বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 617

আবরার হত্যা মামলার ২২ আসামি আদালতে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২২ আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে নেওয়া হয়েছে। রোববার সকাল ৯ টার দিকে তাদেরকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করবেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁঞা যুগান্তরকে বলেন, আমরা ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।

অন্যদিকে আসমিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আসামিদের খালাস পাবেন বলে আশা করছেন।

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামি কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা সভা করে বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পর দিন রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আবরার হত্যার ঘটনায় তার বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১ আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকি ১৪ জনকে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার কারণে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত বছরের ২১ জানুয়ারি এ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। ওই বছরের ১৮ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটি বদলির আদেশ দেন। এর পর একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি। এর পর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় চার্জ গঠনের আবেদন করে।

৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠনের আদেশ দেন। এর পর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ২২ আসামি ফের নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এর পর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেন। চার্জশিটে আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে হত্যার মূল হোতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তিনিই আবরারকে শিবির বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এর পর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে কয়েকজন আসামি সভা করে এ হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং তদন্তে আগত ৬ জন রয়েছেন। এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২৫ আসামির মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ পলাতক। বাকি ২২ জন কারাগারে।

আবরার হত্যা মামলার ৩ আসামি এখনও পলাতক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য করা হবে আজ।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২২ আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়েছে।

এই মামলার তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আব্দুল্লাহ ভূঁঞা যুগান্তরকে বলেন, আমরা ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।

অপরদিকে আসমিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আসামিদের খালাস পাবেন বলে আশা করছেন।

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা সভা করে বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২৫ জনকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১ আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। বাকি ১৪ জনকে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার কারণে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত বছরের ২১ জানুয়ারি এ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। ওই বছরের ১৮ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটি বদলির আদেশ দেন। এরপর একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

গত ১৪ মার্চ এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় চার্জ গঠনের আবেদন করে। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জ গঠনের আদেশ দেন। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ২২ আসামি ফের নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

এরপর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেন।

চার্জশিটে আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান ওরফে মিজানকে হত্যার মূল হোতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তিনিই আবরারকে শিবির বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে কয়েকজন আসামি সভা করে এ হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চার্জশিটে অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং তদন্তে আগত ৬ জন রয়েছেন।

এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ২৫ আসামির মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ পলাতক। বাকি ২২ জন কারাগারে।

কারাগারে থাকা ২২ জন হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. আকাশ হোসেন, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুয়াজ আবু হুরায়রা, মুনতাসির আল জেমি, অমিত সাহা, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান ও এস এম মাহমুদ সেতু।

হজরত শাহজালালের সঙ্গে দেখা করতে বাংলায় এসেছিলেন ইবনে বতুতা

তৎকালীন বাঙলার আসাম ও সোনারগাঁওয়ে ইবনে বতুতার আগমন হয় ১৩৪৫-৪৬ খৃষ্টাব্দে। ইবনে বতুতার বিশ্ব ভ্রমণের অনেকাংশ জুড়েই ছিল সুফি-ফকিরদের আলাপ-আলোচনা।

তৎকালীন বাঙলা অঞ্চলেও তার সফরের মূলে ছিলেন একজন সুফি পীর। তিনি হচ্ছেন শাহজালাল র.। সে হিসেবে ইবনে বতুতার বাংলাদেশ ভ্রমণের উপাখ্যান মূলত শাহ জালাল র. এর-ই আলোচনা।

তবে বাদবাকি আলাপ-সালাপ ও বাংলার রাজনীতি নিয়ে ইবনে বতুতার সংক্ষিপ্ত ধারা বর্ণনা তার বিখ্যাত সফরনামা ‘তুহফাতুন নাজ্জার ফি গারা-ইবিল আমসার, ওয়া আজা-ইবিল আসফার’ গ্রন্থে বাদ যায়নি।
কারণ, দেশের সঙ্গে মানুষ ও শাসনের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গীভাবেই এগুতে থাকে সবসময়। ইবনে খালদুন বলেন, বিশ্ববাসী জাতি ও জনগোষ্ঠী সমূহের অভ্যাস, অবস্থা ও ধর্মপালন চিরকাল এক অভিন্ন ও অপরিবর্তনীয় ধারায় চলে না।

যেমন, ভূ-পৃষ্ঠ, সময়-কাল ও রাজ্য-সাম্রাজ্যের কোন স্থিতি নেই। এটাই মহান আল্লাহর নিয়ম। এই পরিবর্তনের বড় কারণ হচ্ছে, প্রত্যেক সমাজ ও জনগোষ্ঠীই কম-বেশি শাসক-প্রশাসক দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাদের অনুসরণে চলতে বাধ্য হয়।

ইচ্ছায় হোক, আর অনিচ্ছায়। তাতে এই বিজ্ঞানসম্মত কথাটিরই যথার্থতা প্রমাণিত হয়— الناس علي دين ملوكهم – আন্নাসু আলা দিনি মুলু-কিহিম – ‘জনগণ তাদের শাসক-প্রশাসকদের আদর্শ ও রীতি-নীতিই সাধারণভাবে মেনে চলে’।

সুতরাং ব্যাক্তিজীবনে রাজনীতির সরাসরি সম্পৃক্ততা কারও না থাকলেও রাজনীতি জনমানুষের কাছে অক্সিজেন-হাইড্রোজেন’র মতো। হয়তো আপনি শ্বাস নেবার সময় বাতাস টের পাচ্ছেন কিংবা শ্বাস ফেলবার সময়।

বাংলার পথে

ইবনে বতুতা যখন শ্রীলঙ্কা থেকে অ্যাডাম’স পিক দেখে ফিরছেন তখন তাদের জাহাজ বাতাসের কবলে পড়ে। এরপর তারা মালাবার যান এবং সেখান থেকে ফেরার পথে ডাকু দলের খপ্পরে পড়েন। সঙ্গে থাকা সব কিছু রেখে দেয় ডাকাত দল। নামিয়ে দেয় উপকূলে।

ইবনে বতুতা বলেন, ‘শুধু সালোয়ারটা গায়ে রেখেছে ওরা!’ এরপর কোনমতে কালিকট যান। সেখানে কিছুদিন থেকে এরপর মালদ্বীপে তার পুত্রশিশুকে দেখতে শ্বশুরালয়ে যান। অতঃপর জাহাজে করে রওয়ানা হোন বাঙাল মূলুকের উদ্দেশ্যে।

যাবেন প্রখ্যাত এক বুজুর্গের সাক্ষাতে। প্রায় পয়তাল্লিশ দিন পর তারা চাটগাঁ (চট্টগ্রাম) বন্দরে নোঙর করেন।

ইবনে বতুতা বাঙাল মুলুকের স্মৃতিচারণ করতপ গিয়ে বলেন- ‘আমরা চাটগাঁ নামলাম, বিশাল এক শহর। গঙ্গা এবং যমুনার মোহনা সাগরে এসে নেমে গেছে এখানে। এখানকার নদীতে যুদ্ধজাহাজ আছে অনেক। লৌখনৌতির সঙ্গে এদের যুদ্ধ হয়। এখানে চালের মূল্য খুব সস্তা। কিন্তু এই অঞ্চল অন্ধকার।

খোরাসানে প্রবাদ আছে, ‘দোজখত্ পুর নি’মাত; নেয়ামতে ভরপুর এক দোজখ।’ হয়তো তিনি শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসরতা বুঝাতে ‘অন্ধকার’ বলেছেন। কিংবা এত সুন্দর এক দেশে অথচ রাজনৈতিক কারণে থাকতে পারছেন না তিনি!

বাংলার অর্থনীতি-ই এর সর্বনাশ!

তিনি এখানকার জিনিসপত্রের একটা তুলনামূলক দাম উল্লেখ করেছেন। এক কথায় এখানকার জিনিসপত্রের সস্তা মূল্য দেখে তিনি পুরোই অবাক বিস্মিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘তবুও নাকি এই দাম তাদের নিকট অনেক বেশি!’ সফরনামা’র আধা পৃষ্ঠা জুড়ে শুধুই জিনিসপত্রের দাম তুলে ধরেছেন। তার কাছে বিষয়টা যতটা আনন্দদায়ক ছিল, আমাদের মতো ইতিহাসের পাঠকদের জন্য ঠিক ততটাই বজ্রাঘাত ছিল শান্তিপূর্ণ জীবন ধারণকারী মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে।
কারণ, কিছু কিছু গবেষকের মতে, ইবনে বতুতার বই আরবী থেকে ল্যাটিনে অনুবাদ হবার পর ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সূত্রপাত ঘটে এই উপমহাদেশে। যদিও আগমনের ধারাবাহিকতায় ওলন্দাজ, পর্তুগীজ ও ফ্রান্সের বণিকদের আগমন ইংরেজদের আগেই হয়। আর আরব বণিকদের যাত্রার কথা তো সুপ্রাচীন। কিন্তু তাদের মনে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের মানসিকতা ছিল না।

তিনি আকস্মিক বাংলায় আসেননি

ইবনে বতুতার বাঙাল মুলুকের সফরের ব্যাপারে অনেকের ধারণা, নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে আকস্মিক তিনি বাংলায় এসেছেন। এমন ধারণা ভুল, এইচ আর গিব এখানে সফল।

কারণ ইবনে বতুতার সফরনামা’র পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি অনুবাদ তিনি করেননি। আর ইবনে বতুতার বাঙ্গালী পাঠকসমাজ তাকে, হয় ইংরেজি থেকে পাঠ করেছে নয়তো বঙ্গানুবাদের দারস্থ হয়েছে।

অথচ ইবনে বতুতা নিজেই বলছেন, আমার পূর্বে এখানে আমার স্বদেশী মাহমুদ আল মাসমুদী বসবাস করেছেন; বাংলায়৷ আমার মনে হয়, তিনি স্বদেশীর কাছ থেকে বাংলার কথা শুনেই এখানে আসেন এবং শাহ জালাল র. এর সাথে সাক্ষাত করেন।

এইচ আর গিব বলেন, ‘ইবনে বতুতার বিশ্ব সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, বুজুর্গ-অলি আওলিয়ার সাথে সাক্ষাত করা।’

যারা আকস্মিক সফরের সুর তুলেছেন তাদের বক্তব্য সম্ভবত মালদ্বীপ সফরে যাবার সময়ে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের সফর বাতিল হওয়া এবং এরপর বাংলায় সফর করা- এতটুকুই। অথচ এটা কোন ভিত্তি হতে পারে না। কারণ, তিনি বাঙাল মুলুকের সম্যক ধারণা নিয়েই এখানে এসেছিলেন। পরবর্তী আলোচনায় বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ইবনে বতুতার জবানে সফরবৃত্তান্ত; আঞ্চলিক রাজনীতি

এবার ইবনে বতুতার জবানে শুনে নেয় তার বাঙাল মুলুক সফরের উদ্দেশ্য – ‘চাটগাঁ আসলাম। সেখানের সুলতানকে আমি দেখি নাই। তার সঙ্গে আমার সাক্ষাতও হয় নাই। আমি জানতে পেরেছিলাম, এই সুলতান দিল্লির সম্রাটের সঙ্গে বিদ্রোহ করেছে। তাই, এখানে অবস্থানের পরিনতির চিন্তা করে আশংকা করি এবং দ্রুত আমি সেখান থেকে কামরুপ পাহাড়ের উদ্দেশে রওয়ানা করি। পাহাড়টি খুব দীর্ঘ।

চীনের সাথে গিয়ে মিলেছে এবং তিব্বতেও এর অংশ আছে, যেখানে মৃগনাভির সন্ধান পাওয়া যায়। কামরুপের মানুষগুলো দেখতে তুর্কিদের মতো হয়। এরা যাদুবিদ্যা জানে। এখানকার পুরুষদের গায়ে প্রচুর শক্তি। অন্যান্য স্থানের পুরুষদের তুলনায় দিগুণ। এই পাহাড়ের দিকে আমার রওয়ানার উদ্দেশ্য সেখানকার প্রখ্যাত পীর শেখ জালালুদ্দিন তিবরিজীর সাথে সাক্ষাত করা।

ওপরের বিবরণীতে ইবনে বতুতার কন্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, আঞ্চলিক রাজনীতিতে রাজদরবারের অবস্থান। সমাজিক অবস্থান। বিভিন্ন স্থানের রীতিনীতি, সাংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান।

কিন্তু তার এই ছোট্ট ধারা বর্ণনার যাত্রাপথের শেষ গন্তব্য, তিনি যাচ্ছিলেন শায়খ জালালুদ্দিন তিবরীজির সাথে সাক্ষাত করতে। আমার ধারণা, ইবনে বতুতার বাংলা সফর আরও দীর্ঘ হতো যদি না তিনি দিল্লির রাজদরবারের ভয় পেতেন।

কারণ, বাংলার সুলতান নিজেদের স্বাধীন ঘোষনা করে রাজনৈতিকভাবে সম্রাটের সাথে বিদ্রোহ করেছিল। তাছাড়া, ইতোপূর্বে তিনি দিল্লির রাজকীয় পদে চাকুরী করেছেন এবং পরবর্তীতে সম্রাটের রাজদূত হয়ে চীন সফরে গিয়েছেন। এটাই রাজনীতির দরদাম এবং নিরীহপন্থার সহজ নির্বাচন।

শ্রীহট্টে শাহ জালালের দরগায়!

শাহ জালালুদ্দিন র. এর স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ইবনে বতুতা বলেন, আমরা কামারূপ পাহাড় পাড়ি দিয়ে আসি এক বুজুর্গ লোকের সাথে দেখা করতে। তিনি ছিলেন শেখ জালালুদ্দিন। আল্লাহ ওয়ালা, দরবেশ। তার অনুসারী নিয়ে তিনি গুহায় থাকতেন। দশ দিন পরপর নিজ গাই গরুর দুধ দিয়ে ইফতার করতেন। তার একমাত্র সম্পদ ছিল এই গাভী। সেখানকার লোকেরা তাকে অত্যান্ত সম্মান করত। হিন্দু মুসলিম সবাই তার কাছে হাদিয়া তোহফা নিয়ে আসত। এগুলো দিয়েই তার অনুসারীদের খাবারের প্রয়োজন মিটে যেত।

কিন্তু শাহজালাল (র.) দশদিন পরপর ইফতার করতেন। খাবার ছিল সেই গাভীর দুধ। তিনি প্রতিটি রাত-ই নামাজে কাটিয়ে দিতেন। হালকা-পাতলা গড়নের লম্বা দেহের মানুষ ছিলেন তিনি। পাহাড়ের লোকগুলো তার কাছে ইসলাম কবুল করা’য় তিনি সেখানেই থেকে যান।

ইবনে বতুতা বলেন, শেখ জালালুদ্দিনের অনেক কারামত ছিল। তার এক শাগরেদ আমাকে শুনিয়েছে, মৃত্যুর আগের দিন তিনি বললেন, আগামীকাল আমি তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যাব। আমার প্রতিনিধিত্ব করবেন সেই আল্লাহ যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। পরদিন জোহরের নামাজের শেষ রাকাতের সেজদায় ইন্তেকাল করেন তিনি। তার হুজরাখানার দক্ষিণ পাশে একটি খননকৃত কবর পাওয়া যায়, পাশে কাফনের কাপড়। শাগরেদরা সেখানেই তার কাফন-দাফন ও জানাজা করেন।

আরেকটি কারামতের কথা উল্লেখ করেন ইবনে বতুতা, তখনও শেখ জালালুদ্দিন এর দরগা থেকে আমার অবস্থান দুইদিনের পায়ে হাঁটা পথ। পথে তার চার শাগরেদর সাথে আমার সাক্ষাত।

তারা বলল, শায়েখ তার নিকট উপস্থিত ভিক্ষুদের বলেছেন, মরক্কোর এক লোক আসছে। তোমরা ইসতেকবাল করে তাকে নিয়ে আসো। এই উদ্দেশ্যেই এই চারজন এসেছে। তাদের সাথে শায়েখের দরগায় গেলাম। গুহার বাহিরে ছাওনি করা। আশপাশে কোন ঘর নেই। এলাকার লোকেরা তার কাছে আসত। কি মুসলিম কি কাফির; সবাই আসত। হাদিয়া তোহফা যা আসত সবগুলোই ব্যায় হতো ভিক্ষু ও আগন্তুকদের জন্য। শায়েখ তার গাভীর দুধ খেয়েই জীবনধারণ করতেন।

আমি তার নিকট গেলে তিনিই উঠে এসে আমার সাথে কোলাকুলি করলেন এবং দেশবিদেশের অবস্থা ও সফরের হালহকিকত জিজ্ঞেস করলেন। সবকিছু বলার পর তিনি আমাকে বললেন, তুমি আরবের মুসাফির। তখন তার সঙ্গীরা বলল, আজমেরও মুসাফির। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি আজমেরও মুসাফির।

এরপর তিনি শাগরেদদের বললেন, যাও, তার মেহমানদারি করাও। তারা আমার তিনদিন মেহমানদারি করায়।

ওপরের দুই কারামতের আলোচনা করে তৃতীয় আরেকটি কারামতের কথা বলেন ইবনে বতুতা। যেখানে এক ঘটনার মাঝে কয়েকটি কারামতের উল্লেখ পাওয়া যায়। এবং সবগুলোই ইবনে বতুতার সাথে সংশ্লিষ্ট।

ইবনে বতুতা বলেন, চীনে শায়খ জালালুদ্দিনের বন্ধু শায়খ বুরহানুদ্দিন সাগরিজি’র সাথে সাক্ষাতকালে তাকে শায়খ জালালুদ্দিন এর কারামতের কথা বললে তিনি বলেন, আমার ভাই জালালুদ্দিন এরচেয়ে বড় কিছু। এরপর তিনি আমাকে শুনিয়েছেন, আমার কাছে খবর এসেছে, জালালুদ্দিন প্রতিদিন ফজরের নামাজ বায়তুল্লাহ শরিফে আদায় করতেন এবং প্রতি বছর-ই হজ্জ করতেন। আরাফার দিবসে এবং কোরবানির দিন তাকে খুঁজে পাওয়া যেত না।

শায়খ জালালুদ্দিনের জন্মস্থান ছিল ইয়েমেনের কোনিয়া শহরে। এজন্য তাকে শাহজালাল ইয়ামানী বলে ডাকেন। এটাই প্রসিদ্ধ। তবে কেউ কেউ তাকে তুরষ্কের কোনিয়া প্রবাসী হিসেবে ধারণা করেন। যার আরেক নাম তিবরিজ। সেজন্য ইবনে বতুতা-ও তাকে ‘তিবরিজি’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। শায়খ জালালুদ্দিন এর মৃত্যু ১৩৪৭ সনে হয়েছিল।

ইবনে বতুতা বলেন, এক বছর পর চীনে থাকাকালীন সময়ে আমি তার মৃত্যু সংবাদ পাই।

সোনারগাঁওয়ের পথে ইবনে বতুতা; এক দরগা থেকে আরেক দরগায়!

শাহ জালাল র. এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নৌকাযোগে তারা রওনা হোন সোনারগাঁও’র পথে। টানা পনেরদিন চলার পরে সোনারগাঁও এসে পৌঁছান তারা। সুরমা নদীর নীল টলমলে পানি ও এর দুই পাশের সজ্জিত বাগান, পানি তোলার চরকা ও গ্রাম দেখে মুগ্ধ হন ইবনে বতুতা।

মিশরের নীল নদের সাথে এর তুলনা করেন তিনি। বলেন, এই নদী ধরে বঙদেশ ও লখনৌতি যাওয়া যায়। নদীর দু’ধারের অধিবাসীরা কাফের। মুসলিম শাসককে কর দিয়ে বসবাস করে তারা।

নদীর দু’ধারের অপরূপ সুন্দর গ্রাম ও বাগানের মাঝ দিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু মনে হচ্ছিল বাজারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। নদীতে অনেক নৌযান। নদী পারাপারের জন্য সুফি-দরবেশদের থেকে কোন ভাড়া নেয়া হয় না। সুলতান ফখরুদ্দিনের আদেশ এটা। বরং যার পাথেয় নেই তাকে পাথেয় জোগাড় করে দেবার নির্দেশ আছে তার থেকে। আর যখন সুফি-দরবেশ শহরে পৌঁছায় তাকে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা হয়। পনেরো দিনের সফর শেষে আমরা সোনারগাঁও পৌঁছলাম।

এরপর ইবনে বতুতা সেখানে কী করেছেন তার উল্লেখ আমার কাছে রিহলা’র যতগুলো কপি আছে তাতে কিছুই পাইনি। তিনি বলেন, আমরা একটি জাঙ্ক দেখলাম। জাভা’য় রওনা হবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাতে চড়ে আমরা সে উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

সোনারগাঁও ইবনে বতুতা কেন এসেছিলেন তার উল্লেখ স্পষ্টভাবে ইতিহাসে পাওয়া মুশকিল। তবে ধারণা করা হয়, বুজুর্গদের প্রতি তার আসক্তি তাকে এখানে টেনে এনেছিল।

কারণ, ইবনে বতুতা এখানে আসার প্রায় অর্ধ শতক আগে সোনারগাঁওয়ে ছিলেন উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের প্রথম মুহাদ্দিস শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা র.। ১৩০০ সনে তার ইন্তেকাল হয়। আর ইবনে বতুতা বাংলা সফর করেন ১৩৪৫-৪৬ সনে।

শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার মাজার শরীফ বর্তমানে নারায়নগঞ্জের মোগড়াপাড়া। ইব্রাহিম দানিশমান্দ এর মাজারও সেখানেই আছে।

ইবনে বতুতার সোনারগাঁও সফরকালে বাঙলার তৎকালীন সুলতান ছিলেন ফখরুদ্দিন। তিনি শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা’র-ই কোন শাগরেদ বা শাগরেদের শাগরেদ হবেন হয়তো!

সুফিদের প্রতি সুলতানের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা-ই প্রকাশ করে এসব বুজুর্গের কতটা প্রভাব ছিল সুলতানের মাঝে। শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (র.) হাদিসের পাশাপাশি অধিবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, তর্কশাস্ত্র, আইনশাস্ত্র, সমাজবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের উপর পাঠদান করতেন।

তার ছাত্র সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। তার ছাত্ররা সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ছিলেন। কিংবা তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশায় যুক্ত হতেন। পনেরো শতাব্দীতে আবিষ্কৃত এক শিলালিপিতে সোনারগাঁও’র কিছু সরকারি আমলার নাম পাওয়া যায়, যাদের নামের শুরুতে ছিল ‘মুহাদ্দিস’ শব্দ।

কথিত কথা’র আলাপন

ইবনে বতুতার সফরনামার সূত্রে আবুল হাসান আলী নদভী মুহাদ্দিস শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা’র কথা উল্লেখ করেছেন। হয়তো উল্লিখিত বিষয়সহ ইবনে বতুতার সফরনামা’র এমন কোন এক কপি তিনি পেয়েছেন, যা আমাদের হস্তগত হয়নি।

শেষ কথা

ইবনে বতুতার চোখে ‘প্রাচুর্যে ভরপুর এক দোজখ’ এই বাংলা। সব আছে তবুও অন্ধকার। হয়তো এমন মন্তব্য নিজের অসহায়ত্বের দিকে তাকিয়ে তিনি করেছেন।

যেহেতু দিল্লির রোষানলে পড়তে পারেন তাই এত নিয়ামত থাকতেও ভোগ করার সুযোগ কই তার! ফলে আমরাও অনেক তথ্য-ই পাইনি তার থেকে। তিনি এই অঞ্চলকে দেখেছেন, সমৃদ্ধশালী। উর্বর। জীবাশ্মে ভরপুর।

এখানকার ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষগুলোর সহাবস্থানও তিনি দেখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন জ্ঞানীর প্রতি রাষ্ট্রের কদর ও আদর যত্ন। তার সমাজবিজ্ঞানী চোখ একটু একটু করে খুট খুট করে সবই বলে দিয়েছে। সংক্ষেপে বিস্তারিতভাবে।

সমৃদ্ধশালী সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে আমাদের উচিত শক্তির উৎস সমূহ খুঁজে বের করা। হতাশার কিছু নেই, পৃথিবী সম্ভাবনাময় জগত। নতুবা পূর্ব পুরুষের মতো আরও দীর্ঘকাল আমরাও ‘প্রাচুর্যে ভরপুর দোজখে’ই বসবাস করতে থাকব!

তথ্য সূত্র:

●তুহফাতুন নাজ্জার ফি গারাইবিল আমার ওয়া আজাইবিল আসফার- ইবনে বতুতা
●ট্রাভেলস অব ইবনে বতুতা(সংক্ষিপ্ত বাংলা) – এইচ এ আর গিব
●শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা, উপমহাদেশের প্রথম মুহাদ্দিস- মওলবি আশরাফ
●বাংলাপিডিয়া
●উইকিপিডিয়া
●ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত কিছু প্রবন্ধ
●ইসলামের ইতিহাস দর্শন- মাও. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম

থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩ কোটি ডলারের টার্কি বেচাকেনা

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়েছে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন দিবস বা থ্যাঙ্কস গিভিং ডে। থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র অর্থ কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন বা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবস।

প্রতি বছর নভেম্বর মাসের চতুর্থ বা শেষ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে সরকারিভাবে থ্যাংকস গিভিং ডে উদযাপন করা হয়। দিবসটিতে ধনী-গরিব সবাই মেতে ওঠে ঐতিহ্যবাহী টার্কি ভোজে। পারিবারিকভাবে প্রতিটি ঘরেই টার্কি দিয়েই চলে দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা। এবারের থ্যাঙ্কস গিভিং ডেতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের জন্য ৯২ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের টার্কি বিক্রি হয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় ১৪ মিলিয়ন ৪০ লাখ ডলার বেশি।

ন্যাশনাল টার্কি ফেডারেশনের তথ্য অনুসারে থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে শতকরা ৮৮% শতাংশ মার্কিনিদের ঘরেই টার্কি দিয়ে দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে থাকে।

গত বছর করোনা মহামারিতেও ২৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিনি এ বার্ষিক ভোজ উপভোগ করতে সমবেত হয়েছিল। চলতি বছরে আরও ৭ লাখ টার্কিপ্রেমী বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে মোট ৭৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের টার্কি বেচাকেনা হয়েছিল। এ বছর ১৪ কোটি ৪০ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৯২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের টার্কি বেচাকেনা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারে থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে টার্কির প্রতি পাউন্ড মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ১৬ পাউন্ড টার্কি বিক্রি হয়েছে ২০.১৫ ডলারে।

১৬২১ সালের এক হেমন্তে আমেরিকার আদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রধানত ইংল্যান্ড থেকে আগত যাজকদের এক শুভক্ষণে পরস্পরের মধ্যে উৎপাদিত শস্য এবং পণ্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ‘থ্যাংকস গিভিং’ উৎসবের সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সেদিনের সেই বন্ধুত্ব এবং শান্তির অমিয়বাণী আমেরিকাবাসীর অন্তরে ধারণ করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটিকে ‘থ্যাংকস গিভিং হলি ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতি বছর বন্ধুত্ব ও সংহতি প্রকাশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্মরণীয়-বরণীয় করে তুলতে নানা আয়োজনে মেতে উঠে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র।

দিনটি আমেরিকায় সরকারি ছুটির দিন। একই আমেজে পার্শ্ববর্তী দেশ কানাডাতেও এ দিনটি পালন করা হয় প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সোমবার।

থ্যাংকস গিভিং ডে’র পরের দিনকেই ‘ব্লাক ফ্রাইডে’ বলা হয়ে থাকে। এ দিনের জন্যও মানুষের অপেক্ষার কমতি নেই। এক বছর ধরেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে আমেরিকার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ। এই দিনে অনেকের চাহিদা ইলেক্ট্রোনিক্স দ্রব্যে। এর মধ্যে টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইফোন, আইপ্যাড ইত্যাদি দ্রব্যের প্রতি মানুষের বেশি চাহিদা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে দোকানের সামনে লাইন ধরে অপেক্ষা করে ভোর ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দোকানে প্রবেশের জন্য। কিন্তু প্রতি বছরই ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরিবর্তে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮-৯টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান হাজার হাজার মানুষ।

শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে কী হয়?

ক্যালসিয়াম হচ্ছে আমাদের শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গসমূহকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে খনিজ ও ভিটামিন। আর এ কারণেই সঠিক ও সুষম খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ক্যালসিয়ামের অভাবে বিভিন্ন রোগ ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি এটির ঘাটতির কারণে দাঁতের পরিবর্তন, মস্তিষ্কে পরিবর্তন, অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে হাইপোক্যালসেমিয়া হয়ে থাকে, যা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রোগ নামেও পরিচিত। এটি সাধারণত রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকলে ঘটে থাকে।

প্রথমে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যার চিকিৎসা না নিলে বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি অনবরত হতে থাকলে সেটি জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তাই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার প্রতিকার নিতে হবে। আসুন জেনে নিই ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে কী হয়—

১. পেশির সমস্যা
ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে পেশির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি এবং নড়াচড়া করার সময় উরু ও বাহুতে ব্যথা, হাত-বাহু-পা এবং পায়ের পাশাপাশি মুখের চারপাশে অসারতা এবং ঝাঁকুনি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার প্রতিকার নেওয়া না হলে খিঁচুনি, অ্যারিথমিয়াস— এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

২. চরম ক্লান্তি
শরীরে ক্যালসিয়াম কমে গেলে তা চরম ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আর এর ফলে শরীরে শক্তির অভাব, অলসতা ও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে মাথা ঘোরা ও মস্তিষ্কের কুয়াশা সমস্যা হতে পারে।

৩. নখ, ত্বক ও চুলের সমস্যা
শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে থাকলে তা থেকে ত্বক শুষ্ক ও শুকনো, নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, চুল মোটা হয়ে যাওয়া, অ্যালোপেসিয়া বা যার কারণে চুল প্যাঁচে পড়ে যায়, একজিমা বা ত্বকের প্রদাহ, যা চুলকানি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৪. অস্টিওপেনিয়া ও অস্টিওপরোসিস
হাড়গুলো ক্যালসিয়াম ভালোভাবে সঞ্চয় করে, তবে শক্তিশালী থাকার জন্য তাদের উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। আর যখন শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকে, তখন শরীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে তাদের ভঙ্গুর এবং আঘাত প্রবণ করে তোলে। আর এটি নিয়মিত হতে থাকলে তা থেকে অস্টিওপেনিয়া ও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। আর এর ফলে হাড়গুলো পাতলা হয়ে যায় এবং ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিতে পড়ে। সেই সঙ্গে ব্যথা ও ভঙ্গিতে সমস্যা হয়।

৫. দাঁতের সমস্যা
শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে দাঁতের সমস্যা হতে পারে। আর এটির ফলে দাঁতের ক্ষয়, ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, মাড়িতে বিরক্ত করা, দাঁতের শিকড় দুর্বল করে দেওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া শিশুদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে তা দাঁতের বিকাশকে ব্যাহত করতে পারে।

৬. বিষণ্নতা
শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে হতাশাসহ বিভিন্ন মেজাজের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর এর কারণে অনেকের মাঝে বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

শূন্যপদে জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অঙ্গীভূত বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইন্সটিটিউটে তিনটি পদে ১০ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের বিস্তারিত
১. অধ্যাপক, পদ সংখ্যা ৩ জন
বিভাগ:বাংলা অর্থনীতি, ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বেতন: ৫৬,৫০০ থেকে ৭৪,৪০০

২. সহযোগী অধ্যাপক, পদ সংখ্যা ৩ জন
বিভাগ: ইংরেজী, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান
বেতন: ৫০,০০০ থেকে ৭১,২০০

৩. সহকারী অধ্যাপক, পদ সংখ্যা ৩ জন
বিভাগ: ইংরেজী, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান
বেতন: ৩৫,৫০০ থেকে ৬৭,০১০

এতে আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বয়সসীমার শর্তাবলি বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যাবে।প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট- www.nubd.info থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

 

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা www.nubd.info/jobs -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

১০৫ জনকে চাকরি দেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন

শূন্যপদ পূরণের জন্য ১০৫ জনকে চাকরি দিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। এতে ৪ ভিন্ন পদে ১০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

 

পদের নাম: সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা
পদ সংখ্যা: ৩৪ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১২,৫০০/- থেকে ৩০,২৩০/-

পদের নাম: সহকারী নিরীক্ষণ কর্মকর্তা
পদ সংখ্যা: ৫ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১২,৫০০/- থেকে ৩০,২৩০/-

পদের নাম: উচ্চতর গুদামরক্ষক
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১২,৫০০/- থেকে ৩০,২৩০/-

পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর
পদ সংখ্যা: ৬৪ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস হতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://badc.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ২০ ডিসেম্বর ২০২১ বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বিআরটিসি বাসে

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আসছে ১ ডিসেম্বর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকাসহ সারা দেশে সংস্থাটির প্রায় এক হাজার তিনশ বাসে এ সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা। তবে সরকারি বন্ধের দিন এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এদিকে বেসরকারি বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আজ শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কয়েকজন বাস মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাক্স মওকুফসহ বিভিন্ন খাতে ছাড় পেলে বেসরকারি বাসে এ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করছেন মালিকরা। কারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তারা চাপের মুখে রয়েছেন।

ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহণ মালিকদের চাপে সরকার বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ায়। ওই ভাড়া কার্যকরের আগে যেসব বাসে শিক্ষার্থীদের কিছুটা কম ভাড়া নেওয়া হতো সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওইসব বাসে নতুন ভাড়া আদায় শুরু হয়। এর পর থেকেই বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার সড়কে সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর সেই আন্দোলন আরও গতি পায়। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বেসরকারি বাস মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে বিআরটিএতে বৈঠক হলেও তাতে কোনো ফল আসেনি। এর মধ্যে শুক্রবার বিআরটিসি বাসে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা এলো।

বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া আদায়ের বিষয়টি জানিয়ে শুক্রবার ঢাকায় নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের বিআরটিসি বাসের ভাড়া শতকরা ৫০ ভাগ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জনগণের সরকার। জনঘনিষ্ঠ ও যৌক্তিক কোনো দাবিতে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ায় বিআরটিসি বাসে যাতায়াত করতে পারবে।

বিআরটিসি বাসে এ সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়ম মানতে হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে হলে ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে, সেখানে ছবিও থাকতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিআরটিসি বাসে চলাচলে এ সুবিধা পাবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনে এ কনসেশন প্রযোজ্য হবে না। শিগগিরই এ বিষয়ে বিআরটিসি প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

বেসরকারি বাসে শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি মালিকানাধীন বাস-মিনিবাসেও শিক্ষার্থীদের কনসেশন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিআরটিএতে বৈঠক হবে। পরিবহণ মালিক এবং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারাসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে থাকবেন। আশা করি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংবেদনশীল থেকে পরিবহণ মালিকরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি বেসরকারি বাস কোম্পানির পরিচালক জানান, বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার ঘোষণায় বেসরকারি বাস মালিক ও শ্রমিকরা আরও চাপের মুখে পড়লেন। এখন বেসরকারি বাসে অর্ধেক ভাড়া না নিলে শ্রমিকরা রাস্তায় মারধরের শিকার হবেন। এমন পরিস্থিতিতে তারাও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিতে চান। তবে গণপরিবহণের ওপর বিভিন্ন ট্যাক্স মওকুফসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরবেন।

বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের সুবিধার বিষয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ঢাকা মহানগর, দূরপাল্লার রুট ও অন্যান্য মহানগরে চলাচলরত বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি সুবিধা না নিয়েই শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা দিতে চায় এ সংস্থাটি। তিনি বলেন, বিআরটিসি আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে যাচ্ছে। বাসে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করবে-সেই ধরনের তথ্য বা গবেষণা নেই। আমরা এক মাস বিষয়টি পর্যালোচনা করলেই তা বুঝতে পারব। তবে আশা করছি, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিলেও সরকার থেকে আর্থিক সুবিধা বা প্রণোদনা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

শাবি ব্যবসায় প্রশাসন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মো. মুনিম আহমদ ও সম্পাদক ধ্রুব জ্যোতি চৌধুরী।

শুক্রবার শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফে চতুর্থ বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চৌধুরী মোহম্মদ রিয়াজ্জুজামানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল ফেরদৌস চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রথমার্ধে বিগত বছরের এসোসিয়েশনের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের ডিন প্রফেসর ড. মো. খায়রুল ইসলাম।

তারপর বার্ষিক রিপোর্টের মোড়ক উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ফরিদ উদ্দীন আহমেদ এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সংবিধানের মোড়ক উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

পরে এসোসিয়েশনের গঠিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মো. মুনিম আহমদকে সভাপতি ও ধ্রুব জ্যোতি চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে একইসঙ্গে কমিশন অন্য পদে নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করা হয়।

জমকালো এ আয়োজনে আগের কমিটিগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মধ্যান্ন ভোজ শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসোসিয়েশনের সদস্যরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

ক্যাটরিনার বিয়ে নিয়ে হঠাৎ ভিন্ন সুর!

বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের বিয়ের দিন ঠিকঠাক। প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। হবু কনের জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ মেহেদী।

উৎসবের মুহূর্ত লেন্সবন্দি করতে আনা হচ্ছে বিদেশী চিত্রগ্রাহক। কিন্তু হবু বর ভিকি কৌশলের সঙ্গে ক্যাটরিনা কাইফের বিয়েটাই নাকি হচ্ছে না!

তবে এত আনন্দ-আয়োজন কি বৃথা? সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে ভিকির চাচাতো বোন উপাসনা বোরা জানিয়েছেন ‘ভিক্যাট’-এর বিয়ের খবর মিথ্যে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

পেশায় চিকিৎসক উপাসনা বলেছেন, সংবাদমাধ্যম ভিকি এবং ক্যাটরিনার বিয়ের ভুয়া খবর রটাচ্ছে। যদি সত্যিই বিয়ে হয়, আমরা নিজেরাই জানাবো। আমি ভিকির সঙ্গে কথা বলেছি। আমার ভাই জানিয়েছে, ও এই মুহূর্তে বিয়ে করছে না।

বিয়ে নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি ভিকি বা ক্যাটরিনা কেউই। তবে শোনা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের শুরুতেই রাজস্থানে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে তাদের।

তার আগেই হবে আইনি বিয়ে। তবে এসবই কি মিথ্যে? প্রেমকে পরিণতি দিয়ে সাতপাক ঘুরবেন না ভিকি-ক্যাটরিনা? সময়ই সঠিক উত্তর দেবে।