শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 217

‘উটি’র চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য

কথায় আছে, পুরো ভারত দেখা মানে-পৃথিবীর রূপ-সৌন্দর্য দেখা। কোথাও প্রচণ্ড গরম, কোথায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। কোথাও পাহাড়, কোথাও বরফ। নানা রঙের প্রাকৃতিক সমাহারের সঙ্গে নানা ভাষাও সমানতালে চলছে। ভারতে হাজারও প্রাকৃতিক সৃষ্টির মধ্যে তামিলনাড়ুর নীলগিরি উটি পাহাড়টিও অনন্যা।

যে পাহাড়, পাহাড়ের তলদেশ নিয়ে ইতিহাস রয়েছে। সমতট থেকে পাহাড়ের উঁচুতে পৌঁছতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। হাজার হাজার আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে চূড়ায় উঠতে হয়। মেঘ এসে ধাক্কা দেয় শরীরে। দিল্লিতে এখন তাপমাত্র ৪০ থেকে ৪৪, আর উটিতে ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি। শীতে শূন্যে নেমে আসে। এ পাহাড় ঘিরেই গড়ে উঠেছে বসতি, যুগের পর যুগ।

সৃষ্টির অপরূপ ঘেরা উটির গায়ে এখনও লেগে আছে ব্রিটিশ উপনিবেশের গন্ধ। তলিয়ে দেখলে দেখা মেলে সেখানকার ভূমিপুত্রদেরও। টোডা, কোটার মতো সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনো নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা, পোশাককে আঁকড়ে থেকেও আদ্যন্ত আধুনিক।

উটি পাহাড় ঘিরে বোটানিক্যাল গার্ডেন, উটি লেক, জন সালিভানের স্টোন হাউসের বাইরেও অসংখ্যন সৌন্দর্য প্রাকৃতিক দৃশ্যক রয়েছে। হাতি থেকে বানর, হাজার রকমের পাখিও এ পাহাড় ঘিরে বেঁচে আছে।

নয়াদিল্লি থেকে তামিলনাড়ু কোয়েম্বত্তুর বিমান রানওয়েতে চাকা ছোঁয়ার পরই চোখে ভেসে আসলে পাহাড় আর সবুজ ঘেরা সারি সারি নারকেল গাছ, সঙ্গে হাজারও প্রজাতির গাছগাচালি।

কোয়েম্বত্তুর বিমানবন্দর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় সোজা ছুটছিলাম তামিলনাড়ু নীলগিরি জেলার উটি পাহাড়ের পানে। রাস্তা ধরে ছুটতেই হঠাৎ বৃষ্টি হঠাৎ রোদ যেন আমাকে রাঙিয়ে তুলছিল।

রাস্তার দু’ধারে প্রথম প্রথম শুধুই নারকেল আর কলাবনের সারি চোখে পড়ে। কারিপাতা বোঝাই ট্রাক দেখেই মনে হল, আগামী ক’টা দিন পাতে এই জিনিসটি তো থাকবেই! খানিক পরেই পাকদণ্ডী বেয়ে ঘুরে ঘুরে গাড়ি ভাঙতে লাগল চড়াই। পাহাড়ের তলদেশ থেকে পাহাড়ে উঠাৎ শুরুতে রাস্তার দুপাশে থাকা একটি লালচে ল্যা ম্প পোস্টে হর্ণ বেজে উঠলো। সংশ্লিষ্টরা জানালেন, এটি বিশেষ সংকেত, পাহাড়ে উঠা হচ্ছে এমনটা জানান দেওয়া।

এক একটা পাহাড়ের বাঁক ঘুরছে আর যেন সরে যাচ্ছে এক একটা পর্দা। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেল আশপাশের সবুজও। এক পর্যায়ে সবুজের বুকে মেঘ ঢেকে যাচ্ছিল বার বার। পাহাড় দেখা যাচ্ছি না। পাইন, ইউক্যালিপ্টাস, ওয়াটলের গহিন সমারোহের মাঝে পেরিয়ে যেতে লাগলাম একের পর এক এলিফ্যান্ট করিডোর, খাদের গার্ড ওয়ালে বসে কিচিরমিচির করা বাঁদরের দল। হঠাৎ ‘ভ্যাঁপোর’ হর্ন শুনে চমকে দেখি অন্ধকার! তখন বিকাল ৪টা। অন্ধকার বেয়েই গাড়ি ছুটছে আরও উঁচুতে, আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে। অবিশ্বাস্য সাবলীলতায় সাধারণ যানগুলো ভয়ঙ্কর টার্ন পেরোচ্ছে সারি সারি। বুঝলাম, উটি শহরের কাছাকাছি এসে পড়েছি। পাহাড়ের উঁচুতে বসবাস রয়েছে বাসিন্দাদের।

স্টার্লিং ফার্ন হিল হোটেলে উঠবো আমি। সন্ধ্যা না হতেই অন্ধকার, শীত যেন বাড়ছে। কিছুটা অক্সিজেন নিতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলাম। একপর্যায়ে পৌঁছলাম হোটেলে। কাচের দরজা ঠেলে ঢুকতেই চোখ আটকাবে দেওয়ালজোড়া কারুকাজে। ততক্ষণে এক কিশোরী আমাকে স্বাগতম জানালেন। কপালে চন্দনের টিপ দিয়ে, আগুনের শিখার বাতাসে ভালোবাসা জানালেন। এদের সংস্কৃতি অনুযায়ী আমাকে বরণ করলেন।

১৯৮৩-৮৪ সালের উটিকে ফ্রেমে ধরেছিল ডেভিড লিনের ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’, কমল হাসন-শ্রীদেবীর ‘সদমা’। কসমো-কালচারে সমৃদ্ধ এ শহরকে ব্রিটিশরা হ্যান্ডমেড চকলেট তৈরি থেকে শুরু করে শিখিয়েছিল অনেক কিছুই। হাতে তৈরি চকলেটের স্বাদ অসাধারণ। কিনে খেলাম, স্বাদ লিখে বুঝানো সম্ভব নয়। তবে এটা বলতে পারি নারিকেলের দুধ আর বিভিন্ন বাদাম মিশ্রিত এ চকলেট একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে।

তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত উটি ব্রিটিশ আমল থেকেই দক্ষিণাত্যের অন্যতম জনপ্রিয় একটি শৈলশহর। উটির আসল নাম উধাগমণ্ডলম। পাইনের বন, চা-কফির বাগান আর মেঘে ঘেরা উটিতে রয়েছে একাধিক লেক, জলপ্রপাত ও বোটানিক্যাল গার্ডেন।

‘উদাগামণ্ডলম’ আদি নাম হলেও লোকের মুখে পরিচিত ‘উটি’ হিসেবেই। টোডা জনজাতি অধ্যুষিত এই জায়গা যেন আপনাকে মনে করিয়ে দেবে শাহরুখ খানের সেই টয়ট্রেনের উপরে উঠে ‘ছাইয়া ছাইয়া’ নাচের গানের দৃশ্য।

কোথায় কোথায় ঘুরবেন:
১. উটি লেক – উটি সফরের এক অসাধারণ অংশ হিসেবে আপনি উটি হ্রদকে বাদ দিতে পারবেন না। এই হ্রদটি বোটিংয়ের জন্যে বেশ বিখ্যাত।

২. এমারেল্ড হ্রদ – উটি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে এই হ্রদটি অবস্থিত। সাইলেন্ট ভ্যালিতে রয়েছে এই হ্রদটি। এটি বনভোজনের এক আদর্শ জায়গা।

৩. বোট্যানিক্যাল গার্ডেন – ৫৫ একরের বেশি জায়গাজুড়ে এই বোট্যানিক্যাল গার্ডেন উটির অন্যতম আকর্ষণ। এখানে প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগেকার একটি গাছের কাণ্ডের জীবাশ্ম রয়েছে।

৪. দোদাবেতা চূড়া – উটিতে গিয়ে ২৬২৩ মিটার উঁচু এই পাহাড়শীর্ষ না দেখলেই নয়। এ ছাড়াও উটিতে কালহাট্টি জলপ্রপাত, মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান, নিডল রক ভিউ পয়েন্ট ইত্যাদিও আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

কীভাবে যাবেন:
রেলপথ দিয়ে শুরু করি। কলকাতা থেকে কোনো সরাসরি ট্রেন নেই উটি যাওয়ার জন্য। আপনাকে ভেঙে ভেঙেই যাতায়াত করতে হবে। প্রথমে কোনো ট্রেন যা চেন্নাই যায়, তাতে উঠে পড়তে হবে। সেখানে যেতে প্রায় ৩০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে আপনার। এক দিন চাইলে চেন্নাই ঘুরেও নিতে পারেন। সেখান থেকে মেট্টুপালায়াম স্টেশন। প্রায় ১০ ঘণ্টার পথ। সেখান থেকে ট্রেনে করে কুন্নুর, প্রায় ২ ঘণ্টা। চাইলে আপনি গাড়ি ভাড়াও করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় মেট্টুপালায়াম থেকে টয়ট্রেনে চেপে যাওয়া। সরাসরি উটি স্টেশন। এছাড়াও আপনি প্লেনে করে চলে যেতে পারেন চেন্নাই অথবা কোয়েম্বাতুর। সেখান থেকে একইভাবে উটি যাত্রা।

কোথায় থাকবেন:
পর্যটন স্থান হওয়ায় উটিতে থাকার জায়গার অভাব নেই। আগে থেকেই আপনি মোবাইল অ্যাপেও বুক করে রাখতে পারেন আপনার পছন্দসই হোটেল ও ঘর।

তবে মনে রাখবেন শীত কিংবা গরম, শীতের জামা-কাপড় নিতে যেন ভুলবেন না। ওটা নিতে মিস করলে, আপনাকে কাবু করবে পাহাড়ের শীত, মেঘ।

হার্টের ধমনীতে ব্লক কেন হয়, কী করবেন?

হার্টের সুরক্ষা সবচেয়ে জরুরি। ধমনীতে ব্লক নানা কারণে হয়ে থাকে। বুকের বাম পাশে এক ধরনের ব্যথা অনুভব হলে বুঝতে হবে হার্টে সমস্যা হয়েছে।

হার্টের ধমনীতে ব্লক হওয়ার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার।

ব্লক কী

আমাদের সারা দেহে ছড়িয়ে আছে দুই ধরনের রক্তনালি- ধমনী ও শিরা। ধমনীর কাজ হল অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়া। ধমনীর প্রবাহপথ কোন কারণে সরু বা বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, এই বাধাকে বলে ‘ব্লক’ (ইষড়পশ)।

ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজ কী

হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর নাম ‘করোনারি ধমনী’। এ করোনারি ধমনীতে ব্লক সৃষ্টি হলে তাকে বলে ‘ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজ’।

ব্লক কেন হয়

ধমনীতে ব্লকের মূল কারণ কোলেস্টেরল যা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে ধমনীর ভেতরের গায়ে জমা হয়ে ব্লকের সৃষ্টি করে। কোলেস্টেরলই ব্লকের একমাত্র কারণ নয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ধূমপানকেও বড় কারণগুলোর অন্যতম মনে করা হয়।

ব্লক কীভাবে বুঝবেন

করোনারি ধমনীতে ব্লক থাকলে নিচের উপসর্গগুলো দেখা যায়-

বুকের বামপাশে বা মাঝখানে এক ধরনের ব্যথা বোধ হয়।

অনেক সময় বাম হাতের ভেতরের দিকে অস্বস্তি বোধ হয়।

নিচের চোয়ালে বা দাঁতের পাশেও এক ধরনের অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

প্রাথমিক অবস্থায় কেবল শারীরিক পরিশ্রমের সময় এই ব্যাথা অনুভূত হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়। মনে রাখতে হবে যে, ব্লক থাকলেই যেসব সময় ব্যাথা হবে, এমন নয়।

ব্লক থেকে হার্ট অ্যাটাক

ব্লক থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা না নিলে তা হার্ট অ্যাটাকের দিকে মোড় নিতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপেশি মারা যেতে শুরু করে বলে বুকে তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি ও প্রচুর ঘাম হয়। হার্ট অ্যাটাক ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজের খুবই মারাত্মক এক পরিণতি যা প্রায়ই রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক

যারা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বুকে তীব্র ব্যথা, ঘাম, বমি- এসব লক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। একে বলে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’।

ব্লকের চিকিৎসায় কী করবেন

ব্লক যতই বিপজ্জনক হোক না কেন, জটিল আর দশটি রোগের মতো এরও চিকিৎসা রয়েছে, প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধের মাধ্যমে ব্লকের চিকিৎসা সম্ভব। মারাত্মক ব্লকের ক্ষেত্রে প্রথমে অ্যানজিওগ্রাম পরীক্ষা করে ব্লকের স্থান ও তীব্রতা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর সম্ভব হলে কাঁটাছেঁড়া ছাড়াই রিং বসিয়ে ব্লক দূর করার চেষ্টা করতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ পদ্ধতির নাম পারকিউটেনিয়াস করোনারি অ্যানজিওপ্লাস্টি সংক্ষেপে পিসিআই। ব্লক যদি সংখ্যায় বেশি হয়, রিং বসানো সুবিধাজনক নাও হতে পারে, সেক্ষেত্রে বাইপাস অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রাইমারি পিসিআই

আমাদের দেশে হার্ট অ্যাটাকের পরও অধিকাংশ রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। সব জায়গায় হার্টের চিকিৎসার সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতাল ও নেই। তবে যদি দু’চার ঘণ্টার মধ্যেও রোগীকে হার্টের আধুনিক চিকিৎসার সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতালে আনা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যানজিওগ্রাম ও অ্যানজিওপ্লাস্টি করে ব্লক দূর করা যায়। এ পদ্ধতিকে বলে প্রাইমারি পিসিআই। বাংলাদেশের কিছু কিছু হাসপাতালে প্রাইমারি পিসিআই সুবিধা চালু হয়েছে। প্রাইমারি পিসিআই করা গেলে হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃৎপেশির সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

ব্লকমুক্ত হার্ট! কীভাবে

ধমনীর ভেতরের দেয়ালে চর্বি জমা হওয়ার পেছনে কারণ মূলত ৪টি;

-উচ্চ রক্তচাপ

-ডায়াবেটিস

-ধূমপান

-রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া

সুতরাং, হার্টকে ব্লকমুক্ত রাখতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। কাজটি খুব সহজ নয়। এজন্য চাই দৃঢ় মনোবল এবং জীবনাচরণে পরিবর্তন। পুরো ব্যাপারটা কঠিন মনে হলেও জীবনাচরণ সংক্রান্ত কিছু কাজ কিন্তু সহজেই সম্ভব। যেমন-

শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো

বাংলাদেশ যত নগরকেন্দ্রিক হচ্ছে, শহুরে লোকজন তত মানসিক যোগ্যতা নির্ভর হয়ে উঠছেন। তারা যতটা মাথা খাটাচ্ছেন, শরীর ততটা না। ফলে শরীর হয়ে পড়ছে নিষ্ক্রিয়। অথচ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমায়।

লিফট কম ব্যবহার করুন

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা কিংবা জগিংয়ের অভ্যাস করুন। যারা হাঁটার সময় বের করতে পারেন না, তারা কাছের দূরত্বগুলো যানবাহন ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে যান। যতটা সম্ভব লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

ক্যালরির হিসাব রাখুন

খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালরি আপনি গ্রহণ করছেন, সেই পরিমাণ ক্যালরি যদি খরচ না হয়, তাহলে বাড়তি ক্যালরি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজন বাড়িয়ে আপনাকে ডায়াবেটিস ও ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজের দিকে ঠেলে দেবে। এজন্য প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে গৃহিত ক্যালরি ও এর ব্যয় সম্পর্কে একটা মোটামুটি ধারণা মাথায় রাখা ভালো।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে নিচের খাবারগুলো আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

-টাটকা শাকসব্জি, ফলমূল

-মাছ- বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ

-বিভিন্ন ধরনের বাদাম (নাটস্), শিম, মটরশুঁটি

-সয়াজাত খাবার যেমন-তফু

-রসুন

-ননিমুক্ত দুধ, পনির

কিছু খাবার পরিহার করাও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ। এ ধরনের কিছু খাবার হল;

-অতিরিক্ত লবণ

-লাল মাংস ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যেমন- গরু, খাসি, হাঁস ইত্যাদি

-মাংসের ওপরের চামড়া

-মাখন

-অধিকাংশ কোমল পানীয়

-অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার

সাধারণত কোন দাওয়াতে বা অনুষ্ঠানে গেলে খাদ্যগ্রহণের পরিমাণের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটা ক্ষতির কারণ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, কী খাচ্ছেন প্রশ্নটা যেমন জরুরি, কতটুকু খাচ্ছেন প্রশ্নটাও সমান জরুরি।

ডিম খাবেন নাকি খাবেন না

ডিম নিয়ে অনেকেই ঝামেলায় থাকেন। ডিম সাংঘাতিক পছন্দ, কিন্তু ডাক্তার খেতে নিষেধ করেছেন বলে খেতে পারছেন না, এমন মানুষ অসংখ্য। ডিম রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিয়ে ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়- এ ধারণা থেকে সরে আসছে ইদানীংকার বিজ্ঞান। মনে রাখতে হবে লিপিড বা কোলেস্টেরল এমন একটা জিনিস যা আমাদের কোষের গঠন থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন গঠনগত ও শারীরবৃত্তিক প্রয়োজন মেটায়। বিভিন্ন হরমোন তৈরিতেও লিপিড দরকার হয়। একটা ডিমের কুসুমে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে, তা আমাদের শরীরের দৈনন্দিন ক্ষয় মেরামতের জন্য প্রয়োজন। ডিমে অন্যান্য অনেক দরকারি পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। তবে হ্যাঁ, কোন কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়, ডিমের ক্ষেত্রেও সে কথা প্রযোজ্য।

ভোজ্যতেল

রান্নায় তেলের ব্যবহার নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত। কোন তেলটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো- এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই অধিকাংশ মানুষের। ভোজ্যতেলের মধ্যে ‘ফ্যাট’ বা চর্বি থাকে। তবে এ ফ্যাটেরও ভালোমন্দ আছে। অসম্পৃক্ত চর্বি হার্টের জন্য ভালো, সম্পৃক্ত চর্বি খারাপ। তাহলে আমাদের বেছে নিতে হবে এমন তেল যাতে অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে, সম্পৃক্ত চর্বি কম থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ মোতাবেক হৃদবান্ধব ভোজ্যতেলের একটা তালিকা এখানে দেয়া হল।

-ক্যানোলা

– কর্ন

-জলপাই

-বাদাম

– সানফ্লাওয়ার

-সয়াবিন

-সূর্যমুখী

উপরের তালিকার তেলগুলোর বিভিন্ন মিশ্রণ অনেক সময় ‘ভেজিটেবল ওয়েল’ নামে বাজারে পাওয়া যায়। সমস্যা হল এ তালিকার সবগুলো তেল আমাদের দেশে সহজলভ্য নয়, অনেকগুলোর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আজকাল বাজারে বাড়তি পুষ্টিগুণ যেমন- ওমেগা ৩ ও ৬ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল পাওয়া যায়।

তামাককে ‘না’ বলুন

সিগারেটের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য যেমন- গুল, জর্দা ইত্যাদি গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। ‘পরোক্ষ ধূমপানে’র ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। ‘পরোক্ষ ধূমপান’ হল যখন আপনার পাশে কেউ ধূমপান করছেন তখন পরোক্ষভাবে আপনারও ধূমপান হয়। এটাও ক্ষতিকর, সুতরাং এ ধরনের ধূমপান থেকেও দূরে থাকুন।

মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকার অভ্যাস করুন

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ আপনার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। সুতরাং যতটা সম্ভব মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। বুক ভরে শ্বাস নিন এবং সুযোগ পেলেই হাসুন, প্রাণখুলে। মানসিক প্রশান্তির জন্য নামাজ, প্রার্থনা, মেডিটেশন এসবের সাহায্যও নিতে পারেন।

নিয়মিত চেক-আপ

হার্টের ব্লক সাধারণত বয়স্কদের রোগ হলেও ইদানীং অল্প বয়সেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে। তাই ব্লকজনিত হৃদরোগ বা ইশ্কেমিক হার্ট ডিজিজ প্রতিরোধে ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত চেক-আপ করানো ভালো।

করোনায় মারা গেলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপিন্দর সিং

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপিন্দর সিং।

১০ দিনের লড়াইয়ের পর সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ৮২ বছরের এ সংগীতশিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

রেখে গেলেন হিন্দি, বাংলা ভাষায় অজস্র গান। বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এ শিল্পী। একাধিকবার মূত্রনালির সংক্রমণে ভুগেছেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ভূপিন্দর সিং। চিকিৎসাধীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাতে মারা যান তিনি।

তার স্ত্রী মিতালী সিং বলেন, বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ভূপিন্দরজির।

তা বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘এক আকেলা ইস শহর মে’, ‘নাম গুম যায়ে গা’, ‘দিল ঢুন্ডতা হ্যাঁয় ফির ওয়াহি’ ইত্যাদি। মিঠুন চক্রবর্তী, দেবশ্রী রায় অভিনীত ‘ত্রয়ী’ ছবিতে ভূপিন্দরের গাওয়া ‘কবে যে কোথায় কী যে হলো ভুল’ আজও এই প্রজন্মের প্রিয় গান।

তার ভারি কণ্ঠস্বরের নরম সুরে ‘মৌসম’, ‘সত্তে পে সত্তা’, ‘আহিস্তা’, ‘দুরিয়া’ ছবির গান শ্রোতাদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

শিল্পীর প্রয়াণে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পঙ্কজ উদাস। তিনি বললেন, ভূপিন্দরজি আমার বড় ভাই ছিলেন। তার গায়ন রীতি, কণ্ঠস্বর সবার থেকে আলাদা। ফের ভূপিন্দর সংগীত দুনিয়া অভিভাবকহীন হলো। ফের দেশ তার আরও এক কৃতী সন্তানকে হারাল।

মেয়েকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন শ্রীলেখা

কয়েক দিন আগে আইসিএসসি পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে।পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের কন্যা ঐশী সান্যাল। তাক লাগানো রেজ়াল্ট করেছে সে। পেয়েছে ৯৫ শতাংশ নম্বর। সব বিষয়েই পেয়েছে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর। এর পর বিজ্ঞান কিংবা বাণিজ্য নয়, কলা বিভাগ নিয়ে লেখাপড়া করবে ঐশী। মায়ের মতো মেয়েও ছক ভাঙল।

সে প্রমাণ করল, ভালো রেজ়াল্ট করলে কেবল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়রিং নয়, কলা বিভাগের গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়েও লেখাপড়া করা যায়। এত গেল উচ্চশিক্ষার প্রসঙ্গ। জীবনে কী হতে চায় শ্রীলেখার কন্যা? মায়ের মতো অভিনয় করতে চায় কি? নাকি টালিউড কিংবা বিনোদন জগৎ থেকে দূরে থাকতে চায়?

শ্রীলেখা জানিয়েছেন, মেয়ের ইচ্ছা সে পরবর্তীকালে সিনেমা পরিচালনা করবে। তবে এতে মা কিংবা বাবার ইচ্ছার কোনো ব্যাপার নেই। এটি মূলত ঐশী চায়। আর মেয়ে যা চায়, মা-বাবারও তাতে সায় আছে। সে যাই হতে চায় না কেন, পরিবারের পুরোপুরি সমর্থন পাবে। সম্প্রতি দুটি শর্টফিল্ম তৈরি করার কাজে ব্যস্ত শ্রীলেখা। একটি তৈরিও হয়ে গেছে। ঐশী মায়ের পরিচালনা খুঁটিয়ে দেখেছে।

শ্রীলেখা বলেছেন, আমার মেয়ে আমার কাজের সমালোচনা করে। আমার সেটি দেখে খুবই ভালো লাগে। ও আমার ক্রিয়েটিভ। কাজটা জানার ও বোঝার চেষ্টা করে।

শ্রীলেখা তার মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদও হয়েছে তার। কলকাতার একটি বিলাসবহুল বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে থাকেন। মেয়ে যদিও মা-বাবা দুজনের কাছেই ভাগাভাগি করে থাকে। কেননা বিবাহবিচ্ছেদের পর কোপ্যারেন্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী ও তার সাবেক স্বামী। ফলে মেয়ে মাকেও পায়, বাবাকেও পায়।

তবে মা-বাবা হারা শ্রীলেখার সহায়সম্বল এই মেয়েই। মাকে রীতিমতো আগলে রাখে ঐশী। তাকে খানিক শাসনেও রাখে। শ্রীলেখা বলেছেন, আমার মেয়েই তো মা-বাবার জায়গা নিয়ে নিয়েছে এখন।

কারাতেকা শামীমা ইউনেস্কোতে

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে আন্তর্জাতিক কারাতে প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম ব্ল্যাক বেল্টধারী নারী কারাতেকা শামীমা আখতার তুলি। এবার ইউনেস্কোর অধীনে আইসিএমের দ্য ফিফথ মার্শাল আর্টস রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ ফর এক্সপার্টস (এমএআরআইই) প্রোগ্রামের জন্য বাংলাদেশের এই প্রথম মহিলা ব্ল্যাকবেল্ট ও প্রথম ভেটেরান পদক পাওয়া কারাতেকা ও ফিটনেস পরামর্শক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সারা বিশ্বের পাঁচজন ইউনেস্কোতে মার্শাল আর্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন শামীমা। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আইসিএম থেকে এ পর্যন্ত এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকাসহ ১৭ দেশের ২৫ জন ‘অ্যালামনাই’ তৈরি হয়েছেন। এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রতিযোগী এই তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ও সম্মানসূচক রিসার্চ প্রোগ্রামের আয়োজনে নির্বাচিত হলেন।

তরুণ ও মহিলাদের নিয়ে ১০ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা, মাস্টার্স ডিগ্রি, ইংরেজিতে সক্ষমতার প্রমাণ, পারসোনাল স্টেটমেন্ট, স্টাডি প্ল্যান, রিকমেন্ডেশন লেটার, মার্শাল আর্ট ও বিভিন্ন ব্যায়াম বিষয়ে রচনা লেখা এবং অনলাইন ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু এই রিসার্চ প্রোগ্রামের অ্যালামনাইরা পরে তাদের দেশের ‘লোকাল কো-অডিনেটর’ হিসাবে কাজ করবেন। শামীমার আশা, তার প্রতিনিধিত্বে বাংলাদেশের নাম ও মর্যাদা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন তিনি। ইউনেস্কো ও আইসিএম’র মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ ও মহিলাদের মার্শাল আর্ট বা ব্যায়াম চর্চা শুধু নয়, দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতা দূর করা ও আন্তর্জাতিক উন্নতির জন্যও শামীমা ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তার কথায়, ‘আমার এবং দেশের জন্য এটা অনেক বড় বিষয়। আমার ক্যারিয়ারের সেরা সুযোগ। এতদিন মার্শাল আর্টের জন্য ইউনেস্কো থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যেত না। এবার আমার মাধ্যমে সেই সুবিধা আসবে বাংলাদেশে।’ ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করে প্রতিষ্ঠিত ব্যায়ামাগার ‘কমব্যাট জিম বাই তুলি’তে গত ২১ বছরে ১০ হাজারেরও বেশি মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন শামীমা।

আর্জেন্টিনার পথ সহজ করে সেমিতে ব্রাজিল

চলতি কোপা আমেরিকা কাপে ভেনিজুয়েলাকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ব্রাজিল। নারী কোপা আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল হচ্ছে ব্রাজিল। সেই অপ্রতিরোধ্য যাত্রাটা ভেনিজুয়েলার বিপক্ষেও ধরে রাখল দলটি। ৪-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে চলে গেছে অনেকটাই।

ব্রাজিলের এই জয়ের ফলে উপকার হয়েছে আর্জেন্টিনারও। এ ম্যাচের আগে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা ভেনিজুয়েলা এ বিশাল হারের ফলে নেমে গেছে তালিকার তিনে। আর তিনে থাকা আর্জেন্টিনা উঠে এসেছে দুইয়ে। ফলে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা আরও বাড়ল ইয়ামিলা রদ্রিগেজদের।

এর আগে ব্রাজিল নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৪-০ গোলে। এর পর উরুগুয়েকে ৩-০ গোলে হারান দেবিনহারা। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় ছিল ভেনিজুয়েলারও। উরুগুয়ে আর পেরুর বিপক্ষে যথাক্রমে ১-০ আর ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল দলটি।

ফলে ৬ পয়েন্ট পেলেও ব্রাজিল শ্রেয়তর গোল ব্যবধান নিয়ে ছিল ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে। তৃতীয় ম্যাচে দুদলের সামনেই সুযোগ ছিল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার। সে সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে কোপা আমেরিকার সফলতম দল ব্রাজিল।

মার্তার উত্তরসূরিরা সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টায় কলম্বিয়ার এস্তাদিও সেন্তেনারিওতে মুখোমুখি হয় ভেনিজুয়েলার। ২২ মিনিটে বিয়াত্রিজ জেনেরাতোর গোলে এগিয়ে যায়। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সেলেসাওদের।

১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যাওয়া দেবিনহারা বিরতির একটু পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৫১ মিনিটে গোলটি করেন অ্যারি বোর্জেস। আগের দুই ম্যাচে দুই গোল করা দেবিনহা এর পর সাত মিনিটের ব্যবধানে করেন দুই গোল। ৫৮ মিনিটে ব্যক্তিগত প্রথম গোল আর দলীয় তৃতীয় গোলটি করেন। এর পর ৬৫ মিনিটে তার পা থেকেই আসে ব্রাজিলের চতুর্থ গোলটি। ফলে ৪-০ ব্যবধানে জিতেই ম্যাচ শেষ করে ব্রাজিল। দলটির সেমিফাইনালও নিশ্চিত হয়ে গেল তাতে।

সেই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ফাতেমা, খোলা হয়েছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তঃসত্ত্বা রত্না আক্তার রহিমার পেটে থাকা ৮ মাসের বাচ্চা পেট ফেটে বের হলেও আল্লাহর রহমতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় সে। হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন নবজাতক অন্য মায়ের দুধ পান করছে। শিশুটি বাবা, মা ও বোনকে হারিয়ে এখন এতিম। সে জানেও না কে তার বাব-মা। নবজাতকের বড় বোন জান্নাত তার নাম রেখেছে ‘ফাতেমা’।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন নবজাতক ও অপর দুই সন্তানের সহায়তার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর খোলা হয়েছে। যারা নবজাতক শিশু ও তার বোন জান্নাত এবং ভাই এবাদতকে সহায়তা করতে চান, তারা ব্যাংক হিসাবে সহায়তা পাঠাতে পারবেন। হিসাবের শিরোনাম ‘রত্না আক্তার রহিমার নবজাতক ও অপর দুই সন্তানের সহায়তার হিসাব। হিসাব নম্বর ৩৩২৪১০১০২৮৭২৮ সোনালী ব্যাংক, ত্রিশাল শাখা।

হিসাব পরিচালনা করবেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবজাতকের দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আক্তারুজ্জামান দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের খোঁজ নিতে যান। ওই সময় পরিবারটির হাতে ব্যাংক হিসাবের চেকবইসহ ১০ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেন।

নিহত জাহাঙ্গীরের মা সুফিয়া বেগম জানান, আমার পুত্রবধূর পেটে যখন ছয় মাসের বাচ্চা ছিল, তখন আমার বড় নাতনি তার মাকে বলেছিল— আমার ছোট বোন হলে তার নাম রাখবা ফাতেমা। বড় নাতনির ইচ্ছায় নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ফাতেমা।

নিহত জাহাঙ্গীরের বড় মেয়ে জান্নাত জানান, আমি আম্মুকে বলেছিলাম আমাদের ছোট বোন হলে তার নাম ফাতেমা রাখব। আম্মু বলেছিল ঠিক আছে। এখন তো আমার আম্মা, আব্বা কেউ বেঁচে নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ডিসি মহোদয়ের নির্দেশে আমি নিহত পরিবারের খোজ খবর নিয়েছি। নিহতের পরিবারের হাতে ব্যাংক হিসাবের চেকবইসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। আর নিহতের মা প্রতিবন্ধী সুফিয়া বেগমকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। নিহত পরিবারটির খোজখবর সবসময় অব্যাহত থাকবে। নিহতের পরিবারকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়মনি গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীর আলম (৪০) তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছয় বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ত্রিশাল পৌর এলাকায় আসেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগামী মালবাহী ময়মনসিংহগামী ট্রাকটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়।

মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি

মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কা।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কার্যালয় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলুর।

মার্কিন সংসদে বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি ওলেনা জেলেনস্কার।

এ অধিবেশনে উপস্থিত থাকার জন্য কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সব মার্কিন এমপি ও সিনেটরদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এমন সময় ইউক্রেনের ফার্স্টলেডি মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যখন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস অঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত এবং সাড়ে ছয় হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

অ্যাসাঞ্জের মুক্তি চেয়ে বাইডেনকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের চিঠি

গোপন নথি প্রকাশ করে তোলপাড় সৃষ্টি করা উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মুক্তি চেয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডোর।

এ বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে একটি চিঠিও লিখেছেন বলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। খবর আনাদোলুর।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বলেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে বন্দি করে রাখা মানে মানুষের বাকস্বাধীনতাকে অবরুদ্ধ করে রাখা।

তিনি আরও বলেন, আমি ওয়াশিংটন সফরকালে গত ১২ জুলাই বাইডেনের কাছে অ্যাসাঞ্জকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছি।

কারণ উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করে অ্যাসাঞ্জ কোনো অপরাধ করেননি। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেননি, কাউকে হত্যা করেননি। তিনি শুধু অন্যের দুর্নীতি প্রকাশ করতেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের আগস্টে এক সুইডিশ নারী অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অ্যাসাঞ্জ বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ মামলার ‘স্ট্যাচুট অব লিমিটেশন’ অর্থাৎ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম পরিচালনার সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের আগস্টে। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত বাদ দিয়েছেন সুইডিশ আইনজীবীরা।

বর্তমানে তিনি লন্ডন পুলিশের হেফাজতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মামলার আসামি হিসেবে যুক্তরাজ্যের বেলমার্শ নামক কারাগারে বন্দি আছে

ঋণখেলাপিদের আরও বড় ছাড়

নিয়মিত ঋণকে খেলাপি করার প্রচলিত নীতিমালায় আরও বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের কিস্তির আকার ও পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে এখন আড়াই থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ অর্থ জমা দিলেই চলবে। আগে যা ছিল ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। এসব ঋণ পরিশোধ করা যাবে ৫ থেকে ৮ বছরে। আগে এ ধরনের ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ দুই বছর সময় দেওয়া হতো। আবার নতুন করে ঋণও পাওয়া যাবে।

আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেছে, কোভিড-১৯–এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ও বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা চলছে। সে জন্য নতুনভাবে কোভিড-১৯–এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ঋণ পুনঃ তফসিলকরণ–সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

আব্দুর রউফ তালুকদার নতুন গভর্নর হিসেবে যোগ দেওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মাথায় বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন এই নীতিমালা জারি করল। নীতিমালায় খেলাপি ঋণে কী সুবিধা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করার পুরো ক্ষমতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকমালিকেরাই এখন ঠিক করবেন, তারা ঋণখেলাপিদের কী সুবিধা দেবেন।

আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নিয়মিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগত, যা স্বয়ং গভর্নর অনুমোদন করতেন। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নিয়ে সেই ক্ষমতার পুরোটাই ব্যাংকগুলোর হাতে তুলে দিয়েছেন।

জানা গেছে, করোনার কারণে দেওয়া ছাড় উঠে যাওয়ার পর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নতুন করে অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি করোনায় অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে যে এক লাখ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তারও বড় একটা অংশ অনাদায়ি হয়ে পড়েছে। এ কারণে এখন ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।