বৃহস্পতিবার ,১৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 598

ভারতের সর্বকালের সেরা টেস্ট অধিনায়ক কোহলি: ইরফান পাঠান

ভারতের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার ইরফার পাঠান বলেছেন, ভারতের সর্বকালের সেরা টেস্ট অধিনায়ক কোহলি।

এক টুইট বার্তায় ইরফান লিখেছেন, আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি- কোহলি ভারতের সর্বকালের সেরা টেস্ট অধিনায়ক। ৫৯.০৯ শতাংশ জয় নিয়ে তিনিই সবার ওপরে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা (অধিনায়কের) জয় শতকরা ৪৫ ভাগ।

দেশের হয়ে ৬৬ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে ৩৯টিতে জয় উপহার দিয়েছেন বিরাট কোহলি। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় পজিশনে আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সৌরভ গাঙ্গুলী।

মহেন্দ্র সিং ধোনি ৬০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ২৭টিতে জয় উপহার দেন। ৪৯ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ২১টিতে জয় উপহার দেন সৌরভ গাঙ্গুলী।

সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজেও নিউজিল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারীদের হটিয়ে ফেরে শীর্ষস্থান দখল করল ভারত।

ভৈরবে ২ খুনের মামলার আসামি সাফায়েত নৌকার প্রার্থী!

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই খুনের মামলার আসামি সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ (৪৮) এবারও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়ন দাখিলের পর প্রচারকাজও শুরু করেছেন তিনি।

সাফায়েত একটি খুনের মামলার প্রধান আসামি। মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন কিশোরগঞ্জের আদালত। এ ছাড়া আরও একটি খুনের মামলার আসামি তিনি।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এবারও তিনি নৌকা প্রতীক পেয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। গত ২৫ নভেম্বর তিনি চেয়ারম্যান পদে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আগামী ২৬ ডিসেম্বর ভৈরবে ইউপি নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এলাকায় প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পুলিশ বলছে, তার গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ এখনও থানায় আসেনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে দুটি খুনের মামলা রয়েছে। তার মধ্য সাদেকপুর ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মানিক হত্যা মামলায় সাফায়েত প্রধান আসামি।

ওই মামলায় গত ২৯ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।

নিহত মানিক ভূঁইয়ার ছেলে ও মামলার বাদী মো. সুজন মিয়া বলেন, আমার বাবাকে আসামিরা খুন করেছে। মামলার প্রধান আসামি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ। একজন খুনের আসামিকে কীভাবে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হলো, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি করা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।

সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক জানান, নিহত মানিক আমার চাচাতো ভাই। তার খুনের মামলায় সাফায়েত প্রধান আসামি। অথচ দলের মনোনয়ন বোর্ড তাকে কী করে মনোনয়ন দিল!

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলাম। ডেলিগেট ভোটে আমি প্রথম হলেও ডাবল খুনের আসামিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী সাফায়েত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, দুই খুনের মামলায় আমাকে মিথ্যা আসামি করা হয়েছে। একটি মামলায় আমি জামিনে আছি। নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় অপর মামলায় হাজিরা দিতে পারিনি। এ জন্য আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। নির্বাচনের পরই হাজির হয়ে জামিন নেব বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা যুগান্তরকে জানান, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে নির্বাচনে প্রার্থিতায় কোনো বাধা নেই। জেলে থেকেও অনেকে নির্বাচন করেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।

ভৈরব থানার ওসি গোলাম মোস্তফা যুগান্তরকে জানান, সাফায়েত উল্লাহর গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি আমি জানি না। আমি থানায় যোগদান করেছি মাত্র তিন দিন হলো। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নেব।

তিনি বলেন, আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছতে কিছু প্রক্রিয়া আছে। এতে কয়েক দিন সময় লাগে। থানায় পরোয়ানা আসলে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাচন ১৮ ডিসেম্বর

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন আগামী ১৮ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে সোমবার বিকালে উপদেষ্টা পরিষদ ও সদস্যের মধ্যে এক মতবিনিময়সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

প্রেসক্লাবের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়ন সমন্বয়বিষয়ক সম্পাদক ও শ্রম আদালত ঢাকা ৩-এর সদস্য ও ক্লাবের উপদেষ্টা ফিরোজ হুসাইন মিতা, মাহফুজুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়কারী সাইফুল আলম রিপন।

সভায় সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে একটি অংশগ্রহণমূলক সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দেয় নির্বাচন কমিশন। উপদেষ্টারা বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসান মাহমুদ রিপন, মাসুদ শায়ান, ইউসুফ আলী, আবু বকর সিদ্দিক, মোক্তার হোসেন মোল্লা, রবিউল হুসাইন, মিজানুর রহমান মামুন, শাহাদাত হোসেন রতন, খায়রুল আলম খোকন, মশিউর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম সুমন, হারুন অর রশিদ, মনির হোসেন, হীরালাল বাদশা, আবুল বাশার, মাসুম মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আকতার হোসেন, নাসির উদ্দিন, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

৪ কেজির বাক্সে ব্যবসায়ীর ছেলের বিয়ের কার্ড!

সন্তানের বিয়ে যেন অতিথিদের স্মৃতিতে থাকে, এ জন্য তাদের বিয়ে ধুমধাম করে দেওয়ার বাসনা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই থাকে।

এই প্রবল বাসনা থেকে ভারতের গুজরাটের এক ব্যবসায়ী যা করলেন, তা জানলে যে কোনো মানুষেরই চক্ষু চড়কগাছ হবে। খবর ইন্ডিয়া ডটকম ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

পরিজন, বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে ছেলের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র চার কেজি ২৮০ গ্রাম ওজনের একটি বাক্সে করে পাঠালেন গুজরাটি ব্যবসায়ী মওলেশভাই উকানি।

গত ১৪ নভেম্বর তার ছেলে জয় উকানির সঙ্গে সোনালবেন উকানির বিয়ে ছিল। বিয়ে হয়ে গেলেও আজও নিমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনার বিষয়বস্তু ওই গোলাপি বাক্সে ভরা নিমন্ত্রণপত্র।

কী ছিল না ওই বাক্সে! বাক্সটি খুললেই দেখা গেছে ওটার মধ্যে আরও চারটি ছোট ছোট বাক্স। তাতে রয়েছে কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, কিশমিশ আর চকোলেট।

আর সঙ্গে রয়েছে সাত পাতার বিয়ের কার্ড। আর ওই একটি বাক্সের দাম সাত হাজার টাকা।

আর শুধু বিয়ের কার্ডই নয়, বিবাহ অনুষ্ঠান হয়েছে উমায়েদ ভবন প্যালেসে, যা কিনা ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হোটেলগুলোর একটি।

ওই হোটেলে প্রতি রাতের জন্য খরচ হয় ২-৩ লাখ টাকা। যেখানে খাবারের প্লেট প্রতি খরচ ১৮ হাজার টাকা।

ভারতকে এস-৪০০ সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া

ভারতকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ সরবরাহের কাজ শুরু করেছে রাশিয়া।

সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সংক্ষিপ্ত সফর শেষে নয়াদিল্লি ত্যাগ করার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এ তথ্য জানান। খবর আনাদোলুর।

তিনি বলেন, চলতি মাসে এস-৪০০ সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুতিনের নয়াদিল্লি সফর সংক্ষিপ্ত হলেও ছিল উচ্চমাত্রায় ফলপ্রসূ ও বাস্তবসম্মত।

পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২৮টি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

তিনি বলেন, বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে পুতিনের নয়াদিল্লি সফরে প্রমাণিত হয়েছে তিনি ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও যথেষ্ট গুরুত্ব তার কাছে রয়েছে।

এর আগে পুতিনের সঙ্গে নয়াদিল্লি সফরকারী রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ভারতের সঙ্গে তার দেশের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির প্রশংসা করেন।

আমেরিকার বিরোধিতা উপেক্ষা করে এস-৪০০ পেতে ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে ভারত।

দুর্নীতির চক্রে বন্দি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক

দুর্নীতি ও অনিয়মের দুষ্টচক্র ঘিরে ফেলছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটিতে অনৈতিকভাবে ১৬৮ জনের পদোন্নতি, পেনশন ফান্ডের অব্যবস্থাপনা ও চাকরি কোটার অপব্যবহারসহ নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রাকাবে বিশেষ পরিদর্শনে গিয়ে এসবের সন্ধান পেয়েছে।

পরিদর্শন দলটি জাল সনদে ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা পেয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণের পরও শাস্তির পরিবর্তে ফের চাকরিতে বহাল করা হয়েছে। ছয় বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ। কর্মীদের বদলির ক্ষেত্রেও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বেরিয়ে আসা অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাকাবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর ৫ মাস গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিশেষায়িত ব্যাংক ইউংয়ের অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ মোল্লার সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, বিশেষায়িত বা বাণিজ্যিক যে কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক পরিচালনার জন্য নিজস্ব রুলস আছে। এটি ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই। সে ধরনের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাকাবের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষায়িত প্রতিবেদনটি তার দৃষ্টিগোচর হয়নি। সামনে এলে অবশ্যই দেখা হবে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাকাবে বিশেষ পরিদর্শন করে। দলটি ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অনিয়ম শনাক্তের পর তা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কর্মীর ব্যাচকে পদোন্নতি দেওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এভাবে পদোন্নতি দেওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট রেকর্ড শাখার নোটে উল্লেখ নেই। ফলে এ ধরনের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটি, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং সুবিধাভোগীদের মধ্যে অনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অনৈতিক পদোন্নতির ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছে ব্যাংক ব্যবস্থাপনাকে।

এছাড়া রাকাবে গত এক বছরে ঋণ জালিয়াতি, অর্থ চুরিসহ বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে ১২টি বিভাগীয় মামলা হয়। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫টি। এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত বিভাগীয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জাল-জালিয়াতি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকসহ অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এসব ঘটনা ব্যাখ্যা চাওয়া ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্ত জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়নি। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ৪ থেকে ৫ জন কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। চক্রটি বিভিন্নভাবে এসব ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করার অপচেষ্টা করছে। পরে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ফের চিঠি দিয়ে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। গত মার্চ মাসে নতুন ব্যবস্থাপক যোগদানের পর এসব বিষয় তিনি তুলে নিয়ে আসেন।

জানতে চাইলে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সব বিষয় জবাব ও কারণ দর্শাতে বলেছে এর মধ্যে অনেকগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দায়ী কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত অনেকে অবসরে চলে গেছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কর্মীদের পদোন্নতিতে অনিয়ম : রাকাবে চাকরির বয়স ৪ বছর ৬ মাস হয়েছে এমন একটি ব্যাচের ১৬৮ জনকে মুখ্য কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাংকের বিধিমালা ২০০৬ এর তফসিল ৯ ধারা অনুসরণ করা হয়নি। কারণ মুখ্য কর্মকর্তা হিসাবে পদোন্নতির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদেই ন্যূনতম ৩ বছরসহ চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি অন্য একটি ব্যাচ সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন ৩ বছর আগে। তাদের চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম থাকায় পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এই ব্যাচের ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে একই ব্যাংকে একটি ব্যাচকে বিধিমালা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অন্য ব্যাচকে বিধিমালা দেখিয়ে প্রমোশন দেওয়া হয়নি।

বদলিতে অনিয়ম : বদলি নীতিমালা-২০১৭ অনুসারে ‘প্রশাসনিক কারণ ব্যতীত যে কোনো কর্মীকে একই কর্মস্থলে ৩ বছরের অধিক রাখা যাবে না।’ এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা অফিসে কিছু কর্মকর্তা ৩ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত বহাল আছেন ১৩ কর্মকর্তা। এরা ঢাকা অফিস এবং রাজশাহীর প্রধান কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

পেনশন ফান্ডের অব্যবস্থাপনা : জানা গেছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন ফান্ডের ১৪৪ কোটি ১১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে মেয়াদি আমানত হিসাবে বিনিয়োগ করা হয়। পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করে আয়কর বিভাগ থেকে স্বীকৃতি গ্রহণ করেছে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ফান্ড ব্যবস্থাপনা করতে হয়। রাকাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে।

সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচকের উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

 

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৪৮ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪৭৬ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৬৫৬ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩০৪টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ২৮টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ১৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৫৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মুরাদ ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান একসময় বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক। ১৯৯৫ সালে মমেক শাখা ছাত্রদলের যে কমিটিতে মুরাদ হাসান পদে ছিলেন সেই কমিটির একটি কপি যুগান্তরের হাতে এসে পৌছেছে।

ক্ষমতার পালাবদল হলে মুরাদ হাসান ভোল পাল্টে ছাত্রলীগে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রাজনীতিতে বাঁক বদলের সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মুরাদ। ১৯৯৮ সালে তিনি ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক পদে থেকেই সরাসরি ছাত্রলীগে যোগ দেন। রাতারাতি সাচ্চা ছাত্রলীগার হিসেবে নিজেকে জাহির করেন মুরাদ। ছাত্রলীগে গিয়েও তিনি দাপট দেখিয়ে কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এর দুই বছর পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পেয়ে যান মুরাদ।

মুরাদ হাসান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পান ১৯৯৩ সালে। ওই সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় ছত্রছায়ায় থাকতে ও রাজনৈতিক সুবিধা নিতে তখন ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তৎকালীন ছাত্রনেতারা।

বিএনপি শীর্ষ এক নেতার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের পর ঢাকাই সিনেমার এক নায়িকার সঙ্গে মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপের অডিও ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে ওই নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দিতে শোনা যায় মুরাদকে। পরিপ্রেক্ষিতের দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদ হাসানকে মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

সেদিনই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, মুরাদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট কথাবার্তা বলছেন। কাকে নিয়ে করছে? একজন ভুঁইফোড় ডাক্তার ছিলো শুনেছি, সম্ভবত জামালপুরের সরিষাবাড়ীর। এটাও শুনেছি সে নাকি একসময় ছাত্রদল করতো। দুঃখের কথা, দুর্ভাগ্যের কথা। আগে সে ছাত্রদল করতো। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিলো। পরবর্তীকালে সে ছাত্র লীগে জয়েন করেছে। ধিক্কার দেই আমি তাকে। সেইম।’

ফখরুলের বক্তব্যের সত্যতাও পাওয়া গেছে। মুরাদ বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল থেকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগে যুক্ত হয়েছিলেন বলে তৎকালীন ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সেই কমিটির একটি কপিও যুগান্তরের হাতে এসেছে।

১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের ৭১ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাতে সভাপতি ছিলেন মাহবুব-উল কাদির ও মো. ইসাহাক।

ডা. ইসাহাক গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের কমিটিতে প্রচার সম্পাদক ছিলেন মুরাদ। তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে এম-৩০ ব্যাচে মুরাদ হাসান এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। পরে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ছাত্রদলের কমিটির নেতারা সবাই ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যান। কিন্তু মুরাদ হাসান ক্যাম্পাসেই থেকে যান এবং ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ছাত্রলীগে যোগ দেন।

তিনি আরও বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তার পিতার ক্ষমতার জোরে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে পদ বাগিয়েছেন। মুরাদ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক থাকা অবস্থাতেই ক্ষমতার পালাবদল হয়। অর্থাৎ বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই আমলেই তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোতাহার হোসেন তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, মুরাদ হাসান ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করার সময় মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

ওই সময়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম রিপনও গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে মুরাদ হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মুরাদ হাসান ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০০১ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এসবিবিএস পাস করেন। ২০১১ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে এম ফিল ডিগ্রি নেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনীতে দাবি করা হয়েছে, ১৯৭৪ সালে জন্ম নেওয়া মুরাদ ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার ‘কার্যকরী সদস্য’ ১৯৯৭ সালে ‘সাংগঠনিক সম্পাদক’ এবং ২০০০ সালে ‘সভাপতি’ নির্বাচিত হন।

২০০৩ সালে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ‘কার্যকরী সদস্য’ নির্বাচিত হন মুরাদ। পাশাপাশি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ‘কার্যকরী সদস্য’, সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের ‘কার্যকরী সদস্য’, জামালপুর জেলা কমিটির ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক’র দায়িত্বও তিনি পালন করেন।

জামালপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান তালুকদারের ছেলে মুরাদ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।

২০১৯ সালে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুরাদ। ২০১৯ সালে তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পদত্যাগে হবে না, মুরাদকে গ্রেফতার করতে হবে: রিজভী

আপত্তিকর বক্তব্য ও অডিও ফাঁসের ঘটনায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে শুরু পদত্যাগ করলেই হবে না, তাকে গ্রেফতারের দাবিও তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরদিন মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিয়ে এই দাবি জানান তিনি।

রিজভী বলেন, ‘শুধু পদত্যাগ নয়, তাকে গ্রেফতার করতে হবে, তার বিচার করতে হবে।’

বিএনপি এক শীর্ষ নেতার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই সোমবার নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে মুরাদ হাসানের একটি অডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মাহি নিয়ে মুরাদের অশ্লীল কথাবার্তা ও ধর্ষণের হুমকি দিতে শোনা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে দিয়েছেন, আমরা দেখি সে পদত্যাগ করছেন কিনা। এখন এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

তিনি বলেন, এই ধরনের ব্যক্তি রাজনীতি করার অযোগ্য। তিনি যে কুরুচিপূর্ণ অশ্রাব্য কথা বলেছেন তিনি আর রাজনীতিতে থাকার যোগ্যতা রাখেন না। তাকে দলের সব পর্যায়ের পদ বা অবস্থান তা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। শুধু মন্ত্রিপরিষদ থেকে নয়।

রিজভী বলেন, মুরাদ হাসান যে অন্যায় কথা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তার বিচার করতে হবে, তার শাস্তি দিতে হবে, তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ সরকারের’ মন্ত্রিত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিদিন বিএনপি তথা জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউড় করাই ছিল তার একমাত্র কাজ। খিস্তিখেউড়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ তার সিনিয়রদের অতিক্রম করে দিনে দিনে দুর্বিনীত হয়ে উঠেছিল। ভব্যতা সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করে মুরাদ জনগণের সামনে দানবের মতো আবির্ভূত হয়েছেন। এরা আমাদের সমাজে বসবাস করবে, কিন্তু তাদের আচরণ, চলাফেরা ও কথাবার্তায় প্রতিফলিত হয় কুরুচি, বিবেকবর্জিত ও নারী বিদ্বেষ। তাহলে সেই সমাজে কত বিষাক্ত নৈরাজ্য তৈরী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

রিজভী বলেন, নারীবিদ্বেষী, বর্ণবিদ্বেষী মুরাদের মানসিকভাবে বিকৃত বক্তব্য সারা জাতিকে হতবাক ও স্তম্ভিত করেছে। উপর মহল থেকে আশকারা পেয়ে অসুস্থ মানসিকতার একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারে সে যে বিকারগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে তথ্য-প্রতিমন্ত্রী মুরাদ সেটির একটি প্রমাণ।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আসাদুল করীম শাহিন, মাশুকুর রহমান মাশুক, নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব

দু’দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

এরপর পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এক বৈঠকে যোগ দেন। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শ্রিংলা। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। আগামী বুধবার তিনি ঢাকা ছাড়বেন।