সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 697

নিউইয়র্কে ব্যবসা ঋণের হিসাব চাওয়ায় অংশীদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা মহামারিকালীন পারিবারিক যত্ন (হোম কেয়ার) ব্যবসার পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) লোনের অর্থের হিসাব চাওয়ায় উল্টো অংশীদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ।
গত বছর করোনা মহামারিকালীন সময়ে বেঙ্গল ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা) লোন গ্রহণ করেন (যা সম্পূর্ণ অফেরত যোগ্য ও মওকুফকৃত)। গত ৬ মাস ধরে লোনের হিসাব চাচ্ছিলেন ব্যবসার অংশীদার যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্ত। পিপিপি ঋণের সঠিক হিসাব না দিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন শাহ নেওয়াজ।

ঋণের ভাগ অংশীদারকে না দেয়ার জন্য তিনি ভিন্নপন্থা অবলম্বন করেন। অংশীদারিত্বের হিসাব থেকে দূরে থাকার জন্য শাহ নেওয়াজ সুকৌশলে পার্থ গুপ্তের নামে পুলিশের কাছে জীবন নাশের অভিযোগ করেন।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক প্রবাসী ইন্সুরেন্স ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ ও নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ যন্ত্রশিল্পী (কিবোর্ড বাদক) পার্থ গুপ্ত যৌথভাবে পারিবারিক যত্ন (হোম কেয়ার) ব্যবসা শুরু করেন।
গত ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালীন ব্যবসার কিছুটা ক্ষতি দেখা দিলে বেঙ্গল ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের জন্য পৃথক পৃথকভাবে পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) লোনের আবেদন করেন প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ ও ২১ মে ২০২০ ক্রোস রিভার ব্যাংক দু’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ লাখ ২৪ হাজার ৭২৯ ডলারের লোন অনুমোদন করে। উক্ত লোনের ব্যাপারে অন্যান্য অংশীদারের কাছে সঠিক হিসাব দিতে টালবাহানা করেন শাহ নেওয়াজ। এ বিষয়টি নিয়ে গত ৬ মাস ধরে পার্থ গুপ্ত’র সাথে তার নানা রকম দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে শাহ নেওয়াজ নিউ ইয়র্ক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে পার্থ তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি পুলিশের কাছে তার নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। মামলার ডকেট নম্বর-‘সিআর-০২০৫৬০-২১ কিউএন’। এর প্রেক্ষিতে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের জ্যাকসন হাইটসের নর্দার্ন ব্লুভার্ড-১১৫ এলাকার পুলিশ গত সোমবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পার্থকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ষ্টেশনে তাকে আটক রাখা হয়।
পরদিন মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক পার্থের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী শাহনেওয়াজ থেকে দূরত্ব বজায় রাখারও নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ২০ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী শাহনেওয়াজ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, পার্থ গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে নানান ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ যখন প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তখন তিনি প্রমাণসহ এই মামলা দায়ের করেন। দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় নিউ ইয়র্ক পুলিশ প্রিসেন্টে-১১৫-এ পার্থ গুপ্ত থেকে নিরাপত্তা চেয়ে তিনি আবেদন করেন। পরে স্কাইল নামের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে তাকে পুলিশ প্রিসেন্টে-১১৫-এ আসার আহবান জানান।
পার্থ পুলিশের আহবানে পুলিশ প্রিসেন্টে-১১৫ তে গেলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে রাতভর আটক রাখা হয়।
বেঙ্গল ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ডলারের ব্যবসা ঋণের অর্থ সম্পর্কে মতামত জানতে গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজের সঙ্গে বার্তাবহের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে কোন সদুত্তর মেলেনি। এদিকে তার ব্যবসায়িক অংশীদার পার্থ গুপ্তের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্ত তাকে পাওয়া যায়নি।

মাদ্রিদে বাংলাদেশি কোম্পানির ভ্রাতৃ সমাবেশ

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ফ্রুতাস কোম্পানি লিমিটেড। প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনতে ১৮ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসে ক্রমবর্ধমান গ্রোসারি ও ফ্রুটস ব্যবসা খাতে আরো আকর্ষণীয় ও গুরুত্ব বাড়ানোর ইচ্ছা থেকে দুটি পৃথক কোম্পানিতে বিভক্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

৯ অক্টোবর ঢাকা ফ্রুতাস কোম্পানির ভিজাভেরদে বাখোস্থ কার্যালয়ে বার্ষিক ভ্রাতৃ সমাবেশ ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই গোষণা দেন প্রতিষ্ঠানটির দুই পরিচালক আলামীন মিয়া ও শাহ আলম।
প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কর্মকর্তা সাঈদ আনোয়ারের সঞ্চালনায় সময় উপযোগী এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বক্তব্য প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক হারুন আহমদ, আবুবক্কর তানিম, খলিল খান।
প্রতিষ্ঠানের শো-রুম এবং লোকবল বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় বৈচিত্র্য আনতে ঢাকা ফ্রুতাসকে বিভক্ত করে দুই প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার মডেল ‘লক্ষণীয় পরিবর্তন’ উল্লেখ করে দুই পরিচালক আলামীন মিয়া এবং শাহ আলম বলেন, ১৮ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি এবং ব্যাবসায়িক সাফল্যের কারণে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমরা আশা করছি ব্যবসা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকা ফ্রুতাসকে ভেঙে দুই প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে। এখন থেকে ঢাকা ফ্রুতাস কোম্পানির একক দায়িত্বে থাকবেন আলামীন মিয়া এবং ওপর কোম্পানি তারেক ফ্রুটাস কোম্পানির পরিচালনা করবেন শাহ আলম।

এসময় উভয় প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করে আরো বক্তব্য দেন সাংবাদিক এ কে এম জহিরুল ইসলাম, কবির আল মাহমুদ, আহসান হাবিব, এস বি হিমেল, হাবিবুর রহমান, হেলাল মিয়া, শাকিল খান, নাদিম, রেজওয়ান আহম্মেদ, কুতুব উদ্দিন, খোরশেদ আলম, রেজাউল করিম, রুবেল আহমদ, আপন খান, মনজুরুল আলম, ফারুক আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর আলম, ফরহাদ রাব্বি প্রমুখ। পরে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যাংকের অফিসার পদে চাকরি

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ‘অফিসার, মার্চেন্ট বিজনেস, কার্ডস’ পদে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন অনলাইনে। এই পদে আবেদন করতে কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই।

 

পদের নাম: অফিসার, মার্চেন্ট বিজনেস, কার্ডস
পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
যোগ্যতা: যে কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রয়োজন নেই
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: ২৬,০০০/- থেকে ২৮,০০০/-
চাকরির ধরন: ফুল টাইম
বয়স: ৩০ বছর

এতে নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেখতে ও অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন, https://jobs.bdjobs.com/jobdetails.asp?id=996999&fcatId=-1&ln=1&JobKeyword=city%20bank

আবেদনের শেষ তারিখ: আগ্রহীরা আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

৮৫ হাজার টাকা বেতনে জাতিসংঘে চাকরি

জাতিসংঘের খাদ্যসহায়তাসংক্রান্ত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে (ডব্লিউএফপি) জনবল নিয়োগ করা হবে। সংস্থাটির সদর দপ্তর ইতালির রাজধানী রোমে এবং পৃথিবীর ৮০টির বেশি দেশে এর শাখা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের কক্সবাজারে একটি প্রকল্পের জন্য ‘রিপোর্টার্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, এসসি৪’ পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম: রিপোর্টার্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, এসসি৪

পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট

আবেদনের যোগ্যতা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, তথ্য ব্যবস্থাপনা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, সামাজিক বিজ্ঞান অথবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হবে।

অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ইংরেজিতে লেখা ও সম্পাদনা করার দক্ষতা থাকতে হবে।

বেতন: ৮৫,৭৬৬/-

বয়স: নির্ধারিত নয়

কর্মস্থান: কক্সবাজার

এতে আবেদন করতে পারবেন নারী-পুরুষ যে কেউ। চাকরিটিতে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা https://career5.successfactors.eu/sfcareer/jobreqcareer?jobId=150562&company=C0000168410P -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: আগ্রহীরা আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

জাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

করোনা মহামারিতে দেড় বছর বন্ধ ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবসিক হল। বন্ধ ছিল ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। অবশেষে সোমবার আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ।

সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের অনুমতি পান। ফলে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ছুটে এসেছেন প্রাণের আঙিনায়। হল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের পেয়ে নবীন আবেশে ফুল, উপহার আর নাস্তা দিয়ে বরণ করেন গভীর মমতায়।

আবার করোনার সুরক্ষার জন্য মাস্ক আর সানিটাইজার দিয়েও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই জাবির ১৬টি হলের ফটকে আগত শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানান হলের দায়িত্বরত শিক্ষকরা। সেখানেই শিক্ষার্থীদের উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। তারপর শরীরের তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদর হলে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদর অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।

আর যারা টিকা নেয়নি তাদের স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসেই অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রে টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, হলগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের বরণ করেছি। কয়েকটি হলে শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে চকলেট ও কলম দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, অচিরেই সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাব।

করোনার টিকাকেন্দ্র স্থাপন: সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের জন্য করোনার টিকার বিশেষ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, যাদের এনআইডি আছে প্রাথমিকভাবে তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। যাদের এনআইডি নেই তাদের জন্মনিবন্ধন কার্ডের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

টিকাকেন্দ্রের সমন্বয় করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক এ এ মামুন। তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে। টিকাকেন্দ্রে ৬টি বুথে স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বুথগুলো ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। কার্যক্রমের প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সাত হাজার টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান।

যত্রতত্র শিক্ষা অবকাঠামো

দেশের শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে বিধিবিধানের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। যত্রতত্র বিশৃঙ্খলভাবে ‘ক্যাম্পাস’ গড়ে উঠছে। শিক্ষা গ্রহণের ন্যূনতম সুস্থ পরিবেশ ছাড়াই দেদারসে গড়ে উঠছে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের অপেশাদার মনোভাবের কারণে ত্রুটিপূর্ণভাবে এসব শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হওয়া উচিত আনন্দের ও শিক্ষার প্রতি উৎসাহমুখী। সে অনুযায়ী তৈরি হবে ভবন ও ক্যাম্পাস। দেশে দক্ষ আমলা, স্থপতি ও প্রকৌশলী রয়েছে। তারপরও শিক্ষা অবকাঠামোতে শৃঙ্খলা নেই, নেই নান্দনিকতার ছোঁয়া। ইট-পাথরের গাঁথুনি মানেই অবকাঠামো নয়। শুধু জমির স্বল্পতার কথা বলে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ করে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির ন্যূনতম ৫০ ভাগ স্থান উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি মাঠ থাকার কথা বলা হয়েছে। মানসম্মত ‘ক্যাম্পাস’ এবং শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের ব্যাপারে সরকারের এ ধরনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। কোনোরকম পাঠদানের শ্রেণিকক্ষ দেখাতে পারলেই অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া বাসায়ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডসহ বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় উল্লিখিত বিধিসমূহ অনুসরণ করা হচ্ছে না। যেমন ভবনের ফ্লোর অ্যারিয়া ও উচ্চতা নির্ধারণের বেলায় ফ্লোর অ্যারিয়া অনুপাত (এফএআর) অনুসরণ করতে হবে। সম্মুখে সুপ্রশস্ত খোলা জায়গা ছাড়াও ইমারতের দুপাশে ও পেছনে ন্যূনতম ৩ মিটার সেটব্যাক (বাধ্যতামূলক খালি জায়গা) রাখার নিয়ম মানা হচ্ছে না। এছাড়া শহর এলাকায় ইমারতগুলোর মোট আয়তন বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে প্রতি ২০০ বর্গমিটারে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার নিয়ম রয়েছে। কলেজ চত্বরের মধ্যে রাস্তার সমান্তরালে বাধামুক্ত ৪ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত ও ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ‘ড্রপিং বে’ রাখার বিধান রয়েছে। পার্শ্ববর্তী আবাসিক জমির দিকে খোলা ও বারান্দা রাখা যাবে না এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ ও অগ্নিনির্বাপণে কাজ করার ন্যূনতম জায়গাসহ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এছাড়া বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের কোনো বরাদ্দ নীতিমালা নেই। জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে কোনো প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার রেওয়াজ নেই। উক্ত বরাদ্দের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রকৌশল প্রটোটাইপ (একই নকশায় সব ভবন) ভবন নির্মাণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানবিশেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের বিষয়ও মানা হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান যুগান্তরকে বলেন, আবাসিক এলাকার ব্যাপারে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি), ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় বলা আছে। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামো কেমন হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলা নেই। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ শুধু মাঠ থাকতে হবে সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। এর বাইরে তেমন কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিল্ডিং কোড কিংবা ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় যা বলা আছে তাও মানা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমাদের শহরে ৫০ থেকে ১০০ বছর আগে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সেগুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড বিবেচনা করা যেতে পারে। যেমন-ঢাকা কলেজ। সেখানে খেলার মাঠ, ছাত্রাবাস, উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে। সেটা সরকারি ও বেসরকারি উভয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মেনে চলতে বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে।

এ বিষয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষালয় তৈরি করতে হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য আলাদা অবকাঠামো চিন্তা করতে হবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা শিখবে। পরিবেশচর্চা, মানবিকতা ও তার বুনিয়াদ অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা অবকাঠামোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষা অবকাঠামোর রূপরেখা প্রণয়ন না করা, জাতীয় বিল্ডিং কোড না মানা অন্যায়। যারা দায়িত্বে থেকেও এ ব্যাপারে উদাসীন, এ দায় তাদের। এ ব্যাপারে পেশাজীবীদের সমন্বয়ে (পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, মনোবিজ্ঞানী, শরীরচর্চাবিদ) একটি কার্যকর রূপরেখা বা স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। আর বর্তমানে শিক্ষা অবকাঠামোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রকৌশলীদের অপেশাদারিত্বের উদাহরণ বলে শেষ করা যাবে না। জবাবদিহি না থাকায় তাদের মধ্যে নিয়ম না জানা ও না মানার প্রবণতা দুঃখজনক।

শিক্ষা অবকাঠামোর কিছু চিত্র : রাজধানীর ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে বেসরকারি আইডিয়াল কলেজ অবস্থিত। স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় সাড়ে তিন বিঘা আয়তনের এ কলেজটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রথমে এ প্রতিষ্ঠানে কলেজ পর্যায়ের পাঠদান চলত। কয়েক বছর ধরে সেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৮টি বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এ কারণে স্বল্প আয়তনের ওই ক্যাম্পাসে বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণা। নেই খেলার মাঠ এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য কোনো উন্মুক্ত স্থান। এ অবস্থায় সেখানে নতুন করে আরও দুটি (৮ তলা ও ৬ তলা) ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি ভবনের ভিতের কাজ শুরু হয়েছে এবং অন্যটির কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকেও কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রাজউকের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঘন আবাসিক এলাকা বেষ্টিত সেন্ট্রাল রোডের প্রশস্ততা ২০ থেকে ২৫ ফুট। ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে সেখানে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অফিসও গড়ে উঠেছে। এরপর নতুন করে আইডিয়াল কলেজের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগে ওই এলাকার আবাসিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। কলেজ কর্তৃপক্ষ স্নাতক পর্যায়ে আরও কিছু বিষয় বাড়ানোর চিন্তা করছেন। পাশাপাশি ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা হলে ওই এলাকা পুরোপুরি আবাসিক চিত্র হারাবে এবং নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা এলাকার মানুষের।

এ প্রসঙ্গে সেন্ট্রাল রোড আইডিয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষা অবকাঠামো আমরা নির্মাণ করছি না। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে নির্মাণ করে দিচ্ছে। এ ধরনের নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে কোন কোন আইন ও বিধিবিধান মানা দরকার, সেটা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানে। এ বিষয়ে আমাদের নিজস্ব কোনো মতামত বা পরামর্শ দিচ্ছি না। তবে আমরা যতটুকু জেনেছি সব ধরনের আইন মেনেই ভবন নির্মাণকাজ করছে সরকারি এ সংস্থা।

বছিলা ব্রিজসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ‘বছিলা আবাসিক’ এলাকা। জলাধার ও কৃষিজমি ভরাট করে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ওই এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছে। এলাকার মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ১৯৯৫ সালে সেখানে সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফিরোজ বাশার আইডিয়াল কলেজ। ১০ কাঠা জায়গার ওপর ৮ তলা ভবনে চলছে পাঠদান। নেই খেলার মাঠ, নেই ছাত্রাবাস, নেই কোনো উন্মুক্ত স্থান। এ প্রতিষ্ঠানের স্কুল সেকশনের একটি শাখা রয়েছে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে। দুই কাঠা জায়গার ওপর একটি ভাড়া বাসার অর্ধেক অংশে চলছে পাঠদান। সেখানে ৬০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আর বছিলা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১০০ জন।

রাজধানীর পান্থপথে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নিউ মডেল হাইস্কুল। এ স্কুলে শিশু থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০০ জন। রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনায় এ স্কুলের অবকাঠামো সুন্দর। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের এ স্কুলের ছোট্ট একটি খেলার মাঠও রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কয়েক বছর আগে এ স্কুলের ভবন এমনভাবে নির্মাণ করেছে যে, ভবনের নিচ দিয়ে স্কুলে প্রবেশ করতে হয়। অন্য একটি গেট এমন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে, যেটা ব্যবহার করতে পারছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যেও হতাশা কাজ করছে। কিন্তু শিক্ষা প্রকৌশলীদের অপেশাদার এ কার্যক্রম তারা মেনে নিয়েছেন। কেননা এখানে তাদের মতামতের কোনো মূল্য নেই।

এ প্রসঙ্গে নিউ মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আ স ম ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আমাদের এ স্কুল ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। আমরা সেভাবে ব্যবহার করছি। একটি গেট ভবনের নিচ দিয়ে করা হয়েছে। অন্যটি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে।

শিক্ষা অবকাঠামোর বিশৃঙ্খল চিত্র দেশজুড়ে। ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ৯/এ রোডে কোনো উন্মুক্ত জায়গা ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। মিরপুর রোডে ছোট্ট জায়গার ওপর চলছে নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এছাড়া ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের চিত্র অহরহ।

কর্তৃপক্ষের অভিমত : এ প্রসঙ্গে জানতে সোমবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. আরিফুর রহমানের দপ্তরে যান যুগান্তর প্রতিবেদক। সাক্ষাতে যুগান্তরকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে করতে হয়। অনুমোদনের সময় কতটুকু জায়গা থাকতে হবে সেটা বলে দেওয়া হয়।

শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার পরিষ্কার ধারণা নেই। আমি বিষয়গুলো ভালো করে জেনে দেখব সেখানে কী বলা হয়েছে। শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটা মানা না হলে সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা শিক্ষা অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষার প্রসারের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

বিশেষ দিনে সাবরিনা বশিরের নতুন গান

শ্রুতিমধুর গানে কণ্ঠ দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন সাবরিনা বশির। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০০৫ সাল থেকে তিনি অডিও গান গাওয়া শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তার গাওয়া প্রকাশিত গানের সংখ্যা ৭০টিরও বেশি।

আধুনিক, ফোক এবং রক ধাঁচের গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী চলতি মাসেই প্রকাশ করবেন তার নতুন গান। এবারের গানটির শিরোনাম ‘দিল্লিকা লাড্ডু’। এটির কথা লিখেছেন মেহেদী হাসান লিমন, সুর করেছেন আহমেদ হুমায়ুন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন সিমন আহমেদ। গানটি ৩০ অক্টোবর সাবরিনা বশীরের জন্মদিনে ইউটিউবে প্রকাশ হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবরিনা বশির বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই গান গাইছি। এক যুগের বেশি সময় ধরে আমার গান প্রকাশ হচ্ছে। প্রতিটি গানেই শ্রোতাদের জন্য বিশেষ কিছু থাকে। যার কারণে তারা আমার গান আগ্রহ নিয়ে শোনেন। আশা করছি এবারের গানটিও শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

প্রসঙ্গত দেশের জনপ্রিয় সংগীত তারকা আসিফ আকবর, তাহসান, প্রতীক হাসান, কাজী শুভদের সঙ্গেও এই শিল্পী যৌথ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এর আগে। এদিকে সম্প্রতি ইউটিউবে অবমুক্ত হয়েছে তার ‘জলে গিয়েছিলাম সই’ নামের ফোক গানচিত্র। শিগগিরই অবমুক্ত হবে আসিফ আকবরের সঙ্গে ‘মধুচোরা’ ও ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’ শিরোনামের গান দুটি।

আসছে সিসিমপুরের নতুন মৌসুম

আবারও টিভিতে প্রচার শুরু হচ্ছে শিশুদের প্রিয় অনুষ্ঠান সিসিমপুরের নতুন মৌসুম, সিজন-১৪। এখানে হালুম টুকটুকি, ইকরি ও শিকু হাজির হচ্ছে নতুন নতুন সব গল্প নিয়ে। নতুন এই সিজনের স্লোগান— তেরো পেরিয়ে চৌদ্দ এলো/এগিয়ে চলো, পেখম মেলো।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সিজন ১৪-এর আনকোরা পর্বগুলো শিশুরা দেখতে পাবে দুরন্ত টিভির পর্দায়। পরে যা দেখা যাবে বিটিভি ও মাছরাঙা টিভিতে। সমানুভূতিকে মূলভাব ধরে সিসিমপুরের ১৪তম মৌসুমটি সাজানো হয়েছে মজার সব গল্প দিয়ে।

প্রতিটি পর্ব শুরু হবে সিসিমপুরের প্রিয় বন্ধু হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকুদের নিয়ে। আর সঙ্গে থাকছে প্রতিবারের মতোই গুণী ময়রা, আশা, গ্রোভার, রায়া, খুশি আর বাহাদুর।

১৪ অক্টোবর ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিসিমপুর সিজন-১৪ উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলাম, ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন ডেভিস স্টিভেন্স, সিসেমি ওয়ার্কশপের প্রেসিডেন্ট শেরি ওয়েস্টিন, বিটিভির মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, মাছরাঙা টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক অজয় কুমার কুণ্ডু, দুরন্ত টেলিভিশনের পরিচালক অভিজিৎ চৌধুরী, এশিয়াটিকের ভাইস চেয়ারম্যান সারা যাকের, সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম। সঙ্গে থাকবে সিসিমপুরের বন্ধু খুশি, ইকরি, শিকু, টুকটুকি, হালুম, রায়া ও গ্রোভার।

ইউএসএআইডির আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত ‘সিসিমপুর’ ২০০৫ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিশু বিকাশ কার্যক্রমের আওতায় ‘সর্বত্র শিশুরা হয়ে উঠুক আরও সম্পন্ন, আরও সবল এবং আরও সদয়’ এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সিসিমপুর অনুষ্ঠানটি প্রচারে সহায়তা করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মরগানের অধিনায়কত্ব নিয়ে যা বললেন গম্ভীর

এবারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক ইয়ন মরগানের ব্যাট হাসছে না। বিশেষ করে আমিরাতপর্বে একটি ম্যাচেও দুই অংকের ঘরে পৌঁছুতে পারেননি তিনি।

অনেকে তার সমালোচনা করে বলেছেন, কেবল অধিনায়ক হওয়াতে কেকেআরের একদশে ঠাঁই হচ্ছে তার। অথচ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ম্যাচের পর ম্যাচ বসিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিজের পারফরম্যান্স বাজে হলেও অবশ্য মরগানের নেতৃত্বেই দল এবার প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে।

সোমবার রাতে ব্যাঙ্গালুরুকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে কলকাতা।

তবে মরগানের অধিনায়কত্ব একেবারেই পছন্দ নয় কেকেআরকে দুইবার শিরোপা এনে দেওয়া অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের।

প্লে-অফে যে চারটি দল উঠেছে, সেই দলগুলোর অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অধিনায়কত্ব কে করেছেন – সে প্রশ্নে মরগানকে শূন্য দিয়েছেন গম্ভীর।

আর রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে সবার উপরে রেখেছেন।

এ বিষয়ে মরগানের কড়া সমালোচনা করে ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে গম্ভীর বলেন, ‘মরগানের ব্যাপারে আমি আর কী বলব! সে তো অধিনায়কত্বই করছে না। নাইটদের নেতৃত্ব দেয় তাদের ভিডিও অ্যানালিস্ট! মরগ্ন সবসময় ভিডিও অ্যানালিস্টের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই আমি ঠিক বুঝতে পারি না, কলকাতার অধিনায়কত্বটা মাঠের ভেতরে হয়, না বাইরে থেকে হয়।’

এছাড়া বাকি তিন অধিনায়কের প্রশংসা করে গম্ভীর বলেন, ‘কোহলি তো অসাধারণ। সত্যি কথা বলতে কী, আমি কোহলির অধিনায়কত্ব খুব একটা পছন্দ করি না। অতীতে অনেকবারই আমার ওর অধিনায়কত্ব নিয়ে অভিযোগ ছিল এবং অনেকক্ষেত্রে তা আমার পছন্দও হয়নি। কিন্তু এবারের আইপিএলে দেখছি, সে দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছে। এটাই অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ আইপিএল বলেই হয়তো অনেক বেশি উপভোগ করছে। শুধু অধিনায়কত্বের বিচারে বলতে পারি, চাপ সামলাতে ধোনির জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া ঋষভ পন্থের দল ভালো অবস্থায় আছে। দলে সাবেক অধিনায়ক অশ্বিন ছাড়াও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকায় ঋষভের কাজ সহজ হয়ে গেছে।

সাকিবকে ‘দ্য ফিনিশার’ বলে প্রশংসা করল কলকাতা

শেষ ওভারে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দরকার ছিল ৭ রান। দায়িত্বটা এসে পড়ে সাকিব আল হাসানের কাঁধে। বোলার প্রান্তের ক্রিজে নাইট অধিপতি ইয়ন মরগান।

আর ডেনিয়েল ক্রিশ্চিয়ানের প্রথম বলেই দারুণ এক শটে চার হাঁকালেন সাকিব। কলকাতার জন্যও কাজটা সহজ করে দেন।

বাকি তিনটি রানের দুটি নেন সাকিব। স্ট্রাইক রোটেট করতে কেবল একরান নিয়েছেন মরগান।

৪র্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ম্যাচ জেতান বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। অর্থাৎ সাকিবের ব্যাট ছুঁয়ে এলো কলকাতার জয়।

বিরাট কোহলির রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আরও একবার পুড়ল আক্ষেপে। কলকাতার কাছে ৪ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়ে শেষ হলো কোহলির আইপিএল অধিনায়কত্বের অধ্যায়। কলকাতা চলে গেল আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। সেখানে অপেক্ষায় দিল্লি ক্যাপিটালস।

বেশি বল খেলার সুযোগ পাননি সাকিব। ৬ বলে খেলে অপরাজিত ৯ রান করেছেন। কিন্তু সাকিবের এই ৯ রানের ছোট্ট ইনিংসই মহামূল্যবান বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে।

কলকাতার জয় ছাপিয়েও আলোচনা সে কথা। আর বিষয়টি বেশ ভালোই জানা কলকাতা নাইট রাইডার্সের ফেসবুক পেজ এডমিনের।

সাকিবকে মি. ফিনিশার বলে প্রশংসা করেছে তারা।

ম্যাচ জয়ের পরই সাকিবের থাম্বসআপে হাস্যজ্জ্বল ছবি ও তার ব্যাট-বল, প্যাড এবং হেলমেটের ছবি আপলোড করেছে কেকেআরের ফেসবুক পেজ।

ক্যাপশনে লিখেছে, আমাদের ফিনিশার ও তার অস্ত্রগুলো।

 

 

পোস্টটি বেশ মনে ধরেছে সাকিব ফ্যানদের। পোস্টের পর এক ঘণ্টা পার হতে না হতেই প্রায় এক লাখ রিয়েক্ট জমা পড়েছে। যার বেশি অংশটাই লাভ রিয়েক্ট।

ছবি দুটির তলায় মন্তব্য জমা পড়েছে প্রায় ৮ হাজার। প্রায় সব মন্তব্যই সাকিবের ভূয়সী প্রশংসায় করা।

অনেকেই একমত যে, মি. অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে ম্যাচ জিতেছে কলকাতা।