রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 243

মানবতাবিরোধী অপরাধে হবিগঞ্জের শফির প্রাণদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু সাজা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জের এক আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার এবং কে এম হাফিজুল আলম।

এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে হবিগঞ্জের লাখাইয়ের মো. শফি উদ্দিন মাওলানাকে মৃত্যুদণ্ড এবং মো. জাহেদ মিয়া ওরফে জাহিদ মিয়া, মো. সালেক মিয়া ওরফে সায়েক মিয়া ও তাজুল ইসলাম ওরফে ফোকনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরেক আসামি সাব্বির আহমেদকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের মধ্যে শফি উদ্দিন এবং সাব্বির আহমেদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান ও আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানুষ হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ১৭ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

শার্টের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো ছিল ২২ লাখ রিয়াল, পালিয়েছেন যাত্রী

রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজে ৩৪ টি শার্টের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো প্রায় ২৩ লাখ সৌদি রিয়াল জব্দ করা হয়েছে। তবে যে যাত্রীর ব্যাগে এই রিয়াল ছিল তাকে ধরতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তিনি ইমিগ্রেশন না করেই বিমানবন্দর ছেড়ে পালিয়েছেন।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মামুন খান নামের এক যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যান করার সময় সৌদি রিয়ালগুলো জব্দ করা হয়। তিনি এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার জন্য চেকইন করেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহমেদুর রেজা চৌধুরী বলেন, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের চেক হচ্ছিল। সে সময় ফ্লাইটের প্যাসেঞ্জারস হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্রিনিং রুমের স্ক্যানিং মেশিনে একটি লাগেজ স্ক্যান করা হলে মুদ্রা সদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। লাগেজটির মালিককে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির উপস্থিতিতে লাগেজটি কাস্টমস হলে এনে খোলা হয় বলে তিনি জানান।

লাগেজে থাকা ৩৪টি শার্টের ভেতরের কাগজের বোর্ডের মধ্য কাগুজে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল লুকায়িত অবস্থায় জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা কাস্টম হাউস প্রিভেন্টিভ টিম। যাত্রীকে খুঁজে না পাওয়ায় লাগেজের সঙ্গে থাকা ট্যাগ থেকে এমিরেটস কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সহায়তায় যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

ইমিগ্রেশন শেষ না করেই মামুনের বিমানবন্দর থেকে চলে যাওয়ার বিষয়ে আহমেদুর গণমাধ্যমকে বলেন, জব্দ বৈদেশিক মুদ্রা ও লাগেজ ট্যাগের সঙ্গে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বর্ণিত যাত্রীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ বৈদেশিক মুদ্রা কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হবে।

কাস্টমস অ্যাক্ট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান কাস্টমস গোয়েন্দার এ কর্মকর্তা।

হাসি যেন থেমে না যায়

আমি পদ্মা ঘাটের দিনমজুরের কথা ভাবছি,
আমি পদ্মার ফেরির কথা বলছি।
পুরনো ফেরিগুলো আগের মতো চলবে না,
ফেরিওয়ালা আগের মতো ফেরি পথে ঘুরবে না।
লঞ্চের ভরাডুবির দৃশ্য আর দেখা যাবে না,
পদ্মার বুক চিরে ভডভড শব্দে লঞ্চ চলবে না।
ইলিশ মাছের পাতলা ঝোলে
এক থালা ভাত আর খাওয়া হবে না।
বাউলিয়ার একতারা সুর বাজবে না,
আবেগী সুরে কেউ বলবে না
লাগবে ঝাল মুড়ি!
হয়তবা পদ্মার মাছ, রকমারি পণ্য, হারিয়ে যাবে।
হাজারও মানুষের মন কিছুক্ষণের জন্য ভেঙে যাবে।
তারপরও কোটি কোটি মানুষের মুখে ফুটবে হাসি,
দক্ষিণ-পশ্চিমে সূর্য ঠিক আগের মতোই উঠবে।
দিন শেষে সন্ধা নেমে সবকিছু মলিন হবে,
খুশির মেলায় ভেসে যাবে সব আবেগ।
এমন একটি সময়
হাসি যদি না আসে ভাই
আগের মতো করে
কি করে হাসবে তারা?
বল না আমারে।
এরা হেসেছিলো বহু আগে
মনের মতো করে,
সে হাসি ফাঁকি দিয়ে
চলে গেছে সরে।
ভুলে গেছে হাসতে তারা
হাসবে কেমন করে?
যা কিছু ছিল ভালো
সব গেছে আজ সরে,
হাসি এখন আসে না আর
আগের মতো করে।
মনে বড় কষ্ট তাদের
বোঝাবে কি করে।
হাসিতো যে মানুষগুলো পদ্মা নদীর ধারে,
ধরিয়া রাখিও তাদের হাসিটুকু,
যেন তারা অকালে ঝরে না পড়ে!
পদ্মার পাড়ে বাস করছে যারা
ভালো কি আছে তারা?
জানতে মন চায়!
কি লাভ হবে জেনে?
বিবেকে তা কয়।
বাস্তবতা, সবকিছু ভুলিয়ে বিলিয়ে দেবে নিজেকে,
হয়তবা এসব কথা কেউ মনে রাখবে না,
হয়তবা বাকি সব হবে ইতিহাস।
আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি
যদি আসে কোনোদিন
সেই মেহনতি মানুষের মুখে হাসি!

পদ্মা সেতু উদ্বোধনে মেট্রো ওয়াশিংটন আ.লীগের আনন্দানুষ্ঠান

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ ও মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ আয়োজনে এক আনন্দ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুন) ভার্জিনিয়ার অ্যাপরিংফিল্ডের রেসিডেন্ট ইন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ অনুষ্ঠান।

মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন নুরু এবং যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন চৌধুরী। কুরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়|

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের মাঝে বক্ত্যব্য দেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল শিকদার, সহ-সভাপতি জুয়েল বড়ুয়া, শিব্বির আহমেদ, জিআই রাসেল, আনোয়ার হোসেন, নাজমুল হাসান, জীবক বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শোয়েব আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামীম হায়দার, ক্রীড়া সম্পাদক আবুল আযাদ প্রচার সম্পাদক শামীম হায়দার, সহ-সভাপতি সিরাজুল হক ও সদস্য শোয়েব রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বহুল প্রত্যাশিত ও কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের অহংকার! আমরা প্রবাসী কর্মীরা রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেছি। আমাদের জন্য বাংলাদেশে নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে। পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের একটি আবেগ অনুভূতির নাম।

বক্তারা আরও বলেন, সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ‘পদ্মা সেতু’ উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকায় দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কিন্তু কানাডার আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেন। সব দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আজ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্ব নেতারা আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বাণী দিচ্ছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

আলোচনা সভায় নেতারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বে প্রশংসা কুড়াচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

আলোচনা সভা শেষে দেশের গান পরিবেশন করেন সোয়েব রহমান। পরে সবার মাঝে রাতের খাবার পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মিশিগানে চুনারুঘাট সোসাইটির পিকনিক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে পিকনিক করেছে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার প্রবাসীরা। রোববার (২৬ জুন) শেলবি টাউনশিপের স্টোনি কেক্র মোট্রোপার্কে চুনারুঘাট সোসাইটি অব মিশিগান এই পিকনিকের আয়োজন করে। স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে পিকনিকের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সোসাইটির সভাপতি আমিনুর রশীদ চৌধুরী কাপতান।

দিনভর এ আয়োজনে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন অন্য জেলার প্রবাসীরাও। চলে ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও নারীদের বিভিন্ন ধরনের খেলা আর বড়দের চিরাচরিত আড্ডা। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রবাসীরা আনন্দে উৎসবে মেতে উঠেন। উপভোগ করেন প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ খালেদের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী, চট্ট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি লুৎফুর রহমান, জালালাবাদ সোসাইটির সাবেক উপদেষ্টা খলকুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সুমন কবির, হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান আগা, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক গোলাম রব্বানী, হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ, সেক্রেটারি শেখ তাজউদ্দিন, সহ-সভাপতি মিজান মিয়া জসিম, মিশিগান বাংলা প্রেস ক্লাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল রেজা সোহেল, কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান প্রমুখ।

আরও বক্তব্যে রাখেন- চুনারুঘাট সোসাইটির সহসভাপতি মোহাম্মদ সায়েদুল হক, নিবাস চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক মো.গোলাম আযম,সহসম্পাদক কামাল মিয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ লস্কর মিশন, মহিলা সম্পাদক সৈয়দা ইয়াসমিন নাহার, প্রচার সম্পাদক সোহেল খান, ক্রীড়া সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পদক মোহাম্মদ এস উদ্দিন ফয়সল, অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুল কুদ্দুছ, লুৎফুর রহমান স্বপন, ফজলুল হক খান প্রমুখ।

পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সোসাইটির নেতারা।

তরুণ আলেমদের ক্যারিয়ার ভাবনা

হালাল উপার্জন ফরজ ইবাদাত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে সুন্দর জীবন গঠনে উন্নত ও সম্মানী পেশার দিকে ছুটছে মানুষ। বিশ্বায়নের এ যুগে নিজেকে মেলে ধরতে পিছিয়ে নেই তরুণ আলেমরাও।

এক সময় শুধু মসজিদ মাদ্রাসামুখী আলেম সমাজ বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। মাদ্রাসাগুলো থেকে যে হারে মাওলানা হয়ে বের হচ্ছেন সে তুলনায় মসজিদ মাদ্রাসা যথেষ্ট কম।

চলতি বছর সদ্য মাস্টার্স স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (ইসলামিক স্টাডিজ ও অ্যারাবিকে) কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ থেকে তাকমিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ২৪ হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থী। ছাত্র রয়েছেন ১৫ হাজার ৩৬ জন আর ৯ হাজার ৮৯৩ জন ছাত্রী। এ ছাড়া কামিল পরীক্ষা দিয়েও মাওলানা হচ্ছেন হাজারো তরুণ আলেম। তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন-আহমদ ইসলামাবাদী

অনুবাদ, সম্পাদনা ও লেখালেখি : ক. মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ আলেমরা অনুবাদক ও সম্পাদক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। আরবি, বাংলা, উর্দু, ইংরেজি ভাষায় অনেক তরুণ আলেমদের ভাষা দক্ষতা রয়েছে। ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে আরব বিশ্বসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন লেখকদের বই অনুবাদ করে নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন এক অনন্য উচ্চতায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বইয়ের সম্পাদনায়ও নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তারা। এক্ষেত্রে ঢাকার বাংলাবাজারসহ দেশের বিখ্যাত প্রকাশনীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ যোগ্যতায় কাজ করতে পারেন।

খ. সৃজনশীল লেখালেখি : তরুণ আলেমরা সৃজনশীল লেখালেখি করে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারেন। বর্তমানে বইমেলায় ইসলামি বইয়ের চাহিদা অনেক। যুক্তির কষ্টিপাথরে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়াবলিকে সামনে রেখে লেখা বইগুলো বাজারে বেস্টসেলার হচ্ছে। কোনো কোনো বই লাখ লাখ কপিও বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বেশিরভাগ জাতীয় দৈনিকে ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতা রয়েছে। সেখানে বিষয়ভিত্তিক লেখা চান সম্পাদক ও প্রকাশকরা। এখানে লেখালেখি করেও একটা ভালো সম্মানী পেতে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন : বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি প্রফেশনাল পেশায় পরিণত হয়েছে। বই, খাতা, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার, ব্যানার, ফেস্টুন, ক্যাশমেমো, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ম্যাগাজিনসহ যাবতীয় সেবায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যে কোনো তরুণ আলেম মাত্র ৬ থেকে ৮ মাস কোর্স করে ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন। এ থেকে ভালো উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন তরুণ আলেমরা।

অনলাইন বিজনেস ও ক্ষুদ্র ব্যবসা : বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব। তাই অনলাইন বিজনেস হতে পারে ব্যবসা ও উপার্জনের একটি সুন্দর মাধ্যম। অল্প পুঁজি নিয়ে পাইকারি মার্কেট থেকে পণ্য ক্রয় করে তা অনলাইনে শেয়ার করে ব্যবসা করতে পারেন যে কোনো তরুণ আলেম। নিজের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, নিজ পরিচিতজনের মাঝে এসব প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। ধীরে ধীরে একজন তরুণ আলেম একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন।

উপস্থাপনা ও সাংবাদিকতা : ক. উপস্থাপনা একটি নন্দিত শিল্প। রাসূল (সা.)-এর বাণী, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছিয়ে দাও।’ (মিশকাত শরিফ, কিতাবুল ইলম, হাদিস নং : ১৯৮) ইউটিউবে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির, ইতিহাস এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে খ্যাতির পাশাপাশি ভালো উপার্জনও করতে পারেন একজন তরুণ আলেম। তবে এক্ষেত্রে ভাষা সুন্দর, সাবলীল, আকর্ষণীয় ও গোছালো হওয়া অপরিহার্য। কথা বলার স্টাইল যত সুন্দর, মনোরম, গোছালো ও আকর্ষণীয় হবে ততই তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

বর্তমানে অনেক ওয়ায়েজ, খতিব, মোটিভেশনাল স্পিকার তাদের নিজস্ব বক্তৃতা ইউটিউবে আপলোড করে থাকেন। অনেক কণ্ঠশিল্পী হামদ, নাত, গজল পরিবেশন করে থাকেন। দেশ-বিদেশি কুরআনের প্রখ্যাত কারিরা ও বিশ্বজয়ী হাফেজরা তাদের সুন্দর তেলাওয়াত ফেসবুক, ইউটিউবে আপলোড করে কর্তৃপক্ষ থেকে প্লে বাটনও পেয়েছেন। প্রত্যেক পেশাজীবী মানুষও তাদের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ইউটিউবে আপলোডের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে নিজেদের কার্যক্রমকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নন্দিতভাবে।

খ. এ ছাড়া সাংবাদিকতা পেশায় যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে তরুণ আলেমদের। বর্তমানে অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সেখানে গ্রহণযোগ্য, বস্তুনিষ্ঠ খবরাখবর প্রচার করছেন আলেম সমাজ। দেশ, বিদেশ, আন্তর্জাতিক খবরের পাশাপাশি প্রবন্ধ, নিবন্ধও আগ্রহের সঙ্গে পড়ছেন মানুষ।

ফ্রিল্যান্সিং : ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি পেশা যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং করতে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য। এক্ষেত্রে কাজ চালানোর মতো ইংরেজি জানা থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য গুগল, ইউটিউবের বিভিন্ন সোর্স থেকে বের করার দক্ষতা থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সাররা কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইনার, কেউ ওয়েব ডিজাইনার, কেউ ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে কাজ করে থাকেন। এখানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সররা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

সরকারের আইসিটি বিভাগ বলছে, দেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ, যারা অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। তরুণ আলেমরা চাইলে ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাধীনভাবে আয় করতে পারেন।

অনলাইন টিচিং বা শিক্ষকতা : অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও তরুণ আলেমরা শিক্ষকতা করতে পারেন। জেনারেল শিক্ষিত অনেক ভাইদের এবং অনেক চাকরিজীবী কিংবা বয়স্কদের পবিত্র কুরআন শরিফ সহিহ শুদ্ধভাবে পড়ার আগ্রহ জাগ্রত রয়েছে। পাশাপাশি কুরআনের অর্থ, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও শেখার আগ্রহ অসংখ্য জেনারেল শিক্ষিত ভাইদের। এক্ষেত্রে দেশে কিংবা বিদেশে বসেও জুম অ্যাপসে, ইমুতে, ভিডিও কলে অনলাইন পাঠদান করানো সম্ভব।

দোভাষী : যেহেতু আলেমদের বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শিতা রয়েছে তাই দোভাষী হিসাবে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করার সুযোগ যেমন হবে তেমনি যোগ্যতা ও নিত্যনতুন অভিজ্ঞতাও অর্জিত হবে।

ভূমি সার্ভেয়ার বা দলিল লেখক : একজন সার্ভেয়ার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পগুলোর জন্য সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত পরিমাপের কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া কোনো স্থানের মানচিত্র তৈরি, খনন এবং আইনি উদ্দেশ্যের জন্য দরকারি ডাটা সরবরাহ করে থাকেন। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দুই বা একাধিক পরিবারের মাঝে জমিসংক্রান্ত সৃষ্ট ঝামেলায় একজন ভূমি সার্ভেয়ার খতিয়ান দেখে যাচাইপূর্বক সমাধান দিয়ে থাকেন। মাদ্রাসাগুলোতে মুসলিম ফরায়েজি আইন ও এ সংক্রান্ত কিতাব ‘সিরাজি’ পাঠদান করানো হয়। একজন তরুণ আলেম চাইলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের ভূমি জরিপের কোর্স সম্পন্ন করে এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া জমির খতিয়ান লেখার জন্য দলিল লেখারও চাহিদা রয়েছে সমাজে। এক্ষেত্রে কম্পিউটার চালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে একজন তরুণ আলেম এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।

হজ ও ট্রাভেলস এজেন্সি : ক. প্রত্যেক মুসলমানদের হৃদয়ের বাসনা থাকে জীবনে একবার হলেও হজ ও ওমরাহ করার। মক্কা মদিনার জেয়ারত করা। হজ ও ওমরাহে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। অর্থের বিনিময়ে যেসব প্রতিষ্ঠান হজ, ওমরাহর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন এসব প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে হজ এজেন্সি গ্রুপ। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সরকারি লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। একজন তরুণ আলেম চাইলে হজ এজেন্সির ব্যবসা করে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারেন। সাধারণ মানুষের হজ ওমরাহে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘মুয়াল্লিম’ তথা যিনি হজ ওমরাহে হাজিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এমন আলেমদের চাহিদা রয়েছে। এ পেশায় আলেমরা সম্পৃক্ত হতে পারেন।

খ. ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস : মানুষের যতগুলো শখ রয়েছে তার মধ্যে ট্রাভেল অন্যতম। নতুন নতুন জায়গা, প্রাচীন স্থাপনা, সাগর, নদী, পাহাড় ঘুরে বেড়ানো অন্যতম। এ ছাড়াও মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর করে থাকেন। ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের জন্য বা অর্থের জন্য বিদেশগামী মানুষদের সেবা প্রদানের জন্য ভিসা, টিকিট, পাসপোর্ট ইত্যাদি সেবা করে থাকে এজেন্সিগুলো। তরুণ আলেমরা এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন অনায়াসেই।

এ ছাড়া অসংখ্য পথ খোলা রয়েছে তরুণ আলেমদের জন্য। সব কাজে প্রয়োজন দক্ষতা, একনিষ্ঠতা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। এসব গুণাবলি মানুষকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। হতাশ না হয়ে তরুণ আলেমরা সম্মানী পেশায় নিজেদের মেলে ধরে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারেন।

লেখক : শিক্ষক- জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা।

মতবিরোধ হলে সাহাবীরা যা করতেন

বায়হাকি ও ইবনে আসাকির হজরত উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে একদল সাহাবিকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধে পাঠালেন।

যাতুস সালাসিল ছিল সিরিয়ার এক প্রান্তে। আমর ইবনুল আস (রা.) ময়দানে পৌঁছে শত্রুর হালহাকিকত সরেজমিনে খোঁজ নিলেন। দেখা গেল শত্রুর সংখ্যা অনেক বেশি। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। অতিরিক্ত সৈন্য চেয়ে মদিনায় চিঠি পাঠালেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের একত্র করে দুই শ সদস্যের একটি দল গঠন করলেন। এই দলে আবু বকর, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাদের মতো অনেক প্রবীণ সাহাবিও শরিক ছিলেন।

রাসুল (সা.) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)-কে দলপ্রধান করে নির্দেশ দিলেন দ্রুত ভিত্তিতে আমর ইবনুল আস এর বাহিনীতে যোগ দিতে।

আবু উবাইদা (রা.) যথাস্থলে পৌঁছুলেন। দুটো দলের প্রধান কে হবেন—দেখা দিল প্রশ্ন। আমর ইবনুল আস (রা.) বললেন, ‘যেহেতু আমি রাসুলুল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে লিখেছিলাম, আমার আবেদনের ভিত্তিতেই আপনাদের পাঠানো হয়েছে, সেহেতু আমিই তোমাদের দলপতি।’

আবু উবাইদার সঙ্গে আসা মুহাজিরগণ এ যুক্তি মানলেন না। তারা প্রস্তাব করলেন, আমর, আপনি আপনার দলের আমির; আর আবু উবাইদা মুহাজির দলের। আমর ইবনুল আস এমন বিভক্তি মানতে পারলেন না। তিনি পালটা যুক্তি দিয়ে বললেন, তোমরা তো অতিরিক্ত সৈন্য হিসেবে এসেছো, তোমাদের পাঠানোই হয়েছে আমার দলে যোগ দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য।

আবু উবাইদা পরিস্থিতি দেখে বললেন, হে আমর, আপনার এ কথা জেনে রাখা উচিৎ যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বিদায়ের সময়ে এই মর্মে শপথ বাণী উচ্চারণ করেছেন যে, তোমরা যখন নিজেদের সঙ্গীদের কাছে পৌঁছে যাবে, পরস্পর মিলে কাজ করবে, বিচ্ছিন্ন হবে না। আল্লাহর কসম, তুমি যদি আমার এ কথা অমান্যও করো, আমি তোমার আনুগত্য করে যাব।

বর্ণনাকারী বলেন, এ-কথা বলেই আবু উবাইদা (রা.) নেতৃত্বভার আমর ইবনুল আস (রা.)-কে বুঝিয়ে দিলেন। এবং তার অধীনে যুদ্ধ করতে রাজি হয়ে গেলেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, চতুর্থ খণ্ড)

তারা দুজনেই যদি গোঁ ধরে বসে থাকতেন, তাহলে সঙ্কটটির সুষ্ঠু সমাধান হতো না। যে শক্তিকে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটা পারস্পরিক সংঘাতেই ফুরিয়ে যেত।

এমন সঙ্কটকালীন মুহূর্তে একজনের নতিস্বীকার পুরো দলকে শক্তিশালী করে তোলে। পক্ষান্তরে কেউই যখন নতিস্বীকার করতে চায় না, তখন গোটা দলের শক্তি খর্ব হয়। দুর্বল হয়ে পড়ে তারা

চরমপন্থা ঠেকাতে বাংলাদেশে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কনটেন্ট শনাক্তে ফেসবুকে একদল বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মেটার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ডেঞ্জারাস অর্গানাইজেশন বিভাগের প্রধান নওয়াব ওসমান।

তিনি বলেছেন, মেটার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম সমর্থন করা হয় না। এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট বা পেজ খুলতে দেওয়া হয় না। শুধু তা–ই নয়, ঘৃণ্য বক্তব্য বা সহিংসতা ছড়ায়—এমন পোস্টও দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। যেকোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বা অবমাননাকর পোস্ট দিলেও সেগুলো মুছে ফেলা হয়। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কনটেন্ট শনাক্তে একদল বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন ফেসবুকে।

সোমবার ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা আয়োজিত ‘ফাইটিং টেররিজম অ্যান্ড অর্গানাইজড হেট অ্যান্ড মেটাস অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

ভার্চুয়াল ওই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ফেসবুকের ভূমিকা নিয়ে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ওসমান। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ঘৃণা প্রচারের সুযোগ করে দিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে প্ল্যাটফর্মটিকে ঘিরে।

এ বিষয়ে নওয়াব ওসমান বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করার জন্য মেটার একাধিক দল কাজ করছে। এসব কর্মী স্থানীয় বাজার ও ভাষা বিশেষজ্ঞ। তারা সবাই বাংলাদেশি। এ ছাড়া আমাদের প্রযুক্তি আছে। আমাদের অ্যালগরিদম অনেক পোস্ট ধরতে পারে। বিতর্কিত পোস্ট বিষয়ে ব্যবহারকারীরাও রিপোর্ট করতে পারেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যবহারকারীর রিপোর্ট বিবেচনা করা হয়।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা স্ট্যাটিস্টার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে ফেসবুকের।

মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা টিমে ৩৫ হাজার মানুষ কাজ করেন। তাদের ১৫ হাজার কনটেন্ট রিভিউয়ার আছেন।

পাকস্থলীর ক্যান্সার কেন হয়, লক্ষণ

পাকস্থলীর ক্যান্সার সবচেয়ে জটিল রোগগুলোর মধ্যে একটি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিতে পারলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মৃত্যুও হতে পারে।

এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে এবং অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থান ফেলে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

রোগের প্রাথমিক অবস্থায় হজমক্রিয়ার গোলযোগ বা খাদ্যগ্রহণের পর পেটে অস্বস্তি অনুভুতি ছাড়া আর তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। এ সমস্যাগুলোকে রোগী তেমন গুরুত্ব দেন না, মনে করেন গ্যাস্ট্রিক হয়েছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম অনুভব করেন। ফলে ক্যান্সার পাকস্থলী থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। রোগটি ছড়িয়ে পড়লে যে উপসর্গ দেখা দেয়-

* অল্প খেলে তৃপ্তি চলে আসে * পেট ফেঁপে ও ফুলে থাকে * বমি হয় * রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় * খাদ্যগ্রহণের পর খাদ্যনালীতে ব্যথা হয় * শরীরের ওজন কমে যায় * বমির সঙ্গে রক্ত কিংবা কালো পায়খানা হতে পারে

এ সমস্যাগুলো হলে অপারেশন করালেও রোগীর আয়ুকাল খুব বেশি বাড়ানো যায় না। সাধারণত চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে এ ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন। যে কারণে পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

* হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি নামক এক প্রকার জীবাণুর আক্রমণ

* প্রচুর পরিমাণে মদপান

* অত্যধিক লবণ আছে এমন খাবার গ্রহণ করা

* সংরক্ষিত টিনজাত খাবার

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করা

* যারা ধূমপায়ী এবং ধুলাবালি স্থানে বাস করে তাদের মধ্যেও এ ক্যান্সার হতে পারে

* বংশগত কারণেও পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়

এক সময়ে জাপানে পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণে অনেক লোক মারা যেত। বর্তমানে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের পর যাদের হজমক্রিয়ার গোলযোগ হচ্ছে তাদের এন্ডোস্কোপি করে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়।

আমাদের দেশে রোগীরা যখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার পাকস্থলীর বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, এরফলে চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এ জন্য উপরের সমস্যাগুলো দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

আঘাত থেকে মানসিক বিপর্যয়, কী করবেন

প্রচন্ড আঘাত থেকে অনেক সময় মানসিক বিপর্যয় ঘটে। এ অবস্থা থেকেও মানুষ ফিরে আসে। তবে সঠিক চিকিৎসা ও সেবা দরকার হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতারের সহকারী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি) ডা. সাইফুন্ নাহার।

তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করার মতো ঘটনা যেমন; বন্যা, ভূমিকম্প, ভবনধস, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড, যে কোনো পরিবহনের মারাত্মক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, হত্যাযজ্ঞ, যুদ্ধ, প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন ইত্যাদি থেকে এ রোগের সৃষ্টি হয়। সরাসরি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও যারা দুর্ঘটনা খুব কাছ থেকে দেখেন অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক এদের মাঝেও এ রোগ দেখা দিতে পারে।

সাধারণত গুরুতর মানসিক আঘাত পাওয়ার কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র মানসিক চাপের লক্ষণগুলো দেখা দেয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৪৮-৭২ ঘণ্টার মাঝেই সেগুলো কমতে থাকে এবং ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে একেবারে কমে যায়। তখন এ সমস্যাটিকে একিউট স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (ASD) বলা হয়। অর্থাৎ মানসিক আঘাত পাওয়ার ১ মাসের মধ্যে যে কোনো সময় শুরু হয়ে লক্ষণগুলো যদি ১ মাসের মধ্যেই কমে যায় তখন এটি অঝউ। মানসিক আঘাত থেকে সৃষ্ট মানসিক চাপের লক্ষণগুলো যদি এক মাসের বেশি সময় ধরে বিদ্যমান থাকে তবে সেটিকে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) বলা হয়। সাধারণত মানসিক আঘাত পাওয়ার প্রথম তিন মাসের মধ্যেই এটি দেখা দেয়। মানসিক আঘাতের কয়েক বছর পরেও শুরু হতে পারে। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই অথবা মূল দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এমন কোনো শব্দ, ছবি, কথা বা বর্ণ দ্বারা উদ্দীপিত হওয়ার পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে।

একই ঘটনা সবার মাঝে সমান তীব্রতার মানসিক চাপ তৈরি করে না বা এই রোগ তৈরি করে না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ এদের মাঝে, যাদের আগে মানসিক চাপের ইতিহাস থাকে, যাদের মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কম থাকে, যাদের আগে বিষণ্ণতা, উদ্বেগজনিত রোগের ইতিহাস থাকে, যাদের সামাজিক সহায়তা কম থাকে, বুদ্ধিবৃত্তি কম থাকে এবং যাদের বংশে এই রোগের ইতিহাস থাকে তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

প্রতিটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র এবং চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কিছুটা ভিন্ন হওয়ার কারণে মানসিক আঘাত পরবর্তী মানসিক রোগের লক্ষণগুলোও কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। মূলত চার ধরনের লক্ষণ দেখা যায়।

দুর্ঘটনার পুনঃঅভিজ্ঞতা (re-experiencing of aspects of the stressful events)

* বারবার দুর্ঘটনার অস্বস্তিকর, কষ্টদায়ক স্মৃতি মনে পড়া

* ফ্ল্যাশব্যাক (তীব্র মানসিক চাপ রোগীর মানসিক অবস্থাকে এতটাই বিপর্যস্ত করে যে তার কাছে ঘটনার সময়ের অনুভূতি খুব জীবন্ত মনে হয়, মনে হয় ঘটনাটি আবারও ঘটছে, তাই ঘটনার সময় যেমন আচরণ করেছিল সে রকম আচরণ করতে থাকে)

* মূল ঘটনাটি নিয়ে অথবা অন্য কোনো ভয়ঙ্কর বিষয়ে দুঃস্বপ্ন দেখা

* দুর্ঘনার কথা মনে হলে তীব্র শারীরিক প্রতিক্রয়া তৈরি হওয়া (যেমন; বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া, বমিভাব, ঘাম দেয়া, মাংসপেশীতে টান অনুভব করা )

এড়িয়ে চলা (avoidance of reminders) এবং স্তব্ধ হয়ে যাওয়া (numbness)

* দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয় এমন আলাপচারিতা, ব্যক্তি, বস্তু, কাজ, স্থান, চিন্তা, অনুভূতিকে এড়িয়ে চলা

* দুর্ঘটনার খণ্ডচিত্র স্মৃতিতে ধারণ করা এবং দুর্ঘটনার অনেক বিষয় মনে করতে না পারা

* জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

* অন্যের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করা

* ভবিষৎকে ছোট করে দেখা (স্বাভাবিক জীবনযাপনে অনাগ্রহ, বিয়ে না করা, চাকরি না করা)

অত্যধিক সচকিত থাকা (hyperarousal)

* ঘুমের সমস্যা

* খিটখিটে মেজাজ, রেগে যাওয়া

* অল্পতেই চমকে ওঠা

* সদা সতর্ক থাকা

* আগ্রাসী মনোভাব, বেপরোয়া আচরণ, নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা

* নেতিবাচক চিন্তা এবং আবেগীয় পরিবর্তন

* অপরাধবোধে ভোগা বা নিজেকে দোষী ভাবা, লাঞ্ছিত বোধ করা

* একা বা বিচ্ছিন্নবোধ করা

* বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা, প্রতারিত বোধ করা

* মনোযোগে সমস্যা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া

* হতাশা, নৈরাশ্য দেখা দেয়া

শিশুদের লক্ষণগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। যেমন-

* পিতামাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়

* আগের শেখা কাজগুলো ভুলে যাওয়া (যেমন : টয়লেট ট্রেইনিং)

* ঘুমের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন দেখা

* দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন নতুন কিছুর প্রতি ভয় তৈরি হওয়া (রাক্ষসের ভয়)

* খেলা, ছবি আঁকা বা গল্প বলার মধ্য দিয়ে দুর্ঘটনার বিষয় প্রকাশ করা

* কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা, বেদনা অনুভব করা

* খিটখিটে মেজাজ, আগ্রাসী আচরণ করা

চিকিৎসা

মানসিক চাপের লক্ষণ, কারণ, সময়কাল, তীব্রতা ও অতীতে মানসিক আঘাত পাওয়ার ইতিহাস, বংশগত ইতিহাস, পূর্বে মানসিক রোগের ইতিহাস, শারীরিক রোগের ইতিহাস, মানসিক এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশদ মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। তারপর, আক্রান্ত ব্যক্তির বিশেষ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হচ্ছে-

* লক্ষণগুলো কমানো

* সমস্যাগুলো মোকাবেলায় দক্ষ হতে প্রশিক্ষণ প্রদান

* আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা

* সাইকোথেরাপি অথবা ওষুধ অথবা উভয়ের সমন্বয়ে মূল চিকিৎসা করা হয়। যেহেতু মানসিক আঘাতের কারণ, ব্যক্তিবিশেষের অভিজ্ঞতা এবং পরিণতি ভিন্ন হয় সেহেতু রোগের লক্ষণ এবং রোগীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাপদ্ধতিও কিছুটা ভিন্ন হতে পারে

* সাইকোথেরাপির মাঝে ট্রমা ফোকাসড কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (কগনিটিভ প্রসেসিং থেরাপি, প্রোলং এক্সপোজার থেরাপি), ইএমডিআর (আই মুভমেন্ট ডিসেনসিটাইজেশন অ্যান্ড রিপ্রসেসিং) বেশ কার্যকর

* কগনিটিভ প্রসেসিং থেরাপি- এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিজের এবং অন্যদের সম্পর্কে রোগীর নেতিবাচক চিন্তা- যেগুলো তার আচরণকে প্রভাবিত করছে এবং দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে সেগুলোকে শনাক্তকরণ ও সংশোধন করা হয়। এটি প্রতি সপ্তাহে ৬০-৯০ মিনিট করে মোট ১২ সপ্তাহ ধরে দিতে হয়।

* প্রোলং এক্সপোজার থেরাপি- রোগীর সঙ্গে কথা বলে তার মানসিক আঘাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা হয় এবং তার ভয়ের উৎস খুঁজে বের করা হয়। তারপর তাকে ধাপে ধাপে ভয়ের উৎসগুলোকে মোকাবেলা করে ভয়কে জয় করতে শেখানো হয়।

এছাড়া প্রগ্রেসিভ মাসকিউলার রিলাক্সেশন, ব্রিদিং রিলাক্সেশন ইত্যাদি ব্যায়াম খুব কার্যকর।

ওষুধের মাঝে সিলেকটিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনিহবিটর্স (SSRI), পিটিএসডি এর চিকিৎসায় কার্যকর। এর মাঝে সারট্রালিন এবং পেরোক্সেটিন এফডিএ (FDA-U.S) অনুমোদিত। এগুলো পিটিএসডি রোগীর বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, রাগ ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া রোগীর নিদ্রাহীনতা, অস্থিরতা, সন্দেহপ্রবণতা ইত্যাদি কমাতে কিছু এন্টিসাইকোটিক (যেমন ওল্যানযেপাইন, কিউটিয়াপাইন, রিসপেরিডোন) ইত্যাদি কার্যকর। ঘুমের সমস্যা দূর করতে এবং রোগীকে প্রশান্ত করতে বেন্জোডায়াজেপাইন ব্যবহার করা যায় তবে সেগুলোতে নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সাইকোথেরাপি শুরু করার আগে অথবা চলাকালীন সময়ে ওষুধ গ্রহণ করলে চিকিৎসা বেশি কার্যকর হয়।

রোগী/দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে সংকটাবস্থা থেকে নিরাপদ অবস্থায় আনার পর পিটিএসডি-এর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা শুরু করা উচিত। মাদকাসক্তি, বিষণ্ণতা, আত্মহত্যার প্রবণতা, প্যানিক ডিসঅর্ডার ইত্যাদি থাকলে গুরুত্ব দিয়ে সেগুলোর চিকিৎসা করতে হবে।

চিকিৎসা প্রদানের সময় যে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে সেগুলো হল-

* রোগীর কষ্টকর অভিজ্ঞতার কথা জানাতে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা যাবে না

* রোগীর প্রতি সহমর্মী হতে হবে, তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে

* সর্ব প্রকার গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে

* এমন কোনো কথা বলা বা কাজ করা যাবে না যাতে রোগী আবার আঘাত (retraumatized) পায়।