বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 495

রাজধানীর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না আজ

বাৎসরিক সংরক্ষণ কাজের জন্য আজ রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। আজ শনিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাবাজার ও বংশাল এলাকায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এনওসিএস দপ্তরের আওতাধীন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি-ডিপিডিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমারটুলি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন বাংলাবাজার ও বংশাল এলাকায় জিন্দাবাহার ১ম, ২য় ও ৩য় লেন, আওলাদ হোসেন লেন, প্রসন্ন পোদ্দার লেন (আংশিক), বাসাবাড়ি লেন, সৈয়দ হাসান আলী লেন, বাবু বাজার, বাদামতলী, পিকে রায় লেন, মিটফোর্ড হাসপাতাল (এক্সপ্রেস), চত্ত রঞ্জন এভিনিউ, সিমসন রোড (আংশিক), পাটুয়াটুলি লেন, ওয়াইজ ঘাট, নবাব ইউসুফ আলী রোড, সৈয়দ হাসান আলী লেন, গোপীনাথ দত্ত লেন ও ইসলামপুর আংশিক, চম্পাতলী সোয়ারী ঘাট, আহসান উল্লাহ রোড, জুমরাই লেন, পিকে রায় লেন, সৈয়দ হাসান আলী লেন (আংশিক), আকমল খান রোড, কাজি জিয়াউদ্দিন রোড, পিকে রায় লেন, রায় বাহাদুর ইশ্বর চন্দ্র বোস স্ট্রিট ও বাদামতলী রোড এলাকায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও রাজধানীর বাড্ডা আদর্শনগরী এলাকায় শনিবার (২৯ জানুয়ারি) জরুরি কাজের জন্য দুপুরে ও বিকেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে সমস্যা যতো দ্রুত সমাধান হবে, ততো দ্রুতই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

করোনা শনাক্তের হারে নতুন রেকর্ড

দেশে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার ৩৩.৩৭ শতাংশে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ২৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ হাজার ৪৪০ জনকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এটি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা শনাক্ত হারের নতুন রেকর্ড। এর আগে শনাক্তের সর্বোচ্চ হার ৩২.৫৫ শতাংশ ছিল গত বছরের ২৪ জুলাই।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৮ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি যত খারাপই হোক না কেন, এত উচ্চহারে রোগী শনাক্তের বিষয়টি অস্বাভাবিক। শনাক্তের হার ১০ শতাংশের বেশি হলে বুঝতে হবে উপসর্গ যাদের আছে, তারা সবাই পরীক্ষা করাচ্ছে না বা পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাচ্ছে না।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, রোগী শনাক্তের হারই বলে দিচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষা কম হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষা দ্রুত বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে রিক্সাভ্যানে করে এন্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা নিয়ে ঘন জনবসতি এলাকায় যেতে হবে। গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এটা না হলে দেশে করোনা সংক্রমণের

প্রকৃত অবস্থা আমরা জানতে পারব না। প্রতিদিন রোগী শনাক্তের সংখ্যা এখনো গত বছরের ২৮ জুলাইকে অতিক্রম করে যায়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

মোস্তাক হোসেন আরো বলেন, শুধু নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়ালেই হবে না। পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে। কেউ পরীক্ষায় পজিটিভ বা সংক্রমিত হিসেবে চিহ্নিত হলে তার খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাসহ দেশে পর পর চার দিনই ১৫ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ১৫ হাজার ৮০৭ জন, তার আগের দিন ১৫ হাজার ৫২৭ জন ও মঙ্গলবার ১৬ হাজার ৩৩ জন রোগী শনাক্ত হয়। সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া ১৫ হাজার ৪৪০ জনকে নিয়ে দেশে করোনায় এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হলো ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭১ জন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৩২৬ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হলো ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৯ জন। সর্বশেষ ৪৬ হাজার ২৬৮টিসহ মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৮৪ লাখ ১১ হাজার ৮১২টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩টি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ৩৩.৩৭ শতাংশসহ গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪.২৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮.৬৩ শতাংশ আর মৃত্যুর হার ১.৬১ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২০ জনের মধ্যে পুরুষ আটজন আর নারী ১২ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় পুরুষ মারা গেল মোট ১৮ হাজার ৮৮ জন আর নারী ১০ হাজার ২২০ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে ৭১ থেকে ৮০ বছরের সাতজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের পাঁচজন, ১১ থেকে ২০ বছরের দুজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুজন এবং শূন্য থেকে ১০ বছর, ২১ থেকে ৩০ বছর, ৬১ থেকে ৭০ বছর আর ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন করে।

এদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ জন, ঢাকা বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে দুজন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে রয়েছেন। ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে আর তিনজনের বেসরকারি হাসপাতালে।

হিরো আলমকে দেখে জনতা ভিড়, পুলিশের লাঠিচার্জ

শুক্রবার সকাল হতেই আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে এফডিসিজুড়ে। সব কিছু রেখে সবার চোখ এফডিসিতে।

তারকাদের মিলনমেলা বসেছে যেন। প্রিয় তারকাদের দেখতে এফডিসির মূল ফটকের বাইরে উৎসুক জনতার ভিড়।

মূলত এফডিসিতে নির্বাচন ঘিরেই এমন পরিস্থিতি। পুলিশের একঝাঁক সদস্যদের নিরাপত্তায় আজ সকাল থেকেই চলছে শিল্পী সমিতির ভোটগ্রহণ উৎসব।

ইলিয়াস কাঞ্চন, নিপুণ, মিশা সওদাগর, ফেরদৌস, সাইমন, রিয়াজ, জায়েদ খান সবাই সকাল থেকেই এসেছেন এফডিসিতে।

তবে দেখা গেল উৎসুক জনতার আগ্রহ হিরো আলমকে নিয়ে। আলোচিত এই অভিনেতা এফডিসি গেটে আসতেই ‘ওই যে হিরো আলম’ বলেই দৌড়ে আসে অসংখ্য মানুষ। ভক্তদের থেকে হিরো আলমকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটেছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় এফডিসি গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গাড়ি থেকে হিরো আলম নামলেই স্রোতের মতো শত শত মানুষ তাকে দেখতে ছুটে যান। ‘আলম ভাই, আলম ভাই’ বলে চিৎকার শোনা যায়। সেলফি তুলতে জড়ো হন অনেকেই। জনতার ভিড়ে কারওয়ান বাজার থেকে হাতিরঝিলমুখী রাস্তায় যানজট লেগে যায়।

লোকজন সরিয়ে যান চলাচলের জন্য রাস্তা খুলে দিতে ও হিরো আলমকে রক্ষা করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় নিজেকে বাঁচাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের গাড়িতে উঠে পড়েন হিরো আলম।

উল্লেখ্য, হিরো আলম চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য নন, তার ভোটাধিকারও নেই। কিন্তু নির্বাচনে ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলকে সমর্থন দিতে তিনি গত কয়েকদিন ধরে এফডিসিতে হাজির হচ্ছেন। ভোটগ্রহণ কেমন হচ্ছে তা দেখতে এসেছিলেন আজকেও।

নেতাশূন্য হেফাজত কি পারবে ঘুরে দাঁড়াতে?

নানা কারণে অতীতে বিভিন্ন সময় আলোচনায় থাকলেও এখন অনেকটাই আলোচনার বাইরে ধর্মভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পরপর দু’জন আমির ও মহাসচিবের মৃত্যুর কারণে অনেকটাই খুঁড়িয়ে চলছে সংগঠনটির কার্যক্রম।

গত ২৬ মার্চ ও এর পরবর্তী সময়ে সহিংস কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি ব্যাপক চাপে পড়ে। জামিনে বেরিয়ে এলেও হেফাজতের অনেক নেতা এখনও কারাগারে রয়েছেন।

অতীতে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনটি আল্লামা আহমদ শফীর ইমেজ কাজে লাগিয়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে নানা ধরনের দাবি আদায় করেছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে।

সংকটের শুরু

হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর জীবদ্দশাতেই সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ পেয়েছিল। সেসময় তৎকালীন মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং শফীপুত্র আনাস মাদানীর মধ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসা ও হেফাজত কেন্দ্রীক বিভিন্ন কোন্দলের খবর বাইরে এসেছে অনেকবার।

এরমধ্যে আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর হেফাজতের তৎকালীন মহাসচিব বাবুনগরী কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন। যেটিতে শফীপুত্র আনাস ও তাদের অনুসারীদের বাদ দেওয়ায় সংগঠনটির কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

সেসময় আল্লামা শফীর অনুসারীরা ওই কমিটিকে বাবুনগরীর ‘ফটিকছড়ি কমিটি’ ও ‘রাজনৈতিক কমিটি’ আখ্যা দেয় এবং অচিরেই আল্লামা শফীর নীতি আদর্শকে ধারণ করে নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেন।

এরমধ্যে গত ২৬ মার্চ ও এর পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী নেতাদের গ্রেফতার ও নানামুখী চাপে গত বছরের ২৫ এপ্রিল রাতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন বাবুনগরী।

পরে ৭ জুন ঢাকার খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে আমির পদে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও মহাসচিব পদে মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদীসহ ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটিতে ফের বাদ পড়েন শফীপন্থীরা। এসময় পাল্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলেও এতদিনে কোনো কমিটি দেননি তারা।

এরমধ্যে গত ১৯ আগস্ট আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ইন্তেকাল করেন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর সংগঠনটির মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীও মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর মহাসচিব আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী মারা যান।

এভাবে পরপর দু’জন আমির ও দু’জন মহাসচিব হারিয়ে অনেকটাই নেতৃত্ব সংকটে ভূগছে ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসা সংগঠনটি।

হেফাজত কীভাবে এগুতে চাইছে?

গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর কেন্দ্র করে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত সহিংসতার মামলায় সারাদেশে টানা গ্রেফতার অভিযানসহ নানামুখী চাপে পড়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এসব মামলায় হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় ৩০ নেতাসহ সারাদেশে এক হাজার ২৩০ জনেরও অধিক গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই মামলাগুলোর তদন্ত করছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই।

এরমধ্যে হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ জনতার হাতে ধরা পড়েন। এতে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়ে হেফাজত। সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে কোণঠাসা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা শুরু থেকেই সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘হেফাজত তাণ্ডব’র ঘটনায় চলতি বছর ১৬৫টি মামলা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় হেফাজতে ইসলামের চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে। তাদের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি। এদের মধ্যে জামিন নিয়েছেন প্রায় এক হাজার ৩০০ আসামি। এই মুহূর্তে কারাগারে আছেন প্রায় ৭০০ জন। বাকি দুই হাজার আসামি জামিন নেননি। এমন পরিস্থিতিতে কারাবন্দি নেতাদের মুক্ত করাটাই এখন হেফাজতের বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে হেফাজতের কার্যক্রম কিভাবে চলছে?

শুরু থেকেই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল থেকে শুরু করে সব ধরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম হেফাজত দূর্গ বলে খ্যাত চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে পরিচালিত হত।কিন্ত মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী দায়িত্ব নেওয়ার পর তার পরিচালিত ঢাকার খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসা থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এরমধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে বেরিয়ে আসে হেফাজত।

গত ২৯ নভেম্বর মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা সাজিদুর রহমান। তিনি সংগঠনটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার আমির ছিলেন।

জাতীয় রাজনীতি বা কওমি অঙ্গনে তিনি তেমন ‘ক্যারিশমাটিক’ হিসেবে পরিচিত নয়। আল্লামা আহমদ শফী ও বাবুনগরীর সময়ে মূল নেতৃত্বেও ছিলেন না তিনি। সবমিলিয়ে নেতৃত্বশূন্যতায় এখন অনেকটা খুঁড়িয়ে চলছে আলোচিত সংগঠন হেফাজতের কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, নেতাশূন্য হেফাজত কি পারবে ঘুরে দাঁড়াতে?

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস যুগান্তরকে বলেন, হেফাজত ১৩ দফা দাবিকে সামনে রেখে গঠিত হয়েছে। এ দাবিগুলোর উপর আমরা অটল রয়েছি। যখনই কোনো গোষ্ঠী আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) অবমাননা করেছে আমরা সেটির প্রতিবাদ করেছি। ভবিষ্যতেও এসব ইস্যুতে আমরা কাজ করব। হেফাজত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, তাই সবসময় আমাদের সরব থাকতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

আটক নেতাদের মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেসব নেতাকর্মীকে এখনো কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের জামিনের জন্য আইনগত চেষ্টা করছি। কিন্তু আদালত স্বাধীন না হওয়ার কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো সবই রাজনৈতিক। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এসব মামলা প্রত্যাহার হবে না। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। পুরাতন মামলাগুলো প্রত্যাহারের পাশাপাশি নতুন মামলাগুলোতে যেন অভিযোগপত্র দেওয়া না হয় সে বিষয়ে কথা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আমাদের যেসব নেতাকর্মী এখনো জামিন নেননি তাদের জামিনের চেষ্টা চলছে। তাদের জামিনের জন্য সবধরণের সহায়তা ও তদবির সংগঠনের পক্ষ থেকেই করা হচ্ছে। কারাগারে বন্দি নেতাদের মুক্ত করাটাই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

আল্লামা আহমদ শফী ও জুনায়েদ বাবুনগরীর মতো ওই পর্যায়ের কোনো আলেম বর্তমানে হেফাজতের শীর্ষে নেই, এটি কি সংগঠনটির মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না এ বিষয়ে মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, এ কথা তো অত্যন্ত সত্য যে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন আমরা মুরব্বী সংকটে ভূগছি। কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা তো মানতেই হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে মুরব্বীদের হারিয়েছি। বিষয়টি কষ্টের হলেও আমরা হতাশ নই। দোয়া করছি, আল্লাহ যেন তাদের মতো যোগ্য নেতৃত্ব মিলিয়ে দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের স্মরণসভা

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের স্মরণসভা, কোরআনখানি ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাদ আছর রাজধানীর তেজগাঁও শাহপন্থী শাহ মাজার হেফজ ও এতিমখানায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ছিলেন জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শরীফ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীর প্রতিক, ফরিদপুর জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল ফয়েজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবুল বাসার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল খান, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য এবং সাব সেক্টর কমান্ডার জাফর ইমাম, মুজিব বাহিনীর সাবেক সাব ডিভিশন কমান্ডার অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ অসুস্থ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থতা কামনা করা হয়।

এছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের প্রয়াদ সদস্য জয়নাল আবেদীন হাজারীর রুহের মাগফেরাত কমনা দোয়া করা হয়। কোরআন খতম মিলাদ মাহফিল শেষে মোনাজাত করেন মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত

ইয়াবা-হেরোইনসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার

ইয়াবা, হেরোইন এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়, সেগুলো হচ্ছে— ৬৫৭২ পিস ইয়াবা বড়ি, ১৮ কেজি ৭৯০ গ্রাম ২৫ পুরিয়া গাঁজা, ৬০৫ গ্রাম ১৬৫ পুরিয়া হেরোইন ও ১৭ বোতল ফেনসিডিল।

তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৫টি মামলা করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আব্দুল্লাহকে ফোন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ফোনালাপে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সাইফুদ্দিন আব্দুল্লাহকে ফোন করেন ড. মোমেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ায় দেশটির সরকারকে অভিবাদন জানান এ কে আব্দুল মোমেন।

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হচ্ছে দীর্ঘদিন পর। দেশটির এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং সক্রিয়তায় জনবল দিয়ে পাশে থাকার উদ্যোগে প্রবাসী শ্রমিকদের অভিবাসনের প্রক্রিয়াটি হবে স্বাভাবিক ও নিরাপদ।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলেরও মালয়েশিয়ায় নিরাপদ অভিবাসনের ব্যাপারে অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আব্দুল্লাহও ডিজিটাল অর্থনীতিসহ দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্যও মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।
দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্যও অনুরোধ জানান এ কে আব্দুল মোমেন।

এছাড়া বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ করোনা টিকা উপহার দেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামীতে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার, গতিশীল ও নতুন মাত্রা দান করার ব্যাপারে সম্মতি জানান।

মেসিহীন চিলির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়

চিলির মাঠে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন ডি মারিয়া ও লাউতারো মার্টিনেজ। দলে লিওনেল মেসি নেই। কিন্তু তাতে আর্জেন্টিনার জয় পেয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২-১ গোলে।

করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠলেও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি লিওনেল মেসি। তাই তাকে এবারের বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে না খেলানোর অনুরোধ করেছিল প্যারিস সেন্ত জার্মেই। আর্জেন্টিনা সেই ‘ডাকে’ সাড়া দিয়ে বাইরে রেখেছে তাদের অধিনায়ককে। যদিও দলের সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই চিলি জয় করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

কালামার ম্যাচে আনহেল দি মারিয়ার গোলে শুরুতে এগিয়ে গেলেও স্বাগতিকরা ম্যাচে ফিরতে সময় নেয়নি। বেন ব্রেরেতন দিয়াসের লক্ষ্যভেদে সমতায় ফেরে চিলি। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ব্যবধান আবার বাড়িয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেসের ওই গোলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।

এ নিয়ে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলো। ১৪ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট আলবিসেলস্তেদের। এক ম্যাচ বেশি খেলা চিলি ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

হিলিতে আরও কমেছে তাপমাত্রা, বেড়েছে দুর্ভোগ

দিনাজপুরের হিলিতে তাপমাত্রা আরও কমেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এতে নিম্নআয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ইতোমধ্যে রাজশাহী, রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সূর্যের দেখা মিললেও উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সূর্যের তাপ অনেক কম।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, শুক্রবার দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৩ শতাংশ, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪-৫ কিমি, তবে বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার গতিতে ধাবিত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ দেশের আরো বেশ কিছু স্থানের ওপর দিয়ে ১টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহটি অব্যাহত থাকতে পারে।

‘ধনখড়ের পদত্যাগ ছাড়া উপায় নেই’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর বা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় রাজ্যের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বলে অভিযোগ করে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভয়ঙ্কর জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে রাজ্যপালের ভূমিকা। তিনি যে পর্যায়ে গিয়েছেন, তাতে তার পদত্যাগ ছাড়া উপায় নেই।’ খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

সুদীপ বলেন, ‘রাজ্যে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী মানবাধিকার কমিশন তৈরি করেছেন, তা নিয়েও রাজ্যপাল প্রশ্ন করতে ছাড়ছেন না। আমাদের মনে হচ্ছে যে, প্রতি মুহূর্তে রাজ্য সরকারকে বিব্রত করার নির্দেশ দিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যপাল আদতে মনোনীত। কিন্তু আমরা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় আছি। সেই সরকারের প্রতিটি কাজে যেভাবে রাজ্যপাল হস্তক্ষেপ করছেন, তা যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হবে।’

পাশাপাশি লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা জানান, লোকসভায় এবং রাজ্যসভায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তাব পেশ করা যায় কিনা, তা নিয়ে ভেবে দেখতে হবে।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে বিগত কয়েকদিনে এই সংঘাত অন্য মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিদের নিয়ে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ইস্যুতে বার্তা দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুখেন্দুশেখর রায়দের। বৈঠকে মমতার বক্তব্য তুলে ধরে লেখা হয়, রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্যপাল কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

আসন্ন বাজেট অধিবেশনে রণকৌশল নির্ধারণ করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন তৃণমূল এমপিরা। মমতা সেই বৈঠকে বলেন, ‘বর্তমান রাজ্যপাল অনৈতিক, রীতি বহির্ভূত, অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ১১ বছরের শাসনকালে এমন রাজ্যপাল এই প্রথম। বিরোধী দলের এজেন্সি হয়ে রাজ্য সরকারকে বিব্রত করার নীতি গ্রহণ করেছেন গভর্নর।’

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে আসন্ন বাজেট অধিবেশনে সংসদের উভয় কক্ষেই রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সরব হবেন তৃণমূলের এমপিরা।