কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় কলেজ শিক্ষার্থী মো. পাভেলকে (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর ১২ টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান।আটককৃতরা হলেন- ফেনী সদর থানার গজারিয়া কান্দি এলাকার ফারুক আহাম্মদের ছেলে আবু হুরাইয়া অনিক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে সালমান হোসেন, একই এলাকার রবিউল হক ওরফে জানু মিয়ার ছেলে নাঈমুল হক রাকিব এবং উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের ধোপাখিল এলাকার শামসুল হকের ছেলে নাজিমুল হক জয়।আব্দুল মান্নান বলেন, আসামি রাকিব আর পাভেল বন্ধু ছিলেন। ঘটনার একমাস আগে ফেনী মহিপাল কলেজে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে রাকিবকে মারধর করেন পাভেল। এর জেরে পাভেলের উপর রাগ হয় রাকিবের। এরপর থেকেই পাভেল কখন তার নানা বাড়ি আসবে সে দিকে খোঁজ রাখতে শুরু করেন রাকিব। নানা বাড়িতে বেড়াতে আসলে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় পাভেলকে রাকিব ও তার সহযোগী অনিক সুইস গিয়ার দিয়ে পেটে আঘাত করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় পাভেলকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন। সেখানে পাভেল মারা যান।
৩১তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৪তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে নাটোরের সিংড়া চলনবিল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচলেন, গাইলেন এবং অভিনয় করলেন বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বিকেলে সিংড়া পৌরসভার সোহাগবাড়ি মহল্লায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এড. জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি এম এম সামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এড. ওহিদুর রহমান শেখ, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম তপন, চলনবিল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আঞ্জুমান আরা প্রমুখ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
নারায়ণগঞ্জে জেলা রূপগঞ্জ উপজেলায় ৩১তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৪তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৪ ডিসেম্বর) ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ: প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন,উপজেলা ইন্জিনিয়ারিং কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের আয়োজনে রূপগঞ্জ প্রতিবন্ধী পরিষদ কার্যালয়ের হলরুমে ৩১তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৪তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রূপগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান মারুফ সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন,রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি লায়ন মীর আব্দুল আলীম, রূপগঞ্জ উপজেলা এলজিডি ইঞ্জিনিয়ার জামাল উদ্দিন,রূপগঞ্জ প্রতিবন্ধী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট জহিরুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন- রূপগঞ্জ প্রতিবন্ধী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাগাগীর আলম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন তাহামিনা আলী যুগ্মসাধারণ সম্পাদক,রিমা আক্তার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক,এমদাদুল হক মিলন দপ্তর সম্পাদক।
বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ গুণের অধিকারী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সার্বিক সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হলে তাদের উপযুক্ত পরিচর্যা ও প্রশিক্ষিত করে তোলা একান্ত প্রয়োজন। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে এবং তাদেরকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণের পাশাপাশি তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট সকলে আরো বেশি আন্তরিক হবেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক বিকাশে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, দেশি-বিদেশি সংস্থা ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ভারতকে ১৮৬ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সিরিজ জিতে লিড নিতে টাইগারদের দরকার মাত্র ১৮৭ রান।
দলে ফিরেই ঘূর্ণি জাদু দেখালেন সাকিব আল হাসান। গতিতে ঝড় তুললেন এবাদত হোসেনও। এই যুগলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পাওয়া অধিনায়ক লিটন দাস। মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে বোলিং উদ্বোধন করান তিনি। কাটার মাস্টার প্রথম ওভারে দেন মাত্র ১ রান।
এরপর হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান মিরাজরাও বোলিংয়ে এসে চাপ ধরে রাখেন। যার ফলশ্রুতিতে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে উইকেটের দেখাও পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
মিরাজকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করেন শিখর ধাওয়ান, বলটা ব্যাটে লেগে লাগে স্টাম্পে। পড়ে যায় বেল। ভাঙে ভারতের উদ্বোধনী জুটি। মাত্র ৭ রান করেই সাজঘরের পথ ধরেন ধাওয়ান। দলীয় ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। এরপর দেখেশুনে খেলে দলকে কিছুটা পথ এগিয়ে নেন কোহলি আর রোহিত। ১০ ওভারে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৪৮ রান।
একাদশতম ওভারে এসে জোড়া শিকার করে ভারতকে ফের চাপে ফেলে দেন সাকিব। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলিকে তিন বলের মধ্যে সাজঘরে ফেরান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
ওভারে দ্বিতীয় বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলিয়ে রোহিতকে (৩১ বলে ২৭) বোল্ড করেন সাকিব। এক বল বিরতি দিয়ে ফেরান কোহলিকে।
ওই উইকেটে অবশ্য অবদান বেশি বলতে হবে লিটনের। এক্সট্রা কভারে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন লিটন। কোহলি (৯) যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে জুটি গড়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার আর লোকেশ রাহুল। তাদের ৫৬ বলে ৪৩ রানের জুটিটি অবশেষে ভাঙেন এবাদত হোসেন।
২০তম ওভারের শেষ বলে এবাদতের শর্ট ডেলিভারি পুল করতে গিয়ে বল সোজা আকাশে তুলে দেন আইয়ার (২৪)।
উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম নেন সহজ ক্যাচ। ৯২ রানে ভারত হারায় ৪ উইকেট। একশর আগে ৪ উইকেট হারানো দলকে টেনে তুলছিলেন লোকেশ রাহুল আর ওয়াশিংটন সুন্দর। ৭৫ বলে তারা ৬০ রান যোগ করলে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।
তবে সাকিবের ঘূর্ণিতে ফের কোণঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারিরা। সুন্দরকে সাজঘরে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বাঁহাতি এই স্পিনার। তাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পয়েন্টে এবাদতের ক্যাচ হন সুন্দর (১৯)। এরপরের ওভারে এবাদত নিজেই আঘাত হানেন। এবার তাকে সাহায্য করেন সাকিব। শাহবাজের (০) একদম নিচু হয়ে যাওয়া ক্যাচ কভারে দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন। তার পরের ওভারে সাকিব বোল্ড করে ফেরান শার্দুল ঠাকুরকেও (২)।
ওই ওভারেই দুই বল পর চাহালকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফাইফার পূরণ করেন সাকিব। ১৫৬ রানে ৮ উইকেট হারানো ভারতের শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন লোকেশ রাহুল। এবাদতের শর্ট বলের ফাঁদে শেষ পর্যন্ত তিনিও ধরা পড়েন। থার্ড ম্যানে সহজ ক্যাচ নেন এনামুল বিজয়। ৭০ বলে গড়া রাহুলের ৭৩ রানের ইনিংসে ছিল ৫ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কার মার।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
সাত বছর বয়সে জ্বর হয়। জ্বর ছিল বেশ কয়েকদিন। অর্থাভাবে ভাল চিকিৎসা হয়নি। হাসপাতালের ঔষধ খেয়ে জ্বর থামলেও তার দুই হাত আর দুই পা অবশ হয়ে যায়। সেই থেকে বাইরের আলো দেখা হয়না রজনীর।
রজনীর বয়স যখন চার বছর তখন তার বাবা তাকে ও তার মাকে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। রজনী যখন নয় বছরের তখন তার মার বিয়ে হয় অন্যত্র। তখন থেকেই নানী লাইলীর কাছে থাকে রজনী। নানী যখন অন্যের বাড়ী কাজ করতে যায় তখন পুরো বাড়িতে একা।
রজনীর বয়স এখন ১৪। নানী লাইলীই তার বন্ধু, তার পৃথিবী। রজনী লেখাপড়া করতে চায়, স্কুলে যেতে চায়, বাইরে গিয়ে সমবয়সীদের সাথে খেলতে চায়। কিন্তু একা চলতে পারেনা। নানী অন্যের বাসায় কাজ করে তাই তাকে বাইরে নিয়ে যাবার কেউ থাকেনা। চোখের কোনের অশ্রু লুকিয়ে রজনী জানায়, যখন নানী বাড়িতে থাকেনা তখন টিভি দেখেই তার সময় কাটে।
রজনী আরও জানায়, সে যখন অসুস্থ্য হয় তখন তার পিতা ইমরান আলীকে মোবাইল (নানীর মোবাইল) করলে তাকে তার পিতা গালিগালাজ করে এবং সে তার মেয়ে নয় বলে জানায়। তবে তার মা সুমী মাঝে মাঝে দেখতে আসে। তখন তার খুব ভাল লাগে। রজনী স্কুলে যেতে ও সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে প্রধানমন্ত্রী ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করে।
রজনীর নানী লাইলী জানায়, ৪০ বছর আগে তাকে ছেড়ে তার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। তখন থেকে রজনীর মাকে নিয়ে সে সংগ্রাম করে টিকে আছে। কিন্তু অভাব তার পিছু ছাড়েনি। মেয়ে সুমীর বিয়ে দেয় পার্শ্ববর্তী ইমরানের সাথে। নাতনী রজনী হবার চার বছর পর জামাইও মেয়েকে ছেড়ে দেয়। মেয়ে সুমীর দ্বিতীয় বিয়ে দেয়ার পর থেকে সে নাতনী রজনীকে নিয়ে রেলবস্তীর বাসায় থাকে। লাইলী জানায়, স্বামী পরিত্যক্তের কাগজ না থাকায় সে ভাতা পায়না। অনেক ছুটাছুটির পরও নাতনী রজনীর প্রতিবন্ধীর ভাতাও করতে পারেনি। পরের বাড়ী কাজ করে কোনরকমে সংসার চলে। টাকা না থাকায় রজনীর চিকিৎসা ঠিকমত করতে পারেনা। গত শনিবার জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসে সমাজসেবা অফিস থেকে রজনীকে একটি হুইল চেয়ার দিয়েছে বলে জানায় লাইলী।
লাইলী ও রজনীর ভাতার কার্ডের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ নাজনিন ফাতেমা জানান, শীঘ্রই তাদের ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা হবে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উম্মে কুলসুম জানান, তারা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে বললে দ্রুত ভাতার কার্ড হয়ে যাবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
কিঞ্চিত শিশির ভেজা শীতের সকালে সাতক্ষীরার কলারোয়ার দিগন্তজুড়ে শোভা
পাচ্ছে হলুদের সমারোহ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলী মাঠের পর মাঠ যেন
হলুদ বর্ণে ঢেকে গেছে সরিষা ফুলের দোল খাওয়া গাছগুলো। সবুজ সরিষার গাছের
হলুদ ফুল সাতসকালের রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। ফসলী মাঠে সরিষা চাষ আর
মৌমাছি থেকে মধু সংগ্রহের কর্মযজ্ঞতায় কর্মব্যস্ত এখন প্রান্তিক কৃষকেরা।
বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেশি থাকায় ও সরিষা তেলের চাহিদা বাড়ায় চাষীরা
এবার আগ্রহ করে জমিতে সরিষার চাষ করছেন।
আমন ধান কাটার পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে কলারোয়ায় সরিষার
বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার গয়ড়া গ্রামের কয়েকজন সরিষা চাষী জানালেন, ‘ফলন ভালো পাওয়ার আশায়
এবার উন্নত জাতের সরিষা জমিতে চাষ করেছি। এখন সরিষা গাছের যে অবস্থা
দেখছি, তাতে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মনিরুল ইসলাম নামের এক সরিষা চাষী বলেন, ‘সরিষা চাষে কম খরচ, কম পরিশ্রম
আর কম সময়ে সরিষা চাষ করা যায় বলে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। প্রতি
বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে ৬-৮ মন হারে সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে সরিষার দামও ভালো রয়েছে। তাই এবার সরিষা চাষীরা অনেক
লাভবান হবেন এমনটায় আশা করা হচ্ছে।’
তবে প্রান্তিক পর্যায়ের কয়েকজন কৃষক জানান, ‘তৈল জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের
উদ্বুদ্ধ করতে চলতি বছরে সরকার থেকে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে যে
বীজ ও সার দেয়া হয়েছে, সেটা পুরোপুরি সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। অনেক
প্রকৃতচাষীরা পায়নি এই বীজ ও সার। কিছু কিছু এলাকায় মুখ চিনে চিনে কৃষি
প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর
জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতেই সরিষা
ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে সরিষা চাষীদেরকে কৃষি
অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরী সহযোগিতার কারণে
সরিষা ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাইমুক্ত। যথা সময়ে সরকারি পর্যায় থেকে
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরিষার বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ
বিতরণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ে বেশ কিছু জমি চাষের উপযোগী না হওয়ায় কিছু
কৃষক ঠিক সময়ে সরিষা বপণ করতে পারেনি। তবে উপজেলার ১২টি কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া, চন্দনপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রহমান জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে
থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন ও কৃষক বাড়তি মুনাফা পাবে বলে আশা করছি।’
এদিকে, সরিষা মাঠে ও আশপাশের স্থানে অগণিত বাক্স রেখে সংগ্রহ করা হচ্ছে
মৌমাছি থেকে মধু। মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে মৌমাছির গুনগুন শব্দে
ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহের দৃশ্য আরেক প্রাকৃতিক অপরূপতা সৃষ্টি
করেছে। সবমিলিয়ে হলুদ রংয়ের মাঠজুড়ে সরিষা চাষ আর মৌমাছির মধু সংগ্রহের
কর্মযজ্ঞতায় প্রান্তিক চাষীদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব