শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 344

আ.লীগ নেতার হাত কেটে নিল প্রতিপক্ষরা

সিলেটের গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার হাত কেটে নিয়েছে প্রতিপক্ষরা। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছিনু মিয়া চৌধুরীর বাম হাত কেটে নেয়ার পর তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার আমুড়ার শীলঘাট কুমারপাড়া গ্রামে এ ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুরুতর আহত ছিনু মিয়া চৌধুরী আমুড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও আমুড়া ইউনিয়নের শীলঘাট গ্রামের মৃত হিরা মিয়া চৌধুরীর ছেলে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ছিনু মিয়ার ভাতিজা সালমান আহমদ চৌধুরী অভিযুক্ত একই ইউনিয়নের শীলঘাট রংপুর গ্রামের মৃত হাবিব আলীর ছেলে আব্দুল মন্নানকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি দায়ের করেছেন। এ ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল মন্নানের ছেলে মাহাদীকে (১৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আহত আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজা সালমান আহমদ চৌধুরী বলেন, আমার চাচা ছিনু মিয়া মাটি কাটার ঠিকাদার। তিনি মাটি কাটা বাবদ আব্দুল মন্নানের নিকট ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পেতেন। এই পাওনা টাকা আব্দুল মন্নানের কাছে চাইলে তা কাল হয়ে দাঁড়ায় আমার চাচার জন্য। শুক্রবার আমার চাচা ছিনু মিয়া বাড়িতে আসার পথে শীলঘাট কুমারপাড়া গ্রামে আসামাত্র পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে আব্দুল মন্নান তার ছেলেসহ আরো ৬/৭ জনকে নিয়ে আমার চাচার উপর হামলা করে। এ সময় আব্দুল মন্নানের দায়ের কোপে আমার চাচার বাম হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে থানার এসআই ফয়জুল করিম যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্বৃত্তের হামলায় বন কর্মকর্তা আহত

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন তালুকদার।

শনিবার রাত ৯টার দিকে বিট কর্মকর্তার অফিসসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন তালুকদার জানান, চুনতিবাজার থেকে মোটরসাইকেলে বিট অফিসে যাওয়ার সময় পেছন থেকে কে বা কারা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তার ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান। তার চিৎকারে বনকর্মীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিট কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, এক বিট কর্মকর্তা আহতাবস্থায় থানায় আসেন। তাকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেই বান্ধবীকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই চলে গেলেন ইমরান খান

ইমরান খান তার রাজনৈতিক জীবনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর তার স্ত্রী বুশরা বিবির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ফারাহ খানকে নিয়ে নানা গুজব ডালপাল মেলেছে। এ নিয়ে কিছুটা বিব্রত পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। এবার ফারাহ খান বিষয়ে প্রশ্নে সাংবাদিকদের সরাসরি এড়িয়ে গেলেন তিনি।

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর শনিবার প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইমরান খান। ইসলামাবাদের বানিগালা বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি যখন চলে যাচ্ছিলেন, একজন সাংবাদিক সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে তার স্ত্রী বুশরা বিবির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফারাহ খানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

ইমরান খানের শাসনামলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে প্রচার চালানো হয়েছিল সে বিষয়েও তার মতামত জানতে চান ওই সাংবাদিক। কিন্তু পিটিআই চেয়ারম্যান কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এ সময় চলে যান। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েকদিন আগেই ফারাহ পাকিস্তান থেকে পালিয়ে দুবাই পালিয়ে যান বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ৯০ হাজার ডলার মূল্যের ব্যাগ নিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করছেন ইমরানের রাজনৈতিক বিরোধীরা।

বুশরা বিবির বান্ধবী ফারাহ পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা গেছে, বিমানে বসে আছেন ফারাহ। তার পায়ের কাছে রয়েছে বেগুনি রঙের একটি বিলাসবহুল হ্যান্ড ব্যাগ।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের সহ-সভাপতি মরিয়াম নওয়াজ কয়েকবার অভিযোগ করেছেন যে ফারাহ খান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগের জবাবে ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী শেহবাজ গিল বলেন, বুশরার বিরুদ্ধে সমালোচনার কিছু না পেয়ে মরিয়ম এখন বুশরার বন্ধুকে টার্গেট করেছে।

মস্কো ও কিয়েভের আগে তুরস্ক সফর করবেন গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মস্কো ও কিয়েভ যাওয়ার আগে তুরস্ক সফর করবেন।

রোববার জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুতেরেস সোমবার রাজধানী আঙ্কারা যাবেন, যেখানে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে দেখা করবেন। খবর বিবিসির।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরে তিনি মস্কো যাবেন, যেখানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে ‘ওয়ার্কিং লাঞ্চ’ করবেন।

এর পর বৃহস্পতিবার কিয়েভে তার চূড়ান্ত স্টপ হবে, যেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে দেখা করবেন।

কিন্তু ইউক্রেনের আগে জাতিসংঘের রাশিয়া সফরের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ চলছে ইউক্রেনে, মস্কোর রাস্তায় কোনো লাশ নেই। প্রথমে ইউক্রেনে যাওয়া যৌক্তিক বলে মনে করি।

যে কারণে পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিজ দেশে চাহিদা বাড়ায় পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, বাসা বাড়িতে রান্নার তেলের পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতেই পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর ডয়েচে ভেলের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে খাদ্য সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার এমন ঘোষণা এলো।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া। এই তেলটিকে বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত উদ্ভিজ্জ তেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইসক্রিম থেকে শুরু করে শ্যাম্পু পর্যন্ত বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।

পাম তেলের উৎপাদন শুরু হয় ১৮৪৮ সালে পশ্চিম আফ্রিকায়। পরে এটি অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পাম তেল উৎপন্ন হয় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়।

অশনি সংকেত সাত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে

দুর্নীতির দায়ে ডুবতে বসেছে ৭টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিতরণ করা ঋণের সর্বনিু ৪২ থেকে সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। এছাড়া আরও ৯টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি বন্ধ না হলে নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই সবকিছুর আগে কঠোরহস্তে প্রভাবশালীদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এ খাত বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান সাতটি হচ্ছে-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিডেট, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং উত্তরা ফাইন্যান্স লি.।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিশ্চয় প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক যোগসাজশে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। তা না হলে এমন করুণ পরিস্থিতি হতো না। এছাড়া পরিচালক এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনারও দায় আছে। সার্বিকভাবে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে হরিলুট হয়েছে সেগুলো ছাড়া নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে খেলাপি ঋণ ৭ শতাংশে নেমে আসবে। এটা ভালো প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের কষ্টের। এতদিন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণও লুকিয়ে রেখেছিল। এখন সব বের হচ্ছে। সে কারণে খেলাপি ঋণ ১৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) ঋণস্থিতি ছিল ১৬৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় পুরো টাকাই খেলাপি (৯৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ) হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের লুটপাট এবং অর্থ আত্মসাৎ করার প্রমাণ মিলেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া ডিসেম্বর পর্যন্ত ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ঋণস্থিতি ছিল ৯৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৮৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। একইভাবে ডিসেম্বর পর্যন্ত এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ঋণ ছিল ১৯২৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১৭১৪ কোটি টাকা। যা ৮৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। ফার্স্ট ফাইন্যান্সের ঋণ ছিল ৮৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৭৪২ কোটি টাকা। যা ৮২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) ঋণ ছিল ৪ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৩২১০ কোটি টাকা। যা ৭৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের ঋণ ছিল ১৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং উত্তরা ফাইন্যান্সের ঋণ ছিল ২ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আইআইডিএফসির ঋণ ছিল ১৩৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৪৮৮ কোটি টাকা। যা ৩৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। দ্য ইউএই বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ঋণস্থিতি ছিল ৪০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ঋণস্থিতি ছিল ১১৭১ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৩২০ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ঋণস্থিতি ছিল ২৬৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বা ২৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এছাড়া ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাইম ফাইন্যান্স খেলাপি ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং মাইডাস ফাইন্যান্সের ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। শুধু খেলাপি নয়, নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৬টি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতিতে সব চেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় আছে এফএএস (ফাস) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রভিশন সংরক্ষণ করার কথা ছিল ১০৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। করেছে মাত্র ১৯৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে ডিসেম্বর পর্যন্ত এফএএস (ফাস) ফাইন্যান্সের প্রভিশন ঘাটতি ৮৭২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যা খুবই অস্বাভাবিক। একইভাবে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের প্রভিশন ঘাটতি ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের প্রভিশন ঘাটতি ১৪০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আইআইডিএফসির প্রভিশন ঘাটতি ৯০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আভিভা ফাইন্যান্সের প্রভিশন ঘাটতি ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রভিশন ঘাটতি ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৩৫৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ১৩ হাজার ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

মজাদার প্রোটিন সালাদ

আজকাল সবাই স্বাস্থ্য সচেতন। সবাই কমবেশি সালাদ পছন্দ করেন। সালাদ আপনি দুপুরের খাবার হিসেবেও খেতে পারেন। প্রোটিন সালাদ যেমন খেতে সুস্বাদু, ঠিক তেমনই শরীরের জন্য অনেক উপকার। এই সালাদের মধ্যে রয়েছে শসা, টমেটো, চিকপিসসহ আরও অনেক উপকরণ। স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী প্রচুর পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন রয়েছে- যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন।

এ ছাড়া টমেটোতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ভরপুর। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ভালো রাখে ও রোদে পোড়া দাগ দূর করে। মোটকথা- এই সালাদ যেমন স্বাদ ও গন্ধে দারুণ, ঠিক তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই প্রতিদিনের ইফতার কিংবা খাবারের টেবিলে এই প্রোটিন সালাদ রাখতে পারেন আপনিও।

প্রোটিন সালাদটি তৈরি করেছেন রন্ধনশিল্পী হাসিনা আনছার। দেখে নিন কীভাবে তৈরি করবেন এই সালাদ-

যা যা লাগবে:

শসা এক কাপ। পেঁয়াজ মাঝারি সাইজের একটি। টমেটো এক কাপ। লবণ পরিমাণমতো। চিকপিস সিদ্ধ দেড় কাপ। আদা গুড়া এক চা চামচ। ধনেপাতা পরিমাণমতো। কাঁচামরিচ পরিমাণমতো। আস্ত জিরা গুঁড়া সামান্য। চাট মসলা সামান্য। লেবুর রস দুই চা চামচ। গোলমরিচ গুঁড়া সামান্য। তেল পরিমাণমতো। বাটার পরিমাণমতো।

যেভাবে তৈরি করবেন:

প্রথমে বাটার ও সামান্য তেলে চিকপিসগুলো একটু সতে করে নিতে হবে। এরপর বাটিতে সতে করা চিকপিসগুলো নিয়ে বাকি উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার প্রোটিন সালাদ।

গরমে সুস্থ থাকতে যেসব পুষ্টিকর খাবার খাবেন

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর অনেকটাই ক্লান্ত থাকে। শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষ অতিরিক্ত গরমে হাঁপিয়ে উঠেন। এ সময় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে একটু যত্নবান হওয়া লাগে। চর্বি ও তৈলাক্ত খাবার বাদ দিতে হয়। সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া উচিত। যথাসম্ভব রিচ ফুড পরিহার করা উচিত।

গরমে সঠিক পুষ্টি বজায় রাখার জন্য এবং রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সঠিক পুষ্টি খুব জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক ডা. আলমগীর মতি।

সহজে হজমযোগ্য খাবার : শিশুরা প্রচুর ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ি করে। ফলে অতিরিক্ত শারীরিক শ্রমের পর যে কোনো ভারি খাবার শিশুদের হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। এমনকি বমি বমি ভাবের সৃষ্টি করে। তাই অতিরিক্ত তেলের খাবার, ভাজাপোড়া খাবার শিশুদের দেয়া উচিত নয়। গ্রীষ্মে শিশুদের চিপস, বাদাম, পাপড়, চানাচুর, চিকেন ফ্রাই ইত্যাদি না খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। বরং নরম, সুস্বাদু, ঘরে তৈরি খাবার যা সহজে হজম হয় সেগুলো শিশুকে দিতে হবে। পুডিং, সিদ্ধ নুডলস, নরম ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, নরম সুজি, ঘরে তৈরি ফলের জুস ইত্যাদি খাওয়াতে পারলে ভালো।

দুধের বিকল্প খাবার : দুধ শিশুদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি খাবার, যা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের বড় একটি উৎস। কিন্তু গরমের সময় শিশুকে জোর করে দুধ খাওয়ালে অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই তা হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এতে শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই গরমের সময় দুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে জোর না করে ঘরে তৈরি লাচ্ছি, মাঠা, মিল্কশেক ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে।

রুটিন মেনে চলা : গরমের এই সময় সঠিক পুষ্টি ও ক্যালরির চাহিদা বজায় রাখার লক্ষ্যে সঠিক সময় মেনে খেতে হবে। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সকালের নাশতা খেতে হবে। দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে দুপুরের খাবার খেতে হবে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে রাতের খাবারের রুটিন রাখা ভালো। এরপর মধ্যসকাল, বিকাল ও শোয়ার আগে শিশুকে হালকা খাবার, বিশেষ করে তরল খাবার দিতে হবে।

তাজা খাবার : এ সময় শিশুদের তাজা খাবার খাওয়াতে হবে। কেননা এ সময় ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া গরমে খাবারে দ্রুত পচন ধরে। তাই শিশুকে সতেজ খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। যেমন, শিশুদের স্কুলের টিফিনে ফল ও সবজির কোনো প্রিপারেশন করা যেতে পারে। কেননা সবজি ও ফল দ্রুত ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে। টিফিন হিসেবে বিস্কুট, ডিম, ডিমের নুডলস ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে।

তাজা মৌসুমি ফল : গরমে তরলের চাহিদা ও ভিটামিন মিনারেলের দৈনিক চাহিদা পূরণে ফল দারুণ সাহায্য করে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ও সংক্রমণের বিরুদ্ধেও ফল অনেক কার্যকর। তাই এ সময় তরমুজ, বাঙ্গি, আম, লিচু ইত্যাদি ফল শিশুদের জন্য বেশ উপকারী। তবে একেবারে খালি পেটে ফল খাওয়াবেন না।

পর্যাপ্ত তরল দিন : গরমে শিশুদের অনেক ঘাম হয়। ফলে শিশুদের পানি ও ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক শিশুকে ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোক নিয়েও হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যায়। তাই শিশু পানি ও তরল খাবার কতটুকু খেল, সে বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। স্কুলে পানি কতটুকু দেয়া হল আর কতটুকু পানি শিশু খেল তা-ও লক্ষ্য করুন। স্কুল ছুটির পর ডাবের পানি, লেবুর পানি, কাঁচা আমের জুস ইত্যাদি খেতে দেওয়া ভালো।

প্রাথমিক সমাপনী না নেওয়ার ইঙ্গিত

চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও সমমানের পরীক্ষা না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন আভাস দেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী একবারেই বাতিল করার চিন্তাভাবনা করছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন যে কারিকুলাম আছে, সেখানে পরীক্ষাটা নেই। আমরা শিক্ষাবিদসহ অংশীজনদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
প্রায় দুই বছর স্কুল বন্ধ ছিল— উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা শিখন ঘাটতি পূরণে আরেকটু টাইম নিই। আমরা ঘাটতি পূরণ করে তার পর সিদ্ধান্ত জানাব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাপনী পরীক্ষা নভেম্বরের দিকে হয়, আমরা দুই-তিন মাস আগে জানাব।

এ সময় সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, বড়দের শিখন প্রক্রিয়া ও ছোটদের শিখন প্রক্রিয়া ভিন্ন। এখনই জানিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটা ব্যাহত করতে চাই না। আমরা আরেকটু সময় নিয়ে ঘোষণা দেব।

র‌্যাগিংয়ের দায়ে যবিপ্রবি’র হল থেকে ১৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

র‌্যাগিংয়ের দায়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১৩ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ৩ জনকে স্থায়ী ও বাকি ১০ জনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে যবিপ্রবির ‘শহীদ মসিয়ূর রহমান (শ.ম.র) হল প্রশাসন।

২০ এপ্রিল রাতে যবিপ্রবির শ.ম.র হল এর প্রভোস্ট ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদের স্বাক্ষর করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়েছে।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃতরা হলেন ইনভায়রনমেন্টাল সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (ইএসটি) বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন, গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মো. বারিউল হক মুবিন।

হল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃতরা হলেন: পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মাহবুব হাসান রকি ও মো. রায়হান রহমান রাব্বি, রসায়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী শেখ জুবায়ের, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএইচই) বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মো. পারভেজ মিয়া, মো. সালমান মোল্যা ও মো. নাজমুস সাকিব, ইএসটি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল হক, মো. সাইমুন নাইচ ও মো. খালিদুজ্জামান সৌরভ এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান অপূর্ব।