শনিবার ,২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 648

যুবলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আওয়ামী যুবলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের এই দিনে যাত্রা শুরু হয় যুবলীগের। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সংগঠনটি আজ পা রেখেছে ৫০ বছরে।

ফজলুল হক মনি ছিলেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে দেশের যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুবলীগ সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

তবে গত কয়েক বছরে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য, অনুপ্রবেশসহ নানা কারণে ভাবমূর্তির সংকট দেখা দিয়েছিল।

সেখান থেকে কলঙ্ক ঘুচিয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে আসে নতুন নেতৃত্ব। গত প্রায় দুই বছরে নতুনদের নেতৃত্বে কলঙ্ক ঘুচিয়ে শুদ্ধ পথে যাত্রা করেছে এই সংগঠন।

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সকাল সাড়ে ৯টায় বনানী কবরস্থানে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনিসহ ১৫ই আগস্ট নিহত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেলা ১১টায় শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন আমু।

প্রতিষ্ঠাবাষিকীতে যুবলীগের অগনিত নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ফ্রান্স বাংলাদেশের পাশে থাকবে: ম্যাক্রোঁ

দীর্ঘদিন ধরে বয়ে চলা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে জোরালোভাবে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ফ্রান্স। স্থানীয় সময় বুধবার প্যারিস সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্যারিস সফরে আছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে সে দেশে সরকারি সফরে আছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।

দুই নেতার বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারিসের হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন। বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ যে দাবি করে আসছে তাতে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, আমরা সিরিয়াসলি আপনাদের সঙ্গে থাকব এবং রোহিঙ্গা সঙ্কটের যেন সমাধান হয়, সেজন্য আমরা জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য হিসেবে সেখানে ভূমিকা রাখব।
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাবের ‘পরিবর্তন’ আসার কথা শেখ হাসিনা-ম্যাক্রোঁর বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বললাম যে ইদানিং একটা পরিবর্তন এসেছে। আসিয়ান বলেছে তোমরা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান কর। আমরা (ফ্রান্সকে) বললাম আপনারা এটা নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে আসেন।… তারা বলেছে এইটা তারা দেখভাল করবে।”

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের জরুরি চিকিৎসা খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সেটি আজও বাস্তবায়ন করেনি। এমতাবস্থায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলে আসছে বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের যে সুবিধা সরকার করে দিয়েছে, তার সুযোগ নিতে ফরাসি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ এখনও তার বৈশ্বিক বিনিয়োগের তুলনায় কম।

আমি ফরাসি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগগুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
ফ্রান্সে এমইডিইএফ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বুধবার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সেতু হিসাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক সংযোগ কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।’

e – দুনিয়ার ভালো-মন্দ

দুনিয়াজুড়ে প্রযুক্তির আবিষ্কার ও বিস্ময়ের পাশাপাশি ভুল ও অপরাধ মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। সেসব দিক বিবেচনা করে ই-দুনিয়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে লিখেছেন-রিয়াজ রিপন

ইতিবাচক দিক

পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজের মানুষের মান-মর্যাদা, জানা-অজানা ও আবিষ্কারে ই-দুনিয়ার বিকল্প নেই। সেদিক বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ইতিবাচক দিক হলো-

শিক্ষার প্রসার ও গভীরতা

শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। গুরুর হাতের বেত আর নির্বোধের মতো বুঝে না বুঝে সেই পুরোনো দিনের পড়ার ধরন এখন বদলেছে। পরিবর্তন এসেছে শেখার ধরনে। গুগল, ইউটিউবসহ অনেক সার্চ ইঞ্জিন এখন যে কোনো পড়া বা পড়ার বিস্তারিত আলোচনায় পৌঁছে দিচ্ছে মুহূর্তে।

ব্যবসা ও জীবনযাত্রা

গ্রীষ্মের দুপুরে স্যুট-টাই কিংবা শাড়ি পরে একজন নারী প্রকৌশলীর মাঠ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপের পোশাকের বাধ্যকতায় মানুষ শিখছে সময় ও পরিবেশনির্ভর পোশাকের ব্যবহার। ঘরের নান্দনিকতায় থাকছে বৈচিত্র্য। এগুলো অনেকটাই প্রযুক্তির মধ্য থেকে বেছে নেওয়া রুচি। আবার স্টল ভাড়া না নিয়ে কর্মচারী না রেখে ঘরে বসেই করা যাচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকে ব্যবসা থেকে শুরু করে নিজ পছন্দের জীবনযাত্রার মান ও কৌশল শেখা যাচ্ছে অনায়াসে।

বিজ্ঞানের বিস্ময়

মনটা শুধু বাড়ির পাশের শিশির বিন্দু পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রহ থেকে উপগ্রহে ঘুরে আসছে মাত্র কয়েক মিনিটেই। পৃথিবীর বাইরে কল্পনা শক্তি কী দেখবে বা কী ভাববে সেটা আর ভাবনা পর্যায় নয়, বরং বাস্তবতা চিত্র তুলে আনছে ঘরে থেকেই। অনেক আবিষ্কার যা হয়তো চিন্তার বাইরে ছিল, আজ তা মুহূর্তের মধ্যে ১০ থেকে ১৪ ইঞ্চি স্ক্রিনে আবদ্ধ ইন্টারনেটের ফলেই।

হাতের মুঠোয় পৃথিবী

কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি, কীভাবে যাচ্ছি, কী প্রয়োজন সব এখন হাতের মুঠোফোনে দেখে নিতে পারছি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। কোথায় জ্যাম, কোন পথ বন্ধ, কোথায় রাস্তা নেই এমন সব দেখা মিলছে গুগল লোকেশনে। এমনকি নানা প্রশ্নের সঠিক কিংবা ধারণমূলক উত্তর মিলছে গুগলে। তাই বিশ্ব, এখন কাছে।

স্বতঃস্ফূর্ত কাজে প্রযুক্তি

টালি খাতায় দাগ টেনে টেনে সারা দিন বসে যোগ আর বিয়োগে দিন পার করতে হচ্ছে না। হিসাব রাখতে একটি ডায়েরি বা নোটবুকও প্রয়োজন হচ্ছে না। এমনকি হাতে টাইপ পর্যন্ত করতে হচ্ছে না, শুধু মুখে বলার থেকেই লেখা বের হয়ে আসছে।

নেতিবাচক দিক

অনেক ভালো ভালো দিক থাকার পরও সম্প্রতি নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা মিলছে প্রযুক্তির অধিক ব্যবহারে। তেমন উল্লেখযোগ্য পাঁচটি বিষয় হলো

সময় ও কাজের অপচয়

ইন্টারনেটের প্রতি আমরা এতটাই নির্ভর হচ্ছি, আমরা খেয়ালই করছি না কখন সূর্য ডুবে সন্ধ্যা গড়িয়ে পড়েছে বা শিক্ষার্থীর নেই পাঠে মনোনিবেশ অথবা জরুরি কাজ রেখে অনলাইন বিনোদনে ব্যস্ত হচ্ছি। সময় কখন যে ফুরিয়ে যাচ্ছে তা হয়তো ভেবেই দেখছি না। এগুলো আমাদের পিছিয়ে রাখছে প্রতিযোগিতার জীবন ছকে।

সম্পর্কের দূরত্ব

একটা সময় ছিল বাড়িতে মামাতো-চাচাতো ভাইবোন বেড়াতে এলে খুশিতে দিশেহারা হয়ে যেতাম। এখনো হচ্ছি; কিন্তু সেই পুরোনো দিনের মতো কোথাও বসে গল্প করা, খেলতে যাওয়া, মাছধরা আর এখন নেই। যে যার মুঠোফোনটি হাতে নিয়ে অদ্ভুত প্রাণীর মতো একা একা হাসছি। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে পাশের মানুষটির দিকে পর্যন্তও তাকাচ্ছি না। পারিবারিক মধুর সম্পর্ক বা সন্তানদের নিয়ে একটু আমোদে বসা পর্যন্ত ভুলে যাচ্ছি।

নেটাসক্তি

কোনো নেশা না করেও যে আসক্ত হওয়া যায় তার প্রমাণ ইন্টারনেট। নাওয়া খাওয়া ঘুম কিছুই ঠিকমতো থাকছে না। জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে পরিচিতি পাচ্ছি নেটিজেন হিসাবে। পরিবারের খেয়াল না রেখে অন্যকে জ্বালাতন করছি অনলাইনে। বিয়ে-বিচ্ছেদ সবই চলছে অনলাইনে। এমন নেটনির্ভর থাকার মূল কারণ হলো দিন দিন আমরা নেটের প্রতি আসক্তি হচ্ছি। সুতরাং এ থেকে দূরে থাকা উচিত।

পরিবেশের পরিবর্তন

পৃথিবীর হাজার কোটি মানুষের এখন নেট ব্যবহার নিত্যদিনের ঘটনা। ফলে আবহাওয়া ও পরিবেশের ওপর চাপ পড়ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে মাত্রাতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে।

ভুল পথে বা অপরাধে পা দেওয়া

ইদানীং আমরা অনেকেই ই-ব্যবসার প্রতারণার শামিল হচ্ছি। অধিক পাওয়ার লোভে নিজের জমানো অর্থ ঢেলে দিচ্ছি। কখনো কখনো বুঝে কিংবা না বুঝেই সাইবার অপরাধের অধীনে ন্যস্ত হচ্ছি। কাউকে কতটুকু বলা যায় বা কীভাবে বলা যায় তা না বুঝে শুনে রিপ্লাই দিচ্ছি। এসব এখন অপরাধের শামিল হচ্ছে। এমনকি এ প্রযুক্তি স্বামী-স্ত্রীর সুখের সংসারে সন্দেহের ঘুণপোকার মতো ঢুকে তছনছ করে দিচ্ছে। তাই, নিজেকে সমাজের যোগ্য করে তুলতে প্রযুক্তির অপব্যবহার নয়, সঠিক ব্যবহারেই হতে পারে সুন্দর সুখী জীবন।

নীরব ঘাতক প্রতিরোধে খাবার

ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড ইন-চার্জ, পারসোনা হেলথ

ধানমণ্ডি, ঢাকা।

নারীদের যেসব ধরনের ক্যান্সার হয় তার মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যান্সারে প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর বিশ্বজুয়ে নারীর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি নারী, তবে খুব অল্প সংখ্যক পুরুষও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এদের মাঝে প্রায় ৭০ ভাগ নারী চিকিৎসার অভাবে স্তন ক্যান্সারে মারা যান। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ রোগ নির্ণয় ও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপযুক্ত চিকিৎসায় স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় ১০০ ভাগ। ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জেনেটিক পরিবর্তনের কারণ, বংশগত কারণ, অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া, বেশি বয়সে সন্তান ধারণ, সন্তানদের দুধপান না করানো, বন্ধ্যাত্বসহ আরও কিছু কারণে নারীদের স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে। এ ছাড়া জীবন-যাপনের ধারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য। অধিক চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, বেশি পরিমাণ প্রসেস খাবার খাওয়া, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস অ্যালকোহল গ্রহণ, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাব এ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই খাদ্য তালিকায় স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধক খাবার যুক্ত করলে এই নীরব ঘাতকব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

শস্যজাতীয় খাবার

গোটা শস্যদানা, যেমন লাল চাল, ওটস, বার্লি বা কর্নে আছে প্রচুর আঁশ ও ম্যাগনেসিয়াম। এগুলোও ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া এগুলোতে থাকে ভিটামিন বি. কমপ্লেক্স, কার্বোহাইড্রেট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-যা গ্রহণের ফলে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ হয় ও শরীরে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়।

হলুদ, সবুজ ও কমলা রঙের শাকসবজি

প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। যা পরিপাক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, বর্জ্য নিঃসরণ ও কোষ্ঠ পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে। এতে থাকে ফাইটোকেমিক্যাল ক্যারোটিনয়েডস। যেমন বিট, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টি আলু, পালংশাক, টমেটো ইত্যাদি।

মাশরুম

মাশরুমে রয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির দুটি বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এরগোথিয়োনেইন এবং সেলেনিয়াম। এ হরমোনগুলো ক্যান্সার এবং কার্ডিওভাস্কুলার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

অ্যালিয়ামযুক্ত সবজি

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উপাদান ‘অ্যালিয়াম উচ্চমাত্রায় থাকে রসুনে, পেঁয়াজে এবং লিকে। এগুলোতে থাকা অ্যালায়াল সালফার এবং অন্যান্য উপাদান টিউমার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ক্রুসিফেরাস জাতীয় সবজি

ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এ ছাড়া এসব সবজিতে গ্লুকোসিনোলেট নামের যৌগও থাকে। এগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। বাঁধাকপিতে থাকা প্ল্যান্ট কম্পাউন্ড স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ব্রকলিতে উচ্চমাত্রায় সালফোরোফেন ও ইন্ডোলেস উপাদান, যা ক্যান্সারের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। সালফোরোফেন শরীরে নিজস্ব ক্যান্সার প্রতিরোধী এনজাইম উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করে। এতে ব্রেস্ট ও প্রোস্টেট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ হয়।

হার্বস

হলুদ, মরিচ, আদা, কালোজিরা, অরিগেনো, পার্সলে পাতা এগুলোতে থাকে ভিটামিন, ফ্যাটি এসিড এবং পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। মরিচে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল, হলুদে কারকিউমিন, আদাতে থাকা উচ্চ ফাইবারযুক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উপাদান।

টক ও বেরি ফল

বেরি জাতীয় ফল (ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাক বেরি, রাস্পবেরি) নিয়মিত খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এতে থাকা ভিটামিন সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান-ফ্লাভোনয়েড ও অ্যান্টোসায়ানিনস ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার প্রতিহত করতে এবং এটি সিস্ট ধ্বংস করতে সক্ষম।

রঙিন ফল

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিম বিশেষভাবে সহায়তা করে। এ ছাড়া আপেল, পিচ, অ্যাভোকাডো, নাসপাতিতে থাকা পলিফেনল এবং এলাইডিক অ্যাসিড নামের উচ্চমানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ক্যান্সারের বৃদ্ধি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন সামুদ্রিক মাছ খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। ওমেগা-থ্রি এবং ভিটামিন বি-টুয়েলভ, ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ যা শরীরের পুষ্টি সরবারহ করে এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। এটি ব্রেস্ট টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি

গবেষণায় ভিটামিন ডি-এর অভাবের সঙ্গে স্তন ক্যানসারের একটি সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ডিমের কুসুম, হেরিং মাছ, সার্ডিন মাছ, স্যামন, ভিটামিন ডি ফরটিফায়েড কমলার রস, টক দইয়ে এ ভিটামিন থাকে।

গ্রিনটি, ব্ল্যাক কফি

এগুলোতে ক্যাটেচিন নামক উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

প্রোবায়োটিকযুক্ত ফার্মেন্টেড ফুড

বাসার তৈরি টকদইতে অতি উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, প্রোবায়োটিক আছে এবং এটি সহজেই হজমে সাহায্য করে যা স্তন ক্যান্সারের জন্য উপকারী।

ডিম

ডিমের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম দেহের জন্য অনেক উপকারী। এতে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ যুক্ত ফ্যাটি এসিড আছে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ডিমের অনেক বড় ভূমিকা আছে। মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, ট্রান্স ফ্যাট, অ্যালকোহল, ফাস্ট ফুড ও লাল মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস করেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। তাই নিজেদের খাদ্য তালিকায় উপরোক্ত খাবারগুলো রাখলে ও সুস্থ জীবন ব্যবস্থা মেনে চলতে পারলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

জনবল নেবে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে ছয় পদে ১৫ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে নিজ হাতে লিখে এতে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে হবে ডাকযোগে।

পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর, গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে পুরকৌশল বিভাগে ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১৬,০০০/- থেকে ৩৮,৬৪০/-

পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ, গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগে ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১৬,০০০/- থেকে ৩৮,৬৪০/-

পদের নাম: কার্য সহকারী (গ্রেড ১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: সার্ভেয়ার (গ্রেড ১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পাস।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম: নিরাপত্তাপ্রহরী (গ্রেড ২০)
পদ সংখ্যা: ১০ জন
আবেদনের যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পাস।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

পদের নাম: পরিচ্ছন্নতাকর্মী (গ্রেড ২০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পাস।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

আবেদনের নিয়ম: এসব পদে আবেদনের জন্য আগ্রহীদের আবেদন লিখতে হবে নিজের হাতেই। পরে তা ডাকযোগে পাঠাতে হবে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায়। এ ছাড়া নিয়োগের বিস্তারিত দেখা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে

আবেদনের ঠিকানা: চেয়ারম্যান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা।

আবেদনের শেষ সময়: ২ ডিসেম্বর ২০২১

বাঘের বনে হরিণের দল

সারেং আগেই বলে রেখেছিলেন হরিণ দেখতে চাইলে খুব ভোরে উঠতে হবে। ভাগ্যে থাকলে মিলতে পারে বাঘের দেখাও। সবাই মিলে সময়মতো বের হওয়াই এখন চ্যালেঞ্জ। আমাদের দুজনের মতো লঞ্চের বাকি পর্যটকরাও আলাদাভাবে এসেছেন। শুধু কয়েকজন এসেছেন একটি ট্রাভেল গ্রুপের সাথে। ছন্নছাড়া এই পর্যটকদের একই সময়ে নিয়ে বের হওয়াও একটা কঠিন কাজ। তবে ভরসা একটাই—দু-একজন ছাড়া বাকি সব পর্যটকই নামাজি। ফজরের সময় প্রায় সব সদস্যই ঘুম থেকে জাগবে; তারপরই ছুট। এখন বাঘ মামার নজর এদিকে থাকলে হয়!

 

ভোর ৬টায় লঞ্চের সাথে বাঁধা ইঞ্জিনবোটে উঠার কথা। প্রায় সাড়ে ৫টায়ই সব পর্যটক প্রস্তুত। সারেং অবাক, পর্যটক প্রস্তুত থাকলেও তারা প্রস্তুত নন! তিনি বলেই ফেললেন, প্রায় ৩০ বছরের নৌ-চালনার জীবনে তিনি বিদেশিদের ছাড়া কোনো দেশি পর্যটক দলকে সকালে যাত্রার সময় ঠিক রাখতে দেখেননি। কটকা অভয়ারণ্যের কাছেই লঞ্চ নোঙ্গর করা ছিল। ইঞ্জিনবোটে চড়ে দু-এক মিনিটেই চলে গেলাম কটকা ফরেস্ট রেঞ্জে। ঘাট পার হতেই বানরের দেখা। রাস্তার মধ্যে এদিক-সেদিক ছুটছে। কোনোটা লাফাচ্ছে ডাল থেকে ডালে। একটু সামনে পেরুতেই কাঠের ট্রেইল। শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, জোয়ারের পানি উঠে আসার পরও জন্য পর্যটকরা যেন হাঁটতে পারেন এজন্যই এ ব্যবস্থা। হাঁটার শুরুতেই হঠাৎ বাম দিক থেকে বিকট আওয়াজ আর খচখচানির শব্দ। মুহূর্তেই দুটি বন্য শূকরকে তেড়ে আসতে দেখা গেল। তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়ায় ব্যস্ত। যুদ্ধরত অবস্থায় ট্রেইলের নিচ দিয়ে দৌড়ে গেল। ভয়ে সবাই থমকে দাঁড়াই। স্পষ্ট হলো, উঁচু ট্রেইল তৈরির আরও কারণ আছে।

ট্রেইল থেকে নেমে বনের কাঁদাময় পথে জুতা হাতে নিয়ে শুরু হলো নতুন যাত্রা। উদ্দেশ্য—টাইগার টিলা। বাঘের খোঁজে যাওয়ার আগেই পেলাম হরিণের খোঁজ। কয়েকটি চিত্রা হরিণ পাতা খেয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের দেখে খানিকটা দূরে চলে গেল। তাদের পিছু না নিয়ে আমরা হাঁটছি সামনের পথে। দলে আছি দশ-বারোজন। বাকিরা কাঁদাময় পথে গহীন বনের ভেতর বাঘের ডেরায় যাওয়ার সাহস পায়নি। দলের শুরুতে বন্দুক হাতে রয়েছেন বনবিভাগের কর্মী। তিনিই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। খানিক বাদেই পৌঁছে গেলাম টাইগার টিলায়। বনের মাঝে কিছুটা উঁচু জায়গা। কথিত আছে, জোয়ারের সময় এখানে আশ্রয় নেয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এজন্যই জায়গাটির নাম হয়েছে টাইগার টিলা। ইতিহাস অনুযায়ী, কয়েকশ’ বছর আগে এখানে ছিল লবণ কারখানা। এখানে উৎপাদিত উন্নত মানের লবণ যেত ইউরোপে। সেসব এখন অতীত। এককালের সমৃদ্ধ নগর এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন! যেখানে বাস করত মানবসমাজের রাজা-জমিদাররা; সেখানে এখন বনের রাজা বাঘের বাস।
টাইগার টিলা থেকে আরেকটু সামনে যেতেই পড়লাম খালের সামনে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত বয়ার খাল নামে। আমাদের দেখে বড় আকারের এক বনমোরগ উড়ে চলে গেল খালের ওপারে। খালের পাশ দিয়ে মোড় নিলাম ফিরতি পথে। সামনে যেতেই হরিণের পালের খোঁজ পেলাম। হেঁটে হেঁটে পাতা খাচ্ছে। বেশ কয়েকটি গাছ থেকে পাতাসহ ডাল ভেঙে আনলো কয়েকজন। সেগুলো দিতেই হরিণগুলো খেতে দৌড়ে আসলো। সুন্দরবনের ভেতর একেবারে এত কাছে হরিণের পালকে পেয়ে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না। খানিকটা কাছ থেকেই ছবি তুললাম, ভিডিও করলাম। তবে একেবারে কাছে যাওয়া গেল না। অতি সাবধানী হরিণ সবসময় নজর রাখছিল। বেশি কাছে যেতে চাইলেই দে ছুট।

বনের আরেক প্রান্তে সুন্দর এক সৈকত। কটকা সৈকত নামে পরিচিত এই সৈকত ধরেই যাওয়া যায় জামতলা সৈকতে। মূলত, একই সৈকত কিন্তু প্রচুর জামগাছ থাকায় ওই অংশ পরিচিত জামতলা সৈকত নামে। চোরাবালি রয়েছে আশঙ্কায় কটকা সৈকতের একটি পাশে পর্যটকদের যেতে অনুৎসাহিত করা হয়। কাঠের ট্রেইলটা শেষ হয়েছে সৈকতে গিয়ে। এখন অবশ্য ট্রেইল ধরে সৈকতে পৌঁছানো যায় না। ট্রেইলের শেষ অংশের অনেকখানিই ভাঙা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এই অবস্থা। বালুকাময় সৈকতে এখনও পড়ে রয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ধ্বংসলীলার চিহ্ন। জায়গায় জায়গায় উপরে রয়েছে গাছ। ফেরার পথে আরও পর্যটককে সেখানে যেতে দেখলাম। দু-একজন অতি উৎসাহী নারী বানরের দৌড়ানিও খেলেন।

 

ইঞ্জিনবোটে চড়ে এবার বনের ভেতরে এক খালে ঢুকলাম। বনের নীরবতা বজায় রাখতে ও বন্যপ্রাণী দেখতে সবাই নিশ্চুপ রয়েছি। ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দাঁড় বেয়ে চলছে নৌকা। পথে কয়েক প্রজাতির পাখি ও বানরের দেখা মিললো। শোনা যায়, এই খাল পাড়ি দেয় বাঘ। খাল ঘুরে এবার রওনা কচিখালীর পথে। আগেই অনুমতি নেওয়া ছিল। তাই ফরেস্ট রেঞ্জে দেরি হলো না। সবাই মিলে ছুটলাম কচিখালী সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশ্যে। বনের ভেতর দিয়ে হাঁটছি। বারবার সাবধান করছেন বনকর্মী। বনের ভেতর নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটতে বলছেন। কারণ, এই অঞ্চলে বাঘের আনাগোনো রয়েছে। বেশ দূরের পথ, তাই কিছুটা বিশ্রাম নিতে হলো। বনের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছার আগেই সমুদ্রের গর্জন। সঙ্গে বনের ভেতর বালুকাময় ভূমি ও পানির ছাপ জানান দিচ্ছিল বঙ্গোপসাগরের।
একপাশে সুন্দরবন আরেকপাশে বঙ্গোপসাগর—বাংলাদেশের দুই অপার সৌন্দর্য ও গর্ব যেন এখানে মিলেমিশে একাকার। দুই মহীরুহের মিলনস্থলে খানিক সময় কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম সৈকত ধরেই এগিয়ে যাব কচিখালী ফরেস্ট রেঞ্জের কাছে। বনকর্মী জানালেন, এই পথে হাঁটতে হবে বহুদূর। রোমাঞ্চপ্রিয় মনে কষ্টের কোনো জায়গা আছে? সৈকত ধরেই হাঁটতে লাগলাম। খানিক দূরে গিয়ে চিৎকার করে উঠলেন বনকর্মী। বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। একটা নয় একাধিক। আমরাও দৌড়ে গেলাম। কোনো ছাপ বড়, কোনোটা ছোট। বনকর্মী জানালেন, হয়ত মাঝরাত বা ভোরে বাচ্চাসহ এখানে এসেছিল কোনো বাঘ বা বাঘিনী। বাচ্চাসহ? তার মানে বাঘের বংশ বৃদ্ধির আভাস।

সাগরে এখনও ভাটা চলছে। সৈকতে জায়গায় জায়গায় আটকে আছে পানি। তেমনি এক জায়গায় মাছের আনাগোনা ছোখে পড়ল। সবাই মিলে মাছ ধরা শুরু করলাম। প্রায় ২০-২৫টা মাছ ধরেও ফেললাম। এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সুন্দরবনের পাড়ে সৈকতে মাছ ধরার বিচিত্র স্মৃতি হৃদয়ে থাকবে আজীবন। বনের ভেতর দিয়ে ফেরার পথে সেখানে বসবাসরত কিছু লোকের সাথে দেখা হলো। বেশ কয়েকটি ঘর তুলে তারা এখানে থাকে। সবাই বনে থেকে জীবিকা নির্বাহ করে। এদের স্থায়ী আবাস মূলত সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে এখানে তারা অস্থায়ী ঠিকানা গড়ে জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা, চাষাবাদ তাদের কাজ।

বিকালে গেলাম ডিমের চর। চরটি ডিম্বাকৃতির হওয়ায় এই নাম। চরে নামতেই অপূর্ব এক দৃশ্য—সাগর-নদীর মোহনায় ডুবছে সূর্য। লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। সৈকতে শুরু করলাম ফুটবল খেলা। জীবনে আর কখনও এমন স্থানে ফুটবল খেলার সুযোগ মিলবে? কেউই এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলো না। কেউ কেউ গোসলও সেরে নিলো। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় আর দুপুরে গোসল করায় দ্বিতীয়বার গোসলের সাহস করলাম না।

লঞ্চে দ্বিতীয় রাত কাটলো কটকা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের কাছে। সকালে শুরু হলো করমজল প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা। যাত্রাপথে শ্যালা নদীর তীরে হরিণের দেখা মিললো। চোখ খুঁজে ফিরছে বাঘকেও। কিন্তু না, দেখা নেই। রৌদ্র পড়তেই নজরদারি শুরু করলাম নদীর তীরে। কুমিরের রোদ পোহানোর এখনই সময়। কিছু দূর যেতেই একটি কুমিরকে শুয়ে রোদ পোহাতে দেখা গেল। লঞ্চের গতি কমিয়ে কুমিরের অনেকটা কাছে যাওয়ার চেষ্টা চললো। খানিকটা কাছে যেতেই নদীতে নেমে ডুব দিলো কুমিরটি। আরেকটু এগোতেই নদীর আরেকপাশে দেখা মিললো আরেক কুমিরের। বেশ আরামে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে। লঞ্চ দেখেও পাত্তা নেই। তার পাশ দিয়েই এগোলাম। স্রোতস্বিনী পশুর নদ হয়ে পৌঁছলাম করমজল। আগে পশুর নদে প্রচুর গাঙ্গেয় ডলফিনকে লাফালাফি করতে দেখেছি। এবার অবশ্য তেমনটা চোখে পড়ল না।

করমজল মসজিদের জুমার নামাজ পড়ার পর কৃত্রিমভাবে প্রজনন করা লোনাপানির কুমির, বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ (বাটাগুড় বাল্কা), চিত্রা হরিণ দেখলাম। পর্যটনস্পটে হাঁটার সময় দেখা মিললো বানরের। মানুষের দেওয়া চিপস, বিস্কুট, কদবেল খাচ্ছে। লাফিয়ে চলছে ডাল থেকে ডালে। কখনও পর্যটকদেরও টেনে ধরছে। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে সুন্দরবনের একাংশ দেখে নিলাম এক পলকে। এবার মোংলা হয়ে ফেরার পালা। সুন্দরবন ছেড়ে ফিরতে হবে—এই ভাবনা এতক্ষণ মাথায় আসেনি। এখন সত্যিই বিষয়টি মন খারাপ করে দিচ্ছে। এত দ্রুত চলে গেল সময়! ইশ্ আরও কয়েকদিন যদি থাকা যেত—এসব চিন্তা করতে করতেই চলে এলাম মোংলা ঘাট। বন্ধু তানভীরের সাথে দেখা হলো না। বিষণ্ন মনে শেষবারের মতো তাকালাম সুন্দরবনের দিকে। আবার আসব, যাব বাঘের ডেরায়—ভাবতে ভাবতে বিদায় জানালাম শ্বাসমূলীয় বনকে। (শেষ)

লেখক : সাবেক গণমাধ্যমকর্মী

৩ পদে জনবল নেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে রাজস্ব খাতভুক্ত তিনটি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই আবেদন করতে পারবেন অনলাইনে।

পদের নাম: রসায়নবিদ (গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১৬,০০০/- থেকে ৩৮,৬৪০/-

পদের নাম: সহকারী রসায়নবিদ (গ্রেড-১১)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১২,৫০০/- থেকে ৩০,২৩০/-

পদের নাম: ল্যাবরেটরি সহকারী (গ্রেড ১৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://dscc.teletalk.com.bd/-এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: আগ্রহীরা ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা

সহকারী প্রধান শিক্ষক, ইংলিশ ভার্সন

মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

Change the narrative style of the following text

5. The traveller said to the peasant, ‘‘Can you tell me the way to the nearest inn?’’ The peasant said, ‘‘Yes, do you want one in which you can spend the night?’’ The traveller said, ‘‘I do not wish to stay there, but I only want a meal.’’

Answer 5

The traveller asked the peasant if he (p) could tell him (t) the way to the nearest inn. The peasant replied/answered in the affirmative and asked him if he (t) wanted one in which he (t) could spend the night. The traveler answered/replied that he did not wish to stay there but he (t) only wanted a meal.

6. Once I asked a sweet little girl, ‘‘What is your mother’s name?’’ She replied cleverly, ‘‘I know my mother’s name but I won’t tell you that.’’ I said, ‘What a clever girl you are.’’ ‘‘I don’t tell my mother’s name to anybody whom I don’t know,’’ she spoke with an air of confidence.

Answer 6

Once I asked a sweet little girl what her mother’s name was. She replied cleverly that she knew her mother’s name but she would not tell me that. I exclaimed with wonder that she was a very clever girl. She spoke with an air of confidence that she did not tell her mother’s name to anybody whom she did not know.

7. ‘‘Why are you putting up the food in your pocket, sir? Why don’t you eat?’’ said the noble-man. ‘‘I am doing the right thing. My dress deserves these rich dishes,’’ replied Sheikh Sa’adi. ‘‘I do not understand what you mean to say,’’ said the nobleman. ‘‘And I’m sorry.’’

Answer: 7

The nobleman asked Sheikh Sa’adi with respect why he was putting up the food in his pocket and also asked why he did not eat. Sheikh Sa’adi replied that he was doing the right thing and added that his dress deserved those rich dishes. Then the nobleman said that he did not understand what he (s) meant to say and added that he was sorry.

8. ‘‘I came here yesterday from my village,’’ he said. ‘‘Why did you come?’’ I asked. ‘‘My mother sent me to you with this letter.’’ ‘‘How is your mother? I have not seen her for a long time. I hope she is quite well.’’

Answer: 8

He told me that he had come there/here the previous day. I asked him why he had come. He replied that his mother had sent him to me with that letter. I asked him how his mother was and said that I had not seen her for a long time. I hoped that she was quite well.

জীববিজ্ঞান

মো. বদরুল ইসলাম

সহকারী শিক্ষক, গভর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল তেজগাঁও, ঢাকা

কোষ বিভাজন

[পূর্বে প্রকাশিত অংশের পর]

৪৯। অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফলে কী হয়?

উত্তর : ক্যান্সার

৫০। অ্যানাফেজ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমাটিডকে কী বলে?

উত্তর : অপত্য ক্রোমোজোম

৫১। মাইটোসিসের ফলে কোন জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে?

উত্তর : বহুকোষী জীবের

৫২। মিয়োসিস পদ্ধতিতে মাতৃ-নিউক্লিয়াসের বিভাজন কয়বার ঘটে?

উত্তর : ২ বার

৫৩। কোন কোষ বিভাজনের ফলে প্রজাতির মধ্যে বৈচিত্র্য দেখা যায়?

উত্তর : মিয়োসিস

৫৪। স্পিন্ডল তন্তু কী?

উত্তর : স্পিন্ডল যন্ত্রের এক মেরু থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত তন্তুগুলোই হলো স্পিন্ডল তন্তু।

৫৫। মিয়োসিস অর্থ কী?

উত্তর : হ্রাস করা

৫৬। আকর্ষণ তন্তু কাকে বলে?

উত্তর : মাইটোসিসের প্রো-মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল যন্ত্রের যে নির্দিষ্ট তন্তুর সঙ্গে সংযুক্ত হয় তাকে আকর্ষণ তন্তু বলে।

৫৭। ক্যারিওকাইনেসিস কী?

উত্তর : মাইটোসিস কোষ বিভাজনকালে নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।

৫৮। মাইটোসিস প্রক্রিয়ার পর্যায় কয়টি?

উত্তর : ৫টি

৫৯। ইন্টারফেজ কী?

উত্তর : ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস শুরু হওয়ার আগে কোষের নিউক্লিয়াসকে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। কোষটির এ অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে।

৬০। মিয়োসিস কী?

উত্তর : যে কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস দু’বার কিন্তু ক্রোমোজোমে একবার বিভক্ত হয় তাকে মিয়োসিস বলে।

৬১। মাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে?

উত্তর : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত মাতৃকোষের জটিল ও ধারাবাহিক পর্যায়ে তার নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম উভয়ই একবার করে বিভক্ত হয় এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা, আকৃতি, প্রকৃতি ও গুণাবলি মাতৃকোষের অনুরূপ হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।

৬২। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে?

উত্তর : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো জটিল মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।

ভর্তি বাতিলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবর্ষে একজন শিক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। কিন্তু পরে পছন্দের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হলে শিক্ষার্থীকে সেই ভর্তি বাতিলে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ভর্তি বাতিলের জন্য বাড়তি টাকা নেওয়া অযৌক্তিক। বরং এক্ষেত্রে ভর্তি ফি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে রেখে দিয়ে বাকি অংশ শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ সেশনে স্নাতক সম্মান প্রথমবর্ষের ভর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ফি ৫ হাজার ৩৫ টাকা, নিজ নিজ অনুষদে ১ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। সব মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয়। পরে আবার বিভাগের ক্লাস শুরু হলে বিভাগেও প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা জমা দিতে হয়। এত টাকা জমা দেওয়ার পরে কোনো শিক্ষার্থী যদি অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে তাকে আবার ১ হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর জমা ও অনুষদে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে ভর্তি বাতিল করতে হয়।

আরও জানা গেছে, এক ইউনিট থেকে ভর্তি বাতিল করে অন্য ইউনিটে ভর্তি হতে হলে অনুষদ পরিবর্তন ফি ১ হাজার ২০ টাকা ও বিভাগ উন্নয়ন ফিসহ বেশ কিছু খাতে আরও ৫০০-৬০০ করে বাড়তি টাকা দিতে হতো। তবে এ বছর ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার টাকা করা হয়েছে।

এমন প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. একরামুল হামিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভর্তি বাতিলের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না। কেননা একজন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রায় ৫ হাজার টাকার বেশি টাকা পরিশোধ করেন। আবার ওই শিক্ষার্থী যখন ভর্তি বাতিল করেন তখন তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যয় হয় না। বরং শিক্ষার্থী যে টাকা দিয়ে ভর্তি হয় সেখান থেকে পেপারস খরচ বলে কিছু টাকা রেখে দিয়ে শিক্ষার্থীকে টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। সেটা না হয়ে, উলটো হচ্ছে। আবার শিক্ষার্থীর থেকে ভর্তি বাতিল বাবদ ১০০০ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিচ্ছে। যা অত্যন্ত অমানবিক।

তিনি আরও বলেন, অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী রয়েছে যারা ভর্তির জন্য টাকা ঋণ করেন। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কিছু ব্যবহার না করেই তার থেকে সব ফি নিয়ে নেওয়া সমীচীন নয় বলে মনে করেন তিনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবির ২০২০-২১ সেশনে প্রথমবর্ষে ভর্তি হওয়া সাকিল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সি ইউনিট থেকে কেমিস্ট্রি বিভাগে ভর্তি হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। সেজন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল করতে হবে।

সাকিল আরও জানান, কয়েকদিন আগেই সাড়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আমার ভর্তি ফি এক টাকাও ফেরত দেবে না বিশ্ববিদ্যালয় বরং আবার এক হাজার টাকা ভর্তি বাতিল ফি নেবে। টাকা ফেরত না দিয়ে বাড়তি টাকা না নিলেও পারত। কেননা আমার ভর্তি বাতিল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যয় হচ্ছে না।

রাবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সুলতান উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ টাকা শুধু এ বছর নেওয়া হচ্ছে না। অনেক বছর থেকেই এ রীতি চলে আসছে। ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় ভর্তি কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বর্তমান প্রশাসনের বিষয়টি নজরে এসেছে। আগামী বছর ভর্তি কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে। সেখানে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ বছর কিছুই করার নেই বলে জানান এ প্রো-ভিসি।

রাবি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতি বছর ভর্তি কমিটিতে ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। পরে সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে ভর্তি বাতিলের জন্য যে টাকা নেওয়া হচ্ছে বা ভর্তির সময়ে পরিশোধিত ফি ফেরত দেওয়া হচ্ছে না সেটা ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ বিষয়ে চলতি সেশনে কিছু করার নেই। কিছু করতে হলে পরবর্তী সেশনে ভর্তি কমিটির সভায় উত্থাপন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বলছেন, ভর্তি বাতিলের জন্য বাড়তি টাকা যদি নিতেই হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তর অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। এতে কোনো শিক্ষার্থীকে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে না। এতে কোনো ভর্তি বাতিল করতে হবে না। ফলে অভিভাবকরা আর্থিক বিড়ম্বনা ও সিদ্ধান্তহীনতা থেকে রেহাই পাবেন।

পরীমনি যতদিন কারাগারে ছিলেন ‘বিছানায় ঘুমাননি’ এক ভক্ত!

পরীমনি যতদিন কারাগারে ছিলেন ততদিন এক ভক্ত বিছানায় ঘুমাননি। একই সঙ্গে ততদিন আমিষ না খেয়ে ভাত ও ভর্তা খেয়েছেন তিনি। পরীমনিকে উদ্দেশ্যে করে লেখা এক চিঠিতে এ কথা জানান সেই ভক্ত।

আর সেই চিঠিটি মঙ্গলবার ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমনি। চিঠির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, কখনো কখনো বোকা করে দেয় এসব আমাকে। প্রিয় প্রিয়া, তোমার এই ভালোবাসা যত্নে থাকবে খুব।

চিঠিতে ওই ভক্ত লেখেন, শ্রদ্ধেয় প্রিয় পরী আপু, আপু আমার সালাম নিবেন। কেমন আছেন? আপু আমার নাম প্রিয়া। আমি আপনার সবচেয়ে বড় ভক্ত। আমি আপনাকে নিজের জীবনের থেকেও অনেক বেশি ভালোবাসি। আই লাভ ইউ। আপু আপনি যতদিন কারাগারে ছিলেন ততদিন আমি আমিষ খাইনি শুধু ভর্তা-ভাত খেয়েছি। তারপর আমি বিছানায় ঘুমাইনি। ফ্লোরে ঘুমিয়েছি। আমি জানি কারাগারে আপনার কোনো সমস্যা বা অসুবিধা হয়নি, তবুও আপু আপনার জন্য অনেক দোয়া করেছি এবং করি, সারজীবন করব। আপু আমি আপার জন্য নিজের জীবনটাও দিয়ে দিতে পারি। আপু ভালোবাসাটা…।

এর আগেও এক ভক্ত পরীমনির বাসায় কয়েকটি পাখি উপহার পাঠিয়েছিলেন।