বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 281

জামিন পেলেন এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান

কুমিল্লার চান্দিনায় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীদের ওপর গুলি করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৭ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে দুদফা জামিন আবেদন করেও পাননি রেদোয়ান।

৯ মে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও পৌর এলডিপি পালটাপাল্টি ঈদপুনর্মিলনীর আয়োজন করে। ছাত্রলীগ কর্মীরা রেদোয়ান আহমেদের গাড়িতে তরমুজ ছুড়লে রেদোয়ান আহমেদ গাড়ির জানালা খুলে পরপর দুটি গুলি করেন। এতে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তিনি থানায় আশ্রয় নিয়ে গ্রেফতার হন।

থামছে না টাকার অবমূল্যায়ন

ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কমানোর পর থেকে প্রতিদিনই কমছে টাকার মান, বাড়ছে ডলারের দাম। এতে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা সীমিতভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা।

সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভোক্তারা। টাকার মান কমে যাওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। বাড়ছে পণ্যের দাম। সব মিলে অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এটা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আপাতত নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না কবে নাগাদ টাকার অবমূল্যায়নে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। গত ছয় মাসে ১২ দফায় টাকার মান কমানো হয়েছে। এক বছরে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা। অর্থাৎ ডলারের দাম বেড়েছে ৮ টাকা।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ডলারের দাম আরও বেড়েছে। গড়ে প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা। অর্থাৎ ওই হারে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোতে আমদানির জন্য প্রতি ডলার গড়ে বিক্রি হয়েছে ৯৩ টাকা করে। আন্তঃব্যাংকে ডলার লেনদেন হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আগের দিন ডলার বিক্রি হয় ৯২ টাকা করে। ডলারের একক দর গত বৃহস্পতিবার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৯ মে থেকে ডলারের একক দর কার্যকর করা হয়। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কম থাকায় একক দর চার দিনের বেশি ধরে রাখতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ডলারের দামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে নেয়। এতে ওই দিনই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৩৫ পয়সা। গত রোববার কমেছে ৪০ থেকে ৬০ পয়সা।

সোমবার কমেছে ২ টাকা ১০ পয়সা। মঙ্গলবার কমল ১ টাকা। অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের পর থেকে প্রতিদিনই কমেছে। এ সপ্তাহে ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে। কমতে পারে টাকার মান।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৮ টাকা। অর্থাৎ ডলারের দাম ৮ টাকা বেড়েছে। গত বছরের ১ জুলাই প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা করে।

মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ৯৩ টাকা করে। ওই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। অথচ বছরের শুরুতে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১ থেকে ২ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল। গত অর্থবছরে টাকার মান কমেছিল দেড় শতাংশ। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল ছিল। গত বছরের আগস্ট থেকে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। গত মার্চ থেকে ডলার সংকট শুরু হয়। এপ্রিলে এসে সংকট বাড়ে। মে মাসে প্রকট আকার ধারণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে ডলার দেওয়া হবে। রিজার্ভ রাখাই হয় জরুরি প্রয়োজন মেটাতে। এখন জরুরি প্রয়োজন হয়েছে তাই ডলার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। আশা করা যায় রেমিট্যান্স বাড়লে ধীরে ধীরে এ সংকট কেটে যাবে।

আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম দীর্ঘদিন ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা ছিল। গত বছরের জুলাই থেকে ৫ পয়সা করে দাম বাড়তে থাকে। বছর শেষে তা ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়ায়। গত জানুয়ারির শুরুতে ডলারের ২০ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা হয়।

২৩ মার্চ আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম আরও ২০ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় ওঠে। ২৭ এপ্রিল এর দাম ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায় দাঁড়ায়। ৯ মে ডলারের দাম ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় হয়। গত ১৬ মে আরও ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতি ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়ায়। ২৩ মে এর দাম ৪০ পয়সা বেড়ে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা হয়। এর পর ১ টাকা ১০ পয়সা দাম বেড়ে ৮৯ টাকা হয়।

আন্তঃব্যাংকে বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারেও দাম বাড়তে থাকে। গত ৪ জানুয়ারি আমদানির জন্য ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করেছে ৮৬ টাকা করে। ১ ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা হয়। ২৩ মার্চ তা আরও বেড়ে ৮৬ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। এভাবে ২৭ এপ্রিল ৮৬ টাকা ৮০ পয়সা, ৯ মে ৮৭ টাকা, ১৬ মে ৮৭ টাকা ৮০ পয়সা, ২৩ মে ৮৮ টাকা ১০ পয়সা, ২৬ মে ৮৯ টাকা, ২ জুন ৯১ টাকা ৩৫ পয়সা, ৫ জুন ৯১ টাকা ৫০ পয়সা, ৬ জুন ৯২ টাকা, ৭ জুন ৯৩ টাকা দরে ডলার বিক্রি হয়।

সূত্র জানায়, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে ৪৪ শতাংশ। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়েনি। রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৪ শতাংশ ও রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ শতাংশ।

বর্তমানে প্রতি মাসে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাত মিলিয়ে গড়ে ৯৫০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ মিলিয়ে ৭৪০ থেকে ৭৫০ কোটি ডলার পাওয়া যায়। এতে প্রতি মাসে ঘাটতি থাকে ২১০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলার। মাসে গড় ঘাটতি দাঁড়ায় ২৩০ কোটি ডলার।

ওই ঘাটতি মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার দেওয়া হচ্ছে। এতে রিজার্ভের স্থিতিও কমছে। গত জুনে রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। এখন তা কমে ৪ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ থেকে খুব বেশি দিন ডলারের জোগান দেওয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার রেমিট্যান্স বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে পাইপলাইনে যেসব বৈদেশিক সহায়তা আটকে রয়েছে সেগুলোও ছাড় করানোর প্রচেষ্টা চলছে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস রপ্তানি আয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মে মাসে রপ্তানি আয় কম এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগাম পূর্বাভাস দিয়েছে আগামী জুলাই থেকে রপ্তানির আদেশ কমে যেতে পারে।

ফলে রপ্তানির কাঁচামাল আমদানিও কমবে। এর প্রভাব পড়বে আগামী অক্টোবর থেকে। রপ্তানি আয় কমে গেলে তা হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। কেননা এখন রপ্তানি আয় বাড়ছে, রেমিট্যান্স কমছে, তারপরও ডলার বাজার সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। দুটোই কমতে থাকলে বাজারে কী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত।

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির শোক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ শোক জানান মোদি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং।

চিঠিতে মোদি তার সরকার এবং ভারতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।

চিঠির শেষে নরেন্দ্র মোদি আবারও তার সরকার ও ভারতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন তিনি।

হজ ফ্লাইট শুরু আজ

হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট শুরু করার জন্য প্রস্তুত রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্প। শুক্রবার থেকে হজক্যাম্পে আসতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। আজ সকাল ৯টায় ৪১৫ জন যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এবার হজক্যাম্পে তেমন চাপ নেই। এরই মধ্যে কয়েকশ’ হজযাত্রী ক্যাম্পে এসেছেন । সুন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন হজযাত্রীরা।

রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত প্রথম ফ্লাইটে যেসব হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন তারাই প্রথমে হজক্যাম্পে আসেন। হজযাত্রীরা হজক্যাম্পে অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এবারের হজযাত্রীর সংখ্যা অন্যবারের চেয়ে অর্ধেকের কম। আশা করি সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবাই সৌদি আরব পৌঁছতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে এবার হজে যেতে ১২৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ বিমান ৬৫টি, সাউদিয়া ৫১টি, ফ্লাইনাস ১২টি ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহণ করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৮ জুলাই (৯ জিলহজ) সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোন। এ ছাড়া সার্বিক শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন রোভার স্কাউট সদস্যরা। হজক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ১৭টি পোস্টে প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন। হজক্যাম্পের দোতলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল সেন্টার ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের হজ বুথ।

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন হজক্যাম্পে আগত হাজীদের ভিসা, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। করোনা মহামারির কারণে গত দুুই বছর বাংলাদেশে থেকে কেউ হজে অংশ নিতে পারেননি। এবার হজে সারা বিশ্বের ১০ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জনসহ সর্বমোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।

স্পেনে ৩৫ দেশের অভিবাসীদের নিয়ে উৎসব ‘প্রবাসে আনন্দের একদিন’

স্পেনের জাতীয় জাদুঘর ‘রেইনা সুফিয়া’ পরিচলানা কমিটির আমন্ত্রণে ‘প্রবাসে আনন্দের একদিন’ শিরোনামে এক উৎসবে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

রোববার (৫ জুন )দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে অবস্থিত জাদুঘরটির পার্কে বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন ‘ভালিয়েন্তে বাংলা’সহ অন্যান্য দেশের একাধিক সংগঠন প্রতি বছরের মতো এ বছরও আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আয়োজন করে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের। আয়োজনটি উপস্থিত সবাইকে কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও আপ্লুত করে। বাংলাদেশিদের অনেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন লুঙ্গি, ফতুয়াসহ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে।

উৎসবে ছিল নারীদের পিঠা প্রতিযোগিতা, প্রবাসী শিল্পীদের নাচ-গান সঙ্গে ছিল উৎসবে অন্যান্য দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। সেনেগালের পারসিউশনিস্টলা রুয়েদা, কলম্বিয়া সংগীত ডেসি মেসিয়াস গার্সিয়া, কলম্বিয়ান নাচ এবং বিদেশিদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশিদের বালিশ খেলা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রেইনা সুফিয়া জাদুঘরের প্রধান পরিচালক ম্যানুয়েল বোরজ-ভিল্লে, প্রবাসীদের প্রশংসা করে জাদুঘরের কার্যক্রমের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনার পাশাপাশি স্পেনের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন। স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে দেশের সম্মান বজায় রাখতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, প্রবাসে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়িয়ে তোলা ও নিজ দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এটা একটা বড় প্লাটফরম। আমরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ-উপভোগের সঙ্গে সব দেশের অভিবাসীদের কাছে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরেছি।

উৎসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি আল মামুন বলেন, ভিনদেশিদের কাছে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সঙ্গে একে অপরের পরিচয় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টির উপলক্ষ হিসেবে কাজ করবে জাদুঘরের এ অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশি নারী নেত্রী আফরোজা রহমান বলেন, অনেক দিন পর একটি সুন্দর দিন কাটলো মাদ্রিদে বসবাসরত সব দেশের অভিবাসীদের। আমরাও সুযোগ পেলাম বাংলাদেশকে তুলে ধরার।

এতে যোগ দেন বাংলাদেশ, আফ্রিকা, আলজেরিয়া, মরক্কো ও কলম্বিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রবাসীরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন ‘ভালিয়েন্তে বাংলা’সহ ৩৫টি মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা বলেন, নতুন এই স্বাস্থ্য আইনে বৈধ এবং অবৈধ অভিবাসীরা ভিবিন্নভাবে শোষিত হচ্ছে। তারা নতুন এই স্বাস্থ্য আইন বাতিল করে সবার উন্মুক্ত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানান।

রেইনা সুফিয়া মিউজিয়ামের প্রধান পরিচালক ম্যানুয়েল বোরজ-ভিল্লে, ব্যস্থাপনা পরিচালক মাবেল তাপিয়া, রাফায়েল পিমেন্টেল, বাংলাদেশ আসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি আল মামুন, ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী, রেড ইন্টার লাভাপিসের পেঁপা তররেস, রেড সলিদাদের নিনেস, সেন্ট্রো দে ডোমেস্টিকর রাফায়েল, আনা লঙ্গোনি, আলিসিয়া, মাইতে, ট্রেরেতীরিয় ডমেস্টিকের রাফা, ওলা ভেসিনোর লুসিয়া ও মারিয়া দে সোনিয়া ‘ভালিয়েন্তে বাংলার’ সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, নারীনেত্রী আফরোজা রহমান, তানিয়া, সামাদ, গিয়াস, মনসুর, কামাল উপস্থিতি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন করেন প্রবাসী সংগীত শিল্পী লোকমান হেকিম, বিপ্লব খান, একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

মাদ্রিদে বসবাসরত অভিবাসীদের নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর এ আনন্দ উৎসবের আয়োজন করে আসছে রেইনা সুফিয়া জাদুঘর পরিচলানা কমিটি। রেইনা সুফিয়া জাদুঘরকেন্দ্রিক ৩৫টি মানবাধিকার সংগঠন একত্রিত হয়ে অভিবাসীদের দাবি দাওয়া নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মিশিগানে আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগ।
রোববার (৫ জুন) বিকালে হ্যামট্রামিক শহরের বাংলা টাউনের কনান্টে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় একটি রেস্টুন্টে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস শাকুর খান মাখনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুতালিবের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন- মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজাদ খান, সালেহ আহমদ বাদল, আব্দুল মালিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমদ, প্রচার সম্পাদক শুয়েব খান, দপ্তর সম্পাদক নুরুল হাসান পারভেজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খচ্ছরু, মানবাধিকার সম্পাদক মোহাম্মদ এনামুল হক, সদস্য হারুন আলী, তাহের উদ্দিন লুৎফুর, সাজন চৌধুরী, জুবায়ের আহমদ, শামসুল হুদা পাশা, শেখ সেবুল আহমদ, মারুফ খান, ইয়ান উদ্দিন প্রমুখ।
আরও বক্তব্যে রাখেন- মিশিগান স্টেট যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আজিজ সুমন, সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুদোজা জুনেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমদ চৌধুরী, সদস্য আনোয়ার হোসেন, কাজী নাঈম, মিশিগান স্টেট স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ইজাজুল হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব হামিদ খান, মিশিগান স্টেট ছাত্রলীগ নেতা জিসান আহমদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে দিয়েছেন আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বিএনপি ও ছাত্রদল ৭৫ সালের ঘটনা ঘটানোর হুমকি দেয়। আওয়ামী লীগ সৈনিকেরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত আছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে হবে। বিএনপির ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

ভালো ঘুমের জন্য যা প্রয়োজন

আমাদের দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুম আমাদেরকে সক্রিয় ও সতেজ করে তোলে। সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর ঘুম বলতে প্রতি রাতে একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমকে বুঝানো হয়। একে অনেকে ঘুমের পরিমাণ হিসাবে ধরে নেয়। যদিও ঘুমের পরিমাণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি ভালো ঘুমের জন্য এর পরিমাণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো গুণগত মান। নিয়মিত আরামদায়ক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘুম আমাদের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন রাজধানীর ইনজিনিয়াস পালমো ফিটের স্লিপ কনস্যালট্যান্ট ডা. ফাতেমা ইয়াসমিন

ঘুমের পরিমাণ কী?

ঘুমের পরিমাণ বলতে বোঝায় আপনি প্রতি রাতে কত ঘণ্টা ঘুমান। বয়সভেদে মানুষের ঘুমের সময় তারতম্য হয়।

* বয়স : ঘুমের চাহিদা (২৪ ঘণ্টায়)

* নবজাতক (০-৩ মাস) : ১৪-১৭ ঘণ্টা

* শিশু (৪-১২ মাস) : ১২-১৬ ঘণ্টা

* বাচ্চা (১-২ বছর) : ১১-১৪ ঘণ্টা

* প্রি-স্কুল (৩-৫ বছর) : ১০-১৩ ঘণ্টা

* স্কুল বয়সের শিশু (৬-১২ বছর) : ৯-১২ ঘণ্টা

* কিশোর (১৩-১৮ বছর) : ৮-১০ ঘণ্টা

* প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৬৪ বছর) : প্রতি রাতে ৭-৯ ঘণ্টা

* প্রাপ্তবয়স্ক (৬৫+ বছর) : প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা

এটি একটি সাধারণ নির্দেশিকা করা হয়েছে। এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের তাদের বয়সের জন্য প্রস্তাবিত পরিমাণের চেয়ে বেশি বা কম ঘুমের প্রয়োজন। এমনকি কিছু নিয়মের ব্যতিক্রমগুলো বিবেচনা করেও এমন অনেক লোক রয়েছে যারা নিয়মিত তাদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঘুমায় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়ন আমেরিকানরা কোনো না কোনো ধরনের ঘুমের রোগে ভুগছেন এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি রাতে প্রয়োজনীয় সাত ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুমায়। অপর্যাপ্ত ঘুমে সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং জটিল রোগের ঝুঁকিগুলোও দেখা যায়। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাব আমাদের মস্তিষ্কের উপর সরাসরি পড়ে। হার্ভার্ড মেডিকেলের গবেষণায় দেখা গেছে যারা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে আমাদের শরীরে কর্টিসল নামক একটি হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে আমাদের উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের উচ্চ মাত্রার গ্লুকোজের উপর। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং দ্রুত মুড পরিবর্তন হয়।

ঘুমের গুণগত মান কী

ঘুমের গুণমান বলতে বোঝায় আপনি কতটা ভালো ঘুমান।

সঠিক মানের ঘুমের জন্য রয়েছে ৫টি উপকরণ :

* ঘুমিয়ে পড়ার সময় : আপনি কত দ্রুত এবং কত সহজেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ বিছানায় যাওয়ার ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হয়।

* ঘুমের ধারাবাহিকতা বজায় : একবার ঘুমিয়ে পড়লে একটানা আপনার ঘুমিয়ে থাকার ক্ষমতা। ভালো মানের ঘুম হয় ক্রমাগত, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় না।

* ঘুমের কার্যকারিতা : ঘুমের কার্যকারিতা মানে আপনি কতটা সময় ঘুমিয়েছেন বনাম আপনি কতটা সময় ঘুমানোর জন্য বিছানায় কাটিয়েছেন। সঠিক মানের ঘুমের জন্য ঘুমের কার্যকারিতা মোট সময়ের অন্তত ৮৫ শতাংশ মানদণ্ড হিসাবে ধরা হয়।

* ঘুমের সময় : ঘুমের সময় বলতে বোঝায় যখন প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি নির্দেশ করে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং জেগে ওঠা।

* ঘুমের তৃপ্তি : ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ লাগা ও সারা দিন উদ্যমী থাকা। এভাবে ঘুমের পরিতৃপ্তি পরিমাপ করা হয়।

খারাপ মানের ঘুমের ক্ষতি কী?

খারাপ মানের ঘুমের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর স্বাস্থ্য ঘাটতি দেখা যায়। যেমন-কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া প্রবণতা, মনোযোগ কমে যাওয়া, মানসিক চাপ বৃদ্ধি, বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ দেখা দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হচ্ছে অথবা খিটখিটে মেজাজ নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা, সারা দিন ক্লান্তি ভাব থাকা, দিনের বেলা ঘুমানো, দিনে অনেক বেশি ঘুমানো। এ ছাড়া ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কলস্টেরল, হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হয়।

রাতের আরামদায়ক ঘুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ঘুমের কিছু চিহ্ন আছে। যেমন-

* সকালে ঘুম থেকে উঠেই সতেজ অনুভূতি

* সারা দিন সতেজ থাকা

* ভালো মেজাজে থাকা

* পরিষ্কার-মাথা অনুভব করা

কীভাবে ঘুমের পরিমাণ এবং গুণগত মান উন্নত করা যায়

ভালো ও স্বাস্থ্যকর ঘুম পেতে আপনি যে পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন তার মধ্যে রয়েছে-

* ঘুমের সমস্যা নির্ণয় করা : আপনি যদি মনে করেন যে আপনার ঘুমের সমস্যা আছে যা আপনার ঘুমকে প্রভাবিত করছে, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

* জীবনযাত্রায় পরিবর্তন করুন : যদিও আপনার জীবনের কিছু অংশ অন্যদের তুলনায় পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে, আপনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন যা সম্ভবত আপনার ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে এবং আপনার ঘুমকে ব্যাপকভাবে উন্নত করতে পারে। যেমন-নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন বাদ দিন।

* ঘুমের পরিবেশ নিশ্চিত করুন : বেশিরভাগ লোক তাদের ঘুমের পরিবেশের গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করেন। যদিও প্রত্যেকেরই নিজস্ব পছন্দ রয়েছে, মানুষ সাধারণত অন্ধকার, শান্ত, আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমাতে পছন্দ করে।

* ফোন ও ট্যাব বন্ধ : গবেষণায় দেখা গেছে শোওয়ার সময় ফোনের ব্যবহার ঘুমের ব্যাঘাত হয়। বিছানায় ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করায়, ঘুমের সময়ের গতি হারাতে পারেন এবং আপনার প্রকৃত শোওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে দেরি হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস কীভাবে প্রয়োগ করবেন তা আপনি নিশ্চিত না হলে, আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

যেসব খাবারে অবসাদ দূর হয়

ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অফিসের যেকোনো কারণে আপনার মধ্যে অবসাদ ভর করতে পারে। অনেক সময় কাজের চাপেও এমনটি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই ডিপ্রেশন বিষিয়ে দেয় জীবন।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনলে অবসাদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো সেসব খাবার সম্পর্কে জানিয়েছেন।

* ম্যাগনেশিয়াম : অবসাদের লক্ষণের মধ্যে অন্যতম হলো হালকা অমনোযোগিতা ও আত্মহনণের ইচ্ছা। এটা ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে হতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারে মন ভালো থাকে ও উন্নত হয়। এ জন্য খেতে হবে মিষ্টিকুমড়া, সূর্যমুখীর বিচি, তিসির বীজ, আলমন্ড, কাজুবাদাম, বিনস, ডাল, মাসকলাই, সয়াবিন, গাঢ় সবুজ শাক যেমন পালংশাক এবং গোটা শস্য।

* ভিটামিন সি : এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা সাধারণ ঠান্ডা উপশম করে। এ ছাড়া হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করে মনকে ঠিক রাখে। এগুলো হলো নিউরোট্রান্সমিটার ও নরইপিনেফ্রিন। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি যেমন-স্ট্রবেরি, বেলপেপার, তরমুজ, আনারস, জাম, টমেটো, গাঢ় সবুজ শাকসবজি অথবা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে।

*মেডিটেরিয়ান ডায়েট: এক গবেষণায় দেখা গেছে মেডিটেরিয়ান ডায়েট অবসাদ বা ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে। মেডিটেরিয়ান ডায়েটে প্রাধান্য পায় মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি।

* ভিটামিন বি : বি এবং ফলিক অ্যাসিড ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দেয়। আমাদের মুডকে নিয়ন্ত্রণ করে ও মস্তিষ্কে সংবাদ পৌঁছে দেয়। সব বি-ভিটামিনই এ কাজ করে থাকে। ফলিক অ্যাসিড ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি তৈরি করে। এটা গামা এমাইনো বিউটাইরিক অ্যাসিড-এর ওপর কাজ করে সেরোটোনিন ও ডোপামিন-এ ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যদি নিু মাত্রায় নিউরোট্রান্সমিটারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে অবসাদ ও অন্যান্য মুডকে বিশৃঙ্খল করে থাকে।

*মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, বাদাম, তেল, কাজু বাদাম, সরিষার তেল। পর্যাপ্ত ওমেগা ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায় মাছ, বাদাম এবং ডাল থেকে।

মাংস ও এলকোহল এ সময় বাদ দেওয়াই ভালো।

এছাড়া শারীরিক ব্যায়ামেও অবসাদ দূর হবে।

* ব্যায়াম : প্রতিদিন ৩০-৫০ মিনিট ব্যায়াম ডিপ্রেশন বা অবসাদ কমাতে সাহায্য করে। এটা মন ভালো করার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ এবং ক্যানসার প্রতিরোধ করে। যখন আমরা ব্যায়াম করি, আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এটি আমাদের প্রশান্তি দেয়, আমাদের শরীর থেকে রাসায়নিক নিঃসরণ হয় যা আমাদের ভালো অনুভূতি দেয়।

* মেডিটেশন : শক্তিশালী মন ও শরীরের সংযোগ আমাদের প্রশান্তি ও সুখভাব অনুভবে সাহায্য করে। মেডিটেশনের জন্য প্রয়োজন নিরিবলি, একলা, আরামদায়ক ভঙ্গি ও সহজ শ্বাস-প্রশ্বাস। এর মাধ্যমেই নির্দিষ্ট জিনিসের ওপর ছায়া ফেলে মনোযোগী হতে হবে। বাস্তব এবং জাগতিক বিষয় ভুলে একাগ্রচিত্তে প্রতিদিন ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

* যোগব্যায়াম : ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সেন্ট্রাল হেলথের মতে ৭৩ শতাংশ লোক যোগব্যায়ামের মাধ্যমে অবসাদ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। এ ছাড়া মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করলে ভালো থাকা যায়।

পিইসি পরীক্ষাও হচ্ছে না

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার মতো এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও হবে না। করোনার কারণে গত দুই বছরও এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান সোমবার এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, গত দুই বছরের মতো এ বছরও জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হবে না। নতুন শিক্ষাক্রমেও এসব পরীক্ষার কথা নেই।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে নতুন কারিকুলাম শুরু হবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যায়ে শুরু হবে ২০২৪ সালে। ফলে আগামী বছরও পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

গত ৩০ মে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে প্রণয়ন করা প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের নতুন কারিকুলামের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) যৌথ সভায় এ রূপরেখার অনুমোদন দেওয়া হয়।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণির আগে কোনো ধরনের পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের বিধান না থাকায় চলতি বছর থেকেই এ পরীক্ষাটি বন্ধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পিইসি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ!

রংপুর মহানগরীর পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারার বিরুদ্ধে মেডিকেল শিক্ষার্থীকে রুমে আটকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই কাউন্সিলরসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নামে মামলা করেছেন।

এ ঘটনায় রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশসহ অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কাউন্সিলর হারাকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ার দেন তারা।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা হারাধন রায় মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কুকরুলের বাসিন্দা রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৬ ব্যাচের ছাত্র চন্দন কুমার বর্মণ তার বোনকে নিয়ে সোমবার দুপুরে ভোটার নিবন্ধনের কাজে রংপুর সিটি করপোরেশনে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে কাউন্সিলর হারাধন রায় হারার কাছে প্রত্যয়ন চান তারা।

এ সময় কাউন্সিলর হারা রমেক ছাত্র চন্দন ও তার বোনকে রোহিঙ্গা, অন্য জেলায় অপরাধ করে রংপুর নগরীর বাসিন্দা হওয়ার অপচেষ্টা করছে বলে তাচ্ছিল্য করেন। সেই সঙ্গে প্রত্যয়ন দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কাউন্সিলের কথার প্রতিবাদ করলে ওই ছাত্রের সঙ্গে কাউন্সিলরের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর চন্দন ও তার বোন সিটি করপোরেশন থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে কাউন্সিলর হারাধন ও তার লোকজন চন্দনের কলার টেনে চড়-থাপ্পড়সহ গালিগালাজ করেন। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে গেলে চন্দনের বোনের শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ চন্দনকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে কাউন্সিলর ও তার লোকজন- এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সিটি করপোরেশনে গিয়ে চন্দন ও তার বোনকে উদ্ধার করে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসসহ মেডিকেল মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ মহাসড়ক অবরোধ করে কাউন্সিলর হারাধনের শাস্তির দাবি জানান।

পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা রংপুর মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বিমল রায়কে স্মারকলিপি দেন। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা না হলে কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চন্দন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় কাউন্সিলর হারাধন হারাসহ ১৫-২০ অজ্ঞাতদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

তবে মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারাধন রায় হারা বলেন, তারা আমার কাছে নাগরিক সার্টিফিকেট নিতে আসছিল। মেয়েটির কথাবার্তা সন্দেহ হলে আমি তাকে প্রত্যয়নপত্র দেইনি। এ নিয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) হোসেন আলী। তিনি বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্র চন্দন রায় কাউন্সিলর হারাধনের নামসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।