শুক্রবার ,২৪ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 746

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি

১. বিজয় লে-আউটে বাংলা লেখার সময় ‘ন’ বর্ণটি লিখতে কি-বোর্ডে ইংরেজি কোন বর্ণটি চাপতে হবে?

ক. M খ. L গ. B ঘ. K

২. পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোন ব্যবস্থাকে অধিকতর দক্ষ করে তুলতে হবে?

ক. জীববৈচিত্র্য খ. শিল্প গ. জ্বালানি ঘ. কৃষি

৩. স্ক্যান করা ইমেজকে তার অক্ষরের আকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে পাঠযোগ্য বা সম্পাদনযোগ্য বর্ণে রূপান্তর করে কোনটি?

ক. OCR খ. OMR গ. MICR ঘ. HWR

৪. ফ্লিকার কী?

ক. ই-বিজনেস সাইট খ. ই-কমার্স সাইট

গ. ফটো শেয়ারিং সাইট ঘ. আউটসোর্সিং সাইট

৫. কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণের অংশ নয় কোনটি?

ক. গাণিতিক যুক্তি অংশ খ. স্মৃতি অংশ

গ. নিয়ন্ত্রণ অংশ ঘ. নির্গমন মুখ অংশ

৬. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর?

ক. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলো

খ. বরেন্দ্র ভূমি

গ. ভাওয়ালের গড় ঘ. প্লাবন সমভূমি

৭. কোনটি কম্পিউটারের জন্য ঝঁকিপূর্ণ?

ক. সফটওয়্যার খ. হার্ডওয়্যার

গ. ম্যালওয়্যার ঘ. উইন্ডোজ

৮. Drop box কী?

ক. একটি সেবা, যা তথ্য সংরক্ষণ করে

খ. একটি ওয়েব ব্রাউজার

গ. একটি হার্ডওয়্যার

ঘ. একটি প্রোগ্রাম, যা ক্ষতিকর ফাইল মুছে দেয়

৯. হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?

ক. প্রশান্ত মহাসাগর খ. ভারত মহাসাগর

গ. আটলান্টিক মহাসাগর ঘ. দক্ষিণ মহাসাগর

১০. নিচের কোনটি বাংলাদেশের তৈরি সার্চ ইঞ্জিন?

ক. গুগল খ. বাংলানেট

গ. পিপীলিকা ঘ. প্রজাপতি

১১. কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব হার্ডওয়্যার ছাড়া ইচ্ছামতো ডেটা স্টোরেজ করা যায়?

ক. ক্লাউড কম্পিউটিং খ. ক্লায়েন্ট সার্ভার ম্যানেজম্যান্ট

গ. অপারেটিং স্টোরেজ ঘ. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড স্টোরেজ

১২. কোন সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়?

ক. দুর্যোগ পুনরুদ্ধার সময় খ. দুর্যোগপূর্ব সময়

গ. দুর্যোগের সময় ঘ. দুর্যোগ প্রশমন সময়

১৩. নিচের কোনটি একটি ভিডিও ফাইল ফরম্যাটের এক্সটেনশন?

ক. .jpg খ. .exe গ. .mpg ঘ. .bmp

১৪. কত সালে ফেসবুক চালু হয়?

ক. ২০০৪ খ. ২০০৩ গ. ২০০২ ঘ. ২০০১

১৫. নিচের কোনটি একটি স্প্রেডসিট সফ্টওয়্যার?

ক. MS Word খ. MS Power point

গ. MS Outlook ঘ. MS Excel

১৬. Twitter ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ কতটি অক্ষরের মাধ্যমে তাদের অনুসারীদের জন্য বার্তা প্রেরণ করেন?

ক. ১২০ খ. ১৩০ গ. ১৪০ ঘ. ১৫০

১৭. Bluetooth কোন স্ট্যান্ডার্ড-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করে?

ক. IEEE 802.13 খ. IEEE 802.11

গ. IEEE 802.15 ঘ. IEEE 802.13

১৮. বিশ্বের গভীরতম হ্রদ কোনটি?

ক. কাস্পিয়ান সাগর খ. সুপিরিয়র হ্রদ

গ. ভিক্টোরিয়া হ্রদ ঘ. বৈকাল হ্রদ

১৯. নিচের কোনটি একটি উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম?

ক. Linxu খ. Windows 98

গ. Windows XP ঘ. DOS

২০. Internet Protocol ব্যবহার করে প্রথম কোন Network-এর জন্ম হয়?

ক. Intesrnet খ. Arpanet

গ. Intranet ঘ. Extranet

উত্তর : ১গ, ২গ, ৩ক, ৪গ, ৫ঘ, ৬ঘ, ৭গ, ৮ক, ৯ক, ১০গ, ১১ক, ১২খ, ১৩গ, ১৪ক, ১৫ঘ, ১৬গ, ১৭গ, ১৮ঘ, ১৯ক, ২০খ।

পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সিনিয়র শিক্ষক, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তরা, ঢাকা

জনসংখ্যা

প্রশ্ন : সমাজের উপর অধিক জনসংখ্যার

তিনটি প্রভাব উল্লেখ কর।

উত্তর : সমাজের উপর অধিক জনসংখ্যার তিনটি প্রভাব নিচে দেওয়া হলো-

শিক্ষা : আমাদের সমাজের অগ্রগতিতে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ এখনো অক্ষরজ্ঞানহীন। এর একটি কারণ হলো দরিদ্র মা-বাবা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারেন না। এমনকি বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অনেক শিশু পরিবারকে কাজে সাহায্য করতে গিয়ে লেখাপড়া শেষ না করে ঝরে পড়ে।

স্বাস্থ্য : আমাদের দেশে প্রতি ৪০৪৩ জনের জন্য একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকার কথা। সঠিক চিকিৎসার অভাবে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ার কারণে উপার্জন করে জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখতে পারছে না ও তারা সমাজের বোঝায় পরিণত হয়।

পরিবেশ : অধিক জনসংখ্যার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। মানুষজন বন, গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। অধিক ফসল ফলাতে গিয়ে জমিতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে, বায়ু, মাটি, পুকুর ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ভূ-গর্ভের পানি উত্তোলনের কারণে সামগ্রিকভাবে আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

সুতরাং, সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর অধিক সংখ্যার প্রভাব ব্যাপক।

প্রশ্ন : অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের দেশের জনগণ কীভাবে উপকৃত হতে পারে?

উত্তর : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। ধান এদেশের প্রধান ফসল। কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যা অধিক। তাই কৃষিপ্রধান দেশ হয়েও এদেশে খাদ্য সংকট ছিল। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার নানাভাবে এই খাদ্য ঘাটতি পূরণে সক্ষম হয়েছে। যেখানে খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হতো সেখানে বর্তমান সরকারের সঠিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। সবার জন্য আমরা খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।

সরকার নানা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে নানাভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। ফলে দেশের সব লোকের প্রধান মৌলিক চাহিদা তথা খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়েছে। ফলে দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হবে। স্বাস্থ্যহানি ঘটবে না। দেশের কোনো লোক না খেয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাবে না। ফলে অনেক সামাজিক অপরাধ ও দারিদ্র্য অনেকটাই কমে আসবে। সমাজের, রাষ্ট্রের জনগণ শান্তিতে থাকবে।

সুতরাং, অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের দেশের জনগণ নানাভাবে উপকৃত হবে

শ্বশুরবাড়িতে শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন মেসি

কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পর নিজের দেশে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। সেখানে পৌঁছে শ্বশুরবাড়িতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন এই তারকা।

এর আগে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছেন মেসিরা। এ সময় তাদের বরণ করে নিতে হাজারো মানুষ বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় নেমে আসে।

রোববার সকালে ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা।

কোপা আমেরিকা ফাইনালে লিওনেল মেসি নিজের মতো করে আলো ছড়াতে পারেননি। তবে তার হাত ধরে ফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা।

দলকে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা এনে দিতে গোটা আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন মেসি। ভেঙেছেন বেশ কয়েকটি রেকর্ড। গোটা ম্যাচে অনেকগুলো ফ্রি-কিকের মধ্যে সফল হয়েছেন মেসি একাই। ফ্রি-কিক থেকে দুটো গোল করেছেন।

ফাইনালসহ মোট সাতটি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এর মধ্যে পাঁচটিতেই ম্যাচ সেরা। গোলও করেছেন সর্বোচ্চ চারটি। অ্যাসিস্ট করেছেন পাঁচটি। তার কাছাকাছি থাকা লওতারো মার্টিনেজ ফাইনালে কোনো গোল পাননি।

তাই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল মেসির হাতেই উঠল।

সব মিলিয়ে এবারের কোপা আমেরিকা যেন বসেছিল মেসির জন্যই। তাই দলীয় শিরোপায় চুমু খাওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার ট্রফিটাও বগলদাবা করলেন মেসি।

মেসির ট্রফি জয়ের পর তার তিন সন্তানের আনন্দ উদযাপনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সন্তানদের জন্য মেসি তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছলে প্রতিবেশীরাও তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

ফাইনালে দুই গোল করা ‘বুড়ো’ বোনুচ্চি ম্যাচ সেরা

ইউরোয় নতুন ইতিহাস রচিত হলো আজ। ইংলিশদের হারিয়ে ইউরো জয়ের মুকুট এখন রবার্তো মানচিনির দলের মাথায়।

ইতালির এই ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক বনে গেলেন লিওনার্দো বোনুচ্চি। ম্যাচে দারুণ দুটি গোল করেছেন। একটি শটে অন্যটি হেডে।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতালির শিরোপা জয়ের এই অভিজ্ঞ তারকাই ফাইনালের ম্যাচ সেরা হলেন।

আজ্জুরিরা শুরুতেই পিছিয়ে যাওয়ার পর ৬৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণের জটলা থেকে গোল করেন বোনুচ্চি। ইনসিনিয়ের কর্নারে বল কাছের পোস্টে পড়লে ভেরাত্তি গোলমুখে হেড নেন। শুরুতে সেই হেড ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। কিন্তু তাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন বোনুচ্চি।

সেই সঙ্গে ইউরোর ফাইনালে সবথেকে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডও গড়েন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার ৩৪ বছর ৭১ দিন বয়সে ইউরোয় লড়াইয়ে গোল করার রেকর্ড গড়লেন তিনি। ১৯৭৬ সালে পশ্চিম জার্মানির হয়ে হলজেনবেইন ৩০ বছর বয়সে গোল করেছিলেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে মিডফিল্ডে সতীর্থদের কাছে বল পরিবেশনার মধ্যেও সেরা ছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষের অন্তত ৩৪টি প্রচেষ্ট ফিরে যেতে হয়েছিল বনুচ্চির সামনে থেকে।

ইতালিয়ানরা গোলরক্ষক ডোনামারুনাকে হয়তো জাতীয় বীর বানিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু লিওনার্দো বোনুচ্চির অবদানও কম নয়। পুরো মাঠজুড়েই তার বিচরণ ছিল। সমতাসূচক গোলটিও পেয়ে গেলেন তিনি।

লইট্টা শুঁটকি ভুনা ও ইলিশ মাছের ডিম ভাজা

লইট্টা শুঁটকি ভুনা ও ইলিশ মাছের ডিম ভাজার রেসিপি

লইট্টা শুঁটকি ভুনা
যা লাগবে: পরিষ্কার করা লইট্টা শুঁটকি ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন কুচি ১ চা চামচ, আদা রসুন বাটা দেড় চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৩-৪টি, তেজপাতা ২-১টি, তেল প্রয়োজনমতো, লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে করবেন: তাওয়ায় পরিষ্কার করা শুঁটকি ঢেলে নিন। ফুটন্ত গরম পানিতে টেলে নেওয়া শুঁটকি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন কুচি দিয়ে ভেজে নিন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে শুঁটকি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে ভেজে হলুদ মরিচ, আদা রসুন বাটা, তেজপাতা দিয়ে নেড়ে স্বাদমতো লবণ ও সামান্য পানি দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এতে আরও সামান্য পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। শুঁটকি ভুনা ভুনা হয়ে তেল ভেসে উঠলে কাঁচামরিচ দিয়ে ২-৩ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার নামিয়ে ভুনা খিচুড়ি বা গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ইলিশ মাছের ডিম ভাজা
যা লাগবে: ইলিশ মাছের ডিম ৪টি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ ফালি ৩-৪টি, সয়াসস ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে করবেন: মাছের ডিম ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি পাত্রে ডিম, হলুদ মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া, রসুন বাটা, সস, লেবুর রস ও লবণ ভালো করে মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন। ওই তেলে ডিম, কাঁচামরিচ বাদামি করে ভেজে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে নামিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে গরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করুন

সকালে খাবার না খেলে বাড়বে ওজন

সকালে খাবার খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই পার করে ফেলেন দিনের অনেকটা সময়। অনেকে সকালে অফিসে তাড়াতাড়ি বের হতে গিয়ে খাবারকেই এড়িয়ে যান। আবার অনেকে ইচ্ছা করেই সকালে না খেয়ে একবারে দুপুরের খাবার সারেন। কিন্তু এটি কতটা ক্ষতিকারক সে বিষয়ে হয়তো অনেকেরই ধারণা নেই।

সকালে খাবার না খাওয়ার কোনো ভালো দিক নেই। বিপরীতে এর ক্ষতি রয়েছে অনেক। কিছু মানুষ ভেবে থাকেন, সকালে না খেলে হয়তো ওজন কমে। কিন্তু এটি একেবারেই ভুল ধারণা। বরং সকালে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেশি থাকায় সকালের খাবার ভালোভাবে হজম হয়ে যায়। সকালে খাওয়ার ফলে সারাদিনের এনার্জি পেতে পারে শরীর।

 

সকালে না খেলে দুপুরে খাবার খাওয়ার পরিমাণ হয়ে যেতে পারে বেশি। এতে বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজন। আর এর বাইরেও সকালে খাবার না খাওয়ার কারণে রয়েছে আরও অনেক ক্ষতি। হার্টঅ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেখা দিতে পারে নানারকম শারীরিক সমস্যা।

জানুন সকালে না খাওয়ার ফলে হতে পারে যেসব ক্ষতি—

১. হার্টঅ্যাটাক হওযার সম্ভাবনা
সকালে খাবার না খাওয়ার কারণে হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। সকালে না খেয়ে থাকলে এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের ওপর চাপ পড়ে। এতে শরীরের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে যাওয়ায় হতে পারে হৃদরোগ— এমনকি হার্টঅ্যাটাক।

২. স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
নিয়মিত সকালের খাবার না খাওয়ার ফলে কমে যেতে পারে স্মৃতিশক্তি। কারণ সকালের খাবার খেলে মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ে এবং মস্তিষ্ক হয় তীক্ষ্ম। আর সকালে খাবার না খেলে শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এতে কমে যায় ব্রেনের পুষ্টি। তাই এটি কারণ হতে পারে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার।

৩. ডায়াবেটিস হওয়ার প্রবণতা বাড়ে
সকালে খাবার না খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং শরীরে বেড়ে যায় গ্লুকোজ টলারেন্স। এর কারণে হতে পারে টাইপ-২ ডাইবেটিস।

৪. শরীরের শক্তি কমে
রাতে খাবার খাওয়ার পর সকালে আবার না খেলে শরীরের খাবার না পাওয়ার সময় অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়ে। এতে শরীর তার কাজ করার শক্তি হারাতে পারে। অন্যদিকে সকালে খাবার খেলে সেটি দ্রুত ও ভালোভাবে হজম হয়ে যায়। ফলে এটি সারা দিনের কাজ করার শক্তি তৈরি করে শরীরে। তাই সকালে খাবার না খেলে সেটি সারা দিনের কাজ করার শক্তি দিতে পারে না শরীরকে।

৫. ওজন বেড়ে যায়
সকালে খাবার না খেলে দুপুরে গিয়ে বেশি খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। আর সেটির ফলে শরীরে জমা হতে পারে অতিরিক্ত ক্যালরি। এতে বেড়ে যেতে পারে শরীরের ওজন।

সকালের খাবার না খেলে শরীরে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন সমস্যা। আর এটি শরীরের জন্যও অনেক বেশি ক্ষতিকারক। তাই শরীরকে সুস্থ ও ভালো রাখতে নিয়মিত সকালে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

থায়রয়েডজনিত রোগ ও চিকিৎসা

থায়রয়েড গ্রন্থি একটি অতি প্রয়োজনীয় অন্ত:ক্ষরা (এন্ডোক্রাইন/Endocrine) গ্লান্ড (Gland); যা গলার সামনের অংশে অবস্থিত। এটি মানব শরীরের প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্লান্ড। থায়রয়েড থেকে নি:সৃত প্রধান কার্যকরী হরমোনগুলো তৈরি করতে সাহয্য করে টিএসএইস (TSH) নামক আরেকটি হরমোন; যা মস্তিস্কের ভেতর পিটুইটারি (Pituitary) নামের গ্লান্ড থেকে নি:সৃত হয়।

থায়রয়েড হরমোনের অন্যতম কাজ হচ্ছে শরীরের বিপাকীয় হার বা বেসাল মেটাবলিক রেট (Basal metabolic) বাড়ানো। থায়রয়েড হরমোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে স্নায়ুর পরিপক্বতা। এজন্য গর্ভাবস্থায় থায়রয়েড হরমোনের স্বল্পতায় গর্ভের বাচ্চা বোকা হয় অথবা বুদ্ধিদীপ্ত হয় না। যেসব উদ্দীপনায় বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায় যেমন- যৌবনপ্রাপ্তি, গর্ভাবস্থা, শরীরবৃত্তীয় কোনো চাপ ইত্যাদি কারণে থায়রয়েড গ্লান্ডের আকারগত বা কার্যকারিতায় পরিবর্তন হতে পারে।

থায়রয়েড গ্রন্থি থেকে মূলত দুই ধরনের সমস্যা দেখা যায়, গঠনগত ও কার্যগত। এরা বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে।

গঠনগত সমস্যায় থায়রয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার (Goiter) বা গলগ বলা হয়; যার আবার রয়েছে নানা প্রকারভেদ। এছাড়া থায়রয়েড গ্লান্ডের গোটা বা নডিউল (Thyroid nodule) এবং থায়রয়েড গ্লান্ডের ক্যান্সার (Thyroid Cancer) হতে পারে।

কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়ে থাকে তা হলো- থায়রয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথায়রয়েডডজম ও থায়রয়েড গ্লান্ডের কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথায়রয়েডডজম (Hypothyroidism) এছাড়া থায়রয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়ডাইটিস (Thyroiditis) হতে পারে।

থায়রয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথায়রয়েডডজম (Hyperthyroidism)

হাইপার থাইরয়ডিজম রোগে থায়রয়েড গ্লান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে। থায়রয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতার ফলে
 প্রচণ্ড গরম লাগা, হাত পা ঘামা।

 পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক বা বেড়ে যাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া।

 হার্ট ও ফুসফুসীয় সমস্যা: বুক ধড়ফড়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হার্ট ফেইলিওর, এনজাইনা বা বুক ব্যথা।

 স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা: অবসন্নতা বা নার্ভাসনেস, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, উত্তেজনা, আবেগ প্রবণতা, সাইকোসিস বা মানসিক বিষাদগ্রস্ততা; হাত-পা কাঁপা, মাংসপেশি ও চক্ষুপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে।

 এছাড়া হাড়ের ক্ষয় বা ওস্টিওপোরোসিস, মাসিকের সমস্যা, বন্ধ্যত্ব পর্যন্ত হতে পারে।

হাইপারথায়রয়েডডজমের কারণ
ক) গ্রেভস ডিজিস (Graves’ disease): এক ধরনের অটোইমিউন রোগ; যাতে থায়রয়েড গ্লান্ড এর পাশাপাশি রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং চোখ কোঠর থেকে বেরিয়ে আসে।

খ) মাল্টিনডিউলার গয়টার (Multinodular goiter)
গ) অটোনামাসলি ফাংশনিং সলিটারি থায়রয়েড বডিউল (Autonomously functioning solitary thyroid nodule)

ঘ) থায়রয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থায়রয়েডাইটিস (Thyroiditis)

ঙ) থায়রয়েড গ্লান্ড ছাড়া অন্য কোন উৎসের কারণে থায়রয়েড হরমোনের আধিক্য।

চ) টিএসএইচজনিত (TSH related)

ছ) ফলিকুলার ক্যান্সার (Follicular cancer) ও অন্যান্য।

হাইপার-থায়রয়েডডজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথায়রয়েড ওষুধ। যেটি থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেবে। ওষুধ ব্যতিরেকে কখনো কখনো সার্জারি করা প্রয়োজন হতে পারে। যখন অ্যান্টি থায়রয়েড ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়। তারপর এ ওষুধ তাকে বন্ধ করে দিতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিক থাকে, খুব ভালো কথা, তবে যদি আবারও রোগ ফিরে আসে তবে সাধারণত রেডিও আয়োডিন দিয়ে গ্লান্ড নষ্ট করে দিতে হয়।

থায়রয়েড গ্লান্ডের কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথায়রয়ডিজম (Hypothyroidism)
হাইপোথায়রয়েডডজম মূলত নিম্নলিখিত কারণে দেখা যায়। যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে, সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথায়রয়েডজম দেখা যায়। এছাড়া অটোইমিউন হাইপোথাইরয়ডিজম এ থায়রয়েড গ্লান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে গ্লান্ড নষ্ট হয়ে যায় এবং থায়রয়েড গ্লান্ড কাজ করে না। চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থায়রয়েড গ্লান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থায়রয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এ সমস্যা হতে পারে। হাইপারথায়রয়েডজমের ওষুধের ডোজ বেশি হলে তার থেকে হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে। নবজাতক শিশুদের মধ্যে থায়রয়েড গ্লান্ড তৈরি বা কার্যকর না হলে কনজেনিটাল হাইপোথায়রয়েডডজম (Congenital Hypothyroidism) দেখা যায়।

হাইপোথায়রয়েডিজমের যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়-
– অবসাদগ্রস্ত হওয়া, সাথে অলসতা, ঘুম-ঘুম ভাব।
– ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
– করীর অল্প ফুলে যায়।
– ক্ষুধা মন্দা শুরু হয়।
– চুল পড়তে শুরু করে।
– ওজন অল্প বেড়ে যায়, ৫-৬ কিলো বেড়ে যেতে পারে।
– স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
– শীত শীত ভাব দেখা যায়।
– কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়।
– মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
– ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে।
– মাসিকের সমস্যা হতে পারে।
– বন্ধ্যত্ব ও সমস্যা হতে পারে।
– গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে।
– কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে শিশুর ব্রেণের বিকাশ হয় না।

থায়রয়েড ক্যান্সার (Thyroid cancer)
থায়রয়েড গ্রন্থির কোনো অংশ টিউমারের মতো ফুলে উঠলে বলা হয় থায়রয়েড নেডিউল। এসব থায়রয়েড নেডিউলের ১ শতাংশ থেকে থায়রয়েড ক্যান্সার হতে পারে। থায়রয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থায়রয়েড ক্যান্সার বলে।

নারীদের প্রস্রাবে সংক্রমণ কেন হয়, কী করবেন?

প্রস্রাবে সংক্রমণ (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশান) নারীদের খুব কমন সমস্যা। কিছু বাজে অভ্যাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে এটি হয়ে থাকে। সময় মতো চিকিৎসা না করালে এ থেকে শরীরে অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকেই আমাদের কাছে এসে বলেন, ঘনঘন প্রস্রাব হয় ও জ্বালাপোড়া করে, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাব করতে গেলে আটকে যায়। অনেকের দাবি, শরীরে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে ও পেটে ব্যথা করে। কারও কারও ক্ষেত্রে এসব কোনো উপসর্গ নেই, তবে প্রস্রাব তীব্র গন্ধ।

এক্ষেত্রে আমরা রোগটি শনাক্তে ইউরিনের কিছু রুটিন পরীক্ষা দেই। পাশাপাশি সেনসিটিভিটি দিয়ে থাকি। শনাক্তের পর একান্ত প্রয়োজন হলে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়।

যেকোনো সংক্রমণ (ইনফেকশন) ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হয়। প্রস্রাবে সংক্রমণও ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হয়। এ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান ও প্রস্রাব ঠিকমতো হলে ব্যাকটেরিয়াগুলো ফ্লাশআউট হয়ে যায়।

মেয়েদের একটি বাজে অভ্যাস রয়েছে। কোথাও গেলে বিশেষ করে কর্মস্থলে প্রস্রাব আটকে রাখে। এতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কর্মস্থলের পরিবেশ নারীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। যখনই প্রয়োজন হবে, প্রস্রাব করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে জীবাণুমুক্ত থাকতে হবে। অন্তর্বাস নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে। টয়লেট করার পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, টয়লেট পেপার ব্যবহার করা যেতে পারে। বিবাহিতদের উচিত ইন্টারকোর্সের আগে ও পরে জায়গাটি পরিষ্কার করে নেয়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই পরিষ্কারের এ বিষয়টি মেনে চলতে হবে।

মায়েরা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করার কারণে বাচ্চা মেয়েদের প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দেয়। তাদের প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কারের সময় সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এমন বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে।

মেয়েদের ভ্যাজাইনাইটিস হলে সঠিকভাবে চিকিৎসা করাতে হবে। কারও কারও বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়। এমন হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ডায়াবেটিস বিশেষ করে আনকনসাস ডায়াবেটিস আছে কিনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

অনেকের মূত্রথলিতে পাথর হওয়ায় ঠিকমতো প্রস্রাব আসে না। এক্ষেত্রে পার্সিয়াল অবস্ট্রাকশন হলে ঘনঘন প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে। কিডনি ও মূত্রথলির গঠনগত সমস্যা থাকলেও এমনটি হতে পারে। এক্ষেত্রে একজন গাইনিকলজিস্টের কাছে যেতে হবে। ইউরোলজির শরণাপন্ন হতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পানি ও তরল জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। ডাবের পানি ও জুস খাওয়া গেলে ভালো হবে। আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে। নিয়মিত সকাল ও রাতে ইসুবগুলের ভূষি খেলে উপকার হবে। সাধারণত সবাই ইসুবগুলের ভূষি ভিজিয়ে রেখে খান। আমরা পরামর্শ দেই, পানিতে দিয়ে নেড়ে তৎক্ষণাৎ খেয়ে ফেলার।

রাজশাহীতে একদিনে আরও ১৪ জনের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে তারা মারা যান। এর আগে গত ২৮ জুন সর্বোচ্চ ২৫ জন মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, নতুন করে মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। চারজন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। আর চারজন শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। তারা করোনা নেগেটিভ ছিলেন।

মৃত ১৪ জনের মধ্যে রাজশাহীর পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন, নাটোরের চারজন,  নওগাঁর দুজন এবং পাবনার একজন রোগী ছিলেন। হাসপাতালটিতে এ মাসের ১২ দিনে ২০৪ জনের মৃত্যু হলো।

এর আগে জুন মাসে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৩৫৪ জন।

হাসপাতাল পরিচালক শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪ জন। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ৫১৭ জন। হাসপাতালে মোট করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা এখন ৪৫৪টি।

ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেন সুফিয়া

নিজ বাড়িতে গৃহকর্তা ইজিবাইকচালক হোসেন আলী (৫৫) হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে। স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০) তার বড় ছেলে মতিয়ার রহমানকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় নীলফামারীর আদালতে মা ও ছেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন।

এর আগে ১০ জুলাই ভোরে নীলফামারী শহরের মধ্য হাড়োয়া নিকুঞ্জ মহল্লার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। উদ্দেশ্য ছিল— বাড়ি বিক্রির টাকা আত্মসাৎ এবং ক্রয়কারীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি প্রতিবেশী শাহিনুর আলমের কাছে সাড়ে ৯ লাখ টাকায় হোসেন আলী তার বাড়িটি ও বাড়ির জমিটি বিক্রি করেন। বাড়ি ও জমির ক্রেতা টাকা বুঝে দিলেও বাড়িটি রেজিস্ট্রি হয়নি এখনও। ক্রেতা শাহিনুর আলমকে ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল ১০ জুলাই।

ক্রেতাকে ওই বাড়ি ছেড়ে না দিয়ে তার ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের লক্ষ্যে হোসেন আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম, বড় ছেলে মতিয়ার রহমান পরিকল্পনা করে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হোসেন আলীর বাম হাতের কনুই কেটে দিয়ে ঘরের বারান্দায় ফেলে রাখে ন। এর পর রক্তক্ষরণে হোসেন আলীর মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার চালায় তারা।

এর পর ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। ওই হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহের পুরো বিষয়টির নেতৃত্ব দেন হোসেন আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম। তিনি নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীর হাত ও গলা কাটেন ।

এ ঘটনায় নিহতের ছোটভাই আলাল হোসেন (৪৫) বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ-উন নবী বলেন, ঘটনাটি ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এর পর থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রহস্য বেরিয়ে আসে। তারা ওই বাড়ির ক্রেতাকে বঞ্চিত করে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় বলে রোববার বিকালে ১৬৪ ধারায় মা ও ছেলে আদালতে জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তি ও জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠান।