সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 333

বিচার বিভাগের ভূমিকা সংবিধানের অভিভাবকের: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতের বিচার বিভাগের ভূমিকা সংবিধানের অভিভাবকের। আইনসভা নাগরিকদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। আমি বিশ্বাস করি, সংবিধানের এই দুই ধারার মিলন এবং ভারসাম্যই দেশে একটি কার্যকর এবং সময়নিষ্ঠ বিচার ব্যবস্থার রোডম্যাপ তৈরি করবে।

দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের এই যৌথ সম্মেলন আমাদের সাংবিধানিক সৌন্দর্যের জীবন্ত চিত্র। স্বাধীনতার এই ৭৫ বছর বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ উভয়ের ভূমিকা এবং দায়িত্ব ক্রমাগত স্পষ্ট হয়েছে। প্রয়োজনে দেশকে দিকনির্দেশ দিতে এই সম্পর্ক নিরন্তর বিকশিত হয়েছে।

মোদি বলেন, ২০৪৭ সালে, যখন দেশ স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে, তখন আমরা দেশে কেমন বিচার ব্যবস্থা দেখতে চাই? আমরা কীভাবে আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে সক্ষম করে তুলব যে এটি ২০৪৭ সালের ভারতের আকাঙ্খা পূরণ করতে পারে সেই প্রশ্নগুলি আজ আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ভারত সরকার ডিজিটাল ইন্ডিয়া মিশনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসাবে বিচার ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সম্ভাবনাগুলিকেও বিবেচনা করছে। ই-কোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইতালির যে শহরে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তুরিনে এবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। শহরটির মেয়র খোলা ময়দানে ঈদ জামাতের অনুমোদন দিয়েছেন।

তুরিন শহরে ৫০ হাজার মুসলিমের বসবাস। সর্বশেষ ২০১৯ সালে শহরটির ডোরা পার্কে অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজে ৩ হাজার মুসল্লি সমাবেত হয়েছিলেন। খবর আরব নিউজের।

পরের দুই বছর এখানে করোনার কারণে ঈদের নামাজসহ সব ধরনের অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এ বছর রোববার অথবা সোমবার সিটি পার্কে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

শহর আর্চবিশপ নোসিগলিয়া এক বার্তায় মুসলিম সম্প্রদায়কে ঈদেরর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এক বার্তায় তিনি বলেন, তুরিন শহরের আমার মুসলিম বন্ধুরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখেন। তাদের উদার ভাবাদর্শের জন্য শহরবাসী তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

সারাদেশে দুপুর পর্যন্ত ব্যাংক খোলা

ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটি পড়ে যাওয়ায় শনিবার সারা দেশে ব্যাংক খোলা থাকছে। লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত; তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে বাড়তি লেনদেন হচ্ছে, ফলে ব্যাংকে নগদ টাকার জমা ও উত্তোলন বেড়েছে।

পরিপ্রেক্ষিতে সবার সুবিধার্থে ৩০ এপ্রিল শনিবার সীমিত লোকবল নিয়ে সারা দেশে ‘সীমিত পরিসরে’ ব্যাংক খোলা থাকবে।

এর আগে ২৯ এপ্রিল শুক্রবার এবং ৩০ এপ্রিল শনিবার পোশাকশিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার নতুন সার্কুলারে শনিবার সারা দেশে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আবদুল মুহিতের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: জিএম কাদের

সাবেক অর্থমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

এক শোক বার্তায় প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালীর পাঠানো শোক বার্তায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতির ভীত মজবুত করতে আবুল মাল আবদুল মুহিতের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একজন অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন।

তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ঐতিহাসিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত অসামান্য অবদান রেখেছেন। পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের চিত্র প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সরকারের চাকরি ইস্তফা দিয়ে অস্থায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশ প্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশ ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বা পা) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে দেশ এক অকৃত্রিম অভিভাবক হারাল। আবুল মাল আবদুল মুহিতের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে একইভাবে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

রাজনীতিবিদরা কে কোথায় ঈদ করবেন

এবার ঈদে অধিকাংশ রাজনীতিবিদ ঢাকায় অবস্থান করবেন। তবে নামাজ শেষে অনেকে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় যাবেন। পরপর দুবছর মহামারি করোনার কারণে ঈদে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি নেতারা। তবে এ বছর পরিস্থিতি ভালো থাকায় নেতারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ ঈদের আগে নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে এসেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারও ঈদ করবেন ঢাকায় সরকারি বাসভবন গণভবনে। প্রতিবছর ঈদের দিন দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনীতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদুল ফিতরের দিনে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি। এবারও প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। তবে ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে গণভবন সূত্রে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই অডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী এবারও ঢাকায়ই ঈদ করবেন। দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। তবে গত ২২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটিয়ে এসেছেন তিনি। উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদও ঈদ করবেন রাজধানীতেই। ঈদের দিন বনানীর বাসায় কাটাবেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে নোয়াখালীতে নিজের নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে ঈদের পরে নিজ এলাকা টাঙ্গাইল যাবেন তিনি।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ ও লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান ঈদ করবেন ঢাকায়। জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমানও ঈদ করবেন ঢাকায়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ নিজ জেলা কুষ্টিয়ায় ঈদ করবেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় চলে গেছেন।

আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনি এলাকায়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঈদ করবেন গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে।

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ঈদ করবেন। বোন সেলিমা ইসলাম ও ভাই শামীম এস্কান্দারসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিয়ে ঈদ করবেন তিনি। ওইদিন তার সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের দুদিন আগে তিনি নিজ এলাকা ঠাকুগাঁওয়ে ঘুরে এসেছেন। এছাড়া ঢাকায় ঈদ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদী ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনি এলাকায় ঈদ করবেন।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকে ঢাকায় থাকবেন। আর ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকতউল্লাহ বুলু নোয়াখালীতে ও যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের ঢাকায় ঈদ করবেন। ওইদিন বেলা ১১টা থেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। এছাড়া জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুও ঢাকায় ঈদ করবেন।

এছাড়া দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ নেতা ঢাকায় ঈদ করবেন। এর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, জাসদের হাসানুল হক ইনু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ ও মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, এলডিপির আরেক অংশের সভাপতি আব্দুল করিম আব্বাসী ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ঢাকায় ঈদ করবেন। অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেই নির্বাচনি এলাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।

গুলশানে মুহিতের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুহিতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সংসদ প্লাজায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দ্বিতীয় জানাজার কর্মসূচি বাতিল করা হয়।

গুলশান আজাদ মসজিদের জানাজায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা নামাজ শেষ মসজিদের দক্ষিণ ফটকে আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ দেখতে তার বন্ধ, শুভাকাঙ্খীরা ভিড় করেন। বেলা সোয়া ১১টায় সবার দেখা শেষে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা।

জানাজার আগে গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন এ কে আবদুল মোমেন। এসময় তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে একজন ‌‘ট্যালেন্ট অভিভাবককে’ হারিয়েছি। মুহিত ভাইয়ের মতো ট্যালেন্টেড লোক আমাদের পরিবারের আর নেই। তিনি খবই মহৎ ছিলেন। আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম।

শুক্রবার রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বার্ধক্যের নানা জটিলতায় সাবেক অর্থমন্ত্রী বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। মাঝে তাকে কয়েক দফায় হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়। আবুল মাল আবদুল মুহিত লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন। করোনার মধ্যে দেড় বছর আগে এই রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। বিষয়টি পারিবারিকভাবেই গোপন রাখা হয়। এর মধ্যে করোনায়ও আক্রান্ত হন মুহিত।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী ও বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ। মা-বাবা দুইজনই তৎকালীন সিলেট জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাই।

মুহিত সারা জীবন দেশের স্বার্থের কথাই ভেবেছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মুহিত সারা জীবন দেশের স্বার্থের কথাই ভেবেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ছিলেন যেমন নির্ভিক, তেমনি উদার। তিনি সারাজীবন দেশের স্বার্থের কথাই ভেবেছেন। তিনি ছিলেন স্বমহিমায় মহিমান্বিত ও স্মরণীয় একজন রাজনীতি ও অর্থনীতিবিদ। তাঁর চলে যাওয়ায় দেশের অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তাঁর অভাব অন্য কোন কিছু দিয়েই পুরণ হবার নয়।

শনিবার এক শোকবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ভাষা সৌনিক, সিলেট- ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শোকবার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

প্রসঙ্গত, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে নেতৃত্বহীন ছাত্রলীগ

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লাভের আশায় সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন জালিয়াতি এবং অস্ত্র ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এসেছে।

অপকর্মের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে কখনো নিজেদের মধ্যে, কখনো অন্যের হয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন তারা। ক্ষমতা জানান দিতে এসব বিবাদে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। জড়িয়েছেন হত্যাকাণ্ডে। বিভিন্ন আন্দোলনে সশস্ত্র হামলায় বহুবার ব্যবহার হয়েছেন কলেজটির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে কয়েক দফায় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বহিষ্কার হয়েছেন বহু নেতাকর্মী।

বর্তমানে নেতৃত্বহীন অবস্থায় আছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। তবুও থামছে না তাদের অস্ত্রের রাজনীতি। গত ৪০ দিনে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছোট-বড় অন্তত ১৫টি সংঘর্ষ ও অপকর্মে জড়িয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিউমার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো।

সম্প্রতি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ আলোচনায় আসে ১৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের পর। এ ঘটনায় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মৃত্যু হয় দোকানকর্মী মোহাম্মদ মুরসালিনের। দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। যেসব হেলমেটধারীরা নাহিদকে কুপিয়েছিল তাদের ছয়জনকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। এদের সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এখানে যাদের নাম এসেছে তাদের কয়েকজন অতীতেও বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মে জড়িয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভেতরে হামলা চালায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী এক নেতা হেলমেট পরে অস্ত্র নিয়ে অংশ নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে গোয়েন্দাদের হাতে থাকা এক অডিও রেকর্ডে। গত ৪০ দিনের মধ্যে আরেক আলোচিত ঘটনা নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের ১৫টি দোকান ভাঙচুর। চাঁদা না পেয়ে এই হামলা চালানো হয়।

গত ২০ এপ্রিল সায়েন্সল্যাবের বায়তুল মামুর মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকান থেকে আটটি পাঞ্জাবি নিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এমন অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও তার বেশিরভাগই আলোর মুখ দেখেনি।

ঢাকা কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হলগুলোতে এখন প্রশাসনের নামমাত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কেবল উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রদের হল ছাড়া অন্য সাতটি হলে ছাত্রলীগের কথাই শেষ কথা। হলে থাকতে হয় ছাত্রলীগের ‘অনুকম্পায়’। যেখানে ছাত্রদল বা বিরোধী ছাত্র সংগঠন পরিচয়ে থাকার সুযোগ নেই।

ফলে হলে যারা থাকেন মোটামুটি সবার পরিচয়ই ছাত্রলীগ। পদ না থাকলেও কর্মী হিসেবে নিয়মিত যোগ দিতে হয় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে। কমিটি না থাকলেও শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতারাই এখন ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরা কোনো শিক্ষার্থীকে কোথাও ডাকলে সেখানে যেতে বাধ্য হয় সবাই। এভাবে অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী জড়িয়ে পড়েন অপরাধ-অপকর্মে। পরে বিপদে পড়লে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাদের ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনেক ঘটনায় এভাবে বহু শিক্ষার্থী ‘ফেঁসে গেছেন’ বলে অভিযোগ আছে। এমন আচরণকে ছাত্রলীগের ‘দ্বিচারিতা’ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটিএম মইনুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত আলোর মুখ না দেখার বিষয়ে তিনি বলেন, তখন তো আমি ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। ছাত্রলীগের সিটের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ইন্টারমিডিয়েটের হলের নিয়ন্ত্রণ আমাদের রয়েছে।

অনার্সেরগুলো আমরা আরও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। এখন এর বাইরে যদি কেউ থেকে থাকে, সেটা আসলে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয় না। ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন দোকান থেকে টাকা না দিয়ে পণ্য আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম অনেক কথা বাইরে শুনি। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, অবস্থানগত কারণে এই ইউনিটটিকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে সংগঠনটি। কিন্তু দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় ঢাকা কলেজ আরও বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করেন সেখানকার নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, সেখানে এখন ‘কেউ কারও কথা মানে না’ এমন অবস্থা বিরাজ করছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কলেজ ইউনিটের মেয়াদ এক বছর। সেই হিসাবে প্রতিবছর ছাত্রলীগের একটি করে নয়টি কমিটি হওয়ার কথা। সেখানে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে গত নয় বছরে ঢাকা কলেজে মাত্র একটি কমিটি হয়েছে। তাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নয়, তিন মাসের জন্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটি।

২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর নূরে আলম ভূঁইয়া ওরফে রাজুকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়। দুই মাসের মাথায় ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ান তাদের অনুসারীরা। বহিষ্কার হন আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ কমিটির ১৯ নেতা।

এরপর থেকে নেতৃত্বশূন্য রয়েছে ঢাকা কলেজ। এর আগে প্রায় এক দশক পর ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ৫৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মেধাবী ছাত্র ফারুক হোসেন হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে স্থগিত হয়।

যে কোনো সংঘর্ষের পরপরই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। সেজন্য সেখানে কিছু ঘটলে তার দায় ছাত্রলীগের নয়। অথচ ঢাকা কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সংবলিত বড় বড় ফেস্টুন। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের জন্মদিনও পালন করা হয়েছে বিশাল আয়োজনে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দেন তারা। এসব বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল

সরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। অফিস শেষে টানা ছয় দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি।

রোববার মহান মে দিবস। এর সঙ্গে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। আগামী বুধবার পর্যন্ত এ ছুটি চলবে। যারা আগামী বৃহস্পতিবার ছুটি ম্যানেজ করতে পেরেছেন তারা নয় দিনের ছুটিতে যাচ্ছেন।

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনও শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে বিভিন্ন রুটের ট্রেন। ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন অধিকাংশ যাত্রী। সেই দুর্ভোগের রেশ না যেতেই ট্রেনযাত্রীরা নতুন করে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। যাত্রার দিন শিডিউল বিপর্যয়ের ফাঁদে পড়েছেন তারা।

শেষ কার্যদিবসের পরপরই ঈদ আনন্দে বাড়ি যাওয়ার হিড়িক পড়ে। রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) যাত্রীদের ভিড় কম ছিল। তবে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। গভীর রাতে টার্মিনালগুলো মানুষের ঢল নামে। বাস ও লঞ্চে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

অনেককে বাসের বিকল্প হিসাবে ট্রাকেও যেতে দেখা গেছে। তবে আজ শুক্র ও কাল শনিবার যাত্রী ঢল আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেলস্টেশনসহ সব স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে সদরঘাটে যাত্রীদের ঢল নামে। লঞ্চের ভেতরে যেন হাটার জায়গা নেই। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে আগের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। শ্রেণি ভেদে ভাড়া ৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পরিবহণ সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার ঈদে উত্তরবঙ্গ, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের রুটগুলোতে সড়কপথে গাড়ির চাপ থাকলেও উল্লেখযোগ্য যানজট তৈরি হয়নি। ফলে অনেকটা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। বাস নির্দিষ্ট গন্তব্যে গিয়ে যাত্রী নামিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারছে। তবে বিপত্তি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের রুটে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি পার হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে। শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি ফেরি রুটে শুধু ছোট ও মাঝারি আকারের গাড়ি পার করায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে গাড়ির চাপ বেশি রয়েছে।

এ রুটে ২১টি ফেরিতে গাড়ি পার করা হচ্ছে। অপর দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের রুটগুলোতে ৭১টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক শেখ মো. সেলিম রেজা যুগান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত লঞ্চ রয়েছে। শিল্প-কারখানা বন্ধের পর মূলত যাত্রী চাপ অনেক বেড়ে যাবে। ওই চাপ মোকাবিলা করতে লঞ্চের অতিরিক্ত ট্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওভারলোডিং ও বাড়তি ভাড়া যাতে আদায় না করতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা থেকে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রী কম থাকায় সারা দিন এক ধরনের হতাশার সুর ছিল পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। দারুসসালাম থেকে গাবতলী ভেড়িবাঁধ পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই যানজট থাকলেও বাস স্টেশনের ভেতরে ছিল প্রায় ফাঁকা। সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। সাউদিয়া পরিবহণের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল-ঝালকাঠি রুটে চলে তাদের কোম্পানির বাস। এ ছাড়া কুষ্টিয়া রুটেও গাড়ি চলে।

সাধারণত সকাল থেকে বেলা ৩টার মধ্যে ৫-৭টি গাড়ি ঢাকা ছেড়ে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার যাত্রীর অভাবে মাত্র একটি বাস ছাড়া হয়। তিনি বলেন, যাত্রীরা লোকাল গাড়িতে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রো বাস, মোটরসাইকেল যে যা পারছেন তাতেই ছুটছেন গ্রামের দিকে। এ ছাড়া মাওয়া হয়ে অনেক যাত্রী চলে যাচ্ছেন। বাকিরা গাবতলী হয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রী বেড়েছে। এখন গাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে। মাগুরার যাত্রী সরকারি চাকরিজীবী রাফিক জানান, টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি।

তবে টিকিটের দাম বেশি নেওয়া হয়েছে। ৫০০ টাকার জায়গায় ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে সকালের দিকে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও দুপুরে তা ছিল না। আবার সন্ধ্যার পর উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। এ টার্মিনালে তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন যাত্রীরা। তবে এর জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাত্রী সাধারণের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএ, পুলিশ বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং পরিবহণ মালিক, শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যরা সব সময় টার্মিনালে অবস্থান করছেন।

এ ছাড়া র‌্যাব-২ এর কন্ট্রোল রুমও রয়েছে। ভিজিলেন্স টিমের সদস্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী জানান, বাড়তি ভাড়া নেওয়া বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। বাড়তি ভাড়া যাতে না নিতে পারে, বাসে সিটের বেশি যাতে যাত্রী না নেওয়া হয়, স্বাস্থ্যবিধি ও যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয়গুলো তদারকি করছি আমরা। এখানে সব কিছুই ঠিক আছে।

শিডিউল বিপর্যয়ে ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ : ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনও শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে বিভিন্ন রুটের ট্রেন। এতে চরম বিপাকে পড়ছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। ঢাকা থেকে গড়ে একেকটি ট্রেন ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে।

শুধু ঢাকা থেকে বিলম্বে ছাড়া নয়-রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, সিলেট স্টেশনে বিলম্বে ট্রেন পৌঁছাচ্ছে-ছাড়ছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, একেকটি ট্রেনে আসন সংখ্যার বিপরীতে দ্বিগুণ, তিনগুণ পর্যন্ত যাত্রী উঠছে। এ ছাড়া যেসব স্টেশনে যাত্রাবিরতি ছিল দুই মিনিট, সেখানে ১০ থেকে ১২ মিনিট পর্যন্ত বিরতি দিতে হচ্ছে। যাত্রী ওঠা-নামায় বেশি সময় নিচ্ছে।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত জামান মোহসীন জানান, পশ্চিমাঞ্চলে কিছু ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। একে শিডিউল বিপর্যয় বলা যাবে না। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বিরতির সময় বাড়িয়ে দিচ্ছি। এ ছাড়া ঈদযাত্রায় ট্রেনের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকে। ফলে যথাযথ গতি নিয়ে ট্রেন চালানোও সম্ভব নয়। সবই যাত্রীদের কল্যাণে করা হচ্ছে। ঈদে মোট ৩৭টি আন্তঃনগর ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। শুক্রবার থেকে আরও দুটি স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হবে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে।

প্লাটফর্মে ১০-১২ ট্রেনের যাত্রী একত্রিত হচ্ছেন। ট্রেন চলাচলে যাতে বিলম্ব না হয় সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দ্বিতীয় দিন শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, টঙ্গি স্টেশন আউটারে মালবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে ঢাকামুখী ট্রেনগুলো সময়মতো গন্তব্যে আসতে পারেনি। রেলে যেসব ট্রেন বিলম্বে চলাচল করে সেগুলো শিডিউল অনুযায়ী চালাতে ২-৩ দিন সময় লাগে।

এদিকে, ঈদযাত্রা কেন্দ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত কোথাও যানজট হয়নি। মঙ্গলবার থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ২৫ হাজার ৪৫০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এর মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে ১২ হাজার ৮৯৭টি যানবাহন গেছে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে গেছে ১২ হাজার ৫৫৩টি যানবাহন। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় যানবাহন পারাপার হয়েছিল ২৩ হাজার ৬১১টি। স্বাভাবিক অবস্থায় এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যানবাহন পারাপার হয়।

প্রশ্নটা উনাকে করুন: জয়শঙ্কর

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর।

এ সময় র‌্যাবের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তাকে।

এক সাংবাদিক জয়শঙ্করের কাছে জানতে চান, ভারত কীভাবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দেওয়ার আগেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।

জয়শঙ্কর তখন বলেন, আমার মনে হয়, এই প্রশ্ন আমাকে নয়, আপনারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে করুন।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ডিসেম্বর মাসে র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক, বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমদসহ বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় যে কোনো আলোচনায় মুখ্য হয়ে উঠছে বিষয়টি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল ঢাকা। ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে টেলিফোনেও এ বিষয়ে আলাপ হয় মোমেনের।

এরপর চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনে ব্লিংকেনের সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে র‌্যাবের ভুমিকার কথা তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তবে নিষেধাজ্ঞা যে এখনই উঠছে না, সেটাও পরে বলেছিলেন।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আমরা ভারত সহযোগিতা চেয়েছি।

আপনারা জানেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কমিউনিটি অনেক শক্তিশালী। তারা অনুরোধ করেছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার। আমরা অনুরোধ করেছিলাম তাদেরকে।

তৃতীয় কোনো দেশের এমন সহযোগিতা চাওয়ার সমালোচনায় বিএনপি বলছে, এটা সরকারের ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির’ প্রকাশ।