শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 216

এডিসির ঝুলন্ত ও কনস্টেবলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

পৃথক ঘটনায় মাগুরায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) লাবনী আক্তারের ঝুলন্ত লাশ এবং পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়ি থেকে এডিসি লাবনী আক্তারের ওড়না পেঁচানো লাশ এবং মাগুরা পুলিশলাইন্স ব্যারাকের ছাদ থেকে কনস্টেবলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, রাতে ডিউটি থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ নামে ইস্যু করা অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন মাহমুদুল হাসান।

মাহমুদুল হাসানের বাড়ি কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলায়। তিনি দেড় মাস আগে বদলি হয়ে মাগুরায় আসেন।

অন্যদিকে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসেন খুলনা মেট্রোপলিটনের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার লাবনী আক্তার। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) এস এম ফজলুল হক টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, লাবনী ছুটিতে ছিলেন। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

লাশ দুটির ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান।

আজ শপথ নেবেন শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট

গণবিক্ষোভে টালমাটাল শ্রীলংকার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক রনিল বিক্রমাসিংহে।

বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন তিনি।

এর আগে তিনি একই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশত্যাগের আগে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান।

এদিকে জনসমর্থন ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পরই প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে রনিল বিক্রমাসিংহে নির্বাচিত হওয়ায় চলমান আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদী আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

বিপর্যয় ঠেকাতে ট্যাক্স বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কাঠামো পরিবর্তন ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক সংকট দূর ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ভারত।

গত মার্চ মাস থেকেই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলংকায় শুরু হয় গণআন্দোলন। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও ঢুকে পড়েন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। দেশটির পরিস্থিতি এখনো শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: সিএনবিসিটিভি

‘জ্বালানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভ্যান ডার লেয়ন বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করছে। দেশটি জ্বালানিকে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

বুধবার ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য আসন্ন শীতে গ্যাস বাঁচিয়ে রাখতে এখন গ্যাসের ব্যবহার কমাতে ‘নিরাপদ শীতের জন্য গ্যাস বাঁচাও’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনকালে ভ্যান ডার লেয়ন এ কথা বলেন। খবর সিএনএনের।

তিনি জানান, রাশিয়া এরই মধ্যে ইউরোপের ১২ দেশে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণভাবে গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম জানিয়েছে, যে কোনো সময় ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে বাধা পড়তে পারে। আর রাশিয়ার এ ঘোষণার বিপরীতে সতর্ক পদক্ষেপ হিসেবে দেশগুলোকে গ্যাসের ব্যবহার অন্তত ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে বলেছে। সতর্ক করে ভ্যান ডার লেয়ন বলেন, বাস্তব চিত্র হলো- রাশিয়া যে কোনো সময় গ্যাস বন্ধ করে দিতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের ব্ল্যাকমেইল করছে। জ্বালানিকে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’

নতুন ক্যাম্পেইনের আওতায় আগামী আগস্ট থেকে ২০২৩ সালে মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে গ্যাসের ব্যবহার ২৩ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যান ডার লেয়ন আরও জানান, এই বিষয়ে কমিশন সদস্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় হিসাবসহ যাবতীয় উপায়ে সাহায্য করবে।

মূল্যস্ফীতির পালে ভয়ানক হাওয়া

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এখন খাদ্যসহ সব পণ্যের দাম হুহু করে বাড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহণের খরচও বাড়ছে। এতে সব পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

পণ্যের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির পালে লেগেছে ভয়ানক হাওয়া। এতে বিশ্বব্যাপী সব পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো পণ্য আমদানির নামে এক ধরনের মূল্যস্ফীতি আমদানি করছে। এছাড়া পণ্যের দাম বাড়ায় মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির হারকে আরও উসকে দিচ্ছে। একদিকে পণ্যের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে মুদ্রার মান কমার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এর বাইরে অর্থনৈতিক মন্দায় অনেকে কর্ম হারিয়েছেন বা আয় কমেছে। ফলে চাহিদা, সরবরাহ ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যের ব্যবধান প্রকট হয়েছে। এটি এ হার বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই বিদ্যমান সংকটে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে যাদের আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি এবং সংকটেও রপ্তানি টিকে আছে, তারাই কম আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অন্যতম। তারা জ্বালানি তেল ও অন্যান্য খনিজসম্পদ রপ্তানি করে ভালো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। ফলে সৌদি আরবসহ অনেক দেশের মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে বেড়েছে। অথচ অন্য দেশগুলোর মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে কমেই যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, মূলত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময়ে বিশ্বব্যাপী পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ওই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকলে পণ্যের সরবরাহ সংকটজনিত কারণে দাম বাড়তে থাকে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে পণ্যের সরবরাহ সংকট যেমন বেড়ে যায়। তেমনই দামও বাড়তে থাকে। আমদানি পণ্যের দাম বাড়ায় মুদ্রার দাম কমতে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি পণ্য। এর দাম বাড়ায় বিশ্বের সব দেশে পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যায়। বৈশ্বিকভাবেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে থাকে।

মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের মতে, আশির দশকের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হার সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। চলতি বছর শেষ সময় পর্যন্ত এই সংকট মোকাবিলা করতে হতে পারে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি বলতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যমূল্য বেড়ে গিয়ে টাকার মান কমে যাওয়াকে বোঝানো হয়। এর মানে হচ্ছে-বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু ভোক্তা একই পণ্য একই পরিমাণে আগে যে দামে কিনত, এখন এর চেয়ে বেশি দামে কিনছে। যে পরিমাণ বেশি দামে কিনছে, তাই মূল্যস্ফীতি। অর্থনীতিতে যখন মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায়, তখন ভোক্তার চাহিদাও বাড়ে। ফলে পণ্যের দামও বাড়ে। এ কারণে মূল্যস্ফীতির হার কমাতে মুদ্রার প্রবাহে লাগাম টানা হয়। যেটি এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই করেছে। সুদের হার বাড়িয়ে মুদ্রার প্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে পণ্য কেনার চাহিদা কমবে। বিপরীতে ধীরে ধীরে দাম কমে আসবে। বিভিন্ন দেশে সাধারণত গড় মূল্যস্ফীতিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। এক. খাদ্য মূল্যস্ফীতি, দুই. খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি। এগুলোর প্রতিটিরই নানা উপখাত রয়েছে। আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ খাদ্য, জ্বালানি, অ্যালকোহল, পরিবহণ-এসব খাতে আলাদা মূল্যস্ফীতির হার নিরূপণ করে। মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ভারতে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে কৃষকরা বিক্ষোভ করেছেন। জার্মানি, ইতালি, গ্রিস, নেপালসহ আরও অনেক দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ, কানাডা, আমেরিকাসহ বেশকিছু দেশ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ কারণে রাশিয়া থেকে পণ্যের জোগান কমে গেছে। অথচ রাশিয়া ও ইউক্রেনই বিশ্বের জ্বালানি ও খনিজ পণ্যের চাহিদার ৩৪ শতাংশ জোগান দিত। এই জোগান কমে যাওয়ায় পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনই সরবরাহও সংকটও প্রকট হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো ছিল ওই দুই দেশের জ্বালানি ও খনিজ পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।

এসব পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের ভারী শিল্পগুলো বসে পড়ে। ইউরোপের প্রায় সব দেশের পণ্যের উৎপাদন কমে যায়। মানুষের আয়ও কমতে থাকে। বাড়তে থাকে পণ্যের দাম। কমে যায় রপ্তানি আয়। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর মানে ভয়াবহ পতন শুরু হয়, যা এখনো চলমান। ইউরোর দাম কমায় বাংলাদেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমার বিষয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্যের ও ডলারের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে, যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবল সংকট তৈরি করেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ১০ টাকা কমে যায় এক বছরের মধ্যে। এতেও মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে।

বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। গত নয় বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। গত জুনে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশে। গত মে মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছিল ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার এত বেশি বাড়েনি। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে।

এদিকে শহরের চেয়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি বাড়ছে। অথচ গ্রামেই এ হার কম হওয়ার কথা। কেননা গ্রামে খাদ্য উৎপাদন হয়। অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী, যেখানে পণ্য উৎপাদন হয়, সেখানে সরবরাহ বেশি থাকে, ভোক্তা কম থাকে। এ কারণে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কম থাকার কথা। কিন্তু কয়েক বছর ধরে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার শহরের তুলনায় বেশি। গ্রামে কৃষক যে পণ্য উৎপাদন করে সেগুলো বিক্রি করে নগদ অর্থের চাহিদা মেটায়। আবার যখন কৃষক একই পণ্য কিনতে যায়, তখন বেশি দামে কিনতে হয়। কেননা ইতোমধ্যে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য চলে গেছে সিন্ডিকেটের কবজায়। সিন্ডিকেটের কারণে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি বাড়ছে। গত জুনে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে গ্রামে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার এত বাড়েনি।

একই অবস্থা ভারতে। ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড দরপতন হয়েছে। প্রতি ডলার এখন ৮০ রুপি। অথচ ছয় বছর আগেও ছিল ৪৬ রুপি। ভারতে ৭ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার এখন সর্বোচ্চ। গত জুনে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ হার গত মে মাসে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিপণ্যের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার এখন সর্বোচ্চ। গত জুনে তা বেড়ে ৯ শতাংশে উঠেছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ইল্যাংন্ড’ পূর্ভাবাস দিয়েছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ হার আরও বাড়বে।

এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে এ খাতেও মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার এখন ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত জুনে এ হার বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। গত মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশটি মূল্যস্ফীতি বলতে সাধারণত ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হারকেই বুঝিয়ে থাকে।

জ্বালানি তেল, অ্যালকোহলসহ অন্যান্য পণ্যের আলাদা মূল্যস্ফীতির হার নিরূপণ করে। আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রে রকেট উৎক্ষেপণের কারণে বেশি জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এর দাম বেড়ে যায়। এতে বাড়ে খাদ্যের দামও। কর্মীদের মজুরি কমে যায়। ফলে মূল্যস্ফীতির পালে হওয়া লাগে। ওই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ইউরোপের দেশগুলোয় এখন ১৩ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ। গত জুনে এ হার বেড়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছরের শুরুতে ইউরোপে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ।

ইতালিতে গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। গত মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। জার্মানিতে গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। গত মে মাসে তা ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১২ শতাংশের বেশি।

থাইল্যান্ডে ১৩ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ। গত জুনে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি। গত বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ২ শতাংশের নিচে।

চীনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যে ৯ শতাংশ। পাকিস্তানে জুনে গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য খাতে ১৭ শতাংশ। শ্রীলংকায় গড় মূল্যস্ফীতির হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যে ২৬ শতাংশ। দেশটির মুদ্রার মান কমেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির নতুন রেকর্ড

গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

এতে দারিদ্র্যসীমার কিছুটা উপরে থাকা মানুষও দরিদ্র হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর আগে কখনো এত বেশি মূল্যস্ফীতি হয়নি।

বস্তুত নিুআয়ের মানুষ যেসব পণ্য ভোগ করে সেসব পণ্যের মূল্যস্ফীতি বিবিএসের তথ্যের চেয়েও বেশি। এছাড়া শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি বেশি। এ অবস্থায় নিত্যপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিুআয়ের মানুষকে চরম দুর্দশায় ফেলছে।

এমনিতেই করোনার কশাঘাতে চাকরিহারা, বেকার ও আয়-রোজগার কমে যাওয়া জনগোষ্ঠী দৈনন্দিন খরচের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে, তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছে অনেক পরিবার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে; অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব, যা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকবে না। লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বিভিন্ন দেশে কাক্সিক্ষত মাত্রায় পণ্য উৎপাদন হচ্ছে না। এতে আগামীতে পণ্যের জোগান মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। কাজেই অচিরেই আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমবে, এ আশা ক্ষীণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত কৃষিই আমাদের অর্থনীতির প্রধান রক্ষাকবচ। তাই কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি এ খাতকে বেগবান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভোগ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কৃষির ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় বাড়লে তা সামষ্টিক অর্থনীতিকেও গতিশীল করবে। এখন আর আগের নিয়মে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির অনেক কিছুই বদলে গেছে। দেশের অধিকাংশ কৃষক এ বিষয়ে অজ্ঞ। এসব বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া না হলে গতানুগতিক পরিকল্পনায় কৃষি খাতকে বেগবান করা সম্ভব হবে না।

বস্তুত প্রান্তিক কৃষকসহ ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে মূল্যস্ফীতি রোধের কার্যক্রমে সুফল মিলবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সীমিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আকার ও গভীরতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ডলারের দামবৃদ্ধির কারণেও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। কাজেই উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পদক্ষেপও নিতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অর্থনীতির সব খাতে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন এবং এ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে কঠোরভাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাবের পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের দুর্নীতির কারণেও দ্রব্যমূল্য বাড়ছে।

কাজেই ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে যাতে বিপর্যয় নেমে না আসে, সেজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত সরকারের।

‘সরকার নয়, সর্ষে ফুল দেখছে বিএনপি’

দেশের মেগা প্রকল্পগুলো হয়ে যাওয়াতে বিএনপি চোখে সর্ষে ফুল দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সকালে রাজধানীর সেতু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় বিএনপি নেতাদের যে অন্তর জ্বালা বেড়েছে- তা এখনো কমেনি বরং দিন দিন বাড়ছে। সামনেই আসছে তরুণ প্রজন্মের মেট্রোরেল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলসহ অনেক মেগা প্রকল্প, তাই বিএনপি নেতারা চোখে শুধু সর্ষে ফুলই দেখতে পাচ্ছেন।’

‘সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আসলে সরকার নয়, সর্ষে ফুল দেখছে বিএনপি। সামনে যখন বড় বড় প্রকল্পের উদ্বোধন হবে, তখন বিএনপি নেতারা চোখে সর্ষে ফুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না।’

‘সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ সংকট হয়েছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক। সরকার পতনের যে দিবা স্বপ্ন বিএনপি দেখছে, সেটা অচিরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত বিএনপি নেতারা সব কিছুতেই দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ান। সবকিছু নিয়ে মিথ্যাচার করা বিএনপির এখন দৈনন্দিন রুটিন হয়ে গেছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশবাসী জানেন বিশ্বব্যাপী এখন জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এ সংকটকে আরও প্রকট করেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, এ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি যাতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে সরকারকে আগেভাগেই কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বিশ্বব্যাপী এ সংকটের কোনো সমাধানের কথা না বলে বরং দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে এবং দুরভিসন্ধিমূলক শান্ত জনগণকে উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু বিএনপির এসব মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্র জাতির কাছে এখন স্পষ্ট।’

বিএনপির কথা মানুষ এখন আর বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে কোনো সংকট ও দুর্যোগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আজ পরীক্ষিত।’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবিলায় যেখানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খেয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করোনা সংকট মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশবাসী ভালো করেই জানেন, যে কোনো সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অন্য যে কোনো দলের থেকে অনেক অনেক এগিয়ে। কাজেই মিথ্যাচার আর অপপ্রচার করে জনগণকে উসকে দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র বিএনপি করছে, সে ফাঁদে দেশবাসী পা দেবে না। অতীতেও জনগণ শেখ হাসিনা সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে এবং এখনো রাখছে।’

বিশ্ব পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিএনপি অনুধাবন করতে না পারলেও জনগণ ঠিকই বিষয়টি অনুধাবন করে সরকারকে সহযোগিতা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।

তৃণমূলে হযবরল বাড়ছে কোন্দল

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ভরাডুবির’ পর সারা দেশে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে বিএনপি।

৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০টিতে আহ্বায়ক কমিটি করেছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়ায় এসব কমিটি নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে দলটি।

তিন মাস মেয়াদ দেওয়া হলেও বছরের পর বছর পার করছে জেলা শাখাগুলো। এর মধ্যে অনেক জেলা করোনাসহ নানা অজুহাতে মেয়াদও বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি থানা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সব পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করবে।

কিন্তু এসব কমিটি গঠনের ৩০ ভাগও কাজ শেষ হয়নি। বেশ কয়েকটি জেলা ও ইউনিট কমিটি গঠনে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গণপদত্যাগ, অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক ত্যাগী নেতা স্বেচ্ছায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। এতে তৃণমূলে আরও কোন্দল ও বিভক্তি বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি নরসিংদী ও কুমিল্লা উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসব কমিটিতে বিতর্কিত, মাদক সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত, সরকারের সঙ্গে আঁতাতকারীদের পদায়ন করা হয়েছে বলে গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।

নরসিংদী জেলা নতুন কমিটি গঠনে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, কমিটিতে বিতর্কিতদের পদায়ন ছাড়াও ওয়ান ইলেভেনের সংস্কারপন্থি এক নেতাকে সিনিয়র সদস্য করা হয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত ও একজন প্রবাসীকেও সদস্য করা হয়েছে। কমিটি গঠনের পর ওই প্রবাসী দেশে ফেরেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন যুগান্তরকে বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি হয়েছে। যারা কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি তারা এখন কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলছেন, যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কমিটিতে বিতর্কিত, মাদক সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে পদ দেওয়া হয়নি। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন এমন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই কমিটি হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার রাতেই নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় ঘোষিত কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান আমিরসহ ৪১ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলন করে আমিরুজ্জামান আমির বলেন, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। বিগত সময়ে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে যারা সুযোগ সুবিধা নিয়েছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

অবশ্য কমিটি ঘোষণার এক সপ্তাহ পর দলীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আমিরুজ্জামানকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার স্থলে কমিটির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলীকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একইভাবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি নিয়েও নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যোগসাজশ করে বিতর্কিত কমিটি করেছেন। যার সঙ্গে তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়ার কোনো হিসাব নেই, সামঞ্জস্য নেই। এর জের ধরে কমিটি ঘোষণার রাতেই কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়ার বাসভবনে ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধরা।

এ বিষয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া যুগান্তরকে জানান, কমিটি গঠন হলেই যার বিপক্ষে যায় তিনি বিভিন্ন কথা বলেন। কমিটি থেকে কেউ পদত্যাগ করেননি। যোগ্যদেরই নেতৃত্বে আনা হয়েছে। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেবেন তাদের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র।

এ ছাড়াও জেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দুই বছর পর কয়েকটি জেলায় আবারও আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা জেলার সদস্য সচিব, বগুড়ার আহ্বায়ক ও নওগাঁ জেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনজনকে বাদ দিয়ে ফের আহ্বায়ক কমিটি করেছে।

মাগুরায়ও এখন আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে আবারও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। এসব নিয়ে তৃণমূলের নেতারা ক্ষুব্ধ। জয়পুরহাট জেলার আহ্বায়ক শামসুল হক ও সাবেক এমপি মোজাহার আলী প্রধানের পরিবার ও স্বজনদের দিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি করার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে শামসুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, তাদের স্বজনদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়টি সত্য নয়।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও চূয়াডাঙ্গা জেলা কমিটি নিষ্ক্রিয়। এসব জেলার নেতারা অধিকাংশ সময়ই ঢাকায় অবস্থান করেন। টাঙ্গাইলেও ইউনিট কমিটি গঠন নিয়ে কোন্দল চরমে। দুটি থানা কমিটি গঠনের পর বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।

পঞ্চগড়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের দ্বন্দ্বে কমিটি গঠনের কাজ স্থবির হয়ে আছে। অবশ্য সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ এলাকায় দলীয় কর্মসূচি পালনসহ কমিটি গঠনের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আহ্বায়কের সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, একক চেষ্টায় সব ইউনিয়নের কমিটিগুলো দিতে পেরেছি। এখন থানা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিষ্ক্রিয়। এ জেলার কমিটিতে দুই এমপি হারুনুর রশীদ ও আমিনুল ইসলামের কোনো অনুসারী রাখা হয়নি। কমিটি ঘোষণার পর অনেকে পদত্যাগও করেছেন। বরগুনা জেলা কমিটিও একটি বড় গ্রুপকে বাদ দিয়ে করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সহসম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে একপেশে কমিটি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ কমিটিতে তাকেও সিনিয়র সদস্য করা হয়েছে। জানতে চাইলে ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।

কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সুযোগই নেই। সূত্র জানায়, জেলার আহ্বায়ক কমিটিগুলোর প্রতি নির্দেশনা রয়েছে তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানা-উপজেলা-ইউনিয়নসহ সব পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব শেষ হবে।

জানা গেছে, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, যশোর, মাগুরা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরসহ আরও কয়েকটি সাংগঠনিক জেলা শাখার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এর মধ্যে অনেক জেলা করোনাসহ বিভিন্ন অজুহাতে মেয়াদ বাড়িয়েছে। কিন্তু সাত জেলা বাদে সবই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেছে। নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সব পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। এর মধ্যে যশোর, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মহানগর, ঢাকা জেলা, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ কিছু জেলা ইউনিট পর্যায়ের অধিকাংশ কমিটি করেছে।

ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টেও বাড়ছে জ্বালানি সংকট

দেশব্যাপী ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। অথচ গ্যাস ছাড়া ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট চলার কোনো উপায় নেই।

কিন্তু দেশে গ্যাসের মজুত দিন দিন কমে আসছে। ফলে ক্যাপটিভ পাওয়ার নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কায় আছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। জাতীয় গ্রিড থেকেও গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে রেশনিংয়ের ভিত্তিতে।

সবমিলিয়ে এখন বিদ্যুৎ সেক্টরে প্রায় ২শ থেকে ২৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস কম দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভুগছে দেশের শিল্পকারখানায় সরবরাহের জন্য স্থাপিত ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যদি ক্যাপটিভে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দেয় তাহলে গোটা শিল্প খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘শিল্পকারখানাগুলোকে যতটা সম্ভব লোডশেডিংয়ের আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে।

পাশাপাশি এ সেক্টরে গ্যাসের জোগানও স্বাভাবিক রাখার চিন্তা আছে সরকারের।’ তিনি বলেন, ‘শিল্প খাতকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শিল্প খাত যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পায়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সরকার জ্বালানি তেলসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা করেছে।’

জানা গেছে, শিল্প খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সংস্থান করে ক্যাপটিভ বা নিজস্ব উৎপাদনের ভিত্তিতে। খরচ বেশি হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না শিল্পোদ্যোক্তাদের অনেকে।

শিল্প খাতে ক্যাপটিভে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ মোটামুটি কম। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে যে ব্যয় হয় তার প্রায় অর্ধেক টাকা দিয়ে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব ক্যাপটিভ প্ল্যান্টে।

কিন্তু এখন এ ক্যাপটিভ খাতেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। শিল্প মালিকরা বলেছেন, ক্যাপটিভে গ্যাস সরবরাহ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাদের মতে ক্যাপটিভে যদি গ্যাস সংকট দেখা দেয় তাহলে এসব কেন্দ্রগুলো চালানোর বিকল্প জ্বালানি নেই। অর্থাৎ জরুরি অবস্থায় অতি ব্যয়বহুল জ্বালানি ডিজেল ব্যবহারের সুযোগও নেই। ভুক্তভোগী শিল্প মালিকরা মনে করেন, সরকারের সহায়তা ছাড়া সম্ভাব্য এ সংকট মোকাবিলার আর কোনো পথও খোলা নেই উদ্যোক্তাদের সামনে। এ অবস্থায় ক্যাপটিভে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একজন সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা ক্যাপটিভ চালাই গ্যাসে। চাপ না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু জ্বালানি ছাড়া আমরা এক সেকেন্ডও ফ্যাক্টরি চালাতে পারব না। এখন কোথাও যদি গ্যাস না থাকে, তাহলে উৎপাদন শতভাগ বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ক্যাপটিভে গ্যাসের বিকল্প কিছু নেই। ক্যাপটিভ সক্ষমতা বস্ত্র শিল্পেই সর্বোচ্চ। আমরা এখন শুধু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি গ্যাস না থাকে, তাহলে আমরা সবাই বসে যাব। পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে। সরকার বলছে, যেসব এলাকায় শিল্প আছে সেগুলোকে লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখা হবে বা সেখানে হলেও কম হবে। এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বেশকিছু দিন ধরে শিল্পে গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের আগে সংকট তীব্র আকার ধারণ করলেও সেই সংকট এখনো আছে। কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ক্যাপটিভ চালাতে সমস্যা হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে বৈঠক করেছি। আরও দু-একদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশের বেশি আসছে ক্যাপটিভ কেন্দ্রগুলো থেকে। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১২ অর্থবছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই ছিল ক্যাপটিভের। পরের অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৬ শতাংশে। ২০১৯-২০ শেষেও ক্যাপটিভ থেকে উৎপাদন হয়েছে মোট বিদ্যুতের ১১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২০-২১ শেষে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্যাপটিভের অবদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ শতাংশে।

মোট উৎপাদনে অংশ কমতে থাকলেও ক্যাপটিভ খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে। ২০১৬ সালে ক্যাপটিভ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়ায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। ২০২০-২১ শেষে তা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার মেগাওয়াটে।

সূত্র জানায়, দেশে ক্যাপটিভ বিদু্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন মূলত তৈরি পোশাকের কাঁচামাল সুতা-কাপড় উৎপাদনকারী বস্ত্র শিল্প মালিকরা। তারা বলছেন, ক্যাপটিভনির্ভর শিল্প পরিচালনাকারীদের জন্য বাস্তবতা হলো তাদের জ্বালানি উৎস একটিই গ্যাস। এখন যে দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা সমন্বয় করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় শিল্পোৎপাদনে গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব প্রকট হয়ে উঠবে। কিন্তু খুব কম উদ্যোক্তারাই দুই ধরনের জ্বালানি উৎস ব্যবহার করেন। কাজেই ক্যাপটিভ ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে উৎপাদন বন্ধ থাকবে। দু-তিন মাস ধরে এক ধরনের অঘোষিত রেশনিং হচ্ছিল। এখন তা হচ্ছে ঘোষণা দিয়ে। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট রূপরেখা থাকা প্রয়োজন।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি শিল্পকারখানায় ক্যাপটিভ বিদ্যুতের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোয় দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। গত বছরও অপচয়ের কারণ দেখিয়ে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে আনতে চাইছিল সরকার। সেজন্য ক্যাপটিভে সরবরাহকৃত গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আগের অনেক হিসাব-নিকাশই বদলে গেছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের মালিকরা বলছেন, ‘আমরা খুবই শঙ্কিত। কেননা, এলএনজি আমদানি এখন সুরক্ষিত নয়। আর এটা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শিল্পেও গ্যাস-বিদ্যুতের রেশনিং করতে হবে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের কোনো পরিকল্পনা কাজে লাগার সুযোগ নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে ২৬ হাজার পরিবার

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ভূমিসহ ঘর দেওয়ার কর্মসূচিতে এবার আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর হস্তান্তর করবেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে দেশের চারটি উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন।

এগুলো হলো- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরকলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর ভেলামারী আশ্রয়ণ প্রকল্প, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জঙ্গালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প।

এদিন ৫২টি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন সরকারপ্রধান। এরইমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করছে উপজলা প্রশাসন।

সরকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৩০টি ঘর দিয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮০০ ঘর দেওয়ার কাজ করছে। এরইমধ্যে ৩২ হাজার ৯০৪টি দেওয়া হয়েছে। ২১ জুলাই ২৬ হাজার ২২৯টি দেবে। পাশাপাশি ৮ হাজার ৬৬৭টি নির্মাণাধীন।

ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলাগুলো:

পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ দেশের ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলাগুলো হলো- ঢাকার নবাবগঞ্জ, মাদারীপুরের মাদারীপুর সদর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, রাজবাড়ীর কালুখালী, ফরিদপুরের নগরকান্দা, নেত্রকোনার মদন, ময়মনসিংহের ভালুকা, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, জামালপুরে বকশীগঞ্জ, চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ, ফেনীর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদর, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, বোদা।

এছাড়া দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, নীলফামারীর ডিমলা, নওগাঁর রাণীনগর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, রাজশাহীর মোহনপুর, চারঘাট, বাঘা, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া নাটোরের বাগাতিপাড়া, পাবনার ঈশ্বরদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু, সাতক্ষীরার তালা, মাগুরার মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মোহম্মদপুর, শালিখা, ঝালকাঠির কাঠালিয়া, পটুয়াখালীর দশমিনা।

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হয়েছে। আগামী বছর প্রাথমিক স্তরের প্রথম শ্রেণি, মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রমে লেখা নতুন পাঠ্যবই চালু করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে চলতি বছর এই প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক পাঠদান) হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রথম শ্রেণির বই তৈরির কাজ চলছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণির বই মাত্র তিন মাসের পাইলটিংয়ের ওপর পাওয়া একটি খণ্ডিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রচনা করা হয়েছে। এর ফলে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় ‘ফল’ বা ‘প্রভাব’ না জেনেই নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের হাতে।

এদিকে আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন শিক্ষাক্রমে রচিত প্রথম শ্রেণির পাঠ্যবই পাইলটিং শুরু করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ১ জানুয়ারি এই বই বিতরণের লক্ষ্যে তা মুদ্রণে দরপত্র ডাকছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এই অবস্থায় এই পাইলটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেননা, এই পাইলটিংয়ের প্রভাব বা ফল নতুন বইয়ে যুক্ত করার কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে এই খাতে বরাদ্দ কোটি টাকা কেবল খরচের লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কেবল প্রথম ও ষষ্ঠ নয়, সপ্তম শ্রেণিতেও আগামী বছর নতুন শিক্ষাক্রমে লেখা পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। এখন বইগুলোর ‘পরীক্ষামূলক সংস্করণ’ যাবে। এরপর সারা বছর ধরে এর ওপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এর নাম ‘ট্রাইআউট’। এই ট্রাইআউটের ফল অনুযায়ী পরের বছর বা ২০২৪ সালে চূড়ান্ত পাঠ্যবই দেওয়া হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের ক্ষেত্রে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন এনসিটিবির দুজন সদস্য। তাদের মধ্যে একজন অধ্যাপক মশিউজ্জামান। তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির বই রচনায় প্রথম ধাপের পাইলটিংয়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মোট তিন ধাপে তিনটি প্রতিবেদন আসার কথা। বই মুদ্রণে পাঠানোর আগে দ্বিতীয় প্রতিবেদন চলে আসবে। ওই প্রতিবেদনটিও তখন বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর প্রাথমিকের ‘অযথা’ পাইলটিং প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিটিবির অপর সদস্য অধ্যাপক ড. রিয়াজুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে তারা এই পাইলটিং করছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগস্টের শেষ সপ্তাহে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাইলটিং শুরু হবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। তবে আগামী বছর পরীক্ষামূলক সংস্করণে যাবে। এর আগে ২০১২ সালেও এমনটি করা হয়েছে।

জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি) থেকে নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই বাস্তবায়নের অর্থায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠ্যবই ও শিক্ষক নির্দেশিকার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি টাকা প্রাথমিকের বই তৈরি বাবদ প্রশিক্ষণসহ নানান খাতে ব্যয় হয়েছে। বাকি টাকা পাইলটিংয়ের বই মুদ্রণে ব্যয় হবে। এছাড়া পাইলটিংয়ের জন্যও আলাদা ব্যয় আছে। সবমিলে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে এ খাতে। অন্যদিকে যেহেতু আগামী বছর পরীক্ষামূলক সংস্করণ যাচ্ছে, তাছাড়া বছরের শেষে এই পাইলটিংয়ে শিক্ষার্থীরাও খেই হারিয়ে ফেলবে তাই এই পাইলটিংয়ে ‘অযথা’ই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই দেওয়া হয়। সারা বছর শিক্ষার্থীরা তা পড়ে এবং এক বছরে নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করে। সেই লক্ষ্যে এবার ষষ্ঠ শ্রেণির যে বইগুলোর পাইলটিং চলছে, সেগুলোও বছরের শুরুতেই দেওয়া হয়। যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার আগে এটির প্রথম অংশের লেখাপড়া শেষ হয়। এখন দ্বিতীয় অংশের পাঠদান শুর্নু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে বইয়ের তৃতীয় বা শেষ অংশের ওপর পরীক্ষামূলক পাঠদান দেওয়া হবে। সাধারণত বছরের শেষের দিকে পাঠ্যবইয়ের শেষ অংশ পড়ানো হয়।

এ অবস্থায় নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে দুটি প্রশ্ন উঠেছে, প্রথমত, প্রাথমিক স্তর প্রথম শ্রেণির পাইলটিংয়ের পাঠ্যবই বছরের শেষের দিকে দিলে বইয়ের কোন অংশ শিক্ষার্থীদের পড়াবে? তাছাড়া বছরের ৮ মাস পুরোনো শিক্ষাক্রমে পড়ে হঠাৎ করে শেষ তিন মাসে নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা কীভাবে ও কী পড়বে? দ্বিতীয়ত, ষষ্ঠ শ্রেণির পাইলটিংয়ের একটি মাত্র প্রতিবেদনের ওপর আগামী বছরের বই তৈরি করা হয়েছে। এটি যথেষ্ট কিনা? কেননা এতে নতুন শিক্ষাক্রমের ‘প্রভাব’ সম্পর্কিত প্রকৃত চিত্র উঠে না আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের পাইলটিংয়ে সংশ্লিষ্ট আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান। উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির বই সারা বছরকে তিন ভাগ করে পাইলটিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম অংশের প্রতিবেদনের ওপর বই লেখা হলেও দ্বিতীয় প্রতিবেদনের ফিডব্যাক (প্রভাব বা ফল) বই মুদ্রণে যাওয়ার আগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে মূল লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হবে। তিনি আরও বলেন, তিনটি প্রতিবেদনের ফলই যুক্ত করতে না পারার কারণেই ‘চূড়ান্ত’র পরিবর্তে ‘পরীক্ষামূলক’ বই তারা আগামী বছর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সপ্তম শ্রেণিরও পরীক্ষামূলক সংস্করণ দেওয়া হবে। ২০২৪ সালে এই দুই শ্রেণির চূড়ান্ত সংস্করণ যাবে স্কুলে।

আর প্রথম প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক হাসান বলেন, সারা বছর ধরে পাইলটিং হওয়ার কথা ছিল। নতুন বই লেখার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট সংকট ছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এজন্য মন্ত্রণালয়ে অর্থ চাওয়া হয়। কিন্তু অনুমোদন পাওয়া গেছে এপ্রিলে। টাকা পাওয়ার পর বই লেখা শুরু হয়েছে মে মাসে। এ কারণেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পাইলটিং হলেও আগামী বছর প্রথম শ্রেণির বই পরীক্ষামূলক সংস্করণই যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বইয়ের পরীক্ষামূলক সংস্করণ যাবে ২০২৪ সালে আর ২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণির বই। পরীক্ষামূলক সংস্করণে সারাবছর বই সম্পর্কে মতামত নেওয়া হবে। এর ভিত্তিতে পরে চূড়ান্ত বই দেওয়া হবে।