রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 524

শখের ছাদ বাগান মেটাচ্ছে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা

বাবা নুরুল ইসলাম জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ২৫ বছর বয়সি ছেলে মো. ফাহিম বাবাকে ব্যবসায় সহযোগিতা করে আসছেন। বাবার গড়ে তোলা শখের ছাদ বাগানেও সঙ্গী ছেলে।

বাবা-ছেলের ছাদ বাগানের সফলতা গ্রামের মানুষের মুখে মুখে এখন। এটি দেখে গ্রামের অনেকে ছাদ বাগান শুরু করেছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড কদমতলী গ্রামে বাবা ও ছেলের গড়ে তোলা ছাদ বাগানের কথা বলছি।

সরেজমিন নুরুল ইসলামের পাকা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, বাহারি সবজি ফলন পুরো ছাদজুড়ে। শীতকালীন মৌসুমি সবজির মধ্যে সারি সারি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, টমেটো ও বেগুন। আরও রয়েছে মরিচ, লাউ, লালশাক, পেঁয়াজ, সিম, ধনেয়া পাতাসহ নানা ধরনের শাকসবজি।

সারি সারি পেঁপে গাছ— সব গাছেই ফলন এসেছে। ফলনে টইটম্বুর নুরুল ইসলামের বাড়ি মনে হচ্ছে যেন এক টুকরো সবুজ উদ্যান।

কথা হয় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবারে প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে সবজি প্রয়োজন। অধিকাংশ কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে সবজি ফলিয়ে বাজারজাত করছে, তাতে অতিমাত্রায় বিষ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। বিষমুক্ত সবজির জোগান মেটাতে ও ছাদের সৌন্দর্যবর্ধনে মূলত তিনি ছাদ বাগান শুরু করেন।

২০ বছর আগে থেকে তার ছাদ বাগান শুরু। শুধু বাড়ির ছাদেই নয়, বাড়ির আশপাশে সব জায়গায় নানা প্রজাতির সবজি ও ফলমূলের চাষাবাদ। রয়েছে বাড়ির পেছনে দৃষ্টিনন্দন পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরপাড়েও রয়েছে নানা জাতের আমগাছ, জাম, পেয়ারা, লেবু, আমলকী, কলা, আতা, বরইসহ নানা ধরনের ফল গাছ।

নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ফাহিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। সেই সময় পুরো বাড়ি গরম হয়ে ওঠে। ফাঁকা তপ্ত ছাদকে শীতল করতে এবং পরিবেশকে সহনীয় করতেই সবুজ বাগান করা। প্রকৃতির প্রেমে শখের বসেই বাবা-ছেলে দুজনে বাগানে সময় দিই।

বাড়ির ছাদে দুই হাজার বর্গফুটের আয়তনের মধ্যে বাড়ির ছাদে টব এবং ড্রামে পরম যত্নে বেড়ে উঠছে গাছগুলো। ব্যবসার কাজের পর যেটুকু সময় পান তার অধিকাংশ সময় তারা এ বাগানেই সময় দেন। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে নিজেরা জৈব সার তৈরি করে তা ব্যবহার করেন।

প্লাস্টিকের ড্রাম ও টবে চারা লাগানো হয়। এতে ভবনের কোনো ধরনের ক্ষতি হচ্ছে না। তবে খালি ছাদে দীর্ঘমেয়াদি মাটি ব্যবহার করে কিংবা সহায়ক কিছু না দিয়ে ড্রাম কিংবা টব বসালে ছাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন যারা ছাদে বাগান করতে চান তাদের কাছে সতর্কতামূলক এ বার্তা দিয়েছেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, পরিবারের জন্য ভেজালমুক্ত ফল ও শাকসবজির জোগান ও চাহিদা মেটানোর পর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও পাঠাতে পারি। আমি শাকসবজি বিক্রি করি না।

যাদের বিশাল ছাদ খালি রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলাম বলেন, দিন দিন ফসলি জমি কমে আসছে, কমছে সবুজ প্রকৃতি। বাড়ছে নগরায়ণ। প্রকৃতিতে উষ্ণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যাদের ভবনের ছাদ খালি রয়েছে, তারা যেন এভাবে সবুজ বাগান গড়ে তোলেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারে বিষমুক্ত সবজির জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ছাদ বাগানটি দেখতে গিয়েছিলাম। তাদের নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ছাদ কৃষিতে। উপজেলার মধ্যে এত বড় পরিসরে ছাদ বাগান কোথাও নেই। ছাদ বাগানটি আরও সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনে কৃষি কার্যালয় সহযোগিতা করবে।

রাজকীয় খেতাব হারালেন ব্রিটিশ রানির ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রু

সামরিক ও রাজকীয় খেতাব হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নিপীড়নের মামলায় বিচারের মুখে পড়া ব্রিটিশ রানির ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রু (৬১)।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্রাসাদ এ কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, রানির অনুমোদন ও সম্মতিতে ডিউক অব ইয়র্কের সামরিক সংযুক্তি ও রাজকীয় সম্মান ফেরত নেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুকে এখন থেকে আর আনুষ্ঠানিক কেতায় ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ বলা হবে না।

যৌন হয়রানির মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।

নিউ ইয়র্কে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগটি আনেন ভার্জিনিয়া জোফ্রে নামের এক নারী। তবে, এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন অ্যান্ড্রু।

তার ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ থেকে তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

শ্রীলংকায় শীর্ষ কারা কর্মকর্তার ফাঁসির আদেশ

২৭ বন্দিকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যার দায়ে শ্রীলংকার এক শীর্ষ কারা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।

বুধবার রাজধানী কলম্বোর হাইকোর্ট এমিল লামাহেওয়াজ নামে সাবেক ওই কারা কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেন। খবর আলজাজিরার।

২০১২ সালের নভেম্বরে ২৭ বন্দিকে হত্যার দায়ে কারা কমিশনার এমিল লামাহেওয়াজকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন কলম্বো হাইকোর্ট। তবে তার সেই সময়ের সহযোগী পুলিশ কমান্ডো মোসেস রাঙ্গাজিওয়াকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী কলম্বোতে অবস্থিত শ্রীলংকার প্রধান কারাগার ওয়েলিকাদায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

সেই সময় কারাগারে ২৭ জনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু মাত্র আটজনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়।

পুলিশ কমান্ডোরা ওয়েলিকাদা কারাগারে পৌঁছে দাঙ্গার অবসান এবং বন্দিদের নিরস্ত্র করেন। সেই সময় অভিযোগ করা হয়, বন্দিরা কারারক্ষীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়েছিল।

দেশটির সরকারি আইনজীবীর মতে, আটজন বন্দিকে নাম ধরে ডেকে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো তাদের গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। অন্য বন্দিদেরও একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, অস্ত্রশস্ত্র এমনভাবে রাখা হয়েছিল যে, যাতে মনে হয়েছিল নিহত বন্দিরা অস্ত্র ছিনিয়ে কারারক্ষীদের গুলি চালিয়েছিলেন। তবে কে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন তা উল্লেখ করা হয়নি।

সেই সময় কারাগারের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

দেশটিতে তামিল বিদ্রোহীদের ৩৭ বছরের দীর্ঘযুদ্ধের অবসান ঘটে ২০০৯ সালে। তামিল বিদ্রোহীদের দমনের অভিযানে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে। তার নিন্দায় সরব হয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

শ্রীলংকার জাতীয় জাদুঘর এবং একটি মন্দিরে ডাকাতির ঘটনায় নিহত বন্দিদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।

১৯৮৩ সালের জুলাইয়ে কারাগারে এক দাঙ্গায় ৫০ বন্দিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর ২০১২ সালের ওই গণহত্যা ছিল এই দ্বীপরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ কারা সহিংসতা।

সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচকের উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

 

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ১৩ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪৯৮ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৬০৮ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৩টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ৯৬টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৭২টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৫২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

নারায়ণগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাংক বন্ধ রোববার

আগামী রোববার দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টাঙ্গাইল-৭ আসনের উপনির্বাচন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন জেলার ৫টি পৌরসভায় ওইদিন ভোটগ্রহণ হবে। এ জন্য ওই দিন ভোট সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা-উপশাখা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার তফসিলি ব্যাংকগুলোকে পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১১ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন মোতাবেক জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৭ শূন্য আসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং ৫টি পৌরসভার (চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, নোয়াখালী জেলার নোয়াখালী, যশোর জেলার ঝিকরগাছা, নাটোর জেলার নাটোর ও বাগাতিপাড়া) নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনি এলাকাধীন যেসব স্থাপনা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার বা নির্বাচনি কার্যক্রমের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেসব স্থাপনায় ব্যাংকের কোনো শাখা ও উপশাখা থাকলে- তা বন্ধ রাখাসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকাধীন আপনাদের ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে কর্মরত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

শুক্রবার ইভিএমে ভোটদান শেখাবে ইসি

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)। তাই যন্ত্রটিতে কীভাবে ভোট দিতে হয় তা শুক্রবার শেখানো হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান জানান, সব কেন্দ্রেই ১৪ জানুয়ারি এ কার্যক্রম চলবে। এজন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে- প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠানে সব প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার উপস্থিত থেকে মক ভোটিং সম্পন্ন করবেন। মক ভোটিং শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসার ইভিএমসমূহ উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বুঝিয়ে দেবেন।

প্রিসাইডিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের আগের দিন ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহৃতব্য ইভিএমসমূহ, বিভিন্ন কার্ড ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ম্যানুয়েলের নির্দেশনা অনুসারে প্রতিটি ভোটকক্ষে স্থাপন করত নির্বাচন উপযোগী করে বিকাল ৪টার মধ্যে কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করবেন।

এ সিটি ২৭টি ওয়ার্ডের ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৯২টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে।

নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। মেয়র পদে ছয় জন প্রার্থী হলেন- খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, স্বতন্ত্র থেকে বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. রাশেদ ফেরদৌস ও বাংলদেশ আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াত আইভী।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, এ সিটিতে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর। সে সময় প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সময় পেয়েছিলেন ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৬ দিন। আর এবার ভোটগ্রহণ হবে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি। প্রচার শুরু হয়েছে ২৮ ডিসেম্বর, আর শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টায়। অর্থাৎ এবার প্রার্থীরা প্রচারের জন্য সময় পেয়েছেন ১৮ দিন।

২০১১ সালে সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এবার হচ্ছে তৃতীয় নির্বাচন। প্রথমবার ৯টি ওয়ার্ডে ইভিএমে, বাকিগুলোয় ব্যালট পেপারে ভোট হয়। ২০১৬ সালে সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে এবং এবার ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। প্রথমবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হয় এ সিটিতে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন চালুর পর এটি দ্বিতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন, কেন এত আলোচনায়

রাজধানী লাগোয়া একটি ছোট সিটি করপোরেশন নারায়ণগঞ্জ। এখন সবার নজর এই নারায়ণগঞ্জের দিকে। আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। বরাবরই সেখানে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়ে আসছে বলে সবাই মতপ্রকাশ করেছেন। এমনকি সব প্রার্থীই দাবি করেন নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়।

তবে নির্বাচনের সময় সবার নজর কাড়ে ছোট এই সিটি করপোরেশনটি। এর কারণ দেখতে হলে আমাদের পেছনে ফিরে যেতে হবে। সম্ভ্রান্ত দুই পরিবারের জন্য নারায়ণগঞ্জ বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ওসমান ও চুনকা পরিবারই নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আর এই দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব সেই স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭৩ সাল থেকে। দুটি পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরীক্ষিত পক্ষ।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ঘোষণা করা হয় ১৮৭৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। পৌরসভা ঘোষণাকালে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ের এবং পশ্চিমপাড়ের স্থানসমূহকে তিনটি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। এ তিনটি ওয়ার্ডের সর্বমোট আয়তন ছিল প্রায় ৪.৫ বর্গমাইল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ওসমান ও চুনকা পরিবারের দ্বন্দ্ব শুরু। সেই থেকে এখনো চলছে সেই দ্বন্দ্ব। ১৯৭৩ সালে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আলী আহাম্মদ চুনকা নিজের দল আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েও পাননি। সেই সময় ওসমান পরিবারের একেএম শামসুজ্জোহার প্রত্যক্ষ মদদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পান মহিউদ্দিন আহম্মেদ খোকা ওরফে খোকা মহিউদ্দিন। আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন আলী আহাম্মদ চুনকা। এরপর থেকে চুনকা পরিবার ও ওসমান পরিবারের মধ্যে শীতল দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এরপর ১৯৮০ সালে জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনে শামসুজ্জোহা ও চুনকা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, এতে চুনকা জয়ী হন। ১৯৮৪ সালে আলী আহাম্মদ চুনকা মারা যান। ১৯৮৫ সালে তার মেয়ে সেলিনা হায়াত আইভী বিদেশে পড়তে গেলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে একক কর্তৃত্ব করতে থাকে ওসমান পরিবার। যদিও শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের নেতৃত্বে সংগঠিত থাকেন চুনকার নেতাকর্মীরা। ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করেন নাজমা রহমান।

১৯৯২ সালে চুনকা কন্যা সেলিনা হায়াত আইভী দেশে ফিরে আসেন। এসেই তিনি শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হন। এরপর তিনি বিদেশে গেলেও ২০০৩ সালের নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে আসেন। ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়লাভ করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলী আহম্মদের মেয়ে সেলিনা হায়াত আইভি। পৌরসভা বিলুপ্তি হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।

২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও কদমরসূল পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে ২৭টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সেলিনা হায়াত আইভী মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র।

এই নির্বাচনকে ঘিরেই ওসমান ও চুনকা পরিবারের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। কারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চুনকা কন্যা আইভী ও জোহা পুত্র শামীম ওসমান। ৩৭ বছর আগে ১৯৭৩ সালে যা হয়েছিল তারই পুনরাবৃত্তি ঘটে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন মেলেনি আলী আহাম্মদ চুনকা কন্যা সেলিনা হায়াত আইভীর। তারপরও শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেন আইভী।

ওই নির্বাচন নিয়ে শামীম-আইভি একে অপরকে দোষারোপ ও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন প্রকাশ্যেই। এরপর থেকে আরও নানান ঘটনায় পরস্পরকে দোষাদোষী করতে দেখেছে দেশের মানুষ। আলোচিত ত্বকী হত্যা ও সাত খুনের ঘটনায়ও চলে কথা চালাচালি।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ২য় সিটি নির্বাচনে টানা ৩য় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ১৮৭টি ভোট কেন্দ্রে মোট ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। এ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দিবেন ভোটাররা।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগ মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলী আহাম্মদ চুনকা কন্যা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হাতি প্রতীকের অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। অবশ্য মেয়র পদে আরও চার প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারাও কম বেশি প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে ওসমান পরিবারের সদস্য শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি হওয়ায় তিনি সিটি নির্বাচন থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন। তার পরও থেমে থেমে তাদের বাহাস উঠে আসে।

কয়েকদিন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও এমপি শামীম ওসমানকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ। সিটির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও বিএনপি নেতা হাতি প্রতীকের অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে ছাড়িয়ে আলোচনায় উঠে আসে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এমপি শামীম ওসমানের নাম। কী করবেন তিনি, কোন দিকে থাকবেন- এ নিয়ে দুই প্রার্থীর বাহাসে গরম হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ।

প্রথম দিকে শামীম ওসমান কোনো মন্তব্য করেননি নির্বাচন নিয়ে। এমনকি এ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও যাননি তিনি। তবে তাকে নিয়ে দুই প্রার্থীর তর্ক-বিতর্ক আর মন্তব্যের জেরে আর চুপ থাকতে পারেননি তিনি। জানিয়ে দেন- এবার জবাব দিবেন তিনি। এর পর ১০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগ ও নৌকার বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। নৌকা প্রতীকের কে প্রার্থী তা তিনি দেখেন না। তিনি শুধু নৌকা প্রতীকই দেখেন। এই বক্তব্যের পর পাল্টাপাল্টি মন্তব্য কিছুটা কমে আসে।

অবশ্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর নেতাদের সেই বৈঠকে শেষ পর্যন্ত যাননি শামীম ওসমান। দলীয় সেই বৈঠকে না গেলেও তিনি ছিলেন তার প্রয়াত বাবা মা আর ভাইয়ের কবরে। তিনি হলেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে রাজনৈতিক বৈরিতার কারণেই এ সভার দিকে নজর ছিল সবারই।

ওই দিন ধানমন্ডি দলীয় সভানেত্রীর সেই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক নারী আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী।

৫ জানুয়ারি প্রচারণাকালে নির্বাচনে শামীম ওসমানের অবস্থান কী, সমর্থন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে বেশ বিরক্তি প্রকাশ করেন সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান ‘খুব কি বেশি জরুরি’ এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। ৭ জানুয়ারি এক প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। আদর্শগতভাবে উনিও আওয়ামী লীগ করেন, আমিও করি। স্থানীয় অনেক কিছুর সঙ্গে মতের অমিল থাকতে পারে, দ্বিমত থাকতে পারে কিন্তু শামীম ওসমানের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

তবে ৮ জানুয়ারি ডা. আইভীর এক বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিন তিনি কোনো গডফাদারের দিকে তাকিয়ে নির্বাচন করেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গতকাল বন্দরে তৈমুর প্রচারণা চালিয়েছেন, সেলিম ওসমানের জাতীয় পার্টির চারজন চেয়ারম্যান তার সঙ্গে ছিলেন। এতে প্রমাণিত হয় নারায়ণগঞ্জে যে গুঞ্জন ছিল তৈমুর আলম খন্দকার গডফাদার শামীম ওসমানের ক্যান্ডিডেট, গতকাল তা প্রমাণিত হয়েছে।

শনিবার বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের দেউলি চৌরাপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইভী আরও বলেন, হাইকমান্ড কালকে সব দেখেছে। এখানে অনুষ্ঠান হয়েছে, পত্রিকায়ও খবর এসেছে। তারা দেখেছেন এবং তারা এ বিষয়ে দেখবেন। আমি বলতে চাই- আমি নির্বাচন করি জনতার শক্তিতে। জনতাই আমার শক্তি, দল আমার মনোবল। এসব মিলিয়ে আমি নির্বাচন করি। আমি কোনো গডফাদারের দিকে তাকিয়ে নির্বাচন করি না। আমি বলেছি কালকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানরা প্রকাশ্যে নেমেছেন। এতে প্রমাণিত হয়- কারা তার সঙ্গে আছেন, কারা তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন।

দলের সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হলো কিনা জানি না। সব নেতাকর্মী আমার সঙ্গে। প্রতিটি ওয়ার্ড লেভেল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা আমার পাশে আছে। একমাত্র তিনি (শামীম ওসমান) দলের বাইরে গিয়ে তার লোকজনকে তৈমুর সাহেবের সঙ্গে দিচ্ছেন।

আইভী আরও বলেন, তৈমুর আলম খন্দকার গডফাদার শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের প্রার্থী। তিনি বিএনপিরও প্রার্থী নন, জনতার প্রার্থীও নন। শামীম ওসমান তাকে প্রার্থী করেছেন। উনি বিএনপির প্রার্থী হলে ধানের শীষেই নির্বাচন করতেন। উনি গডফাদারের প্রার্থী। তিনি দন্তবিহীন গডফাদার, নতুন করে আবার উত্থান হতে শুরু করেছেন।

সেলিনা হায়াত আইভীর এমন মন্তব্যের পর আর চুপ থাকেননি শামীম ওসমান। ১০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, এখানে কে প্রার্থী, হু কেয়ারস। কলাগাছ না আমগাছ সেটা দেখার বিষয় না। এটা আমার স্বাধীনতার নৌকা, এটা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এটা আমাদের ৪৯ জন লাশের নৌকা, চন্দন শীলের ২ পায়ের বিনিময়ের নৌকা। নৌকার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এছাড়া এক প্রতিক্রিয়ায় শামীম ওসমান বলেন, দুই দিন আগে একটি ভিডিও দেখলাম, সেখানে উনি (আইভী) বলছেন, শামীম ওসমান আমাদের নেতা। উনি বড়ভাই, আওয়ামী লীগের এমপি। দুই দিনের মধ্যে গডফাদার হয়ে গেলাম। আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমার দল। আমি যদি গডফাদার হই, তাহলে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন কে? কাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো? যে বলেছে, তার (আইভী) কাছে জিজ্ঞেস করেন, আপনি দুই দিন আগে এটা বলেছেন, দুই দিন পরে এটা বললেন। কোনটা সঠিক। তিনি প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, দুই দিন আগে ছিলাম ভাই, এখন গডফাদার হলাম কীভাবে?

এদিকে রোববার বিকালে নিজ বাসভবনের ‘মজলুম মিলনায়তন’ এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আল খন্দকার। সেখানে তিনি বলেন, সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী যে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেছেন, সে ব্যাপারে আমার স্পষ্ট মন্তব্য হলো সরকারদলীয় নেতাদের এই বিভেদ-বিভাজনই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। শামীম ওসমান সরকারদলীয় এমপি আর সেলিম ওসমান সরকারি দলের জোটবদ্ধ জাতীয় পার্টির এমপি। আমি তৈমুর আলম খন্দকার প্রথম দিন থেকেই বলছি শামীম ওসমানের পায়ে তৈমুর আলম খন্দকার হাঁটে না। গত ৫০ বছর ধরে মাটি ও মানুষের সঙ্গে রাজনীতি করতে করতে তৈমুর আলম খন্দকারের ভিত্তি এতটাই শক্ত অবস্থান হয়েছে যে, কোনো শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমানের হয়ে আমাকে নির্বাচনে অভিনয়ে নামতে হবে না।

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ এখন ওই সিটির পাড়া-মহল্লায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থী আর সমর্থকরা। ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই গণসংযোগে নামেন প্রার্থীরা। ২৭টি ওয়ার্ডে ভোট যুদ্ধে ৬ মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ১৬২ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থীর গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জের ভোটের মাঠ।

তাদের এই শান্তিপূর্ণ প্রচারণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ভোটাররা। পুরো নারায়ণগঞ্জ শহরে মোটামুটি সব মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীর মাইক বাজছে। শহরজুড়ে প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টারও ছড়িয়ে আছে। কারও মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই। এখন দেখার বিষয় কী হয় ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে। সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন ওই নির্বাচনের দিকে।

প্রেমিকার হাত থেকে বাঁচতে বার্সার বিপক্ষে গোল রিয়াল তারকার!

সৌদি আরবের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ সুপার কাপে এল ক্ল্যাসিকোতে জিতল রিয়াল মাদ্রিদ।

জমজমাট লড়াইয়ের শেষ দিকে বার্সেলোনা তারকা আনসু ফাতির সমতাসূচক গোলে স্কোর দাঁড়ায় ২-২।

ড্র নিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে এবারের এল ক্ল্যাসিকো, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। কিন্তু ৯৮তম মিনিটে ফেদে ভালভার্দের গোলে জয় নিয়ে বাড়ি ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ।

আর ফেদের এই জয়সূচক গোলের নেপথ্যে রয়েছে দারুণ একটি অদ্ভুত কাহিনী।

ফেদে ভালভার্দে গোল করেছেন তার প্রেমিকার কাছ থেকে বাঁচার জন্য। প্রেমিকার তৈরি করা খাবারের থেকে বাঁচতে গোল!

এমন তথ্য ফাঁস করেছেন ভালভার্দের প্রেমিকা সাংবাদিক মিনা বেনিনো।

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে ফেদে ভালভার্দেকে পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশট তিনি পোস্ট করেন টুইটে।

সেখানে লেখা রয়েছে, ‘মাঠে নেমে যদি গোল করতে না পার, তাহলে প্রতিদিন আমার হাতের রান্না খেতে হবে। একটু ভেবে দেখো, সেটা কেমন হবে?’ বোঝাই যাচ্ছে মিনার রান্না অখাদ্য মনে হয় প্রেমিক ভালভার্দের কাছে।

উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন আইনি সীমায় থাকবে

উপজেলা পরিষদের অর্থে পরিচালিত কার্যক্রমে পরিষদ চেয়ারম্যানের কর্তৃত্ব থাকবে। আর সরকারি অর্থপুষ্ট কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন তথা ইউএনওদের কর্তৃত্ব থাকবে। আইন অনুযায়ী এই নিয়ম মেনে চলতে হবে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে।

দুই প্রতিষ্ঠানেরই কাজের সীমা নির্ধারণ করা আছে। কেউ যেন কারও সীমা লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে হওয়া রিট মামলাগুলোয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘উপজেলা পরিষদ হস্তান্তরিত বিষয়ে কার্যক্রম পর্যালোচনা, পরামর্শ প্রদান এবং নির্দেশনা জারি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’র বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে কোনো পক্ষের শিথিলতাকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটির বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রতি ছয় মাসে এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকলে যাতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে সব পক্ষকে তাদের টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) মেনে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বলতে যা বোঝায়, উপজেলা তা নয়। সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা আইনের শিরোনামে স্থানীয় সরকার কথাটি উল্লেখ আছে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ আইনে তা নেই।

‘সরকার’ শব্দটির মাধ্যমে কার্যত রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন রাজস্ব আদায় করলেও উপজেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের সুযোগ নেই।

আর সেই সুযোগ করা হলে স্থানীয় নাগরিকদের ওপর দ্বিগুণ রাজস্ব আরোপ করতে হবে। যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, উপজেলা পরিষদের এমন সুযোগ না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে দু-একটি খাতের কিছু অর্থ পরিষদের ফান্ডে দেওয়া হয়।

সেই ফান্ড পরিচালনার সম্পূর্ণ এখতিয়ার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের। একইভাবে উপজেলার ফান্ডে যদি অন্য কোনো বিদেশি বা কোনো সংস্থার অনুদান যোগ হয়, সেটাও পরিষদ চেয়ারম্যানের এখতিয়ারে খরচ হয়।

উপজেলা পরিষদে ইউএনও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ।

তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ ১৭টি অফিস উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত হলেও সরাসরি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কার্যক্রম ও সরকারের রাজস্ব খাতের অর্গানোগ্রামভুক্ত এসব অফিসের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি উপজেলা পরিষদে অঙ্গীভূত হয়নি।

আইনে উল্লিখিত যে কার্যসীমা উপজেলা পরিষদের আছে শুধু সেইসব বিষয়ে ১৭টি অফিসের বিষয় উপজেলা পরিষদ দেখভাল করবে।

এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ম্যাজিস্ট্রেসি, পাবলিক পরীক্ষা, নির্বাচন, সার্টিফিকেট অফিসারের আদালত, প্রোটোকল, ভূমি রাজস্ব প্রশাসন, দিবস-কর্মসূচি উদ্যাপন প্রভৃতি বিষয়ে আইন অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গার্ডিয়ান হিসাবে যে ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন, সেটা নিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনায় যাতে অহেতুক গণ্ডগোল না লাগে, সেজন্য আইনকানুন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

সেই সঙ্গে উপজেলা সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় সুরাহা করতে নিয়মিত ‘উপজেলা পরিষদ হস্তান্তরিত বিষয়ে কার্যক্রম পর্যালোচনা, পরামর্শ প্রদান এবং নির্দেশনা জারি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’র বৈঠক অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, সমবায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, ক্রীড়া ও যুব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ ডজনখানেক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও তাদের উপযুক্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অগ্রগতির পথে ডিজিটাল লেনদেনের গুরুত্ব

কথাটা তো যেনতেন কেউ বলছেন না, খোদ ব্রিটিশ অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে।

এমন পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে তারা পূর্বশর্ত হিসাবে বলছে, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের এখন যে গতিতে বিকাশ হচ্ছে, সে গতিটা অব্যাহত থাকতে হবে।

আমি নিজে যেহেতু আর্থিক খাত নিয়ে কাজ করি, আমার বিশ্বাস-যে গতিতে আমরা এগিয়ে চলেছি সেটি কেবল ধরে রাখা নয়, অনেক ক্ষেত্রে এ গতিকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। এখানেও পূর্বশর্ত হলো-আর্থিক খাতে ডিজিটাইজেশনের যে সূচনা হয়েছে সেটি অব্যাহতভাবে চলতে দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে বরং এটিকে বেগবান করার পথে ধাবিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা যারা আর্থিক খাতের ডিজিটাল সেবা নিয়ে কাজ করি তাদের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি তাদের নীতি সহায়তা পেতে হবে নির্ধারকদের পক্ষ থেকেও।

বলে রাখা দরকার, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২১ নামের ওই প্রতিবেদন অনুসারে অর্থনৈতিক শক্তিতে বিশ্বের ৪১ নম্বর অবস্থানে থেকে ২০২১ সাল শেষ করলাম আমরা। সুতরাং পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১৩ বছরে ১৬ ধাপ এগিয়ে আসার সুযোগ।

টাকা লেনদেনে গতি দিতে পারলে সেই গতিময়তা যে সুপারসনিক বেগে মুহূর্তে অর্থনীতির অন্যান্য গলিপথেও ছড়িয়ে পড়ে, তা তো নতুন কোনো তত্ত্ব নয়। এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে টাকায় আমাদের এ গতিশীলতা নিশ্চয়ই বড় ভূমিকা রেখেছে। মাসে এখন ৭০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে কেবল মোবাইলের মাধ্যমে। এখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আছে ৪০ শতাংশ। শুধু মোবাইলের কয়েকটি বাটনে হাতের আঙুলের স্পর্শ মুহূর্তে দূর-দূরান্তের লেনদেন করে দিচ্ছে নিমিষে। কিন্তু এখনো সব কাজই হচ্ছে না এভাবে। এখনো অনেক খাতকে গ্রাস করে রেখেছে ম্যানুয়াল পদ্ধতি।

আর্থিক খাতকে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে তুলে আনতে গিয়ে দেখছি-সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসার নতুন নতুন মডেল আসার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ধারাবাহিক বিকাশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও জটিল ও গতিশীল হচ্ছে। মুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নতুন অনলাইন মার্কেট প্লেসের বিস্তারে লেনদেন জগতে এসেছে বড় পরিবর্তন। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সাপ্লাই চেইন পদ্ধতিতেও বড় রকমের অদল-বদল হয়েছে। এ সবকিছুর সঙ্গে খাপখাইয়ে এগিয়ে যেতে অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হলো মসৃণ লেনদেন ব্যবস্থার প্রচলন, যা কেবল ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। হাতের কয়েকটি আঙুলের স্পর্শে যদি যখন খুশি লেনদেন করতে না পারা যায়, তাহলে ডিজিটাল থেকে ভার্চুয়ালের পথে এগিয়ে যাওয়া এ দুনিয়ায় টিকে থাকা সত্যিই এক দুরূহ কাজ হবে।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে পরিপূর্ণ ডিজিটাইজ্ডকরণের সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ এখনো আমাদের সামনে নেই। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রাইভেট সেক্টর নিজেদের প্রয়োজনেই ডিজিটালের পথ ধরে হাঁটছে। কখনো সেক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতা যেমন থাকছে, আবার কখনো তাদের ‘ধীরে চলো’ নীতিতে হাঁটার কৌশলের কারণে আমরাও ধীর পায়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছি।

আবার নীতির আগে বাস্তবায়নের উদাহরণও আছে। যেমন-মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের জন্ম হয়েছিল নীতি কাঠামো গড়ে ওঠার আগেই। নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক সময় এমনটা হয়। আবার ২০১৯ সালে যখন ডাক বিভাগের হাত ধরে ‘নগদ’ যাত্রা করল তখন দেশের আর্থিক খাত প্রবেশ করে ডিজিটাইজেশনের নতুন দিগন্তে। ই-কেওয়াইসির প্রথম প্রচলন বাংলাদেশে দেখা যায় নগদ-এর যাত্রার মাধ্যমে। অনেকেই শুরুতে এর সমালোচনা করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু ঠিকই বিষয়টিকে গ্রহণ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে ই-কেওয়াইসির অনুমোদন দিয়ে দেয়। এখন সবাই দেখছেন, ই-কেওয়াইসি কীভাবে ভেতর থেকে বদলে দিচ্ছে দেশের আর্থিক খাতকে। কারণ শুধু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসই নয়, প্রচলিত বাণ্যিজিক ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক খাতও গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য এখন ই-কেওয়াইসির ওপর নির্ভরশীল। এতে একদিকে যেমন লাখ লাখ মূল্যবান কর্মঘণ্টা বেঁচেছে, তেমনি ব্যবসা পরিচালন খরচও কমছে; সহজ ও নির্ঝঞ্ঝাট হয়েছে গ্রাহক নিবন্ধন প্রক্রিয়া। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে হু হু করে। যেমন, গত বছর শুধু নগদ-এর মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি নতুন আর্থিক অ্যাকাউন্ট দেশে যুক্ত হয়েছে। এতে করে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করার নতুন এক উপকরণ যুক্ত হয়েছে এর মাধ্যমে।

আমার মতে, এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে আপাতত ছোট ছোট এ উদ্ভাবনগুলো বড় বড় ভূমিকা রাখছে। দেখুন না, কেবল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের হাত ধরে কীভাবে সরকারি ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়াটাই বদলে যাচ্ছে। তাছাড়া কোভিড বিধিনিষেধের কঠোরতম সময়েও মোবাইলের লেনদেন সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম। আমরা চাই না কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে গিয়ে জনগণ বাধ্য হয়ে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধায় আসুক। তার বদলে চাই, এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জাতি হিসাবে আমরা এগিয়ে যাব, যেখানে ভোক্তা-গ্রাহক সবার দৈনন্দিন জীবন সহজ করার অবলম্বন হিসাবে হাজির হবে মোবাইলের লেনদেন।

বলছিলাম মোবাইল আর্থিক সেবা মাধ্যমে সরকারি ভাতা ও অনুদান বিতরণের কথা। এতে করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলো; সরকারেরও শত শত কোটি টাকার অপচয় রোধ হলো। সরকার এখন আর ভাতা বিতরণে পুরোনো কাগুজে পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে না, বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মুহূর্তেই কীভাবে সুবিধাভোগীর হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায় তার জন্য মোবাইল লেনদেনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হচ্ছে। গত অর্থবছরে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের মাঝে ১০ হাজার কোটি টাকার উপর এভাবে বিতরণ করেছে সরকার। আমি বিশ্বাস করি, সামনের দিনে এ অঙ্ক আরও বহুগুণে বাড়বে, হয়তো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পুরো বরাদ্দই এর মাধ্যমে বিতরণ হবে। জনপ্রতিনিধিরা শুধু তালিকাটা করে দেবেন আর হাতের মোবাইলে টাকা পেয়ে যাবেন সুবিধাভোগী। ই-মানি ব্যবহারের ফলে টাকা ছাপানো এবং এর ব্যবস্থাপনা খরচ বলে কিছু থাকবে না। একইসঙ্গে বাড়বে টাকার গতি, যা গতিশীল করবে দেশের অর্থনীতির চাকাকে।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নিয়ে আলাদা করে বলা থাকছে। এসবও তো একটা বড় স্বীকৃতি। তবে এমন স্বীকৃতির পরও অনেক জায়গায় এখনো আমরা ঠিক কাজটি করতে পারিনি। এখনো পারিনি বলে যে পারব না তা তো নয়! নিশ্চয়ই আমরা সেই দিনকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিতে পারব, যেখানে সবকিছু হবে কয়েকটি আঙুলের স্পর্শে-শুধু টাকা পাঠানো বা ছোটখাটো লেনদেন নয়। ঘরে বসে মুহূর্তেই ঋণ পাওয়া থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানির মতো বড় বড় অঙ্কের কাজও মোবাইল লেনদেনের মাধ্যমে হবে।

সেটি হলে নিশ্চিত করে বলছি-খরচ কমবে, সময় বাঁচবে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। আর সর্বোপরি প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বচ্ছতা আসবে। তাতে আমাদের সবারই জীবন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে; যা উন্নতির সূচকে আমাদের নিঃসন্দেহে বাড়তি গতি দেবে। তখন হয়তো ১৩ বছরে ১৬ ধাপ নয়; আমার বিশ্বাস-কয়েক বছরের মধ্যেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল বা আরও এমন গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন পূর্বাভাস নিয়ে হাজির হবে।

তানভীর এ মিশুক : ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক