রবিবার ,১০ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 621

ব্যাংকে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ

করোনার কারণে ব্যাংকে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি (বিআরপিডি) বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

এই নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে যেসব ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি, সেসব ব্যাংককে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে নির্ধারণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও তার অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত বা জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) সরাসরি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের বয়সসীমা গত বছরের ২৫ মার্চ নির্ধারণ করতে হবে। এতে বয়সে মোট ২১ মাস ছাড় পাচ্ছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তবে বিসিএসের প্রার্থীরা এই ছাড় পাবেন না।

দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে বাড়বে চ্যালেঞ্জও

দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার সুযোগ বাড়বে।

একই সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। রপ্তানিতে বাড়তি সুবিধা মিলবে না। কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ মন্তব্য করেন।

বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) এই সুপারিশ করেছিল।

আগামী ২০২৬ সাল থেকে এ সুপারিশ কার্যকর হবে। এখন থেকে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ৫ বছর সময় পাবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কী ধরনের সুবিধা পাবে এবং কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন-সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের এখন আর কোনো বাধা রইল না। এখন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে। চলে যাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় গেলে এখন পাওয়া যাচ্ছে এমন অনেক সুবিধা মিলবে না। সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য বেশকিছু প্রস্তুতি দরকার। এজন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয়

প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য সরকার ও রপ্তানিকারকদের ভূমিকা নিতে হবে সবচেয়ে বেশি।

্তিনি বলেন, এলডিসির তালিকা থেকে বের হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। বাংলাদেশ আর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকবে না। চলে যাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য হবে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করা। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে নিরাপদবোধ করবে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এজন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, দুর্নীতি রোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করে সার্বিকভাবে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা খরচ ও পরিবেশের যে সূচক রয়েছে তাতে আরও উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন। যাতে দ্রুত ব্যবসা শুরু করা যায়। তিনি আরও বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এলে একদিকে শিল্প স্থাপন হবে। উৎপাদন বাড়বে। এতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আর কর্মসংস্থান বাড়লে দারিদ্র্যও পর্যায়ক্রমে কমবে।

যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে সে সম্পর্কে ড. মির্জ্জা আজিজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ রপ্তানি ও বৈদেশিক ঋণে অনেক সুবিধা পেত। সেগুলো পাওয়া যাবে না। এগুলোর বিকল্প ভাবতে হবে। রপ্তানিতে যেসব কর ছাড় ও জিএসপি সুবিধা পাওয়া যেত। এর বিপরীতে কম কর দিয়ে ইউরোপ আমেরিকাসহ অনেক দেশে রপ্তানি করা যেত। ২০২৬ সাল থেকে এগুলো করা যাবে না। কর কম থাকার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী দেশে এসে বিনিয়োগ করে রপ্তানি সুবিধা নিতেন। এখন এটি পাওয়া না গেলে রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষতা বাড়িয়ে ভালো মানের পণ্য উৎপাদনের পদক্ষেপ নিতে হবে। রপ্তানির নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। তাহলে রপ্তানি খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার বাংলাদেশ একটি অফিসিয়াল চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেল। এখন আর কোনো স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আগের ধারাবাহিকতায় এ স্বীকৃতি পেল। এ ধরনের পরিবর্তন এক ধরনের বিশ্ব স্বীকৃতি। জাতিসংঘের মতো বিশ্বসভায় এই স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশ নানাদিক থেকে লাভবান হবে, দেশের ইমেজ বাড়বে। একে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে। এখন প্রয়োজন প্রস্তুতির।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা পেত সেগুলো থেকে বঞ্চিত হবে। এর মধ্যে রপ্তানি খাতে জিএসপি সুবিধা পাওয়া যাবে না। এর বিকল্প হিসাবে রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজতে হবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে। দরকষাকষির জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের ক্রেতা ধরে রাখতে উদ্যোগী হতে হবে। এখন যে কর রেয়াত পাওয়া যায়, তার বিকল্প হিসাবে খরচ কমানোর বিষয়টি ভাবতে হবে। দক্ষতা বাড়িয়ে ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করে সেগুলোর দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য কারখানার যেমন আধুনিকায়ন দরকার, তেমনি শ্রমিক কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো জরুরি। চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব সমস্যা হয় সেগুলো রোধ করা গেলেও অনেক খরচ কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে বাংলাদেশ আর সহজ শর্তে ঋণ পাবে না। তখন বেশি সুদে ও কঠিন শর্তে ঋণ নিতে হবে। তবে দেশের মান উন্নয়নের কারণে অনেক দেশ বা সংস্থা ঋণ দিতে আস্থা পাবে। বেশি সুদে ঋণ নিয়ে সেগুলোকে ব্যবহারের সর্বোত্তম পথ খুঁজে বের করতে হবে। যাতে ঋণের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

বৈদেশিক অনুদান কমে গেলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈদেশিক অনুদানের একটি বড় অংশই ব্যবহৃত হয় দারিদ্র্য বিমোচনে। এনজিওগুলো বৈদেশিক অনুদান নিয়ে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন করে। বৈদেশিক অনুদান কমে গেলে এনজিওগুলো সংকটে পড়বে। তারা এখন যেভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে সেক্ষেত্রে একটি ধাক্কা আসতে পারে। বেসরকারি সংস্থাগুলো বর্তমানে সরাসরি যেভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করে, বৈদেশিক অনুদান না পেলে তখন হয়তো তারা সরাসরি অংশ নিতে পারবে না। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে কতটুকু দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারা দারিদ্র্য বিমোচনে যে কাজ করে তাতে বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ বেশি। এটি পাওয়া না গেলে এ খাতে দারিদ্র্য বিমোচন কাজ কমে যাবে। তখন ওইসব অনুদাননির্ভর সংস্থাগুলো বিপাকে পড়বে। সেসব এনজিওকে সরকার থেকে ফান্ড দিয়ে চালানো যাবে এমন সক্ষমতাও নেই। ফলে তারা সংকটে পড়বে। এমন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সে বিষয়টি এখনই চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নীতি সংস্কার করতে হবে। তা না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না।

দক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে যেভাবে শিক্ষার মান কমছে, তাতে দক্ষ জনশক্তির একটি সংকট দেখা দেবে। দক্ষ জনশক্তি না মিললে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্নত করতে হবে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষতা বাড়াতে হলে গবেষণায় জোর দিতে হবে। দেশ এখনো গবেষণায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, এই স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বাড়বে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা-এই তিনটি সূচক দিয়ে একটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারবে কিনা তা বিচার করা হয়। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার মান অর্জন করেছে। যে কারণে এই স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এজন্য যেসব প্রস্তুতির দরকার তা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আরও সময় চেয়েছে। এ কারণে আলোচ্য সুপারিশ কার্যকর করার মেয়াদ দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ২০২৬ সাল থেকে এটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই বছর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৫ বছর সময় পেল। যদিও আগে থেকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। এখন প্রস্তুতির গতি আরও বাড়াতে হবে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ স্বীকৃতি একদিকে বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল, অন্যদিকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল বাংলাদেশকে। বর্তমানে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। অর্থাৎ উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের তুলনায় কর দিয়ে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করতে পারছে। ২০২৬ সালের পর থেকে এ সুবিধা আর পাবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ সুবিধা ২০৩০ সালের শেষ দিক থেকে পাওয়া যাবে না। তখন বাড়তি কর দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হবে। বাড়তি কর দিয়ে পণ্য রপ্তানি করলে পণ্যের দাম বাড়বে। এতে বাংলাদেশ বিদেশের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে। এজন্য এখন থেকে যেসব দেশে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে ওইসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। এর আওতায় মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য চালু করতে হবে। তখন এ সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হলেও কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন না। কারণ এ বিষয়ে বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। আরও ৫ বছর সময় পেল প্রস্তুতি নিতে। এর মধ্যে এর একটি সমাধান বের হয়ে আসবে।

অনুদান বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মোট বাজেটের এখন বৈদেশিক অনুদানের হার ২ শতাংশের নিচে। এখন অনুদান না এলেও তেমন ক্ষতি নেই। এটি অন্যভাবে মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব। এজন্য রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়াত হবে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গেলে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

সহজ শর্তের ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, সহজ শর্তের ও কম সুদের ঋণ পাওয়া যাবে না ঠিকই। কিন্তু বাণিজ্যিক ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে না। সহজ শর্তের ঋণের যেসব শর্ত থাকে সেগুলো এড়িয়ে বাণিজ্যিক ঋণ নিলে বেশি সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে ঋণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশ এটি মোকাবিলা করতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।

তিনি বলেন, এর একটি বড় ধাক্কা আসতে পারে ওষুধ শিল্পে। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশকে রয়্যালটি বা মেধাস্বত্ব ফি দিতে হয় না। যেসব ওষুধ দেশে তৈরি হচ্ছে এগুলোর মেধাস্বত্ব সবই বিদেশের। ফলে এসব ক্ষেত্রে রয়্যালটি দিতে হবে। বর্তমানে দেশের চাহিদার ৯৭ শতাংশই দেশে উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে মেটানো হচ্ছে। রপ্তানিও বাড়ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় পাবে। এর মধ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচনের নামে প্রহসন হানাহানি খুনোখুনির দরকার কী: এমপি হারুন

বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেছেন, তাহলে নির্বাচনের নামে প্রহসন, হানাহানি ও খুনোখুনির দরকার কী।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে এ প্রশ্ন রাখেন। সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এ সময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় একটি গানের কথা উদ্ধৃত করে হারুন তার বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘কী দেখার কথা, কী দেখছি? কী শোনার কথা কী শুনছি? কী ভাবার কথা, কী ভাবছি? কী বলার কথা, কী বলছি? ৫০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।’

হারুনুর রশীদ বলেন, সংবিধানে বলা আছে স্থানীয় প্রতিনিধিরা হবেন নির্বাচিত। চলমান ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত তিন-চার শ চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের কে নির্বাচিত করল? তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন?

এ ব্যাপারে তিনি স্পিকারেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হারুন বলেন, আমি আপনার কাছে জানতে চাই, আজকে যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত, নির্বাচন কমিশন যাদের নির্বাচিত ঘোষণা করেছে, তাদের আমি কী বলব? অনির্বাচিত, না নির্বাচিত? তারা তো নিশ্চয়ই বিনা ভোটে নির্বাচিত।

হারুন অভিযোগ করেন, তার এলাকায় পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী কাজ করে? তাদের দায়িত্ব কী?

বিএনপির এই সাংসদ আরও বলেন, ৫০ বছরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হয়নি। এক পক্ষের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অন্য পক্ষ জয়ী হয়েছে। ভবিষ্যতে কী হবে, তিনি জানেন না। সত্যিকার অর্থে জাতি আজ বিরাট সংকটে।

বিএনপির অসুস্থ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর অনুমতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান হারুন। তিনি বলেন, ‘আমি সংসদ নেতার সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। আমি অনুরোধ করেছি যে দেখেন, ওনার যে শারীরিক অবস্থা, ওনাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিতে অনুমতি দিতে আপনার অসুবিধা কোথায়? আপনি তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগটি দিন।

এতে আপনি সম্মানিত হবেন। তার যে বয়স, যে অবস্থা, এ অবস্থায় এটা বিবেচনা করা উচিত।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা আজ

দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

সারাদেশে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল চট্টগ্রাম থেকে ১৭৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা ছিল ৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থাও (ইউএসজিএস) রিখটার স্কেলে ভূকম্পনের মাত্রা ৫ দশমিক ৮ ছিল বলে জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের চিন রাজ্যের রাজধানী হাখা শহরের ২০ কিলোমিটার উত্তর উত্তর-পশ্চিমে।

দেশের কোথাও ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মানুষ ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

প্রণব সাহা নামে দেশের জ্যেষ্ঠ এক সাংবাদিক লেখেন, ঢাকায় কি ভূমিকম্প হলো? খাটটা কেঁপে উঠলো মনে হলো! সিলিংফ্যানটাও দুলছে যেন!

ডা. মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছেন, সবাই ঠিক আছেন তো?
আল্লাহ সহায়।

মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র লিখেছেন, আমার জীবনে আমি এত তীব্র ভয়ংকর ভূমিকম্প অনুভব করি নাই! আল্লাহ সকলকে রক্ষা করুন।

১১১ সুপারিশের বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিনিয়ত তরুণ-তাজা প্রাণ ঝরছে। কোনো একটা ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে বা অন্দোলন গড়ে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিটি গঠন করা হয়।

তাৎক্ষণিক নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই সবাই সবকিছু ভুলে যান। স্থায়ী সমাধান হয় না কিছুতেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যার কাজ তাকে করতে না দিয়ে অন্যের ঘাড়ে চাপানো হয়।

এ কারণেই সমস্যার কোনো সমাধান হয় না। এদিকে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৯ সালে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির বেশিরভাগ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮-এর প্রয়োগ চলছে কার্যত সীমিত আকারে।

এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনা থামছে না। সবশেষ বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িচাপায় ব্যবসায়ী আহসান কবির খান নিহত হন।

এর আগেরদিন বুধবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। এ দুটি ঘটনায় উত্তাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগতির দুই বাসের সংঘর্ষে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়া নিহত হন।

এ ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থী আহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে উঠা তীব্র শিক্ষার্থী অন্দোলনের মুখে সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ পাশ হয়। কিন্তু বিধিমালা না হওয়ায় আইনটি কার্যকর করা যাচ্ছিল না। এরই মধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর প্রগতি সরণির জেব্রাক্রসিংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। আবারও শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। এ প্রেক্ষাপটে উদ্যোগ নেওয়া হয় সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ কার্যকরের।

কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খায় নতুন আইন। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে আইনটি প্রয়োগ করতে গেলে নানা বাধার মুখে পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

পরে এটি সীমিত আকারে কার্যকর শুরু হয়। ২০২০ সালের জুলাই থেকে আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকরের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলছে।

বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। এ কারণে এখনো কার্যত সীমিত আকারে (সাজা-জরিমানার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ না দিয়ে এর নিচে বা সর্বনিু দেওয়া হচ্ছে) ওই আইনের বাস্তবায়ন চলছে।

অপরদিকে সড়ক পরিবহণ সেক্টরে শৃঙ্খলা আনা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ২০১৯ সালে এ সংক্রান্ত কমিটির দেওয়া ১১১ সুপারিশের মধ্যে বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি।

যেগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-সড়ক পরিবহণ আইনের বিধিমালা জারি, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট পরিধান করা এবং গাড়ির বাম্পার অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলা। এছাড়া চালক প্রশিক্ষণে সরকারি খরচে ইন্সট্রাক্টর তৈরির কার্যক্রমও চলমান আছে। এক হাজার ৪০০ ইন্সট্রাক্টর তৈরির কথা থাকলেও এ পর্যন্ত তিনশর কাছাকাছি ইন্সট্রাক্টর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’র পক্ষ থেকে ২০ জন ইন্সট্রাক্টর তৈরি করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন না হওয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা, সড়ক উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের ৫ শতাংশ অর্থ সড়ক নিরাপত্তার জন্য রাখা, জেলা ও উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ইন্সট্রাক্টর নিয়োগে সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া, চাকরিতে নারী চালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া, ট্রাফিক পুলিশের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, রাজধানী থেকে রিকশা তুলে দেওয়া, রাইড শেয়ারিং কোম্পানির জন্য গাড়ির সংখ্যা বেঁধে দেওয়া, শুধু লাইসেন্সধারী চালকদের কাছে মোটরসাইকেল বিক্রি করা, দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ না দেওয়া, চালকদের সুনির্দিষ্ট মজুরি নির্ধারণ, রাস্তায় প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এবং সড়কে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’র প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিনেও সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ পুরোপুরি কার্যকর না করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয় দুটি খুবই দুঃখজনক। আইন কার্যকর এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। আসলে কী সবই দুর্ঘটনা? আগেরদিন ময়লার গাড়িচাপায় ছাত্র মারা গেল। পরদিন আবার ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর সরকারকেই বের করতে হবে। ময়লার গাড়ি চলার কথা রাতে। দিনে কেন চলবে? তিনি বলেন, শিক্ষার্থী রাজীব, দিয়া এবং আবরার নিহতের পর সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছিলেন, ছাত্র আন্দোলন তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন কী তাদের চোখ বন্ধ হয়ে গেছে?

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি ২০১৯ সালে যে ১১১টি সুপারিশ দিয়েছিল সেগুলোর মধ্যে ৫০টি ২০১৯ সালেই বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। ২০২১ সালের মধ্যে ৩২টি ও ২০২৪ সালের মধ্যে ২৯টি সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা বলা হয় কমিটির প্রতিবেদনে। ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সর্বশেষ সভায় ওই কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সভাপতি করে ৩৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়নে তেমন কোনো কাজই হয়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে ৬টি কমিটি করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর কাজ থেমে আছে।

টাস্কফোর্সের সদস্য, পরিবহণ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক যুগান্তরকে বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগেও অনেক কমিটি সুপারিশ দিয়েছে। আমরাও দিয়েছি। কিন্তু ওইসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না। আমাদের বড় ভুল ছিল-অতীতের সুপারিশগুলো কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা জানতে চাইনি। এ কারণে অতীতের মতো আমাদের সুপারিশগুলোও আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বলেন, এভাবে সমস্যার সমাধান আসবে না। যার কাজ তাকেই করতে হবে। এটি বিআরটিএর কাজ। তা না করে এটি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। যাদের কাজ তারা সক্ষম না হলে, অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে লাভ হয় না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে সড়কে যে প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা এনেছে, আমরা তার ধারেকাছেও নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত টাস্কফোর্সের তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম সভাতেই আমি বলেছিলাম, এসব সভা করে কোনো লাভ হবে না।

অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, কেউই আসল কাজ করতে চায় না। যেখানে টাকা আছে, সবাই সেখানে যেতে চায়। এ কারণেই চালকদের প্রশিক্ষণের দিকে সবার নজর। কারণ, এখানে লেকচার দিলেই টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশিক্ষণের পর চালকরা কীভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো মনিটরিং হচ্ছে না।

সাবেক মন্ত্রী ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসংক্রান্ত কমিটির প্রধান শাজাহান খান যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দেওয়া ১১১ সুপারিশের কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে কতগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে তা-এ মুহূর্তে বলতে পারব না। কারণ, অনেকদিন ধরে এ সংক্রান্ত সভা হয় না। এ বিষয়ে একটি রিভিও সভা আহ্বান করা হবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, যখন কোনো আইন সংসদে পাশ হয়, তখন তা পুরোপুরি কার্যকরের জন্যই পাশ হয়। আইন সংশোধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন উল্লেখ করে তিনি জানান, সড়কে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সাজা হচ্ছে।

বিআরটিএর পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু সুপারিশের এক-তৃতীয়াংশ এবং কিছুর ৫০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে বেশিরভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন চলমান অবস্থায় আছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের প্রধান মুনিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে যখন আমরা আইনটি কার্যকর করতে যাই, তখন অনেক বাধা আসে। এর প্রেক্ষাপটে সরকার ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত আইনটি সীমিত আকারে প্রয়োগের নির্দেশ দেয়। পুলিশ ২০২০ সালের জুনের পর থেকে কঠোরভাবে আইনটি প্রয়োগ শুরু করে।

ইতোমধ্যে পরিবহণ মালিক এবং শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আইনটি সংশোধনে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ মুহূর্তে চলমান আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার কুরআনি সমাধান

দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার উপায় কী? বিভিন্ন লোক বিভিন্ন প্রকারের কলাকৌশল, একসারসাইজ বা মেডিটেশনের কথা বলেন। এসবই সাময়িক সমাধান। এসবে প্রকৃত কাজের কাজ হয় না।

কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার জন্য যে ফর্মুলা দিয়েছেন, সেটিই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি প্রকৃত উপায়।

এক আয়াতে এমন বলা হয়েছে— أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই দিলের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়। (সুরা রাদ, আয়াত ২৮)

তো প্রশান্তি কী? দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার নামই প্রশান্তি। মানে, যদি তুমি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চাও, তা হলে আল্লাহকে স্মরণ করো। আল্লাহকে স্মরণ করার অর্থ মাথা ঝুলিয়ে জিকির করা নয়।

আল্লাহকে স্মরণ করার অর্থ— আল্লাহর মাঝে একাকার হয়ে যাওয়া, আল্লাহর মাঝে বসবাস করা। দেখুন— আল্লাহর মাঝে বসবাস করার অর্থ এই নয়; আল্লাহ আক্ষরিক অর্থে সর্বত্র বিরাজমান। বরং আল্লাহর গুণ সর্বত্র বিরাজমান।

এর উপমা হিসাবে সামনে পেশ করা যায় সূর্যকে। সূর্য আমাদের থেকে ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূরে, কিন্তু তার আলোকরশ্মি এই মাটিতেও খুব তীব্র। এর মানে সূর্য তার আলো ও তাপ নিয়ে আমাদের মাঝেই আছে, যদিও সেটি ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূরে।

তো আল্লাহর সঙ্গে বসবাসের অর্থ এই নয়, আল্লাহর সত্তার মাঝে বসবাস করা। বরং আল্লাহর সিফাত, আল্লাহর গুণ, আল্লাহর যে রহমত আমাদের জড়িয়ে রেখেছে, তার মাঝে বাঁচতে শেখা।

তো সমস্যা হচ্ছে— মানুষ দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার উপায় খুঁজছে মানুষের তৈরি কলাকৌশলে আশ্রয় নিয়ে, যেখানে আল্লাহ তার জন্য আপন আশ্রয় প্রসারিত করে রেখেছেন।

 

মনে রাখবেন— মানুষের তৈরি আশ্রয় সবসময় সসীম থাকবে, কখনও অসীম হবে না। এই জন্য দেখবেন, মানুষ কখনও তুষ্ট হয় না। একজনের মামুলি একটা বসতবাড়ি ছিল, ছোট ঘর। তো সে বড় করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করল।

আপাত চোখে সে তার আশাআকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে, বিশাল ঘরবাড়ি বানানোর সময় তো অবশ্যই মনে আনন্দ কাজ করছে। কিন্তু যেই ঘরের কাজ পূর্ণ হয়ে যাবে, তার মধ্যে আর কোনো আনন্দ থাকবে না। কারণ তার অন্তরে আল্লাহর স্মরণ নেই।

তাকে সারা দুনিয়ার মালিক বানিয়ে দিলেও তার মাঝে অশান্তি থাকবে। কিন্তু সে যদি দুশ্চিন্তামুক্ত হয়, তার অন্তরে যদি আল্লাহ থাকেন, তা হলে ছোট ঘরেও সে প্রশান্তিতে দিন গুজরান করবে।

শীতে চুল পড়া কমাতে ও খুশকি দূর করতে করণীয়

চুল নারীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ। তবে এ সৌন্দর্যের মাপকাঠি চুলেরও চাই যত্নআত্তি। শীতের এ সময় চুলের রুক্ষতা দূর করতে চুলের চাই বাড়তি যত্ন।

শীতের সময়ে চুলে রুক্ষতা দেখা দেয়, আগা ফাটা, চুল পড়া ও নিষ্প্রাণ হয়ে যায়। শীতে ত্বকের পাশাপাশি চুলেও যত্ন নেয়া প্রায়াজন।

আসুন জেনে নিই এ সময় চুলের যত্ন-

১. চুলের যত্নে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন চুলে নারিকেল তেল দিতে হবে।

২. শীতের চুলে খুশকির সমস্যা বাড়ে। চুলের গোড়ায় গোড়ায় থাকা এ খুশকি চুলের গোড়া যেমন নরম করে ফেলে তেমনি চুল পড়া বাড়ায়। তাই খুশকি দূর করতে গোসলের আধা ঘণ্টা আগে হালকা গরম তেল চুলের গোড়ায় লাগিয়ে গোসল করে ফেলুন।

৩. এ সময়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে নিয়মিত। শীতে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে বাইরে প্রচুর ধুলাবালি থাকে। তাই একদিন পরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

৪. চুলের রুক্ষতা কমাতে ভেজা চুলে অ্যালোভেরা জেল মাখিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল সফট থাকে অনেকক্ষণ।

৫. চুলের আগা ফাটা দেখলে তা কেটে ফেলুন। এতে চুলের এ সময়ের বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

৬. চুল দিনে দুই থেকে তিনবার আঁচড়ে নিন চিরুনি দিয়ে। এতে চুল পরিষ্কার থাকে এ সময়ের ধুলাবালি থেকে।

লেখক: স্বত্বাধিকারী নূপুর বিউটি পার্লার, বালুঘাট বাজার, ঢাকা-ক্যান্ট।

জাঙ্ক ফুড খেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে কী করবেন?

কেউ যতই স্বাস্থ্য সচেতন হোক না কেন, তার পরও কখনও কখনও কিন্তু মিষ্টি খাবার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার বা পিৎজার মতো জাঙ্ক ফুড খাওয়ার লোভ চলেই আসে। আর এই খাবারগুলো ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, রক্তচাপ বৃদ্ধি, টাইপ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

তাই যতটা সম্ভব জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে যেতে হবে। কিন্তু তার পরও লোভে বসে যদি একটু বেশি পরিমাণে চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার অথবা জাঙ্ক ফুড খেয়ে থাকেন; তবে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে, যেগুলো এসব খাবারের ক্ষতিকারক প্রভাব কিছুটা পরিমাণে কমিয়ে আনতে পারে।

জানুন জাঙ্ক ফুড খেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে কী করবেন—

১. কুসুম গরম পানি পান করুন
জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পর হালকা গরম পানি পান করলে তা আপনার পরিপাকতন্ত্রকে প্রশমিত ও সক্রিয় করতে সাহায্য করে। কারণ কুসুম গরম পানি পান করলে তা পুষ্টিগুণকে তাদের হজমযোগ্য আকারে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। আপনি যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করেন, তবে ছোট অন্ত্র হজমের জন্য খাবার থেকে পানি শোষণ করবে আর এর ফলে ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২. লেবু পানি পান করুন
ডিটক্স পানীয় হিসেবে লেবু পানি পান করলে তা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পর আপনার সিস্টেমে জমে থাকা টক্সিনগুলোকে বের করে দিতে সাহায্য করে। কিছু গবেষক পরামর্শ দেন যে, ডিটক্সিফিকেশন প্রোগ্রাম বা ডিটক্স ড্রিংকগুলো টক্সিন মুক্ত করতে ও ওজন কমাতে সহায়তা করে। কোরিয়ান নারীদের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, লেবু পানি পান করলে তা শরীরের চর্বি হ্রাস করে ও ইনস্যুলিন প্রতিরোধে সহায়তা করে।

৩. হাঁটাহাঁটি
ভারি খাবার বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে তা হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। এটি পেটের গতিশীলতাকে ভালো করতে উৎসাহিত করে, হজমে সহায়তা করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পর ৩০ মিনিটের জন্য ধীরে ধীরে হাঁটুন।

৪. দই
জাঙ্ক ফুড খাওয়ার পর দই বা প্রোবায়োটিকের মতো খাবার খেলে সেটি হজমের স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৫. ফল ও শাকসবজি খান
ফলমূল ও শাকসবজি খেলে সেটি আপনার শরীরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার সরবরাহ করতে সহায়তা করে। তাই জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি করে ফল ও শাকসবজি খান। তবে খাওয়ার ঠিক পর পর এগুলো না খাওয়াই ভালো।

৬. ঘুম
ঘুম আমাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। তাই জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেললে পর্যাপ্ত ও ভালো মানের একটি ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন।

তথ্যসূত্র: স্টাইলক্রেজ ডটকম

পায়ুপথে ক্যান্সার হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?

মলদ্বারের রোগের মধ্যে পাইলস ও ফিস্টুলা জটিল রোগ। আমাদের ধারণা, পায়ুপথের বিভিন্ন সমস্যা যেমন— রক্ত যাওয়া, ব্যথা হওয়া, ফুলে যাওয়া এসবই হয় পাইলসের কারণে। এ ধারণা ঠিক নয়। প্রতিটি উপসর্গই পায়ুপথে ক্যান্সার হতে পারে। ফিস্টুলা বা ভগন্দর রোগেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পায়ুপথে ক্যান্সার হলে সেটিও ফিস্টুলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ ও ক্যান্সার নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

যেসব রোগে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়, তার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্ত যায় যেসব রোগে, সেগুলো হচ্ছে— ১. এনাল ফিসার ২. পাইলস ৩. রেকটাল পলিপ (শিশুদের বেশি হয়) ৪. ক্যান্সার ৫. আলসারেটিভ কেলোইটিস ৬. ফিস্টুলা ও অন্যান্য।

অনেকে বলে থাকেন— পায়খানা পরিষ্কার হয় না। পায়খানার বেগ এলে কিছু তরল জিনিস বের হয়ে আসে, কিন্তু পায়খানা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। মাঝে মাঝে টয়লেটে রক্তও যায়। পরবর্তী সময় মলদ্বারে ও কোমরের নিচের দিকের ব্যথা মলদ্বার থেকে পেছন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরের ব্যথা কোমরে অনুভূত হতে পারে, আবার উরুর দিকেও সম্প্রসারিত হতে পারে।

এমন লক্ষণকে আমরা পাইলস-ফিস্টুলা হিসেবে প্রথমে চিহ্নিত করে ভুল করে থাকি। এগুলো মূলত মলদ্বারে ক্যান্সারের লক্ষণ।

দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে রেকটামের ভেতরে ক্যান্সার চিহ্নিত করা হয়। সেগুলো হচ্ছে—সিগময়ডস্কপি ও প্রকটস্কপি।

এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে— রোগীরা মলদ্বারের ভেতর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করাতে চান না। ব্যথা হতে পারে এই ভেবে খুব ভয় পেয়ে যান। জিজ্ঞাস করেন যে, এই পরীক্ষা করলে আমি আগামীকাল অফিসে যেতে পারব কিনা?

এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, এ পরীক্ষায় সামান্য অস্বস্তি ছাড়া কোনোরূপ ব্যথা হয় না। বেশিরভাগ রোগীই এ পরীক্ষায় কোনোরূপ ব্যথা পান না। এ পরীক্ষার জন্য খুবই সামান্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন না খেয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। মলদ্বারে তীব্র ব্যথা আছে এমন রোগীরও এ পরীক্ষা করা যায়।

মফস্বল থেকে আসা অনেক রোগী দেখি যাদের ক্যান্সার আছে অথচ হাতুড়ে চিকিৎসকরা তদের ইনজেকশন দিচ্ছেন। কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক আবার এক ধাপ এগিয়ে সেখানে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

রেকটাম ক্যান্সারের রোগীদের একই সঙ্গে পাইলস ও ক্যান্সার থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা যদি পাইলসের চিকিৎসা করি, তা হলেও দেখা যায় যে, রোগীর সমস্যা যাচ্ছে না, তখন মলদ্বারের ভেতর লম্বা যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা (সিগময়ডস্কপি বা কোলনস্কপি) করলে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ জাতীয় সমস্যাও মাঝে মধ্যে দেখা যায়।

মলদ্বারের মুখ থেকেও রক্ত যেতে পারে আবার অনেক ভেতর অর্থাৎ রেকটাম বা বৃহদান্তের ভেতর থেকেও রক্ত যেতে পারে। কী কারণে যাচ্ছে তা বিশেষ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একজন উপযুক্ত চিকিৎসক বলে দিতে পারেন।

কিছু কিছু রোগী বলেন, আমার পাইলস হয়েছে আমাকে কিছু ওষুধ দেন খেয়ে দেখি পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের পরীক্ষা না করে অনুমান নির্ভর পাইলস চিকিৎসা দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এতে যে রোগীদের ক্যান্সার আছে তা শনাক্তকরণে বিলম্ব হবে। এতে করে বড় বিপদ হতে পারে।