সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 262

বানভাসির আর্তনাদে আকাশ ভারী

টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যায় জনদুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটের পাশাপাশি স্যানিটেশন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বয়স্ক, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে। না খেয়ে লাখ লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নলকূপ পানির নিচে চলে যাওয়ায় মানুষজন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই বানের পানি পান করছেন। দুর্ভোগের শিকার মানুষের একটি অংশ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়ে ঠাঁই পেলেও পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে অধিকাংশ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে, আশ্রয়ের জন্য সর্বত্র হাহাকার দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে। তবে বন্যাদুর্গতদের দাবি-চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব কারণে বন্যাদুর্গত এলাকায় বানভাসি মানুষের আর্তনাদে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে।

বন্যার পানি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। আঞ্চলিক মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এদিকে সিলেটে বন্যা অপরিবর্তিত থাকলেও হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারে বন্যা বিস্তৃত হচ্ছে। অপরদিকে রাস্তা কাটায় সুনামগঞ্জ থেকে পানি নামছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান।

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুলাউড়া ও বড়লেখা পৌর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন। হবিগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। টানা বর্ষণে রাঙামাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কয়েকদিনের বন্যায় জেলার কলমাকান্দা-দুর্গাপুরে সাত শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও কুড়িগ্রামে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সম্পর্কে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সিলেট : সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন করে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা বিস্তৃত হচ্ছে। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফার বন্যায় পানিবন্দি লোকজন রয়েছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বন্যার্তরা। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সমস্যায়। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ডাকাত আতঙ্ক। শনিবার রাতভর সিলেট-সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতরা হামলা করেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যদিও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এসবের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। আগের দিন সারা দেশের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের ট্রেন যোগাযোগ রোববার থেকে স্বাভাবিক হয়েছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। সোমবার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেটের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

বন্যাদুর্গত এলাকায় রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ বন্যায় তার নির্বাচনি এলাকা কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহম্মদ মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য অনুসারে দুই জেলার অন্তত ৪০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের জন্য সরকারের পাঠানো ত্রাণের পরিমাণ অপ্রতুল। এ অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকট : সিলেটে বন্যার্তদের জন্য নগরীতে আশ্রয়কেন্দ্র খুললেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেভাবে দেখভাল করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীর মীরাবাজারে কিশোরী মোহন স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে বেশ কয়েকজন বন্যাদুর্গত রয়েছেন। এখানেও খাদ্য সংকট রয়েছে। পানীয় জলের জন্য সিটি করপোরেশনের একটি পানির ট্যাংক রাখা হয়েছে। সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ ও পরিবহণ শাখা) রুহুল আলম জানান, ১৫০০ থেকে দুই হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এদের দেখাশোনার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরদের বলা হয়েছে। তারা শুকনো খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করছেন। কয়েকজন রান্না করা খাবারও দিচ্ছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ রয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নৌকার সংকটে এসব ত্রাণ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, জেলায় মোট ৩৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণকারীদের তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। সে হিসাবে ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮৪৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আহসানুল আলাল জানান, শনিবার পর্যন্ত সিলেটে নগদ ৪২ লাখ টাকা, ৭ হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৬১২ টন চাল দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার পর্যন্ত নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ হাজার মানুষকে রান্না করা খিচুড়ি খাওয়ানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার : হাওড়ের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর, মনুমুখ, আখাইলকুড়া, কনকপুর, কামালপুর, চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের আংশিক প্লাবিত হয়েছে। কুলাউড়া সদরসহ ভূকশিমইল, ভাটেরা, জয়চণ্ডী, ব্রাহ্মণবাজার, কাদিপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জুড়ী উপজেলার ২৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

কুলাউড়া আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গণি বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ইসলামগঞ্জ ও জুড়ীর নার্সারি ফিডারের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের তথ্যমতে, পুরো জেলায় ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজার মানুষ ও ১০ হাজার গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ২ হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ৬০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এদিকে বড়লেখা পৌর এলাকাসহ ১০টি ইউনিয়ন, রাজনগরের ৪টি, শ্রীমঙ্গলের ৫টি এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জ : কুশিয়ারা নদীর পানিতে নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার অনেক গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। রোববার সকাল পর্যন্ত বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য নবীগঞ্জে ১৩টি, লাখাইয়ে ১৫টি এবং আজমিরীগঞ্জে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। দুর্গত মানুষকে সহায়তায় পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, ওষুধ, মোমবাতি, দিয়াশলাই মজুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সবকটি উপজেলায় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন জানান, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষ ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্য শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হবিগঞ্জে ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) নয়ন মনি সূত্রধর জানান, বন্যার কারণে জেলার নবীগঞ্জ, লাখাই, বানিয়াচং ও সদর উপজেলায় আউশ, বোনা আমন ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে বন্যায় দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় সাত শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চার সহস াধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। রোববার কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় ১৯ হাজার ৪৮০ জন মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মেডিকেল টিম নিয়োজিত রাখা হয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সদর, চণ্ডীগড়, গাঁওগান্দিয়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নের ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির সে াতে দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে গেছে। কাঁচা-পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। উপজেলার ৯৫ ভাগ তলিয়ে গেছে।

জেলা পাউবোর কর্মকর্তা এমএল সৈকত জানান, সোমেশ্বরী, ধনু ও কংস নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার, জারিয়া পয়েন্টে কংসের পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার এবং খালিয়াজুরী পয়েন্টে ধনুর পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুর্গাপুর পয়েন্টে সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ২৭৪ সেন্টিমিটার নিচে চলে এসেছে।

শেরপুর : সীমান্তবর্তী পাহাড়ি নদী ভোগাই, মহারশি, সোমেশ্বরী ও চেল্লাখালি নদীর পানি কমায় ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার উজানের বন্যার উন্নতি হয়েছে। ২০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার বিকালে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের খইলকুড়া গ্রামের ১৩ বছরের শিশু আতিক ঢলের পানিতে গোসল করতে গিয়ে ভেসে গেছে।

রাঙামাটি : পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ি ও বরকলের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদসংলগ্ন বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকা শহর এলাকার মানুষজন। কাচালং নদীর পানিতে সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বাজারের আশপাশের এলাকা, বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও আমতলী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি এলাকা তলিয়ে গেছে। মাছের ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া টানা বর্ষণে মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কসহ পাহাড়ি এলাকায় মাটি ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসকারী লোকজনকে সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছে এবং নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিআইডিতে ভয়াবহ দুর্নীতির সিন্ডিকেট

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের নাম সিআইডি। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য অনেক। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে জেঁকে বসেছে ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্র্নীতি। দীর্ঘদিন থেকে শাক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট সিআইডির অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব কিছুতে কমিশন দুর্নীতির কালো থাবা বসিয়েছে। চক্রটি এতটাই প্রভাবশালী যে, এদের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দ করার সাহস করে না। নেপথ্যের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও স্পর্শকাতর অভিযোগ।

তবে বিলম্বে হলেও এসব নিয়ে সংক্ষুব্ধরা এখন সোচ্চার। চাকরি হারানোর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কেউ কেউ তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুদকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে। অপকর্মের ফিরিস্তিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশ সদর দপ্তরেও। লিখিত অভিযোগের অনুলিপি সম্প্রতি যুগান্তরের হাতে আসে। এছাড়া সিআইডির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক পুলিশ সদস্যের বক্তব্যের অডিও-ভিডিও রেকর্ড যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

মোটাদাগের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে-সোর্স মানি বিতরণে গুরুতর অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য, যানবাহনের তেল, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে অর্থ লোপাট, প্রশিক্ষণ, টিএ বিল, রেশন ও ক্লথিং স্টোরের কেনাকাটায় অবিশ্বাস্য সব দুর্নীতি। দুর্নীতির টাকায় বিশাল বিত্তবৈভব গড়ে তুলেছেন কনস্টেবল থেকে শুরু করে সিআইডির কতিপয় প্রভাবশালী কর্মকর্তা। সিআইডি সদর দপ্তরে নিজস্ব শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলতে বিশ্বস্ত লোকজন দিয়ে নিশ্ছিদ্র প্রটেকশন গড়ে তুলেছেন তাদের কেউ কেউ। তবে অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে সিআইডির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

লোপাট সোর্স মানি : সোর্স মানি খাতে সিআইডির জন্য প্রতিবছর সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। গোপনীয় শাখার মাধ্যমে এ খাতের অর্থ বিতরণ করা হয়। নিয়মানুযায়ী এসআই থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত সবারই নির্ধারিত হারে সোর্স মানি পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা টাকা পেলেও অন্যরা বঞ্চিত। এসআইদের সোর্স মানি বাবদ কোনো অর্থই দেওয়া হচ্ছে না। অনিয়মিতভাবে ইন্সপেক্টরদের ৩-৪ মাস অন্তর যৎসামান্য অর্থ দেওয়া হয়।

সিআইডির সোর্স মানি বিতরণসংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিআইডিতে বর্তমানে ৮৪২ জন এসআই এবং ৫৫০ জন ইন্সপেক্টর কর্মরত। কিন্তু তাদের নামে বরাদ্দ সোর্স মানি বিতরণের রেকর্ড নেই। তবে দুর্নীতি সিন্ডিকেটে জড়িত কয়েকজন এসআই নিয়মিত সোর্স মানি উত্তোলন করছেন। এরা হলেন-এসআই কাইয়ুম এবং এসআই শাহিন কাদির ও এএসআই শাহ আলম। প্রতিমাসে সোর্সমানি হিসাবে ১৫ হাজার টাকা পান তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম শাখার জনৈক ইন্সপেক্টর যুগান্তরকে বলেন, ‘সোর্স মানি’র এক পয়সাও তারা পান না। অথচ মামলা তদন্তের মূল কাজ তারাই করেন। আসামি গ্রেফতার থেকে শুরু করে তথ্য সংগ্রহের কাজে তাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু সোর্স মানি তাদের না দিয়ে উপরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে, যা ন্যায়সঙ্গত নয়।’

কেনাকাটায় দুর্নীতি : মূল্যবান বৈদ্যুতিকসামগ্রী কেনার নামে বড় অঙ্কের অর্থ লোপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ল্যাপটপ, জেনারেটর, প্রিন্টার, প্রিন্টিং টোনার এবং ইন্টেরিয়ার ডেকোরেশন সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি ভয়াবহ। যেমন-ডিজিটাল প্রিন্টারে ব্যবহৃত একেকটি টোনারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ৬ হাজার ২০০ টাকা। যা নির্ধারিত সরবরাহকারীর মাধ্যমে সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সংশ্লিষ্টরা এই নিয়মের ধারেকাছেও নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, সিআইডি সদর দপ্তরে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ব্রাদার ও এইচপি ব্র্যান্ডের প্রিন্টার। ব্রাদার ব্র্যান্ডের প্রিন্টারে টিএন-২৩৩১ মডেলের টোনার কার্টিজ ব্যবহার করা হচ্ছে। যার সর্বোচ্চ খুচরা বাজার মূল্য ১১৫০ টাকা। এছাড়া এইচপি ব্র্যান্ডের প্রিন্টারের জন্য সিআইডির স্টোর থেকে সিএফ২৭৬এ মডেলের টোনার ইস্যু করা হয়। যা বাজারে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে। সরবরাহকারীকে বাদ দিয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নগদ টাকায় কেনা হচ্ছে টোনার। কিন্তু খাতাকলমে দেখানো হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দর। এভাবে প্রতিটি টোনার থেকেই ৪-৫ হাজার টাকা পকেটস্থ করা হচ্ছে।

এছাড়া দুর্নীতির সিন্ডিকেট সক্রিয় সিআইডির ক্লথিং শাখায়। এ শাখার মাধ্যমে পুলিশের সিভিল পোশাক বিতরণ করা হয়। বছরে দুই সেট সিভিল পোশাকের জন্য (শার্ট-প্যান্ট) সরকারিভাবে বরাদ্দ ৫ হাজার ২০০ টাকা। নিয়মানুযায়ী কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত যা সবারই প্রাপ্য। কিন্তু অর্থ আত্মসাতের জন্য দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট টেইলারিং শপে নিুমানের কাপড় ধরিয়ে দেয়। বিকল্প না থাকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকেই কাপড় নিতে বাধ্য হন। সিআইডির ডি-স্টোর (বিভাগীয় গুদাম), ক্লথিং স্টোর এবং প্রকিউরমেন্ট শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই শাহিন কাদিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশ সদর দপ্তরে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রোববার রাতে এসআই শাহিন কাদির যুগান্তরকে বলেন, মার্চ থেকে একটি চক্র তার পেছনে লেগেছে। কেন তারা এসব করছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি সিনিয়র স্যারদের নজরে আনা হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। শতভাগ স্বচ্ছ আছি। আমি চাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

তিন দায়িত্বে এক এসআই : সিআইডিতে কর্মরত এসআই আব্দুল কাইয়ুম ক্ষমতাধর হিসাবে পরিচিত। অজ্ঞাত কারণে তাকে অন্তত ৩টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তিনি একাধারে রিজার্ভ অফিসার-১ (আরও-১), রিজার্ভ অফিসার-২ (আরও-২) এবং রিজার্ভ অফিসার ইনচার্জ (আরও আই)। এছাড়া সিআইডির অভ্যন্তরীণ অন্য শাখাগুলোতেও তার ঘনিষ্ঠভাজনরা দায়িত্ব পালন করছেন।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাইয়ুম সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সিআইডির অভ্যন্তরীণ প্রায় প্রতিটি শাখায় দুর্নীতি ডালপাড়া মেলছে। পুলিশের অন্য ইউনিট থেকে চাহিদাপত্র (রিক্যুইজিশন) দিয়ে সিআইডিতে আনা এবং কর্মরত জনবল অন্যত্র পোস্টিং দিতে অর্থের লেনদেন হয়। প্রভাবশালীদের ইশারায় টাকার লেনদেন করেন রিজার্ভ অফিসের কনস্টেবল আহাদ এবং কনস্টেবল বজলুর রহমান। তাদের চাকরির রেকর্ডও ভালো নয়। গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে দুজনই বরখাস্ত হন। দীর্ঘ ৯ বছর পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তারা চাকরি ফেরত পান।

বেশুমার এই দুর্নীতির অক্টোপাস থেকে বাদ যায়নি সিআইডির বেতন শাখাও। নিয়মানুযায়ী সিআইডি থেকে অন্যত্র পোস্টিং হলে কনস্টেবল, এএসআই এবং এসআইদের এলপিসি (সর্বশেষ বেতন সার্টিফিকেট) নিতে হয়। কিন্তু টাকা না দিলে সময়মতো এলপিসি ইস্যু হয় না। বেতন শাখার এসআই দেলোয়ার ও কনস্টেবল ইউসুফের বিরুদ্ধে এ নিয়ে অর্থ লেনদেনের বিস্তর অভিযোগ সবার মুখে মুখে। কিন্তু কাইয়ুমের ব্যাচমেট হওয়ায় এসআই দেলোয়ার খুবই প্রভাবশালী। বেতন শাখায় তিনি সাড়ে ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত। তাকে সিআইডির বাইরে অন্যত্র পোস্টিং করা যাচ্ছে না।

সিআইডির প্রসিডিং শাখায় কর্মরত এএসআই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশ সদর দপ্তরে। এতে বলা হয়, তিনি সিআইডির রিজার্ভ শাখায় ৭-৮ বছর ধরে কর্মরত। বিভাগীয় মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে তার মাধমে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। এছাড়া সিআইডির ক্যান্টিন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন দুর্নীতির টাকায় ইতোমধ্যে কোটিপতি। সাবেক ক্যান্টিন ম্যানেজার এসআই মিলন অন্তত ১০ বছর ধরে সিআইডির ক্যান্টিন আঁকড়ে ছিলেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) পোস্টিং করা হয়। কিন্তু দেড় বছরেরও বেশি সময় তিনি এসবিতে যোগদান করেননি। যা পুলিশ বাহিনীতে নজিরবিহীন।

কোটিপতি কাইয়ুম : এসআই আব্দুল কাইয়ুম সিআইডিতে আসার আগে ছিলেন হাইওয়ে রেঞ্জে। সিআইডির প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমানও আগে হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। সিআইডিতে যোগ দেওয়ার পর কাইয়ুমকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এ কারণে কাইয়ুমের সঙ্গে সিআইডি প্রধানের ঘনিষ্ঠতার কথা সিআইডি কার্যালয়ে সবার মুখে মুখে। সিআইডিতে কাইয়ুম দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করেন।

তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়ে গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি। এতে বলা হয়, আব্দুল কাইয়ুম কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িত। তার কাছে সিআইডির প্রতিটি ফোর্স থেকে শুরু করে অফিসার জিম্মি। যুগান্তরের অনুসন্ধানে কাইয়ুমের একাধিক মূল্যবান ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে কাকরাইলে ৮৪/৩ সামিট রোকেয়া নুর রোকেয়া ভবনে ২টি ফ্ল্যাট। বর্তমানে এর একটিতে তিনি নিজে বর্তমানে বসবাস করছেন। অন্যটি ভাড়া দেওয়া। ১২ জুন কাকরাইলের সামিট রোকেয়া নূর ভবনে গেলে ভবনের তত্ত্বাবধায়ক রাতুল যুগান্তরকে বলেন, ভবনের ২য় তলায় এসআই কাইয়ুম বসবাস করেন। এখানকার সবাই জানেন তিনিই ফ্ল্যাটটির মালিক। তবে কাগজপত্রে কাকে মালিক দেখানো হয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন না। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগে কাইয়ুমের আরও বেশকিছু সম্পদের উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাগ এন(বি) ৩৫ ব্লকের ৮ নম্বর রোডে দুটি ফ্ল্যাট অন্যতম। তার অবৈধ অর্থ সম্পদের খোঁজে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। ৯ মে তাকে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানার জন্য ১৬ জুন বেলা ৩টায় সিআইডির রিজার্ভ শাখায় আরও-১ এর কক্ষে গেলে এসআই কাইয়ুমকে সিটে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় তার মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়। কিন্তু এতেও তিনি সাড়া দেননি।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ : গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি নাম-পদবি উল্লেখ করে আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সিআইডির এক উপ-পরিদর্শক। বিষয়টি ২ মার্চ আইজিপি বেনজীর আহমেদের নজরে আনা হলে তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। এই অভিযোগপত্রে এসআই কাইয়ুমসহ দুর্নীতির সহযোগী হিসাবে এসআই শাহিন কাদির, এএসআই শাহ আলম, সাইদুর রহমান, নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মসিউর রহমান, আবু ইউসুফ, আমিনুল ইসলাম ও সাদ্দামের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের তদন্ত সম্পর্কে জানার জন্য রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের ডিএন্ডপিএস শাখায় (সাবেক শৃঙ্খলা শাখা) গেলে জানানো হয়, অভিযোগের তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিআইডির সাবেক এক ইন্সপেক্টর যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত সিআইডিতে পোস্টিং ২ বছরের জন্য হয়ে থাকে। কিন্তু অনেকে ৪ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন-এএসআই মিজানুর রহমান, সেকান্দার আলী, দেলোয়ার হোসেন, কনস্টেবল বাদশা মিয়া, আহাদ, জাহাঙ্গীর আলম, রুহুল আমিন, নারী কনস্টেবল খেয়া ও কোহিনূর।

বক্তব্য : অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করে যুগান্তর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে গেলে জানানো হয় সিআইডি প্রধান মিটিংয়ে ব্যস্ত। এ সময় সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান যুগান্তরকে বলেন, সিআইডিতে দীর্ঘদিন ধরে যারা কর্মরত ছিলেন তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আসছিল। এ প্রেক্ষাপটে তাদের অনেককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডিতে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, ‘ব্যারিস্টার স্যার সিআইডি প্রধান হিসাবে যোগদানের পর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেন। কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য পৃথক কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পদ্ধতি চালু করা হয়। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে মামলা তদন্ত থেকে শুরু করে আভিযানিক কার্যক্রম গতি পেয়েছে। এছাড়া ফোর্সদের কল্যাণে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।’

আজ থেকে দোকান বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাত ৮টার পর

সারা দেশে দোকানপাট, বিপণিবিতান, মার্কেট বন্ধ থাকবে রাত ৮টার পর। আজ থেকে সরকারি এই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে। চলবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে রাত ৮টার পর সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন। এই প্রস্তাব সারসংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তবে দোকানে, বিপনি-বিতানে ক্রেতা থাকলে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত ক্রেতাদের কেনাকাটার সুযোগ দেওয়া যাবে। এ সময়ের পর কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, রেস্তোরাঁ, সিনেমা বা থিয়েটার খোলা রাখা যাবে।

এর আগে ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকের সই করা চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১১৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে প্রতিপালন করে সারা দেশে রাত ৮টার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার প্রভৃতি খোলা না রাখার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।

শ্রম আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার পর খোলা রাখা যাবে সেগুলো হচ্ছে- ডক, জেটি, স্টেশন অথবা বিমানবন্দর এবং পরিবহণ সার্ভিস টার্মিনাল অফিস; তরিতরকারি, মাংস, মাছ, দুগ্ধজাতীয় সামগ্রী, রুটি, পেট্রি, মিষ্টি এবং ফুল বিক্রির দোকান; ওষুধ, অপারেশন সরঞ্জাম, ব্যান্ডেজ অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান; দাফন ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকান; তামাক, সিগারেট, পান-বিড়ি, বরফ, খবরের কাগজ, সাময়িকী বিক্রির দোকান এবং দোকানে বসে খাওয়ার (হালকা) নাশতা বিক্রির খুচরা দোকান; খুচরা, পেট্রোল বিক্রির জন্য পেট্রোল পাম্প এবং মেরামত কারখানা নয় এমন মোটর গাড়ির সার্ভিস স্টেশন; নাপিত এবং কেশ প্রসাধনীর দোকান; যে কোনো ময়লা নিষ্কাশন অথবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা; যে কোনো শিল্প, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান যা জনগণকে শক্তি আলো-অথবা পানি সরবরাহ করে এবং ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবার দোকান, সিনেমা অথবা থিয়েটার।

শাবি প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক মাসুদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ১৮তম কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নতুন সভাপতি হিসেবে ভোরের কাগজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাজমুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেশ রূপান্তরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবদুল্লা আল মাসুদ নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হাকিম ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনার সহকারী অধ্যাপক মো. রিয়াদুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সামির উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাসের রাশেদুল হাসান, যুগ্ম সম্পাদক দৈনিক কালের কণ্ঠের নুরুল ইসলাম রুদ্র, কোষাধ্যক্ষ আমাদের সময়ের হাসান নাঈম ও দপ্তর সম্পাদক দৈনিক যুগান্তরের জুবায়েদুল হক রবিন।

এছাড়াও তিনটি কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে- দৈনিক আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তানভীর হাসান, দৈনিক কাজিরবাজারের শাদমান শাবাব ও দৈনিক অধিকারের আদনান হৃদয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মস্তাবর রহমান, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন, শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ইশরাত ইবনে ইসমাঈল, সদ্য সাবেক সভাপতি জুবায়ের মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আল রাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম ইমরান হোসেন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্য ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি প্রার্থী ৫৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ।

শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিটে ১৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন সাত হাজার ৩৫৬ জন। সেই হিসাবে আসনপ্রতি প্রার্থী ৫৬ জন।

‘চ’ ইউনিট শুধু চারুকলা অনুষদ নিয়ে গঠিত। এ অনুষদের বিভাগগুলো হলো— অঙ্কন ও চিত্রায়ণ, ভাস্কর্য, গ্র্যাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প, প্রিন্ট মেকিং, প্রাচ্যকলা, শিল্পকলার ইতিহাস এবং মৃৎশিল্প ইত্যাদি।

এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মোট ১০০ নম্বরের। দুটি অংশে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একটি হলো— সাধারণ জ্ঞান (বহুনির্বাচনি)। এ অংশে রয়েছে ৪০ নম্বর। অন্যটি হলো— অঙ্কন (ফিগার ড্রইং)। এতে রয়েছে ৬০ নম্বর। সাধারণ জ্ঞান অংশের পরীক্ষাটি পরীক্ষার্থীর আবেদন ফরমে পছন্দ করা বিভাগীয় শহরের নির্ধারিত কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। আর দ্বিতীয় অংশের অঙ্কন (ফিগার ড্রইং) পরীক্ষার তারিখ সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষার দিন জানিয়ে দেওয়া হবে।

সাধারণ জ্ঞান অংশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা ও ইংরেজিসহ চারুকলার বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কিত বা বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন— শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমসাময়িক ঘটনাবলি ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। প্রথম অংশের (সাধারণ জ্ঞান) ফল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এ পরীক্ষার ফলের মেধাক্রম অনুযায়ী শুধু প্রথম দেড় হাজার জন পরীক্ষার্থীকে ‘অঙ্কন’ (ফিগার ড্রইং) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হবে।

এর আগে ১১ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের, ১০ জুন বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের, ৩ জুন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের এবং ৪ জুন কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছেন প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার ৩৪৮ শিক্ষার্থী। আবেদন ফি ছিল এক হাজার টাকা। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আসন সংখ্যা ছয় হাজার ৩৫। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৮ জন।

সব ভুলে এক হয়ে দোয়া চাইলেন সানী-মৌসুমী

চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে ঘিরে মৌসুমীর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল ওমর সানীর। দেড় বছর ধরেই নাকি এই তারকা দম্পতির সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল।

জায়েদ খানের বিরুদ্ধে ওমর সানীর বিস্তর অভিযোগ থাকলেও একই ছাদের তলায় থাকা মৌসুমীর বক্তব্য একেবারে বিপরীত।

জায়েদ খুব ভালো ছেলে এবং তিনি কখনো তাকে বিরক্ত করেননি বলে দাবি ঢাকাই সিনেমার এ নায়িকার।

এমন পরিস্থিতিতে সানী-মৌসুমীর ২৭ বছরের সংসার ভেঙে যাচ্ছে কিনা সেই শঙ্কা জাগে তার ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে।

তবে এসব বিতর্ক ও আলোচনা ভুলে আবারও এক হলেন সানী-মৌসুমী। জায়েদ ইস্যুতে তাদের বিচ্ছেদের যে গুঞ্জন উঠেছিল তার সমাপ্তি ঘটছে।
নায়ক ওমর সানীর ফেসবুক পোস্টে এমন ভালো লাগার খবব পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন সানী। সেখানে এক টেবিলে বসে সপরিবারে খাবার খেতে দেখা গেছে ওমর সানীকে। মৌসুমীর মুখোমুখি বসে খাবার খেতে দেখা যায় সানীকে।

ছবির ক্যাপশনেও সব মিটে যাওয়া ইঙ্গিত দিলেন সানী। লিখলেন— ‘সবাই ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন আমাদের জন্য।’

ছবিটি পোস্ট হতেই ভাইরাল হয়ে যায়। হওয়ারই কথা। সব ভুলে যেন এ তারকা দম্পতির বন্ধন আবার আগের মতো দৃঢ়তা পায় সেই দোয়া করছিলেন চলচ্চিত্রের মানুষেরা। আবারও এক হয়ে যাওয়ায় সানী-মৌসুমীর ভক্ত-অনুরাগীরা তাদের অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন রাত থেকেই।

পোস্টের ৯ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজার ৬০০-এর বেশি মন্তব্য জমা পড়েছে, যার বেশিরভাগই অভিনন্দন ও সানী-মৌসুমীর জন্য দোয়া-কামনা।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিয়েপরবর্তী অনুষ্ঠানে জায়েদ খানকে চড় মারেন ওমর সানী। জায়েদের বিরুদ্ধে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকির অভিযোগ তোলেন সানী। এ নিয়ে শিল্পী সমিতিতে অভিযোগও করেন তিনি। ওই অভিযোগে গুলি করার হুমকি, ওমর সানীর স্ত্রী মৌসুমীকে নানাভাবে হয়রানির বিষয়ও তুলে ধরেন।

তবে অভিযোগের বিষয় পুরোটা অস্বীকার করে জায়েদ বলেন, এ খবর মিথ্যা ও বানোয়াট।

এর পর দিনই সংবাদমাধ্যমে অডিওবার্তা দেন মৌসুমী। তাতে জায়েদ খানের কোনো দোষ নেই বলে উল্লেখ করেন নায়িকা।

নিয়মভাঙার অভিযোগ বরুণ-কিয়ারার বিরুদ্ধে

মেট্রোর মধ্যে বড়া পাও খেতে ব্যস্ত বরুণ ধাওয়ান, কিয়ারা আদভানি ও অনিল কাপুর। খেতে খেতে মাঝে মধ্যেই ছবি তোলার জন্য পোজও দিচ্ছিলেন। চলন্ত মেট্রোয় উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মাঝে একবার বেসামাল হয়ে পড়ছিলেন কিয়ারা, তবে সামাল দিলেন বরুণ।

সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বরুণ, কিয়ারা ও অনিল।

এ ভিডিও দেখে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে— মেট্রোতে খাওয়ার অনুমতি আদৌ আছে কি? কেউ আবার লিখেছেন— ভিআইপি ট্রিটমেন্ট। কারও প্রশ্ন— তারকা বলেই কি তারা মেট্রোর নিয়ম ভাঙতে পারেন? কেউ নিয়মভাঙার অভিযোগে বরুণ, কিয়ারাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

রাজ মেহতা পরিচালিত সিনেমা যুগ যুগ জিওর প্রচার চালাচ্ছেন অনিল কাপুর, বরুণ ধাওয়ান ও কিয়ারা আদভানি। এর জন্যই সম্প্রতি মেট্রোয় উঠেছিলেন এই তিন তারকা। তবে বরুণ তো বলেই বসলেন, মুম্বাইয়ের ট্রাফিক এড়াতে মেট্রোয় যাওয়াই ভালো।

প্রসঙ্গত, যুগ যুগ জিও সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৪ জুন। এই ছবিতে বরুণ, কিয়ারা, অনিল ছাড়াও রয়েছেন নিতু কাপুর, মনীষ পাল, প্রযুক্তি কোলিসহ আরও অনেক তারকা।

ব্যাটসম্যানদের লজ্জার রেকর্ডের পর যা বললেন সাকিব

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ ব্যাটারকেই শূন্য রান করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এর আগেও শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন লজ্জার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের।

অ্যান্টিগা টেস্টে ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়েছেন টাইগাররা। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ৫১ রান বাদ দিলে বাকি ১০ জন মিলে করেছেন মাত্র ৫২ রান। এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা নেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের।

তিনি জানান, দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটারদেরই। তাদের কেউ মুখে তুলে খাইয়ে দিয়ে যাবে না।

প্রথম দিনের খেলা শেষে সাকিব বলেন, আসলে ব্যাটারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের কাজটা তাদেরই করতে হবে। কেউ এসে তাদের মুখে তুলে খাইয়ে দিয়ে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবে ব্যাখ্যা করার কোনো সুযোগই দেখি না। আমার কাছে কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমি জানি না অন্য কারও কাছে আছে কিনা। সাধারণত যেটি হয়, কোচ-অধিনায়কের কাজটা সহজ। ধরুণ কেউ পারফরম করল না, তাকে বাদ দিয়ে দিই। সবচেয়ে সহজ কাজ কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের। তুমি পারফরম করছ না, বাদ দিয়ে দিলাম।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ‘গোল্ডেন ডাক’ সঙ্গী করে ফেরেন এই ডানহাতি। অফ ফর্মে ভোগা নাজমুল হাসান শান্তর পরিণতি একই। ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে নেতৃত্ব ছাড়া মুমিনুল হকও বৃত্ত ভেঙে বের হতে পারেননি; আগের দুজনের মতো শূন্য হাতে সাজঘরে ফেরেন।

টেস্ট ইতিহাসে ৭ লজ্জার রেকর্ডের তিনটিই বাংলাদেশের

অভিজ্ঞ কেমার রোচ ও তরুণ পেসার জেডেন সিলসের গতির মুখে পড়ে কুপোকাত বাংলাদেশ দল।

বৃহস্পতিবার অ্যান্টিগার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে এক বিভীষিকাময় ব্যাটিং নিদর্শন দেখাল বাংলাদেশ।

যেখানে শুধু রান পেয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শূন্যের জলছায় সাকিবের ছয় বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৬৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসটি নিয়ে যা কথা বলা যায়।

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সাকিবের ৫১ রানের ইনিংসের সুবাদে দলগত সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারে বাংলাদেশ। প্রথম দিনে ১০৩ রানে অলআউট টাইগাররা।

আর এরই সঙ্গে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে তৃতীয়বারের মতো এক লজ্জার বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

তা হলো— টেস্টের এক ইনিংসেই বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রানে ফিরেছেন।

টেস্ট ইতিহাসে একই ইনিংসে ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা মাত্র সাতবার। এর মধ্যে তিনবারই রয়েছে বাংলাদেশের নাম। একবার করে এই লজ্জার রেকর্ডে নাম তুলেছে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

বৃহস্পতিবার রাতে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান আর খালেদ আহমেদ।

এর আগে মিরপুরে শ্রীলংকার বিপক্ষে এক ইনিংসেই বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রান করেছিলেন। তিন সপ্তাহ পেরোতেই আরও একবার ৬ শূন্যের বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখালেন টাইগাররা।

এর আগে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই প্রথমবার বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য করেছিলেন। আর সেই টেস্ট হয়েছিল ঢাকায় মিরপুরে। সেই ইনিংসে ৮৭ রানে অলআউট হয়েছিলেন টাইগাররা।

এবার অবশ্য সাকিবের লড়াকু ইনিংসের সুবাদে একশর নিচে আউট হওয়ার লজ্জা কোনোমতে এড়িয়েছেন টাইগাররা।

রাজশাহীতে ৯ ল্যাপটপ ও ৮ মোবাইল উদ্ধার

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) হলরুম থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ৫ চোরকে গ্রেফতার করেছে আরএমপির মতিহার থানা পুলিশ।

এসময় আসামিদের কাছ থেকে ৯টি চোরাই ল্যাপটপ ও ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৫), জয় হোসেন (২২), সাকির হোসেন সুইট (২৫), শফিউর রহমান শাফি (২০) ও তৌশিক রহমান সিয়াম (১৭)।

আরএমপি কমিশনার ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক বৃহস্পতিবার বিকালে এই বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। চোরদের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়। তারা সবাই উচ্চশিক্ষিত, প্রযুক্তি কাজে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ বলে জানা গেছে। তবে তারা চুরিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, সংগবদ্ধ এই চোর চক্রের সবাই শিক্ষিত ও কম্পিউটারে প্রশিক্ষিত। চুরিকেই তারা পেশা হিসেবে বেছে নেন। তারা নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস, দোকান ও বাসাবাড়ি থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরি করে হড়গ্রামের একটি দোকানে মজুদ রাখত।

পরে এসব প্রযুক্তি পণ্য খুলে খুচরা আকারে ও গোটা বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিত। পরে সেগুলি বিক্রি করা হতো। তিনি জানান এই চক্রের হেফাজত থেকে বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া ৯টি ল্যাপটপ ও ৮টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ইতিপুর্বে যাদের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে তারা উপযুক্ত প্রমাণসহ মতিহার থানায় যোগাযোগ করে দেখতে পারবেন। প্রমাণ হলে মালিকদের তা ফেরত দেওয়া হ