যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাঠিতে ট্রাকের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে সানতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- যশোরের চৌগাছা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুলকাদেরের ছেলে হযরত আলী (৩৫) ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মিঠাপুকুর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী বুলবুল (৪০)।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার রাতে মাছ ব্যবসায়ী বুলবুল কালীগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালক হযরত আলীর মোটরসাইকেল ভাড়া করে যশোরে আসছিলেন। রাত ১০টার দিকে তাদের মোটরসাইকেলটি যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি সানতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে বুলবুল ও হযরত আলী নিহত হন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও বারোবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে নিহতদের বিধ্বস্ত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করে পুলিশ।
বারোবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাক চাপায় নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
চলমান করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। তবে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। সারা বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে করোনায় আক্রান্ত ১১শ’র বেশি মানুষের। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় পৌনে ৩ লাখে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জাপানে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল, হংকং, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৯২ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৭ লাখ ১৭ হাজার।
বুধবার, ১১ জানুয়ারি সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১০৯ জনের। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৬২ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৪২৩ জনে।
একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ১৩৩ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৯২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ জনে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা। এতে রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে এখন প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত, আগের চেয়ে বেশ কিছু শর্ত শিথিল করায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে অর্থ পাঠানো সহজ হয়েছে। এছাড়া বৈধ পথে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ডলারের রেটও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা পেশাগতভাবে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছেন। এসব কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৯৬ কোটি ৬৬ লাখ (১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৯ কোটি ২২ লাখ ডলার।
স্বাধীনতার পর থেকে বরাবরই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসছে সৌদি আরব থেকে। সেই সৌদি আরব থেকে এই ছয় মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ছয় মাসে ১৯০ কোটি ৯১ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন সৌদি প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৪৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৩৩ কোটি ৭১ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৯১ কোটি ১১ লাখ ডলার এবং কুয়েত থেকে এসেছে ৭৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে সৌদি আরব। একসময় দ্বিতীয় থাকা আরব আমিরাতের অবস্থান এখন তৃতীয়, আর চতুর্থ ও ৫ম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও কুয়েত।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে শীর্ষ ১০-এ থাকা অন্য দেশগুলো মধ্যে কাতার প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৬৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার, ইতালি থেকে এসেছে ৬১ কোটি ৯ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, ওমান থেকে ৩১ কোটি ৩১ লাখ ডলার এবং বাহরাইন থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২২ কোটি মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে মোট ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাবে)। এর আগের মাস নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার।
২০২১ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে প্রায় ৭ কোটি ডলার বেশি এসেছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৩ কোটি ডলার।
২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৬ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৯ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এই অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ২৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার বেশি এসেছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমি ও ঘর পেয়েছেন ফরিদপুরের ৭১ ভূমিহীন পরিবার। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন ঢালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক আরিফ, পৌর মেয়র অমিতাভ বোস, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা।
গৃহহীনেরা জমিসহ সেমিপাকা ঘর পেয়ে বেশ খুশি। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করে দোয়া করেন। অনুষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্রে ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলা বাস্তবায়নে বিগত ১৪ বছরের নজীরবিহীন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যথায় বাংলাদেশ অন্ধকারে ডুবে যাবে।
এ জন্য দেশ-বিদেশে, ঘরে-বাইরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে আওয়ামী লীগ শত ষড়যন্ত্র চূর্ণ করে অপরাজেয় ছিল।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনোপলক্ষে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, এটা অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-কর্মীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে তাদের অনেকেই বিএনপি-জামায়াতসহ গণশত্রুদের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেন না। অথচ নিজেদের দলের নেতা এমনকি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন। এটা জঘন্য ও আত্মঘাতী ষড়যন্ত্র।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নাছির বলেন, অবশ্যই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে দলের ভিত্তি সুদৃঢ় করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকেই নৌকা প্রতীক দেবেন তার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে- এটা অন্যায় ও অপরাধ নয়। তবে এই প্রতিযোগিতা হতে হবে গঠনমূলক ও আত্ম-সমালোচনামূলক। যদি প্রতিহিংসা পরায়ণ ও ব্যক্তিক চরিত্রহরণমূলক হয় তাহলে তা হবে জঘন্যতম অপরাধ এবং এটা কিছুতেই বরদাশত করা হবে না।
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী সভাপতিত্বে, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, উপদেষ্টা সফর আলী, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আবদুচ সালাম, নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী প্রমুখ।