শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 468

প্রথম দিনে সাকিবকে কেউ না কেনার কারণ কী?

আইপিএল ২০২২ এর মেগা নিলামে শনিবার সাকিব আল হাসানকে নেয়নি কোনো দল।

২ কোটি ভিত্তি মূল্য থাকলেও তার জন্য দর হাঁকায়নি কেউ। ফলে বিশ্বসেরা অন্যতম অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবিক্রীত থেকে যান।

অথচ বিপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল, নিলামে সাকিবকে নিয়ে কাড়াকাড়ি হবে। কিন্তু গতকাল নিলামে নাম উচ্চারণ হলেও ফ্রাঞ্চাইজিরা নির্লিপ্ত থেকেছেন সে সময়।

সাকিবকে কেউ না কেনার কারণ কী? – এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।

ধারণা করা হচ্ছে – সম্ভবত পুরো আইপিএলে সাকিবকে পাওয়া নিয়ে সংশয়ই সাকিবের অবিক্রিত থেকে যাওয়ার মূল কারণ।

আইপিএলের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। আর আইপিএলের শেষ দিকে ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা।

গুরুত্বপূর্ণ দুই সময়ে সাকিব জাতীয় দলের খেলায় ব্যস্ত থাকবেন বলেই হয়তো তাকে নিতে আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্রাঞ্চাইজি।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে মে মাসে। আর সেই সিরিজটি খেলবেন বলে আগেই নিশ্চিত করেছেন সাকিব। সে হিসেবে ৮ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সাকিবকে পাবে না আইপিএল মঞ্চ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস দুদিন আগে গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন।

আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজ হবে ১৮ থেকে ২৩ মার্চ। আর দিনক্ষণ ধার্য না করা হলেও ২৭ মার্চ থেকে আইপিএল শুরু হবে বলে মোটামুটি নিশ্চিত। অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে ভারতে এসে কোয়ারেন্টিন পর্ব পালন করে বায়োবাবলে প্রবেশ করতে সপ্তাহ পেরিয়ে যাবে সাকিব-মোস্তাফিজদের।

সে হিসেবে আইপিএল শুরুর দিকে ম্যাচগুলোতে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। সাকিবকে যদি অনেক ম্যাচে না-ই পাওয়া যায়, তাহলে তার পেছনে ২ কোটির বেশি রুপি বিনিয়োগ করতে রাজি হয়নি কেউ।

সাকিবের অবিক্রিত থেকে যাওয়ার কারণ হয়তো এগুলোই।

তবে আরো একটি কারণ বিদ্যমান। বর্তমানে বিপিএলে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করলেও আইপিএলের গত আসরে আলো ছড়াতে পারেননি সাকিব।

খুব আগ্রহ দেখিয়ে ৩ কোটি ২০ লাখে তাকে নিয়েছিল কলকাতা, কিন্তু দলটিকে তিনি প্রতিদান দিতে পারেননি সেভাবে। ৮ ম্যাচে রান করেন ৪৭, উইকেট পেয়েছেন ৪টি।

গত আসরে সাকিবের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের কারণে সাকিবে আগ্রহ দেখায়নি কেকেআর শিবির।

আইপিএলে প্রথম দিন দল পাননি সাকিব, যা বললেন তাসকিন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিয়মিত খেলেন সাকিব আল হাসান। এখন পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডারের জন্য নিলামের প্রথম দফায় গতকাল কোনো দলই দর হাঁকায়নি। অবিক্রীতই থেকে গেলেন সাকিব!

আইপিএলে সাকিবের দল না পাওয়া অবাক করেছে বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদকে। তার বিশ্বাস সাকিব দল পাবেন।

শনিবার তখনও মোস্তাফিজ দল পাননি। ওই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাসকিন।

সাংবাদিকরা সাকিবের দল না পাওয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তাসকিন বলেন, ‘সাকিব ভাই ও মোস্তাফিজ আশা করছি দল পাবেন। যদি দল নাও পেয়ে থাকে, তবু তারা সবসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’

এবারের আইপিএলের মেগা নিলামের নিলামে নাম বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটারের মধ্যে তাসকিনের নামও রয়েছে। গতকাল তার নামও উঠেনি নিলামে।

এ বিষয়ে তাসকিন বলেন, ‘ আইপিএলে আমার দল পাওয়া নিয়ে এখনো তেমন কোনো প্রত্যাশা নেই। কারণ আমাদের অনেক খেলা আছে। যেহেতু টেস্ট খেলব তাই আমাকে পাওয়ার ব্যাপারও আছে। দল পেলে তো ভালো লাগতোই। যেহেতু টেস্ট খেলা আছে তাই দল পাওয়ার সুযোগ কম থাকবে।’

উল্লেখ্য, শনিবার দল না পেলেও সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও। আজ ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতে পারে সাকিবের। অন্যদিকে দল পেয়েছেন মোস্তাফিজ। তাকে ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে কিনে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। গত আসরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল মাতিয়েছিলেন এই কাটার মাস্টার।

মোবাইল ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক পুলিশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় মোবাইল ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন নিরঞ্জন দাশ (২৪) নামে এক এপিবিএন পুলিশ সদস্য।

এ সময় তার শার্টের পকেটে একটি ছুরি, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি পুলিশি পরিচয়পত্র ও একটি মানিব্যাগ পাওয়া যায়।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রোডের পেছন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিরঞ্জন দাশ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর মেঘেরকান্দি এলাকার রতীম দাশের ছেলে। তিনি ১৪ এপিবিএন-এ কনস্টেবল হিসেবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছেন ১৪ এপিবিএন পুলিশ সুপার নাঈমুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকালে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রোডের পেছনের গলিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আসেন নিরঞ্জন দাশ। ওই চিপা গলিতে ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প হাকিমপাড়ার এক রোহিঙ্গা যুবকের কাছ থেকে পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার চেষ্টা করেন।

তাৎক্ষণিক রোহিঙ্গা যুবক আশপাশের স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে এনে বিষয়টি বোঝান। সঙ্গে সঙ্গে ওই পুলিশের আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে আটক করে। এ সময় ভিড় লেগে যায়। পরে তাকে গ্রামপুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে উখিয়া থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, নিরঞ্জন দাশ পুলিশ পরিচয়ে এর আগেও বহু মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ছিনতাই করেছেন। উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে তিনি মোবাইল ছিনতাই করে থাকেন।

স্থানীয় গ্রামপুলিশ রফিক উদ্দিন বলেন, কিছু দিন আগে নিরঞ্জন দাশ এক স্থানীয় লোকের মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে পুলিশ পরিচয়ে। যেটি আর পাওয়া যায়নি। তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া করে তেলখোলা, হাকিমপাড়া, জামতলী, ময়নারঘোনাসহ বিভিন্ন এলাকার রোডগুলোতে ঘুরে ঘুরে মোবাইল ছিনতাই করেন।

উখিয়ার ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ্ বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি নিরঞ্জন দাশ একটি অটোরিকশায় তার কাছে আসে এবং তার মোবাইলটি দেখতে দিতে বলেন। মোবাইল দেখে নিরঞ্জন দাশ তাকে বিভিন্ন অপরাধমূলক গেমস ও অবৈধ টাকা আয় করার কথা বলে মোবাইলটি নিয়ে যায় ফাঁড়িতে যোগাযোগ করার কথা বলে।

এ সময় কনস্টেবল নিরঞ্জন দাশের বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার অনেক ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের ভেতরে থেকে এ ধরনের দুষ্কৃতকারী সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে দেশের প্রশাসনের মান ক্ষুণ্ন করছে। এ ঘটনায় তার যথাযথ আইনি শাস্তি দাবি করছি। আমি এর আগেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রশাসন কর্তৃক হেনস্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তারা সেই অভিযোগ আমলে নিলে আজকে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

নিরঞ্জন দাশ ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ১৪ এপিবিএন পুলিশ সুপার নাঈমুল ইসলাম বলেন, নিরঞ্জন দাশ বিগত চার মাসের ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ জন্য তাকে পর পর তিনটি নোটিশ করা হয়েছে। এর পর তিনি হাজির না হওয়ায় ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে, যা এখন তদন্ত চলছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাকে আটক করে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান সুপার নাঈমুল ইসলাম।

মামলা তুলে না নেওয়ায় পিকনিকে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

মামলা তুলে না নেওয়ায় বগুড়া শহরে পিকনিকের অনুষ্ঠানে তুহিন বাবু কুইন (২৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শনিবার রাতে উপজেলার নিশিন্দারা খাঁপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন বাবু কুইন বগুড়া শহরের নিশিন্দারা খাঁপাড়ার শহিদুর রহমান শহীদ ডাক্তারের ছেলে।

আহতরা হলেন— তুহিনের মামা মোহাম্মদ রহিম (৩২) ও প্রতিবেশী ঝন্টু মিয়া (২৫)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুইনের সঙ্গে পাশের চকসূত্রাপুর কশাইপাড়ার কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০২০ সালে প্রতিপক্ষরা কুইনকে ছুরিকাঘাত করে। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

হামলাকারীরা মামলাটি তুলে নিতে কুইনকে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।

কুইন, তার বন্ধু ও প্রতিবেশীরা শনিবার রাতে নিশিন্দারা খাঁপাড়ায় বাড়ির কাছে মনপুরা বাগানে ব্যাডমিন্টন কোর্টে পিকনিকের আয়োজন করেন। খাওয়ার প্রস্তুতি ও আনন্দ চলাকালে রাত পৌনে ১১টার দিকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত শহরের চকসূত্রাপুর কশাইপাড়ার ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত পিকনিক অনুষ্ঠানে হামলা চালায়।

দুর্বৃত্তরা কুইনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তার মামা মোহাম্মদ রহিম ও প্রতিবেশী ঝন্টু মিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এর পর দুর্বৃত্তরা এলাকা ত্যাগ করে।

প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

ছিলিমপুর মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শামীম হোসেন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত কুইন, রহিম ও ঝন্টুকে জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসক কুইনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অন্য দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া কুইনের লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

নিশিন্দারা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জিল্লুর রহমান জানান, আগের হামলার মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত কুইনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদকসহ দুটি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘাতকদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের স্বীকারোক্তি, ইসরাইল বর্ণবাদী রাষ্ট্র

ইসরাইল একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র— এ কথা স্বীকার করেছেন দখলদার ইসরাইলেরই সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারক মিখাইল বেন-ইয়ায়ির।

একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের জন্য ইসরাইলকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খবর ওয়াফার।

ইসরাইলের সুপ্রিমকোর্টের সাবেক এই বিচারক একসময় নিজেও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের আদেশ জারি করেছেন।

আয়ারল্যান্ডের পত্রিকা ‘দ্যা জার্নাল’-এ লেখা নিবন্ধে তিনি এসব কথা বলেছেন। এতে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত, যেখানে বলা হয়েছে অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করছে ইসরাইল।

তিনি বলেন, ইসরাইলের আদালত পশ্চিমতীর এবং পূর্ব জেরুজালেম (আল-কুদস) থেকে ফিলিস্তিনি বিতাড়নের বর্ণবাদী আইন বজায় রেখেছে। ফলে সেখানে অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

মিখাইল বেন-ইয়ায়ির আরও বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করছি ইসরাইল পুরোপুরি বর্ণবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

জর্ডান নদী এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও লিখেছেন— ইসরাইলের বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজকে সোচ্চার হতে হবে এবং ইসরাইলকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে বিলম্ব মেনে নেওয়া যায় না।

দখলদার ইসরাইল প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। দখলীকৃত অঞ্চলে যেসব ফিলিস্তিনি রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও চরম বর্ণবাদী আচরণ করা হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। তাদের নানা অজুহাতে হত্যা করা হচ্ছে।

কিয়েভের রাজপথে হাজারও ইউক্রেনবাসীর রাশিয়াবিরোধী বিক্ষোভ

সম্ভাব্য রুশ সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন হাজারও মানুষ।

শনিবার তীব্র শীত উপেক্ষা করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে নেমে আসেন। খবর আরব নিউজের।

এ সময় তারা যুদ্ধবিরোধী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে ইউক্রেনের জাতীয় সংগীত গান। রাশিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীর উদ্দেশে রুশ আগ্রাসনের হুমকির মুখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে রাজপথে নেমে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের প্রমাণ দেন ইউক্রেনবাসী।

এ সময় কিয়েভের রাজপথে আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা শান্তি চাই, আমরা ইউক্রেনকে ভালোবাসি। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

কিয়েভের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধ একমাত্র উপায় নয়’, ‘রাশিয়া বর্ণবাদী’ প্রভৃতি লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন।

২০১৪ সালের মার্চে রুশ সেনারা ইউক্রেনের অংশ ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। এর পর থেকে সেখানে মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাদের লড়াই চলছে।

এ লড়াইয়ে অন্তত ১৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখন পুরো ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, ইউক্রেন সীমান্তে লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। যে কোনো সময় ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে পারে দেশটি।

এ জন্য পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব ইউরোপে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। তবে রাশিয়া বরাবরই পশ্চিমাদের তোলা এ অভিযোগ অস্বীকার করছে।

ইউক্রেনে সম্ভাব্য রুশ সামরিক আগ্রাসন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এ সময় পুতিনকে সতর্ক করে বাইডেন বলেন, সামরিক আগ্রাসনের কারণে ইউক্রেনে বড় ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। আর হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা দ্রুত এর কড়া জবাব দেবে। রাশিয়াকে এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

বাজারে প্রচুর ফুল তবুও দাম চড়া

বাজারে বাহারি রঙের প্রচুর ফুল। তারপরও দাম চড়া। পাইকারি বাজারে প্রতিটি গোলাপ মান ভেদে ৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জারবেরা ১৫ থেকে ২৫ টাকা, গ্লাডিওলাস ৮ থেকে ২০ টাকা ও রজনীগন্ধা ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার গাঁদা ফুল। আর খুচরা বাজারে একই ফুল বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।

খুচরা বাজারে প্রতিটি গোলাপ ২০ থেকে ৩০ টাকা, জারবেরা ২০ থেকে ৪০ টাকা, গ্লাডিওলাস ২০ থেকে ৩০ টাকা ও রজনীগন্ধা প্রতি স্টিক ১০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে সাজানো তোড়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ থেকে দুই হাজার টাকায়।

মঙ্গলবার সরেজমিন রাজধানীর শাহবাগের পাইকারি ও খুচরা ফুলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের ফুল দোকানে তুলেছেন। বিভিন্ন স্থানের স্থায়ী ও ভাসমান ফুল ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন শাহবাগের দোকানগুলোতে। ব্যবসায়ী ছাড়াও সাধারণ মানুষ আগে থেকে ফুল কিনতে এসেছেন। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

রাজধানীর ধানমন্ডি ১৫ থেকে আসা মৌসুমি ফুল বিক্রেতা মো. সালাউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে আগে থেকেই ফুল সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিক্রি হবে কিনা জানি না। তবে লোকজন যদি রাস্তায় বের হয় তাহলে বিক্রি ভালো হওয়ার আশা করছি। তিনি বলেন, ‘বাজার ঘুরে দেখছি। দামে পছন্দ হলে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফুল কিনব।’

কয়েক বছর আগেও দেশে ফুলের বাজারে হাতেগোনা কয়েক ধরনের ফুল পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ বেশি হওয়ায় ও আমদানি করায় বাহারি রঙের ফুল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে জারবেরা, গ্লাডিওলাস, অর্কিড, কসমস, ডালিয়া, টিউলিপ, কালো গোলাপ, ঝুমকা লতা, গাজানিয়া, প্লামেরিয়া, চন্দ্রমল্লিকা অন্যতম। দামও হাতের নাগালে। কিন্তু বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের চাহিদা থাকায় অতি মুনাফার লোভে বেশি দামে ফুল বিক্রি করেন বিক্রেতারা।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাহবাগের অনন্যা পুষ্প বিতানের মালিক লোকমান হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর শাহবাগসহ অন্যান্য ফুল বাজারে ট্রাকভর্তি ফুল আসতে শুরু করেছে। কিন্তু বিধিনিষেধের কারণে বেচাবিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছি। তিনি বলেন-পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে সাধারণত ফুল বেচাকেনাও জমে উঠত। করোনার কারণে গত বছর ফুল ব্যবসা ভালো যায়নি। এ এবারও ব্যবসা ভালো না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম যুগান্তরকে বলেন, সারা বছর ফুল বিক্রি ভালো হয়। তবে পুরো বছরের তুলনায় এ তিন দিবস- বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবসে ফুল বিক্রি বেড়ে যায়। মূলত এ তিন দিবস ঘিরে ফুল বাণিজ্য চাঙা হয়ে ওঠে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর দেশে ফুলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে গত দুই বছরও ফুল উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু বিক্রি ভালো হয়নি। পাশাপাশি দেশে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাই এবারও এই তিন দিবস ঘিরে ফুল বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে ভিড় এড়িয়ে চলাচলের কথা বলা হয়েছে। এ কারণে এবার লোকসমাগম কতটা হবে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে তিন দিবস ঘিরে ফুল বাণিজ্যের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।

তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১৯ সালে বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কৃষক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দেশে মোট ২০০ কোটি টাকা ফুল বাণিজ্যের টার্গেট ধরা হয়েছিল। এ বছরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কোনো বিক্রির টার্গেট ধরা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের আগে শুধু যশোরের গদখালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হতো। বাকি ১৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য রাজধানীর শাহবাগ ফুলের বাজারসহ দেশের অন্যান্য স্থান পূরণ করত।

রেমিট্যান্স নির্ভরতায় ঝুঁকি বাড়ছে অর্থনীতিতে

দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এতে সার্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে-এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি, আমদানিতে ঘাটতি অর্থায়নে প্রধান ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স।

পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা ও টাকার প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে এর অগ্রণী ভূমিকা। এছাড়া শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে অর্থনীতির অনেক সূচক সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার রেমিট্যান্স হঠাৎ করে কমতে থাকলে অর্থনীতির নানা সূচকে চাপ বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আরও অভিমত-অতীতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য শ্রীলংকা রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করে এখন সংকটে পড়েছে। চীন ও কানাডা রপ্তানির ওপর নির্ভর করে ২০০৭ সালের বৈশ্বিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশকে এখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য এককভাবে রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী উৎস বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো কিছুতেই বেশিদিন একক নির্ভরশীলতা ভালো নয়।

তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্সের অর্থ ভোগবিলাসে ব্যয় না করে উৎপাদন খাতে ব্যয় করতে হবে। সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে। তাহলে শিল্প হবে, উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে। ফলে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। আমদানি বাড়ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোরও কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু রেমিট্যান্সের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস যেমন-রপ্তানি, বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেবা প্রদান, পরামর্শক বাবদ ফি আয় বাড়ানো উচিত। তা না হলে হঠাৎ করে রেমিট্যান্স কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ বেড়ে যায়। যেটা বাংলাদেশে ২০০১ সালে হয়েছে। বর্তমানেও হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল আড়াই শতাংশ নেতিবাচক। ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

সূত্র জানায়, রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে টাকার প্রবাহ বেড়েছে, দরিদ্রতা কমেছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, বাজারে ভোগের চাহিদা তৈরি হয়েছে, এতে বেড়েছে উৎপাদন। সব মিলে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতেও ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স। আমদানির ঘাটতির অর্থায়নে রেমিট্যান্সের অবদান বেড়েছে।

এদিকে রেমিট্যান্স ছাড়া সরকারিভাবে এগুলো করা খুব কঠিন। দেশের বিভিন্ন সংকটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) রেমিট্যান্সের অবদান ছিল ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর আগে আরও বেশি ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা আরও কমে নেমে আসে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও বেড়ে ৪ দশমকি ৮৭ শতাংশে ওঠে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ অবদান রেখেছে।

দেশের রপ্তানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি থাকে। রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি বাড়ায় এ ঘাটতি আরও বাড়ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে আমদানি বেড়েছে ২ হাজার ৯৬ কোটি ডলার বা ৫৩ শতাংশ।

একই সময়ে রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার হয়েছে। আলোচ্য সময়ে আয় বেড়েছে ৫৩২ কোটি ডলার বা ১৬ শতাংশ। ওই সময়ে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেড়েছে প্রায় চারগুণ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি হয়েছিল ৬২৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার।

আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কম বাড়ায় আমদানিতে ঘাটতি অর্থায়ন করতে হচ্ছে রেমিট্যান্স থেকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট আমদানির ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ ঘাটতি রেমিট্যান্স থেকে মেটানো হয়েছিল। গত অর্থবছরে ৪০ দশমিক ৮৩ শতাংশ আমদানির ঘাটতি মেটানো হয়েছে রেমিট্যান্স থেকে।

রেমিট্যান্স থেকে আমদানি ব্যয়ের ৪০ দশমিক ৮৩ শতাংশ মেটানোর পর বাকি ৫৯ শতাংশ দেশের রিজার্ভে যোগ হচ্ছে। এতে হু-হু করে বেড়েছে রিজার্ভ। ২০১৬ সালের জুনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার কোটি ডলার। এখন তা বেড়ে ৪ হাজার ৫৪৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল আমদানি ব্যয় মেটানোর পরও রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে রিজার্ভ বেড়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হলে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে ডলার উদ্বৃত্ত থাকে। কম হলে ঘাটতি দেখা দেয়। এ হিসাবে ঘাটতি হলে টাকার মান ধরে রাখার ওপর চাপ পড়ে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৭১ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে উদ্বৃত্ত কমে ঘাটতি হয়েছে ৪৫৭ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে এ ঘাটতি আরও বেড়ে ৮১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মূলত রেমিট্যান্স কম আসায় এ হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে। ফলে টাকার মানে চাপ পড়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে গড়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ। এতে ডলারের দাম বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। আমদানি পণ্যের মূল্য বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০০১ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তখন এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বা আকুর (বাংলাদেশসহ নয়টি দেশ বাকিতে পণ্য আমদানি রপ্তানি করে দুই মাস পর পর দায়দেনা সমন্বয় করে) দেনা পরিশোধ করতে পারেনি। সোয়াপ পদ্ধতিতে (আকু থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে দেনা সমন্বয় করেছিল।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৩৬টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার রাতে সংগঠনটির দফতরের দায়িত্বে থাকা মো. জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ্ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক এসব কমিটি অনুমোদন করেন।

ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়কের স্বাক্ষরে অধীনস্থ ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অধীনস্থ ইউনিটসমূহের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নিকট জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে উত্তরের ৩৫টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

জিয়াউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড ৫৪টি। কিন্তু বিএনপির এখন সাংগঠনিক ওয়ার্ড ৭১টি। ঘোষিত কমিটিতে পল্লবী থানার অন্তর্গত ২নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কামরুল আহসান হাবীব, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এম গোলাম মোস্তফা মাস্টার ও আকিল আহমেদ, ৩নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক শেখ আক্কাস আলী, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম (নজু) ও জাহাঙ্গীর আলম (লালন)।

৫নং ওয়ার্ডেও আহ্বায়ক আশরাফ আলী গাজী, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশা মিয়া ও শহিদুল ইসলাম চাঁন।

৬নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক নাজমুল হক, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান ফরহাদ ও মো. আউয়াল ইসলাম তপন।

কাফরুল থানার অন্তর্গত ৪নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম আনসার আলী ও সাইফুল ইসলাম।

রূপনগর থানার ৬নং ওয়ার্ডের (আঞ্চলিক) আহ্বায়ক মো. খায়রুল আলম নয়ন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা ও লুৎফর রহমান রনি।

মিরপুর থানার ৭নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক সম আরিফউল্লাহ, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামরুল ইসলাম শ্যামল ও মো. ফয়সাল আহম্মেদ।

রূপনগর থানার ৭নং ওয়ার্ডের (আঞ্চলিক) আহ্বায়ক মো. ইউসুফ মাদবর, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান মামুন ও মো. ইমরান হোসেন মুন্সি।

শাহআলী থানার ৮নং ওয়ার্ডেও আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদিন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী লিটন ও মো. আবু রাহিদ (রাহাদ)।

দারুসসালাম থানার ৯নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক আবু সাইদ দিপু, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুর রহমান (মামুন) ও মো. ইকবাল হোসেন স্বপন।

১০নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক ডা. মো. সেলিম ইকবাল, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেন শাহ শাহিন ও মীর আবু বক্কর সিদ্দিক মাকসুদ।

মিরপুর থানার ১১নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক আবুল বাশার ভূইয়া, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ কবির ও মো. আরিফুর রহমান আরিফ।

১২নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মিয়া মো: আকরাম হোসেন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার দিল খায়ের (শিপু) ও মুন্সী জাকির হোসেন মনির, ১৩ নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. মফিজুল ইসলাম, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেজবাউদ্দিন মেজবা ও মো. হাবিবুর রহমান, কাফরুল থানার ১৪ নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কেএম আরিফুল কবির, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু হানিফ ও মো. আতিকুর রহমান আতিক।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ১৫নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক হান্নানুর রহমান ভূইয়া, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তোফাজ্জল হোসেন (বাবু) ও মো. জাহিদ হাসান রনি খান।

কাফরুল থানার ১৬নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক ফজলুর রহমান মন্টু, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন ও মো. ইউনুস মিয়া আফজাল।

গুলশান থানার ১৮নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. সফুরউদ্দিন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুর হোসেন ও মো. ওয়াসিম আকরাম।

বনানী থানার ১৯নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. শাহজাহান কবির, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন ও মো. শাহেদ আলী, ২০নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. শহিদুল আল মহির, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুস সাত্তার ও মো. মিজানুর রহমান আক্তার।

শেরে-বাংলা নগর থানার ২৭নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. জামালউদ্দিন ভূইয়া, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল হক ও মো. আরমান মোস্তফা, ২৮নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. মোতাহার হোসেন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান স্বপন ও সৈয়দ নুরুল ওহাব দিপু।

মোহাম্মদপুর থানার ২৯নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. বিল্লাল হোসেন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমির হোসেন ও মো. শামীমউদ্দিন মণ্ডল।

আদাবর থানার ৩০নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাদেক হোসেন স্বাধীন ও মো. মাসুম বাবুল, মোহাম্মদপুর থানার ৩১ নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. ওমর ফারুক, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদুল হক খান রনি ও মো. আহসানউল্লাহ শহিদ, ৩২নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক নওশাদ আলী তানভীর, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন লাবু ও মো. জাকির হোসেন খোকন, ৩৩নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেন, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম সামসুর রহমান, মো. মান্নান হোসেন শাহীন, ৩৪নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. আরিফুর রহমান সেলিম, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম খান রাজেস ও মো. ফয়সাল (সোহেল ভূইয়া)।

পল্লবী থানার ৯১নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান মামুন ও আহসান উল্ল্যাহ বাবুল, রূপনগর থানার ৯২নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম (নজু), প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বয়ক মো. নবী হোসেন ও মো. আব্দুর রহিম, শাহআলী থানার ৯৩নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. দিদারুল ইসলাম, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহাবুব আলম ও এহসানুল হক (আপেল)।

কাফরুল থানার ৯৪নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. মামুন পাটোয়ারী, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কবির হোসেন মিল্টন ও মো. আলম, ভাষানটেক থানার ৯৫নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদার, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. গিয়াসউদ্দিন।

শেরে বাংলানগর থানার ৯৯নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ হালিম দেওয়ান রিপন ও আব্দুল ওয়াদুদ শামীম।

আদাবর থানার ১০০নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জামালউদ্দিন সিকদার ও কেএম রুহুল আমিন ভূইয়া, ভাষানটেক থানার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ওয়ার্ডের আহ্বায়ক একেএম সাইফুদ্দিন কামরুল, প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান ও মো. শফিক রহমান।

নৌকার প্রার্থী ধরাশায়ী ১৯ মন্ত্রীর এলাকায়

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৯ জন মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন। এক্ষেত্রে যারা জিতেছেন তাদের অধিকাংশই সরকারি দলের ‘বিদ্রোহী’।

এছাড়া জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতারাও জিতেছেন। তবে একজন মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার সবকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন।

সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াসেফ ওসমান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকনোক্রেট মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য। তার নির্বাচনি এলাকায় সিটি করপোরেশন হওয়ায় সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল না। আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে কাউকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। বাকি ২০ জন মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। ইউপি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ২০ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৯ জনের এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কমবেশি হেরেছেন। এসব আসনে সাত ধাপে ৩১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন ১৯৪টিতে। আর হেরে গেছেন ১০৯টি ইউনিয়ন পরিষদে। তবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের আসনে শতভাগ ইউনিয়ন পরিষদেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পাঁচজন মন্ত্রীর আসনে অর্ধেকের কমসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন। তারা হলেন-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং প্রবাসীকল্যাণ ইমরান আহমদ। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেনের নির্বাচনি আসনে চারটি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরেছেন। সেখানে খেলাফত মজলিস ও জামায়াত সমর্থক প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন।

যেসব এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন, সেখানে অপেক্ষাকৃত যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের প্রার্থী করা হয়নি-এমন অভিযোগ একাধিক মন্ত্রীর। তাদের মতে, আরও অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও টাকার প্রভাব।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবার চার হাজার ১৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাত ধাপে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৩৭১ জন চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

মন্ত্রীদের এলাকা অনুযায়ী ফলাফল-মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী : গাজীপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। কালিয়াকৈর উপজেলা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১-১৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এ আসন গঠিত। তার নির্বাচনি আসনে গতকাল পর্যন্ত ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটিতে নৌকার প্রার্থী জয়ী হন। তারা হলেন-ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে মো. শাহ আলম সরকার ও শ্রীফলতলীতে আজিবর রহমান। বাকি ছয়জনই স্বতন্ত্র। তারা হলেন-চাপাইরে মো. সাইফুজ্জামান সেতু, বোয়ালীতে মো. আফজাল হোসেন খান, সূত্রাপুরে সোলায়মান মিন্টু, ঢালজোড়ে মো. ইছাম উদ্দিন, আটাবহে মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং মধ্যপাড়া ইউনিয়নে মো. সিরাজুল ইসলাম।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. সাইফুজ্জামান সেতু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। তিনি মন্ত্রীবিরোধী পক্ষের হিসাবে পরিচিত। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সূত্রাপুরে সোলায়মান মিন্টু বিএনপি নেতা এবং ঢালজোড়ে মো. ইছাম উদ্দিন, আটাবহে মো. সাখাওয়াৎ হোসেন ও মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মো. সিরাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মো. সিরাজুল ইসলাম মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আ ক ম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে আমরা কোনোরকম হস্তক্ষেপ করিনি। ভোটাররা যাদের পছন্দ করেছে তাদের ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হয়তো বড় নেতা কিন্তু জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা কম। অপরদিকে যারা জিতেছেন তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। তারা হয়তো গণমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পেরেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ফলাফলের কারণে আমার ওপর হয়তো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী : পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (শান্তিগঞ্জ) ও জগন্নাথপুর উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। তার নির্বাচনি এলাকায় ভোট হওয়া ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন। বাকি ১১টিতে হেরেছেন সরকারি দলের প্রার্থীরা।

এ আসনের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (শান্তিগঞ্জ) উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয় তৃতীয় ধাপে। এর মধ্যে একমাত্র পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। বাকি সাতটিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। ওই ইউনিয়নগুলো হচ্ছে-জয়কলস, শিমুলবাক, পাথারিয়া, দরগাপাশা, পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা ও পশ্চিম বীরগাঁও। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, স্বতন্ত্রভাবে জয়ীদের মধ্যে জয়কলস ইউনিয়নে আব্দুল বাছিত সুজন, শিমুলবাকে শাহীনুর রহমান, পাথারিয়ায় শহীদুল ইসলাম, পূর্ব পাগলায় মাসুক মিয়া ও পশ্চিম পাগলা মো. জগলুল হায়দার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তারা পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান অনুসারী হিসাবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। এছাড়া দরগাপাশায় মো. ছুফি মিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে লুৎফর রহমান জায়গীরদার খোকন বিএনপি নেতা।

একই আসনের জগন্নাথপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয় চতুর্থ ধাপে। এর মধ্যে চারটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। বাকি তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছেন। স্বতন্ত্রভাবে জয়ী চেয়ারম্যানরা হলেন-আশারকান্দিতে মো. আইয়ুব খান, কলকলিয়ায় মো. রফিক মিয়া, পাইলগাঁওয়ে হাজী মো. মখলুছ মিয়া এবং হলদিপর ইউনিয়নে মো. শাহিদুল ইসলাম বকুর। তাদের মধ্যে মো. রফিক মিয়া বিএনপি সমর্থক এবং বাকি তিনজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। যে তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন সেগুলো হচ্ছে-পাটলী, রানীগঞ্জ ও সৈয়দপুর ইউনিয়ন।

জানতে চাইলে এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, পারিবারিক, সামাজিক, গোষ্ঠীগত, আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। নির্বাচনে টাকার খেলা হয়েছে। প্রতীক দেওয়ার ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা ছিল তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অনেকে প্রবাসী পরিচিত হতে প্রার্থী হয়েছেন। তারা অনেক টাকা ব্যয় করেছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে আমার ভূমিকা ছিল না।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী : সিলেট-৪ আসনের সংসদ-সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এ তিন উপজেলায় এবার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে ১০টিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেরে গেছেন। বাকি ৯টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

ফলাফল পর্যালোচনা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হেরে যান এবং বাকি দুটিতে জয়ী হন। যে তিনটিতে নৌকা হেরেছে সেগুলো হচ্ছে-ইসলামপুর পূর্ব, তেলিখাল ও ইছাকলস। এ তিনটির দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং একটিতে বিএনপি সমর্থক প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয় তৃতীয় ধাপে। সেখানে তিনটি ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থীর পরাজয় ও বাকি তিনটিতে জয় হয়। যে তিনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেরেছেন তার মধ্যে দুটিতে বিএনপি ও একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন। একই ধাপে জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে দুটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হন এবং বাকি তিনটিতে পরাজিত হন। ওই তিনটিতে বিএনপি, জাসদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হন। ষষ্ঠ ধাপে কোম্পানীগঞ্জের একটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন; যিনি বিএনপি নেতা। একইদিন গোয়াইনঘাট উপজেলায় ভোট হওয়া দুটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নির্বাচনি আসন রংপুর-৪ পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ দুই উপজেলায় অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হেরে গেছেন। এ আসনের ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে সাতটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বাকি আটটি ইউনিয়নের সাতটিতেই স্বতন্ত্ররা জয়ী হয়েছেন। একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রথম ধাপে পীরগাছার কল্যাণীতে ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হন। দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেখানে মাত্র তিনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বাকি পাঁচটিতে পরাজিত হন। এই পাঁচটির চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে তৃতীয় ধাপে কাউনিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। তার মধ্যে তিনটিতেই আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। সেগুলো হচ্ছে-হারাগাছ, কুর্শা ও টেপামপুর। সেগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী : বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ-সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এই দুই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে মাত্র ছয়টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাকি নয়টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। জুড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে চারটিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরাজয় হয়। বাকি একটি সাগরনাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয় হয়। তৃতীয় ধাপে বড়লেখা উপজেলার ১০টিতে ভোট হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমান সমান পাঁচ করে ইউনিয়ন পরিষদে জয় পান। অর্থাৎ পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রার্থীর জয় হয় এবং বাকি পাঁচটিতে পরাজিত হন।

সড়ক পরিবহণমন্ত্রী : কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ-সদস্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একাধারে তিনি সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী। তার নির্বাচনি এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম ধাপে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এসব ইউনিয়নে দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। আট ইউনিয়নের সাতটিতে সরকারদলীয় প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একমাত্র চরপার্বতী ইউনিয়নে জামায়াতের মোহাম্মদ হানিফ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ওবায়দুল কাদেরের আপন ভাগ্নে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুকে হারিয়ে জয়ী হন।

এর আগে চতুর্থ ধাপে কবিরহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ দুজনই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন-ধানশালিক ইউনিয়নে সাহাব উদ্দিন এবং সুন্দলপুর ইউনিয়নে মো. ইলিয়াছ। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। অপরদিকে এ উপজেলার আওয়ামী লীগের জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-ঘোষবাগে কেএম আলাউদ্দিন, চাপরাশির হাটে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ধানসিঁড়িতে মোহাম্মদ কামাল খান, নরোত্তমপুরে একেএম সিরাজ উল্যাহ ও বাটইয়াতে জসিম উদ্দিন।

কৃষিমন্ত্রী : মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ আসনের সংসদ-সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তার নির্বাচনি এলাকা মধুপুরে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তিনটিতে এবার নির্বাচন হয়েছে। বাকি ৮টি নির্বাচন উপযোগী হয়নি। নির্বাচন হওয়া তিনটির দুটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একমাত্র আলোকদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আবু সাইদ খান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অপরদিকে ধনবাড়ী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে; যার মধ্যে ছয়টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। একমাত্র পাইঙ্কা ইউনিয়ন পরিষদে মো. জাহাঙ্গীর আলম নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ-সদস্য তথ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। তৃতীয় ধাপে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৩টিতে ভোট হয়। এ উপজেলার ১৩টির মধ্যে ৮টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। বাকি তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। যে দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন তারা হলেন, বেতাগী ইউনিয়নে শফিউল আলম এবং লালনগর ইউনিয়নে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। এ দুজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তাদের দল থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়। অপরদিকে চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ মোকারম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী : সদর দক্ষিণ, লালমাই এবং নাংগলকোট উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ-সদস্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ আসনের নির্বাচন হওয়া ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন। বাকি চারটিতে নৌকা প্রার্থীর পরাজয় হয়।

পঞ্চম ধাপে নাঙ্গলকোট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ করা হয়। এ ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে-পেরিয়া, বক্সগঞ্জ, বাংগড্ডা ও মক্রবপুর। বাকি চার ইউনিয়ন পরিষদ- ঢালুয়া, মৌকরা, সাতবাড়িয়া ও হেসাখালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একই ধাপে লালমাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেগুলোর সবগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে এবার কোনো নির্বাচন হয়নি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী : লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ-সদস্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে লাকসাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। অপরদিকে ষষ্ঠ ধাপে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের তফশিল ঘোষণা করা হয়। ওই ১১টিতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী সবাই মন্ত্রীর অনুসারী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এ দুই উপজেলায় অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়। এ বাধার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন করেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ জমা দেন।

শিক্ষামন্ত্রী : সদর ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২টিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হন। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন।

দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সবগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। পঞ্চম ধাপে হাইমচর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। ওই চারটির মধ্যে দুটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদগুলো হচ্ছে-আলগী দুর্গাপুর (দক্ষিণ) ও নীলকমল। এ দুটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আলগী দুর্গাপুর (দক্ষিণ)-এ বিএনপির প্রার্থী সরদার মো. আব্দুল জলিল এবং নীলকমলে মো. সউদ আল নাছের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হন। বাকি দুই ইউনিয়ন আলগী দুর্গাপুর (উত্তর) ও হাইমচরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী : সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের সংসদ-সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন। এ আসনের শুধু সিলেট সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ভোট হয়। ওই চারটির মধ্যে দুটিতে নৌকার পরাজয় হয়। হাটখোলা ইউনিয়নে খেলাফত মজলিসের রফিকুজ্জামান ও কান্দিগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল মনাফ জয়ী হন। মো. আব্দুল মনাফ জামায়াতের সমর্থক। বাকি দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেন।

শিল্পমন্ত্রী : মনোহরদী ও বেলাব উপজেলা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। এ নির্বাচনি এলাকায় ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১১টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয় হয়। বাকি ১৫টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় হয়।

চতুর্থ ধাপে মনোহরদীর ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেখানে চারটিতে নৌকার পরাজয় হয়। এ চার ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন-একদুয়ারিয়ায় মোল্লা রফিকুল ইসলাম (ফারুক), কাচিকাটায় মো. মোবারক হোসেন খান (কনক), গোতাশিয়ায় মো. আবুল বরকত ও দৌলতপুর ইউনিয়নে শরিফ মাহমুদ খান। বাকি পাঁচটিতে নৌকার প্রার্থী জিতেছেন।

পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত বেলাব উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনটিতেই নৌকার পরাজয় হয়। ওই তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন। এর মধ্যে চর উজিলাব ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ শফিকুল ইসলাম ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে মোহাম্মদ কাউসার কাজল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হন। আর বিন্নাবাইদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী সুলতানা রাজিয়া স্বপ্না বিএনপি সমর্থক। বাকি পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী : নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। দ্বিতীয় ধাপে রূপগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে চারটিতে নৌকা ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে জয়ী হওয়া চারজন চেয়ারম্যানের তিনজনই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একমাত্র স্বতন্ত্রভাবে জয়ী মো. আলমগীর হোসেন ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী : সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য জাহিদ মালেক। তার নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে ১১টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছেন। বাকি পাঁচটিতে স্বতন্ত্ররা জয়ী হয়েছেন।

এ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয় তৃতীয় ধাপে। ওই সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পাঁচটিতে নৌকা প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি দুটিতে পরাজিত হয়েছেন। সেই দুই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে-বেতিলা-মিতরা এবং দিঘী। অপরদিকে চতুর্থ ধাপে সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেখানে ৬টিতে নৌকার জয় হয়। বাকি তিনটিতে নৌকার পরাজয় হয়। সেখানেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন।

খাদ্যমন্ত্রী : পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১ আসনের সংসদ-সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তার নির্বাচনি এলাকায় ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে ১৮টিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। বাকি দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরেছেন।

পঞ্চম ধাপে পোরশা ও সাপাহার উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে ১১টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অবশিষ্ট একটি সাপাহারের আইহাই ইউনিয়নে নৌকার পরাজয় হয়। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জিয়াউজ্জামান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে ষষ্ঠ ধাপে নিয়ামতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেখানেও একটিতে নৌকা পরাজিত হয় এবং বাকি সাতটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। যেটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন সেটি হচ্ছে চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী : কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ-সদস্য সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এ দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে এবার ভোট হয়। এতে ৯টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। বাকি সাতটিতে সরকারি দলের প্রার্থীরা হেরে গেছেন।

এবারের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেখানে ৬টিতে নৌকা প্রতীকের জয় ও বাকি দুটিতে পরাজয় হয়। পরাজিত হওয়া দুটি ইউনিয়ন সারপুকুর ও পলাশীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে কালীগঞ্জ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ে আধিক্য ছিল। তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাঁচটিতেই নৌকার পরাজয় হয়। বাকি তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী : পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য শ. ম. রেজাউল করিম বর্তমানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তার নির্বাচনি এলাকার ২৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে ১৩টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। আর হেরেছেন ১১টি ইউনিয়নের প্রার্থী।

প্রথম ধাপে সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেগুলোর মধ্যে কলাখালী ও কদমতলায় এ দুটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হন। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। একই ধাপে অনুষ্ঠিত নেছারাবাদ উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চারটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরে যান। ওই চার ইউনিয়নে স্বতন্ত্ররা জয়ী হন। বাকি ছয়টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। এ সময়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত চারটির মধ্যে দুটিতে স্বতন্ত্র ও বাকি দুটিতে নৌকার প্রার্থী জিতেছেন। দ্বিতীয় ধাপে সদর উপজেলার তিনটিতে ভোট হয়, যেখানে একটিতে নৌকা হেরে গেছে। বাকি দুটিতে জিতেছে। এ ধাপে অনুষ্ঠিত নাজিরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হেরেছেন। বাকি একটিতে জিতেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী : বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ-সদস্য ও পার্বত্যবিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। এবার এ জেলার ২৯টিতে নির্বাচন হয়। যার মধ্যে ২২টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন, বাকি ৭টিতে হেরেছেন।

জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে লামা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সবগুলোতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। তৃতীয় ধাপে আলীকদম উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দুটিতে নৌকার পরাজয় ও বাকি দুটি জয় হয়। একই ধাপে রুমা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে জয় পান নৌকার প্রার্থীরা। আর একটিতে হেরে যান। চতুর্থ ধাপে থানচি উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬টিতে নৌকা ও দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পঞ্চম ধাপে সদর উপজেলার ভোট হওয়া তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতেই নৌকা প্রার্থীর পরাজয় হয়। বাকি একটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতেছেন। একই উপজেলায় সপ্তম ধাপে ভোট হওয়া তিনটি ইউনিয়নের সবকটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

ভূমিমন্ত্রী : পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসন। ওই আসনের সংসদ-সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এবার এ সংসদীয় আসনের ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে ২৩টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বাকি ৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন।

চতুর্থ ধাপে কর্ণফুলী উপজেলার চারটি এবং পটিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। পটিয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত হয়। কর্ণফুলী উপজেলার তিনটিতে নৌকা ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে পটিয়া উপজেলায় চারজন স্বতন্ত্র ও বাকি ১১ জন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। পঞ্চম ধাপে আনোয়ারা উপজেলায় ভোট হওয়া নয়টি ইউনিয়ন পরিষদের আটটিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বাকি একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন। ষষ্ঠ ধাপে আনোয়ারার জুইদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন।

রেলমন্ত্রী : পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ-সদস্য রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। তার নির্বাচনি এলাকা বোদা ও দেবীগঞ্জের ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে ১৪টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। বাকি ছয়টিতে পরাজিত। এ ছয়টির দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, দুটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াত সমর্থকরা নির্বাচিত হয়েছেন।

চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত বোদা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সাতটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হন। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্রভাবে জয়ী বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহেব আলী জামায়াত এবং বোদা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র ঘোষ বিএনপি সমর্থক। পঞ্চম ধাপে দেবীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। সেখানে অর্ধেকসংখ্যক অর্থাৎ চারটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হেরে গেছেন। বাকি চারটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এ ধাপে সুন্দর দিঘী ও সোনাহার মাল্লিকাদহ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং শ্যালডাংগায় বিএনপি ও চিলাহাটীতে জামায়াত নেতা জয়ী হন। ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের সবকটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন।