শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 400

আট হাজার কোটি টাকা বাড়ছে সরকারি ব্যয়

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যপণ্য, কৃষি, জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য বেড়েছে। আর এসব খাতে সরকারের নির্ধারিত ভর্তুকির অঙ্ক ঠিক থাকছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমপক্ষে আরও আট হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাড়াতে হিসাব কষছে অর্থ বিভাগ। যদিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভর্তুকি বেড়ে যাওয়ায় বেশ চাপের মুখে পড়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গত দু’বছর করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে অর্থনীতি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার আগেই শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অভ্যন্তরে এক দফা মূল্য বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু এখন বর্ধিত দামেই কিনতে হচ্ছে জ্বালানি তেল। নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হবে না। ফলে এ খাতে ভর্তুকির অঙ্ক বাড়বে। এ ছাড়া বেড়েছে সার ও খাদ্যপণ্যের দামও। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বাড়লেও সরকার কৃষকের সারের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। কৃষককে দেওয়া হচ্ছে ভর্তুকি মূল্যে সার। ফলে বড় ধরনের ভর্তুকি এ খাতেও গুনতে হবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রভাব ঠিক রাখতে সরকার নিজেই এ খাতে প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। এখানে ভর্তুকি বাড়ছে।

সব মিলে আমরা ভর্তুকি নিয়েই আছি। তার মতে, এ ধাক্কা আসন্ন বাজেটেও গিয়ে পড়বে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভর্তুকির অঙ্ক বাড়বে। এটি ব্যবস্থা করতে হলে আমাদের রেমিট্যান্স ব্যবস্থার প্রতি নজর রাখতে হবে। এ খাত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। রপ্তানি এখনো পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হয়নি। রপ্তানি আয় বাড়ানো বিশেষ করে নতুন পণ্য, নতুন দেশ খুঁজতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়াতে হবে। কারণ এই মুহূর্তে ভর্তুকি বন্ধ করা যাবে না। ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়ে পত্র পাঠিয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় ৩২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে।

চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) কৃষি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের মূল্য এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা থেকে ৯৬ টাকায় উঠেছে। কিন্তু সরকার এ সার আগের দামেই প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ খাতে ভর্তুকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ ভর্তুকির অঙ্ক তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে চলতি অর্থবছরে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। এ খাতেও আরও দুই হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর হিসাব করছে অর্থ বিভাগ। আর এলএনজি খাতে চলতি অর্থবছরে ছয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি গ্যাসের মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে এ খাতে ভর্তুকি বাড়বে এমনটি ধরে হিসাব চলছে।

সূত্র আরও জানায়, রেমিট্যান্সের প্রভাব বাড়াতে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানো হয়। প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা দেওয়া হতো। গত জানুয়ারিতে সেটি বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। এই দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনা বাড়ানোর ফলে এ খাতে নতুন করে ভর্তুকি আরও এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়াতে হবে। অর্থাৎ বছরের শুরুতে ছিল রেমিট্যান্স খাতে ভর্তুকি চার হাজার কোটি টাকা। সেটি বছর শেষে দাঁড়াবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

একই ভাবে রপ্তানি খাতে ছয় হাজার ৮২৫ কোটি টাকার ভর্তুকি বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সাত মাসে ব্যয় করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল, গম, চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে দেশি পণ্যের বাজারে। যে কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিসিবি এক কোটি নিম্ন আয়ের মানুষকে সাশ্রয় মূল্যে চিনি, ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল বিতরণ কর্মসূচি চালু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড নামে এই কর্মসূচি পরিচালনা করতে গিয়ে সরকারকে ৪০০ কোটি টাকার ভর্তুকি গুনতে হবে।

এদিকে বেসরকারি সংস্থা সিপিডির হিসাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ও খাদ্যপণ্যের বৃদ্ধির কারণে আগামী তিন মাসে ডিজেলের জন্য বাড়তি খরচ করতে হবে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় তিন হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, এলএনজিতে প্রায় ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবির পণ্য বাবদ প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা এবং ভোজ্যতেলের ভ্যাট মওকুফ করায় কিছুটা রাজস্ব কমবে। এসব নিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত বোঝা আসবে বাজেটের ওপর।

৯৩৭৭ কোটি টাকা ঋণ অবলোপন ৪ বছরে

একের পর এক ছাড় দিয়েও কমছে না খেলাপি ঋণ। তাই ঋণ অবলোপনের পথে হাঁটছে ব্যাংকগুলো। গত চার বছরে ৯৩৭৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে সব ব্যাংক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবলোপন হলো খেলাপি ঋণের একটা পরিণতি।

ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ। ব্যালেন্সশিট স্বচ্ছ দেখাতে কাগজে-কলমে খেলাপি আড়াল করছে ব্যাংকগুলো। এটা স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। বরং ব্যাংকগুলো ভেতরে ভেতরে আরও রুগ্ণ হয়ে উঠছে। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের অবলোপনের মাধ্যমে ২৪৪১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যা তার এর আগের বছরের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। এর আগে ২০২০ সালে অবলোপন করা হয়েছিল ৯৭১ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৯ সালে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে অবলোপন করা হয়েছিল ২৫৯৭ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত চার বছরে ব্যাংকগুলো রাইট অফ বা অবলোপন করে ৯৩৭৭ কোটি টাকার মন্দ মানের ঋণ ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঋণ আদায় না করে যদি রাইট অফের কৌশল বেছে নেওয়া হয় তবে এক সময় ব্যাংকের মূলধনও থাকবে না। তাই এটিকে ভালোভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যদি এমন হতো ব্যাংকগুলো রাইট অফ করে জোর দিয়ে ঋণ আদায় করছে তাহলে এ উদ্যোগ ইতিবাচক হতো। কিন্তু তারা শুধু ব্যালেন্স শিট ঠিক রাখতেই রাইট অফ করছে।

এতে বাইরে থেকে লোকজন মনে করছে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো। বাস্তব চিত্র কিন্তু উল্টো। সেজন্য এটা ঠিক হচ্ছে না।

খেলাপি ঋণ কমাতে অবশ্যই ঋণ আদায়ে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ে টার্গেট দিতে হবে। টার্গেট পূরণ না করতে পারলে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে হবে। তাদের বলতে হবে যতটুকু ঋণ আদায় করতে পারবে ততটুকু ঋণ দিতে পারবে। তা না হলে খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব নয়।

ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ বা ক্ষতিকর মানের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রেখে স্থিতিপত্র (ব্যালান্সশিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে। ঋণখেলাপি মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ওই সময় ব্যাংকের স্থিতিপত্র ঠিক রাখতে অবলোপনের নীতিমালা জারি হয়। এর পর ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি অবলোপন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ৩ বছর হলেই মন্দমানের (কুঋণ) খেলাপি ঋণ অবলোপন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আগে ৫ বছর না হলে খেলাপি ঋণ অবলোপন করা যেত না। এছাড়া আগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি ঋণ মামলা ছাড়াই অবলোপন করার সুযোগ ছিল; এখন তা বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। মূলত কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখাতে এ সুবিধা নিয়ে থাকে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকাররা বলছেন, ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করায় ঋণখেলাপিরা উৎসাহিত হয়েছেন। এখন তাদের ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা আরও বেড়ে গেছে। অন্যদিকে ব্যালান্সশিট ভালো দেখাতে ব্যাংকগুলো এ সুবিধা নিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে আড়াল হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র। অবলোপন থেকে ঋণ আদায় খুবই কম। তারপরও অবলোপনে ব্যাংকগুলোকে নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার জন্যও অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। কয়েক বছর ধরেই এ প্রভিশন সংরক্ষণের অতিরিক্ত সময় নিয়ে আসছে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক।

অবলোপন ব্যাপক বাড়লেও এ থেকে ঋণ আদায় কমেছে। ২০২১ সালের ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আগের অবলোপন করা ঋণ থেকে আদায় হয় ৪৭২ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০২০ সালে তা ছিল ৭৩৬ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালে ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন হলেও ওই বছর আদায় হয় মাত্র ৮৩১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ঋণ অবলোপন হলো খেলাপিরই একটা পরিণতি। যতক্ষণ খেলাপি বন্ধ না হবে ততক্ষণ ঋণ অবলোপনও চলতে থাকবে। ব্যাংক কখনো ব্যালেন্সশিট অপরিষ্কার রাখবে না, এটাই স্বাভাবিক। আগে গোড়ায় হাত দিতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কীভাবে বন্ধ করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। ঋণ আদায় বাড়াতে হবে। তা না হলে এসব বন্ধ হবে না।

তিন বছরের কমিটিতে ছয় বছর পার

বিএনপির তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ইতোমধ্যে পার করেছে ছয় বছর। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলেও আপাতত কাউন্সিল করার কোনো ভাবনা নেই দলটির হাইকমান্ডের। কতগুলো বাস্তব কারণে চাইলেই কাউন্সিল করতে পারছে না। বর্তমানে পুরোদমে চলছে তৃণমূল পুনর্গঠন।

এসব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমিত পরিসরে কাউন্সিল করা যায় কিনা তেমন চিন্তা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কাউন্সিল করা সম্ভব না হলে জাতীয় স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদগুলো পূরণ করা হতে পারে। বর্তমানে নির্বাহী কমিটির অর্ধশতাধিক পদ ফাঁকা রয়েছে। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিএনপিতে কাউন্সিল হয়েছে ছয়বার। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল করার বিধান রয়েছে।

নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্সিল না হওয়ায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরও তারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন না। নিয়মিত কাউন্সিল হলে অনেকেই নেতা হওয়ার সুযোগ পেতেন। এতে দলের নেতৃত্বেরও বিকাশ ঘটত। পদ-পদবি না পেয়ে অনেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। তাই দ্রুত সময়ে কাউন্সিল না হলে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, আগামী দিনের আন্দোলনকে গতিশীল করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব জরুরি। যারা বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও নিষ্ক্রিয় তাদের কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে।

ঢাউস কমিটি থেকে অযোগ্য ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটির আকার করতে হবে ছোট। আন্দোলন সংগ্রামে পরীক্ষিত যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এ জন্য ছোট পরিসরে হলেও কাউন্সিল করার তাগিদ মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাউন্সিল না হওয়া প্রসঙ্গে দলের দুজন নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিল নিয়ে এখনো দলীয় ফোরামে তেমন আলোচনা নেই। তাছাড়া আমাদের নেত্রী এখনো বন্দি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে। দলের শীর্ষ এ দুনেতার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিল করা হলে তা নেতাকর্মীরা ভালোভাবে গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। তা ছাড়া জাতীয় কাউন্সিল তো জেলা সম্মেলনের মতো নয়। যে কোনোভাবে করে ফেললাম। জাতীয় কাউন্সিল একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। চার হাজারের বেশি কাউন্সিলার রয়েছে। এরপর ডেলিগেট। এমন একটা কর্মযজ্ঞ ভার্চুয়াল বা অনলাইনে করা সম্ভব নয়। তাছাড়া করোনা মহামারিসহ রাজনৈতিক পরিবেশ নিজেদের অনুকূলে না থাকায় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি।

ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের কিছু দিন পর স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হলেও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকটি পদ ফাঁকা ছিল। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে ভাইস চেয়ারম্যানসহ নির্বাহী কমিটির একাধিক নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। কেউ কেউ পদত্যাগও করেছেন। পদোন্নতি দিয়ে কয়েকটি পদ পূরণ করা হলেও বেশির ভাগ পদই ফাঁকা। স্থায়ী কমিটিও চলছে খুঁড়িয়ে। ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির শুরুতেই দুটি পদ ফাঁকা ছিল। এরপর তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এমকে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা যান। এ ছাড়া রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। যদিও তার পদত্যাগপত্র বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান কোনোটিই করা হয়নি। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জুনে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে স্থায়ী কমিটির শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই হিসাবে এখন সদস্য সংখ্যা ১৪ জন। পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দলের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিচারপতি টিএইচ খান মারা গেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান ও মোসাদ্দেক আলী ফালু পদত্যাগ করেছেন। আর ইনাম আহমেদ চৌধুরী দল ত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমানকে ভাইস চেয়ারম্যান থেকে পদোন্নতি দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ১০টি পদই ফাঁকা। এ ছাড়া ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির মধ্যে ফজলুর রহমান পটল, হারুন অর রশীদ খান মুন্নু, আখতার হামিদ সিদ্দিকী, নুরুল হুদা, জাফরুল হাসান, কবির মুরাদ, সঞ্জীব চৌধুরী, কাজী আসাদুজ্জামান, ওয়াহিদুল ইসলাম ও এমএ হক মৃত্যুবরণ করেছেন। নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ কোষাধ্যক্ষ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিজানুর রহমান সিনহা। ওই পদটি এখনো ফাঁকা।

দলটির নেতারা জানান, সারা দেশের সাংগঠনিক জেলা কমিটি পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠনের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি জেলার আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় থমকে যায় পুনর্গঠন। করোনার কারণে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখা হয়। গত বছরের শেষের দিকে সীমিত পরিসরে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ফের শুরু করে। এরপর কয়েকটি জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে যেসব জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় সেগুলোর মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দলের ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৫৬টির কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পুনর্গঠন শেষ হলে কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। ইচ্ছা করলেই যেনেতেনভাবে দলের কাউন্সিল করা সম্ভব নয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কাউন্সিল করতে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে তা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। দ্রুত সময়ে এ কাজ শেষ করা হবে। এরপর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে কাউন্সিলের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাউন্সিল অবশ্যই হবে। আমরা সুবিধাজনক সময়ে কাউন্সিল করব।

কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, এ সরকারকে হটাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। সেই গণআন্দোলন সফল করতে দরকার শক্তিশালী সংগঠন। এজন্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব তুলে আনার কাজ চলছে। নানা প্রতিকূলতা থাকায় বিগত সময়ে জাতীয় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। তৃণমূল পুনর্গঠনের পর জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

মালদ্বীপ সরকারের অ্যাওয়ার্ড পেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল

বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপিকে মালদ্বীপ সরকার কর্তৃক স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে ‘মালদ্বীপ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়ার মান উন্নয়নে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং পাশাপাশি মালদ্বীপের ক্রীড়ার উন্নয়নে বাংলাদেশের অব্যাহত বিশেষ সহযোগিতার স্বীকৃতি স্বরূপ দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানজনক এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ রাতে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ‘মালদ্বীপ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ নিজেই সম্মানজনক এ বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন তার হাতে।

পরপর চারবার হকি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান বলেন, এ মাসে দুই প্রাপ্তি আমি বঙ্গবঙ্গু জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। এই অর্জন দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদর্শনায় হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়ার মান উন্নয়নে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবং পাশাপাশি মালদ্বীপের ক্রীড়ার উন্নয়নে বাংলাদেশের অব্যাহত বিশেষ সহযোগিতার স্বীকৃতি স্বরূপ দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানজনক এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মালদ্বীপ সফর শেষে সোমবার বাংলাদেশে আসার পর ফেডারেশনের নেতাকর্মী ও গাজীপুরের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

যারা ঘুস দেয়, তাদের জায়গা জাহান্নামে: অর্থমন্ত্রী

যারা ঘুস দেয়, তাদের জায়গা জাহান্নামে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শুল্ক ও কর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ঘুস দিচ্ছেন কেন? আপনাদের কাছে অনুরোধ, ঘুস দেবেন না।’

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন বাজেট উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সভায় শুল্ক ও কর কর্মকর্তাদের সর্তক করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী হাদিসের উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘ঘুস দেওয়া যাবে না। যারা ঘুস দেয়, তাদের জায়গা হবে জাহান্নামে।’

আগামী (২০২২-২৩) অর্থবছরের বাজেটেও ব্যবসায়ীরা জিতবেন বলে সভায় মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটের মূল থিম হচ্ছে ‘উইন উইন সিচুয়েশন (সবার জন্য সমান সুযোগ)’। অর্থাৎ আগামী বাজেটে আপনারা কেউ হারবেন না, জিতবেন। পাশাপাশি আপনাদের সঙ্গে আমাদের সরকারও জিতবে। আমরা সবাই জিতব।সরকার সব ক্ষেত্রে বেশি নিল, ব্যবসায়ীরা কিছু পেল না— এ অভিযোগ সরকার শুনতে চায় না।’

ব্যবসায়ীদের প্রশংসা করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘গত ১৩ বছরে রাজস্ব আটগুণ বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের অবদান রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের এটাও মনে রাখতে হবে আগামীতেও কর পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন হবে অথবা মেগাপ্রকল্প সরকার কীভাবে শেষ করবে!’

ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছরে আমরা অনেক পিছিয়েছি। এখন আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা ঠকবেন না। আমরা আপনাদের ঠকতে দেবো না। আপনারা যদি ঠকেন তাহলে দেশ পিছিয়ে যাবে।’

নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ ৪৯ জনকে গ্রেফতার

ইয়াবা, নেশাজাতীয় ইনজেকশন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িত সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদক জব্দ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ৩১৯০ পিস ইয়াবা বড়ি, ৬২ গ্রাম ১১০ পুরিয়া হেরোইন, ৪১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ৪০টি নেশা জাতীয় ইনজেকশন ও ১৮৩ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৭টি মামলা করা হয়েছে।

কিডনি রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধে কী করবেন?

ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ হচ্ছে নীরব ঘাতক। যাদের এ দুটোর কোনো একটি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় তাদের যাতনার শেষ নেই। চলাফেরা, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়। বিভিন্ন কারণে কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে একজন মানুষ নানাবিধ শারীরিক জটিলতার মুখে পড়েন। এমনকি কিডনি একেবারে অকার্যকর হয়ে গেলে মৃত্যু সুনিশ্চিত।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়গুলো জানা থাকলে অনেক সময় সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একশনের (ক্রিডা) ডা. সুপ্রিয় পাল।

মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি (বাংলায় বৃক্ক বলা হয়)। কিডনি রক্তে উপস্থিত দূষিত পদার্থগুলো পরিশোধন করে এবং মূত্র তৈরি করে সেগুলো দেহ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। একটি অসুস্থ বা অকার্যকর কিডনির কারণে একজন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। এজন্য অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনি সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনি রোগের উপসর্গ ও লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগের তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্রম ক্ষমতা কমতে থাকলে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। ক্ষুধামন্দা, শরীরে ওজন হ্রাস পাওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশে (হাত, পা, মুখ) পানি জমে ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, শরীরে ক্লান্তিভাব আসা, ঘুম কম হওয়া, অসুস্থ বোধ করা, শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানি হওয়া, মাঝে মাঝেই মাথাব্যথা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ ক্রনিক কিডনি ডিজিসের শেষ পর্যায়ে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

কিডনি রোগের ঝুঁকির কারণ

ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, কিডনির জন্য ক্ষতিকর এমন ওষুধ সেবন, জন্মগত কিডনির সমস্যা, ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তি, প্রভৃতি কিডনি রোগের ঝুঁকির জন্য অন্যতম।

প্রতিরোধে করণীয়

কিডনি রোগের অন্যতম ঝুঁকির কারণ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। সুতরাং যাদের দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও ওষুধ সেবন করা বাধ্যতামূলক, যেন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন দ্রুত কমিয়ে ফেলতে হবে। যারা ধূমপান করে, তাদের জন্য ধূমপান ত্যাগ করার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে। খাবার পাতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। রক্তে কলস্টেরল যেন সবসময় স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। প্রতিদিন বেশি পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। তবে যাদের কিডনি রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে ফলমূল খাওয়া যাবে না। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং রুটিন চেকআপ করানো আবশ্যক।

জাবিতে সাবেক নেতাকে পেটাল ছাত্রলীগ কর্মীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের কর্মীদের কাছে মারধরের শিকার হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনে আল বেরুনী হলের ৪৫ ও ৪৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে মারধর করে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়েছেন প্রক্টর বরাবর।

ঘটনার বিচার দাবি করে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ফয়সাল বলেন, আমাকে ডেকে নিয়ে বর্তমান ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। এছাড়া আমার সাথে থাকা বান্ধবীকেও তারা হেনস্থা করেছে।

ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৩তম ব্যাচ ও আল বেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির উপ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন তিনি ।

লিখিত অভিযোগে ফয়সাল মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত করেন- পরিসংখ্যান বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের নওশাদ হোসেন সুজন, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের অভিক ব্যানার্জি ও ৪৬ তম ব্যাচের সোহেল রানা, ইতিহাস বিভাগের মোহাইমিনুল ইসলাম, পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের জোবায়েদ আশিক, সুজন মাহমুদ, শহিদুল রনি, মোফাজ্জল হোসেন কাওসার এবং দর্শন বিভাগের আব্দুর রহিম ও রাজিবুল হক পান্থ।

ভুক্তভোগী ফয়সাল হক সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস আগে আমি হল ছেড়ে দিয়েছি। এরপর হলের এনামুল হক (পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী) আমাকে নানাভাবে হুমকি দেয় যেন ক্যাম্পাসে আমি না আসি। এর আগে একবার ক্যাম্পাসে আসায় এনামুল আমার মোটরসাইকেল আটকে রাখে। সেই জেরেই আজ ক্যাম্পাসে এসেছি বলে তার অনুসারীদের দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে।

তবে এনামুল হকের দাবি, তিনি ও তার অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের কেউ এ ঘটনার জড়িত নয়। এনামুল হক বলেন, ফয়সাল হল থেকে আগেই বিতাড়িত হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু ঘটনার কারণে সে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত। এসব কারণে সে আমাদের উপর দোষারোপ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, মারধরের ঘটনার অভিযোগপত্র পেয়েছি। নিয়মানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুবি ছাত্রলীগ নেতাকে চিনতে না পারায় পিটিয়ে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাকে চিনতে না পেরে তুমি বলে সম্বোধন করায় মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জুনিয়র শিক্ষার্থী। এ সময় তার চোখেও আঘাত করে মারাত্মক জখম করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সেলিম মিয়ার দোকানে চা পান করতে গেলে ১৩তম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর রহমানকে পরিচয় জিজ্ঞেস করেন।

পরিচয়ের একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকে চিনতে না পেরে ‘তুমি’ সম্বোধন করেন আনিছুর। এ ঘটনায় ওয়াকিল আহমেদ ও তার বন্ধুরা দোকানের পেছনে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কাকুতি-মিনতি করলে মারধরের মাত্রা আরও বাড়িয়ে চোখে আঘাত করেন ছাত্রলীগ নেতা ওয়াকিল।

একপর্যায়ে তার চোখে আঘাত করলে সে কিছু দেখতে না পেয়ে চিৎকার করতে থাকে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে সহপাঠীরা এসে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান বলেন, আমাকে ওয়াকিল ভাই পরিচয় জিজ্ঞেস করলে আমি আমার পরিচয় দেই। পরে মিরাজ নামের একজনের নাম জিজ্ঞেস করলে, আমি বলি মিরাজ কি তোমার বন্ধু৷ এতে আমার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়৷ পরে আমাকে দোকানের পিছনে নিয়ে মারধর শুরু করে।’

অভিযুক্ত ওয়াকিল আহমেদ বলেন, ওই ছেলে সিগারেট খেয়ে আমার মুখের উপর ধোঁয়া ছেড়েছিল৷ আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে ও আমার মা-বাবাকে গালি দেয়। এসময় তার সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারপরে কি হয়েছে আমি জানি না। সে হয়তো দৌড়ে পালাতে গিয়ে চোখে ব্যথা পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করা অন্যায়। বিষয়টি জেনে আমরা সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেই ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে দেখতে এসেছি। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আগামীকাল প্রক্টরিয়াল টিম বসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন বলেন, আমি প্রক্টরের সাথে কথা বলেছি। প্রক্টর রিপোর্ট দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশের নারীরা

হ্যামিল্টনে ভারতের বিপক্ষে নারী বিশ্বকাপের ম্যাচে ১১০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সামনে ২৩০ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১১৯ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশের নারী দল।

২৩০ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৫ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে কেবল যুক্ত হয় ১২ রান। এই চাপের মধ্যে নিজের উইকেট দিয়ে আসেন শারমিন আক্তার। গায়কোয়াডের অফ স্টাম্পের বাইরের বল প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা স্নেহা রানার হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

ওয়ানডাউনে খেলতে নামা ফারজানা হক ১১ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি। পূজা বস্ত্রাকারের বলে এলবডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান ফারজানা। অধিনায়ক নিগার সুলতানাও ১১ বলে ৩ রান করে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান।

এর মাঝে এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ছক্কা হাঁকান মুর্শিদা খাতুন। এই ওপেনার ৫৪ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের পক্ষে এর পর হাল ধরেন সালমা খাতুন ও লতা মণ্ডল।

দুজন মিলে ৪০ রানের জুটি গড়েন। ৪ চারে ৩৫ বলে ৩২ রান করে সালমা আউট হলে এই জুটি ভেঙে যায়। ঝুলান গোস্বামীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ৪৬ বলে ২৪ রান করে ফেরেন লতা মণ্ডল।

এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৪ রান যোগ করেন ভারতের দুই ওপেনার। মারমুখী শেফালি ভার্মা জাহানারা আলমের এক ওভারেই হাঁকান তিন চার। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন ধীরে ধীরে ফসকে যাচ্ছে তখনই বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান নাহিদা আক্তার।

তার শট বল পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন স্মৃতি মান্দানা। ৩ চারে ৫১ বলে ৩০ রান করেন তিনি। পরের ওভারের তৃতীয় বলেই ভয়ঙ্কর হতে থাকা শেফালিকে ফেরান রিতু মনি।

এগিয়ে এসে তার বল খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। ৪২ বলে ৪২ রান করেন শেফালি। এরপর মিতালি রাজকে একেবারেই শূন্যরানেই সাজঘরের পথ দেখান রিতু।

ইয়াশকিতা ভাটিয়ার সঙ্গে এর পর ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেছিলেন হারমানপ্রিত কার। কিন্তু তাকে দুর্দান্তভাবে রান আউট করেন ফারজানা হক। ৩৩ বলে ১৪ রান করেন তিনি। তার সঙ্গী ভাটিয়া অবশ্য তুলে নেন ফিফটি।

৮০ বলে ৫০ রান করা এই ব্যাটারকেও ফেরান রিতু। নাহিদা আক্তারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মাঝে ঝিমিয়ে পড়া ভারতের ইনিংসকে শেষদিকে আবারও জাগিয়ে তুলেন পূজা বস্ত্রাকার ও স্নেহা রানা।

২৩ বলে ২৭ রান করে শেষ ওভারে জাহানারা আলমের বলে স্নেহা সাজঘরে ফেরত গেলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন পূজা। ২ চারে ৩৩ বলে ৩০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ ওভার বল করে ৩৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন পূজা। এছাড়া নাহিদা ২ ও জাহানারা নেন একটি উইকে