সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 270

প্রতিপক্ষের ইশারায় ওমর সানী এসব রটাচ্ছেন: জায়েদ খান

অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের ছেলের বিয়েপরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সিনেপাড়া।

সেই অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের ওপর দীর্ঘদিনের পুষে রাখা ক্ষোভ উগরে দেন আরেক চিত্রতারকা ওমর সানী। জায়েদকে প্রকাশ্যে কষে চড় মারেন। জায়েদও নাকি পিস্তল বের করে গুলি করে দেবেন বলে হুমকি দেন সানীকে।

ঘটনার পরই শিল্পী সমিতিতে জায়েদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ নিয়ে হাজির হন ওমর সানী।

সানীর অভিযোগ, তার সহধর্মিণী মৌসুমীকে গত চার মাস ধরে বিরক্ত করে যাচ্ছেন জায়েদ। তাদের সুখের সংসারে ভাঙনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি।
তবে ওমর সানীর এমন সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন জায়েদ খান।

জায়েদের দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠানে হয়ে যাওয়া পুরো ঘটনাকেই মিথ্যা ও বানোয়াট। ওমর সানী প্রতিপক্ষের ইশারায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন ঘটনা রটাচ্ছেন।

এছাড়া জায়েদ খান মনে করেন, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে ও মৌসুমীকে অসম্মান করছেন ওমর সানী।

জায়েদ বলেন, ‘প্রথমত পিস্তল আমার সঙ্গে ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে— ওখানে কোনো ধরনের অস্ত্র নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। আর ঘরসংসার ভাঙার ইঙ্গিত খুবই খারাপ। এতে মৌসুমীকেও ছোট করা হচ্ছে।’

ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন জায়েদ।

জায়েদ খান বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই নাটক চলছে। তিনি (সানী) যখন দেখেছেন আমি এগুলোর সঙ্গে নেই, তখন ভিন্ন দিকে বিষয়টিকে নিয়ে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না।’

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবার কারণ কী?

জায়েদ বলেন, ‘তার (ওমর সানী) ছেলের রেস্তোরাঁয় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে, তার ছেলে ও সে মিলে অবৈধ ড্রাগের ব্যবসা করে বলে। সেগুলো পুলিশ উদ্ধারও করেছেন। মিডিয়ায়ও এসেছে সেসব ঘটনা। এসবের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে তিনি এলে পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। আসলে শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে মামলার রায় সামনেই। এ জন্যই প্রতিপক্ষের ইশারায় তিনি (ওমর সানী) এমন ঘটনা রটাচ্ছেন।’

মৌসুমী আপার সঙ্গে কথা বললেই সব জানতে পারবেন: জায়েদ খান

চিত্রনায়ক ওমর সানী ও জায়েদ খানের মধ্যকার চড়-পিস্তল ঘটনা নিয়ে ঢালিউডে উত্তেজনার পারদ চরমে।

অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের ছেলের বিয়েপরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জায়েদকে সবার সামনে চড় মারেন ওমর সানী। মেজাজ হারিয়ে নাকি জায়েদ পিস্তল বের করে হুমকি দিয়ে বলেন— গুলি করে দেব।

যদিও জায়েদ বা ডিপজলের পক্ষ থেকে পিস্তল বের করার বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে জায়েদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে হাজির হন ওমর সানী।

সানীর অভিযোগ, বিগত চার মাস ধরে জায়েদ চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে যাচ্ছেন। তাকে ডিস্টার্ব করছেন। যে কারণে গত শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠানে জায়েদ খানকে চড় মেরেছেন তিনি।

তবে মৌসুমীকে ডিস্টার্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। তার ভাষ্যে— সিনেমা-শুটিং নিয়ে মৌসুমীর সঙ্গে প্রায়শই কথা হয় তার। সেটা ডিস্টার্বের মতো কিছু নয়। মৌসুমীর সঙ্গে কথা বললেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এ প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, ‘আমি কখনই তাকে (মৌসুমী) হেয়প্রতিপন্ন করিনি। এটা একদম ভুয়া কথা। এই তো ১৫-২০ দিন আগেও ডিপজল ভাইসহ মৌসুমী আপা মিলে মিটিং করেছি। সেখানে আমাদের কথাও হয়েছে। সম্পর্ক খারাপ হলে মিটিংয়ে আমাদের একসঙ্গে থাকার কথা নয়। এ ছাড়া সিনেমার শুটিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝেমধ্যেই কথা হয়। এ ব্যাপারে মৌসুমী আপার সঙ্গে কথা বললেই সব জানতে পারবেন।’

অবশ্য এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চিত্রনায়িকা মৌসুমী কোনো বক্তব্য দেননি। তাকে ঘিরে ঘটনা আবর্তিত হলেও তিনি বরাবরই চুপ রয়েছেন।

এদিকে পিস্তল বের করার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। উল্টো ওমর সানীকে মাতাল বলে অভিযোগ আনেন জায়েদ।

যুগান্তরকে তিনি বলেছেন, ‘পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার কথা একেবারেই বানোয়াট। প্রথম কথা হচ্ছে— যেখানে অনুষ্ঠান হচ্ছিল সেখানে হলরুমে সিকিউরিটি ইলেকট্রনিক গেটের চেকআপ পেরিয়ে পিস্তল নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে— ওখানে কোনো ধরনের অস্ত্র নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। আর তিনি (ওমর সানী) সেদিন বেশ মাতাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় তিনি উপস্থিত হয়ে অযথা চিল্লাচিল্লি করছিলেন। এ কারণে আমি তাকে ঠাণ্ডা স্বরে কথা বলতে বলেছি। এর বেশি কিছু হয়নি। ডিপজল ভাই এসে সব ঠিকঠাকও করে দিয়েছেন। এর পর তিনি চলে যান।’

র‌্যাংকিংয়ে অবনমনের শঙ্কায় জামালরা!

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দুই ম্যাচ হেরে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে আরও অবনমনের শঙ্কায় জামাল ভূঁইয়ারা। মার্চে প্রকাশিত বাংলাদেশের সবশেষ র‌্যাংকিং ছিল ১৮৮। এখন দুই ম্যাচ হারায় রেটিং পয়েন্ট কমেছে অনেক। তাই র‌্যাংকিংয়ে অবনমন প্রায় নিশ্চিত।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের কাছে ২-০ গোলে এবং শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হেরেছেন জামাল ভূঁইয়ারা।

মার্চে প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৯০৩.৯৮। দুটি ম্যাচ হেরে ১১.৯৯ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে বাংলাদেশ। জানা গেছে, ১১ জুন পর্যন্ত ৮৯১.৯৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ১৯০ এর নিচে নেমে যেতে পারে। ফিফার র‌্যাংকিং অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে এ খবর জানিয়েছে ফুটি র‌্যাংকিংস।

এদিকে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ই-গ্রুপে মঙ্গলবার নিজেদের শেষ ম্যাচ স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে রোববার সকালে হোটেলেই জিম ও সুইমিং করে সময় কাটিয়েছেন জামাল ভূঁইয়ারা। দুই ম্যাচ হারার পর এই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত বাংলাদেশের। শেষ ম্যাচ থেকে কিছু অর্জন করতে পারলে সেটাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় পাওয়া। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বলেন, ‘এই ম্যাচ থেকে দলের কিছু পাওয়া উচিত ছিল। অন্তত একটি পয়েন্ট না পাওয়ায় বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রাও হতাশ। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য ইতিবাচক বিষয় হলো খেলতে চাইলে যে খেলা যায় সেটা প্রমাণ হয়েছে এই ম্যাচে। তুর্কমেনিস্তান দুই পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও বাংলাদেশের লড়াই দেখেছে তারা।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার পথে কাতার থেকে ফিরে এলেন সুজন

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের।

বিসিবির ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনায় এবার শুধু তার ওপরেই নির্ভর ছিল ছেলেদের দেখাশোনার দায়িত্ব।

আর সেই সুজনেরই যাওয়া হলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও দেশে ফিরে এসেছেন কাতারের দোহা থেকে।

শারীরিক অসুস্থতাই বাধ সাধল এ সফরে তার।

বিসিবি সূত্র জানায়, গত ৮ জুন স্পিনার তাইজুলও পেসার মোস্তাফিজের সঙ্গে উইন্ডিজের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সুজন। কাতারের দোহায় ট্রানজিটের সময় রক্তচাপজনিত সমস্যা দেখা দেয় তার। বাকি দুইজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিমান ধরলেও সুজন রয়ে যান। দেশের বিমান ধরে ঢাকা ফিরে আসেন। বর্তমানে নিজ বাসায় পুরোপুরি বিশ্রামে রয়েছেন বিসিবির এই শীর্ষ কর্তা।

এদিকে তাইজুল ও মোস্তাফিজুর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছে যান। মোস্তাফিজ তিন তিনের প্রস্তুতি ম্যাচের খেলায় যোগদানও করেছেন।

সুজনের দেশে ফেরা ও অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক পরিচালক বলেছেন, ‘সুজন ভাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কাতার থেকে দেশে ফিরে এসেছেন তিনি। ডাক্তারের পরামর্শে বর্তমানে নিজ বাসায় বিশ্রামে আছেন।’

তিনি আরো জানান, সুজনের বদলে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাচ্ছেন বিসিবির পরিচালক ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের প্রধান ওবেদ নিজাম। আগামী বুধবার উইন্ডিজের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

বৃহস্পতিবার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

কোরবানির গরু চুরি করে মাংস বিক্রি, যুবক আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায কোরবানির গরু চুরি করে জবাইয়ের পর মাংস বিক্রির সময় কায়কোবাদ ভূঁইয়া (৩৫) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এরশাদ মিয়া নামে এক মাংস দোকানিসহ অন্য চোরেরা পালিয়ে যায়।

সোমবার ভোররাতে পৌরশহরের বড়বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত কায়কোবাদ ভূঁইয়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের ছোটকুড়িপাইকা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ ভূঁইয়ার ছেলে।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের ছোটকুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম মাস্টার কোরবানি দেওয়ার জন্য একটি লাখ টাকা দামের ষাঁড় গরু লালনপালন করছিলেন। পাশের বাড়ির বাসিন্দা একাধিক মাদক মামলার আসামি কায়কোবাদ ভূঁইয়া গভীররাতে গোয়ালঘর থেকে গরুটি চুরি করে।

পরে রাতেই গরুটি জবাই করে ভোররাতে আখাউড়া পৌরশহরের বড় বাজারের মাংসের দোকানী এরশাদ মিয়ার কাছে বিক্রি করতে নিয়ে যায় কায়কোবাদ ও তার সঙ্গীয় চোরেরা।

আখাউড়া থানার এসআই নুপুর কুমার দাস যুগান্তরকে জানান, কায়কোবাদ ভূঁইয়াকে মাংসসহ দোকানে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আখাউড়া থানার ওসি মিজানূর রহমান যুগান্তরকে জানান, চুরি করে জবাই করা গরুর তিন বস্তায় আড়াই মণ মাংসসহ একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জব্দকৃত ওই মাংসের বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা। চুরি যাওয়া ওই গরুর চামড়াসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযুক্ত কায়কোবাদ ভূঁইয়াকে প্রেফতার দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদীতে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দেড় মাসে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনে শত শত বিঘা আবাদি জমি, গাছপালা, পুকুর ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীভাঙনে প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিশেহারা তিস্তাপাড়ের মানুষ।

জানা গেছে, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার শেষ সীমানা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটারব্যাপী তিস্তা নদীর অবস্থান। এই দীর্ঘ নদীপথে মাত্র দুই কিলোমিটার জায়গায় স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাকি ৪১ কিলোমিটার জায়গা উন্মুক্ত রয়েছে।

এসব উন্মুক্ত অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় নদীর পাড় রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন শুরু হওয়ায় বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, মন্দির ও মসজিদ। বর্তমানে রাজারহাটের ঘরিয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে ৬ কিলোমিটার এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে।

অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বগুড়াপাড়া, রামহরি, খিতাব খাঁ ও বুড়িরহাটে তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনে ১৭টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। যারা ভাঙনের মুখে রয়েছে, তারা ভাঙন প্রতিরোধের আর্জি জানিয়েছে।

খিতাব খাঁ গ্রামের মৃত বন্দে আলীর পুত্র মণ্ডল আলী বলেন, আমরা যে কিভাবে থাকব আমার কোনো বুদ্ধি নেই। রোববার থেকে তিস্তা নদীর ঢলে পাড় ভেঙে গেছে।

কিন্তু আমরা সরকার থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। এ কারণে আমরা বর্তমানে বাঁশের মাচায়, রাস্তার ধারে পড়ে আছি।

রামহরি গ্রামের মৃত আব্দুল গনির স্ত্রী মেহেরন বলেন, ‘নদী আমার সউগ কিছু নিয়া গেইছে। আবাদি জমি গেইছে। দুই বিঘা ধানি জমিত গাছ লাগাইছিলাম ভাঙন শুরু হওয়ায় পানির দরে গাছগুলা বেছি দিতে হইছে। ৫ লাখ টাকার গাছ নদীভাঙনের কারণে ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করি দিছি। এখন বাড়িটা ভাঙলে আমরা নিঃস্ব হয়া যাব।’

এ ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল বাতেন জানান, ‘এই এলাকায় গতিয়াসাম থেকে চতুরা পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার জায়গায় তিস্তা নদীতে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেও তা অপ্রতুল।

এদিকে রক্ষা করলে আরেক দিকে ভাঙন শুরু হয়। এভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাবে না। এ জন্য দরকার বেশি বেশি জিও টিউব ব্যাগ। তাহলে ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা পাবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তা নদীর বেশ কিছু জায়গা আমরা প্রটেক্ট করেছি। এখন নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাধ্যমতো ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছি। তবে মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হলে তিস্তা নদীশাসন করা সম্ভব হবে।

যুদ্ধে রাশিয়ার প্রাণহানি ৪০ হাজার ছাড়াতে যাচ্ছে: জেলেনস্কি

টানা সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। রুশ হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন কার্যত বিপর্যস্ত হলেও দেশটিতে মস্কোর ক্ষতির পরিমাণ সামনে আনতে যথেষ্ট সক্রিয় কিয়েভ।

আর এরই ধারাবাহিকতায় চলমান যুদ্ধে প্রাণ হারানো রুশদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

রোববার রাতের নিয়মিত বিবৃতিতে যুদ্ধের ১০৯ দিনে তিনি এ কথা জানান। সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি জুন মাসে রাশিয়ান প্রাণহানির সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর আক্রমণ শুরু হয়। সেখানে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার জন্য আবার আহ্বান জানান।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে এই জাতীয় প্রতিরক্ষা হাতে পাওয়া গেলে ইউক্রেন অনেক ট্র্যাজেডি এড়াতে পারত। যার মধ্যে রোববার টারনোপিলে একটি বিমান হামলাও রয়েছে। এই হামলায় আহত ১২ বছর বয়সি একটি মেয়েশিশুসহ ১০ জন হাসপাতালে রয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো পিটার দ্য গ্রেট এবং ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়কে প্রতিস্থাপন করছে যে বিশ্ব এখন কীভাবে রাশিয়াকে নিয়ে ভাবছে। এ ছাড়া রাশিয়ান জেনারেলদের বিরুদ্ধে সেনাদের ‘কামানের খাদ্য’ হিসাবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি।

তার দাবি, যুদ্ধে মস্কোর কৌশল পরিবর্তন হয়নি এবং দুর্বল-প্রশিক্ষিত রুশ রিজার্ভ সেনাদের এখন দোনবাসের যুদ্ধে নামানো হচ্ছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘রুশ সেনাবাহিনী দোনবাসে রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েন করার চেষ্টা করছে। এখন তাদের কাছে আর কী মজুদ থাকতে পারে?’

জেলেনস্কি আরও বলেন, মনে হচ্ছে, চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়া এখন দুর্বল প্রশিক্ষিত সেনাদের নামানোর চেষ্টা করছে। রুশ জেনারেলরা তাদের জনগণকে কেবল কামানের খোরাক হিসাবে ব্যবহার করেন।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সোনিয়া গান্ধী

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন করোনায় আক্রান্ত কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধী।

রোববার ৭৫ বয়সি এ রাজনীতিককে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর এনডিটিভির।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি এখন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকবেন।

২ জুন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর করোনা শনাক্ত হয়। আগে থেকেই তিনি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

এর আগে অর্থপাচারের একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোনিয়া গান্ধীকে ভারতের আর্থিক দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সমন জারি করে।

তাকে ৮ জুন সংস্থাটির দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ওই সময় সংস্থাটির কাছে আরও সময় চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রীয় ২৪ সংস্থার ঋণ ৪৮ হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রীয় ৩০টি করপোরেশনের মধ্যে ২৪টির কাছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ৮৯৭৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঋণ নেওয়ায় এ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৮০৫৬ কোটি টাকা। এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশই খেলাপি। অর্থাৎ ঋণ নিয়ে তারা বছরের পর বছর পরিশোধ করতে পারছে না। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) ১২টি প্রতিষ্ঠানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০০৪ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সরকারি করপোরেশনগুলোর ঋণ ব্যবহারে বড় ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব, কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় ট্রেড ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ, অধিক জনবল নিয়োগ, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতা এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় অন্যতম। তবে তাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এখানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পক্ষে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় করপোরেশনগুলোর দায়দেনা ও লোকসানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনোই বিষয়টিকে জোরালোভাবে দেখা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, সংস্থাগুলোর লোকসান অব্যাহতভাবে বাড়ছে। তারা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করে না। এদের রাজস্ব দায়বদ্ধতা লাখ লাখ কোটি টাকা। সংস্থাগুলো কীভাবে লাভজনক করা যায়, এ বিষয়ে বাজেটে দিকনির্দেশনা থাকা উচিত। তিনি বলেন, এ খাতে এত বেশি লোকসান না দিলে টাকাগুলো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা যেত।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত ঋণ : অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪ কোম্পানির ঋণ ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৮৯৭৫ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের ৮৩৫৬ কোটি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ৭৯৯৮ কোটি, চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন ৭৪৭৮ কোটি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ৫২৫৫ কোটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ৫০৬৬ কোটি, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ ১০৪৭ কোটি এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের ১০৪৭ কোটি টাকা । এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ রয়েছে সেগুলো হলো বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৬৭৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন ৯৭ কোটি, বাংলাদেশ চা বোর্ড ৯ কোটি ৬৩ লাখ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫৬৭ কোটি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪৬৬ কোটি, বিআরসিটি ৫৭ লাখ, বিআইডব্লিউটিসি ৫৮৩ কোটি, ঢাকা ওয়াসা ১৫ কোটি, বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন ৮৭৭ কোটি, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন ২০০ কোটি এবং টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের ২৪ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আবার ১৪টি ঋণখেলাপি। এগুলো হলো বিটিএমসি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন, বিসিআইসি, বিজেএমসি, বিআরটিসি, বিপিসি, টিসিবি, বিএডিসি, বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২টি প্রতিষ্ঠানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিডিবির লোকসান ১৮৯৫ কোটি টাকা, টিসিবি ১১৫৮ কোটি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ৮৮২ কোটি, বিসিআইসি ৫৫২ কোটি, বিআরসিটি ১০০ কোটি, বিআইডব্লিউসিটি ১২ কোটি, বিআইডব্লিউটিএ ৪৬ কোটি এবং বিএফডিসির লোকসান ২২ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে সরকারি শিল্প করপোরেশন লোকসান দেয়। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, ট্রেড ইউনিয়নের অযাচিত হস্তক্ষেপ, অধিক জনবল নিয়োগ, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, পেশাদারত্বের অভাব, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে ব্যর্থতা ও অধিক উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য। এ ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, কোম্পানি লাভজনক হওয়ার জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা দরকার। আর ব্যবস্থাপনায় সংকট থাকলে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরও কোম্পানি লাভজনক হতে পারবে না। তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির হিসাবেও ঝামেলা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি লিস্টেড হলে তার হিসাব স্বচ্ছ থাকে। অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে, এ ধরনের করপোরেশনের ব্যাপারে মানুষের আস্থা নেই। ফলে আস্থা পুনরুদ্ধার ছাড়া কোম্পানি লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা কম। সংস্থাটি মনে করছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান লাভজনক করতে সরকারের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচালনা করা হবে।

কমছে ৩৫০০ কোটি টাকা

কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসাবে সরকারি চাকরিজীবীরা আগামী অর্থবছরে গৃহনির্মাণ ঋণ কম পাবেন। একইভাবে হাত দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সম্মানি ও বিশেষ ব্যয়ের ক্ষেত্রে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যে অনুদান দেওয়া হতো, আগামী বছর তা কমানো হবে। যে কারণে অর্থবছরের শুরুতেই এ খাতে ব্যয় কর্তন করে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের ১৩টি খাত থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করবে সরকার। এজন্য ওইসব খাতে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেট (২০২২-২৩) বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কয়েকটি পণ্যে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষকের সার। এই চারটি পণ্যে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় অনেক বেশি বাড়বে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় করা হচ্ছে ৬৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছরে এসব খাতে ভর্তুকি গুনতে হবে ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেশি ভর্তুকি ব্যয় করতে হবে ১৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। তবে আগামী অর্থবছরের শেষদিকে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভর্তুকি বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ। কারণ ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের পণ্যের মূল্যকে ভিত্তি ধরে। কিন্তু এই মূল্য অর্থবছরের শেষদিকে ঠিক নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। এই ভর্তুকি ব্যয় মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। এতে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ সাশ্রয় করে ভর্তুকিতে সংস্থান করা যাবে।

সূত্র আরও জানায়, কৃচ্ছ্রসাধন ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প থেকে রাজস্ব আহরণ হবে এবং রাজস্ব আহরণে কাজে আসবে, সে প্রকল্পগুলোয় অর্থায়ন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বা রাজস্ব আয়ে কাজে আসবে না এমন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া হবে। এমন সিদ্ধান্ত আগামী অর্থবছরের প্রথম জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

জানা যায়, আগামী অর্থবছরে উল্লিখিত খাত ছাড়া আরও যেসব অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে ব্যয় সাশ্রয় করার হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আওতায় ফি ও চার্জ প্রদান, মুদ্রণ ও মনিহারি ক্রয়, বিশেষ ব্যয়, পরিবহণ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটা, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়, চাষকৃত জৈব সম্পদ, উইপেন সিস্টেম, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ, মূল্যবান দ্রব্যাদি, রেলওয়ে কন্টিনেন্টাল সাসপেন্ট স্টোর। আগামী বছরের কৃচ্ছ্রসাধন প্রসঙ্গে অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর তালুকদার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী অর্থবছরে কৃচ্ছ্রসাধন করা হবে। সরকারি পর্যায়ে এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী পহেলা জুলাইয়ের পর আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। স্বল্পগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এ বছর না হয়ে পরবর্তী বছরে পিছিয়ে দেওয়া হবে।

সূত্রমতে, প্রতিবছর সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ অনুদান দেয়। চলতি বছর অনুদানের অঙ্ক ৪৮ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। এ খাতে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা।

একইভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার জন্য পরিবহণ কেনাকাটায় বরাদ্দ কমছে ১৩৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা।

এছাড়া বরাদ্দ কমানো হয়েছে পরিবহণ যন্ত্রপাতি কেনাকাটায়। এ খাতে ৩৫৪ কোটি টাকা কমানো হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। বর্তমানে অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছরে এ খাতে রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ আমদানি হয় বিদেশ থেকে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এ খাতে কম আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

মুদ্রণ ও মনিহারি পণ্য সব মন্ত্রণালয়কে কেনাকাটা করতে হয়। তবে এটি আগামী বছর কম কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে মুদ্রণ ও মনিহারি পণ্য কেনাকাটায় ৮৩ কোটি টাকা কম দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা, যা বর্তমান বরাদ্দ আছে ২ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

সরকারি প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, বিদেশ ভ্রমণ ও কর্মশালাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্মানি দেওয়া হয়। আগামী দিনে এ খাতে ব্যয় কমানো হবে প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা। এমন সিদ্ধান্ত থেকে সম্মানিতে ৬১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৮৫২ কোটি টাকা।

এছাড়া বিশেষ ব্যয় খাত রয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় এ খাত থেকে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। এমন খাত থেকে আগামী দিনে ২৫৪ কোটি টাকা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে আছে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা।

বিভিন্ন ধরনের ফি ও চার্জ বাবদ ৯৭ কোটি টাকা ব্যয় কম করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে আগামী বছরে। ওই হিসাব মাথায় রেখে আগামী দিনে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে আছে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

আরও যেসব খাত থেকে সাশ্রয় করা হবে এর মধ্যে রয়েছে ইউপেন সিস্টেম থেকে ১২৫ কোটি টাকা, রেলওয়ে কন্টিনেন্টাল সাসপেন্ট স্টোর থেকে ৭৫ কোটি, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণ থেকে ৬৩ কোটি, মূল্যবান দ্রব্যাদি থেকে ২৭ কোটি, চাষকৃত জৈব সম্পদ থেকে ১৩ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসামগ্রী সংগ্রহ থেকে ১৭ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক সংকট (রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের বর্ধিত মূল্য) এবং দেশের ভেতর মূল্যস্ফীতি চাপ অর্থনীতিকে ঝাঁকুনি দিয়েছে। ফলে অর্থনীতি এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বৃদ্ধি অব্যাহত রেখে প্রণোদনার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ভর্তুকির বর্ধিত মূল্য সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আরও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস করা হবে।