শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 736

ভিটামিন ‘এ’ ত্বকের যেসব উপকার করে

আমরা যে খাবার খাই, সেগুলো আমাদের শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ওপরেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই খাদ্যতালিকায় এমন উপাদান খাবার রাখতে হবে, যেগুলো ত্বকের জন্য উপকারী। খাদ্যে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ত্বকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

বিভিন্ন ভিটামিনের মাঝে ভিটামিন ‘এ’ ত্বককে সতেজ, উজ্জ্বল এবং জ্বলমলে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারীর জন্য দৈনিক ৭০০ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন ‘এ’ এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ৯০০ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন ‘এ’ শরীরে প্রয়োজন।

ভিটামিন ‘এ’ যেভাবে ত্বককে ভালো রাখে-

১. ভিটামিন ‘এ’-তে থাকা রেটিনল ত্বকের নতুন কোষ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে।

২. এটি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।

৩. ভিটামিন ‘এ’-তে বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যার ফলে এটি ত্বকের ফ্রি র্যাডিক্যালসের সঙ্গে লড়তে পারে।

৪. ত্বকের রিঙ্কেলস কমাতে ভিটামিন ‘এ’ অনেক কার্যকরী।

৫. ত্বককে উজ্জ্বল করতে ভিটামিন ‘এ’ অনেক উপকারী।

৬. এটি ব্রণ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে।

৭. দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ভিটামিন ‘এ’ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যে খাবারে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’

১. গাজর
অতি পরিচিত সবজি গাজরে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘এ’ থাকে। বিশেষজ্ঞদের বলেন, দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’-এর প্রায় ৩৩৪ শতাংশ পর্যন্ত মেটাতে পারে মাত্র এক কাপ গাজর।

২. মেথি ও পালং শাক
মেথি এবং পালং শাকে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ থাকে। ভিটামিনের অভাব মেটাতে প্রতিদিনের খাবারে এগুলো রাখা যেতে পারে।

৩. ডিমের কুসুম
ডিমের কুসুমে প্রচুর ভিটামিন ‘ডি’ ও ভিটামিন ‘এ’ থাকে। তাই সুস্বাস্থ্য পেতে এবং ত্বককে সুন্দর করতে প্রতিদিন পরিমিত ডিম খেতে হবে।

৪. মিষ্টি কুমড়া
মিষ্টি কুমড়ায় থাকা আলফা ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’-তে পরিণত হয়। গবেষণামতে, প্রতি ১০০ গ্রাম কুমড়া থেকে প্রায় ২১০০ মাইক্রো গ্রাম ভিটামিন ‘এ’ উৎপাদন হতে পারে।

৫. টমেটো
টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ থাকে। এটি রান্না করে, সালাদ বানিয়ে অথবা সস, চাটনি বা স্যুপ বানিয়ে—এমনকি কাঁচাও খাওয়া যেতে পারে।

৬. ব্রকোলি
ব্রকোলিতে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’সহ অন্যান্য ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। এটি খাদ্যতালিকায় রাখলে অনেকটাই ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মধু

আমাদের সবারই অনেক পরিচিত একটি খাবার হচ্ছে মধু। সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণের কারণে এই খাবারটির রয়েছে অনেক সুনাম। এর পাশাপাশি এটি অনেক স্বাস্থ্যকর এবং এটিকে চিনির বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি অনেক উপকারী একটি খাবার। এতে রয়েছে— প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ উপাদান, বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড।

মধু এতই উপকারী যে, এটিতে নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটিকে ‘বিররে এলাহি ও তিব্বে নব্বী’ অর্থাৎ খোদায়ী চিকিৎসা ও নবী করিম (সা.)- এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়।

অনেক আগে থেকেই মধু প্রাকৃতিক খাবার ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। মধুর সঙ্গে বিভিন্ন ঔষধি গাছ, শেকড়, লতাপাতা ও মসলা মিশিয়ে নানান রোগের ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া নিয়মিতভাবে মধু খেলে পাওয়া যায় অনেক উপকার।

চিকিৎসকদের মতে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্যেও অনেক উপকারী খাবার হচ্ছে মধু। জানুন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মধু খাওয়ার কিছু উপকারিতা-

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
মধুতে থাকা নানান পুষ্টিকর ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি ইমিউনিটি সিস্টেমকেও বাড়িয়ে তোলে। আর মধুতে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম থাকার কারণে এটি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে নানান রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

২. শক্তি বৃদ্ধি করে
মধুকে প্রাকৃতিক চিনিও বলা হয়ে থাকে। আর এটি শরীরে শক্তি যোগানোর পাশাপাশি শরীরকে বেশি কর্মক্ষম রাখতেও সহায়তা করে। মিষ্ট উপাদান বা চিনি শরীরের নানা ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু মিষ্টির পরিবর্তে মধু খেলে উপকার পাওয়া যায় অনকে।

৩. ঠান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে
মধুতে অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি ঠান্ডা এবং বিভিন্ন ফ্লুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরা চা অথবা হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে উপকার পাবেন।

৪. উচ্চ রক্তচাপ কমায়
মধুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরা মধু খাওয়ার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ হবার প্রবনতা কমাতে পারেন।

৫. কোষ্টকাঠিন্য কমায়
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কোষ্টকাঠিন্য হওয়াটা অনেক সাধারণ একটি সমস্যা। মধুতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকার কারণে এটি ডায়রিয়া ও কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা নিরাময় করে।

৬. ঘুমের সমস্যায়
অন্তঃসত্ত্বা নারীরা চাপ এবং অনিদ্রায় ভুগে থাকেন অনেক বেশি। এ সমস্যা সমাধানে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধে ২ চামিচ মধু মিশিয়ে খেলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে ঘুম ভালো হয়।

 

রোগ নিরাময়েও কার্যকর মুগ ডাল

নিয়মিত খাবারের তালিকায় অন্যতম পরিচিত হচ্ছে ডাল। বাঙালিদের মাঝে ডাল খেতে পছন্দ করেন না এমন লোকের দেখা খুব কমই মেলে। খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ডাল যেমন, মুগ ডাল, অড়হর ডাল, মাসকলইয়ের ডাল, ছোলার ডাল, মসুর ডাল ইথ্যাদি অনেক গুরুত্ব পায়।

ড়াল হচ্ছে প্রোটিনের অন্যতম ভালো উৎস। এটি আমিষ ও নিরামিষাশী সব ক্ষেত্রেই শরীরের প্রোটিন চাহিদা মেটায়। এ ছাড়াও মুগডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিঙ্ক, ফোলেট ও ফাইবার থাকে। সুস্বাদু এই ডালে প্রচুর পুষ্টিগুন থাকার পাশাপাশি এটির রয়েছে খুব তাড়াতাড়ি হজম হবার ক্ষমতা। আর গর্ভবতী নারীদের জন্যেও এই ডাল খাওয়া অনেক উপকারী।

পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ মুগ ডাল মেলে অনেক স্বাস্থ্য উপকারীতাও। জানুন মুগ ডাল খাওয়ার যত স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১. অ্যান্টিঅক্সিরডেন্ট সমৃদ্ধ
মুগ ডালে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন রোগ হবার ঝুঁকি কমতে পারে। বিশেষকরে এতে ফেনলিক অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েডস, ক্যাফিক অ্যাসিড, সিনাইমিক অ্যাসিড সহ আরও অনেকগুলি স্বাস্থ্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আর সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এই ডাল ফুসফুস এবং পেটের কোষগুলিতে ক্যান্সারের বৃদ্ধি হ্রাস করতে পারে।

২. স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমায়
মুগ ডালে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি স্ট্রোক হবার ঝুকিঁ কমায়। এতে ভিটেক্সিন এবং আইসোভাইটেক্সিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকে।

৩. রক্তশূন্যতার সমস্যা মেটায়
মূগ ডাল শরীরের রক্তশূন্যতার সমস্যা দূর করে। এর এক কাপে মেলে প্রায় ১৬ ভাগ আয়রন। আর এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকার কারণে এই ডাল নিয়মিত খেলে এটি লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি করে রক্তশূন্যতা দূর করে।

৪. রক্তচাপ কমায়
এই ডালে ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এটি রক্তচাপ কমাতে কার্যকরী। ফলে এটি হার্টের সমস্যা হবার ঝুকিকেও কমাতে সহায্য করে।

৫. হজমে সহায়তা করে
মুগ ডালে ফাইবার এবং প্রতিরোধী স্টার্চ থাকার কারণে এটি হজমে ভালো কাজ করে। এই ডালের ২০২ গ্রামে প্রায় ১৫.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। এ ছাড়া এতে প্রতিরোধী স্টার্চ ও পেকটিন নামে এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যেটি অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের চলাচলের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি অন্ত্রের নিয়মিত গতিবিধি ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

৬. গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী
এক কাপ রান্না করা মুগ ডালে প্রায় ৮০ শতাংশ ফোলেট থাকে। আর গর্ভাবস্থায় নারীদের প্রচুর পরিমাণে ফোলেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কারন ফোলেট গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অপরিহার্য। তাই গর্ভবতী নারীদের জন্য মুগ ডাল অনেক উপকারী।

৭. ওজন কমায়
মুগ ডালে ফাইবার এবং প্রোটিনের পরিমান বেশি থাকার কারণে ওটি ওজন কমাতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবার এবং প্রোটিন ক্ষুধা বৃদ্ধিকারক হরমোনকে দূর করতে পারে। এর ফলে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবনতা কমে যায়। তাই এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

৮. রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়
মুগ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং প্রোটিন থাকার কারণে এটি রক্তের শর্করার পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে।এ ছাড়া এটি ইনসুলিনকেও আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

কোরবানীর গরু কেনার সময় ওজন মাপার সহজ পদ্ধতি

ঈদুল আজহার আর বেশিদিন বাকি নেই। জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের কোরবানীর পশুর হাটগুলো। করোনাকালীন এ সময়ে হাটে গিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত পশু কিনে ফেলাই ভালো।

ওজন হিসাব করেই গরুর দাম হাঁকাতে হয়। তাই আপনি যত নিখুঁতভাবে ওজন নির্ধারণ করতে পারবেন, তত সহজে সাশ্রয়ী মূল্যে পশু ক্রয় করতে পারবেন। মোট যা ওজন হবে তার ৬০-৬৫ শতাংশ পর্যন্ত মাংস হবে। তাই দ্রুত ওজন নেওয়ার কৌশলটা জানা থাকা ভালো।

ওজন মাপার প্রধানত ২টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। প্রথমটি হলো ডিজিটাল স্কেল বা মিটার। এর মাধ্যমে সহজেই ওজন নেয়া যায়। এটির সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই রয়েছে। সুবিধা হলো, সবচেয়ে কম সময়ে ওজন মাপা যায় এবং ওজনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। অন্যদিকে অসুবিধা হলো, অপ্রাপ্তি। এই মিটার সব জায়গায় থাকে না৷ বড় ধরনের স্কেল না হলে গরুর ওজন নেয়া সম্ভব হয় না।

আরেকটি পদ্ধতি হলো, ফিতা দিয়ে মেপে ওজন নির্ণয় করা। মনে প্রশ্ন আসতে পারে ফিতা দিয়ে ওজন মাপা যায় নাকি? ফিতা তো দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মাপার জন্য। তবে এই পরিমাপকে নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্রে প্রয়োগ করে কম সময়ে ওজন নির্ধারণ করা যায়।

ফিতা পদ্ধতিতে ওজন মাপতে যা প্রয়োজন

* মাপার ফিতা বা স্কেল টেপ।

* ক্যালকুলেটর বা আপনি মোবাইল ব্যবহার করেও করতে পারবেন।

পদ্ধতি: যে গরুর ওজন নিতে চাচ্ছেন তাকে ভালোভাবে সোজা করে দাঁড় করাতে হবে। তারপর ফিতা দিয়ে প্রথম তার লম্বা দৈর্ঘ্য বের করতে হবে। এজন্য গরুর লেজের গোড়া থেকে শুরু করে সামনের পায়ের জোড়ার গিট পর্যন্ত ফিতা ধরে দৈর্ঘ্য বের করতে হবে। এরপর সামনের দুই পায়ের কাছ দিয়ে ফিতার সাহায্যে বুকের বেড় কত ইঞ্চি তা পরিমাপ করতে হবে। এটি প্রস্থ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তা সঠিকভাবে লিখে রাখতে হবে। এবার সূত্রে প্রয়োগ করে দ্রুত ওজন নির্ধারণ করতে পারবেন।

গরুর ওজন মাপার সূত্র

গরুর মোট ওজন= গরুর দৈর্ঘ্য X বুকের বেড় X বুকের বেড়/৬৬০

ধরা যাক, গরুটির দৈর্ঘ্য ৭০ ইঞ্চি এবং বেড় ৬০ ইঞ্চি। তাহলে গরুর আনুমানিক ওজন হবে (৭০X৬০X৬০)/৬৬০ = ৩৮১ কেজি (উল্লেখ্য, প্রধান সূত্রে পাউন্ডে হিসাব করা হয়েছে কিন্তু আমরা হিসাবের সুবিধার জন্য কেজিতে রূপান্তর করে ৬৬০ দ্বারা ভাগ করেছি)। এই সূত্রের সাহায্যে যে ওজন পাওয়া যাবে তা হলো গরুর নাড়িভুড়ি সহ সবকিছুর ওজন।

মোট ওজন থেকে মাংসের পরিমাণ নির্ধারণ পদ্ধতি.

অল্প সময়ে হাটের মধ্যে আপনি এই সূত্র ব্যবহার করে যা ওজন পেয়েছেন তার ৫৫-৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ওজনই হবে পশুটির মাংসের ওজন। এটি নির্ভর করবে গরুর শারীরিক গঠনের উপর, পেট খুব বেশি বড় না হলে অধিকাংশ গরুর শতকরা ৬৫ শতাংশ ওজনই মাংস হয়ে থাক।

এই সূত্রের মাধ্যমে ওজন নির্ধারণ সাধারণত ৯৫-১০০ ভাগই সঠিক হয়ে থাকে। তাই আপনি নিশ্চিন্তে এই সূত্র অনুসরণ করে পশুর ওজন নির্ধারণ করে ক্রয় করতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত দামে।

যদি আপনি নিজে ফিতা ধরে মাপতে গিয়ে ভয় বা সংকোচ করেন, সেক্ষেত্রে যারা গরুর বিক্রেতা তাদের দিয়েই ফিতার মাপটা আপনি দেখিয়ে নিতে পারবেন৷ যা আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং সহজ হবে।

লেখক: প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল
ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ঘাট: পারাপারের অপেক্ষায় শত শত গাড়ি

শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাটে হঠাৎ করে যানবাহন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী, চালক ও কোরবানি পশুর ব্যবসায়ীরা। পারাপারের অপেক্ষায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এমতাবস্থায় ঘাটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি যাত্রী ও চালকদের।

বুধবার রাতে ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শত শত যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা বেশি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা গরুগুলো ট্রাকের ভেতর ছটফট করছে। অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে হাতপাখা দিয়ে গরুগুলোকে বাতাস করছেন।

জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন খুলনা, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২৭ জেলার শত শত যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন পারাপার হয়। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এ রুটে বৃদ্ধি পায় কোরবানি পশুবাহী যানবাহনের সংখ্যা। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু কিনে ওই রুট দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।

যশোর থেকে গরু নিয়ে আসা ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, সেই ভোরে ঘাটে এসেছি, রাত ১০টা পার হলো এখনও পার হতে পারছি না। ঘাটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো দরকার।

দুলাল মিয়া, শাহপরাণ, কাদির হোসেন বলেন, গরু নিয়ে খুব বিপদে আছি। দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে গাদাগাদি করে থাকা গরুগুলো গরমে ছটফট করছে। জানি না কপালে কী আছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আব্দুল মমিন বলেন, হঠাৎ করে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ছয়টি ফেরি চলাচল করছে। আশা করি দু-একদিনের মধ্যে সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে।

রাজশাহীতে করোনা কেড়ে নিল আর ১৯ প্রাণ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে তারা মারা যান। এর আগে গত ২৮ জুন ও ১৪ জুলাই দুইদিন সর্বোচ্চ ২৫ জন করে মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, নতুন করে মারা যাওয়া ১৯ জনের মধ্যে পাঁচজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। ১২ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। আর দুজন শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। তারা করোনা নেগেটিভ ছিলেন।

মৃত ১৯ জনের মধ্যে রাজশাহীর ছয়জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, নাটোরের দুজন, নওগাঁর দুজন এবং পাবনার ছয়জন রোগী ছিলেন। হাসপাতালটিতে এ মাসের ১৫ দিনে ২৬৭ জনের মৃত্যু হলো।

এর আগে জুন মাসে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৩৫৪ জন।

হাসপাতাল পরিচালক শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন ৫০৭ জন। হাসপাতালে মোট করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা এখন ৪৫৪টি।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস চললেও নেই যাত্রী

টানা ১৭ দিন পর গণপরিবহণ বন্ধের পর বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু হলেও নেই তেমন যাত্রী। তবে মহাসড়কে বেড়েছে পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোল্ডেন পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই -খুলনা মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহনসহ পশুবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে।

গোল্ডেন পরিবহণের ঘাট সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৭ দিন পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে আর কয়েক দিন পরই কুরবানির ঈদ। এ ঈদে মানুষ তেমন বাড়ি আসে না। সরকারের এ কয়েক দিনের জন্য লকডাউন না তোলাই ভালো ছিল। আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তাতো হয়েই গেছে, এখন শুধু বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ, সরকার পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে গণপরিবহণ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। সেই নির্দশনা পরিবহণ শ্রমিকরা মেনে চলছে কিনা সেটি দেখতে মহাসড়কে প্রশাসনকে টহল দিতে দেখা গেছে।

শাহরুখ-সঞ্জয়কে এক করছে ‘রাখী’

বলিউডে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ছবি করতে চলেছেন শাহরুখ খান ও সঞ্জয় দত্ত। ছবির নাম ‘রাখী’। হিন্দি ছাড়াও একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে এই ছবি।

বোম্বে টাইমসের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর নিশ্চিত করেছে।

খবরে বলা হয়, কোনো অতিথি শিল্পী হিসেবে নয় বরং নতুন এই ছবিতে প্রধান দুই ভূমিকাতেই থাকছেন শাহরুখ ও সঞ্জয়। ছবির নাম আপাতত ঠিক হয়েছে ‘রাখী’।

এর আগে বড়পর্দায় এই দুই তারকাকে এক-আধবার একসঙ্গে দেখা গেলেও তা নেহাতই ছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য।

তবে ‘রাখী’র ক্ষেত্রে ভিন্ন। পুরো সিনেমাতে থাকবেন এই দুই নায়ক। হিন্দি ছাড়াও একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে এই ছবি।

এর আগে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওম শান্তি ওম’ ছবিতে ‘দিওয়াঙ্গি’ গানে শাহরুখের সঙ্গে কয়েক মুহূর্তের জন্য পর্দায় হাজির হয়েছিলেন সঞ্জয়।

এরপর ২০১১ সালে শাহরুখ প্রযোজিত ও অভিনীত ‘রা ওয়ান’ ছবিতে অতিথি শিল্পী হিসেবে ফের একবার পর্দায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেই ছবিতে অবশ্য তাকে খলনায়কের ভূমিকাতেই দেখা গেছিল।

প্রেমিকা ঐশ্বরিয়ার বিয়েতে যা বলেছিলেন সালমান

বলিউড সুপারস্টারদের জীবন নিয়ে চর্চা থেমে নেই। তাদের ভক্ত অনুরাগীরা অভিনয়ের পাশাপাশি প্রিয় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সমান কেৌতুহলী। তাইতো অতীতের কোনো সুখস্মৃতি কিংবা দু:খগাথা প্রায়ই মানসপটে ভেসে উঠে তাদের।

বলিউড সেনসেশন ঐশ্বরিয়া রাই আর সুপারস্টার সালমান খানের প্রেম একটা সময় ওপেন সিক্রেট ছিল। ক্যারিয়ারের সূবর্ণ সময়টায় এই দুই সেলিব্রেটি সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তখন এই বিষয়টা টক অব দ্য বলিউড ছিল।

দুজনের বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল। সালমানের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ঐশ্বরিয়ার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানও।

শেষ পর্যন্ত এই সম্পর্ক নতুন বাঁক নেয়। সালমানকে কাঁদিয়ে বচ্চন পরিবারের বধূ হন ঐশ্বর্য। দুই সুপারস্টারের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটলেও এ নিয়ে আলোচনা থেমে নেই।

বিচ্ছেদের দীর্ঘ বছর পেরোলেও বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের সঙ্গে সাবেক বিশ্বসুন্দরীর প্রেম নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। মাঝেমধ্যেই অন্তর্জালবাসী সেই আলাপ উসকে দেন। এরই মধ্যে ঐশ্বরিয়া স্বামী-সংসার নিয়ে বেশ ভালোই আছেন।

অন্যদিকে, সালমানের সিঙ্গেল জীবনও মন্দ যাচ্ছে না। তাতে কি আর সাল্লু-অ্যাশের সাড়াজাগানো সেই সম্পর্ক নিয়ে কথকতা থামে!

ভারতের বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলিউড লাইফের খবর, সালমান খানের সঙ্গে প্রেমপর্ব চুকিয়ে যাওয়ার পর অভিষেক বচ্চনের প্রেমে পড়েন ঐশ্বরিয়া রাই। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া।

যখন রাজকীয় আয়োজনে ঐশ্বরিয়ার বিয়ে চলছিল, তখন সালমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। এ সময় এক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকের হৃদয় জয় করেছিলেন সালমান খান।

ইন্ডিয়া টিভিকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে সালমান খান বলেছিলেন, ঐশ্বর্য অভিষেককে বিয়ে করায় তিনি খুব খুশি। অভিষেক ভালো মানুষ এবং ভালো পরিবারের। ঐশ্বরিয়াকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। বলেন, ‘আমি ওর সুখী জীবন কামনা করি।’

 

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এখন অভিষেকের ঘরনী হয়ে সুখেই আছেন। বিরহে কাতর সালমান বহু ঘাটে তরী ভাসিয়ে কোথাও নোঙর করতে পারেননি।

এখন বলিউডের মোস্ট অ্যালিজেবল ব্যাচেলর সালমান। কবে বিয়ে করবেন তারও পরিকল্পনা নেই ৫০ পেরোনো এই মেগাস্টারের।

মাছেরাও পেল ওড়ার সুযোগ!

ঝকঝলে নীল আকাশ, সবুজ গাছপালা- হ্রদের নীল জলরাশির উপর দিয়ে উড়ার জন্য এরচেয়ে ভালো দিন আর হতেই পারে না। তবে পাখি নয়, ইউটাহ হ্রদের নীল জলরাশির উপর থেকে আক্ষরিক অর্থেই ঠিক যেন উড়ে এসে পড়েছে হাজার হাজার মাছ। কারণ মাছগুলোকে বিমান থেকে ফেলা হয়েছে হ্রদের পানিতে।

ইউটার প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ সম্প্রতি দুর্গম হ্রদগুলোতে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্যই সেখানে অবমুক্ত করা হয়েছে ৩৫ হাজার মাছের পোনা।

তবে দুর্গম এলাকা হওয়ার হ্রদের কাছে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ছোট বিমানে করে মাছের পোনা এনে সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে ইউটার প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের মুখপাত্র ফেইথ জলি জানিয়েছেন।

এদিকে, বিমানে করে মাছের পোনা অবমুক্তের ভিডিও আলোড়ন তুলেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। লাখ লাখ মানুষ ওই ঘটনার ভিডিও দেখেছেন।