শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 311

এবার বেআইনি অর্থ লেনদেনে অভিযুক্ত শিল্পার স্বামী রাজ

পর্নো ভিডিও তৈরির মামলায় বেশ কিছু দিন কারাভোগ করেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজকুন্দ্রা।

এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি ভারতে। স্বামীর এই পর্নোকাণ্ডে আদালত আর থানায় চক্কর কাটতে কাটতে নাজেহাল হন শিল্পাও।

সেই ধকল যেতে না যেতেই এবার বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগের মুখে পড়লেন রাজকুন্দ্রা।

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) শিল্পার স্বামীর নামে মামলা করেছে।

ব্যবসায়ী রাজের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ইডি এ মামলা করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই।

ইডির দাবি, পর্নো ব্যবসায় অবৈধভাবে বহু অর্থ লেনদেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন রাজকুন্দ্রা। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে রাজের বিরুদ্ধে এক হাজার ৫০০ পাতার একটি চার্জশিট পেশ করেছে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ।

গত বছরের জুলাই মাসে পর্নো ছবি বানানোর অভিযোগে রাজকে গ্রেফতার করেছিল মুম্বাই পুলিশ। সেই মামলার সূত্রেই এসেছে বেআইনি অর্থ লেনদেনের এই অভিযোগ।

রাজের বিরুদ্ধে সে মামলায় অভিযোগ, পর্নো ছবি বানানোর পাশাপাশি তিনি তা বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন মোবাইল ফোনে।

পর্নো ছবি বানানোর মামলায় রাজ জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলের বাইরে আছেন।

বাজেট অধিবেশন বসছে ৫ জুন

একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন আগামী ৫ জুন শুরু হবে। ওই দিন বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।সাধারণত বছরের মাঝামাঝি এ অধিবেশনে জাতীয় বাজেট উত্থাপিত হয়। ফলে এ অধিবেশনকে বাজেট অধিবেশন বলা হয়।

বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার পরিচালক মো. তারিক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।‌

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ৫ জুন (রোববার) বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট হবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের চতুর্থ বাজেট। আর আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের ১৪তম বাজেট।

টাকা পাচার বন্ধ ও রেমিট্যান্স বাড়ানো জরুরি

বাজারে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় এর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই মুহূর্তে ব্যাংকে ৯৫ টাকার কম দামে ডলার মিলছে না বললেই চলে।

অর্থচ আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে এর দাম বেড়ে ১০৩ টাকায় উঠেছে। আন্তঃব্যাংকে চলতি অর্থবছরের সাড়ে ১০ মাসে ডলারের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা।

বিদ্যমান ডলার সংকট মোকাবিলার কৌশল নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতিবিদদের অনেকে ডলারের দাম বাড়িয়ে সংকট মোকাবিলার পক্ষে হলেও অনেকেই আবার এর বিরোধিতা করছেন।

অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা ডলারের দাম বাড়ানোর পক্ষে হলেও আমদানিকারকরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষই সংকট মোকাবিলায় টাকা পাচার বন্ধ করা ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকট নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বুধবার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন মতামত দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান ও বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এখন রিজার্ভ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। আগেই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার সিন্ধান্তটি সঠিক ছিল না। এখন তা প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ রিজার্ভ হচ্ছে বিপদের বন্ধু। বর্তমানে ডলার সংকট মোকাবিলা করতে প্রথমে আমদানির ওপর চাপ কমাতে হবে। এ জন্য ডলারের দাম কিছুটা বাড়াতে হবে।

খুব বেশি বাড়ানো যাবে না। তা হলে টাকার মান কমে গিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যাবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমদানিজনিত কারণে এমনেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়বে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেগুলোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি দেশে আসছে।

বাজারে এসে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এলসি মার্জিন আরোপ সঠিক হয়েছে। তবে বিলাস বহুল ও একেবারেই অপ্রেয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরও কঠোর মার্জিন দেওয়া যেতে পারে। এসব পণ্য আমদানিতে ব্যাংক ঋণও বন্ধ করা যেতে পারে। এসব উপকরণ এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োগ করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত আগস্ট থেকেই রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স কমছে। ওই সময়ে সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। নজরদারি বাড়াতে হবে দেশ থেকে আমদানির নামে টাকা পাচার হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে। টাকা পাচার হলে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে। আমদানি, রপ্তানি, হুন্ডি যে কোনোভাবেই টাকা পাচার হোক না কেন তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রথমত হুন্ডি চ্যানেলটি কমিয়ে আনতে হবে। দেশে এবং বিদেশে দুইভাবেই কাজ করতে হবে। দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে রেমিট্যান্স পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে যেসব স্থানে বাংলাদেশি বেশি সেখানে দেশের ব্যাংকের সেবা প্রসারিত করতে হবে। হুন্ডিতে রেমিট্যান্স আসার একটি অন্যতম কারণ বিদেশে ব্যাংকিং সেবার অপ্রতুলতা। ব্যাংক ও কার্ব মার্কেটের মধ্যে ডলারের দামে ব্যবধান কমাতে হবে। বর্তমানে ব্যাংকের চেয়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি। এই ব্যবধান কমাতে হবে। এ জন্য কার্ব মার্কেটের সংকোচন ও প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকে ডলারের দামে কিছু সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা সম্ভব হলে সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।

রপ্তানি আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমদানি ও রপ্তানির মধ্যকার ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। একেবারে সব সময় এ ঘাটতি বাড়তেই থাকবে এমটি কেন হবে? ঘাটতি কমাতে হবে। এ জন্য রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি যেসব পণল্য রপ্তানি হচ্ছে সেগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। করোনার আগেও অনেক রপ্তানি আয় দেশে আসেনি। করোনার কারণে এ আয় দেশে আনার সময়সীমা বাড়ানোর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে কম। এখানেও তদারকি বাড়াতে হবে। এর বাইরে বিদেশি বিনিয়োগ একেবারেই কম। এটি বাড়াতে হবে। এ জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেগুলো কতটুকু নেওয়া সম্ভব তাও দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় আমদানির মাধ্যমে দেশে মূল্যস্ফীতি আসছে। এ অবস্থায় ডলারের দাম বাড়ানো হলে আমদানি পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। তখন দুই দিক থেকে মূল্যস্ফীতি হবে। এক. আমদানি পণ্যেও দাম বাড়া ও দুই. ডলারের দাম বাড়ায় টাকার মান কমার কারণে। এছাড়া আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে যেসব পণ্য উৎপাদিত হবে সেগুলোর দামও বাড়বে। ফলে খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে। আগে দেখতে হবে বাজার কী বলে? বাজারের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি কোথায়? কীভাবে তা মেটানো যায়। মুদ্রা বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলেও আসলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হবে। আর এক্ষেত্রে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রবাসীরা লাভবান হলেও মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের আয় কমে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন টাকা পাচার বন্ধ করা। তাহলে বাজারে ডলারের সংকট কিছুটা হলেও কমবে। এর বিপরীতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কি করা যায় তা জরুরি ভিত্তিতে ভাবতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বর্তমান সংকটটা শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক। বিশ্বব্যাপী এ সংকট মোকাবিলায় সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। সুদের হার বাড়াচ্ছে। ডলারের দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এ দেশে এগুলো সব প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। কারণ করোনার পর অর্থনীতি এখনো পুরো সচল হতে পারেনি। মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় কম সুদে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে হবে। ডলারের যে সংকট হয়েছে তার পেছনে দুটি কারণ আছে। এক. রেমিট্যান্স কমে যাওয়া ও দুই. আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু পরিমাণগতভাবে পণ্য আমদানি হচ্ছে আগের চেয়ে কম। করোনার সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান যেভাবে কমেছে, বাংলাদেশে তা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে যেমন ডলারের দাম ধরে রেখেছে। তেমনি এখন ডলার ছেড়ে টাকার মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় ডলারের দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে। ডলারের দাম বাড়ালে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা উপকৃত হলেও দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির হার বাড়লে পরোক্ষে তারা ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছে। আবার ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পণ্যের দাম বেড়ে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সবার স্বার্থ রক্ষা করে সামনে এগুতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে যদি টাকা পাচার হয় তা হবে আত্মঘাতী। এটি বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, রপ্তানিকারকরা বৈদেশিক লেনদেনের পুরোটাই ডলারে করেন। ফলে ডলারের দাম বাড়লে তাদের যে খুব বেশি লাভ হয় তা নয়। শুধু স্থানীয় মুদ্রায় যে অর্থ খরচ করেন তাতে বাড়তি অর্থ পাওয়া যায়। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় এখন ব্যয়ও বেড়েছে। আগে ১০০ ডলার দিয়ে যে কাঁচামাল আমদানি করা যেত, তা এখন আনতে লাগছে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। কিন্তু রপ্তানি পণ্যের মূল্য বাড়েনি। ফলে রপ্তানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো যাচ্ছে না। সংকটটা মূলত এ কারণে। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে এখন বড় আকারে এলসি খোলা যাচ্ছে না। ঋণের কোটা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে অনেক ক্রেতা সংকটে পড়েছেন। তাদের কাছ থেকে রপ্তানি আয় দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে ব্যাংকে ঋণের কিস্তি না দিলে খেলাপি হতে হচ্ছে। চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে রপ্তানিকারকরাও। এ সংকট মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমাতে হবে। রেমিট্যান্স বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

আসুন, সরকার পতনের পর দর কষাকষি থাকলে দেখা যাবে: অলিকে গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে আসতে হবে। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলিকেও অনুরোধ করব, আসুন- এক কাতারে, একসুরে পথ চলি। আমরা জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে চাই। তাই এমন কিছু করা চলবে না, যেন আমাদের মাঝে বিভক্তি তৈরি হয়।’

‘আমাদের একটাই শর্ত- এই সরকারের পতন। সরকারের পতনের পর যদি কোনো দর কষাকষি থাকে, সেটা দেখা যাবে। কিন্ত আমাদের সরকার পতনের আন্দোলনে এক থাকতে হবে।’

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের মুক্তির দাবিতে গণতান্ত্রিক যুবদল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জাতীয় সরকার রূপরেখার দিকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি অনেকে অনেক সরকার বানানোর কথা বলছেন। তাদের বলব, তার আগে তো শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে। এই সরকারকে বিদায় না করে কীভাবে আরেকটি সরকার হবে? বরং বর্তমানে যে ফ্যাসীবাদী সরকার ক্ষমতায় আছে তারাই লাভবান হবে। তাই আসুন, ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের বিদায় করি।’

এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদসহ মিথ্যা মামলায় বন্দি সব রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান গয়েশ্বর। তিনি বলেন, রেদোয়ান আহমেদও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কর্মী।

গণতান্ত্রিক যুবদলের আহ্বায়ক আমান সোবহানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, অ্যাডভোকেট ড. আওরঙ্গজেব, অ্যাডভোকেট মাহমুদ মোর্শেদ, কেকিউ স্যাকলাইন, ভাইস প্রেসিডেন্ট খাইরুল কবির পাঠান, মাহে আলম চৌধুরী, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের খালিদ বিন জসিম, গণতান্ত্রিক কৃষক দলের এবিএম সেলিম, গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট নিগু প্রমুখ।

কর্নেল অলির এলডিপির একাংশের নেতা আব্বাসী স্বীকৃতির জন্য ইসিতে

নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা রেখে সমমর্যাদায় স্বীকৃতি দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আবদুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিম নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ বিষয়ে চিঠি পৌঁছে দেন তারা।

এ প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, আমরা চিঠি পৌঁছে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত সব পত্রালাপ ও যোগাযোগ আমাদের সঙ্গে করার জন্য কমিশনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করছি, কমিশন এখন আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাদের কথা শুনবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বরাবর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। দলের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে এলডিপি। সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল করিম আব্বাসীর নেতৃত্বে এ আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।

চিঠিতে আরও উল্লে­খ করা হয়, এলডিপি যথারীতি নিয়মিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলের মূল স্রোত এবং নেতাকর্মী-অনুসারীরা আব্বাসী ও সেলিমের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। এ অবস্থায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মূল অংশ হিসেবে আমাদের সঙ্গে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুরোধ জানাই।

একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা রেখে আবদুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিম নেতৃত্বাধীন এলডিপিকে সমমর্যাদায় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।

নেশার ইনজেকশনসহ ৮৭ জনকে গ্রেফতার

বিপুল ইয়াবা বড়ি, নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ২৮৬৭ পিস ইয়াবা বড়ি, ১২১ কেজি ৭৪৫ গ্রাম ৬০ পুরিয়া গাঁজা, ১২৩ গ্রাম ১০৫ পুরিয়া হেরোইন, ৩ বোতল ফেন্সিডিল ও ১০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬৯টি মামলা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আব্দুল আজিজ ওরফে হাবুলসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- আবু আহমেদ জমাদার ও কে এম হাফিজুল আলম।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন- মো. আব্দুল মতিন (পলাতক) ও আব্দুল মান্নান ওরফে মনাই।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ে ২৪০ পৃষ্ঠার মধ্যে সারসংক্ষেপ অংশ পাঠ করা হয়। সকাল ১০টা থেকে রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এরপর রায় পড়েন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার এবং সর্বশেষ দণ্ডসহ মূল রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন- আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- সৈয়দ হায়দার আলী, প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত, ঋষিকেশ সাহা, সুলতান মাহমুদ সীমন, সাহিদুর রহমান, জাহিদ হাসান, সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি, রাজিয়া সুলতানা চমন, ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল, মোসফেকুর রহমান ও তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম সানাউল হক।

যে শর্ত না মানলে টুইটার কিনবেন না ইলন মাস্ক

নানা জল্পনার পর জনপ্রিয় খুদে ব্লগিং সাইট টুইটার কিনে নেওয়ার ঘোষণা দেন টেসলা মালিক ইলন মাস্ক। তবে হঠাৎ করেই গত শুক্রবার টুইটারের সঙ্গে ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেন তিনি।

এবার এ মার্কিন ধনকুবের জানালেন, শর্ত না মিললে টুইটার কিনবেন না তিনি। এছাড়া যে পরিমাণ অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা কমানোর ইঙ্গিতও দেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইলন মাস্কের শর্ত হচ্ছে – টুইটারে স্প্যাম বট (ভুয়া রোবোটিক অ্যাকাউন্ট) মোট ব্যবহারকারীর ৫ শতাংশের কম থাকার বিষয়টির প্রমাণ দিতে হবে। তবেই টুইটার কিনবেন তিনি।

এক টুইটে মাস্ক বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) পুঁজিবাজারে টুইটারের শেয়ারের দামের ওপর ভিত্তি করে এটি কেনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে টুইটারের প্রধান নির্বাহী জনসমক্ষে এ প্ল্যাটফর্মে থাকা ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তথ্য জানাতে অসম্মতি জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ৫ শতাংশ ভুয়া অ্যাকাউন্ট থাকার দাবি করেছে। তবে তারা এর প্রমাণ যতক্ষণ না হাজির করবে, ততক্ষণ চুক্তি সামনে এগোবে না।’

গত সপ্তাহে টুইটারের ভুয়া অ্যাকাউন্ট–সম্পর্কিত তথ্য হাতে না পাওয়ায় এটি কেনার বিষয়টি স্থগিত করেন মাস্ক।

সে সময় এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, স্প্যাম/জাল অ্যাকাউন্ট প্রকৃতপক্ষে ৫% এরও কম ব্যবহারকারীর প্রতিনিধিত্ব করে এমন হিসাব সমর্থন করে টুইটার চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মাস্কের ওই ঘোষণার পর প্রিমার্কেট ট্রেডিংয়ে টুইটারের শেয়ার ২০% কমে যায়।

এদিকে মঙ্গলবার ইলন মাস্কের টুইটের মধ্যেই টুইটারের শেয়ারের দাম আরও ৩ শতাংশ পড়ে গেছে।

টুইটারের প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩১ মার্কিন ডলার। এর আগে ইলন মাস্ক টুইটারের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫৪ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়ায় এখন আর আগের দামে তিনি টুইটার কিনবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

নর্থ সাউথের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের দাবি

প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা লোপাটের মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তরা এ দাবি জানান। আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে ফাউন্ডেশনের উপদেষ্ঠা ড. সুফী সাগর সামস বলেন, মূলত আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের কারণেই নর্থ সাউথ পরিণত হয়েছে দুর্নীতি-অনিয়ম ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে। তাই এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অভিযুক্ত প্রত্যেকেই সমাজের প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এ কারণেই তাদের গ্রেফতারে এমন গড়িমসি চলছে। এদের গ্রেফতার করা না হলে নর্থ সাউথের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তারা যেন বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ট্রাস্টি আজিজ আল কায়সার টিটোও এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা এমএ হাসেম নর্থ সাউথে থাকাকালেই এই সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন। টিটোও এর বাইরে নন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে আজিজ আল কায়সার টিটোকে মামলার আসামি করা হয়নি। আজিজ আল কায়সার টিটোর মতো আরও যারা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আজিজ আল কায়সার টিটোর সিঙ্গাপুরে বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাবও নেওয়ার জন্য তিনি দুদকের প্রতি জোর দাবি জাানান।

মানববন্ধনে বক্তরা জানান, লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, সিন্ডিকেট আর জঙ্গিবাদে পর্যুদস্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর জীবন। এতো বেশি অনিয়মের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানও ক্রমেই নিম্নমুখী। কিছু হীন কাজের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করছে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সংবাদপত্র (গণমাধ্যম) কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার, বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম পাটোয়ারি, সাংবাদিক নেতা কালিমুল্লা ইকবাল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৫ মে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অপর আসামিরা হলেন- বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম. এ. কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিন মো. হিলালী।

মামলায় বিশ্ববিদ্যায়ের সিন্ডিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থাৎ সরকারের সুপারিশ/অনুমোদনকে পাশ কাটিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের কিছু সদস্যের অনুমোদনের মাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্টের নামে ৯ হাজার ৯৬ দশমিক ৮৮ ডেসিমাল জমির ক্রয়মূল্য বাবদ ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা অতিরিক্ত অর্থ হস্তন্তর, রূপান্তর, স্থানান্তর ও গোপন করার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির আরও অভিযোগ রয়েছে। সেসব অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

দেশের সব মাদ্রাসায় নামফলক ঝোলানোর নির্দেশ

দেশের সব মাদ্রাসায় নামফলক ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দেশের অনেক মাদ্রাসা ভবনে নাম-ঠিকানা সম্বলিত কোনো নামফলক না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান জানতে বা পরিদর্শনে সমস্যা হয়। যে কারণে এমন নির্দেশনা এলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিক-নির্দেশক বা সাইনবোর্ড দৃশ্যমান স্থানে থাকলেও অধিকাংশ মাদ্রাসায় তা দেখা যায় না। নামফলক না থাকা এসব মাদ্রাসায়পরিদর্শন অথবা দাপ্তরিক প্রয়োজনে সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে।

একারণে দেশের সব কামিল/ফাজিল/আলিম/দাখিল/এবতেদায়ী মাদরাসার মূলভবন ও প্রবেশপথে নাম-ঠিকানা সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝোলাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বড় রাস্তার পাশে কিংবা দৃশ্যমান স্থানে দিক-নির্দেশক চিহ্নসহ মাদরাসার নাম-ঠিকানা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।