শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 742

লকডাউনে যা করতে পারেন

জীবিকার চেয়ে জীবন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সোমবার থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। আপনার, আমার সবার উচিত সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজে নিরাপদ থাকা ও অন্যদের নিরাপদে রাখা। আর যেহেতু লকডাউনে বাসা থেকে বের হওয়া উচিত না, তাই কীভাবে কাটাবেন অলস সময়, তার একটা পরিকল্পনা করে ফেলা উচিত। আপনাকে সহায়তা করতে পারে নিচের কিছু টিপস।

লকডাউন চলাকালে সৃজনশীলতা যেন থেমে না যায়, বরং নতুন কিছু করার ও গড়ে তোলার প্রয়াস যেন থাকে আপনার সেই চেষ্টাই করতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইনেও সার্চ করে দেখতে পারেন আপনি কী কী করতে পারেন এই সময়ে।

* লকডাউনে নতুন একটা ভাষা শিখে ফেলার চেষ্টা করুন। হতে পারে তা ইতালিয়ান, স্প্যানিশ বা ফ্রেঞ্চ। আর নিজেকে আরো স্মার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে ইংরেজিটাতেও আরো জোর দিতে পারেন।

* ক্যারিয়ারভিত্তিক অনলাইন কোর্সের সন্ধান পেলে করে নিন তা। ভবিষ্যতে আপনার কাজে আসবে।

* একঘেঁয়ে সময় থেকে পরিত্রাণ পেতে বিভিন্ন পোডকাস্ট শুনতে পারেন।

* আপনি কি কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে চান? তাহলে লকডাউনের সময়ে পিয়ানো, বাঁশি, তবলা বা এ জাতীয় কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট বাজানো শিখুন।

* বই পড়ার আনন্দ কোনো দিনও কমবে না। লকডাউনের সময়ে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলতে নতুন বেস্টসেলার বই ও পুরোনো ক্লাসিক কিছু বই পড়তে পারেন।

* যেহেতু বাসায় আছেন তাই সময় নিয়ে পুরো বাসার সব জায়গা ভালো করে পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। প্রচলিত কথা আছে- রান্না ঘর গোছানো থাকা মানে মনটাও গোছানো। তাই রান্না ঘর পরিপাটি করে ফেলুন এই লকডাউন সময়ে।

* পরিবারের সদস্যদের, আপনার বাগানের, পরিবেশের সুন্দর কিছু ছবি তুলে রাখতে পারেন আপনার প্রিয় ক্যামেরায়। এটা এক সময় দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

* রান্না করতে শিখুন। লকডাউনে যেহেতু অনেক সময় হাতে পাবেন, তাই নির্দিষ্ট সময়ে কয়েক ধরনের ডিশ রান্না করা শিখে ফেলুন। এটা আপনার জন্য ও পরিবারের জন্য উপকারী হবে।

* আপনার ওয়ারড্রোবটা গুছিয়ে ফেলুন সময় নিয়ে।

* বিভিন্ন ফুল কীভাবে একসঙ্গে করে ব্যুকে তৈরি করা যায়, তা শিখুন। পরে জন্মদিন বা বিশেষ দিনে প্রিয়জনদের উপহার দিতে পারবেন।

* বাগানের কাজ করুন। বাসার পাশে খালি জায়গা থাকলে ফুল বাগান করার পাশাপাশি ভেষজ গাছ লাগানোর দিকে মনোযোগ দিন। টবেও ফুলগাছ লাগাতে পারেন।

* আপনার ক্যারিয়ারের কথা ভেবে লকডাউনের সময়টায় নিজের সিভি আপডেট করতে পারেন।

* লেখালেখি করার আগ্রহ থাকলে লকডাউনের সময়টা আপনার জন্য খুব উপযোগী হবে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস যেকোনো কিছু লেখার অভ্যাস করুন।

* ব্যায়াম করুন নির্দিষ্ট সময়ে। মেডিটেশনও করতে পারেন। এতে করে করোনা থেকে যেমন নিরাপদে থাকতে পারবেন, তেমনি অন্য সব রোগ বালাইও দূর হবে।

করোনার কোন টিকার কী কাজ

করোনার মহামারি থামাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় টিকা উদ্ভাবন হয়েছে। অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম সময়ের মধ্যেই আমরা করোনার টিকা পেয়ে গেছি। এটা থেকে বোঝা যায়, করোনার টিকা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা কতই না নিবেদিত ছিলেন। প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নও একাজকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কেবল একটি নয়, বিভিন্ন ধরনের করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে।

টিকাগুলো বিভিন্ন ধরনের হলেও মূল কাজ কিন্তু একটাই- মারাত্মক করোনাভাইরাসকে দূরে রাখতে অ্যান্টিবডি তৈরি করা।এসব টিকাকে ভিন্নভাবে ডিজাইন করা হয় বলে অনন্য উপায়ে ইমিউন রেসপন্সকে উদ্দীপ্ত করে। এখানে পাঁচ ধরনের করোনার টিকা ও কীভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে বলা হলো।

* মেসেনজার আরএনএ (এমআরএনএ) ভ্যাকসিন

এ টিকাতে এক ধরনের নির্দেশনা থাকে। টিকাটি ইমিউন রেসপন্সকে উদ্দীপ্ত করতে কোষগুলোকে সক্রিয় করে, যা মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে এমআরএনএ ভ্যাকসিন একটি প্রোটিন বা করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের অংশবিশেষ তৈরি করতে কোষগুলোকে নির্দেশনা দেয়। এটি শরীরের ইমিউন রেসপন্সকে উদ্দীপ্ত করে। এই ইমিউন রেসপন্সে শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়, যা প্রাণনাশক করোনাভাইরাসকে রুখে দিতে কাজ করে। এভাবে সৃষ্ট কৃত্রিম স্পাইক প্রোটিন মূল ভাইরাসের মতো প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। ফাইজার ও মডার্নার করোনার টিকা মেসেনজার আরএনএ (এমআরএনএ) টেকনোলোজির মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে।

* ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন

টিকাটিতে কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শরীরে ইমিউন রেসপন্স ও অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করতে আরেকটি ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। মূলত ভিন্ন ভাইরাসের পরিমার্জিত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়, যা একটি ভেক্টর হিসেবে পরিচিত।কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে ঠান্ডার ভাইরাস অ্যাডিনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি শরীরের কোষে প্রবেশ করে কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের অংশবিশেষ (স্পাইক প্রোটিন) তৈরি করে। শরীরের ইমিউন সিস্টেম এই স্পাইক প্রোটিনকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এবং প্রতিহত করতে অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে ও অন্যান্য ইমিউন সেলকে সক্রিয় করে। গুজব রটেছে যে ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন মানুষের ডিএনএ পরিবর্তন করে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ভাষ্যমতে এটা সত্য নয়। রাশিয়ার স্পুটনিক ভি এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকায় ভাইরাল ভেক্টর টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে।

* প্রোটিন সাবইউনিট ভ্যাকসিন

এ টিকাতে একটি ভাইরাসের সেই অংশকে ব্যবহার করা হয়, যা প্রাণঘাতী জীবাণুকে রুখতে ইমিউন সিস্টেমকে সবচেয়ে বেশি উদ্দীপনা যোগাতে পারে। টিকাটি গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়, কারণ এর দ্বারা সৃষ্ট ইমিউন রেসপন্স তুলনামূলক দুর্বল। একারণে শক্তিশালী ইমিউন রেসপন্স পেতে অ্যাডজুভেন্ট প্রয়োজন হয়। অ্যাডজুভেন্ট হলো এমন একটি উপকরণ যা টিকার কার্যকারিতা বা ইমিউন রেসপন্স বৃদ্ধি করে। আমেরিকান বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নোভাভ্যাক্স প্রোটিন সাবইউনিট ভ্যাকসিন ভিত্তিক করোনার টিকা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
* ডিএনএ-বেসড ভ্যাকসিন

থার্ড জেনারেশন ভ্যাকসিন হিসেবেও পরিচিত ডিএনএ-বেসড ভ্যাকসিনে বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিবর্তন সাধিত ডিএনএ ব্যবহার করা হয়। এটিও মারাত্মক ভাইরাসকে হঠাতে কার্যকরী ইমিউন রেসপন্স সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই নতুন টিকা প্রচলিত টিকার তুলনায় বেশি উপকারে আসতে পারে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডিএনএ বেসড ভ্যাকসিনের স্থায়িত্ব বেশি, সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণু নেই ও প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করা যায়।’ ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জাইডুস ক্যাডিলার করোনার টিকাতে ডিএনএ টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে।

* ইন্যাক্টিভেটেড ভাইরাস ভ্যাকসিন
এ টিকাতে নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। এসব ভাইরাসকে ল্যাবে তৈরি করে নিষ্ক্রিয় করা হয়, যেন টিকা গ্রহণকারীর সংক্রমণ না হয়। এ ধরনের টিকা নিলে শরীরে ইমিউন রেসপন্স তথা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু অসুস্থ হয় না। তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর কিছু উদাহরণ হলো পোলিও, হেপাটাইটিস এ এবং ফ্লু ভ্যাকসিন। চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের করোনায় টিকায়ও নিষ্ক্রিয় করোনাভাইরাস ব্যবহার করা হয়েছে। ইমিউন রেসপন্স বাড়াতে অ্যাডজুভেন্টও রয়েছে। টিকা দুটিতে অনেক প্রোটিন রয়েছে বলে শরীরে উল্লেখযোগ্য অ্যান্টিবডি তৈরিতে ভালো অবদান রাখতে পারে।

টমেটো জুসে এতো উপকার!

টমেটো আমাদের প্রায় সবারই প্রিয় এক সবজি। সালাদ, ফাস্টফুডের সঙ্গে, তরকারি হিসেবে সব কিছুতেই এই টমেটো ভিন্ন স্বাদ যোগ করে। এটি খুব স্বাস্থ্যকরও। আপনি কি জানেন টমেটো জুস শরীরের জন্য কতোটা উপকারী? হ্যাঁ, এখন অনেকেই শরীর ফিট রাখতে টমেটো জুস পান করেন। এক গবেষণায় জানা গেছে, তাজা টমেটোর চেয়ে টমেটো জুস স্বাস্থ্যের জন্য আরো উপকারী।

কোলেস্টেরল কমায়: টমেটো জুসে থার্টিন-ওক্সো- ওডিএ উপাদান পাওয়া যায়, যা শরীরের উচ্চ কোলেস্টেরল কমায়। উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগ, স্ট্রোক সহ শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। তাই টমেটো জুস পান করলে কোলেস্টেরলের কারণে তৈরি হওয়া শরীরের জটিল রোগ প্রতিরোধ হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে: যাদের ওজন বেশি, তাদের ডায়াবেটিসে ভোগার ঝুঁকি থাকে বেশি। টমেটো জুস কোলেস্টেরলের পাশাপাশি ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণ করে। এতে করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ হয় ও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: টমেটো জুসে লাইকোপেন ও বিটা ক্যারোটিনের মতো ক্যারোটিনয়েড উপাদান থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ক্যানসার প্রতিরোধ করে: এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকায় টমেটো ও এর জুস থেকে ৮০ শতাংশ লাইকোপেন পাওয়া যায়। এই উপাদান ফুসফুস, পাকস্থলী, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। লাইকোপেন খুব শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ফ্রি র‌্যাডিকেল শরীর থেকে দূর করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: টমেটো জুসে থাকা লাইকোপেন, ভিটামিন সি, ফেনোলিক এসিড হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ওজন কমায়: এক গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটো জুস পান করলে শরীরের ওজন কমে। এই জুসে ক্যালরির পরিমাণও কম থাকে।

হতাশা ও মানসিক চাপ কমায়: টমেটো জুসে প্রচুর লাইকোপেন ও গামা এমিনোবিউটোরিক এসিড থাকে। এই দুটি উপাদান মানুষের হতাশা, মানসিক চাপ, মুড সুইংয়ের সমস্যা কমায়। টমেটো জুস তাই অনেক মানসিক সমস্যা দূর করে বলেই গবেষণায় জানা গেছে।

শরীরে পানির পরিমাণ বাড়ায়: শরীরের ইলেকট্রোলাইটের পরিমাণ ঠিক রাখতে পানি পান করতে হয় বেশি। টমেটো জুসে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরের পানি স্বল্পতার মতো সমস্যা দূর করে।

হাড়ের রোগ দূর করে: এক গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটো জুস হাড় মজবুত রেখে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগ প্রতিরোধ করে।

বয়সের ছাপ দূর করে: বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেহকোষ নষ্ট হয়ে আমাদের মুখে ও ত্বকে ভাঁজ পড়ে। টমেটো জুসে থাকা ক্যারোটিনয়েড দেহকোষ ভালো রেখে বয়সের ছাপ দূর করে। ব্রণ, ত্বকের শুষ্কতা সহ এ ধরনের সমস্যাও দূর করে টমেটো জুস।

যেভাবে টমেটো জুস তৈরি করবেন

২- ৩টি তাজা টমেটো নিন। এক চিমটি লবণ ও ২০০ মিলিলিটারের মতো গরম পানিও নিন। একটি পাত্রে টমেটোগুলো নিয়ে তাতে গরম পানি ঢেলে দিন। এরপর টমেটোগুলো ভালো করে পরিষ্কার করুন। এতে করে টমেটোর খোসা উঠে আসবে। এবার টমেটোগুলো তুলে খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে সেগুলো টুকরো টুকরো করুন। এরপর ব্লেন্ডারে দিয়ে জুস তৈরি করুন। ওই দ্রবণটা ছেঁকে নিয়ে একটি গ্লাসে ঢালুন। এরপর তাতে লবণ মিশিয়ে পান করুন। ভিন্ন স্বাদ পেতে এর সঙ্গে একটু লেবুর রস ও একটু চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন।

বাজারে টমেটো জুস পাওয়া যায়। তবে ঘরে এই জুস তৈরি করে নেয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

এখন বাজারে নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। সুস্বাদু এই ফল পছন্দ করে না এমন মানুষ বিরলই বলা চলে। প্রশ্ন হলো- আম তো সুখাদ্য, কিন্তু এর আঁটি কি খাওয়া যায়? ছোটবেলায় এই প্রশ্নের তেমন যুতসই উত্তর পাওয়া যেতো না। তবে এখন গবেষকরা বলছেন- হ্যাঁ, পাকা আমের বীজ বা আঁটি শক্ত হয় বলে তা খাওয়া না গেলেও কাঁচা আমের বীজ কিন্তু খাওয়া যায়। আমের বীজ গুঁড়ো করে, মন্ড করে খাওয়া যায়। আমের বীজ যেসব কাজে আসে-

খাবারের স্বাদ বাড়াতে: এক গবেষণায় দেখা গেছে তরকারিতে আমের বীজ ব্যবহার করলে স্বতন্ত্র এক স্বাদ পাওয়া যায়। মেক্সিকোতে ঐতিহ্যবাহী মোল সস তৈরিতে আমের বীজ ব্যবহার করা হয়।

শিশুর দাঁতের মাড়ি মজবুত করতে: বিশ্বের অনেক দেশেই শিশুদের দাঁতের মাড়ি মজবুত করতে তাদেরকে আমের বীজ খাওয়ানো হয়। এক্ষেত্রে মায়েরা খাওয়ার পর আমের আঁটি বা বীজটা শিশুর মুখে দেন। এটি চাবানোর পর মাড়ির ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। পাকা আমের আঁটিতে থাকা সুস্বাদু অংশ মুখে নেয়ার মাধ্যমে শিশু তার মাড়ির ব্যথা অনেকটাই ভুলে যায়।

ডালের সঙ্গে: ভারতের উত্তরাঞ্চলে ডালের সঙ্গে কাঁচা আম মিশিয়ে রান্না করা হয়। এতে ডালের ভিন্ন এক স্বাদ পাওয়া যায়। আর এই ডাল বেশ স্বাস্থ্যকর, এটি সান স্ট্রোক থেকেও রক্ষা করে। আমাদের দেশেও অনেক এলাকার মানুষ ডালের সঙ্গে কাঁচা আম ও তার আঁটি যুক্ত করে রান্না করে খেতে পছন্দ করেন।

আমের বীজের উপকারিতা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন আমের বীজের মন্ড তৈরি করে তা মাথায় মাখলে খুশকি দূর হয় ও চুল পাকা বন্ধ হয়। আমের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ডায়রিয়া দূর হয়। বিশেজ্ঞরা আরো বলেছেন নিয়মিত অল্প পরিমাণে আমের বীজের গুঁড়ো খেলে হৃদরোগ ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কমে।

মধ্যরাতের স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রাণ বিতরণ

মধ্যরাতের ছিন্নমূল অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

রোববার (১২ জুলাই) রাত বারোটার দিকে রাজধানীর পান্থপথ সংলগ্ন আশেপাশের এলাকায় শ্রমিক, পথচারী, রিক্সা ও ভ্যান চালকদের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মহামারী করোনা কালীন সময়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ যেন খাবারে কষ্ট না করে এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ত্রাণ বিতরণ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এ সময় তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কমপক্ষে ১০ জনকে খাদ্য সামগ্রী বিতরনের আহবান জানান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভয়কে জয় করে করোনা মহামারির শুরু থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েও সারা বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার থেকে কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালু হবে। করোনা রোগী ও লাশ বহনের জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। করোনা রোগীর লাশ গোসল, জানাজা, দাফন ও সৎকার টিমগুলোকে সচল রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব, তানভীর আক্তার শিপার, মেহেদী শিকদার, আবু জাফর, ফয়সাল হোসেন ও আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন খালেদা জিয়া

করোনাভাইরাসের টিকা নেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাকে টিকা দেওয়ার তারিখ জানানো হয়নি।

এটি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ম্যাডাম মহাখালীর ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে টিকা নেবেন। ৯ জুলাই ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

নিবন্ধন ফরমে উল্লিখিত মুঠোফোন নম্বরে খুদে বার্তার মাধ্যমে টিকা দেওয়ার তারিখ জানানো হয়ে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত ওই এসএমএস পাননি খালেদা জিয়া। ৭৬ বছর বয়সি খালেদা জিয়া ইতোমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৫৪ দিন চিকিৎসার পর গত ১৯ জুন রাতে তিনি গুলশানের বাসায় ফেরেন। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও হাসপাতালে জীবাণু এবং দেশে করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণের মধ্যে ঝুঁকি এড়াতে খালেদা জিয়াকে বাসায় নেওয়া হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

তবে করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার পর তার আর্থ্রাইটিসসহ পুরোনো অনেক রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা না হওয়ায় সেগুলোর জটিলতা বেড়েছে। এর মধ্যে হার্ট, কিডনি ও লিভারে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব রোগের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

কঠোর লকডাউন শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি

আগামী ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত চলমান কঠোর লকডাউন শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তবে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবার কঠোর লকডাউন শুরু হবে।

এর আগে সোমবার কঠোর লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার।

কুরবানি ঈদের মানুষের চলাচল ও পশুরহাটে কেনাবেচার বিবেচনায় লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে গণপরিবহণ। খোলা থাকবে শপিংমল ও দোকানপাট।

তবে বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। আর সরকারি অফিসের কার্যক্রম ভার্চুয়ালি চলবে।

করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন আরোপ করে সরকার। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।

বিস্ময়কর লিলিপুটদের রাজ্য

খুবই সুন্দর সাজানো-গোছানো একটি শহর। সেখানকার ঘর-বাড়ি বিশ্বের অন্যান্য দেশের শহরের তুলনায় খুবই ছোট আর আকর্ষণীয়ও বটে। অনেকটা ইগলুর মতো গোলাকার এই বাড়িগুলো বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে।

তার চেয়েও অবাক করা বিষয় হলো, এই শহরে বসবাসরত লিলিপুটরা। অর্থাৎ এই শহরের সব বাসিন্দায় ২-৪.৫ ফুট উচ্চতার মধ্যে। অর্থাৎ তারা সবাই বামুন। অবাক করা বিষয় হলো, একই শহরে এতো বামন দেখতে দলে দলে ভিড় করেন পর্যটকরা।

বলছি, চিনের ‘কিংডম অব দ্যা লিটল পিপল’ অর্থাৎ ছোট ব্যক্তিদের রাজ্যের কথা। আসলেই তাই। বামনরা খুবই সুন্দর করে তাদের এই রাজ্যটি সাজিয়েছে। আর তাইতো দৃষ্টিনন্দন এই স্থানটি ও বামনদের দেখতে প্রতি বছর হাজারও পর্যটক সেখানে ভিড় জমান।

চীনের ইউনান প্রদেশে অবস্থিত এই ‘কিংডম অব লিটল পিপল’। এটি আসলে একটি থিম পার্ক। সেখানে গেলে পর্যটকরা দেখতে পারবেন বামনদেরকে। এই থিম পার্কে বামনরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। যা দর্শকরা স্বয়ং উপস্থিত থেকেও দেখতে পারেন আর চীনের বিভিন্ন টেলিভিশনে সম্প্রচারিতও হয়।

এই থিম পার্কের ভেতরে তৈরি করা ছোট ছোট নান্দনিক ঘরগুলোতেই বসবাস করেন এসব বামনরা। যেহেতু সমাজে বামনদের গ্রহণযোগ্যতা কম, এমনকি মানুষ তাদের দেখে বিদ্রুপ করে থাকে; এ কারণেই চিনের বিভিন্ন শহর থেকে বামনরা এখানে আসেন অর্থ উপর্জন ও ভালো জীবন ধারণের আশায়।

তেমনই একজন হলেন ২৮ বছর বয়সী ই শাবাও। এখান থেকে ১১০০ মাইল দূরে তার জন্মভূমি। উহানের একটি অটো পার্টস কারখানায় একসময় কাজ করতেন। তবে মানুষের বিদ্রুপ আর গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়ার অভিযোগ বুকে নিয়ে পাড়ি দেন এই ছোটদের রাজ্যে।

ই শাবাও বলেন, ‘আমি এখানে টাকার জন্য আসিনি। কারণ উহানের চেয়ে এখানে আমি আরও কম রোজগার করি। তবে আমি নিজে খুশি এখানে এসে। কারণ এখানে আমি স্বাধীন। আমাকে দেখে আর কেউ বিদ্রুপ করে না। আমরা সবাই এক, এটাই আমার ও আমাদের সাম্রাজ্য। যতদিন পার্ক থাকবে; ততদিনই আমি থাকবো এখানে।’

এই থিম পার্কে যুক্ত হওয়া বামন পারফর্মাররা তাদের কাজের উপর নির্ভর করে প্রতি মাসে ১২০-১৭৫ ডলার রোজগার করতে পারেন। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার সুযোগও পান বামনরা। নিজেদের সম্মান খুঁজে পেতেই তারা এখানে আশ্রয় নেন। কারণ এখানে কেউ তাদের উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপ করে না।

বর্তমানে কিংডম অব লিটল পিপলের এই স্থানে বসবাস করেন প্রায় ১৫০ বামন। তবে এই পার্কে যদি কোনো বামন যেতে চান, তবে তার বয়স ১৯-৪৮ এবং উচ্চতা সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ ফুট হতে হবে।

চিনের সেন্ট্রাল কুনমিং থেকে প্রায় এক ঘন্টা দূরে অবস্থিত এই পার্কটি প্রজাপতির জন্য উত্সর্গীকৃত। এর পাশে আছে পাহাড়। বামনশিল্পীরা সেখানে থাকেন, নগর জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রকৃতির কোলে।

চিনের ধনী রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী চেন মিংজিং এই পার্কের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে এই পার্কটি উদ্বোধন করা হয়। এই স্থানটি ওয়ার্ল্ড বাটারফ্লাই ইকোলজিকাল পার্ক হিসেবে সংরক্ষিত। বামনদের থিম পার্কের সদস্য একসময় ১০০০ জনে উন্নীত হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

যদিও এই পার্ক নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। লিটল পিপল অব আমেরিকা ও হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা এই পার্কটির বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে। সমালোচকরা দাবি করেন, এই পার্কটি একটি মানব চিড়িয়াখানার সদৃশ। সমাজ থেকে প্রতিবন্ধীদের আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠাতা চেন মিংজিংয়ের দাবি, থিম পার্কের অবদানে এই খুদে মানুষগুলো উপার্জন করতে পারছেন। তা না হলে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েতেন। কারণ খুদে মানুষরা সবার অবজ্ঞার পাত্র হয়ে থাকেন। এ ছাড়াও এখানে তারা একসঙ্গে বাস করার ফলে, তাদের আত্মমর্যাদা বাড়ছে এবং তারা খুশি থাকছে

প্রতিবছর আপডেট হবে উইন্ডোজ ১১

সফটওয়্যার নির্মাতা সংস্থা মাইক্রোসফট তাদের সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজের প্রতিবছর ফিচার আপডেট করা হবে বিওলে জানিয়েছে। মাইক্রোসফট বলেছে, এক বছরে উইন্ডোজ ইলেভেনের একটি করে ফিচার আপডেট করা হবে। ব্যবহারকারীকে সুবিধা দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেক জায়ান্ট সংস্থাটি আরও বলেছে, উইন্ডোজ ইলেভেনের হোম, প্রো, প্রো ফর ওয়ার্কস্টেশন এবং প্রো ফর এডুকেশন এডিশন ব্যবহারকারী ক্রয়ের তারিখ থেকে ২৪ মাসের সেবা পাবেন। অন্যদিকে এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারী পাবেন ৩৬ মাস। ক্ষেত্রবিশেষে প্রো ফর এডুকেশন এডিশন ব্যবহারকারীকেও এ সেবা দেওয়া হতে পারে। গত ২৪ জুন উইন্ডোজ ইলেভেন বাজারে নিয়ে আসে মাইক্রোসফট। কিন্তু বাজারে আসার আগেই নতুন প্রজন্মের উইন্ডোজটি ফাঁস হয়ে যায়। সেখান থেকে জানা গেছে, এতে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে স্টার্ট মেনুতেও রয়েছে ফাইল এক্সপ্লোরার। যার মাধ্যমে সব অ্যাপ পাওয়া যাবে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফল হতে যা করবেন

খালিদ ফারহান বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একজন উদ্যোক্তা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ২০১২ সালে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পদার্পণ করেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। গতানুগতিক কর্মসংস্থানের দিকে না ঝুঁকে নিজের মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এক স্বপ্নবাজ তরুণ তিনি। বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত এই তরুণ উদ্যোক্তা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কথা জানাচ্ছেন, মমিনুল হক রাকিব—

খালিদ ফারহান একজন সফল উদ্যোক্তা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ইউটিউবে তার ‘Khalid Farhan’ চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৩ লক্ষাদিক। তবে একজন উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। ইউটিউবে ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিশ্ব অর্থনীতি এবং ব্যবসা কেন্দ্রীক আলোচনা করেন ফারহান।

২০১২ এবং ২০২১ সালের মধ্যকার ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের অবস্থাগত কি কি পরিবর্তন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে কিছু ছিলো না। তখন মূলত এসইও কেন্দ্রীক কাজ হতো কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিগত নয় বছরে বাংলাদেশ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি করেছে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।’

গতানুগতিক কর্মসংস্থানের দিকে না ঝুঁকে ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা অনলাইনভিত্তিক কাজ-কর্মে নিজেকে পারদর্শী করে গড়ে তোলাই বর্তমানে ক্যারিয়ার গঠন এবং বেকারত্ব দূরীকরণের কার্যকরী উপায় বলে মনে করেন ফারহান। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে বেকারত্ব বেশ ভয়াবহ এবং বিশ্ববাজারে এখন আধুনিকায়ন চলছে। এই সময়ে নিজেকে ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা অনলাইন ভিত্তিক কাজ-কর্মে ক্যারিয়ার গঠন করা বেশ যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে। কারণ এখন ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিটা বিশাল।

এছাড়াও দিনদিন এর পরিধি আরো বাড়ছে। তাই এখানে পর্যাপ্ত যোগ্যতা এবং জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ ব্যাপক।’

সারাবিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে সম্প্রতি সময়ে কিন্তু বাংলাদেশে এখনো যেকোনো ধরণের ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফারহান জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ডিসেন্ট্রালাইজড সিস্টেম। এমন একটি ডিসেন্ট্রালাইজড সিস্টেম আমাদের মতো মধ্যম আয়ের দেশের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব এই মুহূর্তে। যার ফলে অসাধু লোকজন এই সুযোগ হাতিয়ে নিয়ে অনৈতিক কাজ-কর্মে লিপ্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ।

সম্প্রতি বিভিন্ন আইটি কোম্পানি এবং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স-এর নামে অসংখ্য মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। কোথাও কোর্স কিংবা বিনয়োগ করার পূর্বে সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নিয়ে তারপর বিনিয়োগ কিংবা কোর্স করতে হবে বলে জানান ফারহান।

তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজেদের স্কিল ডেভলপমেন্ট করে গতানুগতিক কর্মসংস্থানের দিকে না ঝুঁকে ডিজিটাল মার্কেটিং অথবা অনলাইভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যতে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।