শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 457

ইউক্রেনে যুদ্ধ এড়াতে শেষ চেষ্টা?

চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইউক্রেনে। যে কোনো সময় রাশিয়া হামলা করতে পারে দেশটিতে। এ নিয়ে প্রতিমুহূর্তেই খবর প্রকাশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যুদ্ধের কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছে ইউক্রেনসহ গোটা ইউরোপের আকাশ। মহাসাগরের ওপার থেকে আমেরিকা বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে।

এরই মাঝে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে চেষ্টা করে চলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই আবহে ফরাসি প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব মেনে ‘নীতিগতভাবে’ ইউক্রেন নিয়ে সম্মেলনের পক্ষে সহমত পোষণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও ওয়াশিংটনের কর্তারা এখনও মনে করছেন যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, ‘আমরা সবসময় কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। রাশিয়ার যুদ্ধ বেছে নিলে আমরা দ্রুত এবং গুরুতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত। বর্তমানে রাশিয়া খুব শীঘ্রই ইউক্রেনের ওপর পূর্ণ মাত্রায় হামলার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাইডেন ও পুতিন ‘ইউরোপে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার’ লক্ষ্যে একটি সম্মেলনের বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিসের পক্ষ থেকো জানানো হয়েছে, বাইডেন ও পুতিন নীতিগতভাবে এমন এক সম্মেলনের পক্ষেই মত দিয়েছেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের চেষ্টা করা হতে পারে। তবে রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা চালায় তাহলে এমন কোনও সম্মেলনের সম্ভাবনা থাকবে না।

যেসব ইউক্রেনীয়দের হত্যা করা হবে তার তালিকা করছে রাশিয়া!

সম্ভব্য যুদ্ধে যেসব ইউক্রেনীয়দের ‘হত্যা করা হবে কিংবা ক্যাম্পে পাঠানো হবে’ তার তালিকা রাশিয়া ইতোমধ্যে করে ফেলেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘকে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি চিঠিও পাঠিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ওই চিঠির খবর এমন সময় সামনে এলো যখন ইউক্রেন সীমান্তের রুশ সেনা উপস্থিতি নিয়ে আসন্ন যুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ইউক্রেনে সম্ভাব্য ‘মানবাধিকার বিপর্যয়’ সম্পর্কেও বারবার সতর্ক করে আসছে ওয়াশিংটন।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন যুদ্ধে যেসব ইউক্রেনীয়দের হত্যা করা হবে বা ক্যাম্পে পাঠানো হবে রাশিয়ান বাহিনী তার তালিকা তৈরি করেছে এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে সম্বোধন করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে যে রাশিয়ান বাহিনী সম্ভবত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে কিংবা বেসামরিক জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনে চলমান সংকট নিরসনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছেন বলে স্থানীয় সময় গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বাইডেন-পুতিনের সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বৈঠক শেষেই দুই দেশের শীর্ষ ব্যক্তিদ্বয় সাক্ষাৎ করবেন।

এলিসি প্রাসাদ সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রোববার ফোনে বাইডেন-পুতিন দুজনের সঙ্গেই কথা বলে ওই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আলোচনায় বসবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই আলোচনায় সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করবেন।

তবে এই আলোচনায় পক্ষ আসলে কারা সেটা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

এর আগে রোববারই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিঙ্কেন জানিয়েছিলেন, চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেকোনো সময়, যেকোনো শর্তে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।

ব্লিঙ্কেন রোববার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনে একটি টকশোতে বলেছিলেন, যা দেখতে পাচ্ছি তাতে বিষয়টি ভীষণ গুরুতর বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা একটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। তবে ট্রাংক এবং বিমান না সরা পর্যন্ত আমরা কূটনৈতিক উপায়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে প্রতিটি সুযোগ ও প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে চাই।

ব্লিঙ্কেন এর আগে সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’কে বলেছিলেন, বাইডেন স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুদ্ধ আটকাতে তিনি যেকোনো সময়, যেকোনো শর্তে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত।

সাবেক সোভিয়েতভুক্ত ইউক্রেন কয়েক বছর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে আগ্রহের কথা জানায়। এর পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ১ লাখেরও বেশি সেনা মোতায়েন রেখেছে। ইউক্রেনে হামলা করতেই এই সৈন্য সমাবেশ বলেও তাদের অভিযোগ।

মস্কো অবশ্য বারবার বলছে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই; ন্যাটোর তৎপরতা থেকে নিজেদের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে তাদের এই প্রয়াস।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সদস্যরা মস্কোর এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছে না।

ফুটবলে প্রথম জয় পেল সৌদি নারীরা, যা বললেন পেলে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে জনপ্রিয়তার তালিকায় প্রথম পছন্দ ফুটবল। দেশটির পুরুষ দল বিশ্বকাপ আসরেও অংশ নেয়।

গত মাসেই নারী ফুটবল দল গড়েছে সৌদি আরব। আর দল গড়ার এক মাস পরেই জয়ে স্বাদ পেয়েছে দলটি।

সৌদি নারীদের এই ঐতিহাসিক জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফুটবলের কালোমানিক পেলে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি লিখেছেন, ‘আমি সৌদি ফুটবল ফেডারেশন ও জাতীয় নারী দলকে তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলায় অভিনন্দন জানাই। আজকের দিনটা শুধু তোমাদের জন্য নয়, পুরো ফুটবল দুনিয়ার জন্যই ঐতিহাসিক।’

নকল ব্যান্ডরোলে জড়িত চার প্রতিষ্ঠান

নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে সিগারেট বাজারজাত করছে ৪ প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি হওয়া মোট ৯টি ব্র্যান্ডের সিগারেটে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর ৪টি ব্র্যান্ডে পুনঃব্যবহৃত ব্যান্ডরোল লাগানো হয়। সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দার গোপনীয় প্রতিবেদন থেকে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানা গেছে।

নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে সিগারেট বাজারজাতের অভিযোগ বেশ পুরোনো। কিন্তু অতীতে এটি বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টমসে পৃথক দুটি জাল ব্যান্ডরোলের চালান আটকের পর নড়েচড়ে বসে এনবিআরের বর্তমান প্রশাসন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট অফিসকে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর তদারকির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ভ্যাট গোয়েন্দাকে এ ব্যাপারে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়।

সূত্র জানায়, এনবিআরের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট গোয়েন্দা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১০টি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনকৃত ২৮ ব্র্যান্ডের সিগারেট সংগ্রহ করে। এরপর সেগুলোর ব্যান্ডরোল যাচাইয়ের জন্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে পাঠানো হয়।

বিস্তর যাচাই শেষে ৫ জানুয়ারি করপোরেশন ভ্যাট গোয়েন্দায় একটি প্রতিবেদন পাঠায়। এতে বলা হয়, ৭টি ব্র্যান্ডের সিগারেটে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার হয়। এগুলো হলো-তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকোর জেট ও পিকক; হেরিটেজ টোব্যাকোর গুরু, ভার্গো টোব্যাকো পার্টনার, দেশ গোল্ড, ভার্জিন; মিরাজ টোব্যাকোর সেনর গোল্ড।

এছাড়া ৪টি ব্র্যান্ডের সিগারেটের ব্যান্ডরোল পুনঃব্যবহারের প্রমাণ পায় করপোরেশন। এগুলো হলো-হেরিটেজ টোব্যাকোর সিটি গোল্ড ও গুরু; ওয়ান সিগারেট ফ্যাক্টরি বাংলাদেশের রিজেন্ট ও টপ১০। আর দুটি ব্র্যান্ডের সিগারেটে স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোল পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম কাস্টমসে আটককৃত জাল ব্যান্ডরোলের সঙ্গে ভ্যাট গোয়েন্দার পাঠানো সিগারেটের প্যাকেটে ব্যান্ডরোলের মিল পাওয়া যায়নি। স্ট্যাম্পে ব্যবহৃত কাগজ, কালি, হলোগ্রাফিক ফয়েল ও মুদ্রণ পদ্ধতিতে সাদৃশ্য নেই। অর্থাৎ ওইসব ব্যান্ডরোল এসব ব্যান্ডে ব্যবহার করা হয়নি।

এ বিষয়ে সিগারেট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, অবৈধভাবে আমদানিকৃত এবং নকল ব্যান্ডরোলের সিগারেটের কারণে সরকার ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসে নকল ব্যান্ডরোল আটকের পর ভ্যাট গোয়েন্দার অনুসন্ধানে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো।

যেসব কোম্পানি চিহ্নিত করা গেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। তিনি আরও বলেন, শুধু সিগারেট কোম্পানিই নয়, বিড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকেও কঠোর নজরদারিতে আনা প্রয়োজন।

এদিকে ১৯ জানুয়ারি অবৈধভাবে আমদানিকৃত জাল/নকল সিগারেট স্ট্যাম্পের ব্যবহার রোধকল্পে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে একটি সভা হয়।

ওই সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান সন্দেহজনক সিগারেটের ব্যান্ডরোল যাচাই, বন্ধ সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং এবং বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নজরদারিতে আনার নির্দেশ দেন। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় রাজস্ব আহরণে সিগারেট একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতে রাজস্ব ফাঁকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং করা গেলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব।

বাজারে বিক্রীত কোনো সিগারেটের ব্যান্ডরোল নিয়ে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে পাঠিয়ে তা পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

সভায় মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি অণুবিভাগের সদস্য আব্দুল মান্নান শিকদার বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নামমাত্র নিবন্ধন গ্রহণ করে গোপনে সিগারেট ও বিড়ি উৎপাদন করছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নজরদারি করতে পারলে স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ সম্পর্কে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নিবন্ধন গ্রহণ করে ব্যবসা করছে না-এমন প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করে নিবন্ধন বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অবৈধ স্ট্যাম্পের ব্যবহার অনেকাংশে কমে যাবে।

তাছাড়াও বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো গোপনে সিগারেট উৎপাদন করছে কি না, তা গভীর নজরদারির মধ্যে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, সিগারেটের পাশাপাশি বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় নজরদারি বৃদ্ধি করা দরকার। প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় তারা ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল বাজার থেকে সংগ্রহ করে বিড়ির প্যাকেটে পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে থাকে। এজন্য নিয়মিত মনিটরিং করলে এ খাতে রাজস্ব ফাঁকি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।

আর্থিক খাতে অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণ জরুরি

আর্থিক খাতে যত অনিয়ম, দুর্নীতি, বিচারহীনতা এবং সুশাসনের অভাব-সবকিছুর পেছনে কলকাঠি নাড়ে একটি অদৃশ্য শক্তি। এ শক্তি অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু সবকিছু ধামাচাপা দেয় তারাই। অথচ কুচক্রী এই মহলটি সব সময় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদৃশ্য শক্তির থাবা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আর্থিক খাত আরও ধসে পড়বে। এ থেকে পরিত্রাণে বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের আরও যোগ্য হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। রোববার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সরকারের শীর্ষমহলের নির্দেশনা বা নিয়ন্ত্রণে চলে। সে কারণে আর্থিক খাতে নৈরাজ্যের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে এককভাবে দায়ী করা যায় না। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নামে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে তা ভোগ করতে পারছে না। সত্যিকারভাবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে ব্যাংকিং বিভাগ চালু আছে, তা বিলুপ্ত করতে হবে। সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী থাকার সময় একবার বিভাগটি বিলুপ্ত করা হলেও পরে তা আবার চালু হয়েছে। এটা বন্ধ হলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছুটা দোষারোপ করার সুযোগ থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অধিকাংশ ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হয়ে থাকেন। সুতরাং ব্যাংকের মালিকরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী, তাদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, এটা আশা করা বাতুলতা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আর্থিক খাতের আজকের করুণ অবস্থার জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়। ঘরে-বাইরে একটি অদৃশ্য প্রভাবশালী গোষ্ঠী সব অপকর্মের পেছনে কলকাঠি নাড়ে। যাদেরকে কখনো প্রকাশ্যে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে দেখা যায় না। এই গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুশাসনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণে ওই অদৃশ্য প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্ষমতা কমাতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, দুর্বৃত্তরা আর্থিক খাতে লুটপাট করে যাচ্ছে। কোনো প্রতিকার নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। এখানে কারও না কারও তো দায় ছিল। সে বিচার আজও হয়নি। লুটপাটের কারণে কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বসে গেছে। সাধারণ মানুষের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। ব্যাংকিং কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের, সেটাও করা হয়নি। আগে লুটপাটকারীদের সামাজিক অবস্থান ছিল না। এখন উলটো তারাই সমাজপতি। সে কারণে তাদের সামাজিকভাবেও বর্জন করা যায় না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ যা দেখানো হয়, বাস্তবে এর কয়েক গুণ বেশি হবে। এর গন্তব্য কোথায়, কেউ জানে না। এখন মানুষ হতাশ, হাল ছেড়ে দিচ্ছে; কোনো আশা নেই। তিনি আরও বলেন, নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা না হলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

প্রসঙ্গত, আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে উত্তরণে সম্প্রতি ১০ দফা সুপারিশ করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। সুপারিশগুলো হচ্ছে-অর্থ পাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করতে হবে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সব দুর্নীতিবাজের তালিকা জাতীয় সংসদসহ গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ে ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করতে হবে। ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচার রোধে সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

বড় ঋণখেলাপিরা যাতে কেউ বিদেশে যেতে না পারে, সেজন্য নৌবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরগুলোয় তাদের তালিকা পাঠাতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ব্যাংকিং সেক্টরে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন-এমন দক্ষ পেশাদার ব্যক্তিকে এসব পদে নিয়োগ দিতে হবে। নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা উচিত। চরম লোকসানি ব্যাংকগুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাচার করা অর্থের অঙ্ক ও পাচারকারীদের নাম সংগ্রহের জন্য সমঝোতা চুক্তি করতে হবে।

আসছে ট্যাক্স প্রদানের সফটওয়্যার

ট্যাক্স ফাইলিং সহজলভ্য ও নির্ভুল করার লক্ষ্য নিয়ে ট্যাক্স প্রদানের সফটওয়্যার তৈরি করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ইকবাল হোসাইন ফেরদৌস। সফটওয়্যারটি দিয়ে সহজেই যে কেউ ঘরে বসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্যাক্স ফাইলিংয়ের যাবতীয় কার্যক্রম করতে পারবে।

বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে আমেরিকার যে কোনো সিপিএ, অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্ম ও ট্যাক্স প্রিপেয়ারারও ট্যাক্স ফাইল করতে পারবে। ফেরদৌস বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ সফটওয়্যারের ফ্রেমওয়ার্ক সম্পন্ন করেছি। খুব শিগ্গির এটিকে বাজার আনতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’

তাছাড়া বর্তমানে কীভাবে ট্যাক্স ফাইলিং করতে হয়, ট্যাক্স রিটার্নের যাবতীয় আইন কানুনসহ সম্পূর্ণ ট্যাক্স প্রফেশনাল কোর্স ডিজাইন করছে তার পরিচালিত মিশিগানের হ্যামট্রামিক সিটিতে অবস্থিত ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি নূর ট্যাক্স অ্যান্ড ইমিগ্রেশন। তিনি জানান, ‘ট্যাক্স ফাইলিং সফটওয়্যার ও ‘ট্যাক্স প্রফেশনাল কোর্স’ আমাদের নতুন সংযোজন।

যারা ট্যাক্স ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক তাদের জন্য ‘ট্যাক্স প্রফেশনাল কোর্স’ হবে অত্যন্ত সুবর্ণ সুযোগ।’ এ কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ট্যাক্স ফাইলিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে পারবে। কোর্সটি সম্পন্ন করলে প্রশিক্ষণার্থীরা যে কোনো অ্যাকাউন্টিং ফার্মে কর্মসংস্থান গড়তে পারবে। তাছাড়া নূর ট্যাক্সের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রয়ের মাধ্যমে বছরে লক্ষ্য ডলারের ব্যবসার মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ প্রযুক্তি ও ট্যাক্স ফাইলিং বিষয়ে অভিজ্ঞ এ তরুণ জানান, ‘ট্যাক্স ফাইল করার আগে ভালো ধারণা থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।

আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিদের ট্যাক্স, অ্যাকাউন্টিং ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত সেবা প্রদান করছি। ট্যাক্স ফাইলিং সম্পর্কে যে কোনো সাহায্যের জন্য নূর ট্যাক্স সব সময় আছে গ্রাহকদের পাশে।’ খুব শিগ্গির নূর ট্যাক্স ফ্রাঞ্চাইজি বিক্রয় শুরু করবে। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের যে কোনো ব্যবসায়ী নূর ট্যাক্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রয়ের মাধ্যমে আমেরিকায় বিনিয়োগ করে আমেরিকার বিনিয়োগকারী ভিসায় স্থায়ীভাবে বসবাস ও ব্যবসার সুযোগ পাবে।

ক্ষমতার আস্ফালন নয়, জনগণকে ভালোবাসতে হবে: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতার আস্ফালন নয়, দেশের জনগণকে ভালোবাসতে হবে। ক্ষমতার আস্ফালন বন্ধ করতে হবে। কেন না ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়ে বিজয়ী হওয়া যায় না। জনগণ যাকে ভালোবাসে তার স্লোগানের প্রয়োজন হয় না। শুধু স্লোগান আর নেতাগিরিতে কাজ হয় না।

রোববার নাটোরের শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ক্ষমতার আস্ফালন করত। এখনো তারা আস্ফালন করে। এখনো আওয়ামী লীগকে বিএনপি ভয় দেখাচ্ছে। কারণ তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে আবার সহিংসতার রাজনীতি ও আগুন সন্ত্রাস করতে চায়।

বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, শান্তির ভাষায় কথা বলুন। অশান্তি করতে চাইলে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শক্ত জবাব দেওয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যারা দলের বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্য বিনষ্ট করে দলকে ছোট করেছেন, সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করে ফেলছেন, তাদের সবার তালিকা তৈরি হয়েছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ তালিকার রেশ শেষ হবে না। সবাইকে তাদের কর্মফল ভোগ করতে হবে।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২৪ ঘণ্টাই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। নির্বাচন যতো সামনে আসে বিএনপি ততই বেশি অপপ্রচার চালায়। আন্দোলন ও নির্বাচনে বিএনপি ফেল করেছে। নেতিবাচক রাজনীতির কারণে জনগণের সমর্থন হারিয়েছে বিএনপি। তারা নির্বাচনে বিজয়োল্লাস করতে না পেরে হতাশ হয়ে গেছে। আসলে বিএনপির রাজনীতি খাদে পড়েছে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপির সঞ্চালনায় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, বেগম আখতার জাহান, প্রফেসর মেরিনা জাহান এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী নাটোর-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-১ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল ও নাটোর-নওগাঁ সংরক্ষিত আসনের এমপি ও নাটোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রত্না আহমেদ।

স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান ও সৈয়দ মোর্তজা আলী বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক শেখ প্রমুখ।

ভাষা আন্দোলনের চেতনায় গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করবো: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে ভয়াবহ একটা ফ্যাসিজম চলছে। এটাকে সরানো জন্য, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এখানে একটি গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করবো।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে আমরা একুশের চেতনাকে বাস্তবায়িত করবো।

এ সময় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহিদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। সেখানে থেকে সহস্রাধিক নেতাকর্মী প্রভাতফেরী করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আসেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভারতে যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের

ভারতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে নয়াদিল্লীর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের বিজি ৪০৯৭ ফ্লাইট যোগে ওবায়দুল কাদেরর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। নয়াদিল্লীর মেডান্টা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন তিনি। চিকিৎসা শেষেই মন্ত্রী ঢাকায় ফিরবেন বলে আশা করছেন।

প্রসঙ্গত, ওবায়দুল কাদের গত ১৪ ডিসেম্বর বুকে ব্যথা নিয়ে ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তে ভর্তি হন। তার চিকিৎসায় বিএসএমএমইউ উপাচার্যের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। পরে গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে তিনি চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

দুই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারছে না সার্চ কমিটি

সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে চূড়ান্তভাবে ১০ জনের নামের তালিকা জমা দেবে কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে সার্চ কমিটির প্রধান ও আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমরা চাইলে দেখা করতে পারি না। এর জন্য দুটি কারণ আছে।

একটি হচ্ছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ মুক্ত হতে হবে এবং দ্বিতীয়ত হচ্ছে, উনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন।

সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আরও বলেন, নতুন আইনের আওতায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের পর এ পর্যন্ত আমরা নিজেদের মধ্যে ৬টি মিটিং করেছি। আরেকটি মিটিং বাকি আছে। ২২ ফেব্রুয়ারি সপ্তম মিটিং করার মধ্য দিয়ে আপাতত আমাদের কাজ শেষ করতে পারব। এছাড়া চারটি মিটিং করেছি সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে ৩২২ জনের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই নাম প্রকাশের পর চারজন বিশিষ্ট সাংবাদিক আমাদের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের আমরা ডেকেছি। তারাও কিছু নাম দিয়ে গিয়েছেন। আমরা নাম জমা দেওয়ার সময় একদিন বাড়িয়েছিলাম। এরপরও বলেছিলাম, কেউ যদি বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নাম দেয়, তাহলে সেই নামগুলোও বিবেচনায় নেব। সময় বাড়ানোর পর কিছু রাজনৈতিক সংগঠন নাম পাঠিয়েছে। সব নাম বিবেচনায় নিয়ে গত পঞ্চম সভায় ২০ জনের নাম বাছাই করা হয়। সেখান থেকে ১২-১৩ জনের তালিকা করেছি।

প্রসঙ্গত, বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটির সদস্যরা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশন চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।