শখের ছাদ বাগান মেটাচ্ছে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা

0
353

বাবা নুরুল ইসলাম জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। ২৫ বছর বয়সি ছেলে মো. ফাহিম বাবাকে ব্যবসায় সহযোগিতা করে আসছেন। বাবার গড়ে তোলা শখের ছাদ বাগানেও সঙ্গী ছেলে।

বাবা-ছেলের ছাদ বাগানের সফলতা গ্রামের মানুষের মুখে মুখে এখন। এটি দেখে গ্রামের অনেকে ছাদ বাগান শুরু করেছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড কদমতলী গ্রামে বাবা ও ছেলের গড়ে তোলা ছাদ বাগানের কথা বলছি।

সরেজমিন নুরুল ইসলামের পাকা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, বাহারি সবজি ফলন পুরো ছাদজুড়ে। শীতকালীন মৌসুমি সবজির মধ্যে সারি সারি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, টমেটো ও বেগুন। আরও রয়েছে মরিচ, লাউ, লালশাক, পেঁয়াজ, সিম, ধনেয়া পাতাসহ নানা ধরনের শাকসবজি।

সারি সারি পেঁপে গাছ— সব গাছেই ফলন এসেছে। ফলনে টইটম্বুর নুরুল ইসলামের বাড়ি মনে হচ্ছে যেন এক টুকরো সবুজ উদ্যান।

কথা হয় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবারে প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে সবজি প্রয়োজন। অধিকাংশ কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে সবজি ফলিয়ে বাজারজাত করছে, তাতে অতিমাত্রায় বিষ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। বিষমুক্ত সবজির জোগান মেটাতে ও ছাদের সৌন্দর্যবর্ধনে মূলত তিনি ছাদ বাগান শুরু করেন।

২০ বছর আগে থেকে তার ছাদ বাগান শুরু। শুধু বাড়ির ছাদেই নয়, বাড়ির আশপাশে সব জায়গায় নানা প্রজাতির সবজি ও ফলমূলের চাষাবাদ। রয়েছে বাড়ির পেছনে দৃষ্টিনন্দন পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুরপাড়েও রয়েছে নানা জাতের আমগাছ, জাম, পেয়ারা, লেবু, আমলকী, কলা, আতা, বরইসহ নানা ধরনের ফল গাছ।

নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ফাহিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। সেই সময় পুরো বাড়ি গরম হয়ে ওঠে। ফাঁকা তপ্ত ছাদকে শীতল করতে এবং পরিবেশকে সহনীয় করতেই সবুজ বাগান করা। প্রকৃতির প্রেমে শখের বসেই বাবা-ছেলে দুজনে বাগানে সময় দিই।

বাড়ির ছাদে দুই হাজার বর্গফুটের আয়তনের মধ্যে বাড়ির ছাদে টব এবং ড্রামে পরম যত্নে বেড়ে উঠছে গাছগুলো। ব্যবসার কাজের পর যেটুকু সময় পান তার অধিকাংশ সময় তারা এ বাগানেই সময় দেন। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে নিজেরা জৈব সার তৈরি করে তা ব্যবহার করেন।

প্লাস্টিকের ড্রাম ও টবে চারা লাগানো হয়। এতে ভবনের কোনো ধরনের ক্ষতি হচ্ছে না। তবে খালি ছাদে দীর্ঘমেয়াদি মাটি ব্যবহার করে কিংবা সহায়ক কিছু না দিয়ে ড্রাম কিংবা টব বসালে ছাদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন যারা ছাদে বাগান করতে চান তাদের কাছে সতর্কতামূলক এ বার্তা দিয়েছেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, পরিবারের জন্য ভেজালমুক্ত ফল ও শাকসবজির জোগান ও চাহিদা মেটানোর পর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও পাঠাতে পারি। আমি শাকসবজি বিক্রি করি না।

যাদের বিশাল ছাদ খালি রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলাম বলেন, দিন দিন ফসলি জমি কমে আসছে, কমছে সবুজ প্রকৃতি। বাড়ছে নগরায়ণ। প্রকৃতিতে উষ্ণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যাদের ভবনের ছাদ খালি রয়েছে, তারা যেন এভাবে সবুজ বাগান গড়ে তোলেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারে বিষমুক্ত সবজির জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ছাদ বাগানটি দেখতে গিয়েছিলাম। তাদের নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ছাদ কৃষিতে। উপজেলার মধ্যে এত বড় পরিসরে ছাদ বাগান কোথাও নেই। ছাদ বাগানটি আরও সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনে কৃষি কার্যালয় সহযোগিতা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here