বৃহস্পতিবার ,১৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 606

তমা মির্জাও কি ভিন্নপথে হাঁটছেন

মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী- এই তিন পরিচয়েই সফল তমা মির্জা। নাটক, সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি। পাশাপাশি স্টেজ অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করতে দেখা যায় তাকে।

এসব কর্মকাণ্ড চলমান থাকলেও তমার পরিকল্পনায় নাকি রয়েছে অন্য কিছু। তিনিও প্রবাসী হওয়ার তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন- এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছে চিত্রপাড়ায়।

শিগগিরই নাকি তমা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ঘুরে আসলেন তিনি। এ বিষয়ে তমা মির্জার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমেরিকায় তো আমি আরও আগে থেকেই নিয়মিত যাই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও ব্যক্তিগত ভ্রমণে যাই। এবারো সেভাবেই গিয়েছিলাম। আপাতত আমার এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নাই। যদি প্রবাসী হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করি তাহলে তা জানিয়েই করব।

তবে তমার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যারা খোঁজ রাখেন তাদের অনেকেই তার আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত করছেন। এদিকে গত ২৯ নভেম্বর দেশে ফিরেই স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এই চিত্রনায়িকা।

চলতি মাসের বেশিরভাগ সময়টাই তিনি স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তার হাতে রয়েছে কয়েকটি সিনেমার কাজ।

এগুলো হলো শাহরিয়ার নাজিম জয়ের পরিচালনায় ‘পাপ কাহিনী’, আরিফুজ্জামানের ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ এবং শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘ফ্রম বাংলাদেশ’। অভিনয় ছাড়া তিনি একজন উপস্থাপকও। তবে আপাতত উপস্থাপনার কাজ করছেন না।

রোনাল্ডোকে ‘উচিত জবাব’ দিলেন মেসির বাবা!

ব্যালন ডি’অর জিতে যেন স্বস্তিতে নেই লিওনেল মেসি। সমালোচনার ঝড় সইতে হচ্ছে তাকে। মেসির এই পুরস্কার জেতাকে কেলেঙ্কারি বলতেও মুখ আটকায়নি বেশ কয়েকজন ফুটবলবোদ্ধাদের।

এমনকি পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা খোদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও মেসির সমালোচকদের সায় দিয়েছেন।

ছেলের বর্ষসেরা ফুটবলের এই খেতাব জয় নিয়ে এতোসব সমালোচনা আর সহ্য হয়নি মেসির বাবা হোর্হে মেসির।

ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন ছেলের ব্যালন ডি’অর বিজয়ের ছবি। সঙ্গে যোগ করে দিয়েছেন তীর্যক এক মন্তব্য।

তাতে মেসির ব্যালন ডি’অর জয় নিয়ে চলমান তর্ক-বিতর্ক আরো বেগ পেয়েছে।

তবে অনেকের মতে, মেসির সমালোচকদের সায় দেয়া রোনাল্ডো কাণ্ডের জবাব দিলেন হোর্হে মেসি।

ব্যালন ডি’অরের ছবি দিয়ে পোস্ট করে ক্যাপশন হোর্হে মেসি লিখেছেন, ‘ব্লা ব্লা ব্লা, চালিয়ে যাও!’

এই কয়েকটি শব্দেই ফুটবলবিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে, মেসির বাবার এই ক্যাপশন মূলত রোনাল্ডোকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন।

 

এমনটা ভাব অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ মেসিকে অপমান করা একটি বিতর্কিত পোস্টকে সমর্থন জানিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

সিআর সেভেন ও লিনার্দিও নামে রোনাল্ডোর একটি ইনস্টাগ্রাম ফ্যান আইডি থেকে বুধবার একটি পোস্ট করা হয় মেসির সপ্তম ব্যালন ডি’অর জেতা নিয়ে।

মেসিকে রীতিমতো ‘অপমান’ করে ওই পোস্টে লেখা হয়— ‘কে পুরস্কারটা জিতল? মেসি। যিনি বার্সেলোনার হয়ে কেবল কোপা দেলরের শিরোপা জিতেছেন। আর রোনাল্ডো যাওয়ার পর থেকে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করতে পারেননি। এর পর মৌসুমের বড় ম্যাচগুলোতে অদৃশ্য হয়ে গেছেন।’

পোস্টটি দেখে ক্ষুব্ধ বিশ্বজুড়ে মেসিভক্তরা। যে যার মতো যুক্তি উপস্থাপন করে ক্ষোভ উগরে দেন।

তবে ব্যাপারটি সেখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু মেসিভক্তদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিজেই।

বিতর্কিত পোস্টের কমেন্টে রোনাল্ডো লিখেছেন— ‘Factos’। যার অর্থ হলো— ‘এটিই তথ্য’

ভারতকে টানা তিন ম্যাচ হারাল বাংলাদেশ

বড়রা যখন হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না তখন ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার শেষ ওভারের রোমাঞ্চে ৬ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা।

ইডেন গার্ডেনসে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বিশ্বকাপজয়ী যুবারা। মাহফিজুলের ৫৬, নওরোজ নাবিলের ৬২, ফাহিমের ২১, নাইমুরের ২০ ও ইফতেখারের ১৫ রানে ভর করে ২৩০ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।

ভারতের পক্ষে ৫৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন রিশিথ। পাশাপাশি গার্ভ আর নিশান্ত ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৩০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ১০ রানেই ওপেনার হারনুরকে ফিরে যেতে হয় সাজঘরে।

এরপর ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অংকৃশ। ভারতকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন।

কিন্তু রিপন অংকৃশের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দেন। ৮৮ রানে তাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে আনেন ব্রেক থ্রু। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৮ রান আর বাংলাদেশের ২ উইকেট। সেই সময় ৪ বলেই দুটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে টানা তৃতীয় জয়ের স্বাদ দেন তানজিম সাকিব। ২৯ রান দিয়ে সাকিব নেন ৩ উইকেট। পাশাপাশি ৩ উইকেট যায় মেহরবের ঝুলিতে।

কক্সবাজারে কীটনাশক ও লবণ ছাড়াই উৎপাদন হবে শুঁটকি

গবেষণাগারে উৎপাদিত বন্ধ্যা মাছি দিয়েই দমন করা হবে শুঁটকির জন্য ক্ষতিকারক বন্য মাছি। ক্ষতিকর মাছির উপদ্রব কমিয়ে কীটনাশকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি উৎপাদন করা সম্ভব। এ বন্ধ্যাকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই মাছি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কক্সবাজারে শুঁটকির উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে ছাড়া হয়েছে ২ লাখ বন্ধ্যা মাছি। আগামী সপ্তাহে দেশের বৃহত্তম শুঁটকিপল্লি শহরের নাজিরারটেকে আরো বড় পরিসরে এ বন্ধ্যা মাছি অবমুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উদ্ভাবিত এই পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিবছর শুঁটকির উৎপাদন প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাড়ানো সম্ভব। পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিকিরণ কীটতত্ত্ব ও মাকড়তত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. এটিএম ফয়েজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী বুধবার দুপুরে সোনাদিয়া দ্বীপে দুই লাখ বন্ধ্যা মাছি অবমুক্ত করেন। এ সময় বিএফআরআই’র সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান ড. শফিকুর রহমান, বিকিরণ কীটতত্ত্ব ও মাকড়তত্ত্ব বিভাগের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুহসিনা ইয়াসমিন ও শাহিনুর ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন এবং বৈজ্ঞানিক সহকারী আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদক আমানউল্লাহ জানান, ২০০৭ সালেও সোনাদিয়া দ্বীপে ক্ষতিকর মাছির উপদ্রব কমাতে বন্ধ্যা মাছি ছাড়া হয়েছিল। এরপর ক্ষতিকর মাছির উপদ্রব একদম কমে যায় এবং শুঁটকির উৎপাদন ও গুণগতমানও বৃদ্ধি পায়। সংশ্লিষ্টরা জানায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ টন (১.২মিলিয়ন টন) সামুদ্রিক ও স্বাদু পানির মাছ উৎপাদিত হয়। যার মধ্যে প্রায় ১৫% মাছকে সূর্যের তাপে শুকিয়ে শুঁটকিতে রূপান্তর করা হয়। তবে মাছ রোদে শুকানোর সময় লিওসিনিয়া কাপ্রিয়া নামের এক প্রজাতির ক্ষতিকারক মাছির আক্রমণে প্রায় ৩০% শুঁটকিই নষ্ট হয়ে যায়। দেশের বৃহত্তম শুঁটকি মহাল নাজিরারটেকেই নষ্ট হয়ে যায় বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার শুঁটকি। আর এই মাছির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য শুঁটকি উৎপাদকরা মাছে বিষ প্রয়োগ করছে, অতিরিক্ত লবণ প্রয়োগ করছে। ফলে ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়েরই স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে শুঁটকির গুণগত মানও কমে যাচ্ছে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, বাজার মূল্য কমে যাচ্ছে এবং শুঁটকি মাছ বিদেশে রফতানি করা যাচ্ছে না।

ড. ফয়েজুল বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি হলো এক ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কোন এলাকায় বন্যমাছির কয়েকগুণ বন্ধ্যা মাছি ছাড়া হয়। এরপর বন্ধ্যা মাছির সঙ্গে ক্ষতিকর মাছির মেলামেশায় যে ডিম জন্ম হয়, তা থেকে আর বাচ্চা ফোটে না। এভাবে ধীরে ধীরে সেই মাছির বংশ কমে যায়। তবে ক্ষতিকর মাছির নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি দুই মাস অন্তর একবার করে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে বলে জানান তিনি।

এই জৈব পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্যও ইতোমধ্যে ‘দ্য স্পেশাল প্রোগ্রাম ফর রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইন ট্রপিক্যাল ডিজিজ (টিডিআর)’ নামে একটি প্রকল্পের অধীনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সি (আইএইএ)-এর একটি চুক্তি সই হয়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এই বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতিতে এডিস মশার বংশ নিয়ন্ত্রণ করে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গি ও জিকার প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনার আশা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সি (আইএইএ)।

টঙ্গীতে গ্যাসের পাইপ লাইন ফেটে অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুরের টঙ্গীতে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইন ফেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চেরাগআলীর বেপারিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, বেপারিবাড়ির ওই গ্যাস লাইন থেকে বেশ কয়েক দিন ধরে বুদ বুদ করে গ্যাস বের হচ্ছিল। তিতাসকে জানানো হলেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

টঙ্গী দমকল বাহিনীর পরিদর্শক এসকে তুহিন জানান, সকালে গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ শুর করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এ ব্যাপারে টঙ্গী তিতাস গ্যাস বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ব্যবস্থাপক এরশাদ মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের লোক পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫ রাজ্যে ওমিক্রন শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি রাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে ১০ জনের দেহে ওমিক্রন পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

করোনার পূর্ণ ভ্যাকসিন নিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়া, কলারাডো, মিনেসোটায় যাদের দেহে ওমিক্রনের জীবাণু পাওয়া গেছে তারা সবাই দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন। তবে তাদের দেহে হালকা উপসর্গ রয়েছে। আর হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে একজনের দেহে ওমিক্রন ধরা পড়েছে যিনি ভ্যাকসিন নেননি। ওই ব্যক্তির শরীরে মাঝারি মাত্রার লক্ষণ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়্যান্টে আরও পাঁচ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তার রাজ্যে ৬৭ বছর বয়সি এক নারী ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে মাঝারি মাত্রার লক্ষণ দেখা গেছে। তার মধ্যে মাথা ব্যথা ও কফের লক্ষণ দেখা গেছে। এই নারী সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছেন। ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরার সময় তার শরীরে করোনা ধরা পড়েনি। কিন্তু গত মঙ্গলবার পুনরায় পরীক্ষা করা হলে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

নিউইয়র্কের গভর্নর বলেন, এই নারী কিছু ভ্যাকসিন নিয়েচেন। কিন্তু তিনি একটি বা দুটি নাকি বুস্টার ডোজ নিয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্য চারজন যারা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন তারাও নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। তাদের বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনে আক্রান্ত প্রথম রোগী মিনেসোটার বাসিন্দা। তিনি টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্রমণ করেছিলেন এবং একটি সম্মেলনে যোগও দিয়েছিলেন।

ওমিক্রন ঠেকাতে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে

মমতা চান বিরোধী জোটে থাকুক কংগ্রেস, তবে নেতৃত্বে নয়

ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসকে মাটিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী জোটে তিনি কংগ্রেসকে দেখতে চান না নেতৃত্বে।

বুধবার ভারতের মুম্বাইয়ে শারদ পাওয়ার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এ খবর জানিয়েছে ভারতী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) একটি সূত্র জানায়, কংগ্রেস ছাড়া বিরোধী জোট হবে না। কিন্তু তাই বলে কংগ্রেসের নেতৃত্বেও বিরোধী জোট হবে না। কংগ্রেস বিরোধী জোটে থাকবে অন্য আঞ্চলিক দলের মতো।

মমতার সঙ্গে শারদের বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক এনসিপি নেতা বলেন, পাওয়ার প্রথম থেকেই বলছেন— কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী জোট সম্ভব নয়। উল্টো দিকে মমতা কংগ্রেসের সমলোচনা করে আঞ্চলিক দলগুলোর জোটের কথা বলছেন। একে দুজনের মধ্যে মতভেদ বলে মনে হলেও, আসলে দুজনের অবস্থান একই। তা হলো— কংগ্রেস জোটে থাকতে পারে। কিন্তু কংগ্রেসের হাতে নেতৃত্ব থাকবে না।

পাওয়ার বা মমতা কেউ এই কথাটি স্পষ্ট করে না বললেও, নির্বাচনের কৌশল নির্ধারক প্রশান্ত কিশোর তা খোলাসা করে দিয়েছেন।

কিশোরের টুইট, কংগ্রেস যে ভাবনা ও জায়গার প্রতিনিধিত্ব করে, তা মজবুত বিরোধী শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের নেতৃত্ব একজন ব্যক্তির ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকার নয়। বিশেষত ওই দল যখন গত ১০ বছরে ৯০ শতাংশ আসনেই হেরেছে। বিরোধী জোটের নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ঠিক হোক।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারাষ্ট্রে লোকসভা কেন্দ্র ৪৮টি। পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসন। এই ৯০টি আসনে ‘জোট বেঁধে’ তৃণমূল, শিবসেনা ও এনসিপি লড়বে।

ছত্তীশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানার মতো রাজ্যের ১২০-১৪০টি আসনে কংগ্রেস সরাসরি বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে কতগুলো আসন নিয়ে আসতে পারে, তা দেখা হবে। বাকি আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তিও পরখ করা হবে। তার পরে কার কত সংখ্যা, কে বিরোধী জোটে চালিকাশক্তির কাজ করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

এনসিপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মজিদ মেমনের মতে, মহারাষ্ট্র-পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে ৯০টি আসনে এনসিপি-তৃণমূলের যৌথ লড়াই বিরোধী জোটের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

ব্যাংকারদের সহায়তায় ঋণ জালিয়াতি

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া প্রণোদনার ঋণ নিয়ে বেশকিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান জালিয়াতি করেছে।

এসব জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন একশ্রেণির ব্যাংক কর্মকর্তা। তাদের সহায়তায় কম সুদের প্রণোদনার ঋণ নিয়ে তা দিয়ে বেআইনিভাবে অন্য খাতের বেশি সুদের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

কয়েকটি ব্যাংকের শাখার কর্মকর্তারা আগের ঋণ শোধ করার শর্তেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের প্রণোদনার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

প্রণোদনার ঋণের অপব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনগুলো এখন সমন্বয় করা হচ্ছে।

কোন গ্রাহক কী ধরনের জালিয়াতি করেছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে ছক আকারে তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তারাও কী ধরনের অনিয়ম করেছেন বা অনিয়ম করতে গ্রাহককে বেআইনিভাবে কীভাবে সহায়তা করেছেন, তা আলাদা করা হচ্ছে। প্রণোদনা ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে স্পষ্ট করেই উল্লেখ ছিল এ ঋণ শুধু সংশ্লিষ্ট খাতে চলতি মূলধন হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। এ ঋণ অন্য কোনো খাতে ব্যবহার, আগের কোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ বা সংস্কার করা যাবে না। ২০১৯ সালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া চলতি মূলধনের ৩০ শতাংশ প্রণোদনা হিসাবে দেওয়া যাবে।

এ ঋণ খেলাপি হলে, সীমার অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া হলে, ভিন্ন খাতে ব্যবহার করলে কোনো সুদ ভর্তুকি পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে পুনঃঅর্থায়ন করবে, তার বিপরীতে দণ্ড সুদ আদায় করা হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছিল, এ বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করার জন্য সরাসরি প্রধান নির্বাহীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ সেল গঠন করতে হবে। এ সেল প্রণোদনার ঋণ বিতরণে ফোকাল পয়েন্ট হিসাবে কাজ করবে। বিষয়গুলো কঠোরভাবে তদারকি করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু প্রণোদনার ঋণ বিতরণের এক বছরের মধ্যেই নানা ধরনের অনিয়মের কথা উঠে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত করা হয়। এতে বেশকিছু ব্যাংকে জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে কম সুদে ঋণ নিয়ে আগের বেশি সুদের ঋণ পরিশোধ এবং অন্য খাতে স্থানান্তর করে নেওয়া। তদারকির জন্য প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হলেও তদারকি তেমনটি হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, প্রণোদনার বেশির ভাগ ঋণই যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। সেগুলোর বিষয়ে ব্যাংক থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ঋণ বিতরণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রবল চাপ ছিল। দ্রুত করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে তদারকিতে শিথিলতা হতে পারে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের একটি কাঠামো রয়েছে। প্রণোদনার ঋণে বিশেষ তদারকি করার নির্দেশ ছিল। সেটি অনেক ক্ষেত্রেই হয়নি। ব্যাংকগুলোর নিয়মিত গ্রাহকরাই অনিয়ম করেছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার ঋণ ব্যবহারে তদারকি করতে পারেনি। এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। বিষয়গুলো উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হলে বোঝা যাবে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, প্রণোদনার শর্ত ভঙ্গ করে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান কম সুদের ঋণ নিয়ে বেশি সুদের ঋণ পরিশোধ করেছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কতিপয় কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বেআইনি কর্মকাণ্ডের পক্ষে কাজ করেছেন। প্রণোদনার ঋণ ছাড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর কিছু অর্থ দিয়ে আগের ঋণ শোধ করা হয়েছে। এছাড়া এসব ঋণ অন্য খাতেও ব্যবহারের নজির পাওয়া গেছে।

প্রণোদনার শর্ত অনুযায়ী, গ্রাহক আগের বছরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নামে যে পরিমাণ চলতি মূলধন ঋণ নিয়েছেন তার ৩০ শতাংশ প্রণোদনা হিসাবে ঋণ পাবেন। এর বেশি ঋণ পাবেন না। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গ্যালিকো স্টিল বিডি লিমিটেডকে প্রাপ্ত সীমার চেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হলে গ্রাহক ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় অন্য ঋণ বেআইনিভাবে সমন্বয় করেছে। প্রণোদনার ঋণ নিয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে। এ অর্থে ৯ শতাংশ সুদের অন্য ঋণ পরিশোধ করেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এলকো ওয়্যার কেমিক্যালস লিমিটেড ৩ কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়ে অন্য ব্যাংকের বেশি সুদের ঋণ শোধ করেছে। বেআইনিভাবে অন্য ঋণ সমন্বয়ের বিষয়টি ব্যাংক জানার পরও নীরবতা পালন করেছে। এছাড়া গ্রাহক যে পরিমাণ ঋণ পাবে, এর চেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে ব্যাংক। কিন্তু বাড়তি এ ঋণ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তা করা হয়নি।

বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম প্রণোদনা বাবদ ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৩ কোটি টাকা নগদ আকারে তুলে পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে জমা করেছে। পরে ওইসব অর্থ নগদ আকারে তুলে নিয়ে কোন খাতে ব্যবহার করেছে, এর তথ্য নেই ব্যাংকে।

সিলমো ইলেকট্রোস লিমিটেড ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অন্য ঋণ পরিশোধ করেছে। পূরবী অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শর্ত অনুযায়ী ব্যবহার করেছে কি না, এ তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলকে দেখাতে পারেনি। স্টোন ব্রিকস ৯ কোটি টাকা নিয়ে অন্য ঋণ বেআইনিভাবে সমন্বয় করেছে। রশিদ ব্রিকস ৮ কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়ে ৭ কোটি টাকা দিয়ে অন্য ঋণ সমন্বয় করেছে। বাকি ১ কোটি টাকা নগদ তুলে নিয়েছে।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রণোদনা বাবদ ৪ শতাংশ সুদে যেসব ঋণ দেওয়া হয়েছে, এর একটি বড় অংশই বেশি সুদের অন্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিশষ করে কৃষি ফার্ম ও অ্যাগ্রো প্রসেসিং শিল্পের উদ্যোক্তারা এসব কর্মকাণ্ড করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে আগের শোধের নিশ্চয়তা পেয়ে প্রণোদনার ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রামের বড় একটি শিল্পগ্রুপ প্রণোদনা বাবদ ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা দিয়ে আগের বাণিজ্যিক ঋণ পরিশোধ করেছে।

উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরু হলে গত বছরের এপ্রিল থেকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

এখন পর্যন্ত ২৩টি প্যাকেজের আওতায় দুই দফায় আড়াই লাখ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঋণনির্ভর প্রণোদনা প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার তদারকি কমিটির বৈঠক মঙ্গলবার

পুঁজিবাজার নিয়ে আগামী মঙ্গলবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত থাকবেন। এটি পুঁজিবাজার সমন্বয় ও তদারকির জন্য ৫ সদস্যের পুনর্গঠন কমিটির প্রথম বৈঠক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দীন আহমেদকে প্রধান করে এ কমিটি পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটি এমন সময় বৈঠকে বসবেন যখন পুঁজিবাজার নিয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মতবিরোধ চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নাহিদ হোসেন সই করা এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে- পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে কয়েক মাস ধরে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বৈঠকে বসে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের অদাবিকৃত ডিভিডেন্ড নিয়ে গঠিত স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ব্যাপারে একমত বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছু আইনগত অস্পষ্টতা রয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিএসইসি-বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়পক্ষ এ বিষয়ে আন্তরিক। আমাদের কারও সঙ্গে কারও কোনো মতবিরোধ নেই। তবে সন্ধ্যার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সেটি লক্ষ্য রেখেই অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তদারকি কমিটি আরও সংস্কার করেছে। আশা করছি আসছে বৈঠকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সমস্যা নিরসন এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন আজ

গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন আজ শুক্রবার। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনকে ঘিরে মহানগর জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে।

সম্মেলন সফল করতে নেতাকর্মীদের উদ্যোগে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড তৈরিসহ ব্যাপক প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন ঘিরে পুরো গাজীপুর যেন সেজেছে নতুন সাজে।

মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ড থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক ৯টি থানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে ৪০০ কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি শিলমুন, নিমতলী, মাজুখান, পূবাইলের মেঘডুবি, কলেরবাজার, ধীরাশ্রমসহ বঙ্গতাজ অডিটরিয়াম পর্যন্ত প্রায় ১১টি দৃষ্টিনন্দন তোরণ তৈরি করা হয়েছে।
অতিথিদের সম্মানে কয়েকশ মোটরসাইকেল এবং বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকার শোভাযাত্রায় অংশ নেবে এবং প্রতিটি তোরণে নেতাকর্মীরা অতিথিদের ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানাবেন। বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।

প্রায় সাত বছর পর সম্মেলন সফল করতে বেশ কয়েক হাজার নেতাকর্মীর সমাগম আশা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ গাজীপুরে জাতীয় পার্টির সম্মেলন হয়েছিল।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, বিশেষ অতিথি হিসেবে পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্ন, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়াসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পার্টির সম্মেলন হচ্ছে। এটি জাতীয় পার্টি ও সব অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য খুবই আনন্দের। অতিথিদের সর্বোচ্চ সেবাদানে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।