সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 261

ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে নাখোশ ডমিঙ্গো

ব্যাটাররা বাজে পারফরম্যান্স করেই যাচ্ছেন। আর স্কোরবোর্ডে জমা হওয়া অল্প পুঁজি নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন বোলাররা। বড় রান ছাড়া বোলারদের লড়াইটা যে কঠিন সেটা ভালোই জানা সবার। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ১০৩ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে দল ১০৯ রানে ছয় উইকেট হারায়। এরপর সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের ১২৩ রানের জুটিতে কিছুটা মুখ রক্ষা হয়। তবে শেষ চার উইকেট পড়ে আবার ১৩ রানের মধ্যেই। শেষ পর্যন্ত সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে সাত উইকেটে।

যে হারের পুরো দায় ব্যাটারদের। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পরও ব্যাটারদের আলগা শট দেখে বিরক্ত কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি বলেন, ‘দুই ইনিংসেই ব্যাটিং মোটেও ভালো হয়নি। খুব বেশি আলগা আউট, ব্যাটিংয়ে বাজে সিদ্ধান্ত খুব বেশি।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫। দুই ইনিংসেই আলগা শট অনেক বেশি হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের (ব্যাটার) সবার আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। আমাদের কয়েকজন বড় ক্রিকেটার মুমিনুল, শান্তদের আত্মবিশ্বাস নেই এখন। ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস অনেক বড় ব্যাপার। এই মুহূর্তে ব্যাটিং লাইন আপে সেটা নেই।’

এদিকে বোলারদের সবাই কম-বেশি অবদান রেখেছেন। তাদের চেষ্টায় কোনো কমতি দেখছেন না প্রধান কোচ। প্রথম ইনিংসে কিছুটা খারাপ করা খালেদ দ্বিতীয় ইনিংসেই নিয়েছেন প্রথম তিন উইকেট। ডমিঙ্গো বলেন, ‘বোলাররা দুই ইনিংসেই অসাধারণ বল করেছে। প্রথম ইনিংসে যেভাবে বোলিং করেছে, এতটা ভালো কমই দেখেছি। এই পিচে ২৬০ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে রাখা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। বোলারদের পারফরম্যান্সে তাই আমি গর্বিত।’ তবে খালেদকে আরও ধারাবাহিক হতে হবে বলে জানালেন কোচ। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে কোনো উইকেট নেই। অ্যান্টিগায় প্রথম ইনিংসেও আলগা বল করে প্রতিপক্ষকে সেট হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিলেও খালেদকে আরও ধারাবাহিক হওয়ার পরামর্শ দিলেন ডমিঙ্গো।

তিনি বলেন, ‘খালেদ তিন উইকেট নিলেও এখনো অনেক উন্নতি করতে হবে। তাকে ধারাবাহিক হতে হবে।

অনেক সময় এমন হতে পরে যে সে ভালো বল করছে; কিন্তু উইকেট পাচ্ছে না। আবার কখনো ভালো বোলিং না করেও উইকেট পাবে। এটাই খেলার ধরন।’ এদিকে দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলের বিপর্যয়ে তার ব্যাটিংয়েই কিছুটা সম্মান বাঁচিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধান কোচ অধিনায়কের কাছ থেকে চান সেঞ্চুরি।

তিনি বলেন, ‘সাকিবের ব্যাটিংয়ে সব সময়ই তাড়না দেখা যাবে, অভিপ্রায় নিয়েই ব্যাট করে সে। আমরা চাই না সে স্লগ করুক, চাই যে শুরুর ওই পর্যায়টা পেরিয়ে গেলে সে যথাযথভাবে ব্যাট করবে এবং শেইপ ধরে রাখবে।’ অ্যান্টিগা টেস্ট তিনদিনেই শেষ হতে পারত। তবে চতুর্থদিনে গড়ানো ম্যাচটি প্রথম সেশনেই শেষ হয়ে গেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ১০৩।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস ২৬৫ (ক্রেগ ব্রাফেট ৯৪, এনক্রুমা বোনার ৩৩, জার্মেইন ব্ল্যাকউড ৬৩। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪/৫৯)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস ২৪৫ (তামিম ইকবাল ২২, মাহমুদুল হাসান ৪২, সাকিব আল হাসান ৬৩, নুরুল হাসান ৬৪। কেমার রোচ ৫/৫৩, আলজারি জোসেফ ৩/৫৫, কাইল মেয়ার্স ২/৩০)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস ৮৮/৩ (জন ক্যাম্পবেল ৫৮*, জার্মেইন ব্ল্যাকউড ২৬*। খালেদ আহমেদ ৩/২৭)।

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কেমার রোচ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

বন্যায় গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত, লাশ দাফনেরও জায়গা নেই

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যতদূর চোখ যায় শুধুই পানি আর পানি। বাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ, কবরস্থান সব জায়গায় ডুবে আছে পানিতে। কোথাও এতটুকু শুকনো জায়গা নেই। ফলে এখন মানুষ মারা গেলে জানাজার কিংবা দাফন সব কিছুতেই বিপত্তি। আপাতত ভরসা রাখতে হচ্ছে কলাগাছের ভেলায়।

শনিবার রাতে মারা যান মোহনগঞ্জের পানুর গ্রামের বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগকর্মী মানিক মিয়া (৩৮)। মৃত্যুর পর তার জানাজা পড়ার স্থান নিয়ে বাঁধে বিপত্তি। কারণ পুরো গ্রামই তলিয়ে আছে বন্যার পানিতে। পরে গ্রামবাসী সিদ্ধান্ত নেয় সমাজ এলাকার রাস্তায় জানাজা পড়ানো হবে। কিন্তু সেখানে লাশ নিয়ে যাওয়া ছিল আরও দুরূহ ব্যাপার।

সমস্যা সমাধানে বানানো হয় কলাগাছের ভেলা। আর সেই ভেলায় করে মানিকের লাশ নেওয়া হয় সমাজ গ্রামের রাস্তায়। রোববার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।

মৃত মানিকের এক ছেলে ও দুই মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র লতিফুর রহমান রতন বলেন, বন্যার পানিতে পানুর গ্রাম ডুবে যাওয়ায় মানিক মিয়ার জানাজা পড়তে সমস্যা হয়। খবর পেয়ে আমি সেখানে ছুটে যাই।

খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, সড়কে শতাধিক পরিবারের আশ্রয়

আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছানোর মতো কোনো নৌযান না পাওয়ায় গবাদি পশু ও পরিবার পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে সড়কের উপর আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক শতাধিক পরিবারের মানুষজন। রোববার বিকালে সরজমিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের পাতাঁরগাঁও থেকে বাদাঘাটগামী সড়কের উপর আশ্রীতদের এমন চিত্রই দেখা গেছে।

সরজমিনে সড়কের উপর থাকা আশ্রয় নেওয়া লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গেল ১৬ জুন বৃহস্পতিবার রাতে হাওড়, নদী ও হাওড়ের পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছানোর মতো নৌযান সুবিধা না পেয়ে বন্যার পানিতে যোগাযোগ যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের পাতারগাঁও-বাদাঘাটগামী সড়কের প্রায় দুই কিলোামিটার সড়ক পথের উপর ত্রিপাল টানিয়ে গবাদী পশু সঙ্গে নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ আশ্রয় নিয়েছেন আশেপাশের গ্রামের কয়েক শতাধিক পরিবারের মানুষজন।

উপজেলার বাদাঘাটের ইসলামপর কালিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ জানান, সড়কে আশ্রয় নেওয় পরিবারগুলো বন্যার পানির প্রকোপে বসত-বাড়িতে টিকতে না পেরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকেই সড়কের উপর আশ্রয় নিয়েছেন।

আশ্রিতদের মধ্যে অনেকেই সড়কের পাশে থাকা নিকটাত্বীয়দের বাড়িতে, বারান্দায় রাত কাঠানোর ঠাঁই করে নিলেও গবাদি পশু (গরু, ছাগল) সড়কের উপর ত্রিপাল (প্লাষ্টিকের চট) টাঙিয়ে ঝড় বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষা করে যাচ্ছেন।

উপজেলার ইসলামপুরের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, সড়কর উপর ও আত্মীয় স্বজনের বসত-বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারেরগুলোর মধ্যে শুকনো খাাবার, শিশু খাদ্য, মোমবাতি, বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বন্যার পর থেকে এসব পরিবারগুলোর মধ্যে সরকার-বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কোনো রকম ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো হয়নি।

ডুবে গেছে সব সড়ক: তাহিরপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে সাত ইউনিয়নের সবকটি কাঁচা পাকা সড়ক পথ ডুবে গেছে।

হাট বাজারে কোমড় পানি: তাহিরপুর উপজেলার সদরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট ব্যতিত ছোট বড় ১৮টি গ্রামীণ হাট বাজারে রোববার রাত অবধি বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বাদাঘাট ব্যতিত সবকটি গ্রামীণ হাটে কোমড় পানি দেখা গেছে। যে কারণে মানুষ প্রয়োজনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারছেন না।

গ্যাসসহ শুকনো খাবারের চড়া দাম: উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারের বন্যার পানি না উঠায় বন্যা কবলিত মানুষজনকে কাবু করতে গ্যাস সিলিন্ডার ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তভোগীরা। শুকনো চিড়া প্রতি কেজি ৯০ টাকা, শুকনো সাদা মুড়ি প্রতি কেজি ৯০ টাকা, মোমবাতি প্রতিটি ৫টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

উপজেলার বড়দল গ্রামের আবু হানিফ জানান, বস-বাড়িতে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হয়নি শনিবার বাদাঘাট বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গেলে এক ডিলার এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আমার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা রেখেছেন।দাম বৃদ্ধিও কারণ জানতে চাইলে ওই ডিলার সাফ জানিয়ে দেন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা হবে না, গ্যাস সিলিন্ডার নেই।

উপজেলার হাফানিয়া গ্রামের শুক্কুর আলী জানান, বাদাঘাট বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গেলে এক ডিলার আমার নিকট থেকে এক সিলিন্ডার গ্যাস ২২৫০ টাকা রেখেছেন। মূল্যবৃদ্ধির কথা জানতে চাইলে সোজা গ্যাস বিক্রি করা হবে না বলে জানালে আমি বাধ্য হয়ে ২২৫০ টাকা দিয়েই গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নিয়ে আসি।

উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাশিম বলেন, বন্যা শুরুর সঙ্গে বাদাঘাটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ৫ টাকার মোমবাতি ১০ টাকা, প্রতি কেজি শুকনো চিড়া, সাদা মুড়ির দাম ৯০টাকা করে রেখেছেন। তিনি বলেন, চিড়া, মুড়ি, মোমবাতির চড়া দাম আদায় করে এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী বন্যা কবলিত মানুষজনের মানবিক বিপর্য়য়ের সময়কাল আরও বিষিয়ে তুলেছেন।

রোববার রাতে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হান কবির জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা, শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এমন মানবিক বিপর্যয়ে তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর পাশে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানান।

বন্যাকে পুঁজি করে গ্যাস সিলিন্ডার, চিড়া, মুড়ি, মোমবাতসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর হঠাৎ চড়া মূল্য আদায়কারীদের ব্যাপারে তালিকা প্রণয়ন করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

রুশ হামলায় ইউক্রেনের জেনারেলসহ ৫০ সেনা নিহত

রাশিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, গত একদিনে রুশ বাহিনী উচ্চমাত্রার ক্রুজ মিসাইল দিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি কমান্ডের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। এতে জেনারেলসহ ৫০ জনের বেশি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

রোববার রুশ বাহিনী দোনেৎস্ক ও খারকিভে আক্রমণ চালায় রাশিয়া। খবর আরটি রিপোর্টের।

মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেনের দোনেপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের শিরোকায়া দাচা গ্রামের কাছে এ হামলা চালানো হয়। স্ট্রাইকটি ওই কম্পাউন্ডে আঘাত হানে, যেখানে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি ইউনিটের কমান্ডাররা একটি বৈঠক করছিলেন।

ইউক্রেনের মাইকোলাইভ শহরে গত ১০ দিনে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে সরবরাহ করা ১০টি হাউইটজার কামান এবং ২০টি সামরিক যান ধ্বংস করার দাবি করেছে রাশিয়া। খবর বিবিসির।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্ব দোনবাসের ক্রেমেনচুক এবং লাইসিচানস্কে অঞ্চলে অবস্থিত ওই তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালানো হয়। ওই তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপো থেকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করা হতো।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থিদের সংঘর্ষ, নিহত ৯০

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থিদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, গত পাঁচ দিনের সংঘর্ষে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে সেনাবাহিনীর অন্তত ৯০ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষে প্রাণ গেছে চার যোদ্ধারও।

রোববার স্থানীয় কয়েকটি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর বরাতে হতাহতের এ খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরাবতি।

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে আছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরাবতির খবরে বলা হয়, গত কয়েক দিনে সাগাইং ও ম্যাগওয়ে অঞ্চলে জান্তাবিরোধী বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)-এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর তীব্র লড়াই হয়েছে।

সাগাইং অঞ্চলের মাইনমুর একটি গ্রামের কাছে ১৬ জুন মেশিনগান সজ্জিত দুটি সামরিক যানবাহনে অতর্কিত হামলা চালায় তারা। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আরেক জায়গায় সামরিক বহরে হামলায় ২০ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পিপলস গেরিলা কমান্ডো (পিজিসি)। মাইন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়।

এর আগে ১৫ জুন সকালে মনিওয়া-আয়ারদাউ হাইওয়েতে পিডিএফের অতর্কিত হামলায় সাত সেনা নিহত হন।

এ বিষয়ে পিডিএফ যোদ্ধা কো দাউং হমান বলেন, আমরা আমাদের জীবন রক্ষা, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং আমাদের জনগণের জন্য লড়াই করছি।

গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সু চি সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলে নেয় সেনাবাহিনী। গৃহবন্দি করা হয় দেশটির নেত্রী অং সান সু চিকে। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাস্তায় নামেন লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক। তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করে জান্তা সরকার।

চলমান আন্দোলনে প্রাণ হারান কয়েক হাজার মানুষ। এর কিছু দিন পরই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় সশস্ত্র আন্দোলন। ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে।

ট্রেনের ইঞ্জিনের নিচে ঝুলে ১৯০ কিমি ভ্রমণ!

ভারতে একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের নিচে ঝুলে এক যুবক ১৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

রোববার রাতে রাজগীর স্টেশন থেকে রওনা হয়েছিল সারনাথ বুদ্ধপূর্ণিমা এক্সপ্রেস ট্রেনটি। সোমবার ভোর ৪টার দিকে গয়া স্টেশনে পৌঁছায় এটি।

তখন ওই যুবকের ঝুলে থাকার বিষয়টি চোখে পড়ে চালকের। গয়া স্টেশনে ট্রেন থামতেই ইঞ্জিনের নিচ থেকে কাতর আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন চালক।

ইঞ্জিনের নিচে উঁকি মারতেই এক যুবককে দেখে চমকে ওঠেন তিনি। তাড়াতাড়ি রেলপুলিশ এবং স্টেশনমাস্টারকে খবর দেন। তার পর যুবককে উদ্ধার করা হয়।
প্ল্যাটফরমে টেনে তুলতেই সেখান থেকে সোজা দৌড়ে পালান সেই যুবক।

কিন্তু কীভাবে ইঞ্জিনের নিচে ঢুকলেন যুবক? কোথা থেকেই বা উঠেছিলেন? যে বিষয়টিতে রেলকর্মীরা সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছেন, ইঞ্জিনের নিচে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কীভাবে শুয়ে থাকলেন ওই যুবক?

তাদের মতে, যে অবস্থায় যুবকটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, ওখানে ওই ভাবে শুয়ে থাকলে কারোই বাঁচা সম্ভব নয়। কিন্তু কীভাবে এই যুবক বেঁচে গেলেন সেটাই স্তম্ভিত করেছে গয়া স্টেশনের রেলকর্মীদের।

রেলসূত্র জানায়, সারনাথ বুদ্ধপূর্ণিমা এক্সপ্রেস রাজগীর থেকে গয়ার মধ্যে ৬টি স্টেশনে দাঁড়ায়। কোথাও ২ মিনিট, কোথাও আবার ১০ মিনিট।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সময়ের মধ্যে কারও পক্ষে ইঞ্জিনের তলায় গিয়ে আশ্রয় নেওয়া সম্ভব নয়। রেলকর্মীদের অনুমান, রাজগীরে থেকেই যুবক ট্রেনে উঠেছেন।

যুবকটির পরিচয় জানা যায়নি। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলেই ধারণা রেলপুলিশের।

আট বছরের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের মূল্যস্ফীতিতে। মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত ৮ বছরের মধ্যে এই বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে। গত এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। মে মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি। তবে সামান্য কমেছে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। রোবাবার এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ব্যাপক বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। যেটি এপ্রিল মাসে ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসে শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হার বেশি। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যেটি এপ্রিল মাসে ছিল ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বিবিএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ব্যাপক বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন কারাগার ও হাসপাতালে উন্নত খাবার

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন টাঙ্গাইল কারাগারের দেড় হাজার কয়েদি ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৭০০ রোগীকে উন্নত মানের খাবার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শিশু ও বাসিন্দাদের মাঝে উন্নত মানের খাবার এবং নতুন পোশাক বিতরণ করা হবে। সকালে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখার আয়োজন, দুপুরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকালে ফুটবল খেলা ও রাতে আতশবাজির আয়োজন করা হবে।

রোববার সকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জেলাপর্যায়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা জানান।

‘প্রস্তাবিত বাজেটেও কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে’

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুবিন ফারহানা বলেছেন, বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার নামে দায়মুক্তির দেওয়া অনৈতিক। টাকা ফেরত আনতে নয়, পাচারকারীদের নিরাপত্তা দিতেই এই ব্যবস্থা। এটা মানিলন্ডারিং আইনেরও পরিপন্থী। বাংলাদেশের ঋণ বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তিনি প্রস্তাবিত বাজেটেও কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা প্রস্তাবিত বাজেটকে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার পথে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, করোনায় আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। বর্তমান মূল্যস্ফীতি সবক্ষেত্রে বেড়েছে। সংকটের তীব্রতা সরকার স্বীকার করে না। দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ বৈধ করা এবং দেশে ফেরত আনার নামে সব থেকে ১৫ শতাংশ হারে কর ধার্য্য করে প্রশ্নাতীতভাবে সেগুলো প্রদর্শনের সুযোগ দেওয় হয়েছে। এতে টাকা ফেরত আসার কোনো কারণ নাই। কারণ যারা টাকা বিদেশে পাচার করে তারা ফেরত আনার জন্য টাকা পাচার করে না। এটি করা হয়েছে যাতে কখনো কোনো দেশ যদি এমন টাকা পাচারকারীদের ধর-পাকড় শুরু করে তখন যেন তারা নিরাপদে টাকা দেশে আনতে পারে।

বাংলাদেশ খুব সতর্ক না হলে শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রীলংকার পর্যালোচনায় যখন বাংলাদেশের কিছু অর্থনীতিবিদ তাদের স্বার্থের চিন্তায় বা ভয়ে বলেছেন বাংলাদেশের শ্রীলংকার পরিস্থিতি হবার কোনো সম্ভাবনাই নাই। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ আমাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন বাংলাদেশের জন্য অবশ্যেই ঝুঁকি আছে। বাংলাদেশ যদি খুব সতর্ক না হয় তাহলে দ্রুতই শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতি হতে পারে।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ৬টি চ্যালেঞ্জের প্রথমটিতেই বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এই খাতে যেটা চিন্তা করেছেন তাতে অর্থমন্ত্রীর অর্থনীতি বোঝাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

রুমিন ফারহানা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হবার কথা। এই দেশে যা হয় সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীর কারণে দাম যত না বাড়ার কথা বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে এসব নিয়ন্ত্রণের কথা বাজেটে নাই। যখন মূল্যস্ফিতি ৬ শতাংশের কিছু বেশি তখন অর্থনীতির বোদ্ধারা বলছে এই মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণেরও বেশি। সমস্যার তীব্রতা যে সরকার বুঝে না, সেই সরকার সমস্যার সমাধান কীভবে করবে জানি না।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ থেকে বড় অংকের টাকা আমদানির নামে ওভার ইনভয়েচিংয়ের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। নির্বাচন এলেই এদেশে টাকা পাচার বাড়ে, এটি গ্লোবাল ফাইনান্স ইনটিগরিটির রিপোর্ট। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে টাকা পাচার ডাবল হয়ে গিয়ে এক লাখ কোটি টাকা ওই এক বছরেই পাচার হয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে সরকার জাতিসংঘে আমদানি রফতানির তথ্য দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। পাচারের এই তথ্য লুকানোর চেষ্টা প্রমাণ করে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ লোকজন এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। অনেকেই এই টাকার হিংস্যা পায়।

রুমিন ফারহানা বলেন, গত বাজেটের মতো এবারো রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পায়রা বন্দর করার প্রয়োজন ছিল না। রামু থেকে কক্সবাজার রেল দরকার ছিল না। আখের গুছিয়ে নিজেদের অনাগত বহু প্রজন্মের রাজকীয় জীবন-যাপন নিশ্চিত করার পর দেশ শ্রীলংকা হলে তাতে কি বা আসে যায় ক্ষমতাসীনদের। তাই এই বাজেট জনগণের স্বার্থবিরোধী।

বন্যার্তদের সাহায্যার্থে জাপার ১০ সদস্যের টিম

বন্যার্তদের সাহায্যার্থে জাতীয় পার্টির ১০ সদস্যের টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপার কো-চেয়ারম্যান সাবেক মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারকে টিম প্রধান করে সিলেটসহ সারা দেশে অসহায় বন্যার্তদের সাহায্য করতে এ টিম গঠনের নির্দেশ দেন পার্টির চেয়ারম্যান জনবন্ধু জিএম কাদের এমপি।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিম গঠনের নির্দেশনা পেয়েই কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হাওলাদার সবার সঙ্গে আলোচনা করে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া অসহায় বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি সিলেটে অসহায় বন্যার্তদের মাঝে তার টিমসহ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছে যাবেন বলে দলীয় চেয়ারম্যানকে আশ্বাস দিয়েছেন।