শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 478

২ ফুট ৬ ইঞ্চির জিহাদ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

জিহাদ হাসান। উচ্চতা ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। জন্মের পর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই বেড়ে উঠেন তিনি । জীবনে চলার পথে শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতার জন্য নানাজনের হাসির পাত্র হয়েছেন অসংখ্যবার। তবু থেমে থাকেননি জিহাদ। কষ্ট করে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সফলতার মাধ্যমেই সবার কটু কথার জবাব দেবেন তিনি।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে অদম্য জিহাদ এবার ভর্তি হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ২০২০-২১ সেশনে ভর্তি হন জিহাদ হাসান।

পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার মো. ফারুক হোসেন ও রেহানা আক্তার দম্পতির ছেলে জিহাদ হাসান।

জানা যায়, সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে সাফল্যের সঙ্গে এ বছর গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার পর ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অদম্য মেধাবী জিহাদ হাসান ঢাকা বোর্ড থেকে ২০১৮ সালে ৪.৮৭ জিপিএ নিয়ে এসএসসি এবং ২০২০ সালে ৪.২৫ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় রোববার তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

জিহাদ হাসান বলেন, আমার দুচোখে অনেক স্বপ্ন। ভবিষ্যতে আমি লেখাপড়া শেষ করে দেশের সেবা করতে চাই। লক্ষ্য আমার বিসিএস ক্যাডার হওয়া। জীবনযুদ্ধে জয়ের পথেই এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতার জন্য নানাজনের কাছে হাসির পাত্র হলেও জীবনযুদ্ধে বাবা-মাসহ পরিবারের সমর্থন ছিল সবসময়ই। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সবসময় তারা উৎসাহ জুগিয়েছেন। বিশেষ করে আমার চিকিৎসক বড় বোন আমাকে সাহস দিয়েছেন ও সাপোর্ট করেছেন সবসময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে স্বপ্নজয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারলাম। আমার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

দৃঢ় প্রত্যয়ী জিহাদ হাসান তার স্বপ্নকে ছুঁতে পারবে এই প্রত্যাশা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবার।

বাংলাদেশসহ ৮ দেশ থেকে কর্মী নেবে সৌদি আরব

কোভিড মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আফ্রিকা ও এশিয়ার আট দেশ থেকে আবারও গৃহকর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এই আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। দেশটির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদির মানবসম্পদ এবং সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাদ আল হামাদ দেশটির দৈনিক আল ইকতিকে বলেন, আট দেশ থেকে গৃহকর্মী নেওয়া হবে। এর আগে আরও আট দেশের সঙ্গে এই আট দেশ থেকেও গৃহকর্মী নেওয়া হবে। মোট ১৬ দেশ এ সুযোগ পাবে।

সৌদি আরবে গৃহকর্মী নিয়োগের অনুমতি পাওয়া দেশগুলো হলো— ফিলিপাইন, নাইজার, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, মৌরিতানিয়া, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, উজবেকিস্তান, কম্বোডিয়া, মালি ও কেনিয়া।

সৌদি আরব নিজেদের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। এ জন্য দেশটিতে নতুন ‘লেবার প্রোগ্রাম’ উদ্বোধন করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে কর্মীদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত করা, ভিসা ইস্যু, নিয়োগের অনুরোধ, নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ধরনের সেবার বিষয়ে জানানো হয়।

এরদোগানের আরোগ্য কামনা ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগ।

রোববার তিনি এরদোগানকে ফোন করে তার এবং তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোগানের করোনা থেকে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। খবর ডেইলি সারাহর।

সম্প্রতি ইউক্রেন সফর থেকে ফেরার পর এরদোগানের করোনা ধরা পড়ে। পরে নমুনা পরীক্ষা করে তার স্ত্রী এবং দেশটির ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোগানেরও করোনা ধরা পড়ে।

ফোন করে স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এরদোগান।

এ সময় খুব শিগগির তারা বৈঠকে বসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

আরোগ্য কামনা করে এরদোগানকে ফোন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-কাদমি।

এদিকে রোববার এক বিবৃতিতে এরদোগান জানান, করোনায় আক্রান্ত হলেও তিনি এবং তার স্ত্রী এখন ভালোই আছেন।

তারা ইস্তানবুলে তাদের বাসভবনের আইসোলেশনে আছেন, সেখান থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজকর্ম করছেন।

উল্লেখ্য, জানুয়ারিতেই এরদোগান ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক সফরে আসছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগ।

২০১০ সালে গাজায় পাঠানো তুর্কি ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলের হামলায় ১০ স্বেচ্ছাসেবী নিহত হওয়ার পর থেকে দুই দেশর সম্পর্ক অবনতি হয়। তুরস্কের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে চাচ্ছে ইসরাইল।

ইসলা‍মী ব্যাংকগুলোর তথ্য চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশে কার্যরত সব ইসলামী ব্যাংক, শাখা ও উইন্ডোগুলোকে সঠিকভাবে নির্ধা‌রিত ছ‌কে তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ পরিভাষায় ইসলামিক ব্যাংক সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করার আবশ্যিকতা তৈরি হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ডাটাবেজ ইউনিট কর্তৃক ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে সংকলন করার জন্য দেশে কার্যরত সব ইসলামিক ব্যাংক, ইসলামিক শাখা ও উইন্ডোগুলোর জন্য একটি ডাটা টেম্পলেট প্রস্তুত করা হয়েছে।

ওই টেম্পলেটের মাধ্যমে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ডাটাবেজ ইউনিটে দাখিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা বাড়ায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই শরিয়াহভি‌ত্তিক ব্যাংক সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করার আবশ্যিকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

এ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইএক্স সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৮৬ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৫১৯ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৬২১ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৮টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১০৮টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৭৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

‘সার্চ কমিটির নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে’

নির্বাচন কমিশন গঠনে গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যদের আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্মোহভাবে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। এতে সার্চ কমিটি নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতি এই অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশকৃত তালিকা থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি উচ্চ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত ইস্যু উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। দেশের জনগণ, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উপর বিএনপির কোনো আস্থা নেই বলেই তারা বার বার অসাংবিধানিক পন্থার কথা বলে আসছেন। তারা বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর। তাই দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আইনগত বিষয়টি তোয়াক্কা না করে সার্চ কমিটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছে। যারা এদেশে হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অপরাজনীতির জন্ম দিয়েছিল তাদের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি চিরাচরিতভাবে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন।

কাদের বলেন, যারা বার বার সংবিধান ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মাধ্যমে নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতাকে পরিপুষ্ট করেছে এবং এদেশের মানুষের উপর স্বৈরাচারী শাসনের স্টিম রোলার চালিয়েছে তারাই কেবল এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়াকে মূল্যহীন বলার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে পারে।

চোরদের চোর বললে বান্দরের মতো ভেচকি মারে: মির্জা আজম

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেছেন- দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, নাহলে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। বেতনের টাকায় না পুষালে চাকরি ছেড়ে ভিক্ষা করে খেতে হবে। দুর্নীতি করে খাওয়ার চেয়ে ভিক্ষা করে খাওয়ার মর্যাদা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ আর চোরের দল এখন সমিতি বানিয়ে ফেলেছে। ওই সমিতি থেকে আমাদের ভেচকি মারে, হুমকি দেয়। আজকে চোরদের চোর বললে বান্দরের মতো ভেচকি মারে আমাদের।

রোববার দুপুরে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উন্মোচন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আজম এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষায় কথা বলেন- আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুসখোরদের বিরুদ্ধে একই ভাষায় কথা বলেন। তার এ বক্তৃতার মাধ্যমেই আপনারা সবাই অনুভব করতে পেরেছেন যে ঘুসখোর ও দুর্নীতিবাজদের তিনি পছন্দ করেন না। আমরা যারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সৈনিক বলে দাবি করি আমরা কি এটা বুকে ধারণ করি- বঙ্গবন্ধু যেভাবে দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করতেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলেন এ কথাগুলো কি আমরা প্রচার করি? করি না। আমাদের দায়িত্ব তার এ কথাগুলো সবার প্রচার করা। তার সব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।

মির্জা আজম আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন জীবিত ছিলেন তিনি ঘুসখোরদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিলে তখন কিন্তু ঘুসখোররা কোনো কথা বলার সাহস পেত না। আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঘুসখোরদের নিয়ে কথা বলেন তখন কিন্তু কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। কিন্তু আমরা যখন ঘুসখোরদের নিয়ে কথা বলি, যখন দুর্নীতিবাজদের নিয়ে কথা বলি তখন তারা ভেচকি মারে।

তিনি বলেন, আজকে ঘুসখোর, দুর্নীতিবাজরাই কিন্তু শক্তিশালী, অথচ তাদের সংখ্যা বেশি না। ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ তারা সবাই কিন্তু দুর্নীতির সাথে জড়িত না। এক ভাগ লোকও কিন্তু তারা না। ৯৯ ভাগ মানুষ কিন্তু ঘুস খায় না। এক ভাগ মানুষের দ্বারা আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই দুর্নীতিবাজ, ঘুসখোরদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকীর সভাপতিত্বে ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফ্ফর হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানু ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজায়েত আলী প্রমুখ।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি মির্জা আজম এমপিসহ অতিথিরা। একই সঙ্গে অতিথিরা কলেজে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, জামালপুর কর্নার, ছাত্রী মিলনায়তন ভবন এবং জামালপুরে প্রথম শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে মোনাজাতে অংশ নেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা।

ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬১ জনকে গ্রেফতার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা-হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

রোববার ভোর ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২৬৬৭ পিস ইয়াবা বড়ি, ১২৭ গ্রাম ৫১ পুরিয়া হেরোইন, ৪১ কেজি ১৩৯ গ্রাম গাঁজা ও ৫. ২৫০ লিটার দেশি মদ।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৩ টি মামলা করা হয়েছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানায় মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

সম্প্রতি সাফারি পার্ক ও চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ায় আকস্মিক জাতীয় চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি জাতীয় চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে যান।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাউকে না জানিয়ে তিনি চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রাণীর মৃত্যুসহ দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় অপত্যাশিতভাবে সব ধরনের বন্যপ্রাণী মারা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় কোনো ধরনের ত্রুটি আছে কিনা তা দেখতে এবং চিড়িয়াখানার পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পরিদর্শনে যান তিনি।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা ঘুরে ঘুরে দেখেন। সেই সঙ্গে চিড়িয়াখানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, চিড়িয়াখানায় কোনো ধরনের ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে কিনা সেটি দেখার জন্য আমরা আকস্মিক পরিদর্শনে এসেছি।

কীভাবে বুঝবেন পায়ুপথে ফিস্টুলা

পায়ুপথের ফিস্টুলা (এনাল ফিস্টুলা বা ফিস্টুলা-ইন-এনো) রোগ শুরু হয় পায়ুপথের বাইরের ত্বক ও ভেতরের পেশির মধ্যে জীবাণুযুক্ত সংযোগ পথ সৃষ্টির মাধ্যমে। বাংলাদেশে এ রোগের প্রকোপ বেশ পরিলক্ষিত হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ছেন কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বৃহদ্রান্ত ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল হক মাসুম।

সাধারণত পায়ুপথের গ্লান্ডগুলোয় ইনফেকশন হতে এনাল ফিস্টুলার শুরু। ইনফেকশন হতে ফোড়া হয় এবং সেই ফোড়া ফেটে গিয়ে অথবা অপারেশনের মাধ্যমে পুঁজ বের করে দিলে পায়ুপথের বাইরের ত্বকের সঙ্গে এনাল গ্লান্ডের সংযোগ স্থাপিত হয় এবং পায়ুপথের বাইরের ত্বকের সঙ্গে এনাল গ্লান্ডের মাঝে এক সুড়ঙ্গের মতো পথ তৈরি হয়। পুঁজ বেরিয়ে যাওয়ার পর উপসর্গের উন্নতি হয়। পুঁজ আস্তে আস্তে আবার জমতে থাকে এবং একটা সময়ের পর ফোলা ব্যথা জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গগুলোর মাত্রা রোগীভেদে কম বেশি হয়। দীর্ঘস্থায়ী ফিস্টুলা বাইরে এবং ভেতরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক ছিদ্র বা মুখ থাকতে পারে এবং ভেতরের মুখ যদি পেশির বেশ ওপরে হয় তবে চিকিৎসা জটিলতার সম্মুখীন হয়।

রোগ নির্ণয়

সফল চিকিৎসার জন্য ফিস্টুলা পথ কোথা থেকে শুরু হয়ে কোন পথ দিয়ে পায়ুপথের দেয়ালের মধ্য দিয়ে গিয়ে কোন স্থানে ভেতরের মুখটা খুলেছে- রোগ নির্ণয় ও আরোগ্য নিশ্চিত করতে সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অত্যাবশ্যক।

বাইরের অর্থাৎ ত্বকের ওপরে যে মুখটা লাল ও প্রদাহময় যেখান থেকে পুঁজ অথবা রক্ত বেরিয়ে আসে। বাইরের মুখটা সহজেই চোখে পড়ে। পায়ুপথের ভেতরের মুখটা খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। এমআরঅ্যাই স্ক্যান, এন্ডো-এনাল আল্ট্রাসাউন্ড ফিস্টুলা পথকে সঠিকভাবে চিত্রিত করতে পারে। যদি ফিস্টুলোগ্রাম এক্সরে ব্যবহার করা হয়, ফিস্টুলা পথটা যেহেতু সবসময় খোলা থাকে না দূষিত ময়লাযুক্ত শক্ত পুঁজ দ্বারা বন্ধ থাকতে পারে, ফিস্টুলোগ্রাম এক্সরে দ্বারা ঠিক পথ নির্ণয় সাধারণত কষ্টকর, সব সময় বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

উপরিউক্ত পরীক্ষাগুলো সাধারণত জটিল ফিস্টুলার জন্য সীমাবদ্ধ থাকে। বেশিরভাগ ফিস্টুলা জেনারেল এনেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করার পর লকহার্ট ম্যামারি নামে একজন ইংরেজ ব্রিটিশ সার্জন আবিষ্কৃত ধাতু নির্মিত ‘প্রব’ (লকহার্ট ম্যামারি প্রব) বাইরের মুখ থেকে ফিস্টুলা পথ দিয়ে ভেতরের মুখ দিয়ে বের করে এনে ফিস্টুলা পথটা পুরোপুরি শনাক্ত করা যায় এবং ফিস্টুলা পথটা পায়ুপথের মাংসপেশির ওপরে অথবা নিচের দিকে খুলেছে কিনা সেটা বুঝতে পারা যায়।

অপারেশন

যদি ফিস্টুলা পথের ভেতরের মুখ পায়ুপথের মাংসপেশির নিচের দিকে থাকে তবে ফিস্টুলা পথ আচ্ছাদিত পায়ুপথের চর্ম ও পেশি কোনো মারাত্মক জটিলতা ছাড়াই কেটে দেয়া যায় এবং ফিস্টুলা থেকে আরোগ্যলাভ সম্ভব হয়। কিন্তু যদি ফিস্টুলা পথের ভেতরের মুখ পায়ুপথের মাংসপেশির ওপরে উন্মুক্ত হয় তাহলে ফিস্টুলা পথ আচ্ছাদিত পায়ুপথের পেশি কেটে আরোগ্যলাভ তো সম্ভবই নয়, মল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে পায়ুপথ দিয়ে অবিরত মল ঝরতে থাকে এবং রোগীর জীবন দুর্বিষহ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভবে পরিণত হয় সে কারণে উচ্চ অবস্থিত ফিস্টুলা চিকিৎসা সম্পূর্ণ আলাদা এবং কয়েকবার অপারেশনের মাধ্যমে হয়ে থাকে যাতে করে পায়ুপথ নিয়ন্ত্রণ নষ্ট না হয়ে যায়। যে বিভিন্ন অপারেশনের মাধ্যমে উচ্চ অবস্থিত ফিস্টুলার রোগ মুক্তি সম্ভব তার মধ্যে সিটন, ফিস্টুলা প্লাগ, প্লাস্টিক ফ্ল্যাপ এবং অন্যান্য জটিল শল্যচিকিৎসা উল্লেখ্য।

সতর্কবাণী

পায়ুপথের ফিস্টুলা যেহেতু এক জটিল রোগ কোনো অবস্থাতেই বিশেষজ্ঞ কলোরেক্টাল চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও দ্বারা পায়ুপথের ফিস্টুলা চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন অচিকিৎসক দ্বারা ফিস্টুলা চিকিৎসা করিয়ে অনেক রোগী অহরহ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন।