শুক্রবার ,৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 639

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে ফের আবেদন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে আবারও আবেদন করেছে তার পরিবার। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ফের চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্য বিবিসিকে বলেছেন, চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন, সেজন্য তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন করে আবেদন করেছেন।

ছয়দিনের ব্যবধানে খালেদা জিয়াকে আবার ঢাকায় বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তির পর রোববার রাত থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

তার বোন সেলিমা ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার এখন বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন-চিকিৎসকরা এখন এই একটাই পরামর্শ দিচ্ছেন।

সেজন্য তাদের ভাইবোনদের পক্ষ থেকে আবারও সরকারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘এটাই আমাদের আবেদন সরকারের কাছে যে তাকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি ওনারা (সরকার) যেন দেয়।’

যত দ্রুত সম্ভব খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

কোন দেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চায় পরিবার-এই প্রশ্নে সেলিমা ইসলাম বিবিসিকে জানান, সিঙ্গাপুর কাছে হবে এবং সেজন্য সিঙ্গাপুরকে তারা অগ্রাধিকার দেন।

তবে যে দেশেই অনুমতি মিলবে, সেখানেই তারা নেবেন বলে জানিয়েছেন সেলিনা ইসলাম।

৭৬ বছর বয়সি সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি।

এর আগে এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময় এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন।

পরে করোনার টিকা নিতে তিনি দুদফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।

এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়েছে।

ই-কমার্সের অর্থ ‘লোপাট’ নিয়ে যা বললেন এমপি হারুন

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এটা সত্য। কিন্তু বাংলাদেশের ই-কমার্স গত দুই মাস আগে ভয়াবহভাবে আলোচনায় এসেছে। আজকে ই-কমার্সের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। এর দায়বদ্ধতা নাই। এর জবাবদিহিতা নাই।

তিনি বলেন, আজকে অনলাইন কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। এটা সত্য। কিন্তু অনলাইনে যে গতিতে প্রসার ঘটছে তার পাশাপাশি ডিজিটাল আকারে দুর্নীতি হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি আমরা?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রবর্তন করায় এর ওপর জাতীয় সংসদে আনিত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

হারুনুর রশিদ এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা উল্লেখ করে বলেন, নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। এই অর্জন নিয়ে পাঁচ মিনিটে আলোচনা করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতা-উত্তর এবং স্বাধীনতা-পূর্ব বঙ্গবন্ধুর যে কর্মকাণ্ড ছিল তা আলোচনা করার জন্য বহু সময়ের দরকার।

বিএনপি দলীয় এই সদস্য বলেন, নিঃসন্দেহে এই পুরস্কারের মাধ্যমে যেমন আমরা গৌরবান্বিত হচ্ছি, পাশাপাশি আমরা যে সমস্ত বিষয়গুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি সেগুলো নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। আজকে গণতন্ত্র সূচকের অবস্থা কী? ১০০টি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব সম্মেলন হবে। সেখানে বাংলাদেশের নাম নাই। এগুলো হতাশার, এগুলো উদ্বেগের, এগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হওয়া উচিত। কেন আমরা আজকে এই অবস্থায় যাচ্ছি? এসব নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি দুই মাস আগেও স্বাস্থ্যখাতের কথা বলেছিলাম সংসদে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে আমি দেখি নাই।

সত্যকে স্বীকার করা বড় কঠিন উল্লেখ করে হারুন বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এতে আমাদের দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। মেট্রোরেল হচ্ছে। টানেল হচ্ছে। হাইওয়ে হচ্ছে। অনেক কিছুই হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত সংসদে আইন পাস করছি। কিন্তু আজকে সংকটগুলো থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবো এই জায়গাগুলো আমাদের ঠিক করতে হবে। এই জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা করলেই আজকে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে এগুলো নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে। তামাশা করা হচ্ছে। আমি মনে করি শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ আলোচনা হওয়া দরকার।

টাঙ্গাইলের হাসান ইমামের এমপি পদ বাতিল চেয়ে রিট

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে টাঙ্গাইল-৪ আসনের মো. হাসান ইমাম খানের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসুর রহমান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন।

রিট আবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগে হাসান ইমাম খানের এমপি পদ বাতিল চেয়ে রিট আবেদন করেছেন স্থানীয় ভোটার মো. মোখলেছুর রহমান।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২৫ জুলাই স্পিকার বরাবর চিঠি দেন মোখলেছুর রহমান। বিতর্কের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু সেটি না হওয়ায় তিনি ওই চিঠি নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন।

হাসান ইমাম খান টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য। এ আসনের সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করায় ২০১৪ সালে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হন ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করার পর উপনির্বাচনে হাসান ইমাম খান নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি নির্বাচিত হন।

হাসান আজিজুল হক সৃজনশীলতার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: প্রধানমন্ত্রী

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার রাতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসান আজিজুল হক তার সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীলতার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে সোমবার রাত সোয়া ৯টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা বিহাসে নিজের বাড়িতে মারা যান হাসান আজিজুল হক।

তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। স্ত্রী শামসুন্নাহার কয়েক বছর আগে প্রয়াত হন।

কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন হাসান আজিজুল হক। বাথরুমে পড়ে কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর বছরের মাঝামাঝি থেকে শয্যাশায়ী ছিলেন। নিউমোনিয়া ও হার্টের সমস্যা দেখা দিলে গত আগস্ট মাসে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় এনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

প্রায় তিন সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে রাজশাহীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বাসায় রেখেই তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার রাতে না ফেরার দেশে চলে যান এই কথাসাহিত্যিক।

কুরআনের মোজেজা ও ওলিউল্লাহি দর্শন

ইমাম শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি বলেন, ‘আমি অধম যেসব নেয়ামত লাভে ধন্য হয়েছি, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় নেয়ামতের একটি হলো— আমার বেশ কয়েকবার আব্বাজানের কুরআন তালিমের মজলিশে বসার সৌভাগ্য হয়েছে। আব্বাজান সূক্ষ্মভাবে, গভীর চিন্তা-ফিকির করে কুরআনের অর্থ করতেন। আয়াতের শানে ‍নুজুল বর্ণনা করতেন। কোনো প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত জানার জন্য নির্দিষ্ট তাফসির ইঙ্গিত করতেন। এর ফলে আমার সামনে যুদ্ধজয় ও সফলতার এক বিশাল ময়দান উন্মুক্ত হয়ে যায়। আব্বাজানের নীতি ছিল এমন যে, তার বন্ধুদের মজলিশে প্রত্যেক দিন তিন রুকুর কম কুরআন পাঠ করতেন এবং তার অর্থ নিয়ে খুবই জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা করতেন।’

খোদ শাহ সাহেব পবিত্র হজ থেকে ফিরে আসার পাঁচ বছর পর পবিত্র কুরআন ফারসিতে তর্জমা করেন, এবং প্রথমবারের মতো তালিম দিতে শুরু করেন। শাহ সাহেব পর্যবেক্ষণ করে দেখেছিলেন যে তার সময়কালে হাই সোসাইটির লোকজন প্রায়োগিক দর্শন জানে ও বোঝে। তাই শাহ সাহেব প্রায়োগিক দর্শনকে কুরআনি শিক্ষা প্রচারের মাধ্যম বানান।

ওই সময়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় যে দর্শন ছিল, সেটাকেই কুরআনি শিক্ষার অনুগামী বানিয়ে তোলেন। এভাবে প্রজ্ঞামতিত্বের সঙ্গে কুরআনের প্রায়োগিক শিক্ষা মুসলমানদের সামনে হাজির করেন।

শাহ সাহেব ১২ বছর নিজের আশপাশের সমাজকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, এবং এই ১২ বছরের পর্যবেক্ষণে তিনি নিজের কর্মসূচি দুটো মূলনীতিতে সাজান :

এক. কুরআনের প্রায়োগিক শিক্ষা প্রয়োজন। কেননা কুরআন মানুষের জীবনযাপনের সব সমস্যার জ্ঞানতাত্ত্বিক সমাধানের আকরগ্রন্থ। মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা প্রকৃত অর্থেই একটি অলৌকিক ব্যাপার।

দুই, অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা প্রতিষ্ঠা করা। কেননা লেনদেন সংক্রান্ত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের সবধরনের কার্যত ও চরিত্রগত অন্যায় ও অন্যায্যতার অন্যতম মূল কারণ আর্থসামাজিক ভারসাম্যহীনতা।

এতে কোনো সন্দেহ নাই যে কুরআনের মোজেজা হওয়া সব মুসলমানের কাছেই স্বীকৃত। কিন্তু প্রত্যেক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে কুরআনের মোজেজা হওয়ার বিষয়টি ভিন্ন-ভিন্ন।

দার্শনিক মনোভাব রাখেন এমন আলেমগণ বহু আগে থেকে বলে আসছেন যে, কুরআনের মোজেজা হলো তার আলঙ্কারিক ভাষারীতি। কিন্তু তাদের কথা যদি মেনে নিই তাহলে আপত্তি ওঠে যারা আরবিভাষী না, তারা তো ভাষার অলঙ্কার বুঝবে না, তার ক্ষেত্রে কুরআন কীভাবে মোজেজা হবে? এই জন্য আমি মনে করি কুরআনের মোজেজার মানদণ্ড অলঙ্কারশাস্ত্র হতে পারে না।

শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবি বলেন— কুরআনের মোজেজা হলো তাতে নির্দেশিত জীবনবিধান। এবং কুরআনকে কার্যত বাস্তবায়নের পরবর্তী ফলাফলও তার মোজেজা। এখন কুরআনে নির্দেশিত জীবনবিধান প্রত্যেক মানুষের জন্য— চাই আরব হোক বা অনারব, সাধারণ মানুষ হোক বা আলেম, দার্শনিক হোক বা সাধাসিধা বুদ্ধির— সবার জন্যই উপকারী এবং সবাই তার মোজেজা উপলদ্ধি করতে পারে।

কিন্তু কুরআনের মোজেজা যদি আরবি ভাষার সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের সম্পৃক্ত করা হয়, তাহলে গুটিকয়েক মানুষই শুধু তা বুঝবে, আর একথা কোনো পরিপূর্ণ ধারণা দেয় না।

কুরআনি শিক্ষার কার্যত বাস্তবায়ন ছাড়া শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবির বিপ্লবী কার্যক্রমের দ্বিতীয় মূলনীতি হলো অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা প্রতিষ্ঠা ও ন্যায্য বণ্টন করা।

সাধারণত ভাবা হয় আত্মশুদ্ধির শুরু আখলাক থেকে, যদিও বেঁচে থাকার তাগিদে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে খুব হেলেফেলায়। অথচ মানবজীবনের সাথে অর্থনীতির সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি, তারচেয়ে বেশি সরাসরি সম্পর্ক অন্যকিছুর নেই। আর একেই হেলেফেলা করার কারণে আমাদের রাজনীতি ফাঁপা কুমড়োর মতো।

আমাদের বড় বড় জ্ঞানীগুণী লোক, সুফি-সাধুগণ সবাই গণমানুষের রাজনীতি থেকে দূরে থাকাকে কামালিয়াত মনে করেন। আধ্যাত্মিকতা বিষয়ক প্রচলিত বইগুলোর সবচেয়ে বড় কমতি এখানেই— এই বইগুলোর রচয়িতারা মানবস্বভাবের সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক ঠিক ধরতে পারেন না।

অন্যদিকে শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবি জীবনের এই বাস্তবতাকে একটা পরিপূর্ণ রূপ দান করেছেন। তার কিতাবে বারবার এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেন।

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় তিনি উল্লেখ করেন: যদি কোনো সমাজে নগরসভ্যতা পর্যায়ক্রমে উন্নত হতে থাকে, তাহলে সেই সমাজ কারিগরি ও যান্ত্রিক বিকাশে চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে যায়। যদি ঠিক সেই সময় শাসকশ্রেণি আরাম-আয়েশ ও গর্ব-অহমিকায় জীবনযাপন করতে শুরু করে, তাহলে এর প্রভাবে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এতবেশি চাপ পড়ে যে সমাজের এক শ্রেণি পশুর মতো জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

মানুষের স্বাভাবিক জীবনের সব আদর্শ ওই সময় অর্থহীন হয়ে যায়, যখন কোনো জালেম সমাজে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যতা সৃষ্টি করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তোলে, আর মানুষ গরু-গাধার মতো স্রেফ রুটি-রুজির জন্য সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যায়। যখন মানুষের ওপর এহেন মুসিবত আসে, তখন আল্লাহ সেই মুসিবত থেকে উদ্ধার করতে কোনো না কোনো উপায় বের করে দেন।

তিনি তার নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মনে বার্তা পাঠান, অর্থাৎ আল্লাহ বিপ্লবের উপকরণ তৈরি করে দেন, যেন মাথা থেকে অবৈধ বেইনসাফ শাসকের বোঝা সরাতে পারেন। কায়সার (সিজার) ও কিসরা (খসরু) এই ধরনের আরাম-আয়েশ ও জুলুমের নীতি অনুসরণ করেছিল, এই রোগ থেকে মানবজাতিকে উদ্ধার করতে মরুবাসী নিরক্ষরদের মধ্যে আল্লাহর রাসুলকে (স.) পাঠান। ফেরাউনের ডুবে মরা, সিজার ও খসরুর ধ্বংস এই মূলনীতির ওপর নবুয়তের জন্য আবশ্যকীয় নির্দেশনা হিসেবে গণ্য হবে।’

শাহ সাহেবের দৃষ্টিতে মানুষের সামাজিক জীবনে অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা একটি আবশ্যকীয় বিষয়, এবং মানুষের প্রত্যেক শ্রেণির জন্য এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি— যা একজন মানুষের জীবনযাপনের সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে, সে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, এবং অনায়াসে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে পারে যেন জরুরতের সময় কাজে লাগে।

জীবনের এই অংশে উন্নতি হলে তারপর মানুষ প্রগতিশীলতা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশে মনোযোগ দিতে পারবে— আদতে যা মানবজাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি, কিন্তু ভাত-কাপড়ের প্রয়োজনেই যদি মানুষ বন্দি হয়ে পড়ে, তাহলে তো তার জীবন জন্তুজানোয়ার থেকে আলাদা নয়, সে কীভাবে উচ্চতর অবস্থানের কথা চিন্তা করবে?

অর্থনৈতিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় ফলাফল হলো সামগ্রিকভাবে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন, মনুষ্যজাতি থেকে মানবজাতিতে উন্নীত হওয়া।

এই দুনিয়ায় যখন মানুষের স্বভাবচরিত্র ঠিকঠাক হয়ে যাবে এবং মানসিক বিকাশের মাধ্যমে নিজেকে পূর্ণমানবে উন্নীত করবে, তাহলে আবশ্যিকভাবে মৃত্যুপরবর্তী জীবনের পথপরিক্রমা খুব সহজেই পার করতে পারবে।

তার এই পূর্ণমানব হওয়ার গুণ তাকে জান্নাতের হকদার বানাবে, এর সর্বশেষ পর্যায় হবে স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামিনকে দর্শনের সৌভাগ্য লাভ। যদি মানব সমাজকে এই পদ্ধতিতে উন্নত করা নবুয়তের প্রকৃত উদ্দেশ্য ধরে নেওয়া হয়, তাহলে নবুয়ত মনুষ্যজীবনের স্বভাবজাত জিনিস হয়ে যায়, এমনকি যেখানে পয়গম্বরদের আগমন ঘটেনি সেখানে তাদের অনুগামী সৎকর্মশীল ও দার্শনিকরা যদি এই পদ্ধতিতে কাজ করে তাহলে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

শাহ সাহেবের দৃষ্টিতে অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা প্রতিষ্ঠার অর্থ এটাই ছিল। কুরআনি শিক্ষার কার্যত বাস্তবায়ন আর অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা প্রতিষ্ঠা— এই দুই নীতি ওলিউল্লাহি ইনকিলাবের (বিপ্লব) মূলকথা। এই বিষয়েই এতক্ষণ সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম।

শাহ সাহেব এই প্রোগ্রামকে একটি দলিলি ভিত্তি দিয়ে স্বজাতির চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের সামনে উপস্থাপন করেন। এইজন্য যে পরিমাণ হাদিসের জ্ঞান রাখা জরুরি, তা হাসিল করা তৎকালীন দিল্লিতে সম্ভব ছিল না, তাই তিনি মক্কা-মদিনার উদ্দেশে হেজাজ ভূমিতে যান। ওইখানে দুই বৎসর তিনি হাদিসের অধ্যয়ন করে মুজতাহিদ পর্যায়ের যোগ্যতা হাসিল করেন।

শাহ সাহেব তখন মক্কা নগরীতে। ২১ জিলকদ ১১৪৪ হিজরি, মোতাবেক ১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দে বৃহস্পতিবার রাত্রে শাহ সাহেবকে স্বপ্নযোগে খোদায়ি বার্তা দেওয়া হয়—

১) স্বপ্নে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয় তার মাধ্যমে বিদ্যমান নাজুক পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ তাকে এই কাজে জিম্মাদার বানানো হয়েছে।

২) তাকে বলা হয় প্রথমে বিদ্যমান সকল ব্যবস্থা ভেঙে তার জায়গায় নতুন ব্যবস্থা প্রণয়নের করতে হবে। অর্থাৎ ভারতবর্ষের মুসলমানদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক আন্দোলনের প্রধান নেতা হবেন তিনি।

৩) তাকে বোঝানো হয়েছে তার সংস্কার আন্দোলন সফল করার জন্য পারস্পরিক লড়াইয়ের এক লম্বা সিলসিলা সামনে আসছে।

সংক্ষেপে এই স্বপ্নের মূলকথা এমন— শাহ সাহেব ভারতবর্ষে সামগ্রিকভাবে সংস্কারমূলক একটি আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছেন। এই দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে শাহ সাহেব দিল্লি ফিরে আসেন।

সবার আগে কুরআনের ফারসি তর্জমা ‘ফাতহুর রহমান’ রচনা করেন। যেখানে সংক্ষেপে নিজের প্রোগ্রামের কথা বর্ণনা করেন। এবং ১৭৪৩ সালে মানুষজনকে তা পড়াতে শুরু করেন।

শাহ সাহেব ‘ফাতহুর রহমানের’ টীকায় তার দাওয়াতে তাজদিদ (সংস্কারের ডাক)-এর সব নকশা এঁকে রেখে গেছেন। সবার আগে তিনি যেই বিষয়টি সামনে এনেছেন— ইসলামের হুকুমত মক্কাতেই শুরু হয়েছিল। সেটা তার জায়গায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হুকুমত ছিল। যদিও তখনও আইন-অনুশাসনে কড়াকড়ি বা যুদ্ধের অনুমোদন ছিল না।

তিনি মক্কার হুকুমতের আদলে তার আন্দোলন শুরু করেন। যারাই তার হাতে মুরিদ হতেন, এর মধ্য দিয়ে তারা তার রাজনৈতিক কর্মসূচিকে নিজের মত ও পথ মেনে নিতেন। এভাবেই তিনি আধ্যাত্মিকতা চর্চার মধ্য দিয়ে ধীরেধীরে অভ্যুত্থানের দিকে এগোচ্ছিলেন।

আসল কথা হলো যতদিন রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্যতা তৈরি না হবে, ততদিন কেবল লড়াই করে নতুন হুকুমত কায়েম করা সম্ভব না। নিঃসন্দেহে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পূর্বের শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা যায়, কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উপযুক্ত মানুষ যদি শাসনকার্যে না বসানো যায়, তাহলে নতুন হুকুমত টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।
আর ওই ধরনের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা স্রেফ কঠোরতা ছাড়া হাসিল করা সম্ভব। প্রত্যেক নতুন আন্দোলন শুরু করার আগে তার পয়গাম দরদমাখা কণ্ঠে অন্যকে বোঝাতে হয়, তাকে নিজেদের অংশ বানাতে আবশ্যিকভাবে কঠোরতা পরিহার করতে হয়। শাহ সাহেব এই মূলনীতির ওপরেই নিজের দল গঠন করতে শুরু করেন। এবং তাতে সফল হন।

রাষ্ট্রপক্ষের কিছু লোক ওই সময় এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ আঁচ করতে পেরেছিল, তাই তারা এই আন্দোলন বানচাল করতে জনসাধারণের মাঝে শোরগোল তৈরি করে, একদিন ফতেহপুর মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় শাহ সাহেবের ওপর হামলাও করে।

শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবি তার চিন্তাদর্শন প্রচার ও তালিমের জন্যে বিশটির বেশি কিতাব লিখেছিলেন। যার সবগুলো দিল্লির ‘উচ্চতর শিক্ষার ভাষা’ আরবিতে এবং ‘জনসাধারণের পাঠের ভাষা’ ফারসিতে ছিল।

এই কিতাবগুলোতে শাহ সাহেব তার প্রোগ্রামের উপায় ও পদ্ধতির বিবরণ দিয়েছেন, কিন্তু এক জায়গায় নয়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। এর কারণ ছিল তার আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনো অযোগ্য ‘বিপ্লবীর’ হাতে যেন না পড়ে।

ওলিউল্লাহি দর্শন যথার্থভাবে বুঝতে এই হাকিকত সামনে রাখতে হবে যে, শাহ সাহেব উম্মতে মুহাম্মদির একজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের দার্শনিক ও সিদ্দিক (সত্যপন্থী)। তার চিন্তাধারা পূর্ণতাপ্রাপ্ত মহামানব ও নবী-রসুলদের মতো প্রত্যেক মানুষের জন্যে, যদিও আপাতচোখে তিনি নিজ জাতির জন্য কাজ করেছেন।
শাহ সাহেবের কিতাব মনোযোগের সাথে পড়লে বুঝতে পারবেন— যদিও তার ভাষা দিল্লির মানুষের ভাষা ছিল, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল দিল্লির অভিজাত-মধ্যবিত্ত শ্রেনি থেকে শুরু করে একদিকে ইহুদি, খ্রিষ্টান, আরব-অনারব, অন্যদিকে গ্রিক, পারসিক ও আর্য জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য।

শাহ সাহেব যেই চিন্তাদর্শনকে সামনে আনেন, তা মূলত কুরআনেরই মোজেজা— একথার প্রমাণ যে, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির মৌলিক সব সমস্যার সমাধান।

সূত্র: মন ও মননের কথা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে রাজস্ব খাতভুক্ত বিভিন্ন পদে ৯ম ও ১০ম গ্রেডে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম: সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ৪ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০

পদের নাম: সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান, গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত, পরিসংখ্যান বা অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০

পদের নাম: সহকারী পরিচালক (সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০

পদের নাম: সহকারী পরিচালক (সফটওয়্যার সাপোর্ট, গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০

পদের নাম: নিরাপত্তা পরিদর্শক (এসআই, গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৮০

পদের নাম: নকশাকার গ্রেড-১ (ডিপ্লোমা, গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে পুরঃকৌশল বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৮০

পদের নাম: এস্টিমেটর (গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে পুরঃকৌশল বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৮০

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://dcd.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

৭৬ জনকে চাকরি দেবে নীলফামারী পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়

শূন্যপদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নীলফামারী জেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়। তিন পদে ৭৬ জনকে নেবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শুধু নীলফামারী জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা এতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

 

পদের নাম : পরিবার-পরিকল্পনা সহকারী (গ্রেড-১৫)
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৯,৭০০ থেকে ২৩,৪৯০

পদের নাম: পরিবারকল্যাণ সহকারী (গ্রেড ১৭)
পদ সংখ্যা: ৬৮ জন (নারী)
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৯,০০০ থেকে ২১,৮০০

পদের নাম: আয়া (গ্রেড ২০)
পদ সংখ্যা: ৬ জন ( নারী)
আবেদনের যোগ্যতা: ৮ম শ্রেণি বা সমমান পাস।
বেতন: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে; প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://dgfpnil.teletalk.com.bd -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ২১ নভেম্বর ২০২১ বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

এলকোহলে বাড়ে যেসব মারাত্মক রোগের ঝুঁকি

এলকোহল সেবনে কেউ সাময়িকভাবে কিছুটা আরাম অনুভব করতে পারে কিন্তু অতিরিক্ত এলকোহল সেবনে রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেল বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হতে পারে।
রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড লেভেল বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে।

ক্রমাগত এলকোহল পান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনে শরীরের জন্য মারাত্মক যেসব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন।

আমাদের শরীর এলকোহল পানীয়কে এসিটাইলডিহাইডে রূপান্তরিত করে। এসিটাইল ডিহাইড একটি কারসিনোজেন অর্থাৎ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান।
অতিরিক্ত এলকোহল সেবনে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যারা নিয়মিত মদ্য পান বা এলকোহল সেবন করে থাকেন, তাদের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, এইচআইভি বা এইডস, যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
কারণ অতিরিক্ত মদ্যপানকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণে নিজেদের সম্পৃক্ত করে থাকে। ফলে তারা অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে।

দীর্ঘমেয়াদে এলকোহল সেবনের ফলে ব্রেন, লিভার ও হার্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিরোসিস, এলকোহলিক হেপাটাইটিস, ফাইব্রোসিস, উচ্চ রক্তচাপ, কার্ডিওমায়োপ্যাথি, এরিথমিয়া, স্ট্রোক, প্যানক্রিয়েটাইটিসের মতো প্রাণঘাতী রোগ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এলকোহল সেবনের ফলে মুখ, গলা, ব্রেস্ট এবং লিভারের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
অধিক পরিমাণে এলকোহল সেবনে ডিমেনসিয়া হতে পারে। বিয়ার, ওয়াইন, এলকোহল যে কোনো রূপে সেবন করলে বেশি প্রস্রাব করতে হয়। এলকোহল মুখকে শুষ্ক করে এবং ডিহাইড্রেশন করে থাকে। এ অবস্থায় ব্যাকটেরিয়া মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে থাকে।

এলকোহল সেবনকালে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা ঠিক নয়। বিশেষ করে এনএসএআইডি গোত্রভুক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
এলকোহল সেবনে বছরে ২.৮ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। গবেষকরা বলেন, এলকোহল সেবনের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সামান্য এলকোহল সেবনেও অনেক ক্ষতি হতে পারে। তাই এটি মনে করার কোনো কারণ নেই যে অল্প একটু খেলে কোনো সমস্যা হবে না।

দেড় ঘণ্টায় পরীক্ষার্থীদের হিমশিম অবস্থা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা রোববার শুরু হয়েছে। প্রথমদিন সারা দেশে ১৮ হাজার ৮২০ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আর অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত ৩১ জনের মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল এবং দাখিল পরীক্ষার্থীই বেশি। প্রথমদিন এসএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), মাদ্রাসায় আবশ্যিক বিষয় কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ এবং এসএসসি ভোকেশনালে পদার্থ-২ বিষয়ে পরীক্ষা হয়। করোনা মহামারির কারণে এবছর ১০০-এর পরিবর্তে ৫০ নম্বরে এবং তিন ঘণ্টার বদলে দেড় ঘণ্টায় ‘সংক্ষিপ্ত’ সিলেবাসে নেওয়া হচ্ছে এই পাবলিক পরীক্ষা। করোনার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। মাস্ক পরে তাদের হলে ঢুকতে দেখা যায়। তবে বাইরে অভিভাবকদের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারির শুরুতে পরীক্ষা নেওয়া হলেও এ বছর করোনার কারণে সাড়ে ৯ মাস অপেক্ষা করতে হল ছাত্রছাত্রীদের।

প্রথমদিন রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় তিনি বলেন, সারা দেশে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ লাখের বেশি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। একটি অংশ গুজব রটানোর চেষ্টায় লিপ্ত আছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। কাউকে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নেয়া হবে না। আর বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা মে-জুনে নেয়া সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করার লক্ষ্যে এ বিলম্ব হবে। এসময় তিনি কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানান।

পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা ভালো হওয়ার কথা জানায়। তবে কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছে যে, প্রশ্নপত্র তুলনামূলক কঠিন হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার টেনশনে কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের হলেই অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রায় সব শিক্ষার্থী জানিয়েছে, প্রশ্ন যা-ই হোক না কেন-দীর্ঘদিন লেখার অভ্যাস না থাকায় তারা সময়-ব্যবস্থাপনা করতে পারেনি। যে কারণে যারা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে তাদেরও নির্ধারিত সময়ে প্রশ্নের উত্তর লিখতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তারা পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেড় ঘণ্টার পরিবর্তে ২ ঘণ্টা করার অনুরোধ জানায়। কথা হয় রাজধানীর আহমদ বাওয়ানী স্কুল ও কলেজের ছাত্র রিফাত চৌধুরীর সঙ্গে। সে জানায়, দশম শ্রেণির কোনো পরীক্ষা এমনকি টেস্ট পরীক্ষাও তারা দেয়নি। লেখাপড়ার অভ্যাস না থাকায় জানা প্রশ্নের উত্তর লিখতেও কষ্ট হয়েছে। সে জানায়, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তার পাশের এক পরীক্ষার্থী টেনশনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ডাক্তার ডেকে সুস্থ করে বাড়তি সময় দিয়ে তার পরীক্ষা নেয়া হয়।

এছাড়া কিছু শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আজিমপুর গার্লস স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে আসা পরীক্ষার্থী পবন আখতার জানায়, বেশি আনন্দ লাগছে যে, তাকে আর কেউ ‘অটোপাশ’ বলতে পারবে না। কেননা, তার বোন গত বছর এইচএসসি পাশ করেছে। তাকে সবাই ‘অটোপাশ’ বলে ছোট করছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে মূল্যায়নের উপযোগী প্রশ্নপত্র করা হয়েছে। যারা ভালো লেখাপড়া করেছে তাদের পরীক্ষা ভালো হয়েছে। একই কথা জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম আমিরুল ইসলাম।

এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন। গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন বেশি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৯৯৮ জন। দাখিলে ৩ লাখ ১ হাজার ৮৮৭ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন। পাশাপাশি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদেশে আটটি কেন্দ্রে ৪২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সারা দেশে এসএসসিতে ৩ হাজার ৬৭৯টি, দাখিলে ৭১০টি এবং ভোকেশনালে ৭৬০টি কেন্দ্র আছে। গত বছরের চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫১টি আর কেন্দ্র ১৬৭টি বেড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এসএসসিতে বিজ্ঞানে পরীক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪ জন। অংশ নেয় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮৬ জন। বাকি ৩ হাজার ৫৪৮ জন অনুপস্থিত। বরিশাল ও দিনাজপুর বোর্ডে একজন করে বহিষ্কার হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৭৭ জন উপস্থিত ছিল। বহিষ্কার হয়েছে ১০ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭২৪ জন, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাকি ৫ হাজার ৩৭৮ জন অনুপস্থিত ছিল। ১৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

গত এক যুগ ধরে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৯ মাস অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। করোনা সংক্রমণ কমে আসার পরে পুনর্বিন্যাস করা ‘সংক্ষিপ্ত’ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ১০০-এর পরিবর্তে ৫০ নম্বরে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা। সিলেবাস ছোট হওয়ার সঙ্গে পরীক্ষায় উত্তর লেখার প্রশ্ন সংখ্যা কমেছে। আগে বিজ্ঞানে ৮টি বিকল্প থেকে ৫টি লিখতে হতো। এবার লিখতে হয়েছে ৮টির মধ্যে ২টি। এই একই সুবিধা দাখিল এবং এসএসসি ভোকেশনালের শিক্ষার্থীদেরকেও দেয়া হয়েছে। আজ মানবিক এবং বিজনেস স্টাডিজের পরীক্ষা। এ দুই বিভাগে ১১টির মধ্যে উত্তর করতে হবে ৩টি। এমসিকিউয়ের ক্ষেত্রে মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে ৩০টির মধ্যে ১৫টি করতে হবে। আর বিজ্ঞানে ২৫টির মধ্যে ১২টির উত্তর দিতে হয়েছে। বিজ্ঞানে ২৫ নম্বরের ব্যবহারিক, ২৫ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৫০ নম্বরের সিকিউ প্রশ্ন হতো। আর মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে ব্যবহারিকবিহীন বিষয়ে ৭০ নম্বরে সিকিউ ও ৩০ নম্বরে এমসিকিউ পরীক্ষা হতো। তবে নির্ধারিত পূর্ণমানের মধ্যে শিক্ষার্থী যা পাবে সেটা শতভাগে রূপান্তর করা হবে। প্রত্যেক বিভাগে ৩টি করে নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হচ্ছে এবার। বাকি বিষয়ে (আবশ্যিক) জেএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের প্রবণতা দেখে নম্বর দিয়ে এসএসসি ও সমমানে ফল দেওয়া হবে। অন্যান্য বছর পরীক্ষার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হলেও এবার ৩০ দিনে শিক্ষার্থীরা ফল পেয়ে যাবে। ২৩ নভেম্বর শেষ হবে এই পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টার পরিবর্তে দেড় ঘণ্টা। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় বেশি পাচ্ছে।

সিলেটে চার শিক্ষককে অব্যাহতি: সিলেট ব্যুরো ও বিশ্বনাথ প্রতিনিধি জানান, পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ হাজার ৮৭৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে ১৯ হাজার ৭২৫ জন। অনুপস্থিত ছিল ১৪৮ জন। সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুন কুমার পাল এ তথ্য জানান। দাখিল পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে চার শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাস জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের হলগুলোর দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষকের হাতে স্মার্টফোন থাকায় তাদের পরীক্ষার দায়িত্ব পালন থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে ওই চার শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়।

বরিশালে দুই হল পরিদর্শক বহিষ্কার: বরিশাল ব্যুরো জানায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভাগের ১৭৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭১ শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় সর্বোচ্চ ৬৩টি কেন্দ্রে ৪০ হাজার ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার তালিকায় রয়েছে। এছাড়া ভোলায় জেলায় দুজন হল পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত পরিদর্শকরা হলেন, ভোলা টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের হোসনে আরা বেগম এবং রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাবুল চন্দ্র রায়।

সোনাতলায় প্রশ্নপত্র পেতে বিলম্ব: বগুড়া ব্যুরো জানায়, সোনাতলায় সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষে নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে ফলাফল বিপর্যয়ের আশংকায় কয়েকজন পরীক্ষার্থী কান্নাকাটি করেছে। সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন জানান, বড় কক্ষে পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় প্রশ্নপত্র দিতে তিন মিনিট বিলম্ব হয়। তবে ওইসব শিক্ষার্থী ১৫ মিনিট পর খাতা জমা দিয়েছে। তাই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চেয়ে লাভবান হয়েছে। এরপরও দায়িত্ব অবহেলায় দুই পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই কক্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি কক্ষে পরীক্ষা নিতে বলা হয়।

বাগাতিপাড়ায় শিক্ষকের নির্দেশে এমসিকিউর সব উত্তর প্রদান: বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষার ডিউটিরত শিক্ষকের নির্দেশে এমসিকিউ প্রশ্নের সব উত্তর দিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। উপজেলার কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ১৪০ জন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে এনিয়ে উদ্বিগ্নতা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ফলাফল স্থগিত অথবা খারাপ হওয়াসহ নানা রকম শঙ্কা দেখা দিয়েছে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে। রোববার বাগাতিপাড়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভেন্যুতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, কয়েকজন অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে ওই কর্মকর্তার প্রতিবেদনের পর তাৎক্ষনিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষক জয়নাল আবেদিনকে পরবর্তী পরীক্ষা থেকে আগামী ৫ বছরের জন্য সব পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাছাড়াও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ইউএনও কার্যালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের রোল নম্বরসহ চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চান্দিনায় অনুপস্থিত ৭১: চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, চান্দিনায় ৭১ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অপরাধে চান্দিনা আল আমিন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাজীবপুরে এক পরীক্ষার্থী বহিষ্কার : রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, রাজীবপুর উপজেলার এসএসসি এক পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে নকলের দায়ে একজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজীবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থী বলনে, টুকরো সাদা পাতায় নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের একটি অঙ্কের মান নির্ণয় করার সময় ম্যাজিস্ট্রেট স্যার টুকরো পাতাটি নকল মনে করে আমাকে বহিষ্কার করেন। ওই পরীক্ষার্থী আরও অভিযোগ করে বলেন, বহিষ্কার থেকে রক্ষা পেতে ম্যাজিস্ট্রেট স্যাররে পা ধরে অনুনয়-বিনয় করেছি। তবুও বহিষ্কার থেকে রক্ষা পাইনি। রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত চক্রবর্তী বলেন, নকলের দায়ে এক পরীক্ষার্থীকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র সচিবকে। তিনি আরও বলনে, সাদা পাতায় একটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের অঙ্কের উত্তর থাকায় তাকে বহিষ্কার করা হয়।

দৌলতখানে ৪৫ জন অনুপস্থিত: দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, দৌলতখানে ৪৫ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আজহার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন করার দায়ে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পীরগঞ্জে একজন বহিষ্কার: পীরগঞ্জ (রংপুরে) প্রতিনিধি জানান, পীরগঞ্জে জাফরপাড়া দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

গাইবান্ধায় বহিষ্কার ১: গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় মোট ১৯ হাজার ৭৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ৪০১ জন ছিল। এরমধ্যে এসএসসিতে অনুপস্থিত ১২৪ জন, দাখিলে ১৭৯ জন এবং ভোকেশনালে ২১ জন। এবারে ৪০ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১১ হাজার ৬১৭ জন, দাখিলে ১১ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৪ হাজার ৯৭৬ জন এবং ভোকেশনালে ২১ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৩ হাজার ১৮৮ জন। এরমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল হাইস্কুল কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ভোকেশনালের এক পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়।

প্রশ্ন ফাঁসে ৩ ছাত্রের মেসেঞ্জার গ্রুপ

কারিমুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল মারুফ তপু ও আল রাফি টুটুল। তিনজনই কলেজের ছাত্র। এরা মেসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রুপের সদস্য হতে পরীক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের প্রাথমিকভাবে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দিয়ে হয়। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের বেশি। ইতোমধ্যে এই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার সময় অসাধু চক্র টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হলে প্রশ্ন ফাঁস করার নামে প্রতারণার জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ নিয়ে ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমগুলোতে প্রচারণা চালায়। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিত যে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা এবং জেলা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন বহনকালে দায়িত্বশীলদের একজন কৌশলে প্রশ্ন সরিয়ে রেখে ছবি তুলে পাঠিয়ে দেবে। সেই ছবি তারা বিভিন্ন জনকে মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাফে এবং ই-মেইলে সেন্ড করে দেবে। এ কথা বলে তারা নগদ, বিকাশ, রকেটের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। এ প্রতারক চক্রের বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপের ফলোওয়ার সংখ্যা প্রায় ৪৭০০ জন। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেফতারকৃত কারিমুল্লাহ টঙ্গী সরকারি কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, আল রাফি ওরফে টুটুল মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের মানবিকের দ্বিতীয় বর্ষে ছাত্র ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে তপু হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তাদের পরিচালিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের মেসেঞ্জার, ফেসবুক পাবলিক গ্রুপগুলো হলো-কোশ্চেন ব্যাংক, এসএসসি কোশ্চেন ২০২১, এইচএসসি কোশ্চেন ২০২১, কোশ্চেন লিংক, PSC, JSC, SSC, HSC- All Exam Helping Zone, SSC-2021 All Board ইত্যাদি। গ্রেফতারকৃত আল রাফি টুটুল পাবজি খেলায় পারদর্শী এবং সাইবারসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান রাখে। সে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য আলমগীর হোসেন নামে একটি ফেইক আইডি খোলে।

ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের ডিবি কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারও পক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা সম্ভব নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান দেবেন না। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। তিনি বলেন, যেসব চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, চক্রের সদস্যরা প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু তারা প্রশ্ন ফাঁস করতে পারেনি। তাদের পক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা অসম্ভব ছিল। তিনি বলেন, কিছু ছাত্র ও অভিভাবক পড়াশোনাতে মনোযোগ না দিয়ে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র কেনার জন্য ব্রাউজ করতে থাকে। গ্রেফতারকৃতরা মূলত এসব অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজের অফার দিত ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমগুলোতে।