শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 730

বাসা থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ বন্ধ

বাসায় গিয়ে সরকারিভাবে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক মাসেরও বেশি সময় এটি বন্ধ। এতে নগরে বসবাসকারী অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশু-যাদের পক্ষে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানো প্রায় অসম্ভব, তারা ঝুঁকিতে পড়েছেন। অন্যদিকে এই কাজে সম্পৃক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের একটি বড় অংশ কর্মহীন দিন পার করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. ইউনুস যুগান্তরকে বলেন, বাড়ি গিয়ে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কাজটি আমাদের নয়। এটি মূলত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআর-এর কাজ। এখন থেকে নমুনা সংগ্রহের সব দায়িত্ব তারাই পালন করবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে করোনা সংক্রমণ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ অবস্থায় অধিদপ্তরের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলছেন, এই সময়ে সরকারের উচিত ছিল কীভাবে আরও বেশি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া।

জানা গেছে, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে অধিদপ্তরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। এর তত্ত্ববধানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষণযুক্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা হয়েছে। নগরীর কোথাও কোনো অসুস্থ, বৃদ্ধ বা শিশুর দেহে করোনার লক্ষণ দেখা গেলে অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে নির্ধারিত হট নম্বরে ফোন করলে এই সুবিধা পাওয়া গেছে।

শুরুতে নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাব দেখা দেয়। সেজন্য অধিদপ্তর ওই সময় রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনায় পৌনে দুইশ টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেয়। যাদের একটি অংশ এই কাজে সম্পৃক্ত ছিল। এছাড়া একটি প্রকল্পের আওতায় আরও কিছু মেডিকেল টেকানোলজিস্ট এই কাজে নিযুক্ত করা হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা কাজটি করে আসছিলেন। এজন্য বেশকিছু ভাড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এ খাতে আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় এবং ভাড়াকৃত গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে না পারায় বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিদিন ৩০০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা হতো। অন্যদিকে আইইডিসিআর থেকেও প্রায় দুই-আড়াইশ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এখন অধিদপ্তরের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানো উচিত। একটি দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ঠিক কত শতাংশের করোনা পরীক্ষা করানো দরকার-এমন কোনো তথ্য নেই। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা জন হপকিন্স ইউনির্ভাসিটির পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি যে প্রতি ১০ লাখ জনগোষ্ঠীতে কত জনের পরীক্ষা করা উচিত। তবে যেসব দেশ দ্রুত কোভিড পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পরেছে, তারা প্রতি ১০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮/১০ হাজার থেকে শুরু করে ২৪ থেকে ২৫ হাজার পরীক্ষা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন প্রভৃতি দেশে অধিক হারে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে যাদের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষকে কোয়ারেন্টিন করা হতো। এভাবেই তারা ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে প্রতি ১০ লাখ জনগোষ্ঠীতে ৬৪৫৯ দশমিক ৮ জনের কোভিড পরীক্ষা করা হচ্ছে। শনিবার সারা দেশে মোট ২৯ হাজার ২১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। শুক্রবার হয়েছে ৪১ হাজার ৯৪৭ জন, বৃহস্পতিবার ৪৪ হাজার ৯৪১, বুধবার ৪১ হাজার ৭৫৫ এবং মঙ্গলবার ৪৪ হাজার ৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। দেশে কোভিডের শুরুতে মাত্র একটি ল্যাবে শতাধিক পরীক্ষা করা হতো। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৬২৭টি ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে আরটিপিসিআর ১৩০টি, জিনএক্সপার্ট ৫০টি এবং র‌্যাপিড এন্টিজেন ৪৪৭টি। ল্যাবের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে কোভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে। তবে এক্ষেত্রে পরীক্ষা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন যুগান্তরকে বলেন, দেশে বর্তমানে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ চলছে। এ পরিস্থিতিতে কোভিড পরীক্ষা হার আরও বাড়াতে হবে। আইএলআই (ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস) নির্ণয় করতে এবং প্রকৃত কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করতেও পরীক্ষা বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যে শুধু আরটিপিসিআর (রিয়াল টাইম পরিমার চেইন রিঅ্যকশন) পরীক্ষা করতে হবে তাই নয়। সারা দেশে মানসম্পন্ন র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বাড়িয়েও সেটি করা সম্ভব। তিনি বলেন, নগরীতে অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ বা অসুস্থ রোগী থাকেন। যাদের পক্ষে হাসপাতালে বা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যয় অনেক বেশি। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

 

চীনের ১০ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে

সিনোফার্মের ১০ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।শনিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চীন থেকে ১০ লাখ ডোজ টিকা রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। বাকি ১০ লাখ ডোজ টিকা রাত ৩টার দিকে পৌঁছাবে।

সরকারের ক্রয় চুক্তির দ্বিতীয় চালান হিসেবে সিনোফার্মের এই টিকাগুলো এলো।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই চীন থেকে ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছায়। চীনের সিনোফার্ম থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছে সরকার। ধাপে ধাপে আসবে এসব টিকা।

আমিরাতে বাংলাদেশি যুবকের লাশ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একদিন নিখোঁজ থাকার পর এক বাংলাদেশি যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার উদ্ধারকৃত ওই মৃতদেহটি বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন জিকুর (৩৩) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার ধর্মপুর গ্রামের অলি মোহাম্মদ বাড়ির মৃত মোহাম্মদ শুক্কুরের একমাত্র ছেলে।

নিহত জিয়ার প্রতিবেশী নুরুল আবছার বলেন, গত সোমবার রাত থেকে জিকু তার আবুধাবির ইলেক্ট্রা স্ট্রিটের বাসা থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে মঙ্গলবার স্থানীয় পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে আবুধাবির কেন্দ্রীয় শবাগারে রেখেছে।

আবুধাবির শবাগার সূত্র জানিয়েছে, তাদের রেকর্ডে মৃত্যুটি একটি আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর আবদুল আলিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি জিকুর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর শুনে এ ঘটনার পেছনের কারণ জানতে ইতোমধ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছেন।

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১৫ জুলাই বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহিদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। মালদ্বীপের মন্ত্রী নির্বাচনে তাকে সমর্থন প্রদানের সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া মন্ত্রী করোনাকালীন মালদ্বীপকে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানের জন্যও বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে মালদ্বীপে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মেডিকেল টিমের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আলোচনাকালে মন্ত্রী এবং হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারকরণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে চাকরি

বহুজাতিক সংস্থা ইউনিলিভার বাংলাদেশের মানবসম্পদ বিভাগে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারেন অনলাইনে।

পদের নাম: এইচআর বিজনেস
পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
আবেদনের যোগ্যতা: স্বীকৃত যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চার বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। পরিকল্পনা, নিয়োগ, উন্নয়নবিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আবেদনের বয়স: অনির্দিষ্ট।

আবেদন নিয়ম: আগ্রহীরা প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট https://careers.unilever.com/ থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এখানে আবেদনের নিয়মসহ খুঁটিনাটি বিষয় উল্লেখ করা আছে।

জনবল নেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় রাজস্ব খাতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চার পদে ৪ জনকে নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন যে কেউ।

পদের নাম: সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর/পিএ (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থেকে স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় পাস। কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা।
বেতন: ১১০০০/- থেকে ২৬৫৯০/-

পদের নাম : সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় পাস। কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা।
বেতন: ১০২০০/- থেকে ২৪৬৮০/-

পদের নাম: গাড়িচালক (লাইট, গ্রেড ১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: বৈধ লাইসেন্স ও গাড়ি চালনায় তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেতন: ৯৩০০/- থেকে ২২৪৯০/-

পদের নাম: পরিচ্ছন্নতাকর্মী (গ্রেড ২০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: ৫ম শ্রেণি পাস বা পেশাদার ঝাড়ুদার।
বেতন: ৮২৫০/- থেকে ২০০১০/-

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। ফরম পাওয়া যাবে https://warpo.portal.gov.bd/sites/default/files/files/warpo.portal.gov.bd/notices/4ea7a40a_2d1b_498e_8497_9eaa80bacb7f/2021-07-12-10-24-64bb35fea12320dd594d0f4666e850a4.pdf -এ ওয়েবসাইটে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ৫০০ টাকার এমআইসিআর নম্বরযুক্ত ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডার সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদনের ঠিকানা: আগ্রহীদের আবেদন ফরম সচিব, ওয়ারপো, ৭২ গ্রিন রোড, ঢাকা- ১২১৫ বরাবর পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: আগ্রহীরা ২০২১ সালের ৫ আগষ্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

জীবনের শ্রেষ্ঠ দশদিন

অর্থনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ হল, ‘দেয়ার ইজ নো সাচ এ থিং অ্যাজ এ ফ্রি লাঞ্চ’। সোজা বাংলায় যাকে বলে ‘কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়’।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর মু’মিন বান্দাদের পুরস্কারস্বরূপ বছরের দুইটি শ্রেষ্ঠ দিন দিয়েছেন। ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহা। আমরা সবাই একথা জানি যে ঈদ মানে আনন্দ এবং ঈদ মানে খুশি। আসলেই কি তাই? সবাই কি ঈদের দিন সেই আনন্দ ও খুশি হৃদয়ে অনুভব করি? এই আনন্দই বা কিসের আনন্দ? কোথায় এই খুশির উৎস?

এই খুশি বা আনন্দ হল- নিজের করা ইবাদাত কবুল হওয়ার আনন্দ! নিজের জানা-অজানায় করে ফেলা গোনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার খুশি। তাই ঈদের সত্যিকারের খুশি পেতে হলে ইবাদাতের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

কোরআনে উল্লেখিত প্রায় সব বিষয়ই হচ্ছে শর্ত সাপেক্ষ (Conditional)। অর্থাৎ প্রত্যেক কাজের ফলাফল (প্রতিক্রিয়া) তার ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। চেকলিস্ট ফুলফিল করলেই কেবলমাত্র ফলাফল পাওয়া যাবে। এই সিস্টেমের ব্যতিক্রম একমাত্র আল্লাহ্‌র রহমত ও ক্ষমা, যা কিনা যাবতীয় শর্তের ঊর্ধে (unconditional)। তাহলে ঈদের দিনে মনে আনন্দ বা খুশি অনুভব করার পূর্বশর্ত কী?

মুসলিমদের জন্যে দুই ঈদ হলো মূলত ইবাদাতের দুই ভরা মৌসুম। ঈদ-উল-ফিতরের আগে রয়েছে বছরের শ্রেষ্ঠ দশ রাত। আর ঈদ-উল আযহার আগে রয়েছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়- বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন।

ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল জিলহজ্জ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হল এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফেরত এলো না (তার কথা ভিন্ন)।’ [বুখারী : ৯৬৯; আবূ দাউদ : ২৪৪০; তিরমিযী : ৭৫৭]

রামাদান মাস যেমন বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস তেমনি জিলহজ্জের এই দশদিন হচ্ছে বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন। সকল মুফাসসির এ ব্যাপারে একমত যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনুল কারীমের সূরা ফাজরে যে দশ দিনের শপথ করেছেন তা জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন।

আমাদের কাছে জীবনের সেরা দিন কোনটি? কারো কাছে বাবা-মা হওয়ার দিনটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। আবার কারো কাছে গ্রাজুয়েট হওয়ার দিন কিংবা স্বপ্নের চাকরি প্রাপ্তির দিনটি তার জীবনের সেরা দিন। আর হাদীসে এসেছে, দুনিয়ার জীবনের শ্রেষ্ঠ দশদিন হচ্ছে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন! আর তাই বছরের শ্রেষ্ঠ এই দশ দিনের ইবাদাত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভঃ ঈমান(কালেমা), নামায, যাকাত, রোজা, এবং হজ্জ। বছরে মাত্র একবার এই পাঁচটি ইবাদাতের চমৎকার সমন্বয় ঘটে কেবলমাত্র জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে। বছরের অন্যান্য দিনের মতো এই সময় আমাদের ঈমান থাকে। আবার অন্যান্য সময়ের মতো এই দশ দিন নামায ও যাকাত আদায় করা যায়। এছাড়া আরাফার দিনের বিশেষ রোজা ছাড়াও হাদিসে এই দশ দিনের প্রতিদিন রোজা রাখার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ রয়েছে। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ্জ এই সময়েই আদায় করা হয়। কোরবানী আদায় করা হয় এই দশকে। অর্থাৎ ইসলামে বর্ণিত ইবাদাতের পাঁচটি স্তম্ভ ছাড়াও আরো অনেক ইবাদাত এই দশদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেজন্যেই আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের মাহাত্ম্য অনেক বেশি।

রামাদানের শেষ দশ রাতে যেমন রয়েছে হাজার মাসের থেকেও উত্তম রজনী শবে-কদর। তেমনি, জিলহজ্জ মাসের দশ দিনের মধ্যে রয়েছে আরাফার দিন। যে দিন আল্লাহর কাছে থেকে ক্ষমা ও মাগফিরাত পাওয়ার দিন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার দিন। জিলহজ্জ মাসের গুরুত্বের জন্যে এক আরাফার দিন থাকাই যথেষ্ঠ ছিল। সেই সাথে এই দশকেই আছে কোরবানীর দিন। একেবারে ইবাদাতে পরিপূর্ণ দশটি দিন।

আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এই দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।” [মুসনাদ আমহদ : ১৩২; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]

বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিনের মাস- ”জিলহজ্জ” বাংলাদেশে চলতি জুলাই মাসের ১১ তারিখ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) আজ রবিবার মাগরিবের পর থেকে শুরু হবে। এই দশদিন তওবা এবং দোয়া করার সুবর্ণ সময়। আমাদের উচিত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এই ইবাদাতের মৌসুমকে স্বাগত জানাতে সুন্দর করে প্রস্তুতি নেয়া।

হাদীসে এই দশদিনের করণীয় ও বর্জনীয় ইবাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। এই দশদিনে একমাত্র বর্জনীয় কাজ হল- শরীরের চুল, লোম, এবং নখ না কাটা। বিশেষ করে যারা কোরবানী দিবেন। যাদের চুল, নখ কাটার প্রয়োজন জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার আগে কেটে নিলে উত্তম এবং খুব বেশি অপারগ না হলে এই ১০ দিন আর চুল, নখ কাটা যাবে না। হানাফি মাজহাব মতে যদি বড় হয়ে যায় তবে কাটতে পারেন।

সামর্থবানদের এই সময় হজ্জ এবং উমরা পালন করতে বলা হয়েছে।

যারা হজ্জ এবং উমরা পালন করতে পারবেন না তাদের উচিত এই শ্রেষ্ঠ দশদিনে যত বেশি সম্ভব রোজা রাখা। হাদিসে জিলহজ্জ মাসের এক তারিখ থেকে নয় তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে আরাফার দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা, আরাফার দিনের রোজা বিগত ও অনাগত দুই বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে কবুল হয়ে থাকে।

এছাড়া, বছরের অন্যান্য সময় আমরা যেসব ইবাদাত করে থাকি, যেমন- পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা, যাকাত দেয়া, দান-সাদাকা করা ইত্যাদি ইবাদাত এই সময়ে আরো বেশি মনোযোগ ও সুন্দর করে করা। বিশেষ করে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা এবং দোয়া করা। দোয়া কবুলের জন্যে এর চেয়ে ভালো দিন আর হয় না।

জিলহজ্জের প্রথম দশদিন ব্যাপকহারে তাকবীর পড়া সুন্নত। বিশেষভাবে আরাফা দিন ফজরের পর থেকে মিনার দিনগুলোর শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ যেদিন মিনায় পাথর নিক্ষেপ শেষ করবে সেদিন আসর পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের পর তাকবীর পাঠ করার জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তাকবীর হলঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

জিলহজ্জ মাসের দশম দিনে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্যে কুরবানী করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সূরা আল- কাউসারের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ্‌ বলছেন, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন ও কোরবানী করুন।’

বছরের অন্যান্য সময়ের মতো এই সময়ও গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সদা সচেষ্ট থাকা উচিত। এসময় তওবা কবুলেরও শ্রেষ্ঠ সুযোগ। তাই এসময় বেশি বেশি করে নিজের জানা ও অজানায় করা গুনাহের জন্যে তওবা করা উচিত।

এছাড়াও, এই দশদিন বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের হক আদায় করা, প্রতিবেশির হক আদায় করাসহ বেশি বেশি সৎ ও ভালো কাজ করা উচিত।

জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত আর রোজা আরম্ভ হবে আজ থেকে। বছরের শ্রেষ্ঠ এই ১০ দিনের আমল করার আগে খুব ভালো হয় যদি সবাই সূরা হাজ্জের অনুবাদ তাফসীরসহ পড়ে নেন। তাহলে এটা অনুধাবন করতে পারবেন- কী করছেন, আর কেনই বা করছেন?

এই সময়ে নবীদের পিতা, স্বয়ং আল্লাহ্‌ তায়ালার বন্ধু- হযরত ইব্রাহীম (আ.) সম্পর্কে জানার, পড়ার চেষ্টা করুন। যার করা প্রতিটি দোয়ার উত্তর হচ্ছে আজকের ইসলাম! কোরআনে বর্ণিত ইব্রাহীম (আ.) দোয়াগুলো নিয়ে চিন্তা করলেই দেখবেন মূলত তাঁর করা দোয়াগুলোর উত্তর হিসেবে ইসলামের বিধানসমূহ- নামায, হজ্জ আর কোরবানীর বিধান এসেছে। একটা মানুষ কেমন করে আল্লাহ্‌র এতো প্রিয় হলেন যে তাঁকে আল্লাহ্‌ নিজের বন্ধু করে নিলেন? আবার তাঁর করা সমস্ত দোয়াগুলোকে পরবর্তী জাতিদের (খ্রিস্টান, ইহুদী, মুসলিম) জন্য পালন করার বিধান হিসাবে কবুল করে নিলেন? জানতে হলে পড়তে হবে ইব্রাহীম (আ.) এর জীবনী আর তাঁর করা দোয়াগুলো।

“আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে কখনো (কোরবানির) গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না। বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াটুকুই পৌঁছায়……।” [সূরা আল হাজ্জঃ ৩৭]

প্রশ্ন হল, তাকওয়া কী? তাকওয়া শব্দের অর্থ খোদাভীতি। এই শ্রেষ্ঠ দশদিনের ইবাদাত মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তায়ালাকে যেভাবে ভয় করা উচিত সেভাবে ভয় করার যোগ্যতা অর্জন করা উচিত। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সবাইকে ইবাদাতের এই ভরা মৌসুমে তাঁর পছন্দের বান্দা হওয়ার সামর্থ্য দান করেন। আমীন।

কুরবানির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল

* কুরবানির পরিচয় : ধন-সম্পদের মোহ ও মনের পাশবিকতা দূরীকরণের মহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর আসে পবিত্র কুরবানি। ইসলাম ধর্মে কুরবানির দিনকে ঈদুল আজহাও বলা হয়।

কুরবানি শব্দটি ‘কুরবুন’ মূল ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা, সান্নিধ্য অর্জন করা, প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা।

শরিয়তের পরিভাষায়-নির্দিষ্ট জন্তুকে একমাত্র আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে মহান আল্লাহ পাকের নামে জবেহ করাই হলো কুরবানি।

* কুরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত : কুরবানি হলো ইসলামের একটি শি’য়ার বা মহান নিদর্শন। কুরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন-‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু কুরবানি কর।’ (সূরা কাউসার, আয়াত-২)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে’। (ইবনে মাজাহ-৩১২৩)। যারা কুরবানি পরিত্যাগ করে তাদের প্রতি এ হাদিস একটি সতর্কবাণী।

কুরবানির রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জিত হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না উহার (জন্তুর) গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। (সূরা হাজ্জ, আয়াত-৩৭)।

কুরবানিতে গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়। যারা বছরে একবারও গোশত খেতে পারে না, তারাও গোশত খাবার সুযোগ পায়। কুরবানির চামড়ার টাকা গরিবের মাঝে বণ্টন করার মাধ্যমে তাদের অভাব ও দুঃখ মোচন হয়। অপরদিকে কুরবানির চামড়া অর্থনীতিতে একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে।

* কুরবানির ইতিহাস ও প্রচলন : পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানি হলো মানবগোষ্ঠীর আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্রের মাঝে সংঘটিত হওয়া কুরবানি। এখান থেকেই কুরবানির প্রথম প্রচলন শুরু হয়। তবে পবিত্র ইসলামে আমরা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মরণে কুরবানি করে থাকি।

এ প্রসঙ্গে ইবনে মাজাহ শরিফে এসেছে, হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘কতিপয় সাহাবি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! কুরবানি কী? হজরত রাসূলে মকবুল (সা.) বললেন, তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত।’ সাহাবারা বললেন, এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ-৩১২৭)।

কুরবানির গুরুত্বারোপ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ইবরাহিম! স্বপ্নে দেওয়া আদেশ তুমি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। অবশ্যই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এক মহান কুরবানির বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। (সূরা সাফফাত, আয়াত নং ১০৪-১০৭)।

* শরিয়তে কুরবানির বিধান : ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর মতে কুরবানি ওয়াজিব। তাদের দলিল হলো-আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও পশু জবেহ কর।’ (সূরা কাওসার, আয়াত-২)।

সুতরাং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ পালন সাধারণত ফরজ বা ওয়াজিব হয়ে থাকে। অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে’।

অত্র হাদিসের ভাষ্যেও কুরবানি ওয়াজিব প্রমাণিত হয়। তবে ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে কুরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

* কুরবানির নেসাব ও তার মেয়াদ : কুরবানির নেসাব হলো হাজাতে আসলিয়া তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও উপার্জনের উপকরণ ইত্যাদি ব্যতিরেকে যদি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য কিংবা তার মূল্য বা সমমূল্যের সম্পদের মালিক হওয়া।

প্রকাশ থাকে যে, জাকাতের নেসাব যা, কুরবানির নেসাবও তা। তবে কুরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে একটু অতিরিক্ত বিষয় রয়েছে। তা হলো- অত্যাবশ্যকীয় আসবাবপত্র ব্যতীত অন্যান্য অতিরিক্ত আসবাবপত্র, সৌখিন মালপত্র, খোরাকি বাদে অতিরিক্ত জায়গা-জমি, খালিঘর বা ভাড়া ঘর (যার ভাড়ার ওপর জীবিকা নির্ভরশীল নয়) এসব কিছুর মূল্য কুরবানির নেসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/২৯২)।

জাকাত ও কুরবানির নেসাবের সময়সীমা নিয়েও পার্থক্য রয়েছে। আর তা হলো-জাকাতের নেসাব পূর্ণ এক বছর ঘুরে আসা শর্ত; কিন্তু কুরবানির নেসাব পূর্ণ এক বছর ঘুরে আসা শর্ত নয়। কেবল জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২ এই তিন দিনের যে কোনো একদিন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কুরবানি ওয়াজিব হবে। (ফতোয়ায়ে শামি)।

* কুরবানির পশু ও তার বয়স : এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে; আর তা হলো ছয় ধরনের পশু। সেগুলো হলো- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা।

শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দুই বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা পূর্ণ এক বছরের হতে হবে। তবে যদি ছয় মাস বয়সের ভেড়া বা দুম্বা মোটাতাজায় এক বছরের মতো মনে হয়, তখন তা দিয়েও কুরবানি করা জায়েজ আছে। কিন্তু ছাগল যতই মোটাতাজা হোক, এক বছরের একদিন কম হলেও তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না।

যেমন হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কুরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কুরবানি করতে পার’। (সহিহ মুসলিম-১৯৬৩)।

* কুরবানির পশুর বিধান : কুরবানির জন্য পশু আগেই নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত পশু জবেহর আগে কোনো কাজে ব্যবহার বা তা থেকে কোনো ধরনের উপকার নেওয়া যাবে না। যেমন-দান করা, বিক্রি করা, কৃষিকাজে ব্যবহার করা, দুধ ও পশম বিক্রি করা ইত্যাদি।

কুরবানির পশু ছাগল, ভেড়া কিংবা দুম্বা হলে একটিতে এক ভাগ এবং উট, গরু কিংবা মহিষ হলে একটিতে সাত ভাগে কুরবানি দেওয়া যাবে। গুণগত দিক দিয়ে উত্তম হলো কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত ও দেখতে সুন্দর হওয়া। কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে।

কুরবানির উদ্দেশ্যে পশু ক্রয়ের পর যদি বাচ্চা হয় বা জবেহ করার পর তার পেট থেকে বাচ্চা পাওয়া যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে হুকুম হলো- মায়ের সঙ্গে বাচ্চাটিকেও কুরবানি করে দিতে হবে। তবে ওই বাচ্চার গোশত নিজে খাবে না, বরং দান করবে। আর যদি বাচ্চাটি কুরবানি না করে কোনো গরিব-মিসকিনকে দান করে, তাও জায়েজ রয়েছে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি-৩/৩৫৪)।

* কুরবানির পশু জবেহর সময় : কুরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ইবাদত। কুরবানির পশু জবেহ করার সময় হলো ৩ দিন-জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ। এটাই ওলামায়ে কেরামের কাছে সর্বোত্তম মত হিসাবে প্রাধান্য পেয়েছে।

এ সময়ের আগে যেমন কুরবানি আদায় হবে না, তেমনি পরে করলেও আদায় হবে না। অবশ্য কাজা হিসাবে আদায় করলে ভিন্ন কথা। যারা ঈদের সালাত আদায় করবেন তাদের জন্য কুরবানির সময় শুরু হবে ঈদের সালাত আদায় করার পর থেকে।

যদি ঈদের সালাত আদায়ের আগে কুরবানির পশু জবেহ করা হয়, তাহলে কুরবানি আদায় হবে না। কিন্তু যে স্থানে ঈদের নামাজ বা জুমার নামাজ বৈধ নয় বা ব্যবস্থা নেই, সে স্থানে ১০ জিলহজ ফজর নামাজের পরও কুরবানি করা বৈধ হবে। (কুদুরি) আর কুরবানির শেষ সময় হলো জিলহজ মাসের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।

* কুরবানির পশু হারিয়ে গেলে বিধান : যদি পশুটি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায় বা মারা যায়, আর কুরবানিদাতা যদি বিত্তশালী হয় কিংবা তার ওপর পূর্ব থেকেই কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে; তাহলে আরেকটি পশু কুরবানি করা তার ওপর ওয়াজিব হবে। আর যদি সে গরিব হয় (কুরবানি ওয়াজিব না থাকে), তাহলে তার জন্য আরেকটি পশু কুরবানি করা ওয়াজিব নয়। কুরবানির জন্য নতুন পশু ক্রয়ের পরে যদি হারানো পশুটি পাওয়া যায়, তাহলে কুরবানিদাতা গরিব হলে দুটি পশুই কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। আর ধনী হলে যে কোনো একটি কুরবানি করলেই তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। (বাদায়ে সানায়ে-৪/২১৬)।

* যেসব পশু দিয়ে কুরবানি শুদ্ধ হয় না : ইসলামি বিধান মতে মোট ছয় ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি করা যায়। আর তা হলো-উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এ পশুগুলোকে সুনির্দিষ্ট কিছু দোষ বা খুঁত থেকে মুক্ত থাকতে হবে। (কাযিখান ৩/৩৪৮)। সাধারণত পশুর যেসব শারীরিক দোষ, খুঁত বা গঠনের কারণে কুরবানি আদায় হয় না, তা হলো-১) খোঁড়া পশু : যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানি জায়েজ নয়। ২) রুগ্ণ ও দুর্বল পশু : এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ নয়। ৩) দাঁত নেই এমন পশু : যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না-এমন পশু দ্বারাও কুরবানি করা জায়েজ নয়। ৪) যে পশুর শিং ভেঙে বা ফেটে গেছে : যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে পশুর কুরবানি জায়েজ নয়।

পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি, সে পশু কুরবানি করা জায়েজ। ৫) কান বা লেজ কাটা পশু : যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা, সে পশু কুরবানি জায়েজ নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে, তাহলে তার কুরবানি জায়েজ। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয়, তাহলে অসুবিধা নেই। ৬) অন্ধ পশু : যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট, সে পশু কুরবানি করা জায়েজ নয়।

* কুরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম : কুরবানির পশু জবেহ করার জন্য রয়েছে কিছু দিকনির্দেশনা। তবে পশু জবেহ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত নিুোক্ত দুটি বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। নতুবা কুরবানির পশু জবেহ বিশুদ্ধ হবে না। বিষয় দুটি হলো- ১) জবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে জবেহ করা। তবে ‘বিসমিল্লাহ’-এর সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ যুক্ত করে নেওয়া মুস্তাহাব। ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা পরিত্যাগ করলে জবেহকৃত পশু হারাম বলে গণ্য হবে। আর যদি ভুলবশত বিসমিল্লাহ ছেড়ে দেয়, তবে তা খাওয়া বৈধ। কোনো ব্যক্তি যদি জবেহ করার সময় জবেহকারীর ছুরি চালানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করে, তবে তাকেও ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে; নতুবা জবেহ শুদ্ধ হবে না।

২) জবেহ করার সময় কণ্ঠনালি, খাদ্যনালি এবং উভয় পাশের দুটি রগ অর্থাৎ মোট চারটি রগ কাটা জরুরি। কমপক্ষে তিনটি রগ যদি কাটা হয়, তবে কুরবানি বিশুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি দুটি রগ কাটা হয়, তখন কুরবানি বিশুদ্ধ হবে না। (হিদায়া)।

* কুরবানির গোশতের হুকুম : কুরবানির গোশত কুরবানিদাতা ও তার পরিবারের সদস্যরা খেতে পারবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও’। (সূরা হজ্জ, আয়াত-২৮)।

ফোকাহায়ে কেরাম বলেছেন, কুরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া, এক ভাগ দরিদ্রদের দান করা ও এক ভাগ উপহার হিসাবে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের দান করা মুস্তাহাব। কুরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি বা অন্য কোনো কিছু বিক্রি করা জায়েজ নেই। কারণ তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত বস্তু। তবে চামড়া বিক্রি করা যেতে পারে, কিন্তু টাকা গরিবদের দান করতে হবে। কসাই বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক হিসাবে কুরবানির গোশত দেওয়া জায়েজ নয়।

যেহেতু সেটিও এক ধরনের বিনিময় যা ক্রয়-বিক্রয়ের মতো। তার পারিশ্রমিক আলাদাভাবে প্রদান করতে হবে। হাদিসে এসেছে-‘আর তা প্রস্তুতকরণে তা থেকে কিছু দেওয়া হবে না’। (সহিহ বুখারি-১৭১৬)। তবে দান বা উপহার হিসাবে কসাইকে কিছু দিলে তা নাজায়েজ হবে না।

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে কুরবানি আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ খেয়াল রেখে সঠিক নিয়মে কুরবানির পশু জবেহ করে একনিষ্ঠতার সঙ্গে গ্রহণযোগ্য কুরবানি আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া

হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ফিচার : সহজ হবে ভিডিও কল

জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফরম হোয়াটসঅ্যাপ চলমান ভিডিও কলে সহজে যোগ দেওয়ার জন্য নতুন ফিচার নিয়ে আসছে। এর ফলে দ্বিতীয় কোনো ব্যবহারকারীকে তাদের যুক্ত করার প্রয়োজন হবে না। ‘ট্যাপ টু জয়েন’ এ ফিচারের মাধ্যমে গ্রুপ কলে জয়েন করার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। যদি কোনো ইউজার প্রথমে গ্রুপ কলে যোগদান করতে ব্যর্থ হন, তবে তারা গ্রুপ চ্যাটের অভ্যন্তরে ‘জয়েন কল’ বাটন ট্যাপ করেও সেই কনফারেন্সে যোগ দিতে পারবেন। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ আইওএস বেটা গ্রাহকদের জন্য নতুন ইউজার ইন্টারফেসও লঞ্চ করেছে। ভিডিও কলের ফিচারটি আইওএস ব্যবহারকারীরা নতুন আপডেটেই পাবেন। নতুন ফিচারের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা চলমান কোনো ভিডিও কলে সহজেই যোগ দিতে পারবেন। অন্য কারও সহযোগিতা প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি আরও একটি ফিচার আনতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। আইওএস ব্যবহারকারীরা একটি নতুন রিং বাটনও দেখতে পাবেন। গ্রাহকরা নতুন এ ফিচারটির জন্য এখন অপেক্ষা করছেন।

আসছে অন্তঃসত্ত্বা পুরুষের ইমোজি!

স্মার্টফোনে খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা পুরুষের ইমোজি। শনিবার বিশ্ব ইমোজি দিবস উপলক্ষ্যে চূড়ান্ত হওয়া কয়েকটি ইমোজির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে এই ইমোজি।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই এই ইমোজি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন বলে ইমোজিপিডিয়া জানিয়েছে।

প্রচলতি সব ইমোজির পুরুষ, নারী এবং লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ইমোজি চালু করার সাথে সাথে সাদা,কালো,বাদামি- সব বর্ণের ইমোজি যোগ করা হবে।

অন্তঃসত্ত্বা নারীর ইমোজির দুইটি রূপ যুক্ত হচ্ছে। একটি তৃতীয় লিঙ্গের, আরেকটি পুরুষের। আর মুকুট পরা পুরুষের ইমোজির সাথে যুক্ত হবে ‘রাজকুমার’ ও ‘রাজকুমারী’র ইমোজি।

অন্যদিকে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে দাড়িওয়ালা নারীর ইমোজিও যোগ হচ্ছে দাড়িওয়ালা পুরুষের পাশাপাশি।

এ ব্যাপারে ইমোজিপিডিয়ার প্রধান ইমোজি বিষয়ক কর্মকর্তা জেরেমি বার্গ বলেন, প্রায় সব ইমোজির লিঙ্গ-নিরপেক্ষ বিকল্প থাকবে।

এছাড়া, দুই বর্ণের মানুষের হাত মেলানো, হাত দিয়ে হৃদয় আকৃতি তৈরি, চোখ দিয়ে উঁকি দেওয়া, চোখের পানি ধরে রাখা, স্যালুট করার ইমোজির চালু হতে যাচ্ছে।

পাশাপাশি প্রবাল, খেলার মাঠের স্লাইড, ক্রাচ, এক্স-রে, খালি পাখির বাসা, ডিসকো বল ও শূন্য ব্যাটারিও যোগ হচ্ছে ইমোজির তালিকায়।