রবিবার ,২৬ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 753

শেষ মুহূর্তের গোলে কোপা আমেরিকায় তৃতীয় কলম্বিয়া

ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়ে হেরে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পৌঁছানো হয়নি পেরুর। তৃতীয় স্থান দখলের লড়াইয়েও হেরে গেল তারা।

দুর্দান্ত খেললেও অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে তৃতীয় স্থানটিও দখলে নিতে পারেনি তারা।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পেনাল্টিতে হেরে যাওয়া কলম্বিয়ার তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ জয়ের নায়ক জোড়া নায়ক ২৪ বছরের পোর্তো উইঙ্গার লুইস দিয়াজ। ম্যাচে জোড়া গোল দিয়েছেন দিয়াজ।

যোগ করা সময়ে (৯৪ মিনিটে) তার দুর্দান্ত এক গোলে জয় সুনিশ্চিত করে কলম্বিয়া। ম্যাচের ফলাফল কলম্বিয়ার পক্ষে ৩-২।

তারকা ফুটবলার হামেজ রদরিগেজের অনুপস্থিতিতে কলম্বিয়া মুশকিল পরিস্থিতিতে ম্যাচ জিততে কার দিকে তাকাবে, সেই নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ছিল।

ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচ শনিবার ভোরে শুরু হয় ম্যাচটি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কেউ কাউেক ছাড় দেয়নি। সে এক দুর্দান্ত ম্যাচ উপভোগ করল ফুটবলবিশ্ব।

তবে তারকা ফুটবলার হামেজ রদরিগেজের অনুপস্থিতিতে কলম্বিয়া মুশকিল পরিস্থিতিতে ম্যাচ জিততে কার দিকে তাকাবে, সেই নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ছিল।

আর এবারের কোপায় এক নতুন হীরার সন্ধান পেল কলম্বিয়া। তার নাম লুইস দিয়াজ। ব্রাজিলের মাচে বাইসাইকেল কিকে গোলের পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালেও গোল পেয়েছেন দিয়াজ।

আজ ভোরে পেরুর বিপক্ষে জোড়া গোল করে এই কোপায় নিজের জাত চেনালেন দিয়াজ। পাশাপাশি জোড়া গোলের সুবাদে লিওনেল মেসির সঙ্গে যুগ্মভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলস্কোরের আসনও দখল করে নিলেন তিনি। ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন দিয়াজ।

গোল্ডেন বুটের দাবিদার এখন তিনিও।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকেই জমে ওঠে। যদিও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বিরতির আগ পর্যন্ত।

প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে ৪৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় পেরু। ক্রিশ্চিয়ান কুয়েভার পাস থেকে বল জালে জড়ান ইয়োশিয়াম ইয়োতুন।

১-০ স্কোরলাইনে বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতিপর ফিরেই স্কোরলাইন ১-১ করে কলম্বিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতা ফেরান তারকা মিডফিল্ডার হুয়ান কুয়াদ্রাদো। ডি-বক্সের বাইরে জন মেদিনাকে ফাউল করা হলে ফ্রি-কিক পেয়ে যায় কলম্বিয়া। সেখান থেকেই গোল করেন কুয়াদ্রাদো।

৬৫ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় পেরু। সেই বল ক্লিয়ার করে দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠে যায় কলম্বিয়া। পরে কামিও ভারগাসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল জালে জড়ান লুইস দিয়াজ।

কুবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে রিমোট এক্সেস পোর্টাল উদ্বোধন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে অনলাইন ভিত্তিক রিমোট এক্সেস পোর্টাল উদ্বোধন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পোর্টালটির উদ্বোধন করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও কোর নলেজ লিমিটেডের আয়োজনে এবং বই ক্রয় কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী যারা বিভিন্ন দেশে আছেন, তারাও আজ আমাদের এই ই-রিসোর্সের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। এটার ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে। পৃথিবীর অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়, তা আমরা এখন ভোগ করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। এখানে কোনো আলাদা সত্ত্বা নেই। এখানে আমাদের ক্রেডিট হচ্ছে সবাই মিলে। আমরা যে অনেক কিছু করতে পারি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।সবাই একসাথে মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের কথা চিন্তা করার আহবান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আমরা সবাই একসাথে থাকলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ঠেকানো সম্ভব নয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কোর নলেজ লিমিটেডের এবং কাস্টমার সাকসেস ম্যানেজার মাইনুর রশিদ রিমোট এক্সেস পোর্টাল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন শিক্ষকদের।

জানা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রিমোট এক্সেস সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ই-বুকস্, ই-জার্নাল ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। https://coulibrary.remotexs.co এই ওয়েব এড্রেসে গিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পোর্টালে এক্সেসের জন্য আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে create account অপশনে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন করলে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মহি উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক ভুঁইয়াসহ কর্মকর্তারা।

ঢাবির সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হলেন বরিশালের সিমু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার পদে নিয়োগ পেয়েছেন বরিশালের নুসরাত জাহান সিমু। গত ২১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যদের এক সভায় সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পদে তাকে নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।

সিমু ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। পরে ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও ২০১৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

নুসরাত জাহান সিমু বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের স্ত্রী।

উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে মেরুকরণের নানা অভিযোগ

জনসংখ্যার বিচারে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন আগামী বছরের শুরুতেই।

ভোটের আগে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকেই খবর আসছে, পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ওপর সেখানে হামলা চালানো হচ্ছে এবং মারধর করে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেও বাধ্য করা হচ্ছে।খবর বিবিসির।

এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে- তারাই আবার এসব ভিডিও করে ছেড়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও- যাতে মুসলিম সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সমাজকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, ভোটের আগে রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের লক্ষ্যেই খুব পরিকল্পনা করে এই কাণ্ডগুলো ঘটানো হচ্ছে – যদিও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ।

দিল্লির কাছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ এলাকায় এ বছরের মার্চের মাঝামাঝি একটি হিন্দু মন্দিরে ঢুকে পানি খাওয়ার অপরাধে বারো-তেরো বছরের একটি ছেলেকে মাটিতে ফেলে নৃশংসভাবে মারধর করছিল দু‌’তিনজন যুবক।

বাচ্চা ছেলেটির নাম আসিফ, বাবার নাম হাবিব – এটা শোনার পর বেধড়ক মারের সঙ্গে চলতে থাকে অকথ্য গালিগালাজ।

মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনাটি ভিডিও করে পরে হোয়াটসঅ্যাপে আর ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে ওই যুবকরাই।

যার হেনস্থার ভিডিও দেখে গোটা দেশ শিউড়ে উঠেছিল, সেই আসিফ পরে গণমাধ্যমকে জানায়, শুধু মুসলিম হওয়ার জন্যই তাকে সেদিন ওভাবে মার খেতে হয়েছিল।

আসিফ বলে, ‘প্রথমে মাটিতে ফেলে রড দিয়ে পেটায়, তারপর হাত-পা মুচড়ে দিয়ে লাথি মারতে থাকে আমাকে।’

বাবার সঙ্গে মিলে রাস্তার ময়লা কুড়িয়ে বাঁচা ছেলেটি ভয়ে কাঁপাতে কাঁপতে আরও বলেছিল, হিন্দুরা তাদের বাড়িতে এলে সে নিশ্চয় জল খাওয়াবে- কিন্তু কোনওদিন আর ভুলেও কোনও মন্দিরে জল খেতে ঢুকবে না।

এর বর্বতার তিন মাস পরেই গাজিয়াবাদের কাছে লোনিতে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আবদুস সামাদকে একটি নির্জন জায়গায় টেনে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড মারধর করা হয়।

জোর করে তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়, কাঁচি দিয়ে কেটে দেওয়া হয় লম্বা দাড়ি – আর এখানেও ভিডিও ধারণ করা হয় গোটা ঘটনাটির।

প্রবীণ মানুষটি কাঁদতে কাঁদতে পরে জানিয়েছিলেন, ক্যানালের ধার থেকে আমাকে একটি অটোতে করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল ওই হামলাকারীরা।

একটু দূরে ছেড়ে দেবে বলে নিয়ে যায় একটা জঙ্গলে, তারপর একটা ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মার মারতে শুরু করে দেয়।

ওরা শুধু আমাকে শ্রীরাম শ্রীরামই বলায়নি, বারবার বলছিল, করবি আর পাকিস্তানের দালালি?

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর ও শামলিতে আট বছর আগের দাঙ্গায় শত শত মুসলিম ঘরছাড়া হয়েছিলেন, সেখানেও আবার ফিরে এসেছে সেই দু:স্বপ্নের স্মৃতি।

‘মকতুব’ নামে একটি এনজিওর হয়ে সেখানে দাঙ্গাপীড়িতদের মধ্যে বহুদিন ধরে কাজ করছেন রাবিহা আবদুর রহিম।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, মুসলিম ছেলেদের মারধর করে বা মেয়েদের হেনস্তা করে তার ভিডিও তুলে রাখার ঘটনা সেখানে হরহামেশাই ঘটছে।

শুধু তাই নয়, ওই এলাকার গ্রামে গ্রামে হিন্দু নেতারা বড় বড় জমায়েত বা মহাপঞ্চায়েত ডেকে সেই সব নির্যাতন উদযাপন করছেন, মুসলিমদের প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

রাবিহার কথায়, মুসলিমদের লিঞ্চিং উপেক্ষা করা বা চুপচাপ বরদাস্ত করা এক জিনিস – কিন্তু হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে মুসলিমদের হত্যাকে সমর্থন করছে, উৎসব করছে – ভাবা যায়? এতো গণহত্যার প্রথম ধাপ!

আজকের ভারতে, উত্তরপ্রদেশে বা হরিয়ানায় কিন্তু ঠিক সেই জিনিসই হচ্ছে।আজ এদেশে মুসলিম মেয়েরা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে তাদের কোনও ভবিষ্যৎ নেই … যে কোনও দিন তারা খুন হতে পারে, ক্যামেরার সামনে ধর্ষিতা হতে পারে বা জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হতে পারে – স্রেফ তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য।

এই জুলাই মাসের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশের নয়ডাতে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা লোকজন মেরে অজ্ঞান করে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল প্রবীণ কাজিম আহমেদকেও।

লম্বা দাড়ি আর ফেজ টুপি থেকে তাঁকে খুব সহজেই চেনা যায় মুসলিম বলে – আর সে জন্যই তাকে নিশানা করেছিল হামলাকারীরা।

কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে ফেরা আহমেদ পরে বলেন, আলিগড়ের বাসের জন্য যখন অপেক্ষা করছিলাম – তখন ওই গাড়িটি এগিয়ে এসে আমায় লিফট দিতে চায়।

কিন্তু আমাকে গাড়িতে তুলেই যখন ওরা জানালার কালো কাঁচ নামিয়ে দেয়, তখনই আমি প্রমাদ গুনি।নামিয়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করলেও তাতে ওরা কান দেয়নি, আমার দাড়ি টেনে ধরে একধারসে কিল-চড়-ঘুষি মারতে থাকে – দিতে থাকে খুব খারাপ গালাগালি!

কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথের আমলে উত্তরপ্রদেশে এই ধরনের ঘটনা এখন এতটাই ডালভাত হয়ে গেছে যে এখন মিডিয়াতেও এসব খবর ঠাঁই পায় না বললেই চলে।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যটিতে বিধানসভা ভোট মাত্র ছয়-সাত মাস পরেই।

তার ঠিক আগে সেই রাজ্যে মুসলিম নির্যাতন যেন একটা নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী চলছে, একটা প্যাটার্ন অনুসরণ করছে বলে গণমাধ্যমকে বলছিলেন আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্রনেত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট আফরিন ফতিমা।

আফরিন ফতিমা বলছিলেন, এ রাজ্যে মুসলিমদের মধ্যে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে – আর পুরোটাই করা হচ্ছে পরিকল্পিত ছকে।

গবেষণা বলে, যে কোনো দাঙ্গার পরেই মুসলিমরা কিন্তু মিশ্র বসতির এলাকা ছেড়ে গিয়ে নিজেদের ঘেটোতে গিয়ে বাস করতে চায়। এখানেও ভোটের আগে ভয় দেখিয়ে ঠিক সেভাবেই মুসলিমদের কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছে।

রুটিরুজির প্রয়োজনে তাদেরও বাইরে বেরোতেই হয় – কিন্তু উত্তরপ্রদেশে প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষ জানেন প্রতিদিন বাড়ির বাইরে পা ফেলেই তারা বিরাট একটা ঝুঁকি নিচ্ছেন!

কিন্তু এই যে ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের একটি সম্প্রদায়ের মানুষজন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, পুলিশ-প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন মদত ছাড়া এটা কি আদৌ সম্ভব হত?

রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র সাক্ষী দিবাকর কিন্তু বলেন, আমাদের সরকার সবার পাশে আছে, সবার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে – ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বিভেদ করার প্রশ্নই ওঠে না।

তবে বিষয়টাকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন ভারতের সবচেয়ে দক্ষ, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন, বিক্রম সিং।

দীর্ঘদিন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক পদে থাকা ড. সিং বলেছেন, যে কোনও সভ্য সমাজে এরকম মেরুকরণের চেষ্টা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও হতাশার – এগুলো কখনওই হওয়া উচিত নয়।

উত্তরপ্রদেশে বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু ও মুসলিমরা যেমন শান্তিতে পাশাপাশি থেকেছে, তেমনি এখানে নানা ডিসটার্বিং ফল্টলাইনও আছে।

তবু আমি পুলিশের ওপর ভরসা হারাতে রাজি নই, রাজ্য পুলিশের নতুন ডিজি মুকুল গোয়েল আমার নিজের হাতে-গড়া অফিসার – তার চাপের কাছে মাথা না-নোয়ানোর ক্ষমতা ও সততায় আমার পূর্ণ আস্থা আছে।

তবে এটাও মনে রাখা দরকার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুলিশ বাহিনী – ডিজির নির্দেশ সব সময় ঠিকমতো নিচুতলায় পৌঁছয় না।

এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটলেও তা সমূলে নির্মূল করতে হবে … এবং আমার ধারণা ‘জিরো টলারেন্সে’র বার্তাটা নড়বড়ে হয়ে গেছে বলেই এরকম বিভেদের বীজ মাথাচাড়া দিচ্ছে।

তালেবান নিয়ে এবার রাশিয়ার উদ্বেগ

মার্কিন জোটের পর এবার আফগানিস্তানে বেপরোয়া হয়ে উঠা তালেবানদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

আফগানিস্তানের নতুন নতুন এলাকা দখলকারী তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি হয়ে পড়েছে মনে করছে রাশিয়া।খবর তাসের।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।যদিও রাশিয়া তলেবানকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে মনে করে।

পেসকভ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানে যা কিছু ঘটছে বিশেষ করে আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তালেবানের সঙ্গে সংলাপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে তালেবান গোটা আফগানিস্তান দখল করে ফেললে মস্কো সম্ভাব্য তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে কিনা এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি পেসকভ।

দিমিত্রি পেসকভ এমন সময় তালেবানের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বললেন, যখন তালেবানের একটি প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করছে।

তাজিকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর চলমান গোলযোগ নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ দূর করতে তালেবানের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল মস্কো সফরে গেছে।

তালেবান হামলার জের ধরে আফগানিস্তানের শত শত সীমান্তরক্ষী ও সাধারণ নাগরিক এরইমধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় তালেবান প্রতিনিধিদল রাশিয়ার আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলোভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ওই সাক্ষাতে তালেবান রাশিয়াকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তারা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে না।

জাখারোভা শুক্রবার মস্কোয় বলেন, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র তাজিকিস্তানেরর সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্তের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া সফরকারী তালেবান কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন দেলোয়ার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তারা কোনো অবস্থায় আফগান ভূমিতে আইএসের মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে তৎপরতা চালাতে দেবেন না।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।তিনি আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা তালেবানের দখলে রয়েছে বলে দাবি করেন।

দেলোয়ার বলেন, আফগানিস্তানের মোট ৩৯৮ জেলার মধ্যে ২৫০ জেলা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে তালেবানের এই দাবি আফগান সরকার মেনে নেয়নি। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বুধবার ৮০টি জেলা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন।

নবম শ্রেণীর কিশোরীকে ভারতে পাচার অভিযোগ টিকটক হৃদয়ের বিরুদ্ধে

ভারতে নবম শ্রেণী পড়ুয়া এক কিশোরীকে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সে দেশে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মগবাজারের টিকটক হৃদয় বাবুসহ ৪ জনকে আসামি করে হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতে হাতিরঝিল থানার ওসি অপারেশন মো. গোলাম আযম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মানব পাচার ও প্রতিরোধ আইনে একজন ভুক্তভোগী তার কিশোরী মেয়েকে পাচারের অভিযোগে মামলা করেছেন। তদন্ত পূর্বক আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

ভুক্তভোগি ওই কিশোরীর বাবা থানায় অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামির সহযোগিতায় টিকটক হৃদয় বাবু তার কিশোরী মেয়েকে ভারত পাচার করে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সিদ্দিক মাস্টারের ঢালের একটি বাসায় ২ মেয়ে, ১ ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। বড় মেয়ে বিজিপ্রেস স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

করোনা মহামারীর কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সে মাঝেমধ্যে তার মা ও ছোট বোনকে নিয়ে হাতিরঝিল এলাকায় ঘুরতে যেতো। সেখানে কয়েকজন ছেলেমেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে মগবাজারের হৃদয় বাবু নামে একটি ছেলে ছিল। সে আরও কয়েকজন ছেলে-মেয়েসহ টিকটক শুটিং করতো। বিষয়টি জানার পর মেয়েকে বারণ করা হয়।

গত ১৭ মার্চ আনুমানিক বিকেল ৫ টার দিকে আমার মেয়ে ৩০ মিনিট হাতিরঝিলে ঘুরে আসবে বলে বাসা থেকে বের হয়। সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ফিরে না আসায় নিকট স্বজন ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজখবর করি। তার মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া পালিয়ে আসা এক কিশোরীর নির্যাতনের বর্ণনা তিনি শোনেন। এক পর্যায়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে পাচার হওয়া কিশোরীর বাবা ও মামলার বাদি যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে পালিয়ে আসা কিশোরী পাচার হওয়া কিশোরীর ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করে। ওই কিশোরী ভারতের আনন্দপুরের একটি বাসায় দেখেছে বলে পাচার হওয়া কিশোরীর বাবাকে নিশ্চিত করে।

এদিকে মামলায় টিকটক হৃদয় বাবুসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে হলেও অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতে এক বাংলাদেশীকে তরুণীকে নির্যাতন ও ভিডিও ভাইরাল খবরপর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬টি মানব পাচার ও প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। এসব মামলার প্রধান আসামি ভারতের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া টিকটক হৃদয় বাবু।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন মো. নজরুল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নজরুল ইসলাম, বিএসপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে তার মেয়াদ হবে চার বছর। তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত চাকরির বয়সপূর্তিতে মূল পদে প্রত্যাবর্তনপূর্বক অবসরগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদক শেষে উক্ত মেয়াদের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করবে।

এই পদে তিনি বিধি মোতাবেক বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

প্রাথমিকে বিস্কুট প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল ৬ মাস

আরো ছয় মাস বাড়লো প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিস্কুট বিতরণ তথা ‘দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্প’ মেয়াদ। মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে না। প্রকল্পের উদ্ধৃত টাকা দিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিকের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীদের উচ্চ পুষ্টিমানের বিস্কুট বিতরণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে সম্মতি দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল মিল প্রকল্প’র ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখনই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি দিলে অবশ্যই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে। তবে বিস্তারিত না জানা পযন্ত কোন মন্তব্য করতে পারবো না।

গত ১ জুন একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাইমারি স্কুল মিল প্রকল্প’ অনুমোদন না দিয়ে ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব দেন। নতুন প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় এবং বিস্কুট বিতরণ প্রকল্পের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়ে যায়। নতুন প্রকেল্পর ডিপিপি সংশোধন করতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। এই সময়ে বিস্কুট বিতরণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী ৩০ লাখ শিক্ষার্থী অপুষ্টি ও ঝরে পড়া আশঙ্কা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ব্যয় না বাড়িয়ে আরো এক বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হলে যৌক্তিকতা তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। কমিশন প্রস্তাব যাচাই বাছাই করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায়।

দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের দরিদ্র পীড়িত ১০৪টি উপজেলায় ২০১০ সাল থেকে প্রকল্পের অধীনে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ৭৫ গ্রামের এক প্যাকেট বিস্কুট বিতরণ করা হয়। বিস্কুট থেকে একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন ৩৩৮ কিলো ক্যালরি শক্তি পায়।

প্রকল্পটি প্রথম দফায় ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তাবায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প সংশোধন করে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১১৪২ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এরমধ্যে জিওবি ৫৯৭ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ও প্রকল্প সাহায্য ৫৪৫ কোটি নয় লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

বিস্কুট বিতরনের সফলতা থেকে সারা দেশের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবর দিতে প্রণয়ন করা হয় জাতীয় স্কুল মিল নীতিমাল-২০১৯। নীতিমালা অনুযায়ী ‘প্রাইমারি স্কুল মিল প্রকল্প’টি গত ১ জুন একনেকে উত্থাপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবর খিচুড়ি দেওয়ার প্রস্তাব করায় প্রধানমন্ত্রী ডিপিপি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশে সফর রাখায় একনেক থেকে প্রকল্পটি ফেরত পাঠানো হয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনায় পড়তে হয় সরকারকে।

দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি গত ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘প্রাইমারি স্কুল মিল প্রকল্প’ প্রকল্পটির অনুমোদনে বিলম্বের কারনে ব্যয় না বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরেক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। করোনার কারনে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না পড়ে সেজন্য চলমান প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। মহামারির মধ্যেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিস্কুট বিতরণ করেন।

শেখ পরশ: হার না-মানা এক যোদ্ধা

কিছু বাস্তবতা গল্পকেও হার মানায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্যে বেড়ে ওঠার নাম যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি খুব ছোট থাকতে হারিয়েছেন মা-বাবাকে। যেভাবে হারিয়েছেন সেটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। শৈশবে চোখের সামনে বাবা-মার রক্তাক্ত মরদেহ। কি বীভৎস! ভাবতেই শিউরে ওঠে শরীর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই বিয়োগান্তক ঘটনা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ মনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শেখ আরজু মনিসহ বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হলেন। ১৪ অগাস্ট রাতে বঙ্গবন্ধুর বোন শেখ ফজলুল হক মণির মা রাত বারোটা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ছিলেন। গল্প করেছেন ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে। একান্তে সময় দিয়েছেন নিষ্পাপ রাসেলসহ সবার সঙ্গে। শেখ আছিয়া বেগম কি জানতেন সেই রাতে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, ছোট ভাই শেখ নাসের, ছেলে, ছেলের বউ, ভাতিজাদের হারাবেন? মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবাইকে হারিয়ে তিনি পাথর হয়ে গেলেন। পরবর্তী সময়ে শেখ আছিয়া বেগমের সীমাহীন কষ্ট ও আতঙ্কের মাধ্যমে দীর্ঘ পথ চলা শুরু হয়। শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি ও শহীদ আরজু মনির দুই ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস হৃদয়বিদারক ১৫ আগস্টের কালো রাত নিজের চোখে দেখেছেন।

ইতিহাসের জঘন্য সেই হত্যাকাণ্ড শেখ ফজলে শামস পরশের স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন তিনি: ‘খুব ভোরে প্রচণ্ড ভাঙচুরের আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙে। উঠে দেখি মা নেই পাশে। বিছানায় শুধু আমরা দুই ভাই। জানালা দিয়ে ঝড়ের মতো গোলাগুলি হচ্ছে। গুলিগুলো দেয়াল ফুটো করে মেঝেতে আছড়ে পড়ছে। সিঁড়িঘরে অনেক কান্নাকাটির আওয়াজ, হৈচৈ। আমরা দুই ভাই ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে সিঁড়িঘরের দিকে গিয়ে দেখি বাবা-মা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়া। মা’র পা দুটো বাবার বুকের ওপর আড়াআড়ি রাখা। দাদির শাড়ির আঁচল মাটিতে লুটোপুটি যাচ্ছে, আর দাদি পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন; দেয়ালে কপাল ঠুকছেন।’

শৈশবে দুই ভাই শেখ পরশ এবং শেখ তাপস এমন কালো ইতিহাসের স্বাক্ষী হন। মা-বাবার রক্ত মাখা দেহ! মেনে নেওয়া যায়? যায় না। কীভাবে সামাল দিয়েছেন সেই ছোট্ট পরশ? তখন কি বুঝেছিলেন মা-বাবার আদর, বুকের মধ্যেখানে নিয়ে পরম যত্নে কপালে চুমু একে দেওয়া তাদের দুই ভাইয়ের ভাগ্যে আর জুটবে না। নিশ্চয় তিনি সেদিন এমন উপলব্ধি করতে পারেননি, কারণ পাঁচ বছরের এক ছোট্ট ছেলে কি বা আর বোঝে! এখান থেকেই ঠিক বাংলা সিনেমার মতো ছোট ভাইকে নিয়ে কঠিন জীবনযুদ্ধ শুরু শেখ পরশের।

 

সিনেমা সে তো শুধু গল্প। কিন্তু বাস্তবতা! তা বড়ই কঠিন। তখনকার প্রেক্ষাপটে দুই ভাইয়ের বেঁচে থাকাই ছিল কঠিন। প্রতিটি দিন ছিল লড়াই-সংগ্রামের। একদিন এখানে তো আরেকদিন অন্যখানে। নিজের বাড়িতে আর কখনোই ফিরতে পারেননি! শৈশবে যখন পরশ-তাপসের কখনো মায়ের কোলে বা কখনো বাবার হাত ধরে মেলায় যাওয়ার কথা বা কখনো বন্ধুদের সঙ্গে দুরন্তপনা করে কাটানোর সময়, সেই সময়ে কি বীভৎস-সংগ্রামী জীবন কাটিয়েছেন তারা। কতটা ত্যাগ, কতটা দুঃখ, কতটা ভয় লুকিয়ে ছিল সেই ছোট্ট মনে! আজ নিশ্চয় প্রশ্ন জাগে কীভাবে এতো কঠিন সময় পাড়ি দিয়েছেন তারা?

সময় যতই কঠিন হোক শেখ ফজলে শামস পরশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তার পিতা শেখ ফজলুল হক মনির দূরদর্শী রাজনৈতিক চেতনা লালন করে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। শেখ ফজলুল হক মনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তা সকলের জানা। মাত্র ৩৫ বছর বয়সের ক্ষণজন্মা শেখ মনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান, দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, কবি ও ছোট গল্পকার। ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলে শামস পরশের বাবা শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। মনির ছোটভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমও দীর্ঘসময় চেয়ারম্যান হিসেবে যুবলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চার মূল নীতিকে সামনে রেখে যুবলীগের মূল কাজ হচ্ছে- বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা। পাশাপাশি যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করা।

বাবার সেই চেতনাকে লালন করে শেখ ফজলে শামস পরশ সময়ের সাথে সাথে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। রাজনৈতিক চেতনা লালনের পাশাপাশি একাডেমিক জায়গায় নিজের সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ধানমণ্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে কলরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেন। পিএইচডি ডিগ্রি নেয়ার পর দেশে ফেরেন এবং দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সঙ্গেও জড়িত তিনি। শুধু তাই নয়, বাবার মতো সংস্কৃতিমনা পরশ গান বাজনার প্রতিও বেশ সৌখিন।

যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরী শেখ ফজলে শামস পরশ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মানবিক যুবলীগের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। কঠিন জীবনসংগ্রামে নিজেকে প্রস্তুত করা এক নায়কের হাতে যুবলীগের নেতৃত্ব যুবসমাজে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং পিতা শেখ ফজলুল হক মনির দূরদর্শী রাজনৈতিক চেতনা বাস্তবায়নে গণমানুষের জন্য তার পথচলা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।

দায়িত্বগ্রহণের পর তিনি বলেন, ‘রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না, আমরা হচ্ছি ভলেন্টিয়ার। আমাদের কাজ মানুষের সেবা করা, যেখানেই অন্যায়, সেখানেই প্রতিবাদ করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুবলীগ হবে অগ্র সৈনিক।’

একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে শেখ ফজলে শামস পরশ গণমানুষের জন্য কাজ করবেন এটি সকলের প্রত্যাশা। কঠিন সংগ্রামে যার বেড়ে ওঠা তিনি নিশ্চয় জনগণের জন্য আপসহীন নেতৃত্ব। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চার মূল নীতিকে সামনে রেখে যুবলীগের মূল কাজ বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধপরিকর। মানবিক যুবলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রতিচ্ছবি। তিনি দক্ষ সংগঠক হিসেবে ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। নিশ্চয় বাংলার যুবসমাজ আপনার দিকে তাকিয়ে। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে আপনার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি। আপনার শুভ জন্মদিনে অফুরন্ত শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

লেখক: উপ-তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
সাধারণ সম্পাদক, একাউন্টিং এলামনাই এসোসিয়েশন, জবি।

ফলবিক্রেতা ইউসুফ থেকে ‘ট্র্যাজেডি কিং’ দিলীপ কুমার

ফল ব্যবসায়ী বাবা। তাঁর ছেলে অভিনেতা হবেন, এ কথা অন্তত অঙ্কে মেলে না! কিন্তু জীবন তো আর অঙ্কের ধারাপাত নয়। তাই ব্যবসা উঠি উঠি করেও এলিয়ে-কেলিয়ে গেলো। ব্যবসায়ীর মোড়ক খুলে বেরিয়ে এলেন দিলীপ কুমার।

মুম্বাইয়ের ‘প্রথম খান’ ও ‘ট্র্যাজেডি কিং’ তকমা পাওয়ার কথা নয় তাঁর। ডেভিড লিন-এর কাছ থেকে ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’ ছবিতে ডাক পাওয়ার কথাও ছিলো না। অভিনেতা হবেন, এমন আগ্রহের ছিটেফোঁটাও ছিলো না দিলীপ কুমারের মনে। অথচ তাই হলো। বাবার সঙ্গে মতবিরোধের জেরে বাড়ি ছাড়লেন। ব্যবসায় হাতেখড়ি হয়েও ব্যবসায়ী হওয়াটা আর হলো না। ব্যবসায় প্রচেষ্টার প্রথম অধ্যায় অনেকটা এরকমই। পরিচিত এবং সতীর্থরা বুঝলেন, ব্যবসা আর দিলীপ কুমার ঠিক তালে মেলে না। তাঁর জন্য অন্যকিছু অপেক্ষা করছে। ও-পর্বের সেখানেই ইতি।

দিলীপ কুমারের ব্যবসার পাঠ চুকলো। পা পড়লো মুম্বাইয়ে। উর্দু ভালো জানতেন। ভালো ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারতেন। কাহিনী-চিত্রনাট্য লেখার কাজ দিয়েই হলো শুরু। তারপর অভিনয়ের ডাক এলো। অভিনয়ে উৎসাহ জোগান দিয়ে নাম বদলে দিলেন দেবিকা রানী। ইউসুফ খান হয়ে গেলেন দিলীপ কুমার। এই সময়ের খান-পরিবেষ্টিত মুম্বাইয়ের প্রথম খান তিনি।

এই উপমহাদেশে কাহিনীর বিয়োগান্ত পরিণতি সিরিয়াস বলে ধরে নেয়ার মানসিকতা প্রাচীন এবং প্রবল। এই বিয়োগব্যথা মনে রোমাঞ্চ, প্রেমের সুখানুভূতি, ভাবালুতা উসকে দিতে পুষ্টিকর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। ‘দেবদাস’-এর পরিণতি খুবই করুণ কিন্তু তা প্রেমসুখকর আবেগ-আবিলতায় ভরা। ট্র্যাজেডি কিং হয়েও তাই দিলীপ কুমার উত্থান-পতনের মধ্যেও চিরবসন্তের জন্ম দিতে পেরেছিলেন মুম্বাইয়ের আনপ্রেডিক্টেবল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে, যেখানে ফুল ফোটা ও ঝরে যাওয়ার কাহিনী প্রায় একই সমান্তরালে চলে। এই অনিশ্চিত আসরে নিজের জন্য শক্তপোক্ত পরিসর নির্মাণ করে নিয়েছিলেন দিলীপ কুমার।

ইংরেজিতে ‘ইপোক মেকার’ বলে একটি কথা আছে। বাংলায় ‘যুগস্রষ্টা’ শব্দটি তার আশপাশ দিয়ে যায়। যদি তাই হয়, তবে ‘দিলীপ কুমার এর জীবনাবসান হলো’ না-বলে ‘দিলীপ কুমার যুগের অবসান হলো’, এভাবে বললে কথার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ব্যক্তি প্রতিভা প্রতিষ্ঠান হয়ে যায়; একটি কাল্ট। মতাদর্শ, পারঙ্গমতা, পরিপক্কতা, নৈপুণ্য ও প্রায়োগিক কৌশলের উৎকর্ষে নির্মিত হয় একটি ব্যাপ্তিকাল। ওই ব্যাপ্তিকালের তিনি প্রতিভা। তিনিই প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তি-মেধা প্রতিষ্ঠানকে অতিক্রম করে, তৈরি হয় পরম্পরা। সময়ের সঙ্গে তা নিয়ত প্রবহমান। পরবর্তী প্রজন্মে ওই পরম্পরার রূপ-ছায়া ধরা পড়ে।

মুম্বাইয়ের ম্যারিন প্যারেড ধরে কয়েক মুহূর্ত হাঁটার সুযোগ হয়েছিল। কিছুটা পেশাগত, কিছুটা বেড়ানোর উসিলায়। কলকাতায় বাস করে আমার এক আত্মীয়। অনেকটা নিমগ্ন হয়ে বললেন, ‘ওই যে সারি সারি বিল্ডিং, ওই যে দেখুন- ওখানে মুম্বাইয়ের তারকারা থাকে।’ আরেকটু তলিয়ে গিয়ে বললেন, ‘দিলীপ কুমারও থাকে।’ আরব সাগরের নোনা জল থেকে উঠে আসা হাওয়ার শব্দে তার শেষ কথাটি কানে পৌঁছানোর কথা নয়। তবু ঠিক কানে এলো। দিলীপ কুমার– তাঁকে অব্যয় আর বিশেষণ দিয়ে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা বাহুল্যমাত্র। তাই শুধু তাকিয়েছিলাম। কতক্ষণ জানি না। ‘চলুন এবার ফেরা যাক’- ঘোর কাটল, মনে জেগে থাকলো ওই একটি শব্দের অনুরণন- দিলীপ কুমার।

অভিনয় থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন অনেক আগে। অথচ মুম্বাইয়ের অভিনয় জগতে তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রলম্বিত ছায়া পড়ে আছে। মঞ্চের বাইরে থেকে তাঁর ফেলে আসা জগত শাসন করেছেন একজন আপাত অদৃশ্য শাসক। সব শাসনের আঙুল চোখে পড়ে না, তার রেখাপাত থাকে, চাইলে চোখে পড়ে। এখনও তিনি সজীব ও জেগে আছেন অসংখ্য ফ্যান বা ভক্তকুলের মনে।

মুম্বাইয়ে বসন্তকাল নিরবধি নয়। এই আসে এই ফিরে যায়। ভাঙাগড়া, চাপানউতোর স্পষ্টত দৃশ্যমান। ‘ট্র্যাজেডি কিং’ দিলীপ কুমার বসন্তকে প্রবহমান রাখতে পেরেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও ট্র্যাজিডি আছে। অন্য কথা-কল্প বাদ দিলেও মধুবালার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘকালের প্রণয়ের কেচ্ছা সবার জানা। নতুন কথা নয়। হবে-হচ্ছে করেও সম্পর্ক পরিণতি পেলো না। মধুবালা জীবনে ডেকে নিলেন অন্য পুরুষ। কিন্তু দিলীপ কুমারকে ভুলতে পারেননি। ‍দিলীপ কুমারের বিয়ের সংবাদ শুনে মধুবালা ভেঙে পড়েছিলেন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মধুবালার মৃত্যু হয়। দিলীপ কুমার বিয়ে করেছিলেন অনেক পরে, ৪৪ বছর বয়সে তাঁর অর্ধেক বয়সী সায়রা বানুকে। ফ্রক-পরা কিশোরী সায়রা বানু আগে থেকেই দিলীপ কুমারের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। শেষ শয্যায় সায়রা বানুই দিলীপ কুমারের পাশে ছিলেন।

১৯৬২ সালে পরিচালক ডেভিড লিন ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’ ছবিতে শেরিফ আলি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দিলীপ কুমারকে ডাকেন। সাড়া দেননি দিলীপ। ওই চরিত্রে পরে অভিনয় করেন মিশরের স্বনামখ্যাত অভিনেতা ওমর শরীফ। পরবর্তীকালে দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, ওই চরিত্রের জন্য ওমর শরীফ তার চেয়ে যোগ্য অভিনেতা। এলিজাবেথ টেলর-এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দিলীপ কুমারকে নির্বাচিত করেছিলেন ব্রিটেনের পরিচালক ডেভিড লিন। ছবির নাম ‘তাজমহল’। কিন্তু কাজটি বাতিল হয়ে যায়। খ্যাতি এবং পারদর্শিতার পাশাপাশি পরিমিতি বোধও ছিল ‘ট্র্যাজেডি কিং’-এর। শুধু উচ্চাকাঙ্খা নয়, নিজের দক্ষতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্যামিতিক জরিপও জরুরি।

৪০-এর দশকে ‘জোয়ার ভাটা’ ছবিতে প্রথম মুখ দেখান দিলীপ কুমার। ‘জোয়ার ভাটা’ (১৯৪৪) অভিনয়ের প্রশ্নে তাঁর ডেব্যু ফিল্ম। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের মূল দশক ৫০। বলা যায় ৫০-এর দশকই তাঁর ফসলী সন। ‘হালচাল’, ‘দিদার’, ‘দাগ’, ‘পয়গাম’-এর মতো আরও সফল চলচিত্রে অভিনয় করে তিনি ‘ট্র্যাজেডি কিং’ হিসেবে পরিচিত হয়ে যান। এই ঘরানার সব ছবিগুলোই ছিল বিয়োগান্ত পরিণতির। ক্রমাগত ট্র্যাজিক চরিত্রে অভিনয় করে দিলীপ কুমার নিজেও ক্লান্ত ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। ডিপ্রেশনে ভোগেন, মনোবিদের দ্বারস্থ হন। মনোবিদ তাকে ট্র্যাজিক চরিত্র থেকে সরে এসে হালকা চালের ছবি বা কমিডি নির্ভর কাহিনী বেছে নিতে বলেন। এই গোত্রের ছবির মধ্যে পড়ে ‘আজাদ’, মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। আরও একটি রোমান্টিক কাহিনী বেছে নেন তিনি– ‘কোহিনূর’; মুক্তি পায় ১৯৬০ সালে। রিল লাইফে ‘ট্র্যাজেডি কিং’ রিয়েল লাইফে যুদ্ধ করে বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠেন।

৬০-এর দশকে এসে আরেকটি মাইলফলক দেখা যায়। ঐতিহাসিক কাহিনীর বৃত্তবন্দি ছবি ‘মুঘল-ই-আজম। ভারতীয় চলচ্চিত্রে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। একটানা এগারো বছর ‘মুঘল-ই-আজম’ দর্শকেরর মনে রাজত্ব করেছে। আজও তার আবেগ ও আবেদন অপ্রতিরোধ্য। ১৯৭৫ সালে ‘শোলে’ আলোড়ন তুললেও ‘মুঘল-ই-আজম’র আবেদন একচুল নড়চড় হয়নি। এর আবেদন স্বতন্ত্র এবং ক্লাসিক। এর কাহিনী আবতর্তিত হয় রাজসভার নর্তকী ও রাজপুত্র সেলিমের প্রণয় নিয়ে। সেলিমের ভূমিকায় অভিনয় করেন দিলীপ কুমার, রাজ-নর্তকীর ভূমিকায় মধুবালা এবং সম্রাট আকবরের ভূমিকায় পৃথ্বীরাজ কাপুর।

অভিনয়ে তাঁর সাফল্য এবং প্রাপ্তি বিস্ময়কর। পুরস্কারপ্রাপ্তির বিচারে গিনেজ বুকে নাম ওঠে তাঁর। অসংখ্য পুরস্কারের মধ্যে তিনি আটবার ফিল্মফেয়ার বেস্ট অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড পান। তিনিই প্রথম অভিনেতা যিনি ‘দাগ’ ছবির জন্য প্রথম ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। প্রচলিত ধারার পদ্ধতিগত অভিনয় বা মেথড অ্যাক্টিং-এর সম্পূর্ণ বাইরে পড়েন দিলীপ কুমার। কিছু সমালোচকের মতে অনেক সময় দিলীপ কুমারের অভিনয়কে তাঁর ব্যক্তিগত স্বভাব ও আচরণ থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়তো। এখানেই দিলীপ কুমার স্বকীয়, এখানেই দিলীপ কুমার অনন্য।

দিলীপ কুমারের জীবনাবসান তাই একটি ‘কাল্ট’ অথবা যুগের অবসান। আসলেই কি অবসান? যে পরম্পরা রচিত হয় একবার, তা কালের ধারায় বেঁচেবর্তে থাকে। যেমন ইতিহাস, তাতে সাদা রঙ কালো রঙ দুটোই থাকে– সময়ের পরিবর্তনে সময়ের মানুষ তার মূল্যায়ন করে। অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে তার নিজস্ব পথ নির্মাণ করে। চলার পথ নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘কাল্ট’ বা পরম্পরা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা ও সম্ভবনা দুটোই থেকে যায়।