সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 628

মনের সব ইচ্ছে পূরণ হয় যে আমলে

আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে হয়ে পড়ে অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত। -(সুরা মাআরিজ আয়াত : ১৯-২০)।

তাই আল্লাহ রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের চাদর সব সময় আমাদের আবৃত করে রাখেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তার দয়া না থাকত, (তা হলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে) আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবা গ্রহণকারী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা নুর আয়াত : ১০)

অভাব থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে চাইতে হবে। আর আল্লাহতায়ালা বান্দার প্রার্থনা ফিরিয়ে দেন না।

আল্লাহ বলেন, আর তোমাদের রব বলেছেন— ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহঙ্কার বশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। -(সুরা গাফির আয়াত: ৬০)।

জীবনে ইচ্ছা পূরণের অনেক উপায় খুঁজে বেড়িয়েছেন। মনের আশা পূরণ করতে অনেকের কাছে গিয়েছেন।

গলায় তাবিজ ঝুলিয়েছেন। পীরের পা ধোয়া পানি খেয়েছেন। অনেক কষ্টে অনেক সাধন করেছেন। সব কিছু থেকে বিফল হয়ে নিরাশ হয়ে পড়েছেন। অথচ এটা ভাবেননি যে, মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এ ব্যাপারে কী বলেছেন?

হাদিসে রয়েছে- একবার হজরত আনাস (রা.) রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামাজ আদায় করল এবং নিচের এ দোয়াটি পাঠ করল-

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা-ইলাহা ইল্লা আংতাল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্, ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়্যুম।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তুমিই তো সব প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি দয়াশীল। তুমিই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা! হে মহান সম্রাট ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।’

তখন নবীজি (সা.) বললেন, এ ব্যক্তি ‘ইসমে আজম’ পড়ে দোয়া করেছে, (‘ইসমে আজম’ মহান আল্লাহর এমন নাম) যে নামে ডাকলে মহান আল্লাহ সাড়া দেন এবং যে নামে তার কাছে চাওয়া হলে তিনি সব চাওয়া পূরণ করেন। (আবু দাউদ) অর্থাৎ এই দোয়াটি হল ‘ইসমে আজম’।

দোয়াটি পাঠ করলে মহান আল্লাহ মুমিন বান্দার মনের সব ইচ্ছা পূরণ করবেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের মনের সব ভালো ইচ্ছা পূরণ করুন। আমিন!

ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে সতর্কতা

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল এবং বিকালের ঠান্ডা হাওয়া শীতের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে। শীত আনন্দ এবং উৎসবের ঋতু হলেও এর অপ্রীতিকর দিকটির কথা যেন ভুলে না যাই। এ মৌসুমের ঠান্ডা এবং শুষ্ক বাতাস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। সাধারণ সর্দি, ফ্লু এবং ফুসফুসের কিছু রোগ শীতকালে বেশি দেখা যায়। মৌসুমি এসব রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে লিখেছেন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ভারতের মাদ্রাজ শ্রী বালাজী মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (চেন্নাই) ভিজিটিং প্রফেসর ডা. এইচ. এন. সরকার

সাধারণ ঠান্ডা :

এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ২০০টিরও বেশি ভাইরাস দ্বারা হতে পারে; রাইনোভাইরাস দিয়ে বেশি হয়। এটি বছরের যে কোনো সময় হতে পারে, তবে শীতে সর্বাধিক ও ঘন ঘন সাধারণ ঠান্ডা দেখা যায়। শীতকালীন শুষ্ক এবং ঠান্ডা আবহাওয়া রাইনোভাইরাসের প্রজনন ও বিকাশের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পরিবেশ। এ ভাইরাস হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাস কোনো বস্তুতে লেগে থাকলে সেসব বস্তু যেমন দরজার হাতল, বিদ্যুতের সুইচ স্পর্শ করলেও শরীরে তা প্রবেশ করতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা চুলকানি, গলা ব্যথা, কাশি, নাক বন্ধ থাকা, মাথাব্যথা এবং কখনো কখনো হালকা জ্বর সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গ। এ উপসর্গগুলো ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বেশি হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সেরে যায়।

প্রাথমিক প্রতিকার :

সাধারণ সর্দি বিরক্তিকর হতে পারে, তবু স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন এবং দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এটি কমে যাবে। যদি এর চেয়ে বেশি সময় থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ ঠান্ডা প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো; যা ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং সাধারণ সর্দির রোগী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ের মাধ্যমে সম্ভব। এটি করোনাভাইরাস এসে আমাদের শিখিয়েছে। যদি পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হয়, তাহলে তাকে আলাদা থাকার এবং তার ব্যবহার্য থালাবাসন আলাদা করার ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব বস্তুপৃষ্ঠ থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে সেগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে বারবার পরিষ্কার করতে হবে। যদি সাধারণ সর্দি হয়, তাহলে হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিসু বা রুমাল ব্যবহার করুন। রুমাল না থাকলে হাতের কনুইয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দিন। যদি কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ভালো বোধ করেন, এক বা দুই দিনের মধ্যে কাজে ফিরে যান তবে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিবেন এবং হাঁচি-কাশি সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন। জ্বর বেশি হলে এবং দীর্ঘায়িত হলে, কাশিতে হলুদ কফ বের হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঠান্ডার চিকিৎসা :

সাধারণ সর্দির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি, নাকের ডিকনজেস্ট্যান্ট, কাশির সিরাপ এবং অ্যান্টিহিস্টামিন রোগ থেকে সেরে ওঠাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ঠান্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ না হওয়া পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই।

ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা :

ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। প্রতি বছর জনসংখ্যার ৫ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৩ থেকে ৫ মিলিয়ন লোক গুরুতর ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয় এবং ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়। মৃত্যু সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে ঘটে, যেমন ছোট শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের রোগীরা। শীতকালে ফ্লুর সংক্রমণ খুব বেশি বিধায় এটিকে সাধারণত ফ্লু ঋতু (Flu season) বলা হয়। এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু কমে যেতে পারে। ফ্লু বায়ুবাহিত রোগ, ফ্লু ভাইরাস হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। দূষিত পৃষ্ঠতল স্পর্শের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ফ্লু ভাইরাস ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে, এজন্যই প্রতি বছরই ফ্লু ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিতে হয়, পুরোনো ভ্যাকসিন কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হয় না। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ ফ্লু। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষ, গর্ভবতী এবং ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)সহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের রোগীরা ফ্লু’র ঝুঁকিতে রয়েছে।

উপসর্গ বা লক্ষণ :

ফ্লু প্রাথমিকভাবে একটি সাধারণ ঠান্ডা হিসাবে ভুল হতে পারে, এক্ষেত্রে দ্রুত খুব বেশি জ্বর হয়। এ ছাড়া কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরের ব্যথা এবং খুব দ্রুত ক্লান্তি বা অবসাদ চলে আসে। বমি বা ডায়রিয়াও হতে পারে। জ্বর এবং ব্যথা তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কমে যায় কিন্তু কাশি এবং সাধারণ ক্লান্তি দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় থাকতে পারে।

চিকিৎসা :

উপসর্গ শুরুর পর কমপক্ষে পাঁচ দিন এবং জ্বর কমে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পর কাজে যোগ দিতে পারেন। ফ্লু থেকে নিউমোনিয়া সবচেয়ে বেশি হয় এবং হার্টের পর্দার প্রদাহ মায়োকার্ডাইটিস হচ্ছে মারাত্মক জটিলতা। ফ্লু প্রতিরোধ করার সর্বোত্তম উপায় হলো ফ্লু ভ্যাকসিন এবং ফ্লু ভ্যাকসিন এক বছরের জন্য ফ্লুর বিরুদ্ধে ভালো সুরক্ষা দেয়। এজন্য প্রতি বছর ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নিতে পারেন, যা নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। লক্ষণগুলো খারাপ হলে, নতুন উপসর্গ দেখা দিলে বা যদি এমন কোনো অবস্থা বা পরিস্থিতি থাকে যা ফ্লু’র জটিলতার ঝুঁকিতে ফেলে দেয়, এ অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্যারাসিটামল উপসর্গগুলো উপশম করে। গুরুতর ক্ষেত্রে, ফ্লুর স্থায়ীত্ব, তীব্রতা এবং জটিলতার ঝুঁকি কমাতে ওসেল্টামিভিরের মতো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে। উপকার পেতে হলে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধগুলো সাধারণত উপসর্গ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করতে হয়।

ব্রঙ্কিওলাইটিস, লক্ষণ ও প্রতিকার :

এটি একটি ভাইরাসজনিত শ্বাসনালির সংক্রমণ যা রেসপাইরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) দ্বারা সৃষ্ট। যদিও বিভিন্ন ভাইরাস ব্রঙ্কিওলাইটিস সৃষ্টি করতে পারে। এটি শিশুদের বেশি হয় এবং শীতকালে বেশি দেখা যায়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নাক বন্ধ হওয়া, কাশি, মৃদু জ্বর যা সাধারণ সর্দি বলে মনে হতে পারে। এটি আরও গুরুতর হয়ে শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে এবং মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। শিশুর যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

সাইনোসাইটিস, লক্ষণ ও প্রতিকার :

শীতকালে সাইনাসের সমস্যা একটি সাধারণ ব্যাপার। যখন ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকে এবং সঠিকভাবে বায়ু চলাচল করতে পারে না, তখনই সাইনাসের সমস্যা দেখা দেয়। নাক বন্ধভাব (Nasal congestion), মাথাব্যথা, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়ার পাশাপাশি নাক ডাকার উপসর্গ শীতের সময় মানুষকে দুর্বিষহ করে তোলে। এ সময় সাইনোসাইটিস থেকে মুক্ত থাকার জন্য ধুলোবালি এড়িয়ে চলুন, দুপুরের দিকে ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং প্রচুর তরল পান করুন।

গলাব্যথা, লক্ষণ ও প্রতিকার :

গলাব্যথা সারা বছরই হতে পারে, তবে শীতকালে এর প্রকোপ বেশি। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দুটো দিয়েই হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াল গলাব্যথা সাধারণত স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে এবং শীতকালে যে গলাব্যথা হয় তা সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। তাপমাত্রার পরিবর্তন, উষ্ণ কক্ষ থেকে বাহিরের ঠান্ডা আবহাওয়ায় বের হলে বা ঠান্ডার মধ্যে যদি ফ্রিজের পানি পান করে, তাহলে গলাব্যথা হতে পারে। এর সহজ এবং দ্রুত প্রতিকার হলো-গরম পানিতে লবণ দিয়ে গড়গড়া করা। এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে এক চা চামচ লবণ দিয়ে গড়গড়া করুন। এটি সংক্রমণ নিরাময় করবে না, তবে গলাব্যথা কমিয়ে দিবে। কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ভাইরাসজনিত গলাব্যথা ভালো হয়।

একিউট ব্রঙ্কাইটিস, লক্ষণ ও প্রতিকার :

ব্রঙ্কাইটিস হলো ব্রঙ্কাস বা শ্বাসনালির প্রদাহ। একিউট ব্রঙ্কাইটিস সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণ যেমন সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু ভাইরাস সংক্রমণের পরে হয়ে থাকে, কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার কারণেও হতে পারে। শীতকালে প্রাপ্তবয়স্ক লোকের ৫ থেকে ৬ শতাংশ শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। যারা ধূমপান করেন, যাদের অতিরিক্ত অ্যালার্জি, সাইনোসাইটিস, বর্ধিত টনসিল বা অ্যাডিনয়েড থাকে, তাদের একিউট ব্রঙ্কাইটিসের ঝুঁকি বেশি। ঠান্ডা বা ফ্লু রোগের উপসর্গ গা ব্যথা, মাথাব্যথা, ঠান্ডা লাগা, নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং গলাব্যথা কমে যাওয়ার পর শুকনো কাশি দেখা দেয়, যা অত্যন্ত বেশি এবং বিরক্তিকর; শত চেষ্টা করেও কাশি বন্ধ করা যায় না। কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এ রোগের কারণে কাশিতে পাতলা থুতুর মতো সাদা কফ ওঠে; ব্যাকটেরিয়ার সেকেন্ডারি সংক্রমণ হলে পাকা বা হলুদ কফ হয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে নিউমোনিয়া না হলে একিউট ব্রঙ্কাইটিস নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। ফুটন্ত পানির বাস্প টানলে, কাশি সিরাপ এবং ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে উপসর্গগুলো সহজেই উপশম হয়। বেশিরভাগ লক্ষণ প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়, তবে কাশি কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।

যদি উপসর্গ উপশম না হয়, যদি আরও খারাপ হয়ে যায়, দ্বিতীয় ধাপে জ্বর আসে বা হলুদ কফ বের হয়, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

পুরাতন শ্বাসযন্ত্রের রোগে শীতের প্রভাব :

সিওপিডি (COPD) বা হাঁপানির (Asthma) মতো শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শীতকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে; যার অনেক কারণ রয়েছে। ঠান্ডা এবং শুষ্ক বাতাস শ্বাসনালিকে সংকুচিত (spasm) করে, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ ছাড়াও কিছু কিছু হাঁপানির রোগীর ঠান্ডা অ্যালার্জি থাকার কারণে হাঁপানি বেড়ে যায়। ঠান্ডার প্রভাবকে এড়ানোর জন্য বাইরে যাওয়ার সময়, উষ্ণ পোশাক এবং স্কার্ফ দিয়ে বুক এবং মুখ ঢেকে বের হবেন।

দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস :

শ্লেষ্মা-উৎপাদনকারী কাশি বছরে কমপক্ষে তিন মাস, পরপর দুই বছর স্থায়ী হলে তখন তাকে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস বলে। ধূমপানই এর প্রধান কারণ; যদিও রান্নার ধোঁয়া, অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের পরিবেশ দূষণের ফলেও এটা হতে পারে। শীত মৌসুমে এর ঠান্ডা এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এর উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে, যাকে হঠাৎ তীব্রতা বৃদ্ধি (Acute exacerbation) বলা হয়। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বুকে চাপভাব এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এর প্রধান উপসর্গ। ঠান্ডা এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় এর উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে, তাই বাইরে বের হওয়ার সময়, উষ্ণ পোশাক এবং স্কার্ফ দিয়ে বুক এবং মুখ ঢেকে বের হবেন। চিকিৎসার লক্ষ্য হলো উপসর্গ কমানো যাতে সহজে শ্বাস নেওয়া যায়। শ্বাসনালিকে প্রসারিত করার ওষুধ মুখে বা ইনহেলারের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। মাঝারি বা তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়, জ্বর বা হলুদ কফ বের হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। গুরুতর ক্ষেত্রে, হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। যদি ধূমপান করেন, তাহলে ধূমপান এখনই ত্যাগ করুন। ধূমপান ত্যাগই এ রোগের গতিবিধিকে পরিবর্তন করতে পারে।

কানে তীব্র সংক্রমণ :

এ সংক্রমণ একটি শীতকালীন সাধারণ রোগ। স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা মধ্যকর্ণে প্রদাহের ফলে এ স্থানে তরল পদার্থ জমা হয়। এটা পরে পুঁজে পরিণত হয়ে কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে বের হয়ে আসতে পারে। কানের সংক্রমণের জন্য অন্যান্য ঝুঁকিগুলো হলো ঠান্ডা, ধূমপান, সাইনাসের সংক্রমণ এবং জলবায়ুর পরিবর্তন। কানে অস্বস্তি, কানে তীব্র ব্যথা এবং শ্রবণশক্তি হ্রাস হলো এর প্রধান উপসর্গ।

যে কোনো ধরনের কানের সংক্রমণ নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করে প্রতিরোধ করা যায়-

* গোসল বা সাঁতারের পর কান সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।

* ধূমপান পরিহার করুন।

* টিকা দেওয়া আপ টু ডেট আছে কিনা নিশ্চিত করুন।

* ওষুধের মাধ্যমে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করুন।

* সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট কানের সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়, তাই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা আবশ্যক। ভাইরাস হলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। যদি কানের সংক্রমণের সঙ্গে ব্যথা থাকে, তাহলে চিকিৎসক প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথা উপশমকারী ওষুধ দিতে পারেন।

মাথাব্যথা ও প্রতিকার :

ঠান্ডা বাতাস মাঝে মাঝে মাথাব্যথাকে উসকে দিতে পারে। ঠান্ডা বাতাস মাইগ্রেনের আক্রমণ ঘটাতে পারে, সাইনাসের সংক্রমণ করতে পারে যা শীতকালে মাথাব্যথার প্রধান কারণ। নিজেকে একটি উষ্ণ মাফলার বা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে চলাফেরা করুন। যদি দু-চাকার গাড়ি চালান, শীতকালে মাথাব্যথা থেকে রেহাই পেতে চাইলে ভালো হেলমেট এবং মাফলার ব্যবহার করুন।

ত্বকে চুলকানি ও প্রতিকার :

শীতে কম আর্দ্রতার সঙ্গে ঠান্ডা তাপমাত্রা শুষ্ক চুলকানি সৃষ্টি করে। সংবেদনশীল ত্বকের অনেকেরই শীতের সময় চুলকানি হয়। যত্ন নেওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো প্রতিদিন রাতে নারিকেল, জলপাই বা বাদাম তেল ব্যবহার করা।

ঠান্ডাতে ঘা ও প্রতিকার :

শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ার তীব্রতার কারণে শীত মৌসুমে ঠান্ডা ঘা (cold sore) বেশি হয়, যদিও এটি বছরের যে কোনো সময় হতে পারে। শুষ্ক এবং ঠান্ডা বাতাসে ঠোঁট শুকিয়ে যায়; যা তাদেরকে হার্পিস (Herpes) ভাইরাসের জন্য আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ঠোঁটে এবং ঠোঁটের কোণে ঠান্ডা ঘা (cold sore) সৃষ্টি হয়। মানসিক চাপের মধ্যে থাকলেও ঠান্ডা ঘা বেশি দেখা যায়। শীতকালে নিজের যত্ন নিয়ে ঠান্ডা ঘা হওয়ার আশংকা কমাতে পারেন। পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং বিশ্রাম ঠান্ডা ঘা হওয়ার আশংকা কমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন পার্কে বেড়াতে যান, সিনেমা দেখুন এবং মনকে প্রফুল্ল রাখুন।

শুষ্ক ত্বক

শীতে সাধারণ সমস্যার মধ্যে একটি হল ত্বক শুষ্ক হওয়া। বাতাসের আর্দ্রতা কম হয় বলে এটি হয়। ঠান্ডা আবহাওয়া ত্বকের ক্ষতি করে, ফলে ত্বক চুলকায় এবং শুষ্ক হয়ে যায়। ঠোঁট ও পায়ের গোঁড়ালি ফেটে যায়। শুষ্কতার কারণে ফাটলযুক্ত ত্বক, রক্তপাত, ব্যথা এবং সংক্রমণ হতে পারে। এজন্য নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লোশন, ময়েশ্চারাইজিং সাবান ব্যবহার, পেট্রোলিয়াম জেলি বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সময় হল স্নান বা গোসলের পর, যখন ত্বক আর্দ্র থাকে এবং ঘুমানোর সময়। গরম পানির বদলে উষ্ণ পানি গোসলে ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি ত্বককে আরও শুষ্ক এবং চুলকানির প্রবণতা সৃষ্টি করে। ইউরিয়া ক্রিম ফাটা চামড়া সারাতে সহায়তা করে।

জয়েন্টে ব্যথা

শীতে অনেকে জয়েন্টে ও মাংসপেশিতে ব্যথা এবং জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া রোগে ভোগেন। এটি আর্থ্রাইটিস রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হঠাৎ তাপমাত্রা বেশি কমে গেলে জয়েন্টের ব্যথা শুরু হতে পারে, যা চলনশক্তিহীন বা স্থবির করে দিতে পারে। শীতের মাসে অনেক মানুষ একটু হতাশায় (Depression) ভোগেন এবং এর ফলে তারা ব্যথাকে আরও তীব্রভাবে অনুভব করে। জয়েন্টের ব্যথা ও মাংশপেশি শক্ত হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে- নিজেকে এবং নিজের হাত-পা গরম রাখা, ভারী গরম কাপড়ের পরিবর্তে দুই বা তিন জোড়া পাতলা পোশাক পরুন, ব্যায়াম করুন তবে অতিরিক্ত নয়, রৌদ্রস্নান করাও জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায়।

৭ কারণে হতে পারে পাকস্থলীতে ক্যান্সার

আমাদের জন্য শরীরের সব অঙ্গই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পাকস্থলী। আর এতে হওয়া বিভিন্ন সংক্রমণের মধ্যে একটি হচ্ছে পাকস্থলীতে ক্যান্সার।

মূলত পেটের টিস্যু তৈরি করে এমন কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন হলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের সূচনা ঘটে। মিউটেশনের কারণে ডিএনএ কোষকে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে বলা শুরু করে এবং দ্রুত প্রতিলিপি ঘটে। ফলে এই কোষগুলো একত্রিত হয় এবং টিউমার গঠন করে। আর এ পরিস্থিতিতে সব সুস্থ কোষকে মেরে ফেলে। এ ছাড়া এই বৃদ্ধি অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত পাকস্থলীতে ক্যান্সার কেন হয় তার নির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও কী কী কারণে এটির বিকাশ হতে পারে তার ধারণা দিয়েছে গবেষণা। আসুন জেনে নিই তেমনই সাত কারণ—

১. গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ হলো একটি অবস্থা, যেখানে খাদ্যনালীর (ইসোফেগাস) শেষে অবস্থিত বৃত্তাকার পেশি ঠিক করে বন্ধ হয় না, আর পাকস্থলীতে থাকা যাবতীয় জিনিস খাদ্যনালীতে উঠে আসে ও জ্বালা সৃষ্টি করে। এটি অনেকটা বুকজ্বালা করার মতো। এটি থেকেও পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে।

২. স্থূলতা
স্থূলতার কারণে অনেক সময় পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে। আপনার অতিরিক্ত স্থূলতা থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা উচিত।

৩. বেশি নোনতা ও ধোয়াযুক্ত খাবার
বেশি পরিমাণে নোনতা ও ধোয়াযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অনেক সময় পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে।

৪. ফল ও সবজি কম খেলে
ফল ও সবজি শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি এ ধরনের খাবার অতিরিক্ত কম খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

৫. পারিবারিক ইতিহাস থাকলে
পারিবারিক উতিহাস সূত্রেও অনেকের পাকস্থলীতে ক্যান্সার হতে পারে।

৬. দীর্ঘমেয়াদি পেটের প্রদাহ বা গ্যাস্ট্রিক
দীর্ঘমেয়াদি পেটে প্রদাহ থাকলে বা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্যাস্ট্রিকের কারণে তা একসময়ে গিয়ে পাকস্থলীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

৭. ধূমপান
অতিরিক্ত মাত্রায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধূমপান করার কারণে তা পেটের পাকস্থলীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

তথ্যসূত্র: মায়োক্লিনিক ডট ওআরজি

শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন বৃদ্ধি করবে ৬ খাবার

শরীরের জন্য অক্সিজেন হচ্ছে অপরিহার্য একটি পুষ্টি। হাইপোক্সিয়া এবং টিস্যুর ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য রক্তে ৯৪-৯৮ শতাংশ অক্সিজেন স্যাচুরেশন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কম থাকলে তা হাঁপানি, ফুসফুসের ব্যাধি, কোভিড-১৯, ফাইব্রোমায়ালজিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশি ঝুঁকিতে রাখে এবং অবস্থার অবনতি ঘটিয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

তাই এমন জটিলতা এড়াতে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা খুবই সহায়ক হতে পারে। এ জন্য জানুন এমন ৬ খাবার সম্পর্কে, যেগুলো শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে—

১. ডালিম
ডালিম শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে। কারণ ডালিমের মধ্যে রয়েছে— আয়রন, কপার, জিঙ্ক, ভিটামিন বি৩, বি৬ ও কোলিন। এটি নাইট্রিক অক্সাইড জৈব বৃদ্ধি করে এবং অক্সিজেন ডেলিভারি বৃদ্ধি করে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে।

২. খেজুর
খেজুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যসহ পলিফেনল সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি নিউরোডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে, থেরাপিউটিক প্রভাব প্রদান করতে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ক্ষতি এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

৩. বিটরুট
বিটরুটে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রিক অক্সাইড থাকে, যা রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে এবং টিস্যুতে অক্সিজেনযুক্ত রক্তপ্রবাহকে সক্ষম করে। এ ছাড়া বেশ কিছু গবেষণায় আরও দেখা যায় যে, বিটরুটের রস হাইপোক্সিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ জন্য অক্সিজেন স্যাচুরেশন বৃদ্ধিতে আপনি বিটরুট জুস খেতে পারেন।

৪. গাজর
গাজর হচ্ছে ভিটামিন এ, বি৩, বি৫, বি৬, সি, কোলিন, পটাসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক এবং কপার সমৃদ্ধ। আর এটিতে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে যা প্রদাহবিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ, যা শরীরকে ডিটক্সিফাই করার জন্য এবং টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কাজ করে।

৫. মাশরুম
মাশরুম হচ্ছে খাদ্যতালিকাগত প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। এতে রয়েছে আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন বি৩, বি৫, বি৬, সি ও ডি। এ ছাড়া মাশরুমে থাকা বিটা-গ্লুকানগুলোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিকোলেস্টেরোলিক (প্লাজমা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়) রয়েছে, যা স্নায়ুর ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

৬. বাদাম ও সূর্যমুখী বীজ
বাদাম ও সূর্যমুখী বীজ হচ্ছে আয়রন, তামা, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি৩, বি৫, বি৬, ই, প্রোটিন, খাদ্যতালিকাগত ফাইবার এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের বড় উৎস। আর এই পুষ্টিগুলো অক্সিজেন প্রবাহ উন্নত করতে এবং অক্সিজেনযুক্ত রক্তকে হার্ট থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে পরিবহন করতে সহায়তা করে। তাই এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে, কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে, বিপাকীয় সিনড্রোমের ঝুঁকি কমাতে এবং ভাসকুলার কার্যকলাপকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: স্টাইলক্রেজ ডটকম

ঢাবি ছাত্র হিমেল দুদিন ধরে নিখোঁজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের ছাত্র হিমেল হামিদ দুদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার সকালে শহীদুল্লাহ হল থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দিলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

হিমেলের বাবার নাম বিল্লাল সিকদার। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরের জামালহাটকুড়া গ্রামে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে হিমেলের চাচাতো ভাই ঢাবির শিক্ষার্থী মাহফুজ তালুকদার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ছেলে নিখোঁজের বিষয়ে বিল্লাল সিকদার রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার হিমেল আমাকে শুক্রবার বা শনিবার বাড়িতে আসার কথা জানায়। এরপর শুক্রবার বাড়ি না আসায় ভেবেছি শনিবার আসবে, তবে শনিবার সে বাড়ি পৌঁছায়নি। শনিবার তার ফোনে ফোন দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, আজকে জামালপুর হাসপাতালে তাকে পাওয়া গিয়েছে বলে খোঁজ পাই। গাড়ি করে জামালপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হলে আবার সংবাদ পাই যাকে পাওয়া গেছে সে হিমেল নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, হিমেলের বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে আমাদেরই রসায়ন বিভাগের ছাত্র মাহফুজ এসেছিল। এ ঘটনায় হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। এছাড়া শনিবার রাতে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এরপর তার ফোনের লোকেশন খুঁজে বের করা হয়েছে ১৯ তারিখ সকাল পৌনে সাতটা পর্যন্ত টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান করছে। এখন তার খোঁজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের মতো করে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হালদারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

দৃষ্টিপাতের তিন যুগপূর্তি উৎসব

প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পেরিয়ে তিন যুগ পূর্ণ করেছে দৃষ্টিপাত নাট্যদল। নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও ধারাবাহিক নাট্য প্রযোজনার জন্য দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি রয়েছে দলটির। নাট্যদলটির তিন যুগপূর্তিতে গত ১৮ থেকে ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাট্য উৎসবের আয়োজন করে দলটি।

‘সৃজনে স্বজনে মননে নন্দনে’ স্লোগানে তিন দলের তিন নাটক মঞ্চে আনে দলটি। এগুলো হলো- বাতিঘরের ‘ঊর্ণাজাল’, দৃষ্টিপাতের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ ও ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের নাটক ‘বহিপীর’। ১৮ নভেম্বর উৎসবের উদ্বোধনী দিনে ৩৬টি নাট্যদলের ৩৬ জন প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য-আলোচনা, পরম্পরার পরিবেশনা শেষে বাকার বকুলের রচনা ও নির্দেশনায় বাতিঘরের নাটক ‘ঊর্ণাজাল’ মঞ্চস্থ হয়। দ্বিতীয় দিন ড. খন্দকার তাজমি নূরের রচনা ও নির্দেশনায় দৃষ্টিপাতের নাটক ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং তৃতীয় দিন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনা ও আফরিন হুদা তোড়ার নির্দেশনায় ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের নাটক ‘বহিপীর’ মঞ্চায়নসহ বেশ কিছু কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিয়ের ভিডিও পোস্ট করলেন রাজকুমার-পত্রলেখা দম্পতি

সাত পাকে বাঁধা পড়ার টুকরো টুকরো মুহূর্ত ছবিতে সাজিয়ে দিচ্ছিলেন বলিউডের তারকা দম্পতি রাজকুমার রাও এবং পত্রলেখা।

এবার পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানকেই একটি ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলেন তারা। রোববার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট হওয়া সেই ভিডিওতে ধরা রইল তাদের আজীবনের ভালবাসার গল্প। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ভিডিওতে বিয়ের মণ্ডপে ঢোকা থেকে মালা বদল নিয়ে খুনসুটি, আর সব শেষে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া— চিরকালের মতো গাঁথা হয়ে থাকল তাদের ভালবাসা পরিণতি পাওয়ার প্রতিটি ধাপ।

রাজকুমারের দিক থেকে চোখ সরাতে পারছিলেন না পত্রলেখা। বাঙালি এ অভিনেত্রী বলেছেন, ১১ বছর ধরে আমরা একে অপরকে চিনি। তবু মনে হয় যেন বহু জন্মের চেনা। তোমার চেয়ে ভাল কেউ হতেই পারে না!

এর পরেই হাতে হাত রেখে হাসিমুখে সাত পাক। সিঁদুর টানে একে অপরকে জীবনভরের মতো বেঁধে নেওয়া। সংসারে পা বাড়িয়েছেন দু’জনে।

এর মধ্যেই অবশ্য বলিউডের হাওয়ায় উড়ছে আরও একটা খবর। দু’জনেই নাকি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। এবার তারা বিয়ে করবেন খ্রিস্টান মতে।

ধবল ধোলাই এড়াতে পারবে বাংলাদেশ?

টি ২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর পাকিস্তান সিরিজের দলে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তাতেও সাফল্য ধরা দেয়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই হারে সিরিজ খোয়ানোর পর দলে আরও দুটি নতুন নাম যোগ হলো। শরীরের এক পাশে ব্যথা পাওয়ায় আজ শেষ ম্যাচে সম্ভবত খেলছেন না মোস্তাফিজুর রহমান। তাই একদিন আগে ডাক পাওয়া পেসার কামরুল হাসান রাব্বি ও পারভেজ হোসেন ইমনের আজ একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিতই। নতুন করে সাজানো দল নিয়ে শেষ ম্যাচে জয়ের আশাতেই নামবে বাংলাদেশ। ধবল ধোলাইয়ের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে শেষ চেষ্টায় নতুনের কেতন উড়ানোর পথও খুঁজবে টিম ম্যানেজমেন্ট। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২টায়।

ঘরের মাটিতে টানা তিন সিরিজ জয়ের পর পাকিস্তানের কাছে আধিপত্য হারিয়েছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টি ২০ সিরিজ হেরে বসে আছেন মাহমুদউল্লাহরা। শেষ ম্যাচ জিততে পারলেও সেটা কম প্রাপ্তির হবে না। হোয়াটওয়াশের গ্লানি অন্তত এড়ানো যাবে। প্রথম দুই ম্যাচেই দলকে ডুবিয়েছে বাজে ব্যাটিং। ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ থেকেই এই ব্যাটিং সমস্যায় ভুগছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে বোলারদের কল্যাণে। বিশ্বকাপে ভরাডুবিতেও ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকেই এসেছে সর্বোচ্চ ৪০ রান। আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা ভালো করলেও তাদের কাছে আরও প্রত্যাশা দলের। দুম্যাচেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর আউট হওয়ার ধরন ছিল হতাশাজনক। মেহেদী হাসান সাতে নেমে প্রথম ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সময়ের দাবি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ১২৭ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে করতে পারে মাত্র ১০৮ রান। কঠিন হলেও মিরপুরের উইকেট যে এত কম রানের নয় সেটা জানিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। বোলিংয়ে অবশ্য বাংলাদেশ ভালো কিছুর আশা জাগিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। দ্বিতীয় ম্যাচে হাত থেকে দুটি সহজ ক্যাচ ফসকেছে। উড়তে থাকা পাকিস্তানকে হারাতে সব বিভাগেই উন্নতির কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের। এত ক্যাচ মিস নিয়ে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, ‘ছেলেরা অনুশীলনে অনেক কাজ করছে, নিয়মিত অনেক ক্যাচ নিচ্ছে। অনুশীলনে সম্ভব সব কিছুই করছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ম্যাচে আমরা সুযোগ হাতছাড়া করছি।’ এদিকে সিরিজ জয়ের পরও থামতে চায় না পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে হারের শঙ্কা থেকে জয় পেয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচের শিক্ষা থেকে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমে দারুণ সফল হয়েছে তারা। জয় পায় আট উইকেটে। সিরিজ ৩-০ করাই এখন বাবর আজমদের লক্ষ্য।

টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার রেকর্ড গড়লেন রোহিত শর্মা

ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রোহিত শর্মা ইতোমধ্যে নিজের নামের পাশে অনেক রেকর্ড লিখিয়েছেন। এবার ছক্কা হাঁকিয়ে গড়লেন নতুন রেকর্ড ।

রোববার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিজের ইনিংসে তিনটি ছক্কা হাঁকান রোহিত শর্মা। আর এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০টি ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন রোহিত।

এই রেকর্ডে রোহিতের আগে আছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং দানব মার্টিন গাপটিল। টি-টোয়েন্টিতে তার ছক্কা রয়েছে ১৬১টি। এছাড়া একশোর বেশি ছক্কা রয়েছে ক্রিস গেইল (১২৪), ইয়ন মরগ্যান (১১৯), অ্যারন ফিঞ্চ (১১৩), এভিন লুইস (১১০), কলিন মুনরো (১০৭)।

এদিকে, রোহিত শর্মা অর্ধশতরানে বিরাট কোহলিকে টপকে গেছেন । রোববার শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩১ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। আর এর মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৩০টি ফিফটি হলো রোহিতের। ১১৯ ম্যাচ খেলে এমন রেকর্ড করলেন তিনি।

এছাড়া রোহিতের চেয়ে কম অর্থাৎ ৯৫টি ম্যাচ খেলে ২৯টি অর্ধশতরান করেছেন কোহলি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমের ২৫টি অর্ধশতরান রয়েছে। এছাড়া ডেভিড ওয়ার্নারের ২২টি এবং গাপটিলের ২১টি ফিফটি রয়েছে।

তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিচ্ছে বিএনপি

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি এক সপ্তাহ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই ইউনিয়ন বিএনপিতে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হচ্ছে। এতে শীর্ষ পদে থাকছেন না বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের কেউই। নতুন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতাদের।

আন্দোলনের পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি। দলে গতি আনতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করা হয় গেল দুই বছর আগে। কিন্তু এরপরও আশানুরূপ দক্ষতা দেখাতে পারেননি নেতারা। তাই ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন ৫টি ইউনিয়ন কমিটি ঢেলে সাজাতে চায় উপজেলা বিএনপি।

উপজেলার সদর, মাইজগাঁও ইউনিয়ন ও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে তরুণ জহিরুল ইসলাম তানিমকে ও ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ এমরান উদ্দিনকে আহবায়ক করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ইফতেখার উদ্দিন ফেদল অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করেছেন। শূন্যপদে গত ২০ আক্টোবর জেলা বিএনপি দায়িত্ব দেয়া হয় সৈয়দ বদরুজ্জামান খিজিরকে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া পর থেকে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বিএনপির এক বর্ধিত সভায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ বদরুজ্জামান খিজির বলেন, সারা দেশে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনা করে সবার সমন্বয়ে কমিটি করা হচ্ছে।