সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 659

উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে রওশন এরশাদ

উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গেলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ব্যাংককে নেওয়া হয়।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ছিলেন ছেলে ও দলের সংসদ সদস্য রাহ্গীর আলমাহি সাদ এরশাদ এবং পুত্রবধূ মাহিমা এরশাদ।

এর আগে রাহ্গীর আলমাহি সাদ এরশাদ বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে নানা রকম জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন রওশন এরশাদ। গত ১৪ আগস্ট চেকআপ করার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা তাকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। দুদিন পর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুদিন থাকার পর স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর আবার অবনতি হলে ফের তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

সাদ এরশাদ মায়ের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ফুসফুসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন ৭৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ। সাবেক ফার্স্টলেডি রওশন এরশাদ টানা পঞ্চমবারের মতো জাতীয় সংসদে রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন, ২০০১ সালে গাইবান্ধা-৫, ২০০৮ সালে রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে উপ-নির্বাচনে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিগত দশম জাতীয় সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। চলতি সংসদের শুরুতে বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচিত হন। এরশাদের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার পদ শূন্য হলে রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত হন।

বিএনপির পুনর্গঠনে হতাশ তৃণমূল

পুনর্গঠন নিয়ে হতাশ বিএনপির তৃণমূলের নেতারা। বেশ কয়েকটি জেলায় ও এর অধীনে থাকা ইউনিটে তাদের মতামত না নিয়ে কমিটি গঠন করায় বাড়ছে দ্বন্দ্ব-কোন্দল। এসব কমিটিতে মৃত, প্রবাসী ও আওয়ামী লীগ কর্মীরাও স্থান পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিপরীতে অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা বাদ পড়েছেন। তারা রাগ-ক্ষোভ-অভিমানে দলের কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখছেন, কেউ কেউ পদত্যাগেরও চিন্তা করছেন।

বিএনপির তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসাবে ৩০ ডিসেম্বরের আগে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলা ও এর অধীনে থাকা পৌর, উপজেলা, থানাসহ সব পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ শুরুও করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

গত দুই মাসে বেশ কয়েকটি জেলা ও ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অধিকাংশ কমিটি গঠনে নানা অভিযোগ কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা পড়েছে। এতে যোগ্যদের বাদ দেওয়া, মৃত, প্রবাসী ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের কমিটিতে রাখাসহ নানা অনিয়মের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। তারা বলেছেন, দলের নেতাকর্মীরা আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বলছেন, কিন্তু যাদের দিয়ে দল পুনর্গঠন করা হচ্ছে তাদের দিয়ে আন্দোলন সফল করা যাবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। জেলা কমিটি গঠনে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে। অভিযোগ পেলে দল ব্যবস্থা নেবে। কিছু কমিটি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ইতোমধ্যে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নবগঠিত উপজেলা ও পৌর এবং গোপালপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে মৃত ব্যক্তিদের পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব কমিটি গঠনে দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

বুধবার কমিটি বাতিলের দাবিতে স্থানীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা নয়ন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন বাগাতিপাড়া পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও হাফিজুর রহমানকে সদস্য সচিব করে যে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে মৃত ব্যক্তি আজিজুল হককে ২৫ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জামাল হোসেনকে আহ্বায়ক ও মাইনুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে গঠিত পৌর কমিটিতে ৩১ নম্বর ক্রমিকে থাকা আহাদ আলী মৃত।

আজিজুল হকের ছোট ভাই হাফিজুর রহমান জানান, তার ভাই ১২ ফ্রেরুয়ারি মারা গেছেন। অন্যদিকে আহাদ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান জানান, তার বাবা ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর মারা গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা আরও জানান, উপজেলা আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেনের ভাই জামাল হোসেনকে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অথচ তিনি দলে নিষ্ক্রিয়। সদস্য সচিব করা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গু মাইনুল ইসলামকে। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে দুই কমিটিতে মা-ছেলেকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। যার মধ্যে মা হোসনে আরা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আর তার ছেলে হাবিবুর রহমান হয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীনুর আলম যুগান্তরকে বলেন, নবগঠিত গোপালপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতেও মৃত ব্যক্তিকে পদ দেওয়া হয়েছে। পৌর তাঁতী দলের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার ১৫ মাস আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাকে কমিটিতে ১৮ নম্বর সদস্য করেছে। এ ছাড়া পৌর কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে জিল্লুর রহমানকে, যিনি এর আগে দলের কোনো পদে ছিলেন না। তিনি বছরের বেশিরভাগ সময় ব্যবসার কাজে সৌদি আরব থাকেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিব উন নবী সোহেল যুগান্তরকে বলেন, পক্ষ-বিপক্ষ থাকলে নানা অভিযোগ আসে। চারটি কমিটির মধ্যে একজনের বিষয়ে শুনেছি তিনি মৃত; তিনজন নয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হয়েছে। করোনার মধ্যে একজন মারা যেতে পারেন।

রাজবাড়ী জেলার কমিটি নিয়েও অভিযোগে উঠেছে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুলতান নুর ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা গোয়ালন্দ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা, কর্মিসভা বা বর্ধিত সভা না করে জেলা আহ্বায়ক কমিটি ১৮ অক্টোবর রাতের অন্ধকারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছে। সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিন উদযাপন করেছেন। ৮ নম্বর সদস্য আবদুল খালেক ব্যাপারী আওয়ামী লীগে যোগদান করে শ্রমিক লীগের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। ২৭ নম্বর সদস্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, নড়াইল, নোয়াখালীসহ বেশ কয়েকটি জেলার অধীনে থাকা উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইতোমধ্যেই পালটাপালটি কমিটি গঠনসহ নবগঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

বিএনপি সূত্র জানায়, ফরিদপুর জেলা কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই কেন্দ্রীয় নেতার গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা শাখায় দীর্ঘদিন কোনো কমিটি নেই। সম্প্রতি কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। তিনি স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বেশ কয়েকটি সভা করেছেন। মাদারীপুর জেলার কমিটিও দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এ জেলায়ও নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলা কমিটি শিগগিরই দেওয়া হবে। এ ছাড়া শরীয়তপুর জেলা কমিটি গঠনেও কাজ চলছে। রাজবাড়ী জেলার কয়েকটি ইউনিটের কমিটি গঠনে নানা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব সত্য নয়। রাজবাড়ী জেলার ইউনিটগুলোর কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে।

সম্প্রতি বরিশাল মহানগর, বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারকে রাখা হয়নি কমিটিতে। এমনকি তার অনুসারীদেরও কাউকে পদ দেওয়া হয়নি। যে কারণে একটি বড় অংশ নাখোশ।

আবার একই দিনে টাঙ্গাইল জেলা কমিটি দেওয়া হয়। সেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতা এক পদ’ মানা হয়নি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খানকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আবার স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর (কারাগারে) পরিবারের কাউকে জেলা কমিটিতে পদ দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়াও জেলা কমিটির সাবেক দুবারের কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলামকেও কমিটিতে রাখা হয়নি। মাইনুল স্থানীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয় নেতা হিসাবে পরিচিত। আন্দোলন-সংগ্রামসহ নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার সাইদুল হক সাদু বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, আহ্বায়ক কমিটির ৮-১০ জন ছাড়া সবাই গত ছয় বছরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। কমিটির বেশিরভাগ সদস্য সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। যেসব নেতাকর্মী ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্য নয়, তাদের আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে।

সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বাসসের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শুক্রবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বাড়তি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

পরিবহণ ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও অচল সারা দেশ, ভোগান্তি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আজ শনিবারও সারা দেশে বেসরকারি বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ।

রাজধানীর প্রতিটি বাস স্টপেজে দেখা গেছে গাড়ির জন্য অপেক্ষমায় থাকা যাত্রীদের ভিড়। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার গাবতলী, মিরপুর ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

রাজধানীর খিলগাঁও বাসস্টপেজে পরিবার নিয়ে মিরপুর ২ যাবেন বলে গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন সালাহউদ্দিন নামের এক যাত্রী। তিনি জানান, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে কোনো গাড়ির দেখা পাচ্ছি না। ধর্মঘট অমান্য করে যে কয়েকটি গাড়ি চলছে তাতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে।

কল্যাণপুর থেকে বসুন্ধরা যাবেন রাবেয়া, তিনি বলেন, কল্যাণপুর থেকে বসুন্ধরা পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা। এখন বাধ্য হয়ে আমাকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যেতে হবে।

কুষ্টিয়া যেতে গাবতলীতে মিনিট্রাকে উঠে পড়েন চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকা আসা রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, গাবতলী থেকে পাটুরিয়া বাসে আরাম করে গেলেও ভাড়া দিতে হয় ১০০ টাকা। এখন মিনিট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছি ৪০০ টাকা ভাড়ায়।

এমন অনেক যাত্রী দেখা গেছে রাজধানীর বাসস্টপেজগুলোতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে যাত্রী সংখ্যাও। রাজধানীর সড়কগুলোর অধিকাংশই ছিলো রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার দখলে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আগামীকাল রোববার বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ওই বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিবহণ খাতের এ অচলাবস্থার নিরসন হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকারের তরফ থেকে শুক্রবার পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিল্প-কারখানাগুলোতে উপকরণ সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে লঞ্চ, ট্রেন ও রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস চলাচল করেছে; যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তারপরও বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা।

তিনি বলেন, ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার শেষ বেলায় আমাদের একটি চিঠি দিয়েছেন মালিক নেতারা। আমরা সেটি গুরুত্ব দিয়ে রোববার ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছি। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও তারা ধর্মঘট পালন করে দ্বৈতনীতি অনুসরণ করতে পারেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সমাধানে বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবারই এর সমাধান করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তারা দীর্ঘসূত্রতা করেছে। এ কারণে ভোগান্তি হচ্ছে। এর দায় মালিকদের নয়। তবুও অনিচ্ছাকৃত এ ভোগান্তির জন্য আমরা দুঃখিত।

তিনি বলেন, সরকার হঠাৎ করেই প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাড়তি দামে তেলে গাড়ি চালালে প্রতি প্রতি ট্রিপে লোকসান গুনতে হবে। তাই সারা দেশে সব বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া কীভাবে তাদের গাড়ি চালাতে বলব।

তবে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে বিআরটিসির বাস ও ট্রাক চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশে বিআরটিসি এক হাজার ১০০ বা ও ৫০০ ট্রাক চলাচল করেছে। বর্তমান ভাড়ায় এসব বাস যাত্রী বহন করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যখন বাসের ভাড়া বাড়াবে, তখন বিআরটিসির বাসের ভাড়া বাড়বে। সরকার ভাড়া না বাড়ালে বর্তমান ভাড়ায় যাত্রী বহন করা হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবারও সকাল থেকে সারা দেশে বেসরকারি বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত মানুষ দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসেছেন। লাগেজ-ব্যাগ হাতে নিয়ে টার্মিনালে আসার পর জানলেন বাস চলাচল বন্ধ। সারি সারি করে পার্কিং করা হয়েছে সব বাস ও বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টারও। অলস সময় কাটাচ্ছেন কাউন্টারের কর্মীরা; কোনো হাঁকডাক নেই।

দুবাইয়ে ৭ বছরের সেই মেয়েটির স্বপ্নপূরণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক্সপো ২০২০-এ একটি মেয়ে আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক‌ শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের সঙ্গে দেখা করার পর মেয়েটির স্বপ্ন সত্যি হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতে দেখিয়েছিল যে, সে দুবাইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শাসকের সঙ্গে দেখা করতে চায়।

এক্সপো ২০২০-এ দুবাইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের সঙ্গে ছবি তুলতে এক শিশু তার ইচ্ছা পোষণ করে।

অনলাইনে তার কান্নার ভিডিও দেখে শেখ মোহাম্মদ ৭ বছর বয়সী মেয়েটিকে আল ওয়াসল প্লাজায় আমন্ত্রণ জানান।

এক মনোমুগ্ধকর মুহূর্তে শেখ মোহাম্মদ শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে একটি ছবির জন্য পোজ দেন। তিনি তাকে একটি সোনার এক্সপো পিন ব্যাজ উপহার দেন।

তার পরিবারের পোস্ট করা একটি ভিডিও দেখার পর এ বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ক্লিপটিতে মেয়েটি কাঁদছে, কারণ সে শেখ মোহাম্মদকে এক্সপো ২০২০ দুবাইতে দেখেনি।

ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল প্রধান খলিফা সাইদ সুলাইমান ছবিগুলো ইন্টারনেটে শেয়ার করেছেন; যা মূহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

স্বামীর প্রেমিকাকে যেভাবে মোকাবেলা করবেন

আপনার স্বামী আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বা পরকীয়ায় জড়িয়েছে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনাকে কয়েকটি বিষয়ে ভাবতে হবে। স্বামীর থেকে প্রতারিত হয়ে তার প্রেমিকার সাথে মুখোমুখি হতে চান? তার প্রেমিকার সাথে কথা বলতে মাথায় রাখুন যে বিষয়গুলো—
১. প্রথমত আপনি কি সত্যিই তার মুখোমুখি হতে চাচ্ছেন? আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে তাকে না চিনেন তবে এক বিষয় আর চিনলে ভিন্ন ব্যাপার। ধরে নিন আপনার স্বামী আপনার সাথে যার জন্য বিশ্বাসঘাতকতা করছে সে ইনি নন। মনে করুন তার সাথে কথা বললে আপনার ভালো হবে।
২.বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিন। আপনি কি তাকে ফোনে কথা বললে, মেইলে, চিঠি লিখে নাকি সরাসরি দেখা করতে চান? আপনার জন্য ভালো উপায়টিই বেছে নিন।
৩. তার সাথে কথা বলার সময় ধিরস্থির থাকুন। এটি খুব কঠিন তবে তা করার জন্য প্রয়োজনে কয়েক দিন বাসায় শান্ত মেজাজে থাকুন। আপনি যদি চিঠি বা মেইলে জানাতে চান তবে বারবার বিষয়টি লিখুন যে পর্যন্ত না আপনার মনমতো হয়।
৪. কথা বলতে চাইলে নিরপেক্ষভাবে বলুন। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ভাবুন তৃতীয় কোন পক্ষের সাথে আপনি কথা বলছেন।
৫. চিঠিতে লিখে বা কথা বলার সময় নিজের দিকে খেয়াল রাখুন। তাকে দোষ দেয়ার চেয়ে নিজের কথাগুলো বলুন। এমন কোন প্রশ্ন করবেন না যার উত্তর আপনার জানা আছে।
৬. সে যদি আপনাকে সহযোগিতা না করে বা তার কথা আপনার পছন্দ না হলেও আপসেট হবেন না। সে তার খুশিমত যা ইচ্ছা তা করতে পারে এ ব্যাপারে; আপনি কিন্তু এসব করতে পারেন না। তবে আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আপনার নিয়ন্ত্রণ যেন তার কাছে না যায় অর্থাৎ তার কথা বা কাজ যেন আপনাকে প্রভাবিত না করে।
৭. আপনার সব চেষ্টা ভেস্তে গেলে আপনি ভুল করেছেন। না আপনি কাউকে কিছু করাতে জোর করতে পারেন না। সে যদি আপনার সাথে কথা বলতে না চায় এ ব্যাপারে আপনার কিছুই করার নেই। Do not resort to stalking.

টিপস এবং সতর্কীকরণ
১. আপনার স্বামীর প্রেমিকা আপনার পরিচিত, অপরিচিত, আপনার বন্ধুদের মধ্যে কেউ যেই হোন না কেন তার সাথে কথা বলা অবশ্যই প্রযোজন। নিরপেক্ষভাবে তৃতীয় পক্ষের সাথে কথা বলার মত তার সাথে কথা বলুন।
২.গালাগালি, চিৎকার চেচামেচি ইত্যাদি করবেন না। এটি আপনাকে সাময়িক স্বস্তি দিবে কিন্তু এতে সত্যিই কোন লাভ হয় না।

ধুলাবালি থেকে হাঁপানি, কী করবেন

শীতকালে নানা রোগব্যাধি বাসা বাধে শরীরে। আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় ত্বকের সমস্যাও দেখা দেয়। এ সময় বাতাসে অনেক ধুলাবালি দেখা যায়। এ কারণে হাঁপানিসহ জটিল রোগও বেড়ে যায়।

শীতকালে সাধারণত শর্দি-কাশি দেখা দেয়। যাদের অ্যাজমা রোগের হিস্ট্রি আছে তাদেরও এই সময়ে এই রোগ দেখা যায়। এর কারণও ধুলাবালি। তবে শুধু রাস্তার ধুলাবালি থেকে শর্দি-কাশি অ্যাজমা দেখা দেয় না। ঘরে দীর্ঘদিন জমে থাকা পুরোনো ধুলবালি এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে।

শীতকালে হাঁপানি বেড়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস।

সাধারণত রাস্তার যে ধুলা পাওয়া যায় তা অজৈব পদার্থ- তাতে হাঁচি, কাশি বা হাঁপানির কষ্ট ততটা হয় না। কিন্তু ঘরের মধ্যে অনেকদিন ধরে জমে থাকা ধুলা অ্যালার্জিক অ্যাজমার অন্যতম কারণ। কারণ তাতে মাইট নামক আর্থোপড জাতীয় জীব থাকে।

মাইট বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ হল আর্দ্রতাপূর্ণ আবহাওয়া (৭৫% আর্দ্রতা)। বিছানা, বালিশ, কার্পেট হল মাইটের আদর্শ বাসস্থান। আমরা সাধারণত দিনের এক তৃতীয়াংশ সময় বিছানায় কাটিয়ে থাকি। সেখানে আমাদের শরীরের ৫০০ মিলিলিটারের বেশি পানি ঘামের মাধ্যমে বাষ্প হয়ে নির্গত হয়। এ আর্দ্রতা ও গরম আবহাওয়ায় মাইট তাদের জীবন চক্র সম্পূর্ণ করে। তাই ধুলার মধ্যে মিশে থাকা মাইটের শরীর নিঃসৃত রস লালা ও মল সবই একসঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং অ্যালার্জির প্রকাশ ঘটায় যা শেষে অ্যাজমার রূপান্তরিত হয়। রাতে বিছানায় শোবার সময় আমরা মাইটের সংস্পর্শে আসি এবং তাই রাতে হাঁপানির কষ্ট বেড়ে যাওয়ার এটা অন্যতম কারণ হতে পরে।

মাইটের মল একটি প্রধান অ্যান্টিজেন, যার ব্যাস ১০-১৪ মিমি। এর আয়তন বড় হওয়ার জন্য সবসময় বাতাসে ওড়ে না কিন্তু বিছানা ঝাড়া বা ঘর পরিষ্কার করার সময় বাতাসে ওড়ে এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে।

আমাদের মতো গ্রীষ্ম প্রধান দেশে ধুলা আক্রান্ত অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বেশি। ঋতু পরিবর্তনের ওপর অ্যাজমার প্রকোপ বাড়া-কমা নির্ভর করে।

প্রতিকার : ধুলা যেহেতু বাতাসের মধ্যে মিশে থাকে তাই নিঃশ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীরে সব সময় প্রবেশ করছে। তাই আমাদের কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন বাসা থেকে কার্পেট সরিয়ে তুলতে হবে। ঘামে ভেজা তোষক ও বালিশের ধুলায় মাইট বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ, তাই সম্ভব হলে চেন টানা ধুলা প্রতিরোধক ঢাকনা ব্যবহার করা দরকার। সম্ভব হলে তোষকের পরিবর্তে মাদুর পেতে শোয়া যেতে পারে। অ্যাজমা রোগীদের ঘর নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা দরকার তবে রোগী যেন বিছানা ঝাড়া বা ঘর পরিষ্কার না করে। যদি একান্তই করতে হয় তবে মুখে ফিল্টার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এক সপ্তাহ অন্তর বিছানা গরম পানিতে পরিষ্কার করলে তা ধুলার অ্যালারজেনকে ধুয়ে ফেলবে ও মাইট মেরে ফেলতেও সাহায্য করবে।

ওষুধ : ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ হল ইনহেলার স্টেরয়েড। ইনহেলার স্টেরয়েড ব্যবহারে রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ এক নাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। যতদিন ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভালো থাকে এবং ওষুধ বন্ধ করলেই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।

অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এর মূল উদ্দেশ্য হল যে অ্যালার্জি (মাইট) দিয়ে অ্যাজমার সমস্যা হচ্ছে সেই অ্যালারজেন স্বল্প মাত্রায় শরীরে প্রয়োগ করা হয়। ক্রমান্বয়ে সহনীয় বেশি মাত্রায় দেয়া হয় যাতে শরীরে অ্যালার্জির কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়। কিন্তু শরীরের ইমিউন সিস্টেমের পরিবর্তন ঘটায় বা শরীরে অ্যালার্জির রিুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে অর্থাৎ আইজিই-কে আইজিজিতে পরিণত করে, যাতে দীর্ঘ মেয়াদি অ্যালার্জি ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই এ ধরনের অ্যালার্জিক অ্যাজমার ক্ষেত্রে ইমুনোথেরাপি বা ভ্যাকসিন কার্যকর।

আগে ধারণা ছিল অ্যাজমার কোনো চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। তাই গরিব রোগীরা তাবিচ-কবজের দিকে ঝুঁকে পড়েন আর সচ্ছল রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ও সময় দুটিই অপচয় করছেন।

৪ ভিন্ন পদে জনবল নেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়

শূন্যপদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। রাজস্ব খাতভুক্ত চার পদে সাতজনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ১ জন
যোগ্যতা: যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ১ জন
যোগ্যতা: যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
যোগ্যতা: যে কোনো বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস। কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ৪ জন
যোগ্যতা: যে কোনো বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পাস।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বরে যাদের বয়স ১৮ বছর হবে, তারাও আবেদন করতে পারবেন। প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর। ২ ও ৩নং পদে বয়সসীমা ৪০ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://mofood.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: আগ্রহীরা ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদনপত্র পাঠাতে পারবেন।

কুবির প্রথম প্রো-ভিসি ঢাবি অধ্যাপক ড. হুমায়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে বিষয়টি জানা যায়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের দিন থেকে ৪ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপ-উপাচার্য।

বেসরকারি স্কুলে ভর্তি সরকারি তত্ত্বাবধানে

স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তিতে মৌলিক পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে বেসরকারি হাইস্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। ২০০ টাকার পরিবর্তে আবেদন ফি নেওয়া হবে ২২ টাকা।

এমন বেশকিছু বিষয় নতুনভাবে যুক্ত করে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার নাগাদ এটি প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি হাইস্কুলেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এতদিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। কোথাও লটারি হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে পরীক্ষা। কিন্তু এর ফল উলটে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভর্তিসংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। রোববার নাগাদ তা প্রকাশ করার কথা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার একই ওয়েবসাইটে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এতে সরকারি এবং বেসরকারির জন্য আলাদা দুটি উইনডো থাকবে। ভর্তির আবেদন ফিও কমানো হয়েছে। বর্তমানে একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন ফি দিতে হয় ২০০ টাকা। সেই হিসাবে ৫টিতে আবেদন করলে ১ হাজার টাকা লাগে। কিন্তু এবার ৫টির জন্য ফি ধার্য করা হয়েছে ১১০ টাকা। সরকারি হাইস্কুলেও একই পরিমাণ ফিতে ৫টিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদনের জন্য প্রতিটিতে ১৭০ টাকা ফি দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন নেওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের লটারি হবে।

মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি কিছু হাইস্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির ভর্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে ভয়াবহ অভিযোগ আছে। তা দূর করার পাশাপাশি অভিভাবকদের দুর্দশা লাঘব এবং স্বল্প খরচে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এবারের ভর্তি কার্যক্রম অনেক স্বচ্ছ ও স্বতঃস্ফূর্ত হবে। বিশেষ করে জীবনের শুরুতে কোনো শিক্ষার্থী যাতে অনিয়মের শিকার না হয় সেটি নিশ্চিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের স্কুল পর্যন্ত এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের সভাপত্বিতে বুধবার ২০২২ সালের স্কুল ভর্তির নীতিমালা চূড়ান্তের বৈঠক হয়। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে সারা দিন কাজ চলে। ওই কমিটির এক সদস্য জানান, সম্প্রতি এক তদন্তে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজে ভর্তি পরীক্ষার খাতা ঘষামাজা করার মতো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজে ভর্তির ইস্যুতে কিছু দুর্নীতিবাজ অভিভাবক নেতা অধ্যক্ষের সঙ্গে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। রাজধানী এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। এসব কারণে উল্লিখিত নতুন পদ্ধতির ভর্তি কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

এবারের নীতিমালার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, কোনো শ্রেণির ভর্তিতেই পরীক্ষা থাকছে না। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। অনলাইনে আবেদন নেয়ার পর ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। টেলিটকের মাধ্যমে লটারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ব্যাপারে রোববার নীতিমালা অনুযায়ী একটি ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। ওইদিন কমিটির সভা করার কথা আছে। গত বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ লটারি নিয়েও অভিযোগ আছে। কেননা, স্কুলগুলো লটারি করেছিল। স্কুলগুলো বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্য হয়ে থাকে, সেখানে এবার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালায় কোটায় ভর্তিতে একটি বিধান এবার যুক্ত করা হচ্ছে। সেটি হলো- সরকারি চাকরিজীবী কেউ মৃত্যুবরণ বা অবসরে গেলে তার পরিবার অন্যত্র স্থানান্তর হলে সেখানে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। এ সুবিধা মাত্র একবারের জন্য দেওয়া হবে। বর্তমানে এ ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির পর তার নতুন কর্মস্থলের কাছাকাছি সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান।

এছাড়া ভর্তি নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান বা জেলায় আবেদন করার প্রবণতা আছে। এমন ক্ষেত্রে ভর্তির আগে বা পরে পছন্দের বিদ্যালয়ে নিজ ও নির্বাচিত জেলার স্কুলে আলোচনা করে তারা ভর্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারবে।