শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 220

প্রবাসীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এলো

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে প্রবাসীদের বা বিদেশিদের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খোলা অনিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা ননরেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টের (এনএফসিডি) সুদের হার বাড়ানোর ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফলে এখন থেকে এ হিসাবের সুদের হার ব্যাংকগুলোই নিজেরা নির্ধারণ করতে পারবে। তারা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এ হার বাড়াতে পারবে। আগে এ হার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করত।

এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদেরও জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রবাসী বা বিদেশিদের দেশের ব্যাংকগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রায় সঞ্চয় করতে এনএফসিডি হিসাব চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসাবে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) ইউরো মুদ্রার ছয় মেয়াদী বন্ডের সুদের হারের সমান সুদ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ সুদের হার উঠানামা করে। সাধারণত আগে এক থেকে দেড় শতাংশ থাকত। যে কারণে সঞ্চয়কারীরা আমানতের বিপরীতে সুদ কম বা বেশি পান। বর্তমানে ইউরোর মুদ্রার মান কমে যাচ্ছে। একইসঙ্গে সুদের হারও কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এ হার শূন্যে নেমে এসেছে। যে কারণে এ হিসাবে প্রবাসীরা আর বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় করতে পারছেন না।

যারা আগে করেছেন তারাও অনেকে তুলে নিচ্ছেন। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এনএফসিডি হিসাবের সুদের হার ব্যাংকগুলোকে নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে এ হিসাবে সুদের হার নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে তারা চাহিদা অনুযায়ী প্রবাসীদের রেমিট্যান্সও সংগ্রহ করতে পারবে।

ইউরোর সুদের হার কমে গেলেও ডলারের সুদেও হার বেড়েছে। পাউন্ডের সুদের হার কমে গেলেও এখনো তা ইতিবাচক। তবে ইউরোর সুদের হার শূন্যে নেমে এসেছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এর সুদের হার সামান্য বাড়ালেও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ডলারের সুদের হার দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে এখন ডলারের চাহিদা বেশ তুঙ্গে।

এই সুবিধা শুধু প্রবাসীরাই পাবেন না। বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি, ফার্মও পাবে। এগুলোতে কর্মরত কর্মীরাও এ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ও হাইটেক পার্কে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোও এ সুবিধা পাবে। তবে হিসাব খুলতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়।

সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স কমে ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের রিজার্ভে চাপ পড়েছে। এ কারণে রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকিং খুলবে রাশিয়া

ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে নানা রকম নিষেধাজ্ঞায় হাঁপিয়ে উঠেছে রাশিয়া। যদিও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেল বিক্রি করে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিচ্ছে মস্কো।

নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত রাশিয়া এবার বিনিয়োগ টানতে ইসলামি ব্যাংকিং বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ নতুন নন-ক্রেডিট আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালুর অনুমোদন দিচ্ছে।

এ প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামি ব্যাংকিংয়ে বিশেষায়িত হবে। আর রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে প্রতিষ্ঠানগুলো। যেহেতু ইসলামি ব্যাংকিং খাত ক্রমেই বড় হচ্ছে।

তাই ইসলামি ব্যাংকিং পরিচালনার আইনি পথ খুলে দিলে মুসলিম দেশগুলো থেকে পশ্চিমা বিনিয়োগ আসতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের মুসলিমদেরও সেবা দেওয়া যাবে।

রাশিয়া এই উদ্যোগ খুবই দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চায়। সেজন্য ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি নতুন আইনের খসড়া করছে দেশটি।

এ জন্য তো আমরা যুদ্ধ করিনি: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে এক কলেজছাত্রের বিতর্কিত স্ট্যাটাসের জের ধরে নড়াইলের দিঘলিয়া সাহাপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান একাধিক মন্দির ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমার অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এজন্য তো আমরা যুদ্ধ করিনি। আমাদের এই ভাইদের (আক্রান্তদেরকে) যদি বাঁচাতে না পারি।

রোববার (১৭জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিঘলিয়ার সাহাপাড়ায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের ঘর বাড়ি ও মন্দির পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রশাসনকে সঠিক তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নাগরিক আন্দোলনের আহবায়ক জুনায়েদ সাকী।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, আপনাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে- এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা আপনাদের পাশে আছি। দূরে থাকলেও যে কোনো বিপদ আপদে আমরা অন্তরে আপনাদের সঙ্গে আছি।

প্রসঙ্গত, লোহাগড়ার দিঘলিয়া সাহাপাড়ার অশোক সাহার ছেলে ও দিঘলিয়া নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক (পাশ) ১ম বর্ষের ছাত্র আকাশ সাহার (২০) বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরই জের ধরে শুক্রবার (১৫ জুলাই) জুমার নামাজের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজরে বিষয়টি আসার পর ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

পরে সন্ধ্যায় উত্তেজিত জনতা দিঘলিয়া বাজারে বিক্ষিপ্তভাবে নিত্য দুলাল সাহা, অনুপ সাহা, অশোক সাহা, সনজিদ সাহার মুদি দোকান এবং গোবিন্দ কুণ্ডু ও গৌতম কুণ্ডুর মিষ্টির দোকান হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এছাড়া সাহাপাড়ার গৌরসাহা, চায়না রানী সাহা, বিপ্লব সাহার বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা গোপাল সাহার বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। আগুনে ওই টিনশেড ঘরটি পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। উত্তেজিত জনতা রাত ৯টার দিকে আখড়াবাড়ী সার্বজনীন সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সাহাপাড়া আরেকটি মন্দিরের চেয়ার ও সাউন্ড বক্স এবং শশ্মান মন্দিরেও হামলা করে ভাঙচুর করে। এরপর উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়।

এ ঘটনায় খবর পেয়ে শনিবার বিকালে নড়াইল-২ আসনের জাতীয়

সবার জন্য বিএনপির দরজাও খোলা

দেশ পরিচালনায় পুনরায় ক্ষমতায় আসতে ‘মাঠের বিরোধী দল’ বিএনপিও শক্তি সঞ্চয়ে মরিয়া হয়ে রাজপথে নামতে চায়। এজন্য দলের শক্তি বাড়াতে সরকারি দলের চেয়ে সব ব্যারামিটারে এগিয়ে থাকতে চায় তারা। দল এবং জোটের কলেবর বাড়াতে ইতোমধ্যে সবার জন্য দরজা উন্মুক্ত রাখার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা অভিমান করে দল ছেড়েছেন কিংবা নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন, তাদেরও ঘরে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দলকে আরও শক্তিশালী করতে এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কয়েকজন যুগান্তরকে জানান, নতুন লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে পুরোদমে চলছে দল পুনর্গঠন। পাশাপাশি অন্য দল থেকে বিএনপিতে আসতে চাইলে তাদের গ্রহণ করা হবে সাদরে। এছাড়া কথিত সংস্কারপন্থি যেসব নেতা নিষ্ক্রিয় আছেন তাদেরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারাই বিএনপিতে ফিরতে বা নতুন করে যোগ দিতে চান তাদের মানতে হবে বেশকিছু শর্ত। শুধু মুখে মানা নয়, মনেপ্রাণে তা বিশ্বাস ও ধারণ করতে হবে। অন্যতম শর্তের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব মেনে নেওয়াসহ জিয়া পরিবার নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা সমালোচনা করা যাবে না।

তবে যেসব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে যাদের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় তাদের দলে ফেরা সহজ হবে না। যদি কাউকে দলে ফিরিয়ে নেওয়াও হয়, তাদের আগামী দিনে দলীয় মনোনয়ন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হবে। জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। দল করতে হলে সবাইকে শৃঙ্খলা মানতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে কেউ যদি ভুল স্বীকার করে দলে ফিরতে চান তাহলে হাইকমান্ড বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে জিয়া পরিবার একটি আবেগের নাম। এ আবেগকে ধারণ করেই আমরা রাজনীতি করি। কিন্তু যারা জিয়া পরিবার কিংবা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন তাদের বিএনপি করার নৈতিক অধিকার নেই। বিএনপির জন্য সবার দরজা খোলা। কিন্তু যারাই দলে ফিরতে কিংবা বিএনপির রাজনীতি করতে চান তাদের তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং জিয়া পরিবারকে ধারণ করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে দলে কারও কোনো প্রশ্ন নেই বলেও জানান এ নেতা।’ দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলের পুরো নেতৃত্বেই দিয়ে আসছেন লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান। তাকে ভারপাপ্ত চেয়ারম্যানও করা হয়েছে। তাছাড়া খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে দল পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কমিটি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারেক রহমানই এখন শেষ কথা।

সূত্র জানায়, দলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে অঙ্গসংগঠনসহ সব জায়গায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আস্থাভাজনদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা বিরোধিতা করছেন তারা এখন কোণঠাসা। তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তারা সেখান থেকে সরে এসেছেন। তারেক রহমানই বিএনপির আগামী দিনের কান্ডারি-এমন বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন তারা।

হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় অনেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপির হাইকমান্ড। কিন্তু হাইকমান্ডের এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেকেই ভোট করেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না মানায় তাদের অনেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৈমুর আলম খন্দকার ও মনিরুল হক সাক্কুও রয়েছেন। এছাড়াও পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় বহিষ্কার হন কেউ কেউ। সবমিলে সারা দেশে শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, তৃণমূলে এসব নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই আগামী দিনের আন্দোলন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে হাইকমান্ডের। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে এসব নেতাদের বহিষ্কার প্রত্যাহারে হাইকমান্ডে সুপারিশের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যারা বহিষ্কারাদেশ প্রতাহারে আবেদন করবেন তাদের বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে কয়েক নেতার বহিষ্কারাদেশ। এদিকে বহিষ্কার ছাড়াও দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক নেতা স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেন। এদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী নেতা। তাদের কেউ সাবেক সংসদ-সদস্য এমনকি মন্ত্রীও ছিলেন। বিগত সময়ে দলে নানাভাবে তারা আর্থিক সহায়তা করতেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানান। দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা যুগান্তরকে বলেন, যারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পদত্যাগের কারণ জানতে চেয়েছি। তাদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন, সরকারের নানা চাপ এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এছাড়া বিকল্প ছিল না। যারা দল ছেড়েছেন তাদের বেশিরভাগই দলের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। এমনকি বিএনপির কোনো সমালোচনাও তাদের মুখ থেকে শোনা যায়নি। পদত্যাগ করে তারা রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা যুগান্তরকে বলেন, যারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে তাদের অনেকেরই যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি তাদের কয়েকজন পদত্যাগের আগে হাইকমান্ডের সঙ্গে পরামর্শও করেছেন। সময়-সুযোগমতো তারা আবারও দলে সক্রিয় হবেন। স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, নানা কারণে আমরা সাংগঠনিকভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছি। কিন্তু মনেপ্রাণে আমরা জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে ধারণ করি। সেটা হাইকমান্ডও জানে। সঠিক সময়ে আমরা ফের দলে সক্রিয় হব। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে কিংবা দল ছেড়ে গেছেন তারা ফিরতে চাইলে দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কোন প্রেক্ষাপটে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে সবকিছু যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে’।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি করতে হলে প্রথমে দল এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। না হলে তো তার দল করার নৈতিক অধিকারেই নেই। যাদের দলে ফিরিয়ে আনা হবে প্রথমে এ বিষয়টিই গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য না থাকলেও কাউকে দলে নেওয়া হবে না।’

২৫ জেলায় আসছে নতুন এসপি

পুলিশ সুপার (এসপি) পদে শিগগিরই বড় পদায়ন আসছে। ২৫ জেলার এসপিসহ সম্প্রতি ১১৯ জন এসপি পদমর্যদার পদ খালি হয়েছে। এসব পদের মধ্যে পছন্দের স্টেশনে পোস্টিং পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকে। পদ ছাড়াই যারা পদোন্নতি পেয়েছিলেন, তাদের ভাগ্যও খুলছে এ পদায়নের মাধ্যমে।

গত বছরের ২ মে ৬৩ জন অতিরিক্ত এসপিকে এসপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদ খালি না থাকায় তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনকে এখনো পদায়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদেরকে এক বছরের বেশি সময় পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়। অতিরিক্ত ডিআইজি পদে সম্প্রতি বড় পদোন্নতি হওয়ায় অনেক এসপি পদ খালি হয়। এই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে পদায়নবঞ্চিত কর্মকর্তাসহ অনেকেই এবার এসপি পদে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার এসপি হিসাবে পদায়ন পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন পদায়নপ্রত্যাশীরা। কাক্সিক্ষত পদায়ন পেতে তারা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের তদবিরে। কারণ, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যারা জেলার এসপি পদে পদায়ন পাবেন, তাদের মধ্যে বিসিএস পুলিশের ২৪ ও ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা বেশি। তবে ২৭তম ব্যাচের কয়েকজনকেও জেলার এসপি হিসাবে পদায়ন দেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, গত বছর পদোন্নতির পর সেখান থেকে ৪৮ জনকে র‌্যাবে উপপরিচালক পদমর্যাদায় বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর এই পদায়ন নিয়ে র‌্যাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ কারণে ঝুলে যায় ৪৮ এসপির পদায়ন। পরে নয়জনকে র‌্যাবে উপপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। বাকি ৩৯ জনকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তারা এখনো পুলিশ সদর দপ্তরে ন্যস্ত। সামনের পদায়নের ক্ষেত্রে তাদের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে, পদায়নের ক্ষেত্রে সরকারি দলের অতি আস্থাভাজনদের কদর একটু বেশি। ছাত্রজীবনে যাদের সরকারি দলের ভালো ক্যারিয়ার রয়েছে, তারা এগিয়ে আছেন অপেক্ষাকৃত ভালো স্টেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন যাদের এসপি হিসাবে পদায়ন করা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদেরই সংশ্লিষ্ট জেলায় দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনা বেশি। এজন্য এবারের এসপি পদে পদায়নের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বিসিএস ১৮ ও ২০তম ব্যাচের ৩২ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত থেকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ সুপার পদ থেকে ২০, ২২ ও ২৪ ব্যাচের ১১৯ জনকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সম্প্রতি এই ১১৯ জনসহ ১৩৯ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়। এ কারণে ২৫ জেলার পুলিশ সুপারসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইউনিটের ১১৯টি এসপি পদ একসঙ্গে ফাঁকা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিএমপিতে দীর্ঘদিন দায়িত্বরত উপকমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার বেশকিছু কর্মকর্তাকে এবার জেলায় এসপি হিসাবে পাদায়ন দেওয়া হতে পরে। মাদকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতির কারণে কক্সবাজার, লালমনিরহাট, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপার পদে অধিকতর চৌকশ কর্মকর্তাদের দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মাদক উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অতীতে যাদের বড় সাফল্য রয়েছে, তাদের এসব স্টেশনে পোস্টিং পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এদিকে সূত্র জানায়, ঝিনাইদহে পোস্টিং পেতে পারেন ২৫ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। কিশোরগঞ্জে পদায়ন হতে পারে ২৪ ব্যাচের একজন কর্মকর্তার। তিনি এর আগেও সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ওই কর্মকর্তা এখন পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। শরীয়তপুরে পদায়ন পেতে পারেন ২৭ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। লালমনিরহাটে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে ২৪ ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে। ওই কর্মকর্তা এখন ডিএমপিতে কর্মরত। ঢাকা জেলায় ২৪তম ও পিবিআইয়ের ৪টি এসপি পদে ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের দেখা যেতে পারে। সিআইডির ফাঁকা পদগুলোয়ও ২৫ ও ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হতে পারে। ডিএমপির তেজগাঁও ও রমনা বিভাগের উপকমিশনার পদে ২৪ ও ২৫ ব্যাচের দুই কর্মকর্তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলায় পদায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতদিন এপিবিএনের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নে পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার কর্মকর্তারা কমান্ডিং অফিসার (সিও) হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। সম্প্রতি সিও হিসাবে সেখানে পদায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের। তাই এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটে পুলিশ সুপার পদে বেশ কয়েকটি পদ খালি হয়েছে। পুলিশ সদরে সংযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওইসব ব্যাটালিয়নে এসপি পদে পদায়ন দেওয়া হতে পারে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সনদ থাকলেও নেই পেশাগত স্বীকৃতি

দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদ থেকে পাশ করা সনদ থাকলেও নেই পেশাগত স্বীকৃতি। ফলে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন হেলথ/মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) কোর্সে উত্তীর্ণ দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা যুগান্তরকে বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে তারা পাশ করেছেন। কর্মের সুযোগ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করছেন। তবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) তফসিলে কোর্সটি অন্তর্ভুক্ত নয়। সরকারি চাকরিতে ডেন্টাল পেশায় কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে যোগ্যতা থাকলেও পেশা চর্চার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পরছেন।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১১-১২ সেশনে সরকারিভাবে কোর্সটি অনুমোদন দেয়। ওই সময় বিএমডিসির অধিভুক্তি ও শর্তগুলো প্রতিপালনের নির্দেশনা দেয়। তবে বিএমডিসি শুরু থেকেই স্বীকৃতি দিতে খামখেয়ালি করছে। সমস্যা সমাধানে ভুক্তভোগীরা ২০১২ সালে আন্দোলন শুরু করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বিএমডিসি এবং ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেয়। চিঠিতে কোর্সটিকে বিএমডিসি কর্তৃক অনুমোদন দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন প্রদানের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোর্স টাইটেল পরিবর্তন করে ‘ব্যাচেলর অব ডেন্টিস্ট্রি অথবা বিএসসি ইন ডেন্টিস্ট্রি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সুপারিশগুলো একটি গোষ্ঠীর চাপে ব্যাখ্যাহীনভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে বিএসসি ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করে। মামলার রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সুপারিশ প্রত্যাহারকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ আদালত সুপারিশ দুটিকে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও বিএমডিসিকে নির্দেশ প্রদান করে। এরপরও তাদের স্বীকৃতি মেলেনি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিএসসি ডেন্টাল ডিগ্রিধারীদের প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন প্রদানের বিষয়গুলো বিএমডিসির সিস্টেমের মধ্যে পড়ে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের করণীয় কম। তবে বিষয়টি বেশ দীর্ঘ দিন আগের হওয়ায় তিনি এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন। বরং অধিদপ্তরের ডেন্টাল শাখার পরিচালক ভালো বলতে পারবেন।

চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডেন্টাল শাখার পরিচালক ডা. মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদ থেকে পাশ করা ডেন্টাল ডিগ্রিধারীদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমোন দেওয়া বিএমডিসির আইনগত বিষয়। পূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের প্র্যাকটিসের সুপারিশ করা হলেও পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে শুনেছেন। তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে তারা চিকিৎসকদের সহযোগী হিসাবে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার নিয়ম। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এসব গ্র্যাজুয়েটদের সরকারি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিত। এতে করে সেবার পরিধি বাড়বে।

জানতে চাইলে বিএমডিসির সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. আরামান হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যমান আইনে বিএসসি ডেন্টাল ডিগ্রিধারীদের রেজিস্ট্রেশন প্রদানের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তাহলে এসব ডিগ্রিধারীরা পেশাগত কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র একটি মেডিকেল অ্যান্ড অ্যালাইড কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে তাদের আওতায় আনার বিষয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে আরও বলছেন, চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল কোর্সটির তিন বছর অ্যাকাডেমিক এবং এক বছর ইন কোর্স ট্রেনিং (ইন্টার্নি) মাধ্যমে শেষ হয়। ইন কোর্স ট্রেনিং সরকারি ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অথবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের বিভাগসমূহে করতে হয়। বিএসসি-ডেন্টাল কোর্স কারিকুলাম ক্লিনিক্যাল ও সম্পূর্ণ প্র্যাকটিসনির্ভর। এমনকি এই কোর্সের একজন শিক্ষার্থীকে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ক হিউম্যান অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল অ্যানাটমি, অর্থডোন্টিক্স, ডেন্টাল প্রস্থেটিক্স, ওরাল প্যাথলজি অ্যান্ড ওরাল মেডিসিন, কেমিস্ট্রি অব ডেন্টাল ম্যাটারিয়ালস, চিলড্রেন অ্যান্ড প্রিভেনটিভ ডেন্টিস্ট্রি, ডেন্টাল সার্জারি অ্যাসিস্টেন্স অ্যান্ড এনেসথেটিকস, জেনারেল অ্যান্ড ডেন্টাল ফার্মাকোলজি, কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি এবং ডেন্টাল রেডিওলজি প্রভৃতি ক্লিনিক্যাল বিষয়ে (১৯৭০ ঘণ্টা তত্ত্বীয় ও ১২১০ ঘণ্টা ব্যবহারিক) পড়তে হয়। বিডিএস (ব্যাচেলার অব ডেন্টাল সার্জারি) কোর্সেও বিষয়গুলো পড়ানো হয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেন এমবিবিএস ও বিডিএস চিকিৎসকরা। তারপরও কোর্স টাইটেলের সঙ্গে অযাচিতভাবে টেকনোলজি শব্দটি জুড়ে দেওয়ায় সনদধারীদের প্র্যাকটিসের অনুমোদন দেওয়া হয়না।

বিএসসি-ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব উত্তম কুমার যুগান্তরকে বলেন, বিএমডিসি আইনের সব নিয়মনীতি অনুসরণ করে একধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কাউন্সিলের কাছে বারবার আবেদন করলেও বিষয়টি আমলে নেয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির বিধি মোতাবেক মানদণ্ড যাচাইয়ের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সবশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে মূল বিষয়বস্তুকে পাশ কাটিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। আবেদনে বিএসসি ডেন্টাল কোর্সটিকে তফসিলভুক্ত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তারা বিএসসি ডেন্টাল কোর্স টাইটেলে সংযুক্ত টেকনোলজি শব্দটিকে অপব্যাখা করে। ক্লিনিক্যাল কারিকুলামকে টেকনোলজিস্টের তকমা লাগিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। অথচ রাষ্ট্র শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদি পেশাগত ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জন করেছে। এরপরও বিএমডিসি কর্তৃপক্ষ ডিগ্রিকে নিবন্ধন না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বঞ্চিত করছে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন শিক্ষক হওয়া

পৃথিবীতে কিছু কিছু মুখ থাকে, যেগুলো চাইলেও ভোলা যায় না; বরং যতই সময় গড়িয়ে যায়, ততই মুখগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। রক্তের বন্ধন হয়তো থাকে না সেখানে, তারপরও খুব আপন হয় সে মুখগুলো। যেমন-তৃষিত মাটির আপনজন হয়ে ওঠে মেঘ থেকে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির জলরাশি। তীব্র শীতে উদোম শরীরের ছেলেটার আপনজন হয়ে ওঠে এক টুকরো সূর্যের উত্তাপ। খুব চেনা চেনা সেই মুখগুলো, চোখটা বয়সের ছাপে ঝাপসা হলেও মুখগুলো তখনও জ্বলজ্বলে। ঠিক যেমনটা আকাশে ঝুলে থাকা জ্বলজ্বলে তারাগুলো। চশমায় পাওয়ারফুল কাচের লেন্স চোখে লাগিয়ে তখন অন্য সবকিছু ভালো করে দেখার প্রয়োজন হলেও সেই মুখগুলো দেখার জন্য কোনো চশমার প্রয়োজন হয় না; বরং দগদগে কাঁচা ঘায়ের মতো মুখগুলো দেহের ভেতরে প্রবেশ করে জীবনকে যেন নতুন করে চিনিয়ে যায়। কারণ, সেই মুখগুলোয় কখনো কোনো মুখোশ থাকে না; বরং মুখ ও মানুষ থাকে।

যে মানুষটা অনেকটা কুমোরের মতো, কাদামাটি হাতে নিয়ে সেগুলোকে নিজের মতো করে গড়ে। নিজের স্বপ্ন যেখানে অপূর্ণ থেকে যায়, সেখানটায় সেগুলোকে পৌঁছানোর জন্য জীবনকে বাজি রেখে লড়াইয়ে নামে। কখনো চিত্রশিল্পীর মতো হয়ে যায় মানুষটা। জলরং তুলিতে নিয়ে ছবি আঁকে। নিজের সবটুকু উজাড় করে দেয়। ক্লান্তিতে জড়োসড়ো শরীর অতৃপ্তিটা মুছে ফেলার প্রাণান্ত চেষ্টা করে। কিছুই হয়তো নেই মানুষটার; অথচ যা আছে তা নিঃসন্দেহে অমূল্য। পৃথিবীর মানুষের সাধ্য নেই সে অমূল্য রতনকে কিনবার, সে অমূল্য রতনকে তাদের কেনা দাস বানানোর। রঙের বিন্যাস তার ছবিতে বৈচিত্র্য আনে, চিন্তার রংছবির ভেতরের রংকেও ছাপিয়ে যায় কখনো কখনো। তারপরও মানুষটা থেমে থাকে না। তার সংসারের টানাপোড়েনটা আধুনিক পৃথিবীর বাণিজ্যিক মানুষের চোখে হয়তো ধরা পড়ে না কখনো; কিন্তু মানুষটা তো ত্যাগের শরীর নিয়ে তৈরি, ভোগের লোভ তার শরীরের কোথাও দাগ ফেলার মতো সাহস দেখাতে পারে না।

খুব সাধারণ একটা মানুষের কথা বলছি, যাকে মানুষ প্রিয়জন হয়তো মনে করে না; বরং তার প্রয়োজন মনে করে। খুব সুদর্শন নয় হয়তো, তারপরও মস্তিষ্কে গিজগিজ করা চিন্তাগুলো যে মানুষটার কপালের ভাঁজ হয়ে নতুন জীবনের জন্ম দিতে পারে, সেই সাধারণ পৃথিবীর অসাধারণ মানুষটাই হচ্ছেন শিক্ষক। যদিও বলতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত নই, পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন শিক্ষক হওয়া। সবাই শিক্ষক হতে পারে না, কেউ কেউ শিক্ষক হয়। কথাগুলো খুব সহজসরল বলে মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত বিষয়টি খুব জটিল ও গবেষণাযোগ্য।

মনে পড়ছে গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের কথা। তিনি যত বড় না দার্শনিক ছিলেন, তার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষক হিসাবে। অথচ খুব সাদামাটা একটা মানুষ। অসাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড় করালে এ সাধারণ মানুষটাকে হয়তো খুঁজেও পাওয়া যাবে না। উচ্চতাও তেমন মনে রাখার মতো কিছু না, খুব বিশ্রী রকমের মোটা একজন মানুষ। অতিমাত্রায় কুৎসিত একটা মানুষ! তার চোখগুলো দেখে মনে হতো, যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে। নাকটাও ছিল বোঁচা।

কিন্তু এ মানুষটা এমন সব মৌলিক জ্ঞানের জন্ম দিয়েছেন, যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। সক্রেটিস সারা পৃথিবীর শিক্ষক ছিলেন; অথচ তিনি বলতেন, নিজের ব্যাপারে আমি বলব-আমি এটাই জানি যে, আমি কিছুই জানি না। খুব অদ্ভুত এক আত্মবিশ্লেষণ, যেখানে জ্ঞানের মহাসমুদ্রে ডুবে থাকা মানুষটা বুঝতে পারছেন না, তিনিই জ্ঞানের মহাসমুদ্র হয়ে উঠেছেন। তার লেখা কোনো বই নেই; অথচ পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় একাডেমিক দর্শনশাস্ত্রের মৌলিক বিষয় হিসাবে সক্রেটিস পড়ানো হয়। সবচেয়ে বড় কথা, তার চিন্তা কখনো থেমে থাকেনি; বরং তার চিন্তা ক্রমাগত শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে সব যুগে, সব কালে প্রাসঙ্গিক হয়ে মানুষের মধ্যে নতুন নতুন চিন্তার জন্ম দিয়ে চলেছে।

খুব অদ্ভুত ছিল তার শিক্ষাপদ্ধতি। আধুনিক যুগের মতো দামি দামি ইট-পাথরের শক্ত গাঁথুনিতে গড়া শিক্ষায়তনে বসে তিনি শিক্ষাদান করেননি; অথচ তিনি তখনও শিক্ষক ছিলেন, মৃত্যুর পরও তিনি শিক্ষক হিসাবেই বেঁচে আছেন। আধুনিক পৃথিবীর চার দেওয়ালের বন্দিত্বের মধ্যে আবদ্ধ শিক্ষায় তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। শিক্ষাগ্রহণের জন্য কোনো ছাত্র তার কাছে কখনো আসতেন না; বরং তিনি যেখানেই যেতেন, সেখানেই জন্ম হতো ছাত্রদের। যেখানেই যাকে পেতেন, তাকেই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন। সে চেষ্টায় কোনো ক্লান্তি ছিল না, জড়তা ছিল না, স্বার্থের অসুখ ছিল না। শিক্ষক তো এমনই হবেন, মানুষের চোখে তাকে হয়তো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না; কিন্তু তার মধ্যে নিভৃতে বাস করা দার্শনিকটা ছড়িয়ে থাকবেন মানুষের চারপাশে।

মনে পড়ছে বিজ্ঞানী উইলহেলম সমারফিল্ডের কথা। গণিতবিদ মরিস ক্লাইন সমারফিল্ড প্রসঙ্গে বলতেন, ‘তিনি ছিলেন তড়িৎচৌম্বকীয় তত্ত্ব, রিলেটিভিটি এবং কোয়ান্টাম তত্ত্বের দিকনির্দেশক। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, যিনি এ শতকের প্রায় ত্রিশ বছরে আগত কালজয়ী সব পদার্থবিদদের গুরু।’ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ম্যাক্স বর্ন সমারফিল্ডের মেধাবীদের সুপ্ত প্রতিভা বের করে আনার বিষয়ে বলতেন, ‘তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যা সব সময়ই তরুণদের আকৃষ্ট করে। এই আগ্রহী তরুণদের কিভাবে শেখাতে হবে, তা খুব ভালোভাবেই সমারফিল্ড জানতেন। তিনি প্রথমত তাদের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতেন এবং ক্রমান্বয়ে তাদের দুর্বলতাগুলো দূর করে পরিষ্কার ধারণা প্রদান করতেন। শত ব্যস্ততা, যেমন-তার নিজের কাজ এবং গবেষণার মাঝেও তিনি তার ছাত্রদের জন্য সময় বের করতেন।’ ভাবা যায়, কত বড়মাপের মানুষ ছিলেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি যত বড় না বিজ্ঞানী ছিলেন, এর চেয়েও তার বড় পরিচয় ছিল শিক্ষক হিসাবে। নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে তিনি ছাত্রদের গড়েছেন, ত্যাগের পর ত্যাগ করে গেছেন; অথচ সে ত্যাগের মূল্য কখনো হাত পেতে নেননি। নিজের চোখের সামনে নিজের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্ন হতে দেখেছেন বারবার, আশাহত হয়েছেন, আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন; কিন্তু কখনো ভেঙে পড়েননি। নিজে যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি, সে স্বপ্ন পূরণে ছাত্রদের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। রাতদিন সবকিছুকে তুচ্ছ করে ছাত্রদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

বিজ্ঞানী উইলহেলম সমারফিল্ড নিজে ৮৪ বার নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও বারবার তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। হয়তো তিনি ব্যর্থ হননি; বরং যারা তার মতো মানুষকে সে সময় সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি, তারাই ব্যর্থ হয়েছেন। পৃথিবীটা এমনই, যখন কোনো মানুষ তার প্রতিভার গুণে অনেক বড় হয়ে উঠতে থাকে, তখন স্বার্থপর মানুষ তাকে টেনে নামানোর নগ্ন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। তবে সমারফিল্ড কখনো হাল ছাড়েননি। নিজের সঙ্গে নিজে একাই লড়েছেন, তারপর আবার নতুন করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। পথ বদলেছেন কিন্তু নিজে কখনো বদলে যাননি। তার সে ব্যর্থতা সফল হয়েছে যখন তার চারজন ছাত্র নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু কোনো ধরনের ঈর্ষা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ-তিনি জানতেন, ছাত্ররা যখন তার শিক্ষককে অতিক্রম করে যায়, তখন শিক্ষকের জন্য সেটা গৌরবের বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীতে একজন সফল ছাত্রের শিক্ষক হওয়ার মতো আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। খুব অদ্ভুত এক মনস্তত্ত্ব তৈরি হয় এখানে। এমন মনস্তত্ত্বই তৈরি হওয়া দরকার, যেখানে নেপথ্যে দাঁড়িয়ে থাকবেন একজন দার্শনিক, যিনি নিজে জানবেন তিনি দার্শনিক নন, তিনি শিক্ষক নন; অথচ তিনি এমন একজন সাধারণ মানুষ, যিনি অসাধারণ মানুষ গড়তে পারেন।

মনে পড়ছে বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রের কথা, যিনি ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে গবেষণায় ডুবে থাকতে ভালোবাসতেন। গবেষণা করার সময় ছাত্ররা তাকে ঘিরে থাকত। ছাত্রদের গবেষণা শেখাবেন বলে বিয়ে করে সংসার পর্যন্ত করেননি তিনি। খুব ভাগ্যবান একজন মানুষ ছিলেন। ছাত্রদের গবেষণা শেখাতে শেখাতে এক প্রিয় ছাত্রের বুকে মাথা রেখে কখন যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, তা কেউ বুঝতেও পারেনি। এমন ভাগ্য নিয়ে আমরা জন্মেছি কিনা জানি না, তবে এমন ভাগ্য নিয়ে যেন আমাদের শিক্ষার সব স্তরে শিক্ষকরা জন্ম নেন। আরেকজন ছাত্রবান্ধব শিক্ষকের কথা মনে পড়ছে। আমাদের জাতীয় বীর তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক শহিদ শামসুজ্জোহা স্যার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্বে থাকাকালে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে তিনি প্রাণ দেন। প্রাণের ছাত্রদের আগলে রেখে তিনি নিজের বুক পেতে পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে চিৎকার করে বলেন ‘আমি বলছি গুলিবর্ষণ হবে না। আর যদি গুলি করা হয়, তবে কোনো ছাত্রের গায়ে লাগার আগে তা আমার গায়ে লাগবে।’ সাহসী মানুষটি কথাগুলো বলে পিছপা হলেন না। কারণ-এগুলো কথার কথা ছিল না; বরং অন্তর দিয়ে ভালোবাসার মুখগুলোকে আঁকড়ে ধরার আকুতি ছিল। গুলি চালাল পাকিস্তানি হানাদাররা। ছাত্রদের নিরাপদ রাখতে বুক উঁচিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। রক্ত ঝরল মাটিতে। শহিদের রক্ত। নিভে গেল আলোকিত একজন মানুষের জীবন। নিজের জীবন তুচ্ছ ভেবেছেন সন্তানতুল্য ছাত্রদের জন্য। এমন শিক্ষক কি এখন আর আছে, যিনি পরিবারের কথা ভাবেননি, নিজের স্বার্থের কথা ভাবেননি, সব সময় ভেবেছেন ছাত্রদের কল্যাণের কথা। মৃত্যু মানুষটির প্রাণ কেড়ে নিলেও, কেড়ে নিতে পারেনি তার কালজয়ী সত্তাকে। ইতিহাস এই মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষটিকে গড়েনি; বরং তিনিই ইতিহাসকে গড়েছেন।

প্রতিদিন এমন নিঃস্বার্থ শিক্ষক খুঁজি। সেই প্রাণপ্রিয় মুখগুলোকে খুঁজি। কিন্তু কোথায় তারা? তারা তো আকাশের তারা হয়ে গেছেন। সে তারা এখনো রাতে আলোর মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের আলোকিত পথ দেখানোর অপেক্ষা করে। কিন্তু আমরা তো স্বার্থপর হয়ে গেছি। সবাই আর শিক্ষক নেই, কেউ কেউ শিক্ষক। এক দুষ্টচক্রে বাধা পড়ে গেছে শিক্ষকদের প্রকৃত সত্তা। শিক্ষকতা পেশা নয়, এটা একটা আত্মত্যাগ, এটা একটা সেবা। কিন্তু কে শুনবে কার কথা। ছাত্রদের মুখগুলো দেখে কষ্ট লাগে। ওরা ওদের প্রতিভার আলো ছড়িয়ে আলোকিত হতে চায়। কিন্তু শিক্ষক নামের সেই নিঃস্বার্থ মানুষটা তো আর নেই। সব যেন দুঃস্বপ্ন, সব যেন গন্তব্যহীন।

ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী : অধ্যাপক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

সিনেমায় নয়, বাস্তবে ১০ বছর পর স্ত্রীর কাছে ফিরলেন এ পরিচালক

এক দশক মুখের কথা নয়। সংসার ভেঙে এত বছর আলাদাই ছিলেন দু’জনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনের কাছেই ফিরতে হলো। ভালোবাসার টানে ফের স্ত্রীর কাছে ফিরলেন ভারতের বিখ্যাত পরিচালক ইমতিয়াজ আলি।

‘জব উই মেট’, ‘লাভ আজ কাল’ কিংবা ‘হাইওয়ে’। পর্দায় তার ছবি মানেই প্রেমের জাদুকাঠির ছোঁয়ায় আমূল পাল্টে যাওয়া জীবন। পর্দার সেসব কাহিনিকে যে তিনিই বাস্তব করে ফেলবেন, কে জানত! অথচ ঠিক এমন কাণ্ডই ঘটিয়েছেন ইমতিয়াজ আলি। এক দশক আগে ভাঙা সম্পর্ক জুড়ে সংসারে ফিরে গেলেন পরিচালক।

১৯৯৫ সালে বিয়ে। অনেক ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে ২০১২-তে পথ আলাদা হয়ে গিয়েছিল ইমতিয়াজ ও তার স্ত্রী প্রীতির। কিন্তু ভালোবাসার টান যে অটুট! ২০২০-এর মার্চে মহামারির দিনগুলোতে স্ত্রীর জন্য দুশ্চিন্তা করেই বাড়ি ফিরে যান ইমতিয়াজ। করোনার কঠিন দিনগুলো পেরিয়ে কিছু দিন আগে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনেন মেয়ে ইদাকেও।

তার পরেই পাল্টে গেল সব। পর পর দুই ছুটির সফর। ইদাকে নিয়ে গত জানুয়ারিতে ইমতিয়াজ-প্রীতি ঘুরে আসেন মালদ্বীপ। জুন মাসে বেশ কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে চলে যান কেরালায়। আর তাতেই জমাটবাঁধা সব বরফ গলে। মাসখানেক হল, ইমতিয়াজ-প্রীতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আবার স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই সংসারটাকে নতুন করে গড়ে নেবেন তারা।

এরপর থেকে কথা উঠেছে, পর্দায় প্রেমের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া ইমতিয়াজ কি এভাবেই নিজের জীবনের সংজ্ঞাটাও বদলে ফেললেন? ভাঙাচোরা সংসারটাকে গুছিয়ে নিলেন ভালোবাসার জোরেই?

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

যে কারণে গান ছাড়লেন জাইমা নূর

সংগীত জগতকে বিদায় জানালেন ‘বাবা মানে হাজার বিকেল’ খ্যাত জনপ্রিয় ইসলামী সঙ্গীতশিল্পী জাইমা নূর।

গত ১ জুলাই সন্ধ্যায় একটি ইউটিউব চ্যানেল আয়োজিত লাইভ অনুষ্ঠানে এসে জাইমা নিজেই এ ঘোষণা দেন।

গানের ভুবনকে বিদায় জানানোর সময় ভক্ত-অনুরাগীদের আবু তাহের বেলাল রচিত একটি গান শোনান জাইমা ।

তার সেই গানের কথাগুলো হলো – ‘সময়ের ঝরা পাতা ঝরে যাবে যে/তোমাদের মাঝে আর গাইব না গান/প্রাণ খুলে তুলব না আর কোনো সুর/তারপর পৃথিবীতে বাঁচি যতদিন/বারুদে বারুদ ঘষে অবসাদহীন’।

তার ওই গানটিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গানের ভুবন কেন ছেড়ে দিলেন – লাইভ অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্নের জবাবে জাইমা নূর বলেন, ‘আমি গান গেয়েছি আল্লাহর জন্য। আর এই অঙ্গন থেকে বিদায়ও নিচ্ছি আল্লাহর জন্য। মন খারাপ করার কিছুই নেই। আমি যা করেছি, করছি সবই আল্লাহর খুশির জন্য। তবে আমি এই পরিসর থেকে বিদায় নিলেও আমি যেন আজীবন আপনাদের দোয়া নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। আগামী জীবনে যেন ভালো কিছু করে দেখাতে পারি। আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য ও এই সংস্কৃতিকে যারা এগিয়ে নিচ্ছেন তাদের জন্য দোয়া করবেন।’

সাক্ষাৎকার শেষে প্যানভিশন টিভি নামের ওই ইউটিউব চ্যানেলের পক্ষ থেকে জাইমা নূরকে আজীবন সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।

এদিকে জাইমা নূরের এই বিদায়ে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শিল্পী সুরকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানছুর।

তিনি বলেন, মেয়ে শিল্পীদের নিয়ে কাজে বেশ সতর্ক থাকতে হয়। আবার এদের নিয়ে অনেক দূর যাওয়াও যায় না। ইসলামী বিধিবিধান অনুসরণ এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাইমা নূরের বাবা-মা এ বিষয়ে খুবই সচেতন। ওর লাইভ গানগুলো পরিবেশন করা থেকে সে এখন বিরত থাকবে। জাইমা ৫ম শ্রেণি ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। নিজ ক্লাসেও ফার্স্ট হয়। সামনের দিনগুলোতে লেখাপড়ার প্রতি সে আরও গুরুত্ব দিবে। মেয়েদের মাঝে জাইমা আরো ব্যাপক কাজ করবে ইনশাল্লাহ।

জাইমার কণ্ঠের প্রশংসায় তিনি বলেন, আমার চারদশকের বেশি ইসলামী গানের সময়কালে দেখা সেরা ক্ষুদে শিল্পী জাইমা নূর। আমার প্রিয় কিছু সুর করা গান ও গেয়েছে। জাইমার প্রায় প্রতিটি গানই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। ওর গানে একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। তার ওপর ভিত্তি করে জাইমার বড় ধরনের ফ্যান-ফলোয়ার তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ক্ষুদে শিল্পী জাইমা নূর বেশকিছু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। তার কণ্ঠে সর্বাধিক জনপ্রিয় গানটি ‘বাবা মানে হাজার বিকেল আমার ছেলেবেলা’। তাসনীম সাদিয়ার লেখা ও সুর করা ওই গানেই তুমুল জনপ্রিয়তা পায় এ শিশুশিল্পী।
আলোচিত ওই গানটি এর আগে গানের মূল স্রষ্ট্রা তাসনীম সাদিয়া নিজেও গেয়েছেন। তবে তার কণ্ঠে ওই গানটি তেমন আলোচনায় আসতে পারেনি।

২০২১ সালের মাহে রমজানে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল আয়োজিত ‘পবিত্র কোরআনের আলো’ অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে গানটি গান জাইমা নূর।
তার গাওয়া গানে উপস্থিত বিচারকরা অঝরে কেঁদে ফেলেন। গানটির শ্রোতা এখন পর্যন্ত কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরে যা বললেন তামিম

টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে বাংলাদেশ। তাই ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সামনে চ্যালেঞ্জটা ছিল পাহাড়সম।

আর সেই চ্যালেঞ্জ বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করে সফল হয়েছেন তামিম।

সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন টাইগাররা। বলতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিয়ে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি হারের প্রতিশোধ নিল বাংলাদেশ।

এমন দারুণ এক সিরিজ জয়ের প্রতিক্রিয়ায় তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই আমি আমাদের অর্জনে (সিরিজ জয়ে) গর্বিত। আমরা ঘরের মাঠে সবসময়ই ভালো ছিলাম। কিন্তু এটি ব্যাক টু ব্যাক অ্যাওয়ে সিরিজ জিতেছি আমরা। আমি আমার দলের জন্য খুব গর্বিত। আপনারা দেখেছেন যে, উইকেট ও কন্ডিশন বেশ কঠিন ছিল। তবে আমাদের স্পিনশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। বোলাররা তাদের সেই প্রতিভা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। আমরা সিরিজ জয় করেছি।’

গোটা সিরিজেই বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিলেন। সাকিব, মুশফিক খেলেননি। বিষয়টি কেমন ভুগিয়েছে?

জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই আমরা শীর্ষ পাঁচ থেকে তিনজন খেলোয়াড়কে মিস করেছি। তবে এটি দলের ছেলেদের (নতুন বা তরুণদের) জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ ছিল। আমি মনে করি তারা সে সুযোগ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে।’

এর পর সোহান, নাসুম ও তাইজুলের প্রশংসা করেন তামিম।

বলেন, ‘বিশেষ করে সোহানের মতো খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে। সে যখনই সুযোগ পেয়েছে ভালো করেছে। আজ (শেষ ওয়ানডে) আরেকটি উদাহরণ দেখিয়েছে সোহান। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সে হাল ধরেছে। ঠাণ্ডা মাথায় শান্তভাবে ব্যাটিং করেছে সোহান। আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি ভালো একটি উদাহরণ। আর নাসুম যেভাবে বোলিং করেছে এবং সোহান যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা সিরিজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়। মিরাজ তো সবসময়ই দারুণ পারফর্ম করে। কিন্তু এই দুটি (সোহান ও নাসুম) ছিল এবার অনন্য। ’

এর পর শেষ ম্যাচে সুযোগ পাওয়া স্পিনার তাইজুলের প্রশংসা করেন তামিম। বলেন, ‘আমাকে তাইজুলের নাম উল্লেখ করতেই হবে। পুরো সফর জুড়ে সে দলের সঙ্গে ছিল কিন্তু মাঠে নামতে পারেননি। কিন্তু প্রতিটি অনুশীলন সেশনে তাকে দেখা গেছে। যখনই সে সুযোগ পায় তখনই সেটি দারুণ কাজে লাগায়। তাই কিছু বিষয় আছে, যা আমরা অবশ্যই ফিরিয়ে আনব।’