চান্দিনায় এক মাসে ২৪ ডাকাতি

0
186

কুমিল্লার চান্দিনায় ডাকাতদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সড়ক, মহাসড়কে ও গৃহডাকাতি যেন সমান তালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা না দেখায় আতঙ্কে এ উপজেলার মানুষ।

গত এক মাসে চান্দিনায় অন্তত ১৪টি গৃহডাকাতি, ৩টি সড়কে ডাকাতি ও ৭টি মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতি রোধে বিভিন্ন এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন জনগণ।

উপজেলার গোবিন্দপুর, হারং, কুটুম্বপুর, মীরগঞ্জ, এতবারপুর, মাইজখার, কামারখোলা ও হাড়িপাড়া গ্রামে গত এক মাসে ১৪টি পরিবারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া হারং উদালিয়া ব্রিজ এলাকায় ৩টি সড়ক ডাকাতি ও মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা, তীরচর ও কুটুম্বপুর এলাকায় রড ছুড়ে ৭টি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মহাসড়কের কয়েকটি ঘটনা ভুক্তভোগীরা পুলিশকে অবহিত করলেও বাকিরা অসহায় হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

পুলিশ হাতে গোনা কয়েকজন নামে-বেনামে ডাকাতকে আটক করলেও তালিকাভুক্ত শীর্ষ কোনো ডাকাত চক্রকে এখনও আটক করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া কোনো মালামালও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের হাড়িপাড়া ও কামারখোলা গ্রামের ৬টি বাড়িতে ডাকাতি করে সশস্ত্র ডাকাতদল। এসময় নগদ টাকাসহ মামামাল লুট ও পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নেয় ডাকাতদল।

হাড়িপাড়া গ্রামের শাহ আলম জানান, আমি দুবাই প্রবাসী। ছুটিতে বাড়ি আসি। বুধবার দিনগত রাত ২টায় ডাকাতদল আমার বাড়ির গেইটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা, ২টি মোবাইল ফোন, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।

কামারখোলা গ্রামের পূর্বপাড়া আব্দুল মান্নান ভূইয়ার বাড়িতে ৪টি পরিবারে ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকা, সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ৬টি মোবাইল ফোন, বিমান টিকেট যুক্ত ২টি পাসপোর্টসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়।

কামারখোলা গ্রামের ইমাম হোসেন জানান, আমার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার পর চান্দিনা থানা পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমাকে মামলা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মামলা করলে ডাকাতদল গা ঢাকা দিবে, আমরা তাদেরকে ধরতে পারব না। তার চেয়ে ভাল আপনারা নিরব থাকেন তাহলে আমরা সুন্দরভাবে কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারব এবং আসামি ধরা সহজ হবে।

এছাড়া গত ২১ জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০-১২ জনের সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত হারং এলাকার নূরুজ্জামান সরকারের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রীকে গলায় রামদা ঠেকিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরের ভেতরে থাকা আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নেয়। এরপর তাদের ভাড়াটিয়া লাভলী আক্তার এর ঘরে একই কায়দায় প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। একই রাতে উপজেলার এতবারপুর গ্রামে মো. খোকনের বাড়িতে ডাকাতি হয়। রাত পৌনে ২টায় ঘরের দরজা ভেঙে মুখোশধারী দুজন ডাকাত মালামাল লুটে নেয়।

ফেনী সদর উপজেলার বিল্লাল হোসেন জানান, আমি গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত আনুমানিক সোয়া ১টায় কুটুম্বপুর এলাকায় আমার বাড়িতে বিকট শব্দ হওয়ায় চালক গাড়ি থামায়। আমার গাড়ি থামাতেই ৬-৭ জন অস্ত্রধারী ডাকাত গাড়িতে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমার হাতের মোবাইলটি নিচে ফেলে দেওয়ার কারণে সেটি নিতে পারেনি এবং গাড়িচালকের মোবাইলটি ছোট হওয়ায় সেটিও নেয়নি।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, এসব ঘটনায় ২টি মামলা হয়েছে। আসামিও কয়েকজন আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here