শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 586

মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও তরল পানি!

হিমাঙ্কের ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও পানি তরলই থাকে, এই প্রথম দেখালেন বিজ্ঞানীরা।

তাপমাত্রা শূন্য ছাড়িয়ে এত নিচে নেমে গেলেও পানি বরফ হয় না! থাকতে পারে তরল অবস্থাতেই। শূন্যের নিচে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও। খবর লাইভ সায়েন্সের।

একেবারেই অবাক করে দেওয়া এমন ঘটনা ঘটিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা দেখিয়ে দিলেন মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও দিব্য তরল অবস্থাতেই থাকতে পারে জলকণা। তরলের যা যা ধর্ম, অক্ষরে অক্ষরে সেসব কিছুই মেনে।

বিজ্ঞানীরা এও দেখালেন, জলকণা আকারে যত ছোট হয়, ততই বাড়ে তার নিজের স্বাভাবিকতা (ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পানি থাকে তরল অবস্থায়) বজায় রেখে চলার আগ্রহ।

তরল হয়েই থাকব, বরফ হব না কিছুতেই- জলকণার এই ‘জেদ’ কতটা বজ্রকঠিন তা বুঝতে তাপমাত্রার ‘সিঁড়ি’ ধরে পারদের ক্রমশ নিচে নামার দিকে নজর রেখেছিলেন টেক্সাসের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানীরা।

তরলেই থাকব নিষ্ঠাবান হয়ে, এই ‘জেদ’ বুঝতে তারা অনেক অনেক ছোট আকারের জলকণাকে নিয়েছিলেন পরীক্ষার আতশকাচের নিচে। পানির সেই কণার ব্যাস ছিল মাত্র ১৫০ ন্যানোমিটার (এক ন্যানোমিটার বলতে বোঝায় এক মিটারের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ)।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ হাদি ঘাসেমি ও তার সহযোগীরা এই প্রথম দেখিয়ে দিলেন তরলধর্মী হয়ে থাকার জেদে ওই তাপমাত্রার অনেক নিচে নেমেও অটল থাকতে পারে পানি।

এই আবিষ্কার আগামী দিনে মানবকোষের অপমৃত্যু ঠেকানোর জন্য নতুন ওষুধ আবিষ্কারের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পানির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাই কোষে ফাটল ধরিয়ে দেয়। কোষকে মেরে ফেলে পুরোদস্তুর ঘাতকের মতো।

হিমাঙ্কের ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও পানি তরলই থাকে, এই প্রথম দেখালেন বিজ্ঞানীরা।

তাপমাত্রা শূন্য ছাড়িয়ে এত নিচে নেমে গেলেও পানি বরফ হয় না! থাকতে পারে তরল অবস্থাতেই। শূন্যের নিচে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও। খবর লাইভ সায়েন্সের।

একেবারেই অবাক করে দেওয়া এমন ঘটনা ঘটিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা দেখিয়ে দিলেন মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও দিব্য তরল অবস্থাতেই থাকতে পারে জলকণা। তরলের যা যা ধর্ম, অক্ষরে অক্ষরে সেসব কিছুই মেনে।

বিজ্ঞানীরা এও দেখালেন, জলকণা আকারে যত ছোট হয়, ততই বাড়ে তার নিজের স্বাভাবিকতা (ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পানি থাকে তরল অবস্থায়) বজায় রেখে চলার আগ্রহ।

তরল হয়েই থাকব, বরফ হব না কিছুতেই- জলকণার এই ‘জেদ’ কতটা বজ্রকঠিন তা বুঝতে তাপমাত্রার ‘সিঁড়ি’ ধরে পারদের ক্রমশ নিচে নামার দিকে নজর রেখেছিলেন টেক্সাসের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানীরা।

তরলেই থাকব নিষ্ঠাবান হয়ে, এই ‘জেদ’ বুঝতে তারা অনেক অনেক ছোট আকারের জলকণাকে নিয়েছিলেন পরীক্ষার আতশকাচের নিচে। পানির সেই কণার ব্যাস ছিল মাত্র ১৫০ ন্যানোমিটার (এক ন্যানোমিটার বলতে বোঝায় এক মিটারের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ)।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ হাদি ঘাসেমি ও তার সহযোগীরা এই প্রথম দেখিয়ে দিলেন তরলধর্মী হয়ে থাকার জেদে ওই তাপমাত্রার অনেক নিচে নেমেও অটল থাকতে পারে পানি।

এই আবিষ্কার আগামী দিনে মানবকোষের অপমৃত্যু ঠেকানোর জন্য নতুন ওষুধ আবিষ্কারের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পানির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাই কোষে ফাটল ধরিয়ে দেয়। কোষকে মেরে ফেলে পুরোদস্তুর ঘাতকের মতো।

দারাজসহ ১৩ প্রতিষ্ঠানের নামে অভিযোগ দায়ের

‘এক টাকায় গাড়ি’ মিলবে এমন প্রলোভন দিয়ে ফেসবুক পেজে অফার দিচ্ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ অনলাইন শপিং। এ অফারে বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। একইভাবে বাজারমূল্য থেকে ৩৫ শতাংশ কমে মোটরসাইকেল বিক্রির অফার দিয়েছে আলেশা মার্র্ট। শুধু দারাজ ও আলেশা মার্ট নয়, আরও ১১টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নানাভাবে বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে যা বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিচারের আওতায় আনতে প্রতিযোগিতা কমিশন তাদের বিরুদ্ধে স্ব-প্রণোদিত হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শুরু করেছে প্রাথমিক অনুসন্ধান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো- দারাজ অনলাইন শপিং, আলেশা মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, কিউকম ডটকম, ধামাকা ও আলাদিন প্রদীপ। এ ছাড়া আনন্দের বাজার, ফাল্গ–নি শপ ডটকম, ই-অরেঞ্জ, আদিয়ান মার্ট, থলে, শ্রেষ্ঠ, দালাল প্লাস এবং ২৪কেটি.কম। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুল ইসলামের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী একটি পণ্য অন্যান্য কোম্পানির উৎপাদিত একই পণ্যের দামের তুলনায় অনেক বেশি কমে বিক্রি করতে পারবে না। বাজারে পণ্যের এ ধরনের আচারণে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হবে। দারাজ অনলাইন শপিং এক টাকায় গাড়ি মিলবে এই বিজ্ঞাপন দিয়েছে। তিনি বলেন, দারাজের মতো অন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানও বাজারে পরিবেশ নষ্ট করছে এমন ধারণা থেকে কমিশন নিজেই অভিযোগ দায়ের করেছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে দায় সাব্যস্ত হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষ করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন দু’ভাবে অভিযোগ আমলে নেয়। এক হচ্ছে বাইরে থেকে কোনো সাধারণ ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে- প্রয়োজন মনে করলে কমিশন নিজেই স্ব-প্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ে করে।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরেজমিন গিয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণ হলে কমিশনে তাদের শুনানির জন্য ডাকা হবে। ওই শুনানিতে হাজিরা দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে। এরপর চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভারের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ড।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার যদি এক হাজার কোটি টাকা হয়, ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অর্থদণ্ড হবে ১০০ কোটি টাকা। ফলে আর্থিক দণ্ড দেখাবে বিশাল।

এদিকে গত ২ ডিসেম্বর ‘নিরাপত্তাহীনতা’ কারণ দেখিয়ে আলেশা মার্টের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আগামী জানুয়ারির মধ্যে সব গ্রাহকের দায় মেটানো হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে অসংখ্য তরুণ টাকা পায়, যারা কম দামে মোটরবাইক কিনতে অর্থ জমা দিয়েছে।

জানা গেছে, অফিসিয়ালি বন্ধের পর প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তারা তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে বাজারমূল্য থেকে ৩৫ শতাংশ কমে মোটরবাইক বিক্রির ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে তারা এই অফারের মাধ্যমে ৪৬ হাজার মোটরবাইকের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৬৫৮ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন যে ১৩টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এর মধ্যে ধামাকা শপিং এবং সিরাজগঞ্জ শপের সদস্য বাতিল করেছে ই-ক্যাব। এরা নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতাদের পণ্য বা মূল্য ফেরত দেয়নি। পাওনা পরিশোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নেয়নি। এ ছাড়া অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। তবে আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে ধামাকা এরই মধ্যে ৮০৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ শপের বিরুদ্ধে ৪৭ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সঠিক জবাব না দেওয়া ও ক্রেতাদের অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না করায় এ প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিল করেছে ই-ক্যাব।

এদিকে আনন্দের বাজার, দালাল প্লাস, থলে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মোটরবাইক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের অফার করেছে। অগ্রিম দাম পরিশোধের পর ২০ থেকে ৪০ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের অফার বাজারে প্রতিযোগিতা নষ্ট করছে। এটি আমলে নিয়ে এই তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে কমিশন। তিন প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের কয়েক শ’ কোটি টাকা আটকা পড়েছে। প্রায় সবগুলোর মালিকই লাপাত্তা, অফিস বন্ধ। কিন্তু অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চলছে। এর আগে অস্বাভাবিক অফার দিয়ে অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগে এই তিন প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল থেকে। ওই চিঠিতে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে দায়ের পরিমাণ এবং দায় পরিশোধের লক্ষ্যে কোম্পানির চলতি সম্পদের পরিমাণ ও পরিকল্পনা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দেশব্যাপী প্রতারণার জাল বিছানো কোম্পানির নাম ‘আলাদিনের প্রদীপ’। কোম্পানির মালিক মেহেদী হাসান মুন আলাদিনের প্রদীপ হাতে পেলেও, আর্তনাদ করছেন টাকা দিয়ে পণ্যের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতারা।

কিউকম ডটকম ৩০ সেপ্টেম্বর এক নোটিশে অফিস বন্ধ করে দেয়। বিগ বিলিয়ন নামে বাইক বিক্রির প্রতিষ্ঠানটি অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেনের বিরুদ্ধে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে আদিয়ান মাট অন লাইনের বিরুদ্ধেও।

অর্থ পাচারকারীদের অনেকেই আতঙ্কে

ডা. মুরাদ হাসানের দেশে ফিরে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সারা দেশে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব ঘটনায় দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী এবং অপরাধপ্রবণ ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ অনেকেই আতঙ্কে আছেন। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে যারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তা রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গণমাধ্যমে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা উলটো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার সামনের দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন।

ঢাকাই সিনেমার এক নায়িকার সঙ্গে ডা. মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ ফোনালাপ ফাঁস হয়। এছাড়া কিছু অশ্লীল অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে ৬ ডিসেম্বর ডা. মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর পরদিনই পদত্যাগ করেন ডা. মুরাদ। কানাডার উদ্দেশে তিনি দেশত্যাগ করলেও দেশটিতে তিনি প্রবেশ করতে পারেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অপরদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান ছয়জন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আইনবহির্ভূত কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অর্থ পাচারকারী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জন্য এটি বড় বার্তা। এখন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পরে হয়তো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে এ ধরনের বার্তা আসতে পারে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সরকারকে এখনই সচেতন হতে হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে-যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আমাদের পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাজার। ওইসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তাতে বাংলাদেশের বড় ক্ষতি হবে না। কিন্তু বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ যে ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছে, সেখানে বড় ধাক্কা লাগবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডা. মুরাদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইস্যু একই সময়ে হওয়ায় বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে। এটি সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়কেও ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে অন্য কোনো সমস্যা হবে না। বিদেশে সম্পদ গড়ে যারা নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় বার্তা বলেও তারা মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশি কয়েকজনের অর্থ পাচারের বিষয়টি উঠে আসে। তাদের মধ্যে সরকার ও বিএনপি সমর্থক কয়েকজন ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনায় হাইকোর্টে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে অর্থ পাচারের অভিযোগে ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে এ ৪৩ জনের নাম উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্যান্ডোরা পেপারসে দ্বিতীয় তালিকায় আট বাংলাদেশির নাম আসে। তাদের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

আক্কেলপুরে পৌর আ.লীগের সভাপতি পদে বিদ্রোহী প্রার্থী

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন। তিনি ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনের নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন গোলাম মাহফুজ চৌধুরী।
তিনি যুগান্তরকে বলেন, এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এজন্য ওই সময় তাকে ও তার ভাইকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে দল তাদের সাধারণ ক্ষমা করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত আক্কেলপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন তৎকালীন পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন। পরে মনোনয়ন না পেয়ে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন স্বপন।

এ ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় তাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছিল। তবে সেময় দলের কোনো পদ পাননি তিনি। এদিকে চলতি বছর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন। তবে এবারও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

জানতে চাইলে এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন যুগান্তরকে বলেন, ২০১৩ সালে সিদ্ধান্ত ছিল আমি উপজেলা নির্বাচন করবো। তখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমি জনগণকে কথা দিয়েছিলাম তাই দলের মনোনয়ন না পেয়েও নির্বাচনে দাঁড়াতে হয়েছিল। দল থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এটা সত্য। কিন্তু পরে আবার ক্ষমাও করা হয়। এরপর আমি আর কোনো দিন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি।
১০ ডিসেম্বর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

আক্কেলপুর পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এনামুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোকছেদ আলী। প্রধান বক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রুকিন্দীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান কবির, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিম স্বাধীন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর, আক্কেলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম আকন্দ, আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র শহীদুল আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন।

আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি আরও কঠোর করতে হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে শুধু কথায় হবে না। যে আন্দোলন আমরা করছি তার গতিপ্রকৃতি আরও কঠোর করতে হবে। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘লজ্জা হয়, দুঃখ হয়-একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলেন। আর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের আসল চেহারা। আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নয়। এখন তারা দানবে পরিণত হয়েছে। রোববার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কৃষক দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গৌতম চক্রবর্তী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিএস আইয়ুব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলছেন খালেদা জিয়ার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন। সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না, উলটো তারা (সরকার) শিষ্টাচারবিবর্জিত কথা বলছেন। খালেদা জিয়াকে সরকার ভয় পায়। র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে দেশের জন্য কলঙ্কজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় ৭৪ বছর। আমি কোনো দিন শুনিনি যে, পাকিস্তান আমলে হোক, বাংলাদেশ আমলে হোক আমাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর, কোনো কর্মকর্তার ওপর এ ধরনের একটা কলঙ্কজনক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজকে দুর্ভাগ্য, আওয়ামী লীগ এ অবস্থাটা তৈরি করেছে। আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত-সেগুলো তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।’

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পত্রিকায়ও এসেছে-পুলিশের এক অফিসার বলেছেন, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ। এভাবে সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। দুঃখ হয়, আমাদের সেনাবাহিনীর এক সাবেক প্রধানকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তিনি আর দেশটিতে ঢুকতে পারবেন না, তার পরিবারের সদস্যরাও ঢুকতে পারবেন না। অর্থাৎ বাংলাদেশ এমন একটা অসভ্য ও অগণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে, এখন আমাদের রাষ্ট্রের যারা উপরের দিক আছেন, যাদের ওপর রাষ্ট্র নির্ভর করে তাদের বিভিন্ন রাষ্ট্র গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না।

অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ এখন ‘আওয়ামী লীগ’ শব্দকে গালি হিসাবে ব্যবহার করে-এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চায়ের দোকানে বসলেই বোঝা যায় কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি। সেখানে যে লোকটা সবচেয়ে জোরে কথা বলছে আর অশ্লীল কথা বলছে, ওই লোকটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ। লজ্জা হয়, দুঃখ হয় সরকারের একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলেন। এটাই আওয়ামী লীগের আসল চেহারা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, এখন দানবে পরিণত হয়েছে। সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগ কিন্তু দেশ চালায় না, দেশ চালান আমলারা। গণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সময়টা কঠিন। এখন কাজ করতে চাইলেও করা যায় না। এখন একটা সভা করতে চাইলেও করা যায় না। কৃষক দলের এ আলোচনা সভা প্রেস ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশ অত্যাচার করে। তবে এরমধ্য দিয়েই উঠে দাঁড়াতে হবে। কৃষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাদের সংগঠিত করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

জাপানি সেই দুই শিশু আদালতে

জাপান থেকে আসা দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে হাজির করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে তাদের বাবা ইমরান শরীফ আপিল বিভাগে নিয়ে আসেন।

এর আগে দুই শিশুকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

দুদিন তাদের মা ডা. এরিকো নাকানোর কাছে রাখার আদেশ প্রতিপালন না করায় সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

বেন উল্লেখ করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা মায়ের আপিলের ওপর আংশিক শুনানি করেন।

পরে আদালত দুই শিশুকে আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার জাপানি মায়ের জিম্মায় রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এদিন রাত ১০টার মধ্যে শিশু দুটিকে তাদের মায়ের হেফাজতে দিতে বাবার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। তবে সে আদেশ প্রতিপালন না করায় শিশুদের বাবার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন জানান শিশুদের মা ডা. নাকানো এরিকো।

৫ ডিসেম্বর দুই শিশুকে নিজের জিম্মায় নিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন জাপানি মা নাকানো এরিকো।

এর আগে ২১ নভেম্বর দুই শিশু বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।

তবে রায়ে বলা হয়, জাপান থেকে এসে মা বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। ছুটির দিনে অন্তত দুবার বাবা সন্তানদের মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত নির্দেশনা দেন, গত কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ শিশুদের মা নাকানো এরিকোকে ১০ লাখ টাকা দেবেন বাবা ইমরান শরীফ। সাত দিনের মধ্যে তাকে এ অর্থ দিতে বলা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, রিটটি চলমান থাকবে। রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে উভয়পক্ষ আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবে। প্রতি তিন মাস অন্তর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। জাপানে থাকা ছোট মেয়ে হেনাকে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশনা চেয়ে বাবা ইমরান শরীফের করা রিট খারিজ করে দেন আদালত।

গত ১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবেন না মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে জাপানে চলে যাবেন, সে বিষয়ে শুনানি শেষ হয়।

এর আগে ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট আদেশ দেন বাবা-মাসহ রাজধানীর গুলশানের চার কক্ষের একটি বাসায় থাকবে দুই শিশু। সেখানে তারা ১৫ দিন থাকবে। ফ্ল্যাটের ভাড়া উভয়পক্ষ বহন করবে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন রাজধানীর গুলশানের ফ্ল্যাটে দুই শিশু জাপানি মা রাতসহ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন। বাংলাদেশি বাবা শুধু দিনের বেলা সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই সময়ে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়া শিশুদের বাবা-মাকে সমানভাবে বহন করতে হবে।

আদেশ অনুযায়ী, এতদিন বাবা-মা শিশুদের সঙ্গে অবস্থান করে। পরে নাকানো এরিকোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন দুই শিশুকে নিয়ে বেড়ানো বা মার্কেটে যাওয়ার জন্য বাইরে যেতে পারবেন জাপানি মা।

মাসুদ রানা সিরিজের স্বত্ব আবদুল হাকিমের: হাইকোর্ট

সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে মালিকানা স্বত্ব শেখ আবদুল হাকিমের বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রুল শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

মাসুদ রানা সিরিজের বইয়ের স্বত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই চলতি বছরের আগস্টে না ফেরার দেশে চলে যান জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক শেখ আবদুল হাকিম।

সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে মালিকানা স্বত্ব শেখ আবদুল হাকিমকে দিয়েছিল কপিরাইট অফিস।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ‘মাসুদ রানা’ ও ‘কুয়াশা’ সিরিজের কিছু বইয়ের বিষয়ে কপিরাইট অফিসের দেওয়া আদেশ এক মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে, কপিরাইট অফিসের এই সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছিলেন আদালত।

কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আব্দুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেন।

তুমল জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ ‘মাসুদ রানা’। এই বিখ্যাত সিরিজটির লেখক হিসেবে পরিচিত কাজী আনোয়ার হোসেন। সবাই তাই জানত। কিন্তু শেখ আবদুল হাকিম নিজেকে এই সিরিজের অধিকাংশ বইয়ের লেখক হিসেবে দাবি করে কপিরাইট আইনে মামলা করেন।

দীর্ঘ প্রায় এক বছরের আইনি লড়াই শেষে গত ১৪ জুন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এই মামলায় আবদুল হাকিমের পক্ষে রায় দেয়।

রায়ে বলা হয়, গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার প্রথম ১১টি বইয়ের পরের ২৬০টি বইয়ের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন নন। এর লেখক হলেন শেখ আবদুল হাকিম।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেছিলেন, শেখ আবদুল হাকিমের দাবিকৃত ২৬০টি মাসুদ রানার বইয়ের মধ্যে একটি এবং কুয়াশার ৫০টি বইয়ের মধ্যে ছয়টিতে লেখক হিসেবে তার নামে কপিরাইট করা আছে। বাকিগুলোর কপিরাইট করা নেই। তবে সেগুলো তার লেখা এটা তিনি প্রমাণ করেছেন।

কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পরে অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে ওই বছরের ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৪ নভেম্বর শুনানি হয়।

শুনানিতে উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। প্রতিপক্ষের উক্ত লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পুনরায় নিজের স্বপক্ষে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর দাখিলকৃত যুক্তির বিষয়ে প্রতিপক্ষ পুনরায় লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ করেন।

বিষয়টি বেশ জটিল এবং দেশের প্রকাশনা শিল্পের ক্ষেত্রে লেখক ও প্রকাশকের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে এর সন্তোষজনক ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে অভিযোগের বিষয়ে দেশের বিখ্যাত ও প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপকের লিখিত মতামত চাওয়া হয়।

যাদের মধ্যে ছিলেন লেখক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান এবং সেবা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খান। তাদের লিখিত মতামতের ওপর ভিত্তি করেই কপিরাইট অফিস ওই রায় দেয়।

মুরাদ হাসানের প্রবেশ ঠেকাতে ১৭১টি ইমেইল!

কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়েও কানাডায় প্রবেশ করতে পারেননি সদ্য বিদায়ী তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। জানা গেছে, কানাডায় মুরাদের প্রবেশ ঠেকাতে ১৭১টি ইমেইল করা হয় দেশটির ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সিতে।

কানাডায় প্রবেশে সদ্য পদ হারানো এই রাজনীতিক কেন ব্যর্থ হয়েছেন সে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ তথ্য দিয়েছেন কানাডা প্রবাসী ও ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির গবেষক মঞ্জুরে খোদা টরিক।

গত সেপ্টেম্বরেই কানাডায় গিয়েছিলেন মুরাদ হাসান। অথচ তিন মাসের ব্যবধানে ঘটনার চিত্রই পাল্টে গেল।

মুরাদ হাসানকে কেন আটকে দিল বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি? এ প্রশ্নের জবাবে গবেষক মঞ্জুরে খোদা টরিক জানান, কানাডায় যাতে মুরাদকে ঢুকতে দেওয়া না হয়, সে জন্য প্রবাসীদের একটি অংশ সক্রিয় ছিল আগে থেকেই। তাকে রুখতে এজেন্সি বরাবর ১৭১টি ইমেইল করেছে এসব সংগঠন।

টরিখের সংগঠনটিও তাদের অন্যতম। তিনি ‘লুটেরা বিরোধী মঞ্চ’ নামের সংগঠনটি সংগঠক।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে মঞ্জুরে খোদা টরিক বলেন, ‘মুরাদ হাসানের কানাডা আসার খবরে আমরা এখানে কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির ওয়েবসাইটে গিয়ে ইমেইল করি। বাংলাদেশে মুরাদ হাসানের অপকীর্তির কথা বিস্তারিত লিখি। এর সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদ ও মুরাদের ভিডিও ক্লিপ জুড়ে দিই। শুনেছি আমাদের মতো এমন ১৭১ ইমেইল নাকি গেছে এজেন্সিতে। এখানে কর্মরত দুই বাংলাদেশি সাংবাদিক এ তথ্য জানিয়েছে আমাদের। আমাদের বিশ্বাস, এসব ইমেইলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে কানাডা প্রশাসন। মুরাদকে কানাডায় ঢুকতে না দেওয়ার ব্যাপারে এটি কাজে দিয়েছে।’

টরিখ আরো জানান, কানাডায় সব কিছুই খুব নিয়মতান্ত্রিক। অনিয়মের দেখা মিলবে না এ দেশে। ডা. মুরাদের বিষয়েও হয়তো কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে এজেন্সি।

অনিয়ম প্রশ্নে ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে — করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে যেসব কাগজপত্র থাকা প্রয়োজন ছিল, তা না থাকায় মুরাদ হাসানকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কানাডা বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পরে তাকে মধ্যপ্রচ্যের একটি দেশের বিমানে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। বিপুলসংখ্যক কানাডিয়ান নাগরিক কানাডায় তার প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলেও তাকে জানানো হয়।

এদিকে মুরাদকে টরেন্টো বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার বিষয়ে কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এখনও কিছুই জানায়নি বলে তথ্য দিয়েছেন কানাডায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার খলীলুর রহমান।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। যদি বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে কানাডায় প্রবেশে তারা বাধা দেয়, এমপি হোক বা সাধারণ নাগরিক হোক অর্থাৎ যে কোনো ব্যাপারে কোনো ঝামেলা হলে তারা জানায় আমাদের। কিন্তু মুরাদ হাসানের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি তারা।’

কানাডায় ঢুকতে না পেরে রোববার সকাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আছেন মুরাদ।

বিমানবন্দরে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডা. মুরাদ হাসান কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়ে কানাডায় রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু যেতে পারেননি। আমাদের কাছে খবর আছে তিনি দুবাইয়ে আছেন। কাল দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসার কথা। তার দুবাইয়ের ভিসাও নেই, সে কারণে সেখানে থাকতে পারছেন না। আমি শুনেছি তিনি চলে আসছেন দেশে।’

এদিকে জানা গেছে, কানাডার পর দুবাইয়ে ঢুকতে চেয়েও ব্যর্থ হওয়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আজ বিকেলেই দেশে ফিরছেন। বর্তমানে তিনি দুবাই বিমানবন্দরে আছেন।

দুবাই বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বনানীর ডানা এভিয়েশন লিমিটেডের মাধ্যমে এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দেশে ফেরার টিকিট চূড়ান্ত করেছেন ডা. মুরাদ হাসান। এমিরেটসের ইকে-৫৮৬ নম্বর ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। ফ্লাইটের ফার্স্ট ক্লাস ক্যাটাগরির টিকেট কেটেছেন মুরাদ। দুপুরে করোনা টেস্টের নমুনা দিয়ে দুবাই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ এমিরেটসের লাউঞ্জে অবস্থান করছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত শোভন, বির্তকিত মন্তব্যসহ অডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারিয়ে বৃহস্পতিবার দেশ ছাড়েন জামালপুরের এমপি মুরাদ।

আমিরাতের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে টরন্টো পিয়ারসন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিমানবন্দর থেকেই তাকে ফেরত পাঠান কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির কর্মকর্তারা।

সৌদিতে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশ

সৌদি আরবে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের মন্ত্রী ডা. আব্দুল লতিফ আল শাইখের জারি করা এক নির্দেশনায় জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়। তাবলিগ জামাত নিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হয় এতে।

সৌদির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এক টুইটে মন্ত্রণালয় কর্তৃক লিখিত আরবি খুতবাতে তাবলিগ জামাতের কাজের নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ জামাতের ওপর দেওয়া হয়েছে কিছু অভিযোগ।

সৌদি সরকারের ওই ঘোষণায় বলা হয়, এটি (তাবলিগ জামাত) সন্ত্রাসবাদের একটি প্রবেশপথ। এদের বিপদ সম্পর্কে মানুষকে বোঝান। এদের ভুলগুলো তুলে ধরুন।

তাবলিগ জামাতের পাশাপাশি দাওয়া নামে আরেকটি সংগঠনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। মন্ত্রী টুইটে জানিয়েছেন, মসজিদে ইমামদের তাদের ভাষণে উল্লেখ করা উচিত এরা কীভাবে সমাজের জন্য বিপজ্জনক। ১৯২৬ সালে দাওয়া নামে এ সংগঠনটি গঠিত হয়।

উইকিপিডিয়া বলছে, তাবলিগ জামাত ভারতীয় উপমহাদেশকেন্দ্রিক একটি ধর্মপ্রচার আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে— মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা এবং যা মুসলিমদের ও নিজ সদস্যদের সেভাবে ধর্মচর্চায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করে, যেভাবে নবী মুহাম্মাদের (সা.) জীবদ্দশায় তা চর্চা করা হতো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাবলিগ জামাত ভারতের দেওবন্দভিত্তিক সুন্নি মুসলিমদের সংগঠন। অন্যদিকে সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কট্টর ওয়াহাবি ও আহলে হাদিস মতাদর্শের অনুসারী। তাই সৌদিতে প্রকাশ্যে তাবলিগ জামাতের কাজ করা যায় না এবং সৌদি সরকার মাঝেমধ্যেই এ দলটি সম্পর্কে সতর্ক করে খুতবা দেয়। কিন্তু এ বছরই প্রথম অহিংস এ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।

সৌদি সরকারের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এমন নির্দেশনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম স্কলাররা।

ভারতের বিখ্যাত আলেম শায়খ সালমান হুসাইনি নদবী এ বিষয়ে সৌদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তাৎক্ষণিক আরবি ও উর্দু ভাষায় এর প্রতিবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের এ সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এজেন্ট হয়ে যে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে কাজ করছে সেটি এমন নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট হলো। তবে এ বিষয়ে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বাংলাদেশের গবেষক আলেম মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, সৌদি সরকারের ফরমান, অভিযোগ ও খুতবা প্রচারের বিষয়ে আমার মূল্যায়ন দেশটির বড় আলেমদের কাছে পৌঁছানো হবে। শাসক পর্যায়েও পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ। ২০ জন আরব আলেমকে নিয়ে আমরা জুম মিটিং করছি। এ ধারা চলতে থাকবে। তারা কারেকশন দিতে পারেন কিন্তু শতবর্ষী একটি দীনি আন্দোলনকে এভাবে একতরফা নিন্দা ও নিরুৎসাহিত করতে পারেন না। মিথ্যা প্রচারণা শুনে তাবলিগি কাজের বিরুদ্ধে অপবাদ দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, সৌদি সরকারের প্রজ্ঞাপনটির বক্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে খুবই মর্মাহত হয়েছি। তারা এ কথা কোথায় পেলেন যে, তাবলিগিরা কবরকে সেজদার স্থান বানায়? দুনিয়ার কোথাও এমন নেই, হতে পারে না। তাদের এ কথা তুলে নিতে হবে। সাবকন্টিনেন্টের আলেমদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। বিশ্বের কোটি কোটি তাবলিগ সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

করোনা যেভাবে পর্দার প্রতি বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিল

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস ইসলামিক ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন কাউন্সিলের প্রধান আলিয়া খানের নারীদের ফ্যাশনসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছেপেছে।

তার চুম্বকাংশ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে কাতারভিত্তিক আরবি গণমাধ্যম আলজাজিরা মুবাশির। আরবি থেকে তা পরিমার্জিত ভাষান্তর করেছেন— বেলায়েত হুসাইন।

আলিয়া খান ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, করোনাক্রান্ত বিগত দুই বছরে বিশ্ব এমন এক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল, যা মানবজীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে যেসব কঠোর পরিবর্তন এসেছে, তা মানুষের পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধান পদ্ধতিকে বেশ প্রভাবিত করেছে।

উল্লেখ্য, মহামারিতে মানবজীবনে যে রূপান্তর ঘটেছে— এটি যারা ইসলামি অনুশাসন মেনে জীবনযাপন করেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনাচার। এটিকে ‘মডেস্ট লাইফস্টাইল’ বা বিনয়ী জীবনধারা আখ্যা দেওয়া হয়।

একটি শালীন ও নির্মল জীবন গঠনের জন্য সাধারণত শৈশব থেকেই মুসলমানরা একই সঙ্গে শালীনতা ও কমনীয়তায় বেড়ে উঠতে থাকে। করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য মুখমণ্ডল আচ্ছাদিত করার বিষয়টি একটি স্বাভাবিক আচরণে রূপ নেওয়ার পর আমার বোধগম্য হলো— ইসলামি ফ্যাশন তো এর কথাই বলে এবং এরূপ পরিচ্ছদের প্রতিই উৎসাহ দেয়, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আবর্জনা থেকে চেহারাকে মুক্ত রাখে।

ইসলামি ফ্যাশন মুসলমানদের ব্যবহারিক লক্ষ্যের প্রতি সহায়তা দেয়। কেননা তা প্রকৃতি, বাস্তবতা এবং শালীনতা ও বিশুদ্ধ জীবনযাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে। এতদসত্ত্বেও ইসলামি ফ্যাশন ও জীবনমান কটূক্তির স্বীকার। পর্দাপালনের কারণে পশ্চিমারা মুসলিম নারীদের দুর্বল ও অবহেলিত আখ্যায়িত করে, যা অবান্তর ও অবাস্তব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা সংগঠন মুসলিম নারীদের হিজাব পরিধান ও পর্দাপালন নিষেধাজ্ঞার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ তাদের চোখ হিজাব পরিধানকারী পেশা; যেমন— নার্সিং, সার্জারি, কুকিং এবং অন্যান্য ধর্মের লোকদের; যেমন— শিখ, ইহুদী, ক্যাথলিক, হিন্দু ও বৌদ্ধদের মাথাবৃত করা প্রত্যক্ষ করে না।

কিন্তু কোভিড-১৯ আক্রান্ত বিগত দুই বছরে মাস্ক বিশ্বে নিকাবের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মুখ ঢেকেরাখা এখন আমাদের সামাজিক সৌজন্য বোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাস্ক পরিধানের দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর অসংখ্য নারী পর্দা বা মুসলিম নারীদের নেকাবে মুখ ঢাকার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন এবং অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও একটি আবরণের পেছনেই নিজেদের বেশি নিরাপদ অনুভব করছেন। বিশেষত পরপুরুষের অযাচিত দৃষ্টি থেকে নিজেদের সুরক্ষায় এটি তাদের মন কেড়েছে।

অথচ গত এপ্রিলেই ফরাসি সিনেটর এক সংশোধনী অনুমোদন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে— ১৮ বছরের নিচের মেয়েরা হিজাব ও নেকাব পরিধান করতে পারবে না; এমনকি এমন একটি সক্রিয় পোশাক, যা আরাম, সৌন্দর্য ও দেহের সুরক্ষায় অতুলনীয়; সাঁতারের বুরকিনিও (সাঁতারের সময়ে পরার বিশেষ পোশাক) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়; বরং এটি মুসলিম নারীদের মৌলিক পোশাকের সাদৃশ্য হওয়ায় পোশাকটিকে ফ্রান্সের জন্য হুমকি আখ্যায়িত করা হয়েছে। অথচ বুরকিনি ডাইভিং স্যুটসদৃশের বেশি কিছু নয়।

পর্দা নিয়ে ফ্রান্স দ্বিমুখী আচরণ করেছে। দেশটিতে কেউ যদি মেডিকেল মাস্ক পরিধানবিহীন জনসম্মুখে বের হয়, তা হলে তিনি ১৩৫ ইউরো জরিমানা গুনবেন। পক্ষান্তরে নারীরা নেকাবে মুখাবৃত করলে জরিমানা দিতে হবে ১৫০ ইউরো। এটি কেমন বিচার!

তবে আশা করা যাচ্ছে— করোনার কারণে ইসলামি ফ্যাশনের প্রতি বিশ্ববাসীর যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তা আগামী বছরগুলোতে পৃথিবীতে পোশাক পদ্ধতি ও অর্থনীতির মান গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি— ইসলামি ফ্যাশন ও পোশাকরীতি বৃহৎ একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে।

আশার ব্যাপার হলো— ইসলামি ফ্যাশনের ভবিষ্যৎকে অমিত সম্ভাবনাময় একটি খাত অনুভব করা যাচ্ছে, যার নানা নিদর্শন ইতোমধ্যে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। মুখাবরণের জন্য হিজাব পদ্ধতি একটি পরীক্ষিত, মার্জিত ও নিরাপদব্যবস্থা।

এ জন্য এখন এটি কথিত মূলধারার ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে, যা আগামী পৃথিবীতে ব্যাপকতার ক্ষেত্রে ইসলামি ফ্যাশনের জন্য একটি বড় সুযোগ।