শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 214

সিনিয়রদের ছাড়া সাজানো হলো টি-টোয়েন্টির দল

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য শুক্রবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তাছাড়া ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডও একই দিন ঘোষণা করা হয়েছে।

দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিমকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান নিজে বিশ্রাম চেয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া এ মাসের শুরুতে ওপেনার তামিম ইকবাল টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ফলে সব মিলিয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করা হয়েছে। এ দলে অধিনায়ক করা হয়েছে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানকে।

দলে জায়গা পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা পারভেজ হোসেন ইমন। পাকিস্তানের বিপক্ষে একবার দলে ডাক পেলেও অভিষেক হয়নি তার। তাছাড়া চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার হাসান মাহমুদ।

টি-টোয়েন্টিতে না থাকলেও ওয়ানডে সিরিজের রাখা হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিমকে।

জিম্বাবুয়ে সিরিজেরর জন্য ঘোষিত টি-টোয়েন্টি দল:
মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক), শেখ মেহেদি, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, পারভেজ হোসেন ইমন।

ওয়ানডে দল: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাইজুল ইসলাম।

দলে নেই রিয়াদ, অধিনায়ক সোহান

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কত্ব করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানকে।

আর দলের নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে থাকছেন না।

শুক্রবার দল নিয়ে গুলশানের এক হোটেলে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস।

টি-টোয়েন্টিতে দলের অব্যহত বাজে পারফরমেন্সের কারণে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অধিনায়কত্ব ও দলের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলের ভরাডুবির পর রিয়াদকে দল থেকে বাদ বা বিশ্রাম দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

উইন্ডিজ থেকে দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসেন নির্বাচক ও বোর্ড কর্তারা। শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় যে আপাতত রিয়াদকে বিশ্রামে রাখা হবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনিই দলের নেতৃত্ব দেবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত হবে পরে।

অন্যদিকে সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব ও মুশফিককে এমনিতেই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

বর্ষার দূত ‘কদম ফুল’ পাখা মেলে আছে

কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত।রূপসী তরুর অন্যতম রূপবতী হলো কদম ফুল। গাছে গাছে সবুজ পাতার ডালে শ্রাবণের এই ভরা মৌসুমে বিলুপ্ত প্রায় ফুলটি নানা লোকালয়ে পাখা মেলতে শুরু করেছে। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে ছন্দ তুলছে যেন নিজ মননে।

বিলুপ্তির পথে এই কদম ফুলটি অনেকেই শখ করে লাগাচ্ছে বাড়ির পাশে কিংবা রাস্তার ধারে। কেউবা স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে লাগিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু স্থানেও শোভা পাচ্ছে এই কদমফুল। গোলাকার মাংসল পুষ্পাধার আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্নভাবে। গোলাকার হলদে-সাদা মিশ্রিত ফুলটি দেখতে যেন ভোরের ঊষা। বর্ষার মেঘের সঙ্গে মিতালি বলেই কি না, এর আরেক নাম মেঘাগমপ্রিয়।

‘এমন দিনে তারে বলা যায়/এমন ঘনঘোর বরিষায়/এমন দিনে মন খোলা যায়-’ কিংবা ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী/উড়ে চলে দিগ্-দিগন্তের পানে’- রবি ঠাকুরের কবিতার মতো এভাবেই বৃষ্টিস্নাত সজীবতার রূপ নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। রূপময় ঋতু বর্ষার যেন মেঘবতী জলের দিন। বৃষ্টির সঙ্গে কদমের ভালোবাসা তাই খুবই নিবিড়।

সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিডইয়ানের মীরসরাই সদরের উত্তর পার্শ্বের অংশে বেশ কিছু কদম গাছে ফুল ধরা শুরু করেছে। এতে বিমোহিত পথচারীরা।

কদম ফুল সবাই পছন্দ করে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কদম ফুল নিয়ে খেলা করে। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য খুব কম। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও কাগজ তৈরি হয়ে থাকে। শুধু সৌন্দর্য নয়, ভেষজ গুণের পাশাপাশি কদমের রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও। কাঠ দিয়ে কাগজ, দেয়াশলাই ছাড়াও তৈরি হয়ে থাকে বাক্সপেটরা। আর কদমের ছাল, পাতা কিংবা ফুলের রস পিপাসা নিবারণের পাশাপাশি কৃমি ও জ্বরনাশক এবং বলকারক।

নাগরিক উঠানে সেই কদমের ঘ্রাণ কদিন আগেও অনেকটাই যেন অতীত ছিল। রিমঝিম জলে কদমের কোমলতা যেন খুঁজে পাওয়া ভার। চোখ জুড়ানো ঘন সবুজ পাতার মাঝে হলুদ বন্ধুতায় চিরচেনা কদম গাছ এখন আবার চোখে পড়ছে নানা প্রান্তরে। কদমতলে বংশীও বাঁজানো যেন প্রাচীনতম অন্যমত মরমি লোকজ। কদম নিয়ে রয়েছে রূপকথার নানা কল্পকাহিনী। যান্ত্রিক সভ্যতা ও নগরায়ণের যুগে কমতে শুরু করেছিল কদমগাছ। সরকারের উদ্যোগে আবার ফিরে আসছে কদমপ্রাণ। আদিকাল থেকে কদম ফুল বর্ষার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে যাচ্ছে। কদমফুল ছাড়া বর্ষা যেন একেবারে একা, নিঃসঙ্গ।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, আমরা প্রতিটি নার্সারিকে উদ্বুদ্ধ করে কদম গাছ রোপণ অব্যাহত রেখেছি। এই উপকারী বৃক্ষ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

এডিসি লাবণী ও কনস্টেবল মাহমুদুলের আত্মহত্যা, যা বলছে পরিবার

মাগুরায় একদিনে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তাদের আত্মহত্যায় কোনো যোগসূত্র আছে কিনা সেই প্রশ্ন এখন সবার মনে। যদিও এডিসির পরিবার বলছে, ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল এর জেরেই আত্মহত্যা করেছে লাবণী। এদিকে পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের পরিবার দাবি করছে, লাবণী ও মাহমুদুলের সম্পর্ক ছিল ভাই বোনের মতো। মাহমুদুল লাবণীকে বড় বোনের মতো দেখতেন আর লাবণীও তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন।

এরপরও কয়েক ঘণ্টা ব্যবধানে তারা কেন আত্মহত্যা করলেন এমন প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে পায়নি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে মামাবাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি লাবণী আক্তার। এর কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান নিজের কাছে থাকা শর্টগানের গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মাহমুদুল হাসান খুলনায় লাবণীর সাবেক দেহরক্ষী ছিলেন। মাস দেড়েক আগে মাহমুদুল খুলনা থেকে বদলি হয়ে মাগুরায় যান। আর গত ১৭ জুলাই ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যান লাবণী।

লাবনীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার শফিকুল আজম মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদাহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

তিনি বলেন, লাবণী অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও হাসিখুশি মনের মানুষ ছিল। তার মতো মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে, এটা তিনি ভাবতেও পারছেন না।

তবে স্বামী বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক তারেক আবদুল্লার সঙ্গে লাবণীর সম্পর্ক খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লাবণী ও স্বামী আব্দুল্লার মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া হত। বিশেষ করে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। আর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার জেরেই লাবণী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া লাবণী ও সাবেক দেহরক্ষী মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে মাহমুদুল হাসানে বাবা এজাজুল হক খান চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত পুলিশের কনস্টেবল। তিনি বলেন, মাহমুদুল খুব হাসিখুশি ও শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও মাহমুদুলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কনস্টেবলের চাকরি নিয়ে সে খুশি ছিল না। এ কারণে চাকরিতে অনেক কষ্ট বলে সে তার মাকে বলত। তার ইচ্ছা ছিল পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর পদে চাকরি করার। সেজন্য চাকরির পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে পাংশা কলেজে অ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্সে ভর্তি হয়েছিল। সে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। মাহমুদুল কেন আত্মহত্যা করেছে তা তিনি বলতে পারেননি।

মাহমুদুল হাসানের বড় বোন সুমাইরা খাতুন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা লাবণীর সঙ্গে আমার ভাইয়ের খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে ভাইবোনের মতো সম্পর্ক ছিল। পুলিশ কর্মকর্তা লাবণী আমার ভাইকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন। আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিলেন। কখনো কোনোদিন কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি। লাবণীর সঙ্গে আমার ভাইয়ের খারাপ কোনো সম্পর্ক ছিল না।

মাগুরার পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে দুই আত্মহত্যার ঘটনায় মাগুরা থানা ও শ্রীপুর থানায় দুটি ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ দুটি আত্মহত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে জাহাজ

রাশিয়ার উৎপাদিত তরল সার নিয়ে একটি ট্যাংকার জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটি দুই-তিন দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে। খবর রয়টার্সের।

জানা গেছে জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী। এটি সোমবার ৩৯ হাজার টন ইউরিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সলিউশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলেন্সের বন্দরে ভিড়বে।

এইকন ডাটা জানিয়েছে, গত মাসে জাহাজটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে পণ্য বোঝাই করে।

কৃষির অপরিহার্য পণ্য সারের উচ্চমূল্যের কারণে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এমন আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে রাশিয়ার তরল সার বহনকারী ট্যাংকার জাহাজ।

এদিকে রাশিয়া ইউক্রেন হামলা করায় রাশিয়ার ওপর অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু জো বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার কোনো কৃষিপণ্যের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার কৃষি ও খাদ্য পণ্যের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে পুতিন যতদিন ইউক্রেনে তার আগ্রাসন অব্যহত রাখবেন ততদিন অন্যন্য নিষেধাজ্ঞাগুলো বজায় রাখা হবে।

২০২১ সালে রাশিয়া থেকে ২৬২.৬ মিলিয়ন ডলারের ইউরিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সলিউশন ক্রয় করে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া এবং ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সার রপ্তানিকারক দেশ। এ দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলার কারণে দাম বেড়ে গেছে সারের। ফলে অনেক কৃষক তাদের চাষাবাদ কমিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন।

দাম কমাতে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত সপ্তাহে রাশিয়ার ইউরিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সারের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কর ওঠিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন।

সূত্র: রয়টার্স

এশিয়ার এই দেশ থেকে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও কামান কিনছে পোল্যান্ড

ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৪৮টি এফএ-৫০ যুদ্ধবিমান কিনবে, ব্ল্যাক প্যান্থার ট্যাংকের প্রথম চালান এবং হাউইটজার কামান কিনছে পোল্যান্ড। ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিউস ব্লাসজ্যাক পোলিশ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সিসিকে বলেন, প্রথম বিমান বছর পোল্যান্ডে সরবরাহ করা হবে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড প্রতিরক্ষা ব্যয়কে তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিন শতাংশে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তার সেনাবাহিনীর আকার দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

এদিকে, নতুন করে আরও পাঁচটি দেশকে ‘বন্ধু নয়’ এমন দেশের তালিকায় যুক্ত করেছে রাশিয়া।

দেশগুলো হলো গ্রিস, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং স্লোভাকিয়া।

এ নিয়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিসুসতিনের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি রাশিয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবন্ধুসুলভ আচরণ করে থাকে যেসব দেশ সেসব দেশকে ‘বন্ধু নয়’ দেশের তালিকায় রাখে রাশিয়া।

যেসব দেশকে বন্ধু নয় দেশের তালিকায় রাখা হয় সেসব দেশ রাশিয়ার ভেতর অবস্থিত দূতাবাস, কনস্যুলেট, প্রতিনিধিত্বমূলক অফিস এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কর্মী নিয়োগ বা নিয়ে আসার বিষয়টি সীমিত করে দেয়।

মূল্যস্ফীতির নতুন রেকর্ড

গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

এতে দারিদ্র্যসীমার কিছুটা উপরে থাকা মানুষও দরিদ্র হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর আগে কখনো এত বেশি মূল্যস্ফীতি হয়নি।

বস্তুত নিুআয়ের মানুষ যেসব পণ্য ভোগ করে সেসব পণ্যের মূল্যস্ফীতি বিবিএসের তথ্যের চেয়েও বেশি। এছাড়া শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি বেশি। এ অবস্থায় নিত্যপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিুআয়ের মানুষকে চরম দুর্দশায় ফেলছে।

এমনিতেই করোনার কশাঘাতে চাকরিহারা, বেকার ও আয়-রোজগার কমে যাওয়া জনগোষ্ঠী দৈনন্দিন খরচের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে, তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছে অনেক পরিবার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে; অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব, যা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকবে না। লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বিভিন্ন দেশে কাক্সিক্ষত মাত্রায় পণ্য উৎপাদন হচ্ছে না। এতে আগামীতে পণ্যের জোগান মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। কাজেই অচিরেই আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমবে, এ আশা ক্ষীণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত কৃষিই আমাদের অর্থনীতির প্রধান রক্ষাকবচ। তাই কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি এ খাতকে বেগবান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভোগ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কৃষির ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় বাড়লে তা সামষ্টিক অর্থনীতিকেও গতিশীল করবে। এখন আর আগের নিয়মে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির অনেক কিছুই বদলে গেছে। দেশের অধিকাংশ কৃষক এ বিষয়ে অজ্ঞ। এসব বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া না হলে গতানুগতিক পরিকল্পনায় কৃষি খাতকে বেগবান করা সম্ভব হবে না।

বস্তুত প্রান্তিক কৃষকসহ ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে মূল্যস্ফীতি রোধের কার্যক্রমে সুফল মিলবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সীমিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আকার ও গভীরতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ডলারের দামবৃদ্ধির কারণেও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। কাজেই উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পদক্ষেপও নিতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অর্থনীতির সব খাতে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন এবং এ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে কঠোরভাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাবের পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের দুর্নীতির কারণেও দ্রব্যমূল্য বাড়ছে।

কাজেই ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে যাতে বিপর্যয় নেমে না আসে, সেজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত সরকারের।

টাকার মান আরও কমল

বাজারে ডলারের চাহিদা বেশি। কিন্তু সরবরাহ কম। সংকটের কারণে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে মার্কিন ডলারের দাম। এতে বৈদেশিক মুদ্রানির্ভর অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে নেতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে, যা অর্থনীতিকে প্রবল চাপে ফেলেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবারও ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম আরও এক দফা বেড়েছে। এই দফায় ডলারের দাম বেড়েছে ৫০ পয়সা। আমদানির জন্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে প্রতি ডলার বিক্রি করছে ৯৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা দরে।

গত বছরের এই সময়ে আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বেড়েছে ৯ টাকা ৬৫ পয়সা। এই সময়ে সমান হারে টাকার মানও কমেছে। টাকার মান কমায় মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে। অপরদিকে বেড়ে যাচ্ছে আমদানি ব্যয়। এতে মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ছে।

ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার দামও বাড়ানো হয়েছে। আগে ডলারের নিচে নেমে এসেছিল ইউরো। বৃহস্পতিবার ইউরোর দাম আবার ডলারের সামান্য উপরে উঠেছে। প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হলেও ইউরো বিক্রি হয়েছে ৯৪ টাকা ৬০ পয়সা দরে।

এদিকে ব্যাংকগুলোতে নগদ ডলারের তীব্র সংকট চলছে। এর ফলে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ ডলার সর্বোচ্চ ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে ৯৭ থেকে ৯৯ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে।

ডলারের জোগান বাড়াতে ব্যাংকগুলো এখন রেমিট্যান্স সংগ্রহে তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তারা বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্সের প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০০ টাকায়ও কিনছে। ওই ডলার তারা ৬ মাস মেয়াদী আগাম বিক্রি করছে ১০২ টাকায়। ব্যাংকগুলো রপ্তানি বিল কিনছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সা দরে। ৯৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা দরে কিনছে রেমিট্যান্স।

বিএনপিতে কোনো দালালের জায়গা হবে না: গয়েশ্বর

বিএনপিতে কোনো দালালের জায়গা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, বিএনপির স্বার্থে বিএনপি করতে হবে। আর যারা নিজের স্বার্থে বিএনপি করতে চান তারা ঘরে বসে থাকুন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশ ও জনগণের সম্পদ লুটপাট করে অন্যায়ভাবে বাড়িগাড়ির মালিক কেউ যদি হতে চান, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

শুক্রবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা (ঢাকা-৩) জাসাসের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

ক্ষণিকের জন্য ভালো থাকতে দলের যারা সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে ঘোরাফেরা করেন, তাদেরকে সতর্ক করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।

আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনৈতিক পুঁজি নেই উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে নানা কটূক্তি করে। ওদের রাজনৈতিক পুঁজি থাকলে এসব বলতে হতো না। বিদ্যুতের উন্নতি আমরা দেখতেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে আসল কথা না বলে নকল কথা বলছেন। তারা মনে করছে, আমাদের ঠকাইতেছে। আসলে মনের অজান্তে তারাই ঠকতেছে। পাপের বোঝা তাদের ভারি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পতন অনিবার্য।

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের হাতে একটা অস্ত্র আছে, তা হচ্ছে আমরা শুধুমাত্র এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। আর যারা নির্বাচনে যাওয়ার জন্য ডানেবামে ঘোরাফেরা করবেন, ঘর তো সোজা করতে পারব। বাইরে না হয় না পারলাম। এই কাজটা করতে কেউ দ্বিধা করবেন না। কোনো দালালের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার জায়গা বিএনপির নয়।’

বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা আরও বলেন, ‘বিএনপির জনগণের ভাগ্য, স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তারেক রহমানের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন, খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফলতার মধ্য দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব। এই আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে।’

গয়েশ্বর বলেন, আন্দোলনে সহযোদ্ধার প্রতি দরদ না থাকলে যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না। যুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে লোভ-লালসা ত্যাগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে ভোগ ভোগান্তি বাড়ায়; ত্যাগ মানুষকে মহৎ করে। আশা করি, ত্যাগের মধ্যদিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্ব সফল আন্দোলনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে পারব।

উপজেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিকাল চন্দ্র সরকারের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী, জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন, কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদুল আলম হিটো, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, এবিএম সোহেল রশিদ, এনামুল হক জুয়েল, মাজহারুল ইসলাম খান পায়েল, আহসান হাবীব, ঢাকা মহানগরের আনোয়ার হোসেন আনু, হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

‘দায়িত্বশীল আচরণ না করে বিএনপি নেতারা উসকানি দিচ্ছেন’

আগামীর সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে বিএনপিকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির অভিঘাতের মধ্যেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সারা বিশ্বকে এক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে বিএনপির কাছ থেকে জাতি কখনো দায়িত্বশীল কোনো আচরণ পায়নি। বরং তারা সব সময়ই সংকটময় মুহূর্তে জাতির ঐক্যের দুর্গে হানা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পাঁয়তারা করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈশ্বিক এই সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে। ঠিক যেমনটি করোনাকালেও ছিল।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের বক্তব্যকে নির্লজ্জ মিথ্যাচার, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় যেসব রিপোর্ট উঠে এসেছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান যথেষ্ট ভালো। শেখ হাসিনার সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয় তখনো সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সফল রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে সেই মন্দার প্রভাব পড়েনি। শেখ হাসিনা মানেই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দানের নেতৃত্ব। শেখ হাসিনা মানেই দুর্যোগে সুযোগ সৃষ্টির কারিগর।

তিনি বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। অথচ সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসকে নস্যাৎ করতে বিএনপি নেতারা প্রতিনিয়ত নির্লজ্জ মিথ্যাচার, উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। জনগণকে আস্থায় রাখতে না পেরে বিএনপি একটি হতাশাবাদী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তাই বিএনপি নেতারা প্রতিনিয়ত নিরাশার গল্প শুনিয়ে জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন।

‘তারা খুব সচেতনভাবেই এটি করছেন, যাতে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে; সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। একইসঙ্গে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরির পাঁয়তারা করছেন। প্রকৃতপক্ষে হীন-রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টায় শান্তিপ্রিয় মানুষকে আত্মঘাতী করে তোলার মতো দূরভিসন্ধি বিএনপির অর্বাচীন রাজনীতির পরিচায়ক।’

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা কথায় কথায় বাংলাদেশকে শ্রীলংকার সঙ্গে তুলনা করে দেশের জনগণের আত্মবিশ্বাস ক্ষুন্ন করতে চায়। তারা দেশের স্বপ্নবান জনগোষ্ঠীর সামনে বিভ্রান্তির ধোঁয়া ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। অথচ সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন, দুই দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তিই ভিন্ন। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকাকে সমান্তরালে রেখে তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই। তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে জনগণের ওপর চাপ বাড়ে একথা সত্য। সেদিক বিবেচনায় রেখে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৩ শতাংশ। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা সরকার সেই মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করে ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় আসলেই বিএনপি যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। তাদের বোঝা উচিত জনগণের জন্য কিছু না করে শুধু বাগাড়ম্বর বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতায় আসীন হওয়া যায় না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা জাতির সামনে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েই চলছে। বাঙালি জাতি সর্বদা আত্মবিশ্বাসী জাতি। জনগণের আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করা কোনো রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য হতে পারে না। আমি বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাব, সামনের সংকট মোকাবিলার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। তাতে দেশের মানুষ উপকৃত হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে।