রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 255

কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী বাবুল

দুবাইয়ের কেমিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা বরিশালের বানারীপাড়ার যুবক প্রবাসী বাবুল মোল্লার (৩২) লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।

মৃত্যুর এক মাস ছয় দিন পর বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আসে।

এ সময় পরিবারের উপার্জনক্ষম প্রবাসী বাবুলের কফিন দেখে ক্যান্সারে আক্রান্ত বৃদ্ধ মা বিউটি বেগম ও শারীরিকভাবে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা মো. ইউসুফ মোল্লা, স্ত্রী সুমি বেগম ও একমাত্র মেয়ে জান্নাতুলসহ (৭) স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও দুবাই প্রবাসী মো. বাবুল মোল্লার ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, বাবুল মোল্লা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ফ্রি ভিসায় দুবাইয়ের বিভিন্ন কোম্পানিতে পার্টটাইম কাজ করে আসছিলেন। ১৬ মে তিনি দুবাইয়ের একটি কেমিক্যাল কোম্পানিতে পার্টটাইম কাজ করার সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মুত্যুবরণ করেন।

খবর পেয়ে দুবাইয়ে থাকা তার বড় ভাই মো. শাহাদাত হোসেন মোল্লা সেখানে গিয়ে ছোট ভাই বাবুল হোসেন মোল্লার লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় অগ্নিদগ্ধ ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রবাসী বাবুল হোসেন মোল্লার পরিবারকে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রবাসী বাবুল মোল্লার লাশ দেশে পাঠাতেও কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি।

পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের দুবাইয়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ও নিজস্ব অর্থায়নে বুধবার সকাল ৭টায় প্রবাসী বাবুলের লাশ ঢাকা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাবুলের লাশ দাফন কাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার একটি চেকসহ লাশের কফিন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাবুলের ভগ্নিপতি আরও জানান, দুবাইয়ে ওই কেমিক্যাল কোম্পানির পক্ষ থেকে বাবুলের পরিবারকে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুবাই প্রবাসী বাবুলের পরিবারকে আর্থিকভাবে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

লিসিচানস্কে ইউক্রেন সেনাদের ঘিরে রেখেছে রাশিয়া

স্বঘোষিত লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের (এলপিআর) মস্কো সমর্থিত সেনারা লিসিচানস্কের দক্ষিণে ইউক্রেন সেনাদের ঘিরে রেখেছে।

বুধবার স্বঘোষিত লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক এ তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এলপিআর বলেছে, প্রায় এক হাজার ৩০০ ইউক্রেনীয় সেনা এবং বিদেশি ভাড়াটে সেনা লিসিচানস্কের দক্ষিণে অবস্থিত হিরস্কে এবং জোলোট এলাকায় রাশিয়ান বাহিনীর আঁটসাঁট বলয়ে পড়েছে।

তাসের এলপিআর থেকে একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে, তার বাহিনী লিসিচানস্কের প্রায় ১২ কিলোমিটার (৭.৫ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে ভলচেয়ারভকা গ্রাম দখল করেছে।

সত্য হলে, লিসিচানস্কে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

সূত্র: আলজাজিরা

খারকিভে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে ২৫ জন নিহত

খারকিভে রুশ বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গল ও বুধবার রাশিয়ার হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনহুবভ।

তিনি বলেন, রাশিয়ানরা ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের আবাসিক জেলা এবং খারকিভ অঞ্চলের শহরগুলোতে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ান বেসামরিক লোকদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এটি প্রমাণ করে যে আমরা চের্নিহিভ বা কিয়েভের মতো একই পরিস্থিতি আশা করতে পারি না।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্তোভিচ একটি ভিডিও ভাষণে বলেন, রুশ বাহিনী জনসংখ্যাকে আতঙ্কিত করতে এবং ইউক্রেনকে সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে খারকিভে আঘাত করছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। প্রায় তিন মাসের যুদ্ধে দুদেশের বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

সংসদে মেডিটেশনের উপর ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব

প্রস্তাবিত বাজেট থেকে মেডিটেশনের উপর স্থায়ীভাবে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা সংসদে বলছেন, মেডিটেশন বা ধ্যান মানসিক স্বাস্থ্য সেবা হিসেবে বিবেচিত। স্বাস্থ্যসেবা যেহেতু ভ্যাটমুক্ত, তাই মেডিটেশনের উপর থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহার করাটা জরুরি।

চলতি বাজেট বক্তৃতায় ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, মেডিটেশনকে মানসিক স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিধায় একে করের বাইরে রাখা প্রয়োজন। কোভিড প্রতিক্রিয়ায় মানুষের মন যখন বিপর্যস্ত সেখানে মেডিটেশনের আশ্রয় নিলে তাকে বেশি মূল্য দিতে হবে কেন মাননীয় স্পিকার?

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান বলেছেন, মেডিটেশন সেবা মানসিক স্বাস্থ্য সেবা। স্বাস্থ্য সেবা ভ্যাটের আওতামুক্ত। মেডিটেশন সেবাকেও স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে স্থায়ীভাবে ভ্যাটের আওতামুক্ত করার আবেদন করছি।

পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, কোভিডের কারণে অনেকেরই অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। এই যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এটা নেওয়ার জন্য মেডিটেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ মেডিটেশনের ওপর আবার ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এই দুটি জিনিস পরস্পরবিরোধী হয়ে যাচ্ছে। একদিকে সিগারেটের উপর ভ্যাট কম হচ্ছে, কর কম হচ্ছে অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য চর্চার জন্য যে মেডিটেশন তার উপর আবার ভ্যাট বসানো হচ্ছে। আমি মনে করি, মানসিক স্বাস্থ্য থেকে ভ্যাট বসিয়ে ইনকামের যে টার্গেট নেওয়া হয়েছে সেই টার্গেটই যদি আবার সিগারেটের উপরে আরও চড়াও করে দেওয়া হয় তাহলে সে টার্গেটটা অন্তত পূরণ হবে। এই দুটো জিনিস মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে বিবেচনা করার জন্য মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে আবেদন করছি।

সোমবার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রহুল হক বলেছেন, মেডিটেশনে ট্যাক্স যুক্ত করা হয়েছে। সেটা কমিয়ে গতবারের মতো জিরো করার জন্য আমি আহ্বান জানাই।

খুলনা-৫ আসনের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ তার বক্তব্যে বলেন, মেডিটেশন পরে একটি শুল্ক ধার্য হতে যাচ্ছে। এ শুল্ক যাতে ধার্য্য না হয় সে দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়া সংসদের বাজেট বক্তৃতায় মেডিটেশনের উপর থেকে ভ্যাট আরোপ প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রস্তাব করেন বরিশাল-৪ এর পংকজ দেবনাথ এমপি।

প্রসঙ্গত, মেডিটেশন সেবার ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে। অথচ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের জন্যে প্রকাশিত উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসার গাইডলাইনে যৌথভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন জীবনধারা পরিবর্তনের পাশাপাশি মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম চর্চার কথা বলেছিল।

ঋণখেলাপি করার নীতিতে বড় ছাড়

নিয়মিত ঋণকে খেলাপি করার প্রচলিত নীতিমালায় আরও বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের কিস্তির আকার ও পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও ওই গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। শিল্প, কৃষি খাতে মেয়াদি ঋণ, চলতি মূলধন ঋণসহ সব ধরনের ঋণে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

করোনার নেতিবাচক প্রভাব, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও এটি আপলোড করা হয়েছে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে ঋণখেলাপি করার নীতিমালা শিথিল করার দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঋণ বা ঋণের কিস্তি ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধ করতে না পারলেও যাতে গ্রাহকদের খেলাপি করা না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।

সার্কুলারে বলা হয়, করোনার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এখনো মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আবার করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ সব ধরনের পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে ঋণগ্রহীতারা তাদের প্রদেয় ঋণের কিস্তির সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধ করতে পারছেন না। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখা ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঋণ পরিশোধের নীতিমালা করা হয়েছে।

বড় শিল্পে বিতরণ করা ঋণ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত থাকলে ওইসব ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে প্রদেয় কিস্তির কমপক্ষে ৫০ শতাংশ, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তির ৬০ শতাংশ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তির ৭৫ শতাংশ আলোচ্য ত্রৈমাসিকের শেষ কার্যদিবসে পরিশোধ করলে ওইসব ঋণকে খেলাপি করা যাবে না।

তবে এপ্রিল পর্যন্ত কোনো ঋণখেলাপি থাকলে তারা এ সুবিধা পাবেন না। কিস্তির বাকি অর্থ ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও এক বছর বাড়ানো যাবে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সমকিস্তি বা ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে কিস্তি নির্ধারণ করে তা পরিশোধ করা যাবে। ফলে মেয়াদি ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ল।

কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও কৃষি খাতে বিতরণ করা মেয়াদি ঋণ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত থাকলে সেগুলোর বিপরীতেও বিশেষ ছাড় মিলবে। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তির ২৫ শতাংশ জুনের মধ্যে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তির ৩০ শতাংশ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তির ৪০ শতাংশ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করলে তাদের খেলাপি করা যাবে না। তবে এপ্রিলে এ খাতের কোনো ঋণ খেলাপি থাকলে তারা এ সুবিধা পাবেন না।

এতে বলা হয়, ১ এপ্রিলে যেসব চলমান ঋণ নিয়মিত রয়েছে সেগুলো জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করলে ওই ঋণকে খেলাপি করা যাবে না।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যাকবলিত জেলা- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে কৃষিঋণ খেলাপি করার ক্ষেত্রেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ওইসব অঞ্চলে বিতরণ করা কৃষি ঋণের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করা না হলে কোনো গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না।

অতি ক্ষুদ্র, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিতরণ করা মেয়াদি ঋণের মধ্যে যেগুলো ১ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাহকরা কিস্তি পরিশোধে ছাড় পাবেন। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করলে ওই গ্রাহকদের খেলাপি করা যাবে না।

এ খাতের চলতি মূলধন ঋণের মধ্যে যেগুলোর মেয়াদ ইতোমধ্যে অতিক্রম হয়েছে, কিন্তু পরিশোধিত হয়নি বা খেলাপি হওয়ার পর নবায়নও করা হয়নি। ঋণের সীমাও অতিক্রম হয়ে গেছে। ওইসব ঋণের সীমার বেশি অংশ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করলে তা নবায়ন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে আরও বলা হয়, ওইসব নিয়মের মধ্যে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের ঋণকে যথানিয়মে খেলাপি করা যাবে। এ নীতিমালার আওতায় যেসব ঋণগ্রহীতাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তাদের ঋণের বিপরীতে ১ এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোনো দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি আদায় বা আরোপ করা যাবে না। বিশেষ সুবিধায় নবায়ন করা ঋণসহ অন্যান্য সময়ে নবায়ন করা ঋণের বিপরীতেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের আজ ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলটি এবার পা রাখছে ৭৪ বছরে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক দলটির যাত্রা শুরু হয়। পরে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটাতে এর নাম ‘আওয়ামী লীগ’ করা হয়।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। আর ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দ দুটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে। স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম ব্যবহার শুরু হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল।

জনগণই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির অর্জন এবং বাংলাদেশের সব উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, দলের নেতাকর্মীদের মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ ও দক্ষতায় আওয়ামী লীগ আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে।

ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৭ দশকের বেশি সময় ধরে গণমানুষের প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভাগ্যোন্নয়নে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ এই পথচলায় অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

যাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ সুদৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে এবং জনমানুষের আবেগ ও অনুভূতির বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘ পথচলা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু এ দেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনই নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারাও। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা।

১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে গণজাগরণে পরিণত হয়।

১৯৪৭ সালে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ভূখণ্ড, স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ মাস ২০ দিনের মধ্যে তখনকার তরুণ যুবনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠন করেন সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ।

এরই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার স্বামীবাগের কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে গঠন করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমানকে (কারাবন্দি ছিলেন) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় আওয়ামী (মুসলিম) লীগের প্রথম কমিটি।

১৯৫৫ সালে এই দল ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে। দলের নামকরণ হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।’ মুক্তিযুদ্ধের পরে পাকিস্তান শব্দটি বাদ গিয়ে দলটি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে কার্যক্রম শুরু করে।

এই আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাংলার জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন।

সেই ৬ দফা আন্দোলনের পথ বেয়েই ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ও ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সফল নায়ক ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন রাজনৈতিক দলটিকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর অনেকটা অস্তিত্ব সংকটেই পড়ে আওয়ামী লীগ।

দলের ভেতরেও শুরু হয় ভাঙন। এর মধ্যে আবদুল মালেক উকিল-জোহরা তাজউদ্দীনের দৃঢ়তায় সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে দলটি। ১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশে ফিরে এক দশক ধরে সারা দেশ ঘুরে দলকে সংগঠিত করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

কর্মসূচি : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-সূর্যোদয়ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন।

একই দিন সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আলোচনা সভা।

সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি পালনে আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব জেলা, উপজেলাসহ সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন।

২০০১-এ কেন ক্ষমতায় যেতে পারেননি, জানালেন শেখ হাসিনা

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল যে বাংলাদেশকে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে হবে।কিন্তু আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে বাংলাদেশের জনগণ এই গ্যাসের মালিক। তাই যখন আমার দেশের প্রয়োজন মিটবে, দেশের উন্নয়ন হবে, ৫০ বছরের গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হবে তখনই আমি বাড়তি গ্যাস বিক্রি করব।’

প্রধানমন্ত্রী বুধবার তার কার্যালয়ের শাপলা হলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীকে গ্যাসের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে বাংলাদেশের গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমার দোষ ছিল যে আমি আমার দেশের সম্পদ রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। সে কারণেই আমাকে ক্ষমতা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়। আমি যে কোনোভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হতে চাইনি।’তিনি আরও বলেন, তিনি জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান না।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সেই ব্যক্তি যিনি সামরিক স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, আন্দোলন করেছেন, জেল-জুলুম, বোমা, গ্রেনেড হামলা ইত্যাদি করেছেন। ‘আমি গণতন্ত্র রক্ষা করতে এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।’

২০০৯ সাল থেকে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে তা দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি) জন্য কান্নাকাটি করে লাভ নেই।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘বাংলাদেশে কি বিএনপির একজন যোগ্য নেতা নেই যাকে তারা দলের চেয়ারম্যান করতে পারে।’

সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল, যেটি গণমানুষের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্মস্থান কোথায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দুই দলই সামরিক স্বৈরশাসকদের দ্বারা অভ্যুত্থান ও সামরিক আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ৬-৭ সেপ্টেম্বর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে সেদেশে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র যুগান্তরকে বিষয়টি তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ও নয়াদিল্লি সময়সূচি নির্ধারণ করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী এতে মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী ৬-৭ সেপ্টেম্বর এই সফর হবে।

এর আগে গত ১৮ জুন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ পরামর্শক কমিশন-জেসিসি বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরদিন ১৯ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

সফর শেষে দেশে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগেই সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাবেন। দিল্লিও সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বৈঠক করবে। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন ২ দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও মন্ত্রী পর্যায়ের এ বৈঠক গত ১০ বছরে অনুষ্ঠিত হয়নি।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারত সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ত্রাণ পাচ্ছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ

সুনামগঞ্জে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও সিলেটে অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই জেলার শত শত বাড়িঘর, হাটবাজার, স্কুল, মসজিদ, মন্দির এখনো পানিতে ভাসছে। খাবার ও শিশুদ্ধ পানির অভাবে আর্তনাদ করছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও সমন্বয় না থাকায় সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না।

বানভাসিরা জানান, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন, অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক সেলিব্রেটিরাও সিলেটে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই শহরের আশপাশের এলাকা বা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ দিচ্ছেন। প্রত্যন্ত এলাকার লোকজনের খোঁজ নিচ্ছেন না কেউ। এতে ওইসব এলাকার বন্যার্তরা ত্রাণ পাচ্ছেন না। খাবার সংকটে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে অনেকের।

এদিকে সিলেট-সুনামগঞ্জের পানিবন্দি এলাকা থেকে আরও ৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৪টি ও সিলেটে ১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ জনে। সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমতে থাকায় সেখানে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেট ব্যথাসহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-জুড়ী উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে রেল চলাচল। যে কোনো সময় সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম রেল চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৭টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যার কারণে সিলেটে টিসিবির পণ্য বিক্রি স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমও।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিলেট : সিলেটে মঙ্গলবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় পানি কমেনি। উলটো কয়েকটি উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কুশিয়ারা ও সারি নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও অন্য নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে। সিলেট বাসিন্দারা জানান, বন্যাদুর্গত এলকায় যে যার মতো করে ত্রাণ বিতরণ করছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমন্বয় নেই। ফলে কোনো এলাকায় কয়েকবার ত্রাণ যাচ্ছে আবার কোনো এলাকায় একবারও নয়।

যারা ত্রাণ বিতরণ করেন, তারা যাতায়াত সংকট বা না চেনার কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় যাচ্ছেন না। শহর এলাকার আশপাশে অথবা কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ দিয়ে বিদায় নিচ্ছেন তারা। অথচ দূর-দূরান্তের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এক সপ্তাহের বন্যায় অনেকের জমানো খাবার শেষ। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। প্রত্যন্ত এলাকার এসব মানুষ ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বানভাসিরা বলছেন, সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরামা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু ত্রাণ গেলেও জেলায় নতুন করে প্লাবিত জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় ত্রাণ বিতরণের কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। তবে এসব স্থানে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জে তিন দিন বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যার পানি কমছে। তবে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শহরের পাড়া-মহল্লায়, রাস্তাঘাটে ভেসে উঠছে ময়লা-আবর্জনা। ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন নানা রোগবালাইয়ে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটে ব্যথা, জ্বরসহ নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।

সেনাবাহিনীর একটি দল বুধবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জ শহরের শহিদ আবুল হোসেন মিলনায়তন প্রাঙ্গণে মানুষকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়। অনেক নারী-পুরুষ সেখানে সেবা নেন। চিকিৎসা দলে থাকা ক্যাপ্টেন কাজী তানজিদুর রহমান জানান, মানুষজন পানিবাহিত রোগ নিয়েই বেশি আসছেন। এছাড়া চর্মরোগও আছে।

সদর উপজেলার মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা আরজদ আলী বলেন, ছেলের পাতলা পায়খানা হচ্ছে। পেটে ব্যথা। তাই নিয়ে এসেছেন এখানে। নবীনগর এলাকার সুখচান বিবি (৫৫) বলেন, সকাল থেকে বমি হচ্ছে। খবর পেয়ে এই স্কুলে ওষুধ নিতে এসেছেন। মিনারা বেগম (৪০) নামের আরেক নারী বলেন, দুই দিন ধরে জ্বর, মাথাব্যথা। পানিতে থাকতে থাকতে তার মেয়ের পায়ে ঘা হয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জে পানিবন্দি এলাকা থেকে আরও ৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তিনজন মারা যান বলে জানান স্থানীয় থানার উপপরিদর্শক মো. খালেদ চৌধুরী। সোমবার উদ্ধার লাশের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। তবে তিনি তাদের নাম-পরিচয় বলতে পারেননি। একজন সিকিউরিটি গার্ডের লাশ মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম। এছাড়াও সিলেটের গোলাপগঞ্জে নিখোঁজ হওয়া এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বুধবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে দশমিক ৭ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ থেকে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে সিলেট নগরীর তালতলা, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার, কুয়ারপাড়, লালাদীঘির পাড়, শিবগঞ্জ, তেররতন, শাহজালাল উপশহর, কুশিঘাট, কানিশাইল, গাজী বুরহান উদ্দিন রোড এলাকায় পানি আগের অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত নগরীর বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন। নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় পানি কিছুটা কমলেও এখনো সেখানে নৌকা চলাচল করছে।

টিসিবির পণ্য বিক্রি স্থগিত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এক কোটি নিম্নআয়ের উপকারভোগী পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে দেশব্যাপী বুধবার সকাল থেকে চারটি পণ্য বিক্রি শুরু করছে টিসিবি। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির কারণে আপাতত সিলেট বিভাগে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মঙ্গলবার টিসিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভোটার হালনাগাদ স্থগিত

সিলেটসহ বন্যাকবলিত সব এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন মঙ্গলবার নির্দেশনাটি মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়েছেন।

রেল চলাচল বন্ধ হওয়ায় শঙ্কা

কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পানি বাড়লে বা স্রোত বাড়লে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার হরিপদ সরকার জানান, গেল ৩ দিন থেকে একটি স্থানে রেল লাইনের ১ ইঞ্চি উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির স্রোত কম থাকায় গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। তবে পানি কিংবা স্রোত বাড়লে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) : ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শহর এলাকাসহ গ্রামাঞ্চলের উঁচু এলাকার ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি নামলেও আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো রয়েছেন হাজারো মানুষ। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি এখনো পানিতে থই থই করছে। সারা দেশের সঙ্গে ছাতকের সড়ক যোগাযোগ রয়েছে বন্ধ। এদিকে ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ও ছাতক সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ৯ দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।

মৌলভীবাজার, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ : কুলাউড়া-বরমচাল স্টেশনের মধ্যবর্তী ফানাই-আনফানাই নদীর ব্রিজের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইনে বন্যার পানি উঠেছে। এতে যে কোনো সময় ট্রেন চলাচল বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল গ্রামের জাবেদ আহমদ বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অধিকাংশ বাড়ির টয়লেট তলিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। আবার কেউ কেউ বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন না।

জুড়ী উপজেলার শাহপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে পানি উঠেছে। আশ্রয় কেন্দ্রে গাদাগাদি করে বন্যার্তরা বসবাস করছেন। শহরের আশপাশে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হলেও প্রত্যন্ত এলাকায় কেউ যাচ্ছেন না। ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৭টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আরও ৫টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ১২০ কিলোমিটার বাঁধের রহিমপুর ইউনিয়ণের লক্ষ্মীপুর, খুশালপুর, মুন্সীবাজারের সুরানন্দপুর, পৌর এলাকার গোপালনগর, দক্ষিণ কুমড়াকাপন, রামপাশা, আলেপুর, মাধবপুর ইউনিয়নের হিরামতি ও আদমপুরের ঘোড়ামারা এলাকায় রোববার রাতে ব্যাপক ধস দেখা দেয়। ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, ঘোড়ামারা, সুরান্দনপুর এলাকায় মানুষজন রাত জেগে মাটিভর্তি বস্তা ফেলে মাটিভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সময়মতো মেরামত না করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখানে আমাদের গাফিলতি নেই বা কোনো অনিয়ম হয়নি।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : ‘আর শুকনো খাবার চাই না, এবার রান্না করা খাবার চাই’-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বন্যাকবলিত এক ব্যক্তির এমন আকুতি ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তাহিরপুরের বাদাঘাট এলাকার একদল যুবক নিজেরাই ১২ হাজার টাকার তহবিল গঠন করে। সেই টাকায় বিরিয়ানি রান্না করে নিজেরাই বিতরণ করেন বন্যার্তের মাঝে।

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) : জামালগঞ্জের অনেক বানভাসি আশ্রয় কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে নৌকায় বসবাস করছে। খাবার সংকটে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। সদর ইউনিয়নের চানপুর খেয়াঘাটে নৌকায় আশ্রয় নেওয়া লোকজন বলেন, বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে আমরা ঘাটে নোঙর করা একটি বাল্কহেডে আশ্রয় নিয়েছি। ত্রাণ সহয়তাকারীরা শুধু আশ্রয় কেন্দ্রে যারা আছে তাদের কাছে ছুটে যায়। আমাদের কেই ত্রাণ দিচ্ছেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব যুগান্তরকে জানান, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।

নবীগঞ্জ ও মাধবপুর (হবিগঞ্জ) : নবীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। উজান-ভাটি দুদিকের পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে এ উপজেলায়। নবীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া মাধবপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।

নেত্রকোনা : পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা ও খালিয়াজুরী উপজেলাসহ দশ উপজেলার ৭৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলার ৩৪২টি আশ্রয় কেন্দ্রে সোয়া লাখ বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে প্রায় ৩০ হাজার পুকুরের মাছ। গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে ও ভেঙে যাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দেশে বিনিয়োগে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আলোড়ন তুলে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইউরো বাংলা বিজনেস সামিট ২০২২।

ইউরো বাংলা বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এ সামিটে অংশ নেন ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং এক্সপার্টরা।

প্যারিসের অবারভিলায় এক অভিজাত হলে অনুষ্ঠিত এ সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর দিলারা বেগম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন “লা ভিলা দে সাসলি”-এর মেয়র মিশেল সিনোট এবং দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব শারহাদ শাকিল। সামিট সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক প্রিয়।

প্রথমেই অতিথিদের সামিটে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ সবাইকে উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান ইউরো বাংলা বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান চৌধুরী সেলিম।

এরপর প্রধান অতিথি বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সামিট আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে গঠনমূলক আলোচনা করেন। তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতা-উদ্যোক্তাদের প্রবাসে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা, মানোন্নয়নের উপায় ও গুরুত্ব, নতুন নতুন নানা সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়াও দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভিশন উপস্থাপন করেন। পরে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়াসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসা সম্প্রসারণ, সংগঠিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব ও উৎসাহ প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, বিজনেস-টু-বিজনেস নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা প্রসারের আরেকটি বিশাল জগত রয়ে গেছে, যে পর্যন্ত এখনো বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পৌঁছাতে পারেননি। এই অনুন্মোচিত ও অবারিত দিগন্ত খুলে নেওয়ার দায়িত্ব প্রতিটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নিজের, এ ব্যাপারে দূতাবাসের পক্ষ থেকে করা সম্ভব এমন সব বিষয়ে আলোচনায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় তৈরি আছে বলে তিনি অবহিত করেন।