সোমবার ,১১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 608

মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য

বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো সিরামিক পণ্য আমদানি ও বিপণন শুরু করেছে মুন্নু মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডি।

এ উপলক্ষে বুধবার ১ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সিরামিকপণ্য বাজারজাতকরণে বিস্তর আলোচনা করেন- মুন্নু মালয়েশিয়া এসডিএন.বিএইচডির সিইও ও ডিরেক্টর মাহবুব আলম ও কে-লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডির ডিরেক্টর এবং যুগ্ম মহাসচিব বিএমসিসিআই দাতো গুনাহলাম সুব্রামানিয়াম।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্যের উদ্বোধন করেন হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও কাউন্সেলর (বাণিজ্যিক) মো. রাজিবুল আহসান।

আলোচনায় হাইকমিশনার বলেন, রফতানি বাজার হিসেবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। মালয়েশিয়ায় রফতানি বাজার অধিকতর সম্প্রসারিত হলে আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশেও রফতানি দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি মনে করেন। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কূটনীতি জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশন নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পণ্য রফতানিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, মালয়েশিয়ার ডিউটি ফ্রি কোটা-ফ্রি (ডিএফ কিউএফ) লিস্টে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তকরণ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলা ও ইভেন্টে অংশগ্রহণ। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে নিয়মিত রোডশো ও ব্রান্ডিং-অনুষ্ঠান আয়োজন ইত্যাদি।

১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের মোট রফতানি ছিল ২৩২.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে রফতানি বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭৭.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়ার বাজারে সিরামিকের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, হিমায়িত মাছ, কাঁকড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য, মসলা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, আলু, টেবিলওয়্যার ও হালাল খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও কৃষিজাত পণ্য সবচাইতে বেশি রফতানি হয়েছে মালয়েশিয়ায়।

রেমিটেন্সের বেহালদশা

যেখানে করোনা শুরুর বছরে বানের ঢেউয়ের মতো প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স এসেছিল দেশে, সেখানে এখন টানা ছয় মাস ধরে শুধুই কমছে। বর্তমানে বেহালদশা প্রবাসী আয়ে। সদ্যবিদায়ী মাস নভেম্বরে যে পরিমাণ রেমিটেন্স এসেছে, তা গত দেড় বছরের সর্বনিম্ন।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত বছরের এই মাসে রেমিটেন্স এসেছিল ২০৭ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম। ২৫ শতাংশ কমে গেছে।

গেল নভেম্বরে আসা এই রেমিটেন্স গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২০ সালের মে মাসে সর্বনিম্ন ১৫০ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে রেমিটেন্স আসে ৮৬০ কোটি ৮৮ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা)। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৮ কোটি ৫২ লাখ বা প্রায় ২১ শতাংশ কম। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) প্রথম পাঁচ মাসে আসে এক হাজার ৮৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা)।

২০২০-২১ অর্থবছর অর্থাৎ করোনার শুরুর বছরে রেমিটেন্সের ঢেউ নামে। ওই অর্থবছরে যত রেমিটেন্স দেশে আসে, তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ওই বছরে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠান প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি ছিল।

কিন্তু দিন দিন এভাবে রেমিটেন্স আসা কমে যাওয়াকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর হুন্ডির মাধ্যমে আবারো অর্থ লেনদেন বেড়ে গেছে। এ ছাড়া করোনাকালে যে হারে প্রবাসীরা চাকরি হারিয়েছে সেভাবে এখন নতুন নিয়োগ হয়নি। এজন্য রেমিটেন্স আসা কমেছে।

ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত কতটা সুরক্ষিত?

দেশের অর্থব্যবস্থা পরিচালনার দৃশ্যপট বিশ্লেষণে দরিদ্র-নিম্নমধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর অতিকষ্টে ব্যাংকে সঞ্চিত আমানত বিশ্বাসযোগ্য নিরাপদ নয় বলে ভোক্তাসমাজের ধারণা। জনশ্রুতিমতে, শিল্পকারখানা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যক্তি বা বেসরকারি পর্যায়ে ঋণগ্রহীতার অসৎ উদ্দেশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে উন্মোচিত।

নদী-সমুদ্র-জলাশয়-খাসজমি বন্ধক রেখে অবৈধ-অনৈতিক যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণের নামে অর্থ লুণ্ঠন বিনিয়োগের নতুন প্রকরণ ‘খেলাপি ঋণ’ হিসাবে বিবেচিত। দেশবাসীর কাছে অতি সুপরিচিত হাতেগোনা স্বল্পসংখ্যক নষ্ট উদ্যোক্তার করায়ত্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পবিত্র আমানত। খেলাপি ঋণের বিশাল অংশ পাচারের মাধ্যমে বহির্দেশে এসব পাপিষ্ঠের পর্বতসম সম্পদ হিসাবে পুঞ্জীভূত হচ্ছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

সচেতন মহল বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছে, এদের বিরুদ্ধে কোনো কঠিন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষ অপারগ। অধিকতর পরিতাপের বিষয়, এদের বিদেশ গমনাগমন-অবস্থান এবং লুম্পেন চরিত্র উদ্ঘাটন যেন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে এক ধরনের প্রহসনে পরিণত হয়েছে। পুরো দেশকে জিম্মি করে ধ্বংসের তলানিতে পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই কদর্য অপচেষ্টার যেন কোনো পরিসমাপ্তি নেই। ভয়ংকর এসব চিহ্নিত গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড সবাইকে হতবাক করলেও তাদের পৃষ্ঠপোষক-সহায়তাকারী-ভাগবাঁটোয়ারার অংশীদারদের আনন্দ-বিনোদন-ভোগবাদী চরিত্র বরাবরই আনন্দরথে প্রতিভাত।

গত ২৪ নভেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনিং বিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ১৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি ১২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার বিপরীতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধিতে গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ১৯ নভেম্বর প্রকাশ হওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন এপ্রিল-জুন ২০২১’-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, খেলাপি ঋণের শীর্ষে থাকা পাঁচ ব্যাংকেই আছে ৪৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক। শীর্ষ পাঁচসহ ১০ ব্যাংকে রয়েছে ৬২ হাজার ৩৯৪ কোটি এবং বাকি ৪৯ ব্যাংকে আছে ৩৬ হাজার ৮১১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ যেমন কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, তেমনই সম্পদও কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। কিছু ব্যাংক, বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে লাগামহীনভাবে। পক্ষান্তরে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে সম্পদ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে সম্পদের সুষম বণ্টন হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর সুষম বণ্টনের ঘাটতির কারণে কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি, আবার কোনো ব্যাংকের একেবারেই নেই বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানদণ্ডে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের কারণে ২৫টি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ৪৩টি ব্যাংক ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতে মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ কোটি টাকা। তন্মধ্যে গ্রাহকের কাছে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১১ লাখ কোটি এবং বাকিগুলো অন্যান্য সম্পদ। বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে ৮ দশমিক ২ শতাংশ খেলাপি। এর মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণ ৮৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। সন্দেহজনক ঋণ ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ ছাড়ে তা কমে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। ব্যাংক খাতে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণের হার ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশের বিপরীতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৭ শতাংশে এবং ২০২১ সালের জুনে তা হয় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ব্যাংক খাতে আদায় অযোগ্য ঋণ বেড়ে যাওয়াটা আতঙ্কের এবং ঋণ বিতরণে কোনো নিয়মকানুন না মানায় এ ঋণ বৃদ্ধির হার বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।

তিনি বলেছেন, ‘পূর্বের জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণগুলো এখন আদায় অযোগ্য ঋণে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকারদের অবশ্যই এই ঋণ বাড়ার গতি রোধ করতে হবে। তা না হলে ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্য ধরে রাখা যাবে না। আদায় অযোগ্য ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংকের সম্পদ আটকে যাচ্ছে।’

১৮ নভেম্বর প্রকাশিত উল্লিখিত সূত্রমতে, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ১০ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে, যার একটি বৃহৎ অংশ প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকরা নানা জালিয়াতি করে লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নামে-বেনামে ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় প্রদত্ত ঋণগুলো আদায় না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ আদায়ে মামলা করতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থঋণ ও অন্য আদালতে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৩২টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্তদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলে আছে এবং কাঙ্ক্ষিত নিষ্পত্তি না হওয়ায় আদালতে মামলার স্তূপে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া ঋণখেলাপি রাঘববোয়ালরা আদালতে মামলাগুলো ঝুলিয়ে রেখে বহাল তবিয়তে দেশের ব্যবসা ও রাজনীতিতে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বিপুল অঙ্কের এই টাকা আটকে থাকার জন্য মূলত দায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা। আদালতে বারবার স্টে অর্ডার বা স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে তারা বাধা সৃষ্টি করছেন। ফলে মামলাগুলো শুধু বছর নয়, যুগের পর যুগ ঝুলে থাকে। এমনকি টাকা আদায়ে ১৯৯৯ সালে করা একটি মামলার চূড়ান্ত রায় আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের পাসপোর্ট জব্দ করে বিদেশ যাওয়া বন্ধ, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সব সুযোগ-সুবিধা বাতিলের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বর্জন বা একঘরে করা না হলে টাকা আদায় সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

১৪ অক্টোবর প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চার ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে ৩৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা আছে খেলাপির হিসাবে আর বাকি ১৬ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন থেকে আড়াল করা হয়েছে। বিজ্ঞজনদের মতে, অনিয়ম আড়াল করার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম প্রদর্শন করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপনের পন্থা অবলম্বন করছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতে, ঋণ অবলোপন করা মানে খেলাপি ঋণকে অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া। অবলোপনের নামে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট পরিচ্ছন্ন করে কোনো লাভ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী বিতরণকৃত ঋণের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চিতি রেখে ঋণ অবলোপনের বিধান থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো শতভাগ সঞ্চিতি রেখে ঋণ অবলোপন করছে। ফলে প্রতিবছরই ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে শত শত কোটি টাকার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গ্রাহকদের আমানতের অর্থ থেকে দেওয়া ঋণ ব্যাংকগুলো বিভিন্ন কেলেঙ্কারি-অনিয়ম-জালিয়াতি ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়ে মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মন্দ ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি ও বিশেষায়িত মোট ১১টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। যার মধ্যে সরকারি পাঁচটি, বিশেষায়িত দুটি এবং বেসরকারি খাতের চারটি। জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকায়।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক প্রকাশিত ‘ব্যাংকিং খাত তদারকি ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ : বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিপুল পরিমাণে খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতে বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চরম মূলধন সংকট তৈরি করেছে। আর এ সংকট কাটাতে প্রতিবছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় জনগণের করের টাকা থেকে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে জনগণের অর্থ ও আমানত নিয়েই ব্যবসা করে থাকে-এ বাস্তবতার স্বীকৃতি বাংলাদেশে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের স্বেচ্ছাচারী প্রবণতায় মনে হয়, ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের অর্থ যেন কিছু মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ, যা তাদের খুশিমতো ব্যবহার করা যাবে।’ ব্যাংকসংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদিচ্ছার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব-হস্তক্ষেপের ফলে ব্যাংক খাতে আইনের লঙ্ঘন ও অনিয়ম-দুর্নীতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে সমগ্র ব্যাংক খাতে কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপের পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব গোষ্ঠী বা পরিবার রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসাবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দখলে নিচ্ছে। খেলাপি ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও বিদেশে পাচার হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাংক খাতের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি কমাতে হলে সুশাসন বাড়িয়ে দুর্নীতি বন্ধ করে প্রতিটি ঋণ যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দৃশ্যমানতা ও স্বচ্ছতাই ঋণখেলাপি হ্রাসে সহায়ক হবে বলে তাদের মতামতে উঠে আসে।

গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটিসহ (জিএফআই) বিভিন্ন সংস্থার মতে, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ পাচার হয় আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিং, রপ্তানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং এবং হুন্ডির মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে অনুমান করা যায়, খেলাপি ঋণের অধিকাংশ অর্থ উল্লিখিত উপায়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

জিএফআই-এর সূত্রমতে, ২০২০ সালে দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে দেশের সব উন্নয়ন-অর্জন যে অন্তঃসারশূন্যে পর্যবসিত হবে এবং ক্রমান্বয়ে দেশ দুষ্টচক্র সৃষ্ট কঠিন সংকটের অতল গহ্বরে নিপতিত হবে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী : সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

কমিটি না থাকায় স্থবির দলীয় কার্যক্রম

তিন বছর ধরে রংপুর জেলা যুবলীগের কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কেন্দ্র থেকে একাধিকবার সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলা যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর ধরে দুই দফায় আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছিল রংপুর জেলা যুবলীগের কার্যক্রম। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের নেতৃত্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর এইচএম রাশেদুন্নবী জুয়েলকে আহ্বায়ক করে পুনরায় কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

সেই আহ্বায়ক কমিটিও দলীয় কার্যক্রমে গতি আনতে না পারায় এবং অগঠনতান্ত্রিক কাজ করায় ২০১৮ সালের ১৪ মে জেলায় যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর ও তারাগঞ্জ উপজেলা কমিটিও বাতিল করা হয়।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বিষয়ে ঘোষণা এসেছিল। এর কিছুদিন পর রংপুরে জেলা যুবলীগের স্থগিত কমিটির আহ্বায়ক রাশেদুন্নবী জুয়েল টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

দীর্ঘ দিন ধরে কমিটি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতাদেশ আজও প্রত্যাহার করেনি। তারপরও জেলা যুবলীগের অনেক নেতা নিজেদের পদ বহাল দাবি করে দলীয় কাজে অংশ নিচ্ছেন।

নেতাকার্মীরা আরও জানান, কমিটি না থাকায় তারা খুব একটা দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে চান না। এ কারণে জেলায় তেমন একটা দলীয় কর্মসূচি পালনও হয় না। এর ফলে জেলা যুবলীগের দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ঝিমিয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। এ সংকট থেকে উত্তরণে জেলায় দ্রুত কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ও ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতারা রংপুর সফরে আসেন। এ সময় তারা পৃথকভাবে কর্মিসভা ও বর্ধিতসভা করেন। তখন নতুন কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতারাও তাতে সায় দিয়েছিলেন। তারা যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু আজও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

রংপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মাসুদ রানা বিপ্লব জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কমিটি চায়। আমরাও চাই নতুন কমিটি হোক। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হোক।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকুল বলেন, আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে যুবলীগ করেছি। উপজেলা কমিটিতেও যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে ছিলাম। রংপুরে দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের কমিটি নেই। এ কারণে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। এতে অনেক প্রতিভা অকালে ঝরে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ করা অনেক নেতাকর্মী ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলায় যুবলীগের কমিটি গঠন করে সাবেক ছাত্র নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানান তিনি।

রংপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ওলিউর রহমান শিমু ও শিপন আহমেদ বলেন, জেলা যুবলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। সবাই চায় ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতারা যেন কমিটিতে স্থান পায়। আশা করি, এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার বিদেশে যেতে বাধা আইন নয়, সরকার: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। কেন সরকার তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। এই আইনের মধ্যেই বলা আছে, ইচ্ছা করলে সরকার তাকে যেতে দিতে পারে। বাধা আইন নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। এই অবৈধ সরকার তাকে (খালেদা জিয়া) রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মৌন মিছিল করার কথা ছিল মহিলা দলের। বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতে মৌন মিছিল করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আটকে দেয়। পরে সমাবেশ শেষেও তারা মিছিল করার চেষ্টা করে। তাও আটকে দেয় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মৌন মিছিলকেও সরকার ভয় পায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অনুমতি না থাকা ও যানজটে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মহিলা দলকে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। তারপরও তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে।

মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সরকার ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে। ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতাগুলো অর্জিত হয়েছিল, সেই মুক্ত সমাজ, কথা বলার স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, সেগুলো এই আওয়ামী লীগ সরকার লুট করে নিয়েছে। ভিন্ন মোড়কে তারা এখানে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জীবনবাজি রেখে লড়াই করতে হবে।

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিন খান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, নিলোফার চৌধুরী মনি, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেতা রহিমা শরীফ মায়া, আয়শা আখতার দিনা, মমতাজ বেগম, পিয়ারা মোস্তফা, রাজিয়া আলীম, আমেনা খাতুন, শামসুন্নাহার বেগম প্রমুখ।

বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা সম্ভব নয়-ড্যাব : খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সভাপতি হারুন আল রশিদ বলেন, খালেদা জিয়ার নিয়োজিত চিকিৎসক প্যানেলের সদস্যরা দেশের প্রথিতযশা যত চিকিৎসক আছেন, তাদের মধ্যে স্বনামধন্য।

তারা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তার বাংলাদেশে চিকিৎসা এ মুহূর্তে সম্ভব নয়। এমনকি উপমহাদেশেও সম্ভব নয়। এর বিপক্ষে সরকারের অবস্থান যা, ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে বিএমএ। তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উপস্থাপন, বিদেশে সুচিকিৎসা ও স্থায়ী মুক্তির দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

ড্যাব সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল ও সরঞ্জাম প্রয়োজন। সে জন্য চিকিৎসক এনে তার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তারা বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করার কথা কালক্ষেপণ ও সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করার জন্য বলছে।

ড্যাবের মহাসচিব আবদুস সালাম বলেন, খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস হয়েছে। লিভার সিরোসিস তো দূরের কথা, বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট পর্যন্ত হয় না। আজ পর্যন্ত দুটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে, তার মধ্যে একজন মারা গেছে, আরেকজনের অবস্থা ভালো নয়। সুতরাং লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা বাংলাদেশে হয়, এটা ভুল তথ্য।

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরে হারুন আল রশিদ বলেন, যে সর্বশেষ খবর জেনেছি, তার হিমোগ্লোবিনের লেভেল কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলোর রেজাল্ট এখনো আসেনি। তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সোমবার রাতে তার আবারও রক্তক্ষরণ হয়েছে। সে কারণেই হয়তো হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কিছুটা কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ড্যাবের মহাসচিব আবদুস সালাম। লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার মৌলিক সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানদের সমাবেশ ৬ ডিসেম্বর : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ৬ ডিসেম্বর সমাবেশ করবে উপজেলা পরিষদের বিএনপিপন্থি সাবেক চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানরা। বুধবার এ কর্মসূচির কথা জানান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানদের নিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমরা বৈঠক করেছি। বৈঠকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র জানায়, বৈঠকে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৬০-৭০ জন অংশ নেন। বৈঠক থেকে ঢাকার খন্দকার আবু আশফাক, কুষ্টিয়ার জাকির হোসেন, বগুড়ার শাহে আলমকে সমাবেশ সফল করতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জরুরি অবতরণ করা বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে রিপোর্ট করছেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কর্মকর্তা

বোমা সন্দেহে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি।

বুধবার দিবাগত গভীর রাতে তল্লাশি শেষে বিমান বাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে, বুধবার রাতে আকাশে উড্ডয়নরত মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এর আগেই ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে খবর দেওয়া হয়, বাড়ানো হয় সার্বিক নিরাপত্তা।

তিনদিন পর হতে পারে বৃষ্টি

দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের শেষের দিকে দেশে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বাসসের।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা যায়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মধ্য আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

যেসব আমলে জীবন সুন্দর হয়

১. খুব ভোরে ফজরের সময় ঘুম হতে জাগ্রত হোন। দিনের অগ্রভাগের প্রফুল্লতা ও উদ্যমতাকে কাজে লাগান।প্রত্যুষের অবারিত বরকতকে নিজের করে নিন। কতোই-না চমৎকার সেই দৃশ্য! একজন সকাল করলো, এদিকে চারদিকের পরিবেশটা কতো নীরব ও প্রশান্তভাবে অবস্থান করে।

২. জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন। অন্যান্য নফল নামাজের প্রতি নিজেকে আগ্রহী করে তুলুন। দোয়া, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে নিজেকে অভ্যস্ত করুন।

৩. আপনার ওপর আল্লাহর অবারিত নিয়ামত ও অনুগ্রহকে স্মরণ করুন। তারপর বুক ভরে দয়াময় আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করুন। সর্বদা ইতিবাচক ধ্যানধারণা ও সুপ্ত মনোভাব নিজের ভেতর লালন করুন।

৪. সদা প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল থাকুন। অন্যের হৃদয়ে আনন্দ বিলিয়ে দিন। মুচকি হাসিটা যেনো মুখে লেগেই থাকে আপনার। কারণ, এটি চেহারার শোভা। তাছাড়া একটি নির্মল হাসি ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকেও আকৃষ্ট করে।

৫. নিজের ভেতর জমে থাকা যতো চিন্তা-দুশ্চিন্তা আছে, সবকিছুকে ঝেড়ে ফেলুন। সকল নেতিবাচকতা হতে যোজন যোজন দূরে থাকুন। কখনো কোনো মন্দ বা খারাপ সংবাদ প্রচার করতে যাবেন না। যে কোনো দুর্ঘটনা,নিহতের সংবাদ কিংবা এ জাতীয় গোলযোগপূর্ণ খবরাখবরের প্রতি দৃষ্টি দেবেন না। কারণ, এটি আপনাকে ধীরে ধীরে অসুস্থ এমনকি আতঙ্কিত করে তোলবে।

৬. যে কোনো কথা বলতে কিংবা কারো কোনো কথার উত্তর দিতে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করুন। কখনো কোনো কাজে তাড়া-হুড়া করতে নেই। কারণ, দ্রুততা ব্যক্তিকে লজ্জিত করে। যে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কিংবা সমস্যা মোকাবিলায় গভীর ভাবনা, ধীরতা, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়া চাই।

৭. অপরের প্রতি তার ব্যবহারে সদা কৃতজ্ঞ হোন। এমনকি এটিকে নিজের নিত্য-অভ্যাস করে নিন। প্রত্যেক সুন্দর কাজের মূল্যায়ন করতে শিখুন। অন্যের প্রতিটি ভালো কাজের প্রশংসা করুন।

৮. নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি পূর্ণ মনোযোগী হওয়া চাই। কারণ সুস্বাস্থ্যের সাথে ব্যক্তির সত্তার একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য ভালো, পুষ্টিকর এবং পরিমিত খাবারের বিকল্প নেই।

৯. প্রতিদিন এরূপ করে যেনো আপনার অতিবাহিত হয়, যেনো আপনি নতুন কোনো কিছু জেনেছেন বা শিখেছেন। তাই নিত্য আপনার জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করুন।

১০. বড়-ছোট যে কোনো বিষয়কেই গুরুত্বের চোখে দেখা চাই। কারো কথা শুনছি তো, মনোযাগের সাথে শোনা চাই। আপনার এই চুপ থাকা কিন্তু আপনাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এক ভিন্ন পরিচয়ে আসীন করে।

১১. যা আমার সাথে যায় না কিংবা আমার দায়িত্বের অংশ নয়, তাতে সময় ক্ষয় না করা। কারণ তাতে নিজেকে বেকার-বেকার লাগে। অন্যের ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে দখল নিতে যাওয়া অনুচিত। এসব অনর্থক বিষয় ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে হালকা করে দেয়।

১২. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য আলাদা একটি সময় নির্ধারণ করা চাই। কারণ আমাদের সময় অনেক মূল্যবান।

১৩. কোমলতা ও উদারতা দিয়ে একটি জিনিসকে ভাবুন। সংকীর্ণতার গলিঘুপচি হতে নিজেকে বের করে আনুন। চিন্তার সৌন্দর্যতাকে কীভাবে আরো বৃদ্ধি করা যায়, সেই চেষ্টাই করুন। যেকোনো বিষয়কে একটু ভিন্নরূপে অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা করে ভাবুন।

১৪. শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী ঘুমান ও বিশ্রাম নিন। এতো অধিক পরিমাণ না ঘুমানো-যে, ভদঅভ্যাস তৈরি হয়। আবার এতো কমও না-যে, অসুস্থ হয়ে যেতে হয়।

১৫. সময় ও সুযোগ মিললেই সাধ্যমতো সামাজিক ও মানবকল্যাণে ব্যয় করুন।

মতপ্রকাশে স্বাধীনতা, ইসলাম যা বলে

আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আদম ছিলেন প্রথম মানব। আল্লাহ যখন মানুষকে এই পৃথিবীর খলিফা বানানোর ঘোষণা করলেন, (খলিফা মানে এই জগতের উত্তরাধিকারী বা প্রতিনিধি, সে হবে স্বাধীন, সে তার নিজের কর্মের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন হবে) ফেরেশতারা তখন এতে আপত্তি জানালো এবং সন্দেহ প্রকাশ করল।

তারা বলল— أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে বসবাস করাতে চান যারা ওখানে বিশৃংখলা করবে আর রক্তপাত ঘটাবে? (সুরা বাকারা, আয়াত ৩০)।

ফেরেশতারা তাদের ভিন্নমত প্রকাশ করল। ভিন্নমত প্রকাশের এটাই প্রথম ঘটনা। তাদের এই মত আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে পুরোপুরি ভিন্ন ছিল। আল্লাহ একথা বলেন নাই যে আমার কাজে তোমরা প্রশ্ন করার কে? আল্লাহ চাইলে তাদের ধ্বংস করে দিতে পারতেন।

আল্লাহর ক্ষমতা তো এমন كُنْ فَيَكُونُ হয়ে যাও— তখনই তা হয়ে যায় (সুরা বাকারা, আয়াত ১১৭)। তিনি যদি বলতেন— ওরে ফেরেশতার দল, সব ধ্বংস হয়ে যা। এক নিমেষে সব ধ্বংস হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কী করলেন?

তিনি মানুষ সৃষ্টির কারণ বর্ণনা করলেন। আদমকে তাদের সামনে উপস্থাপন করে তার বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা দেখিয়ে ফেরেশতাদের বোঝালেন। এর মানে কী বোঝায়? মানুষ সৃষ্টির সময়ই আল্লাহ এই উদহারণ পেশ করেন যে মানুষের মতপ্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

তাদের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার থাকবে। যদি একজন ব্যক্তি অন্যের সাথে একমত না হয় তবে তাকে হত্যা করতে পারবেন না, যে প্রশ্ন করবে তাকে কারণ দর্শাবেন, তাকে মনঃপুত জওয়াব দিয়ে শান্ত করবেন, কিন্তু এরচেয়ে বেশি কিছু করতে পারবেন না।

তারপর আমাদের নবীর জীবন খেয়াল করে দেখুন৷ হজরত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা শহরে জন্মলাভ করেছিলেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তার দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। তো মক্কার সাধারণ মানুষ তাঁর সাথে কেমন আচরণ করেছিল?

তাকে (নাউজু বিল্লাহ) গালমন্দ করা হয়েছিল, পাগল বলেছিল, জাদুকর আখ্যা দিয়েছিল। লোকজন আল্লাহর প্রেরিত পুরুষের ওপর পাথর নিক্ষেপের মতো ধৃষ্টতা পর্যন্ত দেখিয়েছিল, এমনকি তাঁকে পিতৃভূমি থেকে বের হতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাকে বয়কট করে চাচা আবু তালেবের আঙ্গিনায় বন্দি করে রেখেছিল, যেখানে খাবার ও পানির বন্দোবস্ত পর্যন্ত ছিল না।

অথচ আল্লাহ তাআলা ওইসব লোকদের বাধা দেননি, যা ইচ্ছে তা-ই করতে দিয়েছিলেন। যদি এইসব ব্যাপার আল্লাহর অনিচ্ছায় ঘটতো, তাহলে আল্লাহ ওইখানেই সবাইকে ধ্বংস করে দিতেন, সবার জবান বন্ধ করে দিতেন, হাত-পা ভেঙে দিতেন।

অথচ, আল্লাহর রাসুলের নবুয়তপ্রাপ্তির প্রথম ১৩ বছর সবধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই ঘটেছে— বদনাম করা হয়েছে, পাথর ছোঁড়া হয়েছে, তার দাঁত আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তাকে হরেক কিসিমের মন্দ নাম দেওয়া হয়েছে। তো, রাসুলকে অসম্মান করা যদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতো তাহলে আল্লাহ তাআলা ওইসময়ই সমস্ত মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিতেন, অথবা রসুলের সঙ্গী-সাথীদের হুকুম দিতেন যে এক্ষুণি তলোয়ার নিয়ে এদের ধড় থেকে মস্তক আলাদা করে দাও। অথচ এমন কিছু ঘটেনি।

কেন? কারণ আল্লাহ তায়ালার এক-একজন করে পরীক্ষা নেবার ছিল, এই পরীক্ষা নেওয়া বাকি ছিল যে কোন লোকটি আল্লাহর রসুলের জবানে কুরআন শুনে সত্যানুসন্ধানী হয়, আর কোন লোকটি হয় না। কে এমন আছে যে আল্লাহর রসুলের সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি দেখে তাঁর প্রতি ঈমান আনে, আর কে আনে না।

কে এমন আছে যে আল্লাহর রসুলের পাক জবানে আল্লাহর একত্বের দলিল শুনে তা গ্রহণ করে নেয়, আর কে নেয় না। এটা তো পরীক্ষা ছিল, পরীক্ষা। তো, ওইখানে যদি সবাইকে ধ্বংস করে দিতেন তাহলে পরীক্ষা নিতেন কেমনে?

কোনো লোক যদি আল্লাহর রাসুলকে জেনে-বুঝে তার প্রতি ঈমান আনেন, তাহলে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। আর কেউ যদি আল্লাহর রসুলকে অস্বীকার করে, তাকে (নাউজু বিল্লাহ) মন্দ বলে, তাহলে সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলো।

আর আল্লাহ তাআলার দেখার ছিল কে পরীক্ষায় পাশ করে আর কে ফেইল করে। যেন আখেরাতে হতে যাওয়া বিচারে فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ (এক দল জান্নাতে যাবে, আরেকদল যাবে জাহান্নামে) এই ফয়সালা সম্ভব হয়। (সুরা শুরা, আয়াত ৭)

কুরআনে আছে, لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ (এভাবে যাকে ধ্বংস হতে হবে সে প্রমাণ সহকারে ধ্বংস হবে, আর যার বেঁচে থাকতে হবে তার প্রমাণ সহকারে বাঁচতে হবে।)

এ এক আশ্চর্য আয়াত। (সুরা আনফাল, আয়াত ৪২) যাকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন, ধ্বংস করার অর্থ যাকে জাহান্নামের উপযোগী ঘোষণা দিবেন, সে ইতোমধ্যে প্রমাণ সহকারে নিজেকে জাহান্নামি সবুত করেছে।

এই দুনিয়ায় সে সত্যকে অস্বীকার করে, মন্দকাজ করে, ভ্রান্তপথ অবলম্বন করে একথা প্রমাণ করে দিয়েছে যে সে যেকোনো উপায়েই জাহান্নামে যাওয়ার উপযোগী।

একই ভাবে অপরদল— যারা জান্নাতে যাবেন তারা জীবনযাপনে একথা প্রমাণ করেছেন যে তারা জান্নাতে যাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এ তো সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পরিকল্পনা, মুসলমানেরা মনে কষ্ট পাবে কি পাবে না সেটা ধর্তব্য নয়, সেটা আল্লাহর উদ্বেগের বিষয় নয়।

তো মনে রাখবেন, ইসলামে মতপ্রকাশ ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, সম্পূর্ণ অধিকার আছে মানুষের। এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনার যদি ভিন্নমত থাকে, তো আপনি দলিল দিন, আপনি কারণ দর্শান, যুক্তি পেশ করেন।

প্রশ্ন উঠে কেন এই অধিকার দেওয়া হলো? এটা কিন্তু যেন-তেন বিষয় নয়। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এই জন্য যে— সকলেই জানে যে এটা এক পরীক্ষা, যাতে তাদের পরীক্ষা করা যায়… لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا (সূরা মুলক, আয়াত ২)।

কুরআনে বারবার বলা হয়েছে মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো তাকে পরীক্ষা করা। এই জগত আমাদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র। আপনারা ভালো করেই জানেন পরীক্ষার জন্য স্বাধীনতা আবশ্যক। স্বাধীনতা নেই তো পরীক্ষাও নেই।

আল্লাহর যে সৃষ্টি পরিকল্পনা, সেখানে আবশ্যিকভাবে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতার বিষয়টি আছে। স্বাধীনতা যদি ছিনিয়েই নেওয়া হয়, তাহলে পরীক্ষা কিসের? কারো হাত বেঁধে, পা বেঁধে, জবান বন্ধ করে, চিন্তার গতি রুদ্ধ করে তারপর যদি পরীক্ষা নেওয়া হয়, এমন পরীক্ষা নেওয়ার কোনো মানে হয় না।

তো এই জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা, মনোভাব ব্যক্ত করার স্বাধীনতা— প্রশ্নাতীতভাবে নিঃসন্দেহে এসব ইসলাম সম্মত।

প্রত্যেক নারী এবং পুরুষের এই স্বাধীনতা আছে। এর মধ্যে কেবল একটি শর্ত প্রযোজ্য— মতপ্রকাশ বা ভিন্নমত প্রকাশ করতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি করতে পারবেন না।

নিউইয়র্কে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বাংলাদেশ কনস্যুলেট পরিদর্শন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ নভেম্বর) কনস্যুলেট কার্যালয় পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল এসএম নাজমুল হাসানসহ কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান।

কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সার্বিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে তার সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির অদম্য অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সবাইকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যাবলী সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম। তাই বর্তমান সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদানের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বেশি করে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ জানান।

ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল এসএম নাজমুল হাসান মন্ত্রীকে কনস্যুলেটের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। পরে মন্ত্রী কনস্যুলেটের বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কনস্যুলার সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী কনস্যুলেটের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান। ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল এসএম নাজমুল হাসান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে কনস্যুলেট সফরের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।