শনিবার ,২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 719

ফেসবুক লাইভে পূজা উদযাপন কমিটির নেতার আত্মহত্যা

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল মেট্রোপলিটন থানার ৪১নং ওয়ার্ডের নয়ানী পাড়ায় ফেসবুক লাইভে গিয়ে থানা পূজা উদযাপন কমিটির নেতা স্বপন চন্দ্র দাস (৪২) নামে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

স্বপ্ন চন্দ্র দাস একই এলাকার নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি পূবাইল বাজার কেন্দ্রীয় রাধামাধব মন্দির ও পূবাইল থানা পূজা উদযাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক এবং আশার আলো সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পূবাইল থানার এসআই রাসেদুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৫৫ মিনিটে ফেসবুক লাইভে গিয়ে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্বপন চন্দ্র দাস গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার দৃশ্য প্রচার করেন। প্রায় ৩০-৩৫ জন সরাসরি দেখেন সেই সময়কার ফেসবুক লাইভ ভিউয়ার।

এর আগে দুপুরে স্বপন চন্দ্র দাস নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে অনেকগুলো ছবি পোস্ট করে ক্যাপশানে লিখেছেন, ‘জীবনের কিছু স্মৃতিময় মুহূর্ত। হয়তো এটাই জীবনের শেষ আপলোড।’

প্রায় সময় লাইভে গিয়ে নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন করা হাসি খুশি লোকটি কেন হঠাৎ আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা নিয়ে এখন এলাকায় চাপা গুঞ্জন চলছে। অনেকেই বলছেন আশার আলো সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির গ্রাহকদের টাকার লেনদেন নিয়ে পার্টনার আনোয়ারের সঙ্গে কোনো সমস্যা হওয়াকে এড়িয়ে দেয়া যায় না।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা করার সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার শরিফ নামে এক যুবক একই এলাকার স্বপনের ব্যবসায়িক পার্টনার আনোয়ার হোসেনের ছেলে নীরবকে ফোন দিয়ে বিষয়টি দ্রুত জানতে বলে। পরে কয়েকজন গিয়ে ডাকাডাকি করে স্বপনের দোতলায় ঘুমানো দুই ছেলেকে ডেকে উঠিয়ে তার বাবার ঘরে গিয়ে দেখে ওড়না গলায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে স্বপন। জীবিত ভেবে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

পূবাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম জানান, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ও লাইভে গিয়ে আত্মহত্যা করার বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাবুলে বন্ধ নারী মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট, চাকরিচ্যুত নারী কর্মীরা

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের প্রায় দুই মাস পরও কাবুলে বন্ধ রয়েছে নারীদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলো।

তিন বছর আগে কাবুলে ৩০ লাখ আফগানি বিনিয়োগ করে একটি ক্যাফে খুলেছিলেন নিকি তাবাসসুম। ক্যাফে থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার আফগানি আয় করতেন তিনি। কিন্তু বিগত সরকার পতনের পর তার ক্যাফের সব নারী কর্মীই চাকরি হারিয়েছেন।

টোলো নিউজকে তিনি জানান, তালেবান কাবুল দখলের পর থেকেই তার ক্যাফে বন্ধ রয়েছে। তার সহকর্মীরা চাকরি হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ওই নারীরাই পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই চাকরি না থাকায় তাদের পরিবার অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের খাবার জোটানোর জন্য চাকরিহারা নারীরা জীবিকার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন বলে জানান তাবাসসুম।

এ ব্যাপারে চাকরিহারা নারী কর্মী সাবরিনা সুলতানি জানান, দুই বছর ধরে ক্যাফেতে চাকরি করে সংসার চালাতেন তিনি। চাকরি হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

চাকরিহারা নারীদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাফের কর্মীরা।

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ আফগানি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন নারী কর্মীরা।

এ ব্যাপারে কাবুল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের প্রধান নুর-উল-হক ওমরি জানান, নারীদের নেতৃত্বাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠাগুলো বন্ধ রয়েছে। নারী কর্মীরা চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নারী উদ্যোক্তারা হারিয়েছেন মূলধন। অনেক নারী ব্যবসায়ীই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান জিনিসপত্র কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বিগত বছরগুলো আফগানিস্তানে বেশ কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন। তবে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর সব যেন থমকে গেছে।

যদিও নারী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ব্যাপারে তালেবানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূচকের পতনে শেষ হলো পুঁজিবাজারে লেনদেন

এ সপ্তাহের বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৭ হাজার ২৪১ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে অবস্থান করে ২৬৭৩ ও ১৫৮২ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে দর বেড়েছে ১২৫টির, দর কমেছে ২০৯টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টি কোম্পানির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএসই সার্বিক সূচক ৮২ পয়েন্ট কমে ২১ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ই-কমার্সে গ্রাহকদের বিনিয়োগ নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ই-কমার্সে বিনিয়োগ করে বিপাকে রয়েছেন অনেক গ্রাহক। এর মধ্যে প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মালিকরা জেলখানায় র‌য়ে‌ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী গ্রাহক‌দের কী হ‌বে জান‌তে চাই‌লে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব‌লেন, কাউকে জেলখানায় পাঠিয়ে দিলে তো কোনো লাভ নেই। সে জেল খে‌টেই শেষ, এতে কো‌নো উপকার হ‌বে না। ই-কমার্সের সার্বিক বিষয়ে মন্ত্রণালয় পজিটিভলি চেষ্টা করছে, কিছু একটা করা যায় কী না

বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কক্ষে‘সোর্সিং বাংলাদেশ ২০২১-ভার্চুয়াল সংস্করণ’ নামে সপ্তাহব্যাপী অনলাইন মেলার আয়োজন উপলক্ষে করা এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবা‌দিক‌দের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা ব‌লেন।

টিপু মুনশি ব‌লেন, ই-কমা‌র্সের কারণে অনেক গ্রাহকের অর্থ নষ্ট হয়েছে। এখন অনেককে বল‌তে শোনা যা‌চ্ছে, যা‌দের প্রতিষ্ঠান বন্ধ হ‌য়ে‌ছে, তাদের যদি ব্যবসা কর‌তে দি‌য়ে কঠিনভাবে অবজার‌বেশন করা হ‌ত তাহলে কিছুটা ক্ষ‌তি কাভার কর‌তে পার‌ত। এ ধর‌নের সা‌জেশন আস‌ছে। এ বিষয়গু‌লো কতটা যৌক্তিক তা নি‌য়ে চিন্তাভাবনা করা হ‌চ্ছে।

জেলখানায় নেওয়া সমাধান নয় জা‌নি‌য়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ব‌লেন, আমরা অবজারভেশন করছি। আমরাসহ চার মন্ত্রণালয়ের (অর্থ, বা‌ণিজ্য, আইন ও স্বরাষ্ট্র) সঙ্গে কথা বলছি। তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হচ্ছে, কোনো উন্নতি করা যায় কিনা সে বিষয়ে দেখা হচ্ছে।

ইভ্যালি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনেক বড় গ্রুপ অব কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল, কিন্তু নেতিবাচক এসব ঘটনার কারণে তারা সরে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসানসহ সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

পারিবারিক বলয়ের দিন শেষ হচ্ছে আ.লীগে

উত্তরাধিকার সূত্রে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে মনোনয়ন পাওয়া কিংবা পদপদবি জুটিয়ে নেওয়ার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগে। পারিবারিক রাজনীতির বলয় থেকে বেরিয়ে এসে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দিকে ঝুঁকছে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন ইতোমধ্যে।

১১ সেপ্টেম্বর দলের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় তিনি বলেছেন, নেতা-মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যদের সন্তানরা রাজনীতিতে আসতে চাইলে তারা পরিশ্রম করে আসুক। রাজনীতির মাঠে সময় দিক। তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা কতটুকু, তা দেখে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে।

শেখ হাসিনার এই নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও। ক্ষমতার টানা তৃতীয় মেয়াদের পৌনে তিন বছরে ১৭ জন সংসদ সদস্য হারিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে শুধু কিশোরগঞ্জ-১, সিরাজগঞ্জ-১ এবং বগুড়া-১-এই তিনটি আসন ছাড়া বাকি সবকটি উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবার নয়, দলের ত্যাগী নেতাদেরই বেছে নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের আসনে তার ছেলে মুনতাকিম আশরাফ প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দিনই শেখ হাসিনা এ বার্তা পৌঁছে দেন দলের শীর্ষ নেতাদের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, যুগের পর যুগ এই উপমহাদেশে একটি রেওয়াজ চালু আছে যে, পিরের ছেলে পির হয়, নেতার ছেলে নেতা হয়। আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। আওয়ামী লীগের মূল শক্তি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনগণ। মন্ত্রী বা নেতার ছেলে মন্ত্রী কিংবা নেতা হবে, এমপির ছেলে এমপি হবে-এই রেওয়াজে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর দলের প্রতি, জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট, রাজনীতিতে তার অবদান ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেয় সবার আগে।

মাহবুবউল আলম হানিফ আরও বলেন, চলতি সংসদে আমরা ১৭ জন সদস্যকে হারিয়েছি। এর মধ্যে তিনজনকে পরিবারের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই তিনজনেরও বর্ণাঢ্য অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি মেডিকেলে পড়ার সময় ছাত্রলীগ করতেন। ছাত্ররাজনীতি করতেন। মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভির সাকিল জয়ও ছাত্ররাজনীতি করতেন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এমপিও হয়েছেন। একইভাবে আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদার মান্নান থানা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই তিনজনের কেউই উড়ে এসে এমপি হননি। আর বাকি আসনগুলোর উপনির্বাচনে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতাদের মধ্য থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, এমপির ছেলে এমপি হবে, নেতার ছেলে নেতা হবে-এটাই আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাস। মানুষের এই ধারণা ও বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে পরিবারের বাইরে থাকা দক্ষ, যোগ্য, শিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের এগিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদের ১৯ জন সদস্য গত পৌনে তিন বছরে মারা যান। যাদের ১৭ জন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের, অন্য দুজন প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। দেশের সংসদের ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি অতীতে। প্রয়াত সংসদ সদস্যদের ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী এমনকি ভাই-বোনদেরও দেখা গেছে শূন্য আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহ প্রকাশ করতে। কিন্তু দিনশেষে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন ত্যাগী নেতারাই।

চলতি সংসদের যাত্রাই শুরু হয় সংসদ সদস্যের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন পরই ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

অবশ্য সৈয়দ আশরাফ নির্বাচিত হওয়ার পর গেজেট প্রকাশ হলেও দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। সেই হিসাবে তিনি একাদশ সংসদের সদস্য হিসাবে গণ্য হননি। একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার আগেই তিনি মারা যান। পরে এই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপিকে।

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের চারজন মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি গত বছর ১৩ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা জান। ওই বছরই ২৭ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান নওগাঁ-৬ আসনের সদস্য ইসরাফিল আলম। ১১ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। গত ১৪ এপ্রিল মারা যান সাবেক আইনমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৫ আসনের সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।

সরকারদলীয় এই চারজন সদস্যের শূণ্য আসনের উপনির্বাচনে পরিবারের ভেতর থেকে দলীয় মনোনয়ন পান শুধু একজন। মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভির সাকিল জয়কে বাবার আসনে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। যদিও তানভির শাকিল জয় তার বাবার আসন থেকে এর আগেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি তিনটি আসনেই নতুন মুখকে নৌকার দায়িত্ব দেন ক্ষমতাসীনরা।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের মোজাম্মেল হোসেন, ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের আবদুল মান্নান, ২১ জানুয়ারি সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী যশোর-৬ আসনের ইসমাত আরা সাদেক, ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী পাবনা-৪ আসনের শামসুর রহমান শরীফ, ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং ১০ জুলাই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা-১৮ আসনের অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা যান।

একাদশ সংসদের প্রথম বছরে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই মারা যান সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুশেমা বেগম, একই বছরের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি চট্টগ্রাম-৮ আসনের মঈন উদ্দীন খান বাদল ও ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের গাইবান্ধা-৩ আসনের মো. ইউনুস আলী সরকার মারা যান। মঈন উদ্দীন খান বাদল বাংলাদেশ জাসদের নেতা হলেও তার দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না হওয়ায় তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌক প্রতীকে নির্বাচন করেন। সেই হিসাবে তিনি সংসদে আওয়ামী লীগেরই সংসদ সদস্য ছিলেন।

এ বছর ২ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের হাসিবুর রহমান স্বপন, ৪ এপ্রিল ঢাকা-১৪ আসনের সদস্য আসলামুল হক মারা যান। বগুড়া-১ আসনের সদস্য আবদুল মান্নানের শূন্য আসনে স্ত্রী সাহাদারা মান্নানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ।

সব গুছিয়ে রাজপথে নামতে হবে

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের পক্ষেই মত দিয়েছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিরা। দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে বলেছেন তারা।

ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে দ্বিতীয় দফা সিরিজ বৈঠকের প্রথম দিন মঙ্গলবার বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে এমন অভিমত ব্যক্ত করে তারা বলেন, রাজপথের আন্দোলনে নামার আগে দলসহ সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে।

কারণ আওয়ামী লীগ বড় একটি শক্তি। তাদের সঙ্গে প্রশাসন রয়েছে। তাই বিক্ষিপ্ত আন্দোলন করলে সফলতা পাওয়া যাবে না। শুধু একটি ব্যানার দিয়ে মিছিল করলেই আন্দোলন হয় না। সিনিয়র নেতাদের সামনে থাকতে হবে। ঢাকায় যাতে জোরদার আন্দোলন হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

তারা বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বর্তমান সরকারকে হটানো সম্ভব নয়। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিটে আন্দোলনমুখী নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। যারা রাজপথে থাকবে তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

এ সময় আন্দোলনে সরকারবিরোধী সব দলকে এক ছাতার নিচে আনার পক্ষেও মত দেন তারা। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার ও তাতে কোনো আপস না করার পরামর্শ দেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠন, দল গোছানো, জোটের রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

এ সময় দলের হাইকমান্ড থেকে বলা হয়, আপনারা যা বলেন তার অনেক কিছু করেন না। আন্দোলনের কথা বলছেন কিন্তু অতীতে দেখা গেছে অনেকেই রাজপথে ছিলেন না। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়।

চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা সিরিজ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি তিনি অংশ নেন।

প্রথম দিন ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করে বিএনপির হাইকমান্ড।

বৈঠকের প্রথম দিন মোট ১২৬ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ৭৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ৪১ জন। মূল মঞ্চে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আবু জাফর, বাবুল আহমেদ, হাবিবুর রশিদ হাবিব, মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, ওবায়দুল হক নাসির, শেখ রবিউল ইসলাম রবি, আব্দুল মতিন, পেয়ারা মোস্তফা, নিপুণ রায় চৌধুরী, ফেরদৌস আহমদ খোকন, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার আবু আশফাক, আকরামুল হাসান, রফিকুল ইসলাম রাসেল, ইয়াসমিন আরা হক, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইসা, মজিবুর রহমান, সাঈদ সোহরাব, তমিজউদ্দীন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, দিপু ভূইয়া, অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, রোকসানা খানম মিতু, রেজা আলিম, ওমর ফারুক সাফিন প্রমুখ।

বৈঠকের শুরুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। সার্বিক সহযোগিতা করেন দলের দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন, বেলাল আহমেদ ও সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত দখলদার সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে-এ বিষয়ে নেতারা আলোচনা করেছেন। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সামনে আরও সভা রয়েছে। সব সভা শেষে বিস্তারিত গণমাধ্যমে জানানো হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বেশির ভাগ নেতাই আন্দোলন, নির্বাচন, দল পুনর্গঠন, চেয়ারপারসনের মুক্তির ওপর পরামর্শ তুলে ধরেন। অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবি নিয়ে একযোগে রাজপথে নামতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে মহিলাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা বোঝাতে হবে। এ কাজটি মহিলা দলকে করতে হবে।

আকরামুল হাসান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। তার মুক্তির প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।

শেখ রবিউল ইসলাম রবি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আন্দোলন করতে হবে। বিএনপির নেতৃত্বে এ আন্দোলন হতে হবে।

বৈঠকে একাধিক নেতা নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এজন্য কোনো রাজনৈতিক ফাঁদেও পড়া যাবে না।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের নামে বিএনপির রাজনীতিকে অন্য কোনো দলের নামে লিজ দেওয়া হয়েছিল কিনা, সংলাপের নামে সময়ক্ষেপণ কিংবা রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব ছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তারা বলেন, এমনিতেই আন্দোলন ছাড়াও তাদের বেশির ভাগ নেতাকর্মী ঘরছাড়া। মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত তৃণমূল।

এবারও সরকারকে ওয়াকওভার দিলে বিএনপির রাজনীতি অস্তিত্বের মুখে পড়বে। তাই এবার সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন ছাড়া তাদের মুক্তি মিলবে না।

খন্দকার আবু আশফাক বলেন, তারেক রহমান এখন গণমানুষের নেতা। তার নেতৃত্বেই আন্দোলন হতে হবে। জেলার রাজনীতিতে আন্দোলন ও দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিএনপির সঙ্গে অঙ্গ সংগঠনের সমন্বয় থাকতে হবে।

জোট প্রসঙ্গে এক নেতা বলেন, ছোট অনেক দল নিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জোট করা হয়। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে তাদের পেছনের সারিতে বসতে হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে আমরা কিছুই পাইনি।

এত আয়োজন করে ভোটে গিয়েও মাত্র ৬টি আসন পেয়েছি। তারা শুধু আমাদের কাছ থেকে নিয়েছে। যারা আমাদের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মানবে না তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো জোট করা না হয়।

আজ চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক হবে।

করোনায় প্রাণ হারালেন আরও ৩৬ জন

করোনায় দেশে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও জনের ৩৬ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৩১৩ জন মারা গেলেন ভাইরাসটিতে।

বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৭৬ জনের। এতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৬ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৭৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ১৩৬ জন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত, যা বললেন ইসি মাহবুব

গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের ৬ জেলার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। ৪৩টি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পাওয়ায় সেগুলোয় চেয়ারম্যান বাদে বাকি পদে ভোট হয়। বাকি ১১৭টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছে। এ নির্বাচনে ইভিএম’এ (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট হওয়া আট ইউপিতে ৬৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর ব্যালটে ভোট হওয়া ১০৯টিতে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

নির্বাচন না করে ৪৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় নির্বাচনকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের টার্নআউট মোটামুটি ভালো ছিল, শতকরা ৬৯ দশমিক ৩৪ ভাগ। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদে ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচন না করেই চেয়ারম্যান পদে অভিষিক্ত হওয়া, নির্বাচনকে ম্লান করে দিয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে আমার কথা’ শিরোনামে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি মাহবুব বলেন, ৯টি পৌরসভায় তিনজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচন যেহেতু অনেকের মধ্যে বাছাই, সেহেতু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হওয়াকে নির্বাচিত হওয়া বলা যায় কি, এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। আরও বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে বহুদলের অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমি ছয়দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করি। কয়েকজন সাংবাদিক এ সময় অনুষ্ঠিত ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও ৯টি পৌরসভা নির্বাচনে আমার সাফল্য ও ব্যর্থতা জানতে চান। এ সংক্ষিপ্ত সময়ে আকস্মিকভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়।তারপরও কিছু কথা থেকে যায়। উল্লিখিত নির্বাচনে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

জীবনের চেয়ে নির্বাচন বড় নয়- এ কথাটি পুনর্ব্যক্ত করে ইসি মাহবুব বলেন, তবু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ে সহিংসতা রোধ করা গেল না। নির্বাচনে ঘটনা বা দুর্ঘটনা যা-ই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের ওপরই দায় এসে পড়ে।

ইসির এই জ্যেষ্ঠ কমিশনার বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে একজন সংসদ সদস্যকে সতর্কবার্তা পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের কারণ বিশ্লেষণ করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ অনিবার্য। ভোটারদের নির্বাচন বিমুখতাও আমার কাছে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত মনে হয়। এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা জড়িত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যতীত এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।

 

অসময়ে চুল পাকা থেকে বাঁচতে কী করবেন?

অল্প বয়সেই চুল পাকার চিত্র অহরহ দেখা যাচ্ছে। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, অসময়ে চুল পাকার অন্যতম কারণ অগোছাল জীবনযাপন ও খাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম।

এছাড়া চুলে অতিরিক্ত ধূলোবালি লেগে থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়। বেশি স্ট্রেস নেওয়াকেও চুল পাকার জন্য অনেকে দায়ী করে থাকেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল সাদা হওয়াটা অনেকটা স্বাভাবিক। কিন্তু অসময়ে চুল পেকে যাওয়াটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। এমনটা হলে বুঝতে হবে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আবার অনেকসময় জিনগত কারণেও অল্প বয়সে চুলে পাক ধরতে পারে।

অল্প বয়সে চুলে পাক ধরার কারণ এবং এর থেকে বাঁচার উপায়:

স্ট্রেস
চুল পড়ে যাওয়া এবং চুল পেকে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে স্ট্রেস। অনেক বেশি মানসিক চাপ ও চিন্তার কারনে চুল তাড়াতাড়ি পেকে যেতে পারে। স্ট্রেসে থাকলে মস্তিষ্কে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের উৎপাদন হতে শুরু করে। আর এর কারণে চুল সাদা হয়ে যায়।

প্রোটিনের ঘাটতি
প্রোটিনের অভাবেও অনেক সময় চুল পেকে যেতে শুরু করে। সেজন্য চুলের স্বাস্থ্য ভালো করতে প্রতিদিনের ডায়েটে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি

শরীরে ভিটামিনের অভাব থাকলেও চুল ধীরে ধীরে সাদা হওয়া শুরু করতে পারে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিটামিন বি১২-এর অভাবের কারণে চুল সাদা হতে পারে। তাই চুলের মান ভালো রাখতে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

ধূমপান বা দূষণ
অত্যধিক ধূমপানের কারণে এবং দূষণের কারণেও চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

কী করবেন

১. কম বয়সে চুল পাকা রোধ করতে প্রথমেই অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়মিত জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে চুল পাকার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

২. স্ট্রেস কমাতে হবে। অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কিছু করা চুলের জন্য ক্ষতির কারণ।

৩. প্রতিদিনই শ্যাম্পু করা যাবে না।

৪. নিয়মিত খাবারে সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে হবে।

৫. সপ্তাহে অন্তত দুদিন মাথায় নারিকেল তেল দিতে হবে।

৬. চুলে যতটা সম্ভব কম পরিমানে কেমিকেল জাতীয় পণ্য ব্যবহার করার অভ্যাস করতে হবে

চোখের পাতা লম্বা ও ঘন করার ঘরোয়া ৬ উপায়

মানুষের সৌন্দর্যের মূলে আকর্ষণীয় মুখাবয়ব। নাক, ঠোঁট, চোখ ব্রু—এসব মুখের সৌন্দর্য বাড়ায়। আর চোখের সৌন্দর্যের মূলে পাতা। ঘন, কালো ও লম্বা চোখের পাতা কে না চায়?

ঘন ও লম্বা চোখের পাতা সাধারণত সবার হয় না। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন নকল চোখের পাতা। কিন্তু কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে সহজেই মিলতে পারে ঘন, কালো ও লম্বা চোখের পাতা।

১. অলিভ অয়েল: ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয় অলিভ অয়েল। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মাশকারা ব্রাশে করে চোখের পাতায় অলিভ ওয়েল লাগালে মিলবে অনেক সুফল, মিলবে ঘন ও লম্বা চোখের পাতা।

২. ক্যাস্টর অয়েল: চোখের পাতা ঘন করতে অনেক উপকারী ক্যাস্টর অয়েল। এতে রয়েছে ভিটামিন, প্রোটিন ও ওমেগা-৬ ফ্যাট, যা চোখের পাতা বৃদ্ধি করতে কার্যকরী। এটি চোখের পাতা অনেক দ্রুত লম্বা ও ঘন করতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে চোখের পাতায় হালকা গরম করা ক্যাস্টর অয়েল তুলার সাহায্যে লাগালে মিলবে উপকার। এর সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে চোখের পাতায় লাগাতে মিলতে পারে আরও ভালো সুফল।

৩. অ্যালোভেরা: মাশকারা ব্রাশের মাধ্যমে অ্যালোভেরা জেল চোখের পাতায় সারারাত লাগিয়ে রাখতে হবে। হালকা গরম ও ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে সকালে ধুয়ে ফেললে মিলবে ভালো ফল। এ ছাড়া এক চা চামচ অ্যালোভেরা জলের সঙ্গে এক চামচ জোজোবা অয়েল ও দুই ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন দুবার লাগাতে পারেন। এটি ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে মিলবে উপকার।

৪. পেট্রোলিয়াম জেলি: মাশকারা ব্রাশের মাধ্যমে চোখের পাতায় পেট্রোলিয়াম জেলি সারারাত লাগিয়ে রাখলেও মিলবে ভালো ফল। সকালে হালকা গরম ও ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫. ম্যাসাজ: অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল কয়েক ফোঁটা নিয়ে আঙুলের সাহায্যে চোখের পাতা ও চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করলে মিলতে পারে ঘন ও লম্বা চোখের পাতা।

৬. ডিম: ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে ঘন প্যাক তৈরি করতে হবে। ইয়ার বাডের সাহায্যে প্যাকটি চোখের পাপড়িতে লাগিয়ে তা ১০-১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেই পাওয়া যাবে উপকার।