রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 241

শিক্ষা ব্যবস্থা দলীয়করণের কারণে শিক্ষকরা লাঞ্চিত হচ্ছেন

শিক্ষা ব্যবস্থা দলীয়করণের কারণে শিক্ষকরা লাঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।

তারা বলেছেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম নৈরাজ্য চলছে। শিক্ষকদের ছত্র-ছায়ায় মাস্তানি করছে ছাত্ররা। তাদের হাতে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। দলীয়করণের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এ সময় নড়াইলে অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক লাঞ্চিত ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হচ্ছে? এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘ডাক্তার-প্রকৌশলী বানাচ্ছি, কিন্তু মানুষ বানাচ্ছি কতগুলো।’ দায়িত্ব তো উনিও এড়াতে পারেন না। উনি তো ঢাবির ভিসি ছিলেন। তার কোনো গবেষণা ছিল না। ডক্টর ডিগ্রি নেই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পেয়েছেন। সমস্যাটা এখানে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসবে, সেই দলের শিক্ষকদের পদোন্নতি হবে। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় একশ্রেণির ছাত্রনেতারা মাস্তান হয়ে যায়।

নড়াইলে অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, নড়াইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জুতোর মালা দিয়ে ঘুরানো হয়েছে। তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। সাভারে একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী কিশোর গ্যাংয়ের কাছে ‘দাদা’ বলে পরিচিত। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্য তার আত্মীয়, আরেকজন শিক্ষক তাকে প্ররোচিত করেছেন। সেই শিক্ষক আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। শিক্ষার জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একই দলের ফখরুল ইমামের সমালোচনার জবাবে ফিরোজ রশীদ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা নিয়ে তো কথা বাড়ানোর দরকার নেই। হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরিয়ে ছেড়ে দেবেন। এই দেশে এটা তো হবে না। এগুলো বাদ দিয়ে আসল শিক্ষায় আসেন। শুধু শিক্ষার মান নয়, নৈতিকতাও কমেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকেও শক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা র‌্যাংকিংয়ে আমরা কোন জায়গায় আছি? পাঁচ হাজারের মধ্যেও নেই। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবে চলছে। এবিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান নিচে নেমে গেছে। সবক্ষেত্রে অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। এর কারণ জবাবদিহিতার অভাব। তিনি বেসরকারি শিক্ষায় করারোপ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে মানটাই বড় সমস্যা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার মানে ক্রম অবনমন। র‌্যাংকিংয়ে ধস নেমেছে। বর্তমান সরকার দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকলেও আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ের জন্য কোন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

মুজিবুল হক বলেন, বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১৮-২০ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী জব মার্কেটে প্রবেশ করেন। তারমধ্যে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৫-৬ লাখের কর্মসংস্থান হয়। বাকি সবাই থাকে বেকার। এই বেকারের মধ্যে শিক্ষিত বেকার। যে শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকারত্ব তৈরি করে, কর্মবিমুখ যে শিক্ষা ব্যবস্থা, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা কেন রাখবো? কর্মবিমুখ শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।

জবি ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান, সম্পাদক সুজন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসলামকে সভাপতি ও সুজন মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির অন্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহিম কবির (মিঠু), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আরেফিন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জবি শাখা ছাত্রদলের কমিটি হয়। এতে রফিকুল ইসলাম রফিককে সভাপতি ও আসিফ রহমান বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। গত বছরের ১৫ অক্টোবর জবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

‘দু’তিন বছরে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে সম্মানজনক স্থানে উন্নীত হবে ঢাবি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন আজ। ১০১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পেরিয়ে প্রৌঢ়ে পৌছানো উপমহাদেশের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি আজও স্বমহিমায় ভাস্বর। দেশসেরা এই বিদ্যাপীঠ বৃটিশ আমল থেকে বহু ঘটনার স্বাক্ষী। একটি জাতিরাষ্ট্র তৈরির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সব অর্জনের পেছনে গৌরবজনক ও অনুঘটকের ভূমিকা রেখেছে।

বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনন্য। শিক্ষা-গবেষণার পাশাপাশি যেকোনো সময়-দু:সময়-সঙ্কটে জাতিকে দিশা দিয়ে আসছে এই বিদ্যাপীঠ। সারা দুনিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেটি কিনা একটি জাতিকে স্বাধীন দেশের পতাকা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করার নজির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেই। বাঙালির স্বাধীনতার রক্ষাকবচ তথা সবচেয়ে বড় অর্জন একাত্তরের মুক্তির সংগ্রামের আঁতুরঘর এই বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার ছাত্র-শিক্ষকরা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। মুক্তির সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এত সংখ্যক শিক্ষকের রক্ত দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আজও অম্লান।

বৃটিশ শাসনামলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বার উন্মুক্ত হয়। সে সময়কার ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলের মানুষগুলোর কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ধারণ করে স্বগৌরবে শতাব্দী ধরে এগিয়ে চলেছে, তার এই পথচলা নিরন্তর। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনীতিসহ আমাদের সব অর্জনে সামনে থেকে পথ দেখানোর পাশাপাশি শিক্ষা-গবেষণায়ও রেখেছে অসামান্য অবদান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, কালক্রমে সঠিক একাডেমিক পরিকল্পনার অভাব, বাজেট স্বল্পতা, আবাসন সঙ্কট, দলীয়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি, প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকাসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ তথা গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টি থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে ঢাবি।
এরই চিত্র ফুটে উঠছে র‌্যাংকিংগুলোতে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে। সারাবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাং কিং নির্ণয় করা গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস)। এটি গত ১০ জুন ২০২৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিং প্রকাশ করেছে। এতে ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও স্থান হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)। টানা পঞ্চমবার কিউএস র্যা ঙ্কিংয়ে ৮০১ থেকে ১০০০তম অবস্থানে রয়েছে দেশসেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়৷

‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যা ঙ্কিংস ২০২৩: টপ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিস’ শীর্ষক এই র্যা ঙ্কিংয়ে সেরা ৫০০-এর পরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয় না। এ কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে কত নম্বরে, তা উল্লেখ করেনি কিউএস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০তম—এর অর্থ হচ্ছে এটি র্যা ঙ্কিংয়ের সেরা ১০০০-এর শেষ ২০০-তে অবস্থান করছে।

এই র্যা ঙ্কিংয়ে এখন আটটি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। প্রতিটি সূচকে ১০০ করে স্কোর থাকে। সব সূচকের যোগফলের গড়ের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর নির্ধারিত হয়।

র্যাং কিংয়ে গত ১০ বছরের মতো এবারও প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

র্যাং কিংয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৪৪টি ও পাকিস্তানের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ভারতের নয়টি ও পাকিস্তানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে বিশ্বসেরা ৪০০ এর মধ্যে। এবার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সাইন্সের অবস্থান ১৫৫তম, গতবার যেটি ১৮৬তম ছিল। অথচ আমাদের সেরা প্রতিষ্ঠানটির নাম নেই র্যাং কিংয়ের ৮০০’র মধ্যেও।

বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক দশক আগেও বিশ্ব র্যাং কিংয়ে ঢাবি সন্তোষজনক অবস্থায় ছিল। ২০১২ সালে কিউএস’র তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ৬০১ এর মধ্যে। ২০১৪ সালে তা পিছিয়ে ৭০১তম অবস্থানের পরে চলে যায়। ২০১৯ সালে তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও পেছনের দিকে চলে যায়।

র্যাং কিংয়ে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে এর সামগ্রিক সুলোক সন্ধানে জানা গেছে, যে ৮টি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরমেন্স খুবই নাজুক।

র্যাং কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়ার কারণ ও এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের সঙ্গে।

যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কীভাবে র্যাং কিংয়ে এগোনো যাবে সে বিষয়েও সুচিন্তিত মত দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, র্যাং কিংয়ে এগোনোর লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি যেসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন করছে তাতে আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে বিশ্ব র্যাং কিংয়ে সম্মানজনক জায়গায় থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো—

কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিংয়ে বিশ্বসেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এবারও স্থান হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে আপনার কাছে এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক মাকসুদ কামাল: র্যাং কিংয়ের মধ্য দিয়ে পৃথিবীব্যাপী যে স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে তার প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় হয়। বিশ্ব শিক্ষা মানচিত্রে কোনো একটি দেশের ক্রাইটেরিয়ার উপর ভিত্তি করে যে ইন্ডিকেটরগুলো আছে তার উপর ভিত্তি করে সার্ভে করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা অবস্থান নির্ণয় করা হয়। কিউএস র্যাং কিং অথবা টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাং কিং দুটোতেই আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে আছে।
পৃথিবীতে রিসার্চ ইনটেনসিভ যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে সেগুলো বৈশ্বিক র্যাং কিংয়ে এগিয়ে আছে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রিসার্চ ইনটেনসিভ বিশ্ববিদ্যালয় না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সাধারণত আমরা সার্টিফিকেট প্রোভাইডিং ইউনিভার্সিটি হিসেবে গড়ে তোলেছি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্রভাবে কিছু একটা করবে সেভাব তাদের গড়ে না তোলে তাদেরকে চাকরি নেওয়ার জন্য তৈরি করেছি। চাকরির জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি করার মানেই হচ্ছে এখানে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং স্বতন্ত্রভাবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার জন্য যে গুণাবলীগুলো দরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অবকাঠামো দরকার তথা একাডেমিক ও রিসার্চ অবকাঠামো দরকার—এ ধরনের শূন্যতা আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রয়েছে। এসবের অভাবে র্যাং কিংয়ের সূচকগুলোতে আমরা পিছিয়ে আছি।
যুগান্তর: বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিং করার ক্ষেত্রে কোন কোন সূচক মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়?

মাকসুদ কামাল: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো র্যাং কিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সূচক রয়েছে। কিএস র্যাং কিংয়ে একাডেমিক সুনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। জ্ঞানের আদান-প্রদানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজ দেশে ও বিশ্বব্যাপী কতটুকু পরিচিত। বিদেশের কোনো শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসে কিনা সেটি দেখা হয়। শিক্ষাটা মানসম্মত ও যুগোপযোগী কিনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয় পড়ানো হয় সেগুলো থেকে পাস করে নিজ দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে কী পরিমাণ শিক্ষার্থী চাকরি পাচ্ছে সেটি দেখা হয়।
দু:খের বিষয় হচ্ছে-আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটা আমরা নিজ দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে পারি নাই। এ কারণে র্যাং কিংয়ে একাডেমিক সুনাম সূচকে যে নম্বর আছে তাতে আমাদের স্কোর অনেক কম হয়।
র্যাং কিংয়ের ক্ষেত্রে সূচকে এমপ্লয়ার রেপুটেশনটাো দেখা হয়। এতে ১০ নম্বর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াটা কতটা স্বচ্ছ, শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া কতটা মানসম্মত, প্রতিযোগিতামূলক কিনা সেটি দেখা হয়।
যুগান্তর: ঢাবিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ?

মাকসুদ কামাল: শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা এগিয়ে আছি। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশের সেরাদের সেরা শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মেধাবীদের মধ্যে মেধাবী, একাডেমিক ফল যাদের ঈর্ষণীয়, যাদের গবেষণা করার মতো মনোভাব আছে তাদেরকে শিক্ষক হিসেবে এখন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা এগিয়ে থাকলেও যেখানে আমরা পিছিয়ে সেটি হচ্ছে একাডেমিক রেপুটেশন। যেখানে নম্বর ৪০।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস সাইজ অনেক বড়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিথস্ক্রিয়া প্রায়ই হয় না বলে অভিযোগ।
মাকসুদ কামাল: আমি আসছি সে বিষয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত। সাধারণত প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকাটাকেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক র্যাং কিংয়ে এগিয়ে তাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কোথাও ৮: ১, ৭: ১। এমনও বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে ৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন ফ্যাকাল্টি রয়েছেন।
অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আমরা নম্বর পাই না। র্যাং কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার এটিও একটি কারণ।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) টিচিং লোড ক্যালকুলেশনের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা ইউজিসিকে সব ধরনের সহায়তা করছি। টিচিং লোড ক্যালকুলেশন কমিটির আমি একজন সদস্য। কমিটি একটা নীতিমালা করছে। সেখানে একজন শিক্ষক একটিভ টিচিং আওয়ারের পাশাপাশি গবেষণায় কতটুকু সময় দেবেন, লেকচার তৈরিতে কতটুকু সময় দেবেন, লাইব্রেরিতে কতটুকু সময় দেবেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কনসালটেশনে কতটুকু সময় দেবেন এগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউজিসি যে নীতিমালা করছে তাতে ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক পাওয়া যাবে। এটি বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকিংয়ের এই সূচকেও আমরা ভালো করব।

যুগান্তর: র্যাং কিংকে আর কোন সূচকে ঢাবি পিছিয়ে?

মাকসুদ কামাল: র্যাং কিংয়ের ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় দেখা হয় সেটি হচ্ছে-সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক জার্নালে কোনো প্রবন্ধ যদি প্রকাশিত হয় সেই প্রবন্ধ যখন অন্যরা রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে সেটাকে সাইটেশন বলা হয়। সাইটেশন সূচকের জন্য ২০ নম্বর বরাদ্দ।
আন্তর্জাতিক জার্নালে কোনো প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার আগে ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেনটিফায়ারের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা হয়। আন্তর্জাতিক জার্নালের সেই প্রবন্ধগুলো অন্যরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে এবং গবেষণায় আমরা পিছিয়ে আছি। গবেষণাকে উদ্বুদ্ধ করতে ও জনপ্রিয় করতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষকে সামনে রেখে একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমাদের শিক্ষকরা ৫০০ গবেষণা পরিচালনা করছেন। সেখানে শিক্ষকদের বলে দেওয়া আছে প্রত্যেক শিক্ষক তার গবেষণা থেকে অন্তত একটি প্রকাশনা করবেন। সেই প্রকাশনা ইনডেক্স জার্নাল তথা যেগুলোর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর রয়েছে তাতে প্রকাশ করতে হবে। এতে করে দেখা যাচ্ছে, আমাদের মানসম্মত ৫০০ প্রকাশনা হয়ে যাচ্ছে। এসব প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পন্ন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিবিলিটি ও সাইটেশন বাড়বে। এতে র্যাং কিংয়েও দ্রুত উন্নতি করা যাবে।
আগে গবেষণা ও প্রকাশনাকে আমাদের এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি জার্নালকে ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেনটিফায়ার দিয়ে যাচাই করেছি। লন্ডনের ক্রস রেপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ একাডেমিক অব সাইন্সের বাংলাজলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রস রেপের মাধ্যমে ওই ১১টি জার্নালকে ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেনটিফায়ারের আওতায় এনেছি।
ইনডাস্ট্রি ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড একাডেমিয়ার কোলাবোরেশন ও কো-অপারেশরেনর একটা কাজ আমরা শুরু করেছি। ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা একটা গবেষণা মেলা (রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন ফেয়ার) করতে যাচ্ছি, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম। এই মেলায় আমাদের জার্নালগুলো দেখাব। শিক্ষকদের যে গ্রাউন্ড ব্রেকিং পাবলিকেশনগুলো আছে, সেগুলো সেখানে দেখাব।
এভাবে র্যাং কিংয়ে ভালো করার ক্ষেত্রে আমাদের যেসব দুর্বলতা অতীতে ছিল সেগুলো কাটিয়ে উঠতে আমরা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। তারই একটা অংশ হলো আমাদের রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন ফেয়ার।

ঢাবিতে আগে বিদেশ থেকে অনেকে পড়তে আসত। এখন তাদের চোখে পড়ে না। কারণ কী?

মাকসুদ কামাল: আমি সে বিষয়ে আসছি। র্যাং কিংয়ে আরেকটি বিষয় হচ্ছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশের শিক্ষার্থী কতজন আছেন। অতীতে নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতেন। এখন এক্ষেত্রে অন্যরা এগিয়ে গেছে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। এর কারণ হচ্ছে উপরোল্লিখিত সূচকগুলোতে পিছিয়ে পড়ার কারণে বিদেশের শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন না। এখানে ৫ নম্বর, যাতে কোনো নম্বর আমরা পাই না। এ ধরনের দূর্বলতার কারণে এবং জ্ঞান আহরণের যে পরিবেশ প্রয়োজন সেটির অবর্তমানে আমাদের এখানে বিদেশি শিক্ষার্থীরা আসছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিংয়ে আরেকটি সূচক হচ্ছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশের কতজন শিক্ষক আছেন। এখানে ৫ নম্বর। দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিদেশি শিক্ষক নেই। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বাংলাদেশের যেসব নাগরিক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন তারা যেন দেশে আসেন। তারা যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন, গবেষণা করেন। ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি আনার উদ্যোগ অতীতে আমাদের ছিল না।

ঢাবি বিশ্ব র্যাং কিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পেৌছতে কত সময় লাগবে বলে আপনি মনে করেন?

মাকসুদ কামাল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত কয়েক বছর ধরে যে পরিকল্পনাগুলো করেছে এবং ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করছে এই বাস্তবায়নের ফল আপনারা নিকট ভবিষ্যতে দেখতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি আগামী দুই তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয় র্যাং কিংয়ে একটি সম্মানজনক জায়গায় নিজেকে উন্নীত করতে পারবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বের সব বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্লান থাকে? ঢাবির নেই কেন?

মাকসুদ কামাল: শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আমাদের দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই সঠিক একাডেমিক প্লান নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এখন পর্যন্ত সঠিক একাডেমিক পরিকল্পনা কী হবে সেটি উপস্থাপন করতে পারেননি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন সেই পরিকল্পনাটা করতে যাচ্ছি। একাডেমিক প্লান তৈরি করার জন্য জ্যেষ্ঠ ও প্রথিতযশা শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করেছি। সেই কমিটি তিন মাসের মধ্যেই আমাদেরকে একটা পরিকল্পনা দেবে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা আগামী ৫ কিংবা ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোন মানে উন্নীত করব সেই রোডম্যাপ ঠিক করব।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মাকসুদ কামাল: আপনাকে এবং যুগান্তরকে অনেক ধন্যবাদ।

কুরবানির হাটে মানতে হবে ১৬ নির্দেশনা

আসন্ন ঈদুল‌ আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বসা কুরবানির হাটগুলো ১৬টি নির্দেশনা মেনে পরিচালনা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে কুরবানির হাটের ইজারাদার, ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য অনুসরণীয় এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

কুরবানির হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

১। হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কোনো অবস্থায় বদ্ধ জায়গায় হাট বসানো যাবে না।

২। ইজারাদারের হাট বসানোর আগে মহামারি প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন-মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল সাবান/সাধারণ সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩। কুরবানির হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাট কমিটির সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাট কমিটির সবার ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৪। হাটের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিয়ষগুলো যেমন মাস্কের সঠিক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, জীবাণুমুক্তকরণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিসমূহ সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে।

৫। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাট কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন বা এর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন।

৬। প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করতে হবে।

৭। কুরবানির হাটে প্রবেশের জন্য গেট (প্রবেশপথ ও বাহিরপথ) নির্দিষ্ট করতে হবে।

৮। পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা যাবে না।

৯। প্রতিটি হাটে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের এক বা একাধিক ভ্রাম্যমাণ স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মেডিকেল টিমের কাছে শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে হাটে আসা সন্দেহজনক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখার জন্য প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট (একটি আলাদা কক্ষ) রাখা যেতে পারে।

১০. একটি পশুর থেকে আরেকটা পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতালা কমপক্ষে তিন ফুট বা দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু কিনতে পারেন।

১১। ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

১২। মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর সময় যেন কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। লাইনে তিন ফুট বা কমপক্ষে দুই হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিতে হবে।

১৩। সব পশু একত্রে হাটে প্রবেশ না করিয়ে, হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশ করাতে হবে।

১৪। হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করা সম্ভব, এমন সংখ্যক ক্রেতাকে হাটে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অবশিষ্ট ক্রেতারা হাটের বাইরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করবেন। একটি পশু কেনার জন্য এক বা দুই জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশ করবেন না।

১৫। অনলাইনে পশু কেনা-বেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

১৬। স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শ্রঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সব কাজ নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে চার হাজার ৪০৭টি কোরবানির হাট বসবে।

এলাকায় কিশোর গ্যাং রয়েছে জিতুর

আশুলিয়ায় শিক্ষককে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান আসামি স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ‘জিতু দাদা‘ নামে একটি কিশোর গ্যাং তৈরি করেছে সে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাকে কিছু বলার সাহস পেতেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কেউ।

২৫ জুন দুপুরে আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ঘটা ওই ঘটনার পরদিন মারা যান শিক্ষক উৎপল কুমার। এ ঘটনার পর এলাকা ত্যাগ করা জিতুকে বুধবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র্যা ব।

এ ঘটনায় হওয়া মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। উৎপলের মৃত্যুর পর তার ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। সেই মামলাতেই জিতুকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের এই ছেলে ‘জিতু দাদা’ নামে একটি কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিল।

সে বিভিন্ন সময় মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঘুরত, মানুষকে হেনস্তা করত। তার বিরুদ্ধে বিচার দেওয়া হলে উলটো ভয়ভীতি দেখাত। বিচারপ্রার্থীর বাড়ির সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন দিত।

জিতুর এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেছে। স্কুলের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসাবে উৎপল কুমার সরকার চেষ্টা করেছেন জিতুকে ‘কাউন্সেলিং’ করতে এবং এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখতে।

কিছু দিন আগে জিতু কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতরে ঘোরাঘুরি করে। শিক্ষক উৎপল শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসাবে জিতু ও ওই ছাত্রীকে বোঝান। জিতু স্কুল প্রাঙ্গণে ধূমপান করত, অদ্ভুত স্টাইলে চুল রাখত।

বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেলে কলেজে প্রবেশ করত। এসব না করার জন্য জিতুকে অনেকবার বলেছেন উৎপল। এসব কারণে ক্ষোভ ছিল জিতুর। আর সর্বশেষ যোগ হয় ওই ছাত্রীকে নিয়ে ঘোরাফেরার ঘটনা।

ছাত্রীর সামনেই হিরোইজম দেখানোর জন্য ২৫ জুন পরিকল্পনা করে বাসা থেকে স্টাম্প নিয়ে স্কুলে যায় জিতু। শ্রেণিকক্ষের পেছনে সেটি লুকিয়ে রাখে। একপর্যায়ে উৎপলকে আঘাত করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে।

উৎপল সে সময় মাঠে ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করছিলেন। মাঠের এক কোণে একা পেয়ে পেছন থেকে শিক্ষককে আঘাত করে জিতু।

এরপর এলোপাতাড়ি আরও আঘাত করে স্কুল ছেড়ে এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয় সে। সন্ধ্যায় জানাজানি হয়, শিক্ষক উৎপলের অবস্থা গুরুতর। এরপরই জিতু মানিকগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।

পর্তুগালে জাতিসংঘের মহাসাগর সম্মেলনে বাংলাদেশ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ১৪০টি দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে ২৭ জুন জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসাগর সম্মেলন ২০২২ শুরু হয়েছে। এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশেও অংশগ্রহণ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খোরশেদ আলম (বিএন), পর্তুগাল নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান এবং দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব আব্দুল্লাহ আল রাজি ও আলমগীর হোসেনসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগদান করে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল উদ্বোধনী দিনে অ্যাড্রেসিং মেরিন সলিউশন শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এবং ২৮ জুন টেকসই সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির প্রচার শক্তিশালীকরণ (বিশেষ করে ক্ষুদ্র দ্বীপের উন্নয়নশীল দেশ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য) শীর্ষক ইন্টারঅ্যাকটিভ সংলাপে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে অংশ নেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রদান করার জন্য সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন আগামী ৩০ জুন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বিবৃতি প্রদান করবেন। তাছাড়া তিনি পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোয়াও গোমেজ ক্রাভিনহোর সাথে দ্বীপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্তুগালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের স্থায়ী চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন করবেন বলেও দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং উদ্ভাবনী নতুন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্র সংরক্ষণের কৌশলগত করণীয় নির্ধারণে জাতিসংঘের এটি দ্বিতীয় আয়োজন।

কাতার বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে থাকবেন বাংলাদেশি নারী ডাক্তার

কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপের কর্মযজ্ঞ ও অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই জড়িয়ে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান। এবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল আসরে খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন বাংলাদেশি নারী ডাক্তার আয়শা পারভিন। ফেলোর মেডিকেল টিমের দায়িত্বে থাকার কথা রয়েছে তার। এর আগে কাতারের দোহার স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ ফিফা আরব কাপে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

আরব কাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে দায়িত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এ বাংলাদেশি চিকিৎসক বলেন, প্রতিটি ফুটবল কাপে সাধারণত পুরুষ চিকিৎসক থাকে। কিন্তু ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী পুরুষের পাশাপাশি মহিলা চিকিৎসকও রাখার নিয়ম করা হয়েছে। এ অনুযায়ী আরব কাপে কাতারে ছয় স্টেডিয়ামে একজন করে নারী চিকিৎসক রাখা হয়। যার মধ্যে স্টেডিয়াম ৯৭৪’র দায়িত্বে ছিলাম আমি। তাই আশা করছি বিশ্বকাপেও এই স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকতে পারবো।

পেশাদারিত্বের কাছে হার মেনেছে আবেগ। ২০২১ সালে তারকা ফুটবলারদের খেলা দেখেছেন একেবারে কাছ থেকে। দিয়েছেন চিকিৎসা সেবাও। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচে পেশাদারিত্বের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন তিনি। ফুটবলারদের সুস্থতা নিশ্চিতে আয়শা পারভিন বলেন, ফিজিশিয়ানের দায়িত্ব পালনের কারণে অনেক বিখ্যাত ফুটবলারদের খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। কিন্তু নিজের আবেগকে দমিয়ে রেখে পেশাদারিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ ফুটবলারদের সুস্থতা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। সবসময় তা করার চেষ্ঠা করেছি।
আরব কাপে ৯৭৪ স্টেডিয়ামের মেডিকেল টিমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন আয়শা পারভিন। বিশ্বকাপের জন্য এখনো চূড়ান্ত ডাক না পেলেও প্রশিক্ষণ বা নানা কার্যক্রমে আশা করা যায় সেই একই ভেন্যুতে থাকছেন আয়শা পারভিন।

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে কাতার গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন আয়শা। এখন সেখানেই চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। এমন পেশায় জড়িত থাকায় গর্ব করছেন তার পরিবার, দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

তিনি বলেন, কাতারে শুধুমাত্র শ্রমিকরাই আসেন এমন ধারণা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। কারণ কাতারের শুধু শ্রমিক নয়, এর বাইরেও অনেক উচ্চরত পর্যায় কাজ করছে বাংলাদেশিরা। আমি আমার কাজের মাধ্যমে এ ভুল ধারণা ভাঙ্গার চেষ্টা করছি।

কাতারের বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন বলেন, কাতারের ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি স্তরের জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশিরা। আয়শা পারভিন এ ধরনের বড় আয়োজনে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে শুনে আমি অনেক আনন্দিত।

শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়ে কেন? কী করবেন

দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকার পর শরীরে অনেক সময় পরিবর্তন দেখা দেয়। পা ফেলতে কষ্ট হয়, জয়েন্টে ব্যথা হয়।

যখন শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায় তখনই এই সমস্যা হয়। রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.০-৭.০ মি.গ্রা./ ডি.এল এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.৪-৫.৭ মি.গ্রা./ডি.এল।

ইউরিক এসিড হচ্ছে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কার্বনের হেটারোসাইক্লিক যৌগিক পদার্থ। এটি মানবদেহের অ্যান্ড কম্পাউন্ড, যা কিডনি দ্বারা ফিল্টারেট হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়। যদি কোনো কারণে এই ইউরিক এসিড তৈরির প্রক্রিয়ায় গোলমাল হয় বা কিডনি দ্বারা কম বের হয় তখন রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আল রাজি হাসপাতালের কনসালটেন্ট (পথ্য ও পুষ্টি) তামান্না রুবিন।

বেশকিছু কারণে শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ডাইইউরেটিক, এ্যালকোহল, অবিসিটি বা ওজনাধিক্য, কিডনির সমস্যা, হাইপোথাইরয়েডিজম, সোরিয়াসিস বা পাঁচড়া জাতীয় চর্মরোগ, জেনেটিকস, টিউমার, লাইসিস সিন্ড্রোম, ইমিউন সাপ্রেসিং ড্রাগস, নায়াসিন বা ভিটামিন বি-৩, অতিরিক্ত পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার ইত্যাদি।

রক্তের ইউরিক এসিডের ৩ ভাগের ২ ভাগ আসে দেহের পিউরিন নামক পদার্থ ভেঙ্গে এবং ১ ভাগ আসে খাবার থেকে। খাবারে থাকা পিউরিন এবং প্রোটিন ডিগ্রেডেশন শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই বাড়তি ইউরিক এসিড শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। কারো কারো ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিক এসিড অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে হাইপার ইউরেসিমিয়া বলে।

তখন বাড়তি ইউরিক এসিড জয়েন্ট বা গিড়ায় ক্রিস্টাল সৃষ্টি করে, গিড়ায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং লাল হয়ে ফুলে যায়, জ্বালাপোড়া করে। এই অবস্থাকে গাউট বা গেঁটে বাত বলে। শুরুতে গাউটে একটিমাত্র গিরা বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল আক্রান্ত হয়। এ ছাড়াও ইউরিক এসিডের কারণে আর্থ্রাইটিস, জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস, মেটাবলিক এসিডোসিস, কিডনি স্টোনও হতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে গিয়ে টেস্ট করিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে সঠিক ডায়েট। ডায়েটের মাধ্যমে খুব সহজেই রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা কমিয়ে ফেলা যায়। কারণ, খাবারে পিউরিনের মাত্রা বা পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে ইউরিক এসিডের মাত্রা অনেক গুণ বেড়ে যায়। ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিক করতে কিছু খাদ্য খাদ্য তালিকা থেকে বর্জন করা উচিত।

যে খাবারে ইউরিক এসিড বেশি থাকে

* সামুদ্রিক মাছ, গরু ও খাসির মাংস, হাঁস বা ভেড়ার মাংস, কলিজা, মগজ, ফুসফুস, গুর্দা, মাশরুম, মুরগির চামড়া, চিংড়ি, কাঁকড়া, শুঁটকি, ইলিশ মাছ, মাংসের স্যুপ, পায়া, মাছের কাঁটা, মাছের ডিম।

* মসুর ডাল, মাষকলাই ডাল, মটর, চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, তিল, সিমের বীচি।

* পুঁই শাক, পালং শাক, মুলা শাক, পাট শাক।

* মুলা, ঢ়েঁড়স, মিষ্টি কুমড়া, বীচি জাতীয় খাবার, মিষ্টি আলু, ওলকপি, বিট, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, সজনে, সিম, বরবটি, কাঁঠালের বীচি, সিমের বীচি, বেগুন।

* সব ডাল, বাদাম ও বাদাম জাতীয় খাদ্য, লবণ যুক্ত খাদ্য, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও তেলে ভাজা খাবার, হাঁসের ডিম, কফি, আচার, ইস্ট বা ইস্টের তৈরি যে কোনো খাবার, পনির।

যে খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে

* প্রোটিন- যেহেতু এ সব রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটিন জাতীয় খাবার বর্জন করার পরামর্শ দেয়া হয় তাই সারা দিনের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মিঠা পানির মাছ ও চামড়া ছাড়া মুরগী, ডিমের সাদা অংশ, টক দই, দুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

* শাক- লাল শাক, ডাটা শাক, সরিষা শাক, লাউ শাক।

* সবজি- কাঁকরোল, পেঁপে, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, পটল, করলা (অবশ্যই বীচি ছাড়া)।

* ফল- সবুজ আপেল, নাশপাতি, পাকা পেঁপে, বীচি ছাড়া পেয়ারা, বীচি ছাড়া পাকা বেল।

* অন্যান্য- চাল, আটা, ময়দা, সুজি, ভুট্টা, সেমাই, চিড়া, মুড়ি, কর্নফ্লেক্স, সাবুদানা, মুগ ডাল (অল্প পরিমাণে)।

* পানি- অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলবেন না। পানি আপনার শরীরের ইউরিক এসিডকে ইউরিনের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে ফেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে।

সঠিক ডায়েটের পাশাপাশি ‘থেরাপিউটিক ফুড’ ইউরিক এসিডকে কমিয়ে দিতে ভালো কাজ করে

* ১ গ্লাস লাউয়ের জুস, ১ চামচ মৌরির গুঁড়া, ২/৩টি গোল মরিচের গুঁড়া ভালোভাবে মিক্স করে সকালবেলার নাশতার সময় খেতে পারেন। উপকারিতা- এতে ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ আছে, যা ডিটক্সিফিকেশন হিসেবে কাজ করে বডির ইউরিক এসিডকে কমিয়ে দেয়।

* ২০০ মিলি পানির সঙ্গে ২ চা চামচ মেথি রাতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে পানি ছেঁকে নিয়ে মেথিগুলো পেস্ট বানিয়ে সেই ২০০ মিলি পানির সঙ্গে জ্বাল করে ফুটাতে হবে। এই পানীয় সকালের নাশতা খাবার ১০-১৫ মিনিট আগে খেতে হবে। উপকারিতা- আয়রন খুব বেশি থাকে এবং ব্যথা দূর করে।

* ১ চামচ মধুর সঙ্গে ১ চামচ কালো জিরার তেল মিক্সড করে ১০-১৫ দিন খেতে পারেন। উপকারিতা- ব্যথা দূর করতে বেশ কার্যকারী।

* দৈনিক কাঁচা রসুন খেতে পারেন ৫/৬টি কোয়া। উপকারিতা- ব্যথা দূর করতে কার্যকারী।

সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমে গেলে ২ মাস পর আবার রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা পরীক্ষা করুন। ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিক হলেও সহসাই আবার বাদকৃত খাবারগুলাকে খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না, ধীরে ধীরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে স্বাভাবিক খাদ্য তালিকায় ফিরে যেতে হবে। রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে অবশ্যই সঠিক ডায়েট ঠিক করে ফেলুন যা খুব সহজেই ব্যথামুক্ত এবং অতিশিগগির সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করবে।

অস্কার কমিটিতে কাজল-সুরিয়াকে আমন্ত্রণ

অস্কার কমিটিতে এ বছর অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৯৭ শিল্পী, লেখক, নির্মাতা, প্রযোজকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ তালিকায় আছে বলিউড অভিনেত্রী কাজল এবং তামিল অভিনেতা সুরিয়ার নাম।

বলিউড অভিনেত্রী কাজল ও দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সুরিয়াকে অস্কার কমিটির সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে দ্য অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স। অ্যাকাডেমির আমন্ত্রণের তালিকায় রয়েছেন অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত ৭১ জন এবং ১৫ জন অস্কারজয়ী।

জানা গেছে, পেশাগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং সমতার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে। তালিকায় কাজল ও সুরিয়া ছাড়াও ভারতীয়দের মধ্য আরও আছেন অস্কারে মনোনয়নপ্রাপ্ত ‘রাইটিং উইথ ফায়ার’ নির্মাতা সুশ্মিত ঘোষ, রিতু থমাস, ‘গল্লি বয়’-এর লেখক রিমা কাগতি এবং ইন্ডিয়ান-আমেরিকান প্রযোজক আদিত্য সুদ।

ভারতের শিল্পীরা ছাড়াও এ তালিকায় আছে বিশ্বের নামিদামি সব শিল্পীর নাম। তাদের মাঝে আছেন ‘দ্য কুইন্স অব গ্যামবিট’খ্যাত অ্যানা টেলর-জয়, বিলি আইলিশ, জ্যামি ডরনান ও অস্কারজয়ী ‘কোডা’ তারকা ট্রয় কটসার।

এ ছাড়া আমন্ত্রণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ হলেন নারী এবং বাকি ৩৭ শতাংশ রয়েছেন কিছুটা সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর মানুষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ৫৪ দেশ থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ সদস্য গ্রহণ করা হয়েছে ৷

উল্লেখ্য, এই কমিটিতে আগে থেকেই সদস্য হিসাবে মনোনীত এআর রহমান, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, বিদ্যা বালান, আমির খান এবং সালমন খানসহ অন্যরা।

সংসদে বক্তব্যের ফাঁকে গান, যা বললেন মমতাজ

ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগমের গানে মাতল পুরো জাতীয় সংসদ। হাততালি দিয়ে তাতে সমর্থন জোগালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এমন দৃশ্য ফুটে উঠল।

এদিন বাজেট অধিবেশনের ওপর বক্তব্য রাখেন মমতাজ। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পদ্মা সেতু নিয়ে করা তিনটি গানের অংশ বিশেষ গেয়ে শোনান মমতাজ।

এ ছাড়া আবৃত্তি করেন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অফিসিয়াল থিম সংটি। মমতাজের এমন পরিবেশনায় মুগ্ধ হন সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেকেই।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বাসটা ছিল নজরকাড়া। তিনি টেবিল চাপড়িয়ে, হাততালি দিয়ে মমতাজের গান উপভোগ করেন।

মমতাজের সেই গান-বক্তব্যের ভিডিও রাতেই সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।