বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 296

শর্তের মারপ্যাঁচে করপোরেট কর

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হচ্ছে। এই ছাড় পেতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরের কোম্পানিগুলোকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে কর হার কমার পরিবর্তে ক্ষেত্রবিশেষে আড়াই শতাংশ বাড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগামী বাজেটে এটি কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হচ্ছে-যেসব কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে তারাই শুধু এ সুবিধা পাবে। আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে-বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া থাকলেও ওই কোম্পানিকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হবে। অন্যদিকে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের কম শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়েছে তাদের কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশই অপরিবর্তিত থাকছে। উলটো বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে না করলে অথবা ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির করপোরেট কর হবে ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ করপোরেট কর বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, হ্রাসকৃত কর সুবিধা নিতে চাইলে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার যে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, সেটা যৌক্তিক। যে কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া নেই, সেটা নন-লিস্টেডের মতোই। কিন্তু দ্বিতীয় শর্ত একেবারেই অযৌক্তিক। এমন অনেক কোম্পানি আছে যাদের বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ছোটখাটো অনেক কাজের বিল নগদে পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও অনেক কাজে নগদ লেনদেন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ১২ লাখ টাকার যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, তা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। এ শর্ত রাখা সঠিক হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এ শর্ত রাখা হলে কোম্পানিগুলো কর ছাড়ের সুফল ভোগ করতে পারবে না।

এছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকা কোম্পানির করপোরেট কর কমানো হচ্ছে। বর্তমানের ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে কর হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও শর্ত পূরণ করতে হবে। বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে না করলে অথবা ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির করপোরেট কর ৩০ শতাংশই থাকবে। একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) ক্ষেত্রেও একই শর্ত দিয়ে করপোরেট আড়াই শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানি কর ২৫ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নগদ ব্যয়ের যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা হয়নি। কারণ এক হাজার কোটি টাকার কোম্পানি এবং এক কোটি টাকার কোম্পানির নগদ ব্যয়ের সীমা কখনোই এক হতে পারে না। এক্ষেত্রে কোম্পানির আকারের ওপর ‘শতাংশ’ হিসাবে শর্ত বেঁধে দেওয়া উচিত ছিল।

বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের কর হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত ব্যাংকের কর হার ৪০ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের কর ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও তামাক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর ৪৫ শতাংশ। মোবাইল অপারেট কোম্পানির কর তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত হলে ৪৫ শতাংশ কর দিতে হয়। সমবায় প্রতিষ্ঠান (কো-অপারেটিভ সোসাইটি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের কর ১২ শতাংশ। এর বাইরে তৈরি পোশাক খাতের সবুজ প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ ও সাধারণ প্রতিষ্ঠানের কর ১২ শতাংশ। টেক্সটাইল শিল্পের করপোরেট কর হার ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বহাল রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতে চলতি (২০২১-২২) বাজেটে কর ছাড় সুবিধা দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটেও প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কঠিন শর্তের বেড়াজালে এ সুবিধা নিতে পারেনি কোন প্রতিষ্ঠানই। তাই আগামী বাজেটে শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান মোট জনবলের ১০ শতাংশ অথবা ১০০ জনের বেশি হিজড়াকে চাকরি দিলে কোম্পানির প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা হিজড়াদের দেওয়া মোট বেতনের ৭৫ শতাংশ কর ছাড় পাবে। অথচ শ্রমিক হিসাবে দক্ষ হিজড়া বা প্রতিবন্ধী না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দিতে পারেনি। আবার অনেকে নিয়োগ দিলেও শর্ত পূরণ না করায় কর ছাড় পায়নি।

রিজওয়ান রহমান বলেন, উদ্যোক্তারা হিজড়া ও প্রতিবন্ধীদের চাকরি দিতে চায়। কিন্তু তাদের দক্ষ শ্রমিক হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ। আবার বাজেটে কর ছাড়ের সুবিধার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা কারও পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব নয়। মোট জনবলের ১০ শতাংশ হিজড়া বা প্রতিবন্ধীকে নিয়োগ দেওয়া কী কোনো কোম্পানির পক্ষে আদৌ সম্ভব! সত্যিকার অর্থে হিজড়াদের মূলধারায় আনতে চাইলে ১০০ জন বা ২৫ জনের শর্ত তুলে দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যতজন হিজড়াকে নিয়োগ দেবে, তাদের বেতনের একটি অংশ কর ছাড় দিলেই শুধু উদ্যোক্তারা হিজড়া চাকরি দিতে উৎসাহ পাবে।

বৈদেশিক এলসির দেনা ১০০৩২ কোটি টাকা

করোনার নেতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক ব্যবসাবাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈদেশিক ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসির বকেয়া দেনা বেড়েই চলেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এ খাতে আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এই খাতে দেনা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০২০ সালে ডিসেম্বরে দেনা ছিল ৫৭ কোটি ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ডলারে বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার ৩২ কোটি টাকা। আলোচ্য এ বছরে শুধু একটি খাতেই দেনা বেড়েছে ৫৭ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, এসব দেনা ছাড়াও করোনার কারণে যেসব বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলোও রয়েছে। বর্তমান ডলার সংকটের কারণে বৈদেশিক ঋণ ও এলসির দেনার কিছু কিস্তি বৈদেশিক ব্যাংক বা গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। আর যেসব কিস্তি পরিশোধ করার মতো, সেগুলো পরিশোধ করে দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে বৈদেশিক ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসির বকেয়া কিস্তির একটি অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধিত হয়েছে। তবে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আরও ৮ কোটি ডলারের এলসির দেনা নতুন করে বকেয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তবে করোনার পর বকেয়া বৈদেশিক এলসির দেনা যেভাবে বাড়ছিল, সেই গতি কমে এসেছে। আগে প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় ২০ কোটি ডলার করে বাড়ত। গত জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ৪ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে বেড়েছে ১৫ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বকেয়া এলসির দেনা আরও কমে যেত, কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি আবার মন্দায় আক্রান্ত হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব কারণে সব দেশই সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানির নতুন আদেশ কম আসছে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে আগের রপ্তানি আয়ও দেশে আসার প্রবণতা একটু কমেছে। যে কারণে বকেয়া এলসির দেনা পরিশোধের গতি একটু মন্থর হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বকেয়া বৈদেশিক এলসির সবই রপ্তানি খাতের। রপ্তানির আদেশের বিপরীতে এসব এলসি খোলা হয়েছে। ফলে রপ্তানি আয় দেশে এলে আগে ব্যাংক ওই এলসির দেনা সমন্বয় করছে। কিছু ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় দেরিতে এলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় যে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, তা থেকে ওই দেনার কিস্তি পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো দেনাই শর্তের বাইরে গিয়ে অপরিশোধিত থাকেনি। তবে ওই বাড়তি দেনা রপ্তানি আয় না আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সংকট দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কারণ যুদ্ধের উত্তেজনা কমতে শুরু করেছে। করোনার আঘাতও এখন আর নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তখন রপ্তানি আয়ও দেশে আসার হার বাড়বে। এলসির দেনাও পরিশোধিত হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক এলসির পুরোটাই রপ্তানি খাতের এলসির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানি করা হয়েছে। যে কারণে এ খাতে ঝুঁকি কম। দেনা বৃদ্ধির হারও কমতে শুরু করেছে।

বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক এলসির গত বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা বাড়ার হার কমছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেনা ছিল ৫৭ কোটি ডলার। গত বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। ওই তিন মাসে বেিেছল ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলার বা ২৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুনে বকেয়া এলসির দেনা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ কোটি ডলারে। মার্চের তুলনায় জুনে বেড়েছে ২২ কোটি ডলার বা ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জুন পর্যন্ত বাড়ার পর সেপ্টেম্বর থেকে কমতে শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরে এলসির বকেয়া দেনা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলারে। ওই সময়ে বাড়ে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। বৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪ কোটি ডলারে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর-এই তিন মাসে বেড়েছে ১৫ কোটি ১২ লাখ ডলার। বৃদ্ধির হার সাড়ে ৬ শতাংশ।

সূত্র জানায়, রপ্তানির বিপরীতে বৈদেশিক ব্যাক টু ব্যাক এলসি ছাড়াও স্থানীয় কিছু ব্যাক টু ব্যাক এলসির দেনা এখনো বকেয়া রয়েছে। এগুলো স্থানীয় টেক্সটাইল মিল বা অন্যান্য কারখানা থেকে ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে পণ্য কেনা হয়েছে। রপ্তানি আয় দেশে না আসায় ওইগুলোর দেনাও শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনার নেতিবাচক প্রভাব এখনো কাটেনি। এর মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে যুদ্ধের প্রভাব। এ কারণে রপ্তানি আয় কম আসছে। যেজন্য কিছু এলসির দেনা বকেয়া রয়েছে। রপ্তানি আয় এলেই আগে এগুলোর দেনা সমন্বয় করছে ব্যাংক।

‘স্বাধীন বাংলাদেশে খুনিদের রাজনীতি করার অধিকার নেই’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেছেন, যারা ৭৫’র হাতিয়ার গর্জে ওঠোর আরেকবার স্লোগান দেয় তাদেরকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। ওরা খুনি চক্র, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। স্বাধীন বাংলাদেশে খুনিদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

রোববার পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ভার্চুয়াল যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এসএম কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি করেছেন। এতিমের অর্থ আত্মসাত করে মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপির আরেক নেতা তারেক রহমান মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে বিদেশ বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে তারা লাশ ফেলার রাজনীতি করছে।

সে কারণে অছাত্র, বহিরাগতদের দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা করার চেষ্টা করছে। তারা স্লোগান দেয় ৭৫’র হাতিয়ার গর্জে ওঠোর আরেকবার’। এরা ঘাতক চক্র। এদের রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই।

বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ আব্দুল আওয়াল শামীম ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি প্রমুখ।

সম্মেলনের মাধ্যমে পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হিসেবে বেড়া পৌরসভার মেয়র এস এম আসিফ শামস রঞ্জন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রভাষক আবু সাঈদ।

শীর্ষ দুই পদ পেতে অনড় ৩১ জন, যে সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সম্মেলন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩১ জন পদপ্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা নিয়ে অনেকটা অনড় ছিলেন। তারা সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচনে একমত হতে না পারায় কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ।

এর আগে বিকাল ৫টায় হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটির জন্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে বলা হয়। এতে সভাপতি পদের জন্য ৯ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ২২ জনের আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এছাড়াও গত ১০ মে আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল এবং শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। ১৪ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত জীবনবৃত্তান্ত জমা নেওয়া হয়।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে যুুবলীগ চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেন। তারপর একে একে দুই শীর্ষ পদপ্রার্থীদের নাম তাদের নিজেদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রস্তাব ও সমর্থন করেন। এরমধ্যে সভাপতি পদে ৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২৪ জনের নাম ওঠে আসে। এ সময় উত্তর জেলার সাতটি উপজেলার ১৭৫ জন (প্রতি থানায় থেকে ২৫ জন করে) এবং উত্তর জেলা যুবলীগের বিলুপ্ত কমিটির ৭১ জনসহ মোট ২৪৬ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একে একে দুই শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সব প্রার্থীকে নাম ধরে ডাকলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং তাদের নাম, ঠিকানা, বয়স, পেশাসহ নানা প্রশ্নের সম্মুখীন করা হয় প্রার্থীদের।যেন ছোটখাটো একটা সাক্ষাৎকার। নাম-পরিচয় সবই তিনি টুকে নেন। এসবের পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার মাধ্যমে নাম প্রত্যাহারের জন্য প্রার্থীদের নির্দিষ্ট করে সময় দেন পরশ।তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা অনড় থাকেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থিত থাকা কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী জানান, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনড় থাকায় যুবলীগ চেয়ারম্যান তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা একমত হতে পারলেন না কে হবেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক। আমার ওপর আপনাদের আস্থা আছে? এ সময় হলভর্তি কাউন্সিলর ও প্রার্থীরা চিৎকার করে সমর্থন দেন।’

পরে ফিরতি কথায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘তাহলে শিগগিরই আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব, কে সভাপতি, কে সাধারণ সম্পাদক।’

সূত্র জানায়, উত্তর জেলা কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা তিন ডজনের মতো নেতাকর্মী। সভাপতি পদে আছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদুল আলম, বর্তমান সহসভাপতি নুরুল মোস্তফা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিবুল আহসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার করিম, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল বশরসহ ৯ জন।

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুর আলম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তৈয়ব, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সামশুদোহা সিকদার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি এসএম আল নোমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রাশেদ খান মেননসহ ২২ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

‘নিম্নমানের কাজ করলে কোনো ছাড় নয়’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, সব প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অজুহাত দিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কাজ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে রোববার আয়োজিত ‘এলজিইডির উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, টেকসই ও মানসম্মত কাজ করে দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রোল মডেল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকল্প পরিচালকদের নিয়মিত সাইট ভিজিট, কাজের গুণগত মান যাচাই-বাছাই এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য সব স্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। এজন্য নির্মাণ সামগ্রীর গুণগতমান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। ইতোমধ্যে ইটের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কোনো ইটভাটার মালিক যদি গুণগত মানসম্পন্ন ইট উৎপাদন না করে তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের শুধু শাস্তি দিলে হবে না, যারা ভালো কাজ করবে তাদের পুরস্কৃত করতে হবে। নতুবা ভালো কাজে আগ্রহী হবে না। দক্ষ জনবল তৈরি করতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে হলে দক্ষ জনবল বিকল্প নেই।

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, মন্ত্রী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সৌধ’ এর উদ্বোধন করেন।

‘পদ্মা সেতু’ নাম চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি

পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ‘পদ্মা সেতু’ নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার সেতু বিভাগের উন্নয়ন অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে পদ্মা সেতু নামটি চূড়ান্ত করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘সেতু বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা প্রান্ত সংযোগকারী পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি সরকার ‘পদ্মা সেতু’ নামে নামকরণ করলেন।’

রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সেতু বিভাগের উপসচিব মো. আবুল হাসানের সই করা গেজেটে আরও বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

এর আগে গত ২৪ মে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ্মা নদীর নামেই সেতুর নামকরণ করা হবে। আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যেই সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। জোরোশোরে এগিয়ে চলছে সেতুকে যান চলাচলের সম্পূর্ণ উপযোগী করার কাজ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে সেতু বিভাগ বেশ কিছু উপকমিটি গঠন করেছে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় ভাষণ দেবেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে থেকেই এ প্রকল্প দেশে-বিদেশে আলোচিত হয়। এজন্য অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা সরাসরি ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানে যানবাহনকে ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিতে হয়।

মেধাবীদের মাঝে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

শরীয়াহ্ ও আধুনিক ব্যাংকিং-এর অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরিচালিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করে আসছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ২৮ মে, শনিবার ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এ বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের সনদপত্র প্রদান করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সেলিম রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফরমান আর চৌধুরী।
এছাড়া বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ লাবু, আলহাজ্ব আব্দুল মালেক মোল্লা, আলহাজ্ব হাফেজ মোঃ এনায়েত উল্লা, আলহাজ্ব নিয়াজ আহমেদ, আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, আলহাজ্ব মোঃ লিয়াকত আলী চৌধুরী, আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ হারুন-অর-রশিদ খান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী, বর্তমান উপব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ, গণ্যমান্য অতিথিবর্গসহ ব্যাংকের নির্বাহীগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক কর্মকাÐ পরিচালনা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি বছর নতুন করে ২০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে চার বছরের জন্য এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। আর নতুন ও পুরনো মিলে প্রতি বছর আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের আওতায় মোট ৮০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রায় ৪ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে মাসিক ৩,৫০০/- (তিন হাজার পাঁচশত) এবং এককালীন ৮ (আট) হাজার টাকা করে বৃত্তি পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গভর্নর ফজলে কবির আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও যুগোপযোগী সামাজিক বিকাশে মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ন ধাপ; সভ্যতার মহাসড়কে উঠার উত্তম পথ। বর্তমান সরকার জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা তথা মানবসম্পদ উন্নয়নকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন পনিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এজন্য আজকের তরুন শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক যতœ ও রক্ষণাবেক্ষণ একান্ত প্রয়োজন। দারিদ্র ও নানাবিধ প্রতিকূলতায় আমাদের অনেক মেধাবী অকালেই ঝরে যায়। আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যাতে অঙ্করেই ঝরে না পড়ে সেজন্য আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি নিঃসন্দেহে একটি যথার্থ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সেলিম রহমান বলেন, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাÐ পালন করে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফরমান আর চৌধুরী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এ বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশ ও জাতির উন্নতিতে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

জালাল আহমেদ
হেড অব পাবলিক রিলেশন্স

হজের খরচ বাড়ল ৫৯ হাজার টাকা

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের খরচ আরও ৫৯ হাজার টাকা বেড়েছে। সৌদি আরবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য এ খরচ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর ফলে সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজ দাঁড়ালো ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা। আর সর্বনিম্ন বেসরকারি প্যাকেজ বেড়ে দাঁড়ালো ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা।

গত ১১ মে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক জানিয়েছিলেন, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সর্বনিম্ন প্যাকেজ চার লাখ ৬২ হাজার টাকা (প্যাকেজ-২) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রীরা মক্কার মসজিদুল হারামের এক হাজার ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, এ বছর সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হলো। প্যাকেজ-১ এ হজে যেতে পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা খরচ হবে। এই প্যাকেজের যাত্রীরা মসজিদুল হারামের এক হাজার মিটার দূরত্বের মধ্যে থাকবেন। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে একটি প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা।

এর সঙ্গে প্রত্যেককে ৫৯ টাকা বেশি দিতে হবে।

এ টাকা গ্রহণের জন্য ২৮, ২৯ এবং ৩০ মে সময় নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে আগামী শনিবার দেশব্যাপী তফসিলি ব্যাংকগুলো খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

`পর্তুগালে অভিবাসনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে’

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম এমপি পর্তুগালে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর করছেন। একটি অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু পর্তুগালের জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঋণাত্বক, সেহেতু এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসন বিষয়ে পরবর্তী আলাপ-আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে রাখতে হবে।

তার এ সফরে তিনি দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়সহ অভিবাসন, শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতার অবসান এবং বাংলাদেশ পর্তুগিজ দূতাবাস বা কনস্যুলার সেবা চালু করাসহ দেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

গত ২৭ মে শুক্রবার রাজধানী লিসবনের মাকাউ কালচারাল সেন্টারে সফররত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ফ্রান্সিস্কো আন্ড্রে, পর্তুগালে বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি পর্তুগিজ গবেষক জোসেফ মাপরিল, পর্তুগালে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জনাব তারিক আহসানসহ পর্তুগালের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে দ্বিপাক্ষিক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

উক্ত সেমিনারে পর্তুগিজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং এশিয়া বিষয়ক পরিচালক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এ সফরকে একটি মাইলফলক এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন এবং পর্তুগিজ সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্জন সকলের সামনে তুলে ধরেন একই সাথে দু’দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহকারে সামাজিক সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক মনোভাব উপস্থাপন করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পর্তুগাল সরকার বাংলাদেশের উন্নতি প্রত্যক্ষভাবে খেয়াল করছে এবং এই বিষয়টি আমাদের বিভিন্ন বৈঠকে তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন এবং আজকের সেমিনারে আপনারা পর্তুগালের পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য থেকে তা জানতে পেরেছেন। আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে অনেক আলাপ আলোচনা হয়েছে, পর্তুগিজ সরকারের পক্ষ থেকে খুবই ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে এবং সম্পর্ক উন্নয়নে তারা খুবই আগ্রহী এখন আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মূল বিষয়গুলো সমাধান করার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গত ২৫ মে রাষ্ট্রীয় সফরে পর্তুগালে আগমন করেন । এটি পর্তুগাল এবং বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে শীর্ষপর্যায়ের প্রথম রাষ্ট্রীয় দ্বিপাক্ষিক সফর। তিনি জানান আগামী ৩০ মে পর্তুগিজ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে; উক্ত বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

এশিয়ার ইউরোপ ‘কম্বোডিয়া’

ভৌগোলিকভাবে কম্বোডিয়া হলো এমন একটি দেশ, যার সাথে রয়েছে বাংলাদেশের অনেক সাদৃশ্য। যেমন কম্বোডিয়াতে রয়েছে সুউচ্চ পাহাড়, ঠিক তেমনি রয়েছে নীল জলরাশি, আমাদের কক্সবাজার এবং বান্দরবানের মতো।

সংস্কৃতি
কম্বোডিয়ার সংস্কৃতি এবং আমাদের দেশের সংস্কৃতি যেন একই সুতোয় গাঁথা, হবেই তো- কারণ এই দুই জাতিই সংস্কৃত থেকে এসেছে। আমাদের মতো কম্বোডিয়ানদেরও প্রধান খাদ্য ভাত।

ঐতিহ্য
পৃথিবীতে সবচাইতে বড় বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরটি (এঙ্কর ওয়াট) কম্বোডিয়ায় অবস্থিত। এঞ্জেলিনা জোলি অভিনীত টম রাইড়ার ছবিটির শুটিং হয়েছিল কম্বোডিয়ার এঙ্কর ওয়াটে।

আমাদের ১৯৭১ সালের মতো তাদেরও রয়েছে বিভীষিকাময় অধ্যায় (খামার রুজ শাসনামল জেনোসাইড)।

এতকিছুর পরেও কম্বোডিয়া আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কম্বোডিয়াতে স্থাপিত হচ্ছে বিশ্বের নবম বৃহত্তম বিমানবন্দর।

কম্বোডিয়ার রাজধানীর নাম নম পেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর হচ্ছে সিয়ানুক‌ভিল। ক্যাসিনোর সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো শহর। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই সিয়ানুক‌ভিল হতে যাচ্ছে আরেকটি ইকোনমিক জোন। চীনা বিনিয়োগের সহায়তায় এ শহরটি হতে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর পরিকল্পিত শহরগুলোর একটি। এখানে গড়ে উঠেছে বড় বড় শপিং মল, ফাইভ স্টার হোটেল। সমুদ্রের পাশে অবস্থিত শহরটিতে রয়েছে ছবির মতো সুন্দর সৈকত।

কোভিডের থাবায় যখন পুরো বিশ্ব থেমে ছিল তখনো কম্বোডিয়া তার গতি বজায় রেখেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা। চীনা বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি ও ফরাসি, জাপানি, কোরিয়ানসহ বহু দেশের বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করছেন। রিয়াল এস্টেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কৃষি, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে এখানে তৈরি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান। আমাদের দেশের বেকার যুব সমাজের জন্য এ কম্বোডিয়া হতে পারে পরবর্তী গন্তব্য।

কম্বোডিয়াতে ইউএস ডলার ব্যবহৃত হয়। জাতিগতভাবে কম্বোডিয়ানরা আমাদের দেশের মানুষের মতো সহজ-সরল।

কম্বোডিয়া আসিয়ানভুক্ত দেশ হওয়ায় আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য কোনো প্রকার শুল্ক প্রদান করতে হয় না।