শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 233

উত্তেজনার মধ্যেই জি২০ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জি২০ সম্মেলনে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে পৌঁছেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন।

সম্মেলনের ফাঁকে অন্যান্য জি২০ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের লাভরভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের সঙ্গে লাভরভ দেখা করবেন না জানা গেছে।

রয়টার্স জানায়, শুক্রবার অনুষ্ঠেয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা সম্মেলন স্থল বালির নুসা দুয়া এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন। সেজন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

দুদিনের বৈঠকে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বিদেশি কূটনীতিকদের গ্রেফতার নিয়ে যা বলল ইরান

ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ব্রিটেন বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রেভুলেশনারি গার্ড তাদের গ্রেফতার করেছে।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমে বিদেশি কূটনীতিকদের গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ উপরাষ্ট্রদূতসহ কয়েকজন পশ্চিমা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ইরানের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এলাকাগুলো থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ এবং এসব এলাকার ছবি তোলাসহ এ ধরনের অন্যান্য তৎপরতা চালাচ্ছিল।

ইরানের আরেকটি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ড্রোন থেকে তোলা একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’ চিহ্নযুক্ত এলাকায় প্রবেশ করেছেন। এসব ব্যক্তির একজন হলেন ব্রিটিশ উপরাষ্ট্রদূত গিলস হোয়াইটেকার যিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পর্যটকের ছদ্মবেশে ইরানের কেরমান প্রদেশের শাহদাদ মরুভূমিতে যান।

এদিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অবশ্য জানিয়েছে, জাইলস হুইটেকার নামে চিহ্নিত ব্রিটিশকে মধ্য ইরানে কূটনীতিকদের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতার ব্রিটিশ হুইটেকার ২০১৮ সাল থেকে তেহরানে ডেপুটি হেড অফ মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইআজিসির গোয়েন্দা বাহিনীর তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই এলাকায় যখন ইরানের সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছিল তখন ওই ব্রিটিশ কূটনীতিক সেখানকার মাটির নমুনা সংগ্রহ করেন।

তবে কতজনকে আটক করা হয়ে সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।

সম্পদ বাড়িয়ে ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি

কালোটাকা সাদা করতে এক শিল্পপতি ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে সার্কেল থেকে স্ত্রীসহ নিজের আয়কর ফাইল চুরি করান। এরপর দুজনের নতুন রিটার্ন বানিয়ে মোট ২০ কোটি টাকার সম্পদ বাড়ানো হয় এবং ফাইল পুনরায় সার্কেলে ফেরত দেওয়া হয়। সব ঠিকঠাকই চলছিল। একটি রিপোর্ট তৈরির জন্য সার্কেল অফিসার ফাইল তলব করে দেখতে পান, সম্পদবিবরণীতে (আইটি১০বি) তার স্বাক্ষর জাল। এরপর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

ফাইল চুরিতে জড়িত থাকায় এ পর্যন্ত ৩ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান আছে। সম্প্রতি কর অঞ্চল-১-এ আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে। ওই শিল্পপতির নাম শামীম রেজা, স্ত্রীর নাম ইনা রেজা। ২০১৯ সালে তার প্রতিষ্ঠান এপিএস অ্যাপারেল রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৭ পেয়েছিল।

এ বিষয়ে কর অঞ্চল-১-এর কমিশনার একেএম বদিউল আলম ৩০ জুন যুগান্তরকে বলেন, ‘পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এনবিআরে তদন্ত প্রতিবেদনসহ দিকনির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শামীম রেজা ৪টি আয়কর ফাইলে (নিজের, স্ত্রীর ও দুই মেয়ের) সম্পদ বাড়িয়ে দেখানোর জন্য শাহাদাত হোসেন কাজল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ৬০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। সে মোতাবেক ১১ দফায় ৬০ লাখ টাকা পরিশোধও করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজল রিটার্ন সংশোধনের জন্য কর অঞ্চল-২-এর কর পরিদর্শক আব্দুল বারীর সঙ্গে ৩৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। লিখিতভাবে টাকা গ্রহণের দায় স্বীকারও করেন বারী। চুক্তি মোতাবেক কাজল বারীকে শিল্পপতির আগের রিটার্নের কপি সরবরাহ করেন। এরপর ফাইল চুরির মূল কাজ শুরু হয়।

ফাইল চুরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় কর অঞ্চল-১৪-এর নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ শাকিল হোসেনকে। এজন্য কর পরিদর্শক বারী শাকিলকে ১৩ লাখ টাকা দেন। এ টাকা থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর অঞ্চল-১-এর নিরাপত্তা প্রহরী নজরুল ইসলামকে দেন শাকিল। নজরুল, সার্কেলের অফিস সহকারী সেলিম শরীফকে ফাইল সরবরাহের জন্য ৩ লাখ টাকা দেন। সেলিম ফাইল দুটি খুঁজে বের করে একজন নোটিশ সার্ভারের মাধ্যমে শাকিলের কাছে পাঠিয়ে দেন। শাকিল ফাইলটি কর পরিদর্শক বারীর কাছে পৌঁছে দেন। বারী শিল্পপতির চাহিদা মোতাবেক নতুন রিটার্ন বানিয়ে নিট সম্পদ বাড়িয়ে দেখান। এরপর নতুন রিটার্নের কপি নজরুলকে দেওয়া হয়। নজরুল সেই ফাইল সার্কেলের আগের স্থানে রেখে দেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি পুরস্কারের জন্য শামীম রেজার আয়করের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনবিআরকে চিঠি দেয়। সেই চিঠির আলোকে রিপোর্ট প্রস্তুত করার জন্য সার্কেল অফিসার ফাইল তলব করে দেখতে পান, রিটার্নের সম্পদবিবরণীতে তার জাল স্বাক্ষর এবং অন্য সার্কেলের সিলমোহর দেওয়া। এরপর রেজিস্টার যাচাই করে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসাবে সার্কেল অফিসার শিল্পপতির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, শাহাদাত হোসেন কাজল তার ও তার পরিবারের অপর সদস্যদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন। কিন্তু কাজলের আইটিপি সনদ না থাকায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এরপর কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কাজল জানান, শিল্পপতি ৪টি আয়কর নথিতে সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য মোট ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ টাকা কিস্তিতে গ্রহণ করেন কর পরিদর্শক আবদুল বারী। নথি চুরি করার জন্য নৈশ প্রহরী শাকিলকে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নগদ ও ৬ লাখ টাকা চেকে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় কর অঞ্চল-১-এর অফিস সহকারী সেলিম শরীফ ও নৈশ প্রহরী নজরুল ইসলামকে গত ২৭ এপ্রিল সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর অঞ্চল-১৪-এর নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ শাকিল হোসেনকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কর পরিদর্শক আবদুল বারীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কার্যক্রম চলমান আছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্পপতি ও তার স্ত্রীর ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর নথি চুরির পর রিটার্নের অন্য সব অংশ ঠিক রাখা হলেও ঘষামাজার মাধ্যমে সম্পদ বাড়িয়ে দেখানো হয়। অবশ্য ২০২১-২২ করবর্ষের রিটার্নে কোনো তথ্য পরিবর্তন করা হয়নি। ২০১৯-২০ করবর্ষে শিল্পপতির নিট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, সেটিকে ঘষামাজা করে বাড়িয়ে ৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকা করা হয়। একই কায়দায় ২০২০-২১ করবর্ষের সম্পদ ৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে হাতে নগদ ও ব্যাংকে রক্ষিত অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ও প্রায় ২৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখানো হয়।

একইভাবে তার স্ত্রীর রিটার্নেও সম্পদ বাড়ানো হয়। ২০১৯-২০ করবর্ষে শিল্পপতি স্ত্রীর নিট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সেটিকে ঘষামাজা করে বাড়িয়ে ২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা করা হয়। আর ২০২০-২১ করবর্ষের সম্পদ ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা করা হয়।

কর কর্মকর্তারা বলছেন, কালোটাকা সাদা করতে শিল্পপতি তার আয়কর ফাইল চুরি করিয়েছেন বলে ঘটনাক্রমে মনে হচ্ছে। মূল রিটার্নে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেখানো হলে সেই অর্থের ওপর সর্বোচ্চ হারে আয়কর দিতে হতো। এত বিপুল পরিমাণ আয়কর না দিয়ে চোরাগলি অবলম্বন করে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে চেয়েছিলেন তিনি, যা আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত আয় ও সম্পদ প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই ওই শিল্পপতি ও তার স্ত্রীর রিটার্ন পুনঃউন্মোচন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। পুনঃউন্মোচনে দুজনের সুদ-জরিমানাসহ ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এনবিআর থেকে ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে শনিবার শিল্পপতির ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী ক্যাপ্টেন মনজুর ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, হার্টের অপারেশনের জন্য তিনি সপরিবারে আমেরিকা গেছেন। কবে আসবেন, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। ৩-৪ মাসও লাগতে পারে।

আর শাহাদাত হোসেন কাজল বলেন, ওই শিল্পপতির ট্যাক্সের কাজ করতাম। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ভয়ভীতি দেখিয়ে কর কর্মকর্তারা আমার স্বাক্ষর নিয়েছে।

দেড় হাজার কোটি টাকা খেলাপি

প্রতিবছরই কুরবানির পশুর চামড়া কিনতে দেওয়া হচ্ছে সহজে ঋণ কিন্তু আদায় হয় না। এছাড়া চামড়া খাতে ঋণ পরিশোধে বিভিন্ন সময় বিশেষ সুবিধাও দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর দেওয়া ঋণের অর্থ নিজের মনে করে খেয়ে ফেলছে ফেরত দিচ্ছে না। ফলে এ খাতে মন্দঋণ ১০ শতাংশের ওপর রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে চামড়া খাতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তিন মাস আগে অর্থাৎ ডিসেম্বর প্রান্তিকে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ আর খেলাপি ঋণের অঙ্ক ছিল ১ হাজার ২৮৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত চামড়া খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের অঙ্ক ৭ হাজার ১২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণের ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বা ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা খেলাপি হয়ে গেছে।

বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দিয়েছে ৪ হাজার ৯৫৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১২৬ কোটি ৫২ লাখ বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংক চামড়া খাতে ঋণ দিয়েছে ১৮২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বা ৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

জানা গেছে, দেশে সংগ্রহ করা পশুর চামড়ার বেশিরভাগই আসে ঈদুল আজহার সময়। এ কারণে প্রতিবছরই কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেয় ব্যাংকগুলো। গত বছর যে ঋণ দিয়েছে তা পরিশোধ করলেই নতুন ঋণ দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ঋণের বেশিরভাগই ফেরত দিতে পারছে না এ খাতের ব্যবসায়ীরা। যার কারণে মন্দঋণ কমছে না। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের দেওয়া ঋণ খেলাপি হলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে দিয়ে পুনঃতফশিল করতে পারবে।

পাশাপাশি কাঁচা চামড়া কিনতে ঋণ পাবেন গ্রাহক। তবে নিয়মমতো ঋণ পরিশোধ না করায় চামড়া খাতে ঋণ দেওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। করোনার আগের বছর ২০১৯ সালে চামড়া কিনতে যেখানে ৫৫৫ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। এবার তার অর্ধেকেরও কম ঋণ দিতে চায় সরকারি ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এসব ব্যাংক। যদিও এ পরিমাণ ঋণও শেষ পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ।

চলতি বছর জনতা ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা প্রস্তুত রেখেছে। গত বছর একই পরিমাণ প্রস্তুত রাখলেও শেষ পর্যন্ত বিতরণ হয় মাত্র ৪০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ব্যাংকটি দেয় ২০৫ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংক এবার ৩০ কোটি টাকা ঋণ দেবে। ২০১৯ সালে দেয় ১৫৫ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক দেবে ৭০ কোটি টাকা। করোনা শুরুর আগের বছর ব্যাংকটি দেয় ১৩০ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংক এবার ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে। ২০১৯ সালে যেখানে দিয়েছিল ৭০ কোটি টাকা। এছাড়া ১৯৯০ দশকে বিতরণ করা চামড়ার ঋণের বেশিরভাগই ফেরত না আসায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ খাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তাই বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সোনালী ব্যাংকে চামড়া খাতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল। এসব খেলাপি দীর্ঘদিনের পুরোনো। তবে বিশেষ সুবিধার আওতায় ২% ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বেশিরভাগ খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল করা হয়েছে। সে কারণে বর্তমানে চামড়ায় খেলাপি আছে মাত্র ৯৮ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের একজন ডিজিএম যুগান্তরকে বলেন, কুরবানির চামড়া খাতে বকেয়া আছে ১৮ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের একজন এজিএম যুগান্তরকে বলেন, কুরবানি চামড়ায় এবার বরাদ্দ ৩০ কোটি টাকা। কারণ অধিকাংশ গ্রাহক টাকা দিতে চায় না। তাই এবার বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘গোপনে সিল মারা টিকিয়ে রাখতেই ইভিএমে বিএনপির ভয়’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও গোপনে সিল মারার অপসংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্যই ইভিএমকে ভয় পায় বিএনপি।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার বিকালে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তাজুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ড. হাছান বলেন, প্রথমত কেউ তো জোর করে ক্ষমতায় থাকতে পারে না, জোর করে কেউ ক্ষমতায় যেতেও পারে না। যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে তারা তো জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার কথা ভাবেও না। যদিওবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জোর করে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। তিনি বন্দুক উঁচিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দল গঠন করেছিলেন এবং জোর করে ক্ষমতায় ছিলেন। আমাদের সরকার জনগণের রায় নিয়েই ক্ষমতায় আছে, পর পর তিনটি নির্বাচনে জয়লাভ করেই আমরা সরকার গঠন করেছি।

গত নির্বাচনে বিএনপি ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম সবাইকে নিয়ে জোট গঠন করেছিল এবং বিএনপি পাঁচটি আসন পেয়েছিল উলে­খ করেন সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, আর শুধু ইভিএম নয়, বিএনপি তো সবসময় প্রযুক্তিকে ভয় পায়। খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন বিনা পয়সায় সাবমেরিন কেবল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল আর তিনি বলেছিলেন এটি বসালে বাংলাদেশের গোপনীয়তা নষ্ট হবে। এই বলে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। যে সাবমেরিন কেবল পরবর্তীতে শতশত কোটি টাকা খরচ করে আমাদের বসাতে হয়েছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, দুনিয়ার সব উন্নত দেশে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটের মেশিনের মাধ্যমে ভোট হচ্ছে- যেমন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া। এমনকি মালয়েশিয়াতেও হয়।

বানভাসিদের তিন ধাপে সহযোগিতা বিএনপির

তিন ধাপে সহযোগিতা নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে এনে খাবার সরবরাহ, পুনর্বাসনের কাজ ও চিকিৎসাসেবাকে প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি। এ পর্যন্ত সাড়ে ১০ লাখ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় ত্রাণ তদারকি কমিটির পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ত্রাণ সংগ্রহ ও মনিটরিং সেল গঠন করেছে। এছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় সব এমপি প্রার্থীর কাছ থেকে নগদ অর্থসহ ত্রাণ সহায়তা চেয়ে চিঠিও দিয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যুগান্তরকে বলেন, আমরা তিন পর্যায়ে কাজ করছি। প্রথমত, পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে এনে তাদের খাবার সরবরাহ করা। এরপর বন্যার পানি নেমে গেলে তাদের পুনর্বাসনের কাজ এবং বন্যাকবলিত যেসব এলাকায় মানুষজনের রোগবালাই হবে, তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। আমরা একটা ‘কম্প্রিহেনসিভ’ প্রোগ্রাম নিয়েছি। এছাড়া কৃষকদের সহযোগিতা, বীজতলা সরবরাহ প্রভৃতির মাধ্যমে বন্যার্তদের সহযোগিতা করছি।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ত্রাণ দিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছেন। বিএনপিসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ সব অঙ্গসংগঠন এখন বন্যার্তদের পাশে রয়েছে।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ত্রাণ তদারকির কমিটি করা হয়েছে। এতে সিলেট জেলার দায়িত্বে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরও বিভিন্ন জেলার ত্রাণ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনীতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কিশোরগঞ্জে মির্জা আব্বাস, সুনামগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামালপুরে নজরুল ইসলাম খান, নেত্রকোনায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিলেট মহানগরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া কেন্দ্রীয় ত্রাণ সংগ্রহ উপকমিটি এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ত্রাণ সংগ্রহ ও মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা শাখার দুই শীর্ষ নেতা বরাবর ত্রাণ কর্মকাণ্ডের জন্য সাহায্য ও অনুদান চেয়ে তা সংগ্রহপূর্বক কেন্দ্রীয় ত্রাণ সহায়তাকেন্দ্র চেয়ারপারসন কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সিলেট জেলা ও মহানগর, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ জেলাসহ বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে সাড়ে ১০ লাখ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত অনুদান হিসাবে অন্তত আড়াই কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এ প্রক্রিয়া চলমান। আমরা একদিকে সংগ্রহ করছি, আবার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী বন্যাদুর্গত এলাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিনিয়ত এই ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ড্যাব এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামও বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে নেত্রকোনায় ১৫শ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ৭শ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ত্রাণ তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কৃষি পুনর্বাসনের কাজ করছি। আমাদের টার্গেট হলো ৫ হাজার কৃষকের মধ্যে দুই কেজি করে রোপা আমন ধানের (গোল্ডেন) বীজ দেব। ইতোমধ্যে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে এ কার্যক্রম শুরু করেছি।

পরে আরও ৫ হাজার কৃষকের মাঝে শাকসবজির বীজ দেব। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। জেলার নেতারা প্রতিদিন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সিলেট জেলা ও মহানগরে আমরা ১১শ বস্তা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। প্রতিটিতে ২০ কেজি করে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ছিল। শিগগিরই কুড়িগ্রামেও যাব। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জে কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। হাওড়ের ৫শ ভাসমান মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত ৮০ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চলবে।

আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

ঈদের এখনো চার দিন বাকি। কর্মস্থলের ছুটি হয়নি। তারপরও রাস্তাঘাটে ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে ছুটছেন অনেকে। বুধবার রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রাজধানীতে। তীব্র যানজট দেখা দেয় সড়কগুলোতে। আজ শেষ অফিস। আর আজ থেকেই মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বুধবার মোটরসাইকেল আরোহীদের বাড়তি চাপ ছিল সড়ক-মহাসড়কে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঘরমুখী মানুষের চাপ মূলত শুরু হবে শুক্রবার থেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর কারণে এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কম হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদের মাওয়া ও পাটুরিয়ায় অন্তহীন যে ভোগান্তি পোহাতে হতো তা এবার হয়তো হবে না। কারণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ যাত্রী সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে ছুটে চলায় ঘাটের বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া নৌযানেও তুলনামূলক ভিড় কম হওয়ায় সদরঘাট থেকে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে রওয়ানা দিতে পারবে।

বুধবার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ট্রেন স্টেশনে থামতেই হুড়মুড়িয়ে উঠে যায় অগ্রিম টিকিটকাটা যাত্রীরা। সঙ্গে বিনা টিকিটের যাত্রীদের চাপও ছিল।

সরেজমিন দেখা যায়, সকালে মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করে। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী ভিড় প্রচণ্ড ছিল। যাত্রী ও যানবাহনের চাপে রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকেই শত শত যাত্রীকে জড়ো হতে দেখা যায়। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলগামী পরিবহনগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেড়ে যায়। তবে যাত্রী সংকটে কিছু রুটের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পরও ছাড়তে দেখা গেছে। এদিকে থেমে থেমে বৃষ্টি ও রাজধানী থেকে বের হওয়ার সময় যানজটের কারণে ঘরমুখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক ও প্রগতি সরণির অবস্থা ছিল বেশি খারাপ। এই দুটি সড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করলে যানবাহনগুলোকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল ৮টায় গাড়িতে উঠেছি। এখন একটা বাজে। পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকা পার হতে পারিনি। দুর্ভোগ এড়াতে আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ সফল হলো না। সেই দুর্ভোগেই পড়তে হলো।’

আরেক যাত্রী বলেন, মহাখালী টার্মিনাল থেকে একযোগে অনেক গাড়ি ছাড়ার কারণে বিমানবন্দর রুটে যানজট হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তির হবে-এই ধারণা ছিল প্রায় সবার। বাস্তবেও তাই দেখা যাচ্ছে। বুধবার সদরঘাটে যাত্রীচাপ তেমন ছিল না। বেশিরভাগ যাত্রী নির্বিঘ্নে সড়কপথে রওয়ানা হয়েছেন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বিলাসবহুল নতুন নতুন বাস নেমেছে। ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার চিত্রও নেই।

এছাড়া পদ্মা সেতু উত্তর থানা মোড় থেকেও বাসে উঠতে দেখা গেছে যাত্রীদের। তবে ঈদ সামনে রেখে বাড়তি ভাড়া আদায়ের পুরোনো অভিযোগ এবারও আছে। পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় ট্রাক কিংবা পিকআপে মোটরসাইকেল পার করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘রাস্তায় পরিবহণ সংকট। বাড়তি ভাড়া। নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে যাব, সেখানেও বাধা। ফেরিতে মোটরসাইকেল তুলতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে-দুর্ঘটনা শুধু মোটরসাইকেল চালকরাই ঘটায়।’ বাড়তি ভাড়া ও পরিবহণ সংকটের কারণে ট্রাকযোগে বৃষ্টিতে ভিজেও শত শত মানুষকে পদ্মা সেতু পার হতে দেখা গেছে। তাদের একজন বলেছেন, ট্রাকে ভাড়াও কম, আবার সেতু দেখাও সহজ। তাই ট্রাকেই যাচ্ছি।

আবার অনেকেই পিকআপে মোটরসাইকেল পার করেও খুশি। তাদের বক্তব্য-‘এটাও ভালো। আগে মাওয়া ঘাটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এবার অন্তত সেই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা মিলেছে।’

অপরদিকে এদিন ঢাকা-পাটুরিয়া রুটে ছিল যানবাহনের চাপ। সকাল থেকেই পাটুরিয়ায় প্রতিটি ফেরি যানবাহন ও যাত্রী বোঝাই হয়ে ছেড়েছে। মোটরসাইকেলের চাপও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ভোগান্তি ছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ পাড়ি দিতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। একজন যাত্রী জানান, আগের তুলনায় এই ঘাট অনেক ফ্রি। এ রকম থাকলে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে। আগে ৩-৪ কিলোমিটার যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এবার এখনো তা দেখা যায়নি। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে।

এদিকে নৌপথে যাত্রী পরিবহণ নিরাপদ ও বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে ৮টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। ঈদের আগে তিন দিন ও পরে তিন দিন এসব টিম সদরঘাট, মাওয়া, পাটুরিয়ায় নৌরুটে দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীদের দ্বিতীয় দিনের যাত্রা ছিল। এদিন কমলাপুর থেকে ৩৯ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। মেইল, কমিউটার এবং আন্তঃনগর ট্রেন মিলে এদিন টিকিটধারী যাত্রী ভ্রমণ করেছে প্রায় ৫৫ হাজার। এছাড়া প্রায় দেড়গুণ যাত্রী বিনা টিকিটে ভ্রমণ করেছে। প্রতিটি বগিতেই অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ট্রেনে দায়িত্বে থাকা একাধিক টিটিই জানান, কমলাপুর থেকে ছেড়ে বিমানবন্দর পার হলেই বিনা টিকিটের যাত্রীরা এসি এবং কেবিনে ঢুকে পড়েন।

রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার জানান, বিনা টিকিটে যারা যেতে চায় তাদের ঠেকাতে দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রেন ছাড়ার পর অনেকে চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়ছেন। ট্রেন স্টেশনে থামতেই হুড়মুড় করে উঠে পড়ছেন যাত্রীরা। কিছু ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে স্বীকার করে তিনি বলেন, বুধবার ২০ মিনিট থেকে ঘণ্টাখানেক বিলম্বে চলেছে ৭টি ট্রেন। এটাকে আমরা বিলম্ব বলছিল না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কিছুটা ধীরগতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। কারণ ঈদের সময় প্রতিটা ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী থাকে।

‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থী বাছাই করছে’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বাদ কিংবা ফেল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থী বাছাই করে নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ফেল করাচ্ছে, তা কিন্তু না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বাছাই করছে। যারা সেই পরীক্ষায় বাছাই হচ্ছে না, তারা যে অকৃতকার্য হচ্ছে; বিষয়টি এমন নয়।

বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বন্যায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব শিক্ষার্থীর বই নষ্ট হয়েছে, তাদের তালিকা করে বই দেওয়া হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছাত্রলীগের অর্থের বিনিময়ে নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়গুলো দেখার জন্য দলীয় ফোরামে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তারা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে বের করবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী বেপারী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. হেলাল হোসাইন প্রমুখ।

পরে মন্ত্রী চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যুব মহিলা আওয়ামী লীগের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ও কেক কাটেন।

‘সেরা কূটনীতিক বঙ্গবন্ধু পদক’ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

এক বাংলাদেশি ও ঢাকায় কর্মরত আরেক বিদেশি কূটনীতিককে ‘সেরা কূটনীতিক বঙ্গবন্ধু পদক’-এ ভূষিত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন ও বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ড. ইতো নওকি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত বছর এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।

আজ প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মানজনক এই পদক তুলে দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবমির্মিত ৮ তলা ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে কূটনীতিকদের এ পুরস্কার দেবেন সরকার প্রধান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধু কর্নার’ নামের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও বিদেশের সব বাংলাদেশ মিশনের জন্য অভিন্ন ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।

জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ইউক্রেন ছেড়ে পোল্যান্ড ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতানা লায়লা হোসেন অসাধারণ অবদান রাখেন।

অন্যদিকে ইতো নাওকি ঢাকা-টোকিও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ দুই রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থাকবেন।

ঢাবির স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ সেই বেলায়েত লড়বেন রাবি চবি জাবিতে

৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত শেখের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পড়ার কাঙ্ক্ষিত সেই স্বপ্নপূরণ হলো না। ঢাবির ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। স্বপ্ন ভেঙে গেলেও হার মানতে রাজি নন বেলায়েত শেখ। তিনি লড়বেন আসন্ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভর্তিযুদ্ধেও।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশিত হয়। ঘোষিত ফলাফলে বেলায়েত শেখ অকৃতকার্য হয়েছেন। এতে বেলায়েতের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

তবুও থেমে যাবেন না বেলায়েত শেখ। আগামী ২৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘এ’ ইউনিট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘সি’ ইউনিট ও ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ‘ডি’ ইউনিটে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন তিনি। ইতোমধ্যে রাবি ও জাবির প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছেন বেলায়েত শেখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল জেনেছেন বেলায়েত শেখ এতে তিনি থেমে বিষন্ন মন নিয়ে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার বিকালে কথা হয় বেলায়েত শেখের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, ঢাবির ভর্তি যুদ্ধে হেরে বিচলিত হয়ে পড়লে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় এর প্রভাব পড়বে। তাই তিনি ঢাবিতে খসে পরার কথা না ভেবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন সাজেশন ও গাইড বই পড়ছেন। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমি তুলনামূলক ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তবুও পরীক্ষার ফল খারাপ এসেছে। আমার স্বপ্ন, আমার মায়ের স্বপ্ন ও আমার পরিবারের সদস্যদের স্বপ্ন ছিল আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। কিন্তু সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হলো না।স্বপ্ন পূরণ না হলেও পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চান বেলায়েত শেখ।

তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন তো আমার পূরণ হলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছি। আমি সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাতদিন বিভিন্ন ভর্তি গাইড ও সাজেশনের সহযোগিতা নিচ্ছি। এছাড়াও যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি- কেমন প্রশ্ন হতে পারে সেগুলো জানছি। আমাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফোন করে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমি এতে বেশ উৎসাহ পাচ্ছি। স্বপ্ন পূরণে আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মৃত হাসান আলী শেখ ও জয়গন বিবি দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান বেলায়েত শেখ। তিনি দৈনিক করতোয়া পত্রিকার শ্রীপুর প্রতিনিধি। ১৯৬৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে তার জন্ম। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল আগ্রহ। প্রবল আগ্রহ থাকলেও দারিদ্র্যের কারণে সময় মতো তা হয়ে ওঠেনি।

১৯৮৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা হাসান আলী। বাবার চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতেই পরিবারের সকলে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায় তার লেখাপড়া। তখন বেলায়েত কাঁধে তুলে নেন পুরো সংসারের দায়িত্ব।

পরবর্তীতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বেলায়েত মোটর গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ শুরু করেন। দিনমজুরি ছাড়াও চা বিক্রির কাজও করেছেন তিনি। এসব করে যা উপার্জন হতো তা দিয়েই কোনো মতো চলে যেত সংসার। সঙ্গে ভাই-বোনদের পড়াশোনার দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। অভাবের মাঝে ভাই-বোনদের উচ্চশিক্ষা দিতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুনেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি তিন সন্তানের জনক বেলায়েত শেখের।

ভাই-বোন ও সন্তানদের অপ্রাপ্তি নিজের কাঁধে তুলে নেন বেলায়েত। শুরু করেন আবার পড়াশোনা। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকার বাসাবো দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায় (ভোকেশনাল) নবম শ্রেণিতে আবার রেজিস্ট্রেশন করেন। সেখান থেকেই নিয়মিত ছাত্র হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে জিপিএ ৪.৫৮ পেয়ে দাখিল (ভোকেশনাল) পাশ করেন। পরে ভর্তি হন মহানগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে দুই বছর পড়ে ২০২১ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি-ভোকেশনাল) পরীক্ষা দেন। যার ফল প্রকাশ হয় এ বছর। এই পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৪.৪৩ নিয়ে পাশ করেন।

বেলায়েতের ছোট ছেলে সাদেক শেখ জীবন বলে, বাবা যখন ৯ম শ্রেণিতে পড়েন তখন আমি ৮ম শ্রেণিতে। বাবা যখন এইচএসসি পাশ করেন তখন আমি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। উভয় পরীক্ষায় আমার চেয়েও বাবার জিপিএ বেশি। বাবা সংসারের অন্যান্য কাজ করেও লেখাপড়া করেন। আমরা রাতে যখন ঘুমিয়ে যাই, তখন তিনি রাত জেগে লেখাপড়া করেন।

বেলায়েতের স্ত্রী সখিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলেন। রাতে আমরা শুয়ে পড়লে আমাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় তার জন্য তিনি বাড়ির সামনে তার অফিস কক্ষে বসে গভীর রাত পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।

বেলায়েত শেখ বলেন, বুড়ো বয়সে আমার লেখাপড়া নিয়ে এলাকার অনেকের তিরস্কার ও নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছে। এসব এড়াতেই আমি এলাকার প্রতিষ্ঠানে না পড়ে ঢাকায় ভর্তি হই। আমার কাছের মানুষজনও আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করত। তবে একটা সময় গিয়ে সেটা ঠিক হয়ে যায়।

তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে ক্লাস করেছি, তাদের কাছ থেকে খারাপ কোনো অভিজ্ঞতার শিকার হইনি। আমার সঙ্গে যেসব মেয়ে ক্লাস করে, তারা আমাকে ‘আঙ্কেল’ ডাকে। আর আমি তাদের ‘আম্মু’ ডাকি। এক ছেলে আমাকে ‘বুড়া’ ডেকেছিল। পরে তাকে আমি বলেছি- এই আমি কি বুড়া হইছি? আমাকে ‘দাদা ভাই’ না হয় ‘বড় ভাই’ বা ‘আঙ্কেল’ ডাকবা। এটা নিয়ে তারা বেশ হাসাহাসি করত।

বেলায়েত বলেন, আমার কাছে নিজেকে বয়স্ক লাগে না, ইয়ংয়ের মতোই লাগে। কিছু চুল পেকে গেছে। এগুলো কালি দিয়ে রাখি। কারণ কালি দিয়ে না রাখলে এগুলোর জন্য নিজেকে বয়স্ক মনে হয়। আর তখন মনটা দুর্বল হয়ে যায়।