সার বলে।

আবার কিছু ব্যতিক্রম আছে। যেমন- ব্লাড ক্যান্সার, লিউকেমিয়া। এক্ষেত্রে রক্তের স্বাভাবিক কোষগুলোর চেয়ে অস্বাভাবিক কোষগুলো রক্তে বেশি থেকে রক্তকে তার স্বাভাবিক কাজ করতে দেয় না, রক্তে কোনো আলাদা টিউমার দেখা দেয় না।

তারমানে সব টিউমার ক্যান্সার নয়, কিছু কিছু টিউমার কেবল ক্যান্সার, যখন সেই টিউমারগুলোর মধ্যে থাকা কোষগুলো শরীরের অন্য অংশে গিয়ে আরও নতুন টিউমার বা কাজে সমস্যা তৈরি করে। আবার সব ক্যান্সার টিউমার নয়, যেখানে অস্বাভাবিক কোষগুলো টিস্যু আকারে কোথাও জমাট বেঁধে প্রকাশ পায়। যেমন ব্লাড ক্যান্সারে এমন টিউমার হয় না।

অনেক মহিলার ব্রেস্টে জীবনের যে কোনো সময়ে লাম্প বা চাকতির মতো বা পিণ্ডের মতো কিছু দেখা দিতে পারে। এ বাড়তি প্লিটি কেবল একটি টিউমার হতে পারে। এটিকে ভুল করে ব্রেস্ট ক্যান্সার বলা যাবে না। কারণ চিকিৎসকরা এমন বাড়তি কোষের সমাবেশ কোথাও হলে প্রথমে তার সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআই করে নিশ্চিত হন এটি কেবল টিউমার কিনা। তারপর সেখান থেকে কিছু কোষ বায়োপসির নামক পরীক্ষার মাধ্যমে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে কোষগুলো পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন কোষগুলো ক্যান্সার জাতীয় কোষ কিনা, তখন তেমন পরিবর্তন দেখলে তাকে ব্রেস্ট ক্যান্সার বলা যায়। শুধু এমন টিউমার হলে প্রথমে কেবল ওষুধ দিয়ে, তারপর অপারেশন করে সেই বাড়তি অংশটি কেটে ফেলে টিউমারের চিকিৎসা করা হয়। সেই টিউমার যদি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে যায়, শরীরে আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করে, তখন যে অংশে টিউমারটি হয়েছে সেটি প্রথমে অপারেশন করে কেটে ফেলার দরকার বা অবস্থায় থাকলে কেটে ফেলে দিতে হয়, সঙ্গে শরীরের অন্য অংশগুলোতে ছড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক ক্যান্সার কোষগুলোকে মেরে ফেলা অথবা তারা যাতে আর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে না পারে, সেটা থামিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু কেমিক্যালের মাধ্যমে কেমোথেরাপি এবং কিছু রে বা রশ্মির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যান্সারটির চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হয়। এখন নিশ্চয়ই কারও টিউমার হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমনটি বলবেন না এবং ভাববেনও না। বর্তমানে দুটোরই চিকিৎসা আছে। টিউমার বা ক্যান্সার হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু নয়। ক্যান্সার বা টিউমার শরীরের অন্য হাজার রোগের মতোই একটি রোগ বা সমস্যা। বরং শরীরের কোথাও এমন বাড়তি কোন মাংস প্লি, কোনো কারণ ছাড়াই অনেকদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় দুর্বল অনুভব করা, এমন সব কমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

জবির সেই ১১ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

শিবির সন্দেহে আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ১১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ আইন শৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইব্রাহিম আলী, ইতিহাস বিভাগের ইসরাফিল হোসেন, সংগীত বিভাগের আল-মামুন রিপন, লোক প্রশাসন বিভাগের মো. মেহেদী হাসান (মাহদী), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মো. রওসন উল ফেরদৌস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মেহেদী হাসান, বাংলা বিভাগের শ্রাবণ ইসলাম রাহাত, ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. ফাহাদ হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. ওবায়দুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মো. শাহিন ইসলাম ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রহমান অলি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অফিস আদেশ অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীরা দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো ও বিভিন্ন স্থানে সরকার বিরোধী শ্লোগান দিয়ে জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কাজের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তাদের পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হলো বলে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ মধ্যরাতে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ধুপখোলা এলাকার একটি মেসে অভিযান চালিয়ে শিবির সন্দেহে ওই শিক্ষার্থীদের আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। রিমান্ড শেষে তারা কারাগারে রয়েছেন।

মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে দুপুরে

এমবিবিএস ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফল দুপুর ১টায় প্রকাশ করা হবে।

রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলনকক্ষে ফল প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সোমবার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক উপস্থিত থাকতে না পারায় সব ধরনের প্রস্তুতি সত্ত্বেও ফল প্রকাশ একদিন পিছিয়ে যায়।

এদিন দুপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব জানান, সোমবার ফল প্রকাশের সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সময় দিতে না পারায় একদিন পিছিয়ে মঙ্গলবার ফল প্রকাশ হবে।

এমবিবিএস (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১ এপ্রিল সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১টায়। ১৯টি কেন্দ্রের মোট ৫৭টি ভেন্যুতে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১৮টি মেডিকেল ও একটি ছিল ডেন্টাল কলেজ।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ইতিহাসে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৩০ জন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষায় অংশ নেন। দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ৪ হাজার ৩৫০টি। এ হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ জন।

সানিয়াতের প্রথম বাংলা একক

প্রকাশিত হলো প্রতিশ্রুতিশীল কণ্ঠশিল্পী সানিয়াত সাত্তারের প্রথম বাংলা একক গান ‘বন্ধু’। গান বাক্স মিউজিকের ব্যানারে প্রকাশিত এই গানের কথা লিখেছেন নূর সিদ্দিকী। গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন সানিয়াত নিজে। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত এই গানটি একযোগে আইটিউন্স, অ্যামাজন মিউজিক, স্পটিফাইসহ বিশ্বের ২৬০টিরও বেশি অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রকাশ হয়েছে।

গানের রচয়িতা নূর সিদ্দিকী বলেন, সানিয়াত ভাই আমার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবনের বড় ভাই। ক্যাম্পাস জীবনে যদিও কথা হয়নি খুব একটা। তবে আমরা একই হলের ছাত্র ছিলাম। ভাই ছিলেন খুব চুপচাপ স্বভাবের। সানিয়াত ভাই ছাত্রত্ব শেষ করেই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য ভীনদেশেও চলে যান। ফলে দূরত্বও বাড়ে। সময় তাকে অধ্যাপকও বানিয়েছে। কিন্তু তিনি যে সঙ্গীত নিয়ে কাজ করেন তা জানতাম না।

সম্প্রতি আমাকে গান লেখার ভূতে ধরেছে। ‘বন্ধু’ নামে একটি গান লিখে সেটা সানিয়াত ভাইকে দেই সুর আর কণ্ঠ দেয়ার জন্য। ভাই অসাধারণ কাজ করেছেন। নতুন এই একক গান নিয়ে সানিয়াত সাত্তার বলেন, এটা আমার প্রথম বাংলা সিঙ্গেল, তাই এই গান নিয়ে আবেগ ও উচ্ছ্বাস অনেক। গানটি বেশ এক্সপেরিমেন্টাল যেখানে আমি আফ্রো-বিট, বাংলা পলি­গীতি ও পশ্চিমা হিপহপের সংযোগ ঘটিয়েছি। নূরের লেখা এই গানে চিরায়ত বন্ধুত্বের মিষ্টি ব্যাপারগুলো প্রকাশ হয়েছে, আর তাই আমিও চেষ্টা করেছি গানটিতে আনন্দের আবহ তৈরি করতে। আশা করি গানটি সবার ভালো লাগবে।

এর আগে সানিয়াতের ইংরেজি ভাষার একটি অ্যালবাম ও চারটি একক গান প্রকাশ হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘বন্ধু’ গানটি প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্পটিফাইয়ে ৬টি প্লে-লিস্টে স্থান পায়।