শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 223

ইউক্রেনে সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে ইইউ

নিষেধাজ্ঞা এবং উত্তেজনার জেরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া, এমন আশঙ্কা করছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানি।

রাশিয়ার গ্যাস না পেলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বার্লিন, যা পঙ্গু করে দিতে পারে তাদের অর্থনীতিকে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিজস্ব অর্থনৈতিক সমস্যা এবং ব্রাসেলসে অন্তর্দ্বন্দ্বের উদ্বেগের ফল ভুগতে যাচ্ছে ইউক্রেন।

গত মার্চে ইউরোপীয় কমিশন ইউক্রেনের জন্য ৯ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এ পর্যন্ত কেবল ১ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, কিয়েভকে ঋণ দেয়ার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য অনুদান দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল জার্মানি।

জার্মান এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় ঋণের নিশ্চয়তা দেয়ার ধাক্কা বহন করতে চায় না বার্লিন।

জার্মান সরকার বারবার সতর্ক করছে যে, এ ধরনের পরিস্থিতি বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বাড়িয়ে দেবে। দেশটির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জ্বালানি ঘাটতি কিছু শিল্পের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।

স্বস্তিতে নেই হাঙ্গেরিও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান শুক্রবার একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ‘ইউরোপীয় অর্থনীতির ফুসফুসে গুলি করা হয়েছে। এটি এখন বাতাসের জন্য হাঁপাচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রচ্যে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর বাইডেন ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য ১০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অগাস্টা ভিক্টরিরিয়া হাসপাতাল পরিদর্শনকালে শুক্রবার এ ঘোষণা দেন বাইডেন। খবর আনাদোলুর।

বাইডেন বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে- পূর্ব জেরুজালেমের হাসপাতালটিতে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ফিলিস্তিনি লোকজন আরও বেশি চিকিৎসাসেবা পাবেন।

বাইডেন আরও বলেন, আমি চাই ইসরাইলিদের মতো ফিলিস্তিনি জনগণও একই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাক। এ ক্ষেত্রে যাতে কোন ধরণের বৈষম্য না হয়।

শুক্রবার পূর্ব জেরুজালেম সফরের সময় কোন ইসরাইলি বা ফিলিস্তিনি নিরাপত্তারক্ষী সঙ্গে রাখেননি।

পূর্ব জেরুজালেমের পর বাইডেন ফিলিস্তিনের প্রাচীন শহর বেথেলহেম পরিদর্শন করেন।

বিরূপ পরিস্থিতির মুখে অর্থনীতি

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের মাঝামাঝি এখন। আজ শ্রাবণের প্রথম দিন। সবে কুরবানির ঈদ পালিত হয়েছে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে। খামারিদের ব্যবসা ভালো হয়েছে, যদিও কিছু খামারি হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সার্বিকভাবে পবিত্র কুরবানি ঈদের অর্থনীতি মোটামুটি ভালোই গেছে। সারা বছর রেমিট্যান্সের প্রবাহে ধীর প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেলেও ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কিছুটা বেড়েছিল। বেতন-ভাতা মোটামুটি সবাই পেয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষ এবারই প্রথম ফেরি ছাড়া পদ্মা নদী পার হয়ে যার যার গন্তব্যে গিয়েছেন। লঞ্চ-স্টিমারের ব্যবসা মনে হয় কিছুটা কম হয়েছে।

তবে মূল্যস্ফীতির খবর ভালো নয়। এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেড়েছে। জুন-জুলাই মাসেও তা-ই। মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিই প্রকট। এর থেকে সহসা মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি না ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটে।

আমাদের এখন সমস্যা অনেক। বস্তুত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট শুরুই হয়েছে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে। দুই-আড়াই বছর গেছে করোনার ধ্বংসযজ্ঞ। অর্থনীতি বিপর্যস্ত। সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ গেছে। সরবরাহ সংকট ছিল সর্বত্র। জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। মানুষ ছিল কর্মহীন, কর্মচ্যুত, বেকার। হতাশায় নিমজ্জিত ছিলাম আমরা। আশঙ্কা, আতঙ্ক ছিল সর্বত্র।

সেই দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বিশ্ব আজ নতুন ‘রোগে’ আক্রান্ত। যুদ্ধ-রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দৃশ্যত; কিন্তু বাস্তবে তা এখন আগের দিনের মতো ঠান্ডাযুদ্ধ (কোল্ড ওয়ার)। সেই আমেরিকা-রাশিয়া ঠান্ডাযুদ্ধের মতো। আমেরিকা ও ইউরোপ মদদ দিচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ করছে। আমেরিকা রাশিয়ার ওপর নানা ধরনের ‘স্যাঙ্কশন’ দিচ্ছে। ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বাকি বিশ্বের বাণিজ্য বন্ধ বা বিঘ্নিত। রাশিয়ার তেল-গ্যাস-গম, ইউক্রেনের গম ছাড়া আমাদের চলে না। জ্বালানি সংকট তীব্র, জাহাজ নেই-পরিবহণ সংকট। বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানে আমাদের মতো দেশের সর্বনাশ। আমরা জ্বালানি আমদানি করি। বিশাল পরিমাণ টাকা যায় এ খাতে। এর মূল্য বাড়া মানে আমাদের অর্থনীতির জন্য বড়ই খারাপ খবর। এর লক্ষণ এখন স্পষ্ট। তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমাদের আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। রপ্তানিও বেড়েছে। কিন্তু আমদানির পরিমাণ যেভাবে বেড়েছে, রপ্তানি সেভাবে বাড়ছে না।

এ দুইয়ের মধ্যে যে ব্যবধান, তা অনেকটা পূরণ করে রেমিট্যান্স। খারাপ খবর হচ্ছে, এই রেমিট্যান্সের পরিমাণও আগের মতো বাড়ছে না। সরকারিভাবে আসা ডলারের প্রবাহে ধীর প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। অর্থাৎ আমদানি বেশি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কম। এর ফল বিরূপ অর্থনীতি। দেশের ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্টে’ বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চাপ পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার ধরে রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণ ডলার ব্যাংকগুলোকে দিয়েছে ও দিচ্ছে, যাতে আমদানি-রপ্তানির কাজ স্বাভাবিক থাকে। এর ফল ভালো। কিন্তু আমদানি চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত বেশি হওয়ায় ডলার সংকট দিন দিন বাড়ছে। খোলাবাজারে ডলারের মূল্য কখনো কখনো শত টাকা ছুঁই ছুঁই। আবার দেশের ভেতরে টাকারও সংকট, যার প্রভাব পড়েছে ‘কলমানি মার্কেটে’ (আন্তঃব্যাংক লেনদেন)। যে কলমানি মার্কেটে কোনো ঋণগ্রহীতা ছিল না, সেখানে এখন গ্রাহকের অভাব নেই। ৪-৫ শতাংশে উঠেছে সুদের হার।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘রেপো রেট’ বৃদ্ধি করেছে। তার মানে এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেশি দরে ঋণ নেবে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের ওপর সুদের হার বাড়ানো হয়নি। এখন দরকার টাকার সরবরাহ কমানো-নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারণ মূল্যস্ফীতি এক নম্বর শত্রু। কিন্তু তা বাংলাদেশ ব্যাংক করছে না। ঋণকে সস্তা দরেই দিতে বাধ্য করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আরেক ফ্রন্টে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সেটা হচ্ছে আমদানি খাত। আমদানির ক্ষেত্রে বেশকিছু বাধা-নিষেধ জারি করা হয়েছে। বিলাস দ্রব্যসহ বেশকিছু দ্রব্যের আমদানির ক্ষেত্রে গুরুত্ব বুঝে ‘মার্জিন’ বাড়ানো হয়েছে। একে বলে ‘এলসি মার্জিন’ বা ঋণপত্র খোলার মার্জিন। অনেক ক্ষেত্রে তা এখন শতভাগ। উদ্দেশ্য, আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা। দৃশ্যত বিলাস দ্রব্য কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হলেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু পণ্য প্রয়োজনীয়ও। এসব পণ্যের মূল্য বাজারে ‘মার্জিন নিষেধাজ্ঞার’ কারণে বেড়েছে। তবে সার্বিকভাবে আমদানির চাপ কিছুটা কমেছে।

এতদসত্ত্বেও কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনী পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও অনেক ব্যাংক ডলার সংগ্রহ করতে পারছে না। যেসব ব্যাংক ‘রেমিট্যান্স’ বেশি সংগ্রহ করে, তাদেরও সংকট ডলারের। ফলে ডলারের বাজার কোনোভাবেই স্বাভাবিক হচ্ছে না। এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এখন থেকে সহজে তারা বিদেশে যেতে পারবেন না। মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে অর্থায়ন শ্লথ করা হয়েছে। এসবই আমদানি ব্যয় কমানোর জন্য, ডলার সাশ্রয়ের জন্য।

দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি আমাদের জন্য ডলার সংকটের জন্ম দিয়েছে। ডলার সংকটের কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। ‘রেপো রেট’ বাড়াতে হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সর্বশেষ দেখা যাচ্ছে ডলার সংকট অন্যত্রও সমস্যা সৃষ্টি করেছে। এর চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে লোড শেডিংয়ে, যা বিগত কয়েক বছর ছিল না। বিদ্যুৎ ছিল অফুরন্ত। লোডশেডিংয়ের প্রশ্নই ছিল না। বরং বিদ্যুৎ ছিল উদ্বৃত্ত। কিন্তু এখন দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ ঘাটতি। যত বিদ্যুৎ দরকার, তত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ৬ জুলাই বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে গেছে।

’ কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি। মূল কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম মানে হচ্ছে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধির ‘বাড়ি’ কোথায়? বর্ধিত খরচের টাকা আসবে কোত্থেকে? দুটি উপায় আছে। এক. সরকার আরও বেশি বেশি ভর্তুকি দেবে, যা এখনই মাত্রার বাইরে। অথবা বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো।

বর্তমানে সরকার বিদ্যুতে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। আবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার উদ্দেশ্যে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানিতেও সরকার ভর্তুকি দেয় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এখন যদি মূল্যস্ফীতির কারণে আরও ভর্তুকি দিতে হয়, তাহলে এত টাকা আসবে কোত্থেকে? বিরাট প্রশ্ন। এর উত্তর নেই। কারণ আমাদের রাজস্ব বাড়ানো যাচ্ছে না। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় বিগত কয়েক বছর ধরে একই আছে। এটা আগের কয়েক বছরের মতো এখনো ১০ শতাংশের নিচে। জিডিপির আকার বেড়ে যাচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেশি, আগের চেয়ে বেশি। নতুন নতুন খাত-উপখাত জিডিপিতে যোগ হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মতে, দেশে এখন চার কোটি হচ্ছে মধ্যবিত্ত। কিন্তু এত প্রবৃদ্ধির মধ্যেও রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ছেই না। এক জায়গায় প্রায় স্থবির হয়ে আছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ নির্দিষ্ট আয়ের লোকজন ছাড়া বাকিরা খুব কমই আয়করদাতা। আমাদের রাজস্ব আয়ের উৎস ‘কাস্টমস ডিউটি’, ভ্যাট, আয়কর এবং অসম্পূরক শুল্ক। ‘ভ্যাট’ একটি ‘ভোগ-কর’ (কনজামশন ট্যাক্স)। এটা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একই হারে দেয়, যা আয়করের মূলনীতির বিরুদ্ধে। এখানে সমতা ও সক্ষমতার নীতি বিসর্জিত। আয়করের বিরাট অংশ আদায় হয় উৎসে কর্তিত কর থেকে। দেশে ডজন ডজন চিহ্নিত ক্ষেত্র আছে, যার আয়ের ওপর উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। এখানেই ধনী-দরিদ্র একই আসনে।

দেখা যাচ্ছে, আমাদের অনেক ব্যবসায়ী কোনো করই দিতে চান না। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলতেন-তারা শুধু নিতেই জানে, দিতে জানে না। আর এখন নিতে নয়, সরকারই তাদের দিচ্ছে তো দিচ্ছেই। ভর্তুকি, সুদ ভর্তুকি, কর অবকাশ, কর মওকুফ থেকে শুরু করে প্রণোদনা-কী নেই তাদের জন্য! কিন্তু আমাদের দুঃখ, তাদের অবদান ট্যাক্সে খুবই কম। আয়করদাতাদের যে তালিকা প্রতিবছর ছাপা হয় তাতে ধনী, অতিধনীদের নাম কোথায়? জর্দাওয়ালা, বিড়িওয়ালাদের নাম আছে; অতিধনীদের নাম কদাচিৎ। অথচ তাদের সবার নাম থাকা উচিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে তারা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান/দান করেন। নিজেদের ব্যক্তিগত কোনো দানের তথ্য পাই কি? রাজস্বের এ অবস্থার মধ্যে ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড’ অসহায়। তাদের চেয়ে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা বেশি ক্ষমতাশালী বিধায় কর আদায়ে কোনো গতি আসছে না। যেহেতু রাজস্ব বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেই, তাই গতি কী?

গতি ভর্তুকি বাড়ানো নয়, নয় এমনকি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিও। সরকার মনে হয় গতি হিসাবে বেছে নিয়েছে লোডশেডিংয়ের পথ। বিদ্যুৎ উৎপাদন কম অর্থাৎ তেল আমদানি কম। অর্থাৎ খরচ কম। এতে মানুষের কষ্ট হবে। এতে কিছু ক্ষতি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থায় সবাইকে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে কতগুলো পদক্ষেপও গৃহীত হয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বকেয়া বিল আদায় করা হবে। আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দোকানপাট-শপিংমল সন্ধ্যা ৮টার পর বন্ধ রাখতে হবে। বিয়ের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

এয়ারকন্ডিশনারের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। সরকার আরও কিছু পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জানা যাচ্ছে। সময়সূচি পরিবর্তন করে অফিসের সময়সীমা কমানো হতে পারে। এমনকি বাড়ি থেকে অফিস করার ব্যবস্থাও করা হতে পারে। এসব পদক্ষেপ বোঝাই যায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য। বিদ্যুৎ কম ব্যবহার হলে জ্বালানি তেলের আমদানি, গ্যাসের আমদানি কমবে। ডলারের ওপর চাপ কমবে। এর মূল্য স্থিতিশীল হবে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সরকার ভর্তুকি বহনের চাপে থাকবে না। রাজস্ব নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হবে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্যও খুব তাগিদ থাকবে না।

বোঝাই যাচ্ছে, এটা একটা মোটামুটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজমান তা সংকটজনক। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, যদি আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের অবস্থাও ভালো থাকবে না। অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও কষ্টের দিন আসতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না যদি আমরা আগে থেকেই সতর্ক হতাম। একটি দৈনিকের খবরের শিরোনাম : ‘জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর পরিকল্পনার খেসারত দিচ্ছে কি বাংলাদেশ?’ বলা হচ্ছে, আমরা দেশীয়ভাবে গ্যাস উত্তোলনে মনোযোগী না হয়ে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ি। যদি দেশীয়ভাবে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোতাম, তাহলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না।

সে যাই হোক, এসব বিচার-বিশ্লেষণের বিষয়। বর্তমান অবস্থা হচ্ছে, শিল্প খাত ইতোমধ্যেই ভুগতে শুরু করেছে। বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী ও শিল্পে মালিকরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তারা অর্ডারমাফিক উৎপাদন করতে পারছেন না। তারা লোকসানের মুখোমুখি। অনেকেই ব্যাংক ঋণের টাকা তফসিল মোতাবেক পরিশোধ করতে পারছেন না। এ কারণে হচ্ছেন ঋণখেলাপি। একই অভিযোগ আসছে তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের পক্ষ থেকে। পরিস্থিতি যা, তাতে এটাই হওয়া স্বাভাবিক। ভুগতে হবে ব্যাংকগুলোকে। পুনঃতফসিল করতে হবে, সুদ মওকুফ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

এখানেই কি শেষ? না, মোটেই না। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট ভাষণের এক জায়গায় বলেছেন, ভর্তুকি হ্রাসের বোঝার শতভাগ জনগণের ঘাড়ে চাপানো হবে না। অর্থাৎ বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে সরকারকে। কিছুটা ভার সরকার বহন করবে, বাকিটা গ্রাহকরা। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়বে। ইতোমধ্যেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের দামও বাড়বে। আর এর বোঝা যে সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৫০ লাখ ডলারের বেশি এলসিতে তদারকি শুরু

আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে বহুমুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি বড় অঙ্কের এলসিতে কঠোর তদারকি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে তারা ৫০ লাখ ডলার ও এর বেশি অঙ্কের যে কোনো এলসি ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইনে তদারকি করছে। অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্যের বড় অঙ্কের কোনো এলসি খোলা হলেই তার কারণ জানতে চাচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার প্রভিশন ছাড়া বড় অঙ্কের কোনো এলসি খোলার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ও রপ্তানি আয় সেভাবে না বাড়ায় এবং একই সঙ্গে রেমিট্যান্স কমার কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলার প্রবাহ কমে গেছে। যে কারণে এখন আমদানি ব্যয় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলারের জোগান দিতে হচ্ছে। এতে করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও কমে যাচ্ছে। সব মিলে প্রবল চাপে পড়েছে রিজার্ভ। মূলত রিজার্ভের সাশ্রয় করতে ও নিরাপদ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে বেশিরভাগ এলসিই খোলা হচ্ছে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অঙ্কের। এর কম অঙ্কের ছোট ছোট এলসি খোলা হচ্ছে কম। কেননা, এলসি কমিশন ও অন্যান্য চার্জ মিলে বড় অঙ্কের এলসি খুললেই খরচ কম পড়ে। ছোট অঙ্কের এলসি খুললেও খরচ বড় অঙ্কের এলসির সমানই। এ কারণে গ্রাহকরা বড় অঙ্কের এলসিই বেশি খুলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও তদারকি আরোপ করে। এতেও আমদানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এখন এ খাতে তদারকি আরও বাড়ানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনলাইনে একটি ড্যাশ বোর্ডের (বিশেষ সফটওয়্যার) বড় অঙ্কের ঋণগুলো আগে থেকেই তদারকি করে আসছে। কিন্তু আগে ডলারের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় এলসিতে এত কড়াকড়ি করা হয়নি।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকটের কারণে এক্ষেত্রে বেশি তদারকি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি এখন বড় অঙ্কের ঋণের মতো করে বড় অঙ্কের এলসিতেও ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বড় অঙ্কের কোনো এলসি খুললে সে তথ্য সঙ্গে সঙ্গে ড্যাশ বোর্ডে দিতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা পেয়ে সব ব্যাংকের বড় অঙ্কের এলসি খোলার গতিবিধি মনিটর করতে পারে। ফলে কোন ব্যাংকে কেমন ডলারের চাহিদা থাকতে পারে তা আগে থেকেই অবগত থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার চাপ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় এখন আমদানি ব্যয় বেশি মাত্রায় বেড়েছে। এ কারণে তদারকিও বাড়ানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহনীয় হয়ে আসবে। কেননা বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো এখন বিশেষ করে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিতে পারছে। আগে যেটা পারত না। এই ঋণ নিলে বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। এছাড়া রপ্তানিকারকরা আগে বেশি দাম পাওয়ার জন্য ডলার ধরে রাখত। এখন সেটি কমানো হয়েছে। এতে ডলারের সরবরাহ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রায় খোলা হিসাবে (নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট) ডলার রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হিসাবেও তদারকি করছে। বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর কাজে নিয়োজিত এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ডলার ধরে রাখত। সেটি যাতে না করতে পারে সেজন্য প্রবাসীরা যেদিন ডলার এক্সচেঞ্জ হাউজে জমা করবে তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা ব্যাংকে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ জারি করেছে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়ছে।

সূত্র জানায়, এসব ব্যবস্থার পাশাপাশি এখন থেকে যে কোনো অঙ্কের এলসি খোলার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে বলেছে। অর্থাৎ এখন থেকে সব ধরনের এলসির তথ্য আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। এভাবেও বাজারে ডলারের চাহিদা সম্পর্কে আগাম তথ্য নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর বাইরে আবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া অন্য কোনো বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি খুলতে ডলারের জোগান না দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ব্যাংকগুলো ওইসব খাতে কোনো ডলারের জোগান দিচ্ছে না। এতে এসব খাতের এলসি খোলাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কিন্তু এতেও আমদানি ব্যয় ও এলসি খোলা কমছে না। বরং বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মে মাসের এলসি খোলা ও আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে এলসি খোলা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ ও আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এর আগে জুলাই-এপ্রিলে এলসি খোলা ও আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছিল। জুলাই-এপ্রিলে এলসি খোলা বেড়েছিল ৪০ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ৪৪ শতাংশ। মে মাসে এলসি খোলা ও আমদানি ব্যয় দুটোই বেড়েছে।

বিএনপি পতিত রাজনৈতিক দলে পরিণত: সেতুমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিএনপি একটি পতিত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তাদের আহ্বানে জনগণ কখনোই সাড়া দেয়নি। তারপরও দলটির নেতারা দিবাস্বপ্নের ঘোরে আচ্ছন্ন। তারা জনকল্যাণকর রাজনীতির পথ পরিহার করে সব সময় ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। বিএনপি কখনোই জনগণকে ক্ষমতার উৎস মনে করে না। বরং তারা রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি নেতারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে শুধু বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোকেই বিভ্রান্ত করছে না, জনগণকেও উসকানি দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে যশোরের যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ বাদী পক্ষের এজাহার, প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত তথ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপিই জড়িত। বিএনপি সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে। এর কারণও তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার। এভাবেই কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচারকে ব্যাহত বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিএনপি নেতারা মিথ্যা-বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, যখন তাদের অপপ্রয়াস ব্যর্থ হয় তখনই তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ধৃষ্টতা দেখায়। দেশবাসী ভুলে যায়নি, বিএনপির আমলে কীভাবে আইনের ভুয়া ডিগ্রিধারী নেতাকে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি করে বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। নিজেদের দলীয় লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার লক্ষ্যে বিচারপতিদের বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছিল। অন্যদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওয়া ভবন খুলে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব শাসন কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির চৌহদ্দি ডিঙিয়ে বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে। জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তির একমাত্র উৎস। এ দেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় মিছিলে ঐক্যবদ্ধ। আমরা বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাব, ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে জনকল্যাণকর রাজনীতির পথে আসার জন্য।

শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে এ দিনে (১৬ জুলাই) ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে।

এরপর দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাবজেলে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত প্রতিরোধ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুকন্যার আপসহীন ও দৃঢ় মনোভাব এবং সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন দিনটি ‘শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস’ হিসাবে পালন করে থাকে। দিনটি উপলক্ষ্যে আজ বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। বাদ আসর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে আওয়ামী যুবলীগ। এছাড়া ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আলোচনা ও দোয়া মাহফিল, গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে, যার যার অবস্থান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সব বাঙালি হৃদয়ে দেশপ্রেমের বহ্নিশিখা প্রজ্বলিত করে সংকট জয়ের ঐক্যবদ্ধ সুরক্ষা ব্যুহ সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

1
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing button

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে থাকছেন না আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব পদে আর থাকছেন না মু. আশরাফ সিদ্দিকী (বিটু)।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব পদে নিয়োজিত মু. আশরাফ সিদ্দিকীর (বিটু) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আগামী ২১ জুলাই ২০২২ তারিখ থেকে বাতিল করা হল।

জানা গেছে, ২১ জুলাই থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের আদেশ কার্যকর হবে।তবে কী কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এই চাকরি ছাড়লেন, তা জানা যায়নি।

২০১৭ সালে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ে সহকারী প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন আশরাফ বিটু। সবশেষ ২০২১ সালে তার চুক্তির মেয়াদ তিন বছর বাড়ানো হয়েছিল।

দুই ভাইরাসের দাপটে কোণঠাসা মানুষ

দেশে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে এবার ঘরে ঘরে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। করোনা ও ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ কাছাকাছি হওয়ায় অনেকেই দ্বিধায় পড়ছেন। তবে উপসর্গ একই ধরনের হলেও নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসছে। ফলে জ্বরে আক্রান্ত সাধারণ মানুষ শুরুতেই রোগটির ধরন বুঝতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ভাইরাস দুটির দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন জ্বরে আক্রান্তরা।

চলতি মাসের শুরুতে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন আনোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ভাই। রোগ নিশ্চিত হতে কোভিড-১৯ ও এনএস-১ পরীক্ষায় ফল আসে নেগেটিভ। চিকিৎসকের পরামর্শে টানা এক সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর তিনি সুস্থ হন। এর পরের সপ্তাহে স্ত্রী ও দেড় বছরের মেয়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়। জ্বরের মাত্রা ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ছিল।

চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে টেস্ট করে জানা যায় তাদের টাইফয়েড হয়েছে। ভাই, স্ত্রী ও সন্তানের পর আনোয়ার নিজেও জ্বরে পড়েন। এই জ্বর কখনো ১০২ কিংবা ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। সঙ্গে ছিল মুখের মধ্যে তিক্ততা, শরীর ব্যথা, গলা ব্যথা, কাশি ও হাল্কা শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান তার গলায় ইনফেকশন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু আনোয়ার হোসেনই নয়, চলতি মৌসুমে এ রকম নানা কারণে অনেকেই জ্বরে ভুগছেন। এর মধ্যে আছে করোনা, ডেঙ্গি এবং মৌসুমি ফ্লু। জ্বরের কারণে অনেকেরই মুখের রুচি চলে যাচ্ছে এবং তা স্বাভাবিক হতেও অনেক দিন সময় লাগছে।

আইইডিসিআর’র উপদেষ্টা ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চলতি মৌসুমে করোনা, ডেঙ্গি, মৌসুমি জ্বর এবং শ্বাসতন্ত্রীয় ইনফেকশন এই চার ধরনের জ্বরে মানুষকে বেশি ভোগাচ্ছে। মৌসুমি জ্বর কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ট্রান্সমিশন হচ্ছে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এমনটা হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধের মতো মাস্ক পরলে এটি ছড়াবে না। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। ভাইরাস জ্বর হওয়ায় পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এটি সেরে যায়। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ায়ই ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।

তিনি বলেন, এই জ্বর ডেঙ্গি না হলে সেটি শ্বাসতন্ত্র দ্বারা আক্রান্ত ভাইরাস জ্বর বলে ধরে নিতে হবে। রোগীর রেসপিরেটরি চ্যানেল টেস্ট করলে রোগ শনাক্ত সহজ হয়। শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসকে বলে রেসপিরেটরি সিম্পিটিয়াল ভাইরাস। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাস জ্বরের কারণে শরীর ব্যথা ও মুখের স্বাদ কমে যেতে পারে। এক সপ্তাহ পর রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী যুগান্তরকে বলেন, নরমাল ফ্লু ভাইরাস, কোভিড-১৯ এবং টাইফয়েডের কারণে মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। পৃথকভাবে রোগ শনাক্তের জন্য নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে জ্বর হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে এনএস-১ পরীক্ষা করতে হবে। টাইফয়েড শনাক্তে জ্বরের সপ্তম দিনে ভিডাল টেস্ট করাতে হবে। কিন্তু অনেকে জ্বর হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে কোভিড, এন্টিজেন বা ডেঙ্গি টেস্ট করাচ্ছেন। তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক রোগ শনাক্ত হচ্ছে না। করোনা রোধে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। ডেঙ্গির রোধে বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মশা নিধন কর্মসূচি বেগবান করতে হবে। টাইফয়েড যেহেতু পানিবাহিত সেক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলেন, চলতি ঢেউয়ে করোনার তীব্রতা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ যদি শরীরে না থেকে অথবা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো কোনো কারণ না ঘটে থাকে সেটা এক্ষেত্রে ভালো ফল দেবে। আবার ডেঙ্গির কারণে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ বিশেষ করে টাইফয়েড, পেটের অসুখও হচ্ছে। যার কারণে জ্বর হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, করোনার লক্ষণ তিন ধরনের উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে জ্বর, সর্দি, ক্লান্তি, স্বাদ বা গন্ধ হারানো। কম সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, ব্যথা এবং যন্ত্রণা, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি, আঙুল বা পায়ের পাতার বিবর্ণতা, চোখ লাল হওয়া বা চোখ জ্বলা। গুরুতর উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া বা শ্বাসকষ্ট, কথা বলা বা চলাফেরার ইচ্ছা হারানো, বুক ব্যথা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গিজ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে, বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়।

এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যে, মনে হয় হাড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’। জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচ দিনের সময় শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, ভাইরাসজনিত জ্বর একজনের কাছ থেকে অন্যজনের ছড়ায়। যে কারণে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। তবে এই জ্বর সাত দিনের মধ্যে খুব বেশি জটিলতা ছাড়াই এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই সাধারণ ফ্লু মনে করে করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। মনে রাখতে হবে এখন করোনা চলমান। কারও যদি জ্বর, ঠান্ডা, কাশি লেগে থাকে তাহলে পরীক্ষা করানো উচিত। এতে যিনি আক্রান্ত হচ্ছেন তার থেকে অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা যাবে। পরীক্ষা না করলে জানা যাবে না তিনি আক্রান্ত কিনা। আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার চারপাশে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন।

ঈদের দিন কলকাতায় সড়কে প্রাণ গেল চবি ছাত্রীর

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী শাজমিলা জিসমাম মুন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।

ঈদের দিন রোববার (১০ জুলাই) কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি বাস জিসমাম মুন ও তার মা চবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শিরিন আরা চৌধুরী ডলিকে চাপা দেয়। এতে মা-মেয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে মঙ্গলবার হাসপাতালে মারা যান মেয়ে শাজমিলা। গুরুতর আহত অধ্যাপক ড. শিরিন আরা চৌধুরী ডলি কলকাতা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদ মোস্তফা।

অধ্যাপক রাশেদ মোস্তফা জানান, অধ্যাপক ড. শিরিন আরা চৌধুরী ডলি চিকিৎসার জন্য ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভারতে যান। ঈদুল আজহার দিন দুপুরে কলকাতার সড়কে জেব্রা ক্রসিং হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস মা-মেয়েকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অধ্যাপক ড. শিরিন আরা চৌধুরী ডলি পরিবারসহ নগরীর মেহদিবাগ এলাকায় বসবাস করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়।

ভাই আবরার ফাহাদের বুয়েটেই ভর্তি হচ্ছেন ফাইয়াজ

ভাই আবরার ফাহাদের বুয়েটে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। এমনকি বুয়েটের যেই হলে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে আবরার ফাহাদ প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই শেরেবাংলা হলেই থেকে পড়াশোনা করতে চান ফাইয়াজ।

বুধবার বেলা ২টা ২০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফাইয়াজ তার সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছার কথা পোস্ট করেন।

ফাইয়াজ বলেন, আমার পরিবারের সবার মতামতের ভিত্তিতে আমি বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু আপনারা অনেকেই নিজেদের মতামত জানিয়েছিলেন, তাই এই ব্যাপারটা আপনাদের জানানো।

সত্যি বলতে পরিবারের কেউই সরাসরি আইইউটি বা বুয়েটে ভর্তির ব্যাপারে তেমন কিছু বলেননি জানিয়ে ফাইয়াজ বলেন, প্রায় সবাই বলেছেন যেখানে আমার ইচ্ছা সেখানেই ভর্তি হতে। তাই বলা যায়, আমার ইচ্ছা অনুসারেই এখানে ভর্তি হতে চাওয়া।

বর্তমানে ফাইয়াজ গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে ভর্তি হয়ে আছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ নিহত হন। এ ঘটনায় আবরারের বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ব্যক্তিরা সবাই বুয়েটের ছাত্র ছিলেন।